সক্রেটিসের গণতন্ত্রে ভাল্লুকের হাতে খন্তা

November 12, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

রোহিঙ্গা ক্রাইসিসটি হলো কতিপয় বিগপাওয়ার আর সুপারপাওয়ারদের সমন্বয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি সাকসেসফুল মাস্টার প্ল্যান। রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী এবং শিশু। লাখ-লাখ মানুষ কতোকাল ঘেরাবেষ্টনির মধ্যে সীমিত থেকেও প্রতিক্রিয়াহীন থাকতে পারে? “জেলে থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত সত্ত্বেও কেউ কী জেলে থাকতে চায়?” পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভয়ংকর রোগ-বালাই থেকে মহামারি। বেকারত্ব এবং হতাশা থেকে সৃষ্টি হতে পারে অরাজকতা, এমনকি সন্ত্রাসও। এজন্য ক্ষমতাসীনরা কতোটুকু দায়ী? এই পরিস্থিতি হবে, বহু আগেই জানার পরেও কোনরকম প্রস্তুতি না নিয়ে যা প্রমাণ করলো। -বন্ধু রাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার আচরণে লিপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। -শক্তিপ্রদর্শনের ঘোরবিরোধি এবং ‘গণহত্যা’ শব্দটি উচ্চারণের বিরুদ্ধে হাইকমান্ড। -জাতিসংঘে বারবার চীন–রাশিয়ার ভেটোর বিরুদ্ধে সুনশান নিরবতা। যেসকল বন্ধু রাষ্ট্র সরাসরি পক্ষ নিলো, ভারত তাদের অন্যতম। তাসত্ত্বেও বন্ধুত্বের নামে এসব কী দেখছি? প্রয়োজন, ৭১এ ইন্দিরার মতো হাইকমান্ডেরও চীন–রাশিয়ায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ভেটোর বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে দেয়া। সবাইকেই কখনোই কেউই একইসঙ্গে খুশি করতে পারবে না। সেটা করতে গিয়েই বাংলাদেশের উপর একটার পর একটা ক্রাইসিসের সৃষ্টি করেই চলেছে ক্ষমতাসীনরা। রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের সমাধান আর ২০ দলকে হামলা-মামলা দিয়ে সিরাজ সিকদারের মতো দৌড়ের উপর রাখা এক নয়। বিরোধিদলকে যা খুশি করলেও কিচ্ছু হবে না। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের জন্য যারা দায়ী, টায়রনদের বিরুদ্ধে টুশব্দটি করলেই ক্ষমতা থেকে আউট। ধারাবাহিকভাবে ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখলেও রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের সমাধান ক্ষমতাসীনদের দিয়ে অসম্ভব। কারণ তাদের গোড়ায় গলদ। ক্রাইসিসের
…read more

রাজনীতিতে মিসির আলী

November 6, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

যে পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আয়োজন হচ্ছে, বেগম জিয়া কিছুতেই ক্ষমতায় যেতে পারবেন না। সুষমাদের বার্তা পরিষ্কার, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। কৌশলে আবারো হাসিনাকেই ক্ষমতায় রেখে এই দফায় এরশাদের সিটে খালেদাকে বসিয়ে ৫ জানুয়ারিকে শুদ্ধ করবে। অন্যথায় হামলা-মামলায় জর্জরিত নেত্রীর গন্তব্যস্থল কোথায়, সকলেই জানে। রহস্যমানব মিসির আলীতে যাওয়ার আগে নোবেলপ্রাপ্ত গেইমথিওরির উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক। গাড়ি চুরির অপরাধে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশের মনে হলো, এরা ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গেও যুক্ত। দুইজনকে আলাদা কক্ষে নিয়ে বললো- ১) ব্যাংক ডাকাতি এবং গাড়ি চুরি স্বীকার করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড। ২) একজন যদি ব্যাংক ডাকাতি স্বীকার করে, তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড। যে করলো না, তাকে ১০ বছর। দুইজনের জন্যই নিরাপদ, ব্যাংক ডাকাতি অস্বীকার করে গাড়ি চুরির জন্য ২ বছরের সাজা। যেহেতু উভয়ের স্বীকারোক্তি গোপন, অন্যজনের ভয়ে এমনকিছু বললো, যেজন্য উভয় চোরের ১০ বছরের কারাদণ্ড হলো। দরকষাকষির জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে গেইমথিওরির ব্যবহার অনিবার্য। উদাহরণস্বরূপ, স্টকের উর্ধগতি দেখে লোভের বশবর্তী হয়ে না বুঝেই শেয়ার কেনার ১ মাস পর মূল্য অর্ধেকে নামলে, কেঁদেকেটে বলবে, সর্বনাশ! কেন কিনেছিলাম? বিশেষ করে “মার্জিন ঋণ” নিয়ে স্টক কিনলে ক্রেতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্টক বিক্রি করার ক্ষমতা রাখে লগ্নিদানকারী প্রতিষ্ঠান। এর নাম “মার্জিন কল।” আর এই কলেই আটকে আছে দুইনেত্রীর রাজনীতি। যখন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা, স্টক কিনছে, বিক্রি করছে মিসির আলী প্রভাবিত পররাষ্ট্রনীতি। প্রণববাবুর বহুল আলোচিত বই থেকে- “তখন
…read more

রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টার অন্তরালে

October 25, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

মাদার তেরেসা হওয়ার শতভাগ দায় বাংলাদেশিদের মাথায় চাপিয়ে, যারা রোহিঙ্গাদেরকে স্থায়ী করার চেষ্টা করছে! ক্রাইসিসের সঙ্গে ৭১এর কিছু বিষয় প্রাসঙ্গিক। সকলেই পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকতে চায়। ৭১এর ১ কোটি শরণার্থীর ৮০ ভাগ হিন্দু, শহীদদেরও ৮০ ভাগই হিন্দু। ৩ লক্ষ নাকি ৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা নিয়ে যে বিভ্রান্তি, ১৯৭১ থেকে ২০১৭এর জরিপ অনুয়ায়ী (১৩.৫ মিলিয়ন বনাম ৭.৫) প্রায় ৬ মিলিয়ন হিন্দুর আজব্দি হদিশ হয়নি। ৭১এর শরণার্থী আমিও। দেখেছি, বারবার যুদ্ধ-দাঙ্গায় ক্লান্তরা অনেকেই নিরাপদ জীবনের সন্ধানে ভারতেই থেকে গেছে, এখনো যাচ্ছে। অনেকেই ফিরে এসে দখল না পেয়ে অথবা পানির দামে বেচতে বাধ্য হয়ে চলে গেছে। অন্যদিকে, ৪৬ বছরের পরিত্যাক্ত বিহারীদের অধিকাংশই স্বদেশে ফিরতে উদগ্রীব কিন্তু স্বদেশ তাদের ত্যাগ করেছে। আরাকান জুড়ে সুচির যে মহাপরিকল্পনা, হলাকস্টের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পই যার একমাত্র তুলনা…। জেনেশুনে কিছুতেই মৃত্যুর মুখে ফেরত যাবে না রোহিঙ্গারা। (দ্র: মানবজমিন ২৩ অক্টোবর, যুগান্তর ২২, রোহিঙ্গা সম্পর্কিত আর্টিকেল।) ফাইন প্রিণ্টগুলো পড়তে হবে। এতো বেশি মানবতা দেখাতে গিয়ে যে বিরাট ভুল, “ভুল নাকি অন্যকিছু?” মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের ইকোনোমিক ডেভলপমেন্টের কোনকিছুই সন্দেহ এবং ষড়যন্ত্রের বাইরে নয়। মনে হচ্ছে, ক্ষমতাসীন এবং পরাশক্তিরা মিলেমিশেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের পথের কাঁটা। প্রত্যাবর্তনকেই প্রায়রিটির বদলে ত্রাণ সহায়তাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে, সুচিকেই সমর্থন দিচ্ছে। আর ‘পাশে’ আছে বলে বন্ধু রাষ্ট্র সম্পর্কে জনগণকে ধোকা মারছে। প্রথমে বললো, ঢুকতে দেবে না। হঠাৎই ভাত ভাগাভাগি
…read more

তিউনিশিয়ার সুশীলসমাজের নোবেলের আয়নায় বাংলাদেশ

October 22, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

একমাত্র জাতীয়তাবাদি এবং বৈধ বিরোধিদল, আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। জনগণ মরণ ঘুমে। বাকি থাকলো সুশীলসমাজ যারা নাকি বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাসের মাথামুড়ে ঘোল ঢেলে, এমনকি গলায় জুতোর মালাও পরিয়ে দিয়েছে। টকশো আর শহীমিনারের বাইরে কিছুতেই যাবে না। তাহলে গণতন্ত্র কী ফুরিয়ে গেছে? নাকি এক ব্যক্তির হাতেই গণতন্ত্রের শেষ বিছানা? এর মানে কী এই দেশে আর কোন বৈধ নির্বাচন হবে না? মনে হচ্ছে সেটাই। দেশ-বিদেশে নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন, বিশেষ করে হাইকমান্ডের যে মানসিকতা থেকে আগ্রাসী বক্তব্য, সেই পথেই যাচ্ছে নির্বাচন। তবে উত্তোরণের পথ খুঁজতেই তিউনিশিয়ার জেসমিন রেভ্যুলেশনে সুশীলসমাজের ভূমিকা এবং শান্তির নোবেল নিয়ে লেখাটি। নিউইয়র্কের গণমাধ্যমকে হাইকমান্ডের বক্তব্যের কিছু হাইলাইটস। “বিএনপির সঙ্গে কোন আলোচনা নয়। তারা কে যে, তাদের ছাড়া দেশ চলবে না? এমনকি কি ঠেকা পড়েছে, বিএনপিকে আনতে হবে?” ভোয়াকে, “যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে। …মানুষ তার পছন্দমত লোককেই নির্বাচিত করবে, আমরা দিনের পর দিন আন্দোলন্তসংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক ধারাটা আবার ফিরিয়ে এনেছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে, মানুষ ভোট দিতে পারছে, এটা আমাদের অবদান। …আমরা যে কাজ করেছি, তাতে যদি জনগণ খুশি হয়, ভোট দেবে, না হলে দেবে না। … নির্বাচন অবশ্যই অবাধ নিরপেক্ষ হবে। তা না হলে বিএনপি কি জিততে পারতো? বিএনপির আমলে কেউ কি জিতেছে…?” সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে “বাংলাদেশি মাহাথির” বলেও সনাক্ত করে, সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায়
…read more

পরিষ্কার পানিতেও মাছ শিকারে ব্যর্থ

September 25, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

  পরিস্থিতি সাপেক্ষে, গণতন্ত্র বলতে এখন একমাত্র বিএনপি। স্বশরীরে না থাকলেও, সংসদের বাইরে থেকেই অভিভাবকের মতো পাহারা দিচ্ছে। প্রতিটি অধিবেশনেই জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার তুলে প্রমাণ করছে, হিজড়া পার্টি নয়, বিএনপিই একমাত্র বিরোধিদল। নাহলে, সংসদের একটি বক্তব্যও পাবলিক খায় না, খবরেও মূল্য পায় না। গণতন্ত্রহীনতা থেকে বাঁচতেই জিয়া-পরিবারকে সংসদের মধ্যমণি করে পাবলিক হিউমিলিয়েশন থেকে রক্ষা। হাইকমান্ডের মুখে ক্ষমতার ধারবাহিকতার বিষয়টি বারবার মনে করিয়ে দেওয়ায়, ভবিষ্যতে আর কোনো বৈধ নির্বাচন না হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি দলকে দূর করে দিয়ে যারা এভাবে ক্ষমতা হাতিয়ে নেয়, তখন জামায়েতের একটি কথাই মনে পড়ে। প্রতিবারই রায়ের আগে বলতো, ওমুক হলে আগুন জ্বলবে, আগুনে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে। আমরা খুশি, বিরাট ক্ষতি সত্ত্বেও আগুন জ্বালায়নি। তবে ঘোলা পানিতে শুধু মাছ শিকারই নয়, আগের চেয়ে পরের আগুন আরো তীব্র সত্ত্বেও, প্রতিবারই আগুনে হাত দিয়ে অক্ষত আওয়ামী লীগ প্রমাণ করলো- বিডিআর থেকে ১৬তম সংশোধনীর রায়, আগুনও তাদের কাছে পরাজিত। বিএনপি ভদ্রলোকের দল, পাল্টা জবাব দিতে লজ্জা পায়। সেইজন্যই যা খুশি বলে, যা মনে হয় করে ক্ষমতাসীনরা। অশ্লীল হলেও সমস্যা নেই। দলীয় ফোরামে হাইকমান্ডের বক্তব্যকে রেফারেন্স করে লেখাটি, ৯/৯/২০১৭ তারিখে ‘আমাদের সময়’সহ প্রায় সকল পত্রিকায় প্রকাশিত। “নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই নির্বাচন পরিচালনা করবে। আমরা সেটা নিশ্চিত করবো। এটা নিয়ে অহেতুক পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা আর সংবিধান
…read more

এখন সিদ্ধান্ত জনগণের

September 10, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

ইসিকে বর্জন ছাড়া আর কোন অস্ত্র হাতে নেই। সর্বসম্মতিক্রমে রায়টি, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আগুনে ঘি। বৈধ এবং পরিপক্ক সংসদ ছাড়া কোন দেশ চলতে পারে না। এখন সিদ্ধান্ত জনগণের। লেখাটি তাদের জন্য যারা জেগে ঘুমায়। যারা হাত-পা বাঁধা বিএনপিকে সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাধ্য করতে চায়। সংসদ অবৈধ হলে আইনের যুক্তি তুলে তর্কবিতর্ক করে কী লাভ? বিশেষ করে জোর করে যখন কেউ ক্ষমতায় থাকতে বদ্ধপরিকর। সরকার প্রধানে থেকেই নির্বাচন দিতে অনড়। সংবিধানকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করতেও আইনের শাসনের পরোয়া করে না। সুতরাং ১৫তম সংশোধনীর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। নিজের মতো করে ক্ষমতার রাস্তা বানানো। এই কাজে যাদেরকে ব্যবহার করেছে, অন্যতম প্রতিষ্ঠান জুডিশিয়ারি, যাদের মধ্যে খায়রুল হকের নাম সবার আগে। তাকে ব্যবহার করে, পরবর্তীতে নানান সুবিধা দিয়ে, আইনের যে ব্যত্যয় ঘটালো… এই রায়কেও ব্যর্থ হতে দিলে, দেশ থেকে গণতন্ত্রের চি‎হ্ন মুছে যাবে। যতোদিন না ৫ জানুয়ারির ষড়যন্ত্রের বিচার হবে, ভবিষ্যতে আর একটিও নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব। রায়ে পাকিস্তান প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, বাক্যগুলো নাকি এতোই জঘন্য যে উচ্চারণ করতেও ঘৃণা হয়। দেখা যাক। পাগলের চিকিৎসা করাতে প্রধান বিচারপতিকে সাংসদ মতিয়ার উপদেশ? সাবেক বিচারপতি মানিকের ঘোষণা, তাকে শুধু পদত্যাগই নয় দেশ ছাড়াও করবেন। শিল্পমন্ত্রী আমু তার রক্ত পরীক্ষা করতে চেয়ে বলেছেন, ফাইজলামির একটা সীমা আছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস আপনাকে কে দিলো? এরপরেও প্রধান বিচারপতিকে অপরিপক্ক
…read more

১৩ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার রাস্তা পারের রেকর্ড

August 27, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

    মাত্র ৯ দিনের জন্য বাংলাদেশে যাওয়াটা ছিলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন। অতিরিক্ত পাওনার মধ্যে বৃষ্টির সঙ্গে প্রায় পুরোটা সময় বসবাস। বৃষ্টি আমার পুরানো ভালোলাগা, এই অনুভূতির বর্ণনা সম্ভব নয়। তুমুল বর্ষণে জনদুর্ভোগ স্বাভাবিক কিন্তু সেটা রহিত করার দায়িত্ব রাজনীতিদদের। খবরে প্রকাশ, সৎকারের সুযোগের অভাবে বন্যার পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে লাশ। লেখার উদ্দেশ্য, বন্যা নয় বরং ঐতিহাসিক ট্রাফিক জ্যামে নাকাল ১৩ ঘণ্টা। ঢাকার জ্যাম নিয়ে এনসাইক্লোপিডিয়া লেখার ইচ্ছা না থাকলেও এবারের দুঃসহ যন্ত্রণার কথা না লিখে পারলাম না। এভাবে চলতে থাকলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার খবরও অচিরেই ক্ষুদ্র হয়ে যাবে। ভারি বর্ষণে নাকাল বাংলাদেশের জন্য প্রত্যেকেই দুষছে বৃষ্টিকে। কিন্তু কেউই বলছে না, দোষ বৃষ্টির নয় বরং রাজনীতিকে মানিব্যাগ ভর্তি সিন্ডিকেট বানানোই কারণ। উদাহরণস্বরূপ, রাস্তা ঢালাই করতে লাগে ৪ থেকে ৬ ইঞ্জি সিমেন্ট অথবা এ্যাস্‌পল্ট। কিন্তু বছর খানেক পরেই চামড়া উঠতে শুরু করে। এতো সুরকি-সিমেন্ট যায় কোথায়? বড়জোর ২ ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে ৬ ইঞ্চির বিল। চলাচলের অনুপোযুক্ত রাস্তার উপর দিয়ে কয়েকগুণ ভারি যানবাহন, ধারণ ক্ষমতার বাইরে যানবাহনের সংখ্যা, মূর্খ এবং নিষ্ঠুর চালক, খানাখন্দ আর কাদার এনসাইক্লোপিডিয়া হয়েছে সড়ক-মহাসড়ক। অথচ রাস্তা মেরামতের নামে প্রতিবছরই হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ নিচ্ছে দলীয় সিন্ডিকেট। আমার শহর থেকেই বিপন্ন রাস্তার শুরু। রাস্তার দুইপাশে চিরাচরিত ময়লার ভাগাড় এবং মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানো পশু
…read more

এই রায়ে সমাধানের পথ

August 12, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

এতোকাল একতরফা বিচারবিভাগের দোহাই দিয়ে সব সুবিধাই আদায় করলো আওয়ামী লীগ। কিন্তু রায় প্রকাশে হঠাৎ তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠার কারণ? আইন সবদলের জন্য সমান। ১৬তম সংশোধনী বাতিলের রায়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ক্ষমতাসীনদের মাথার উপর আইনের সীমারেখা এঁকে দিলেন সর্বোচ্চ আদালত। এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের সামপ্রতিক দুটি ঘটনার উল্লেখ করে, নওয়াজ শরীফের পদত্যাগের রেফারেন্সও এই রায়ে। এর মানে কি অহেতুক রক্তপাত এড়াতে পদত্যাগেই সমাধান! রায় থেকে কয়েকটি লাইন। “ক্ষমতার লোভ মহামারির মতো। …আমাদের পূর্বপুরুষেরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছিলো, কোন ক্ষমতা-দানব তৈরি করা নয়। …আদালত লক্ষ্য করেছেন, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই পরাজিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন… নিরপেক্ষ ও হস্থক্ষেপমুক্ত স্বাধীন একটি সংসদ নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। …ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সংসদ অবিকশিতই রয়েছে। জনগণ এই দুই প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা করতে পারে না। …হাইকোর্টের রায়ের পর সুপ্রীম কোর্ট প্রিণ্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে লক্ষ্য করে যে, সাংসদরা সংসদে ওই রায় ও বিচারকদের সমালোচনা করে আলোচনা করেন। …অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করে বিচারকদের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এতে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র অপরিণত এবং পরিণতি অর্জন করতে হলে কমপক্ষে টানা ৪/৫ মেয়াদ সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চা করা প্রয়োজন।” “ভারসাম্য আর কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অনুপসি’তিতে উদ্ধত আর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছে সরকার।”“মানবাধিকার হুমকির মুখে, দুর্নীতি অবাধ, সংসদ অকার্যকর,
…read more

৯ বছরে জীবনের মূল্য মারাত্মকহারে কমেছে

July 19, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আমলে বিশেষ শ্রেণির জীবনের মূল্য দ্রব্যমূলেরচে’ কম। বাজারে একমাত্র গরিবের জীবনই সবচে’ সস্তামূল্যে মিলছে। লেখাটি কাউকে সমর্থন নয় বরং মৌলিক অধিকারে ধ্বসের প্রতিবাদ। “৬ মাসে সড়কে প্রাণ গেলো ২,২৯৭ জনের, আহত ৫,৪৮০।” নয়াদিগন্ত আর মানবজমিন ছাড়া ১ জুলাইতে প্রকাশিত, “সড়কে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ” -কোথাও দেখলাম না। দুই সরকারের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান:- ২০০০ সনে সড়কে অপমৃত্যু ৩,৪৩০। ২০০৩ সনে ৩,২৮৯। ২০০৬ সনে ৩,৭৪৯। ২০০৮ সনে ৩,৭৬৫। ২০১৪ সনে ১৬,৮৪২ (হূ)। ২০১৫ সনে ৪,৫৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় পটল তুলেছে ৬,৮২৩ জন। ২০১৬ সনে ২,৯৯৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩,৪১২ জন।   ২০১৭ সনের প্রথম ৬ মাসেই ১,৯৮৩টি দুর্ঘটনায় ২,২৯৭ জন পটল তুলেছে।   দুর্ঘটনায় নিহতদের ৯৯ ভাগই শ্রমিকশ্রেণির। এরাই জিডিপির ৮৫ ভাগ তৈরি করে। অপমৃত্যুর প্রধান কারণ, একদল ক্ষমতায় এলে অন্যদলের কাজ তাকে টেনে নামানোর জন্য সবধরনের সহিংসতা। জনগণের প্রতি আইনপ্রণেতাদের এটাই একমাত্র সেবার প্রমাণ। ঈদের ৭ দিনে আবারো ঝরে গেলো ৩’শতাধিক। সড়কে জনপ্রতিনিধিদের সেবার নমুনা এটা। পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্ন, মানবসৃষ্ট হত্যাকাণ্ড মহামারি আকার ধারণ করলেও, ১ জানুয়ারি বা ১ বৈশাখের নিরাপত্তার তুলনায়, কতোটুকু গুরুত্ব পায়? লিখছি আর দেখছি, আরো ৭ জন পটল তুললো। মেয়াদউত্তীর্ণ বয়লারের কারণে গাজিপুরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে সরকারি হিসেবে আরো ১৩ জন পটল। বেসরকারি কতো জানা না গেলেও, ওই ফ্যাক্টরিতে নাকি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিক। মৃত শ্রমিকের সংখ্যা
…read more

সংবিধানের ক্ষয়ক্ষতি এবং রাষ্ট্রদূতকে ইসির বার্তা

July 2, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

“১৫ ফেব্রুয়ারি ও ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে না” মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে দেয়া ইসির অর্ধ-সত্য বক্তব্য এবং “২০০১ সালের পুনরাবৃত্তি ২০১৮ সালে ঘটবে না” -ওবায়দুল কাদেরদের বক্তব্যগুলোর ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সংসদীয় গণতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি এবং অনেক দেরিতে হলেও, রাষ্ট্রদূতকে দেয়া ইসির বক্তব্যে এটাই ৫ জানুয়ারির সর্বপ্রথম ভুল স্বীকারোক্তির প্রমাণ। স্বীকারোক্তি, ওটা কোন নির্বাচনই ছিলো না বরং নিজেরাই সিল-ছপ্পড় মেরে ভোটের বাক্স ভরেছে… নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের কথা বলে, প্রায় পুরোটার্মই পার করে দিচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে তুলনা করা যাবে না। বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি ও সমাজের বিকল্প নেই। প্রথম থেকেই সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিটি ক্রাইসিসের জন্য এককভাবে দায়ী কোন দল? অন্য দলগুলো যেভাবেই ক্ষমতায় আসুক, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে কখনোই এসব করেনি বরং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে শাবেবর হয়েছিলো তারাই। সংসদীয় গণতন্ত্র বজায় থাকা অবস্থায় ৪র্থ এবং ১৫তম সংশোধনীর কারণে সংসদীয় ক্ষয়ক্ষতির সমালোচনা কেউ করে না। উদাহরণস্বরূপ, ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫, ৪র্থ সংশোধনীর ১৩তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনরকম নির্বাচন ছাড়াই নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা। ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহতি পূর্বে যিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি থাকিবেন না, এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হইবেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করিবেন। উক্ত প্রবর্তন হইতে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকিবেন, যেন তিনি এই আইনের দ্বারা সংশোধিত বিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত
…read more