৯ বছরে জীবনের মূল্য মারাত্মকহারে কমেছে

July 19, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আমলে বিশেষ শ্রেণির জীবনের মূল্য দ্রব্যমূলেরচে’ কম। বাজারে একমাত্র গরিবের জীবনই সবচে’ সস্তামূল্যে মিলছে। লেখাটি কাউকে সমর্থন নয় বরং মৌলিক অধিকারে ধ্বসের প্রতিবাদ। “৬ মাসে সড়কে প্রাণ গেলো ২,২৯৭ জনের, আহত ৫,৪৮০।” নয়াদিগন্ত আর মানবজমিন ছাড়া ১ জুলাইতে প্রকাশিত, “সড়কে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ” -কোথাও দেখলাম না। দুই সরকারের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান:- ২০০০ সনে সড়কে অপমৃত্যু ৩,৪৩০। ২০০৩ সনে ৩,২৮৯। ২০০৬ সনে ৩,৭৪৯। ২০০৮ সনে ৩,৭৬৫। ২০১৪ সনে ১৬,৮৪২ (হূ)। ২০১৫ সনে ৪,৫৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় পটল তুলেছে ৬,৮২৩ জন। ২০১৬ সনে ২,৯৯৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩,৪১২ জন।   ২০১৭ সনের প্রথম ৬ মাসেই ১,৯৮৩টি দুর্ঘটনায় ২,২৯৭ জন পটল তুলেছে।   দুর্ঘটনায় নিহতদের ৯৯ ভাগই শ্রমিকশ্রেণির। এরাই জিডিপির ৮৫ ভাগ তৈরি করে। অপমৃত্যুর প্রধান কারণ, একদল ক্ষমতায় এলে অন্যদলের কাজ তাকে টেনে নামানোর জন্য সবধরনের সহিংসতা। জনগণের প্রতি আইনপ্রণেতাদের এটাই একমাত্র সেবার প্রমাণ। ঈদের ৭ দিনে আবারো ঝরে গেলো ৩’শতাধিক। সড়কে জনপ্রতিনিধিদের সেবার নমুনা এটা। পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্ন, মানবসৃষ্ট হত্যাকাণ্ড মহামারি আকার ধারণ করলেও, ১ জানুয়ারি বা ১ বৈশাখের নিরাপত্তার তুলনায়, কতোটুকু গুরুত্ব পায়? লিখছি আর দেখছি, আরো ৭ জন পটল তুললো। মেয়াদউত্তীর্ণ বয়লারের কারণে গাজিপুরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে সরকারি হিসেবে আরো ১৩ জন পটল। বেসরকারি কতো জানা না গেলেও, ওই ফ্যাক্টরিতে নাকি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিক। মৃত শ্রমিকের সংখ্যা
…read more

সংবিধানের ক্ষয়ক্ষতি এবং রাষ্ট্রদূতকে ইসির বার্তা

July 2, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

“১৫ ফেব্রুয়ারি ও ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে না” মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে দেয়া ইসির অর্ধ-সত্য বক্তব্য এবং “২০০১ সালের পুনরাবৃত্তি ২০১৮ সালে ঘটবে না” -ওবায়দুল কাদেরদের বক্তব্যগুলোর ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সংসদীয় গণতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি এবং অনেক দেরিতে হলেও, রাষ্ট্রদূতকে দেয়া ইসির বক্তব্যে এটাই ৫ জানুয়ারির সর্বপ্রথম ভুল স্বীকারোক্তির প্রমাণ। স্বীকারোক্তি, ওটা কোন নির্বাচনই ছিলো না বরং নিজেরাই সিল-ছপ্পড় মেরে ভোটের বাক্স ভরেছে… নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের কথা বলে, প্রায় পুরোটার্মই পার করে দিচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে তুলনা করা যাবে না। বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি ও সমাজের বিকল্প নেই। প্রথম থেকেই সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিটি ক্রাইসিসের জন্য এককভাবে দায়ী কোন দল? অন্য দলগুলো যেভাবেই ক্ষমতায় আসুক, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে কখনোই এসব করেনি বরং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে শাবেবর হয়েছিলো তারাই। সংসদীয় গণতন্ত্র বজায় থাকা অবস্থায় ৪র্থ এবং ১৫তম সংশোধনীর কারণে সংসদীয় ক্ষয়ক্ষতির সমালোচনা কেউ করে না। উদাহরণস্বরূপ, ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫, ৪র্থ সংশোধনীর ১৩তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনরকম নির্বাচন ছাড়াই নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা। ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহতি পূর্বে যিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি থাকিবেন না, এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হইবেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করিবেন। উক্ত প্রবর্তন হইতে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকিবেন, যেন তিনি এই আইনের দ্বারা সংশোধিত বিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত
…read more

৭১এর আবেগ অবলম্বনে নতুন মহাভারতের যুদ্ধ

June 7, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

মহাভারতের মূল উপজীব্য, রাজত্ব আর রাজসিংহাসন নিয়ে কাকাতো ভাইদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। হিন্দুদের বিশ্বাস, কুরুপান্ডবেরা শান্তির পথে থাকলে, পাপাচার, যৌনাচার, জুয়া, লুটপাট, নেশায় ভরা কলিযুগ আসতে পারতো না। দাপঢ় যুগের কয়েক সহস্র বছর পর, মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে পুঁজি করে, দুটি রাজনৈতিক পরিবারের মধ্যেও কলিযুগের পক্ষ-বিপক্ষের যুদ্ধ যেন নতুন্ত মহাভারত। মুক্তিযুদ্ধের আবেগ নিয়ে খেলতে খেলতে অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক এবং পারিবারিক… জাতি প্রায় ধ্বংসের কিনারে। ২০৪১ পর্যন্ত একপক্ষই ক্ষমতায় থাকবে। ২০১৯এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সামনে, কোন যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ, গবেষণার বিষয়। আবেগ মানুষের চিরশত্রু। বিষয়টি পরিবারের হলে, রাষ্ট্র এবং মানুষের ক্ষতি হয় না। কিন্তু রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত আবেগের চাদরে মুড়ে ফেললে, হয়। এজন্যই শপথ নেয়ার সময় পাঠ করানো হয়, রাগ-অনুরাগ বিবর্জিত হয়ে দেশ শাসনের কথা। কিন্তু শপথ শেষেই, শপথ ভঙ্গের প্রতিযোগিতা। আবেগতাড়িত পৃথিবীতে, বস্থ এবং বাস্তববাদিরা শতভাগ বিপরীত অবস্থানে। আবেগের অভিশাপমুক্ত মানুষদের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ- রাজপুত্র গৌতমবুদ্ধ, যিনি সংসার এবং সিংহাসনের লোভ ত্যাগ করে, ভোগবিলাসী জীবনের বিরুদ্ধে আবিষ্কার করলেন বুদ্ধধর্ম। রাজনীতিতে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রচুর। কনফেডারেট সমপ্রদায়ের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কৃতদাস প্রথা বাতিল করলেন আব্রাহাম লিংকন। প্রধানমন্ত্রীত্বের পদে নারাজি গান্ধি। একটার্মের পর, দক্ষিণ আফ্রিকানদের আপত্তি সত্ত্বেও দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাওয়ার অনুরোধ নাকচ করে দিলেন মেন্ডেলা। সিভিল রাইটস্‌ মুভমেন্টকে আইনে পরিণত করতে জীবন দিলেও, আজব্দি কিং পরিবারকে ছুঁতে পারেনি ক্ষমতার লোভ। তবে বস্থবাদি পৃথিবীতে, ইরানের শাহ্‌
…read more

ভয় এখন মহামারী

May 7, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

ভয় যাকে নিয়ন্ত্রণ করে জীবনে সে কিছুই করতে পারে না। প্রশ্ন, কত বড় কোটিপতির স্ত্রী নয়, বরং কতটা স্বাধীনভাবে সংসার করতে পারে। এখন আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে অদ্ভূত এক ভয়। মৃত্যু নয়, বেঁচে থাকার ভয়। জীবন হচ্ছে গাড়ির নতুন চাকার মতো, ক্ষয় হতে হতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শেষ হয়ে যায়। বাঁচার জন্য শর্তের প্রয়োজন নেই কিন্তু এখন তা মিথ্যা। বরং ভয়, ঘরে জ্যান্ত ফিরবে কিনা, গুম-খুনের খাতায় নাম উঠবে কিনা। মুক্তিপণ, ক্রসফায়ার, গণপিটুনি, জেল-রিমান্ড, মিথ্যা মামলা, গুম… এগুলোই এখন চালকের আসনে। ভিন্নমত হলেই অস্বাভাবিক মৃত্যুভয় তাড়িয়ে বেড়ায়। বৈদ্ধিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে সাদা-কালো, পীতবর্ণ পোষাকের ভয়। এসবই শুধু ভিন্নমতের জন্য। আর অন্যদের জন্য আলাদ্দিনের চেরাগ। ভয় এখন একটি জাতীয় শুয়োপোকা। ভয়ে পাবলিক এখন কথা বলতেও ভুলে গেছে। ভুলে গেছে প্রতিবাদের ভাষা। ক্রসফায়ারের লাশ চাইতেও ভয়। কথিত জঙ্গিবাদের নামে শিশুও খুন হয় কিন্তু সন্তানের লাশ দাফনে ভয়। যদি, জঙ্গির বাবা-মা বলে ফাঁসিয়ে দেয়! ভয়ের রাজত্বে আমরা দুটি বিভক্ত জনগোষ্ঠি। এখন আর মৃত্যুর শর্তে বাঁচা নয়। বিশ্বজিৎ, ত্বকির, হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক কেলেংকারী, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম… বদলে যাওয়া বাংলাদেশের বিলবোর্ড। শাপলা ম্যাসাকার কিংবা কাউকে চাঁদে দেখা নিয়ে গণহত্যা… ভয়ে পাবলিকের মুখে শেলাই। বাঁচতে হলে ভোল পাল্টানোই পথ। যেমন শাপলা চত্বরের অভিশপ্ত ৫ মে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যতো অঘটন কিন্তু বদলে গেলো হেফাজতের খোলস। ওই
…read more

হিলারির বিরুদ্ধে প্রণবের কাউন্টার রেভ্যুলেশন

April 23, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

অধিকাংশ বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট, যে কোন সময়ের তুলনায় তুঙ্গে। পাবলিককে মাইনাস করে এইদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে ভারত, বিষয়টি বাংলাদেশিদেরকে অত্যন্ত অসুখী করেছে। ফলে তারাও কতোদিন সুখে থাকতে পারবে, ভেবে দেখার সময়। ১৬০ বছর পর লিংকনকে ভুল প্রমাণ করলো ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব। লিংকন বলেছিলেন, কিছু লোককে সবসময়, সবাইকেই কোন কোন সময় বোকা বানানো সম্ভব কিন্তু সবাইকেই সবসময় একসঙ্গে বোকা বানানো অসম্ভব। আনন্দবাজারিদের চিতলের মুইঠ্যা, ভাপা ইলিশের পেটি, গলদা চিংড়ির মালাইকারির তলে চাপা পড়ে গেলো কঠিন সত্য। ৫ জানুয়ারির পর, আবারো ২০১৯ সনের নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি যার শীর্ষে। দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে সবদলের অংগ্রহণে নির্বাচনের সম্ভাবনার সমাপ্তি ঘোষণা হলো। কলকাঠির মূল ইঞ্জিনিয়ার একব্যক্তি, যার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ দল ও ব্যক্তির আবেগই প্রধান, সার্বভৌম রাষ্ট্রযন্ত্রের এথিক্স যেখানে শতভাগ মূল্যহীন। ৮/৪/১৭-তে ‘দ্যা টেলিগ্রাফ’ পত্রিকাতে কে.পি. নায়ারের লেখা “এর্বোটেট কালার রেভ্যুলেশন” প্রবন্ধটি, অত্যন্ত সময়োপযোগী। লেখকের বিশ্লেষণ, সফরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব নিজে, উদ্দেশ্য ২০১৯এর নির্বাচনটি আবারো প্রিয় মানুষটিকেই উপহার দেয়া। “হাসিনাকে সরাতে ইউনুস-হিলারির চক্রান্ত ব্যর্থ করলেন প্রণব”- নামের মিডিয়ার শিরোনামটি ভুল। বরং কে.পি. নায়ার লিখতে পারতেন, বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে প্রণবের কাউন্টার রেভ্যুলেশন। এইদফায় এথিক্স ভঙ্গের অন্যতম, দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে রাষ্ট্রপতির কিচেন পর্যন্ত প্রটোকল ভাঙ্গার সিরিজ। ৪৬ বছর পরেও ইন্দিরার কেবিনেটের প্রবীণ সদস্যটি দিল্লিকা লাড্ডুর চোখেই দেখছেন বাংলাদেশকে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কুপ্রভাব
…read more

মানবাধিকার ভঙ্গের কাঠগড়ায়-হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ

April 8, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

মানবাধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে গণসচেতনতা তৈরি, মাঠপর্যায়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, কেস ওয়ার্কার দিয়ে ভিকটিমদেরকে সহায়তা, পরাশক্তিগুলোকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে চাপ, স্বৈরাচারদেরকে কারাগাড়ে পাঠানো… বহু সাফল্য হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের। এমনকি কনফ্লিক্ট জোনে নিহত হয়েছে কর্মীরা। ওয়্যারক্রাইম কিংবা ক্রাইম এগেইনেস্ট হিউম্যানিটি- অপরাধের ধরন এক। ক্রাইমগুলোর শিরোনাম- গুম, হত্যা, বলপ্রয়োগ, সিভিলিয়ান-সুশীল সমাজ-মিডিয়ার উপর আক্রমণ, বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড, শারীরিক নির্যাতন, মোটিভেশনাল জুডিশিয়ারি, ফ্যাসিজম, বাকস্বাধীনতাহরণ, মানবাধিকারভঙ্গ, বিরোধিদলের উপর অত্যাচার…। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় এবং আইসিসির সহায়ক সংস্থাগুলোর শীর্ষে- ওয়াচ। তাদের আনা তথ্যা-প্রমাণের ভিত্তিতে বহু ওয়্যারক্রিমিনাল কারাগাড়ে, অনেকেই পথে। বাংলাদেশেও একইরকম প্রমাণ থাকলে, ওয়াচের নিস্ক্রিয় ভূমিকার প্রতিবাদেই শিরোনামটি। আফ্রিকান ওয়্যারক্রিমিনালদের তুলনায় কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর অভিযোগের মাত্রা বরং বেশি। ইন্টারনেটে অভিযোগের বৃক্ষবনের কূলকিনারা নাই, বৃক্ষের সংখ্যা ১০ হাজারেরও অধিক। তাসত্ত্বেও ভিকটিমদের প্রতি এহেন অবিচারের জন্য দায়ী গণতন্ত্রের পৈতা নাকি সম্পদ কিংবা দুটোই? স্বৈরাচার উপাধি নিয়ে আফ্রিকান ওয়্যারলর্ডরা টালবাহানা না করলেও গণতন্ত্রের পৈতাধারিরা করে। হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্যতম, আফ্রিকান স্বৈরাচারদের উপরেই অধিক মনোযোগ। এমনকি ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট বার্ণস্টাইনেরও অভিযোগ, “পরাশক্তিদের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো ঝুকি তারা নেয় না।” সকলেই জানে, বঙ্গোপসাগরের তলে স্বর্ণের হিমালয় এবং ভূতাত্ত্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব প্রায় মধ্যপ্রাচ্যের সমান। ক্ষমতাসীনদের এলিট বন্ধুদের অন্যতম চীন, রাশিয়া, ভারত। এদের কেউই আইসিসির সদস্য নয় কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ায়- শাঁখের করাত, যা ক্ষমতাসীনদের জন্য শাপেবর। তারপরেও বাংলাদেশি ভিকটিমদের প্রতি
…read more

ইন্দো-সোভিয়েত ট্রিটির ধারাবাহিকতায়- টার্গেট ২০৪১

March 22, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

  আমাদের সমস্যাগুলো এইরকম। “প্রশ্নগুলো খুব ছোট, ক্রাইসিসগুলো খুবই বড়।” পানির গভীরে হাঙ্গর রেখে, ভেসে থাকা ছোট মাছগুলোর উপর গবেষণা করছে ২০ দলীয়জোট। লেখার গন্তব্যস্থল, ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কাল থেকেই বিশেষ করে ৫৬ হাজার বর্গমাইলকে টার্গেটের সর্বশেষ বর্হিপ্রকাশ ২০০৫এর নির্বাচনে ইন্দো-রুশ হস্তক্ষেপ…। জোটের প্রায় ঝরে পড়া প্রধান শরিক দলটি যা শনাক্ত করেছিলো ৭১এ, ৪৬ বছর পরেও ব্যর্থ বিএনপি। জাতিয়তাবাদি দলের ভবিষ্যত নেতাকে হত্যাই ১/১১এর এজেন্ডা। সেটা ব্যর্থ হয়েছে কিন্তু জোটের প্রধান শরিকদলের হেভীওয়েট নেতাসহ দলটিকেই প্রায় নির্মূল করায় সফল- সিক্রেট সোসাইটি।   হাঙ্গর থাকে পানির গভীরে। একদা মিত্রশক্তি সোভিয়েত ভাঙ্গলে ১৩ টুকরার ১ টুকরা রাশিয়ার নব্যজার খ্যাত পুতিনের কর্মকান্ডে অতিষ্ট পশ্চিমাদের বোঝা এখন এই উপমহাদেশের ঘাড়ে। রাশিয়ার অন্যতম বন্ধু ভারতের সঙ্গে বহু সাযুজ্যের অন্যতম সোভিয়েত ভাঙ্গার প্রতিশোধের মতোই দেশবিভাগের প্রতিশোধ। গর্বাচভকে দিয়ে সোভিয়েত ভাঙ্গার ক্ষমা চাওয়ালেন পুতিন। মার্চ ১৪, ২০১৪তে ক্রাইমিয়া দখল দিয়ে প্রতিশোধের শুরু। যদিও বলেছেনে, ক্রাইমিয়ার বাইরে দখল নয় কিন্তু বাল্টিক এবং পূর্ব ইউরোপিয় দেশগুলো তার সামরিক কার্যকলাপে ভীতসন্ত্রস্ত। কংগ্রেসের পর বিজেপির গলায় অবিভক্ত ভারতের আওয়াজ আরো চড়া। মনে হচ্ছে এবার একটা কিছু হবেই। আমরাও রামমাধবদের বক্তব্যে ভীতসন্ত্রস্ত।   পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের উষ্কানি দিচ্ছেন পুতিন। ক্রাইমিয়া-আসাদ এবং মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলাকে কেন্দ্র করে লৌহমানবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এখন যুদ্ধংদেহী। পশ্চিমাদের চোখে পুতিন যেন আরেক আইএস।
…read more

নির্বাচনের মুখে ফারাক্কা বাঁধ

March 6, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

মহাকাশে অবস্থিত আওয়ামী স্যাটেলাইটটি থেকে আর কতো লক্ষবার সিগন্যাল পাঠানোর পর সুপারবুদ্ধিজীবিরা বুঝবেন, নির্বাহীর অধীনে নির্বাচন করলে- অর্থ, সময় এবং রক্তক্ষয়ের প্রাপ্তি একটাই। ন্যূনতম ২০৪১ পর্যন্ত প্রতিবারই ক্ষমতায় যাবে আওয়ামী লীগ। অসহায় বিএনপি না হয় চলন্ত ট্রাকের তলে মাথা দিয়ে মরতে পাগল হয়ে গেছে, কিন্তু বুদ্ধিজীবিদের সমস্যা কী? জুরিসপ্রুডেন্স বলে, অন্যায়কারীর চেয়ে বড় অপরাধী যে নাকি অপরাধ ঘটানোয় সমর্থন যোগায়। আবারো রক্তক্ষয় এড়াতে এই মুহূর্তে সবচে’ বেশি প্রয়োজন্ত মানবিকতা এবং মানসিকতা। এখন পর্যন্ত নির্বাচন বুদ্ধিজীবিদের চৈতন্য উদয় না হওয়াটা, অভিশপ্ত আইনটির চেয়েও বড় অভিশাপ। “মানেন বা না মানেন, এই নির্বাচন কমিশনই থাকবে” আইনমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর, নির্বাচনের তল্পি গোটানো উচিত আওয়ামী লীগ ছাড়া সকল দলের। হাইকমান্ডের বেয়াই খন্দকার মোশাররফ, ২০৪১ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকেই ক্ষমতায় আনতে হবে, তাহলে বাংলাদেশ ধনী রাষ্ট্র হবে (১১ ফেব্রুয়ারির দৈনিক পত্রিকা)। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-হাসান মাহমুদ (১৭ ফেব্রুয়ারি নয়াদিগন্ত)। এরপরেও নির্বাচন কোথায় দেখলো, আমি তো দেখছি না। প্রথম আলো ১০ ফেব্রুয়ারি, “৫ বিশিষ্ট নাগরিকের অভিমত, নির্বাচন কমিশনারকে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।” প্রশ্ন, সংবিধান বলার পরেও ইসিকে নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে বুদ্ধিজীবিরা বলার কে? এই দায়িত্ব সংবিধান দিয়েছে কিনা! ঘোষণা করে নিজেকে নিরপেক্ষ ইসি প্রমাণের ক্ষমতা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে? স্বতীত্ব প্রমাণের প্রয়োজন নেই, প্রমাণ শরীরেই। ৫ জানুয়ারিই সেই ছেড়া স্বতীচ্ছেদ। উদ্দেশ্য, রোগি মারা যাচ্ছে, কিন্তু
…read more

বাংলাদেশিদেরকে লজ্জা দিলেন প্রবাসী আফ্রিকান সুলায়মান

February 18, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

স্বৈরাচার পতন থেকে কারাগারে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত অদ্বিতীয় ভূমিকা যে প্রবাসীর, সুলায়মান গুয়েনগুয়েন মানবাধিকারের জগতে একজন হিরো। চাদের স্বৈরশাসক হিসনে হেব্রের শাসনামলে জ্যান্ত পুতে ফেলা থেকে ব্রাশফায়ারে গণহত্যা… সব করেছে। অকারণেই ৩ বছর জেলে রেখে অমানবিক শাস্তি দিয়েছে সুলায়মানকেও, পতনের উৎপত্তি সেখানেই। আফ্রিকা… যেখানে গৃহযুদ্ধ আর গণহত্যা ছাড়া দৃশ্য নেই। ইদিআমিন, চার্লসটেলর, বশির, মুগাবে, কুনো… স্বৈরাচারদের হাত থেকে বাঁচাতেই, শান্তিমিশনে (আসলেই যা অশান্তিমিশন) সর্বোচ্চ সংখ্যক মার্সেনারি পাঠিয়ে হিরো হওয়ার প্রোপাগান্ডা বাংলাদেশের কিন্তু প্রদীপের তলে কেন এতো অন্ধকার? আফ্রিকান স্বৈরাচারদের অভিনব হাতিয়ার “শিশুযোদ্ধা”। নাবালকদেরকে গুম করে খুনি বানাতে ব্যবহার করে মদ, ড্রাগ, নারী। লাইবেরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ নিয়ে অস্কারপ্রাপ্ত ছবি “ব্লাড ডায়মন্ড” স্বৈরাচারের পূর্ণদলিল। পুরো ছবিটাই ইউটিউবে। গৃহযুদ্ধের পর দেশটির ঘরে ঘরে ক্ষুধা, দারিদ্র, পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি… দায়ী কারা? সমস্যা একটাই, সবদেশেই গডফাদারদেরই সমর্থক বেশি। আফ্রিকার সঙ্গে তালমিলিয়ে ৩য় বিশ্বেও এদের স্বরব উপস্তিতি প্রায় মহামারী পর্যায়ে। পার্থক্য একটাই, আফ্রিকান স্বৈরাচারদের শরীরে গণতন্ত্রের পৈতা নেই। কয়লার মতো কালো গায়ের রং। ভাবলেশহীন মুখ, লাখ লাখ আফ্রিকানদের ভিড়ে, সবার মতোই একজন। না ছিলো হাইস্কুল সার্টিফিকেট কিংবা স্টকমার্কেট ওঠানামা করানোর মতো রাজনৈতিক পেশী। অথচ তার পেছনেই ছুটছে এলিটশ্রেণি। এমনকি তাকে নিয়ে সিনেমাও হয়েছে। বাংলাদেশকে বড়ই লজ্জায় ফেলে দিলেন গুয়েনগুয়েন। হিসনে হেব্রেকে কাঠগড়ায় তুলতে যা প্রয়োজন, জীবিতমৃত প্রায় ২২ হাজার ভিকটিমদের জবানবন্দি সংগ্রহের সকল কৃতিত্ব তার একার।
…read more

পুতিনের শাস্তি বনাম অমীমাংসিত ৫ জানুয়ারি

February 1, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

একটি সত্য ঘটনা। মারা যাওয়ার এক বছর আগে আমার এক আত্মীয়কে বমি আর পেটের ব্যথার চিকিৎসা দিতে শুরু করলো স্থানীয় হাসপাতাল। ব্যথা ক্রমশ বাড়লো, কিন্তু বিলের আকার বড় করার লোভে বড় হাসপাতালে যেতে দিলো না। পরবর্তীতে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, চিকিৎসা দিয়ে আবারো বড় অংকের বিল। কিছুদিন পর সে মারা গেলো। রোগির হয়েছিলো ক্যান্সার। শ্বাসকষ্ট, পেট ব্যথা সবকিছুই ক্যান্সারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। একবছর আগে অপারেশন করলে হয়তো বেঁচে যেতো। আসল রোগের চিকিৎসা না করে ভোগান্তিই বাড়িয়েছে কিন্তু জীবন রক্ষা হয়নি। ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-আওয়ামী লীগ কতো বেশি অসহিষ্ণু… পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এসব। আসল রোগ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। শ্বাসকষ্টের ডাক্তারেরা যতোদিন পর্যন্ত গোড়ার চিকিৎসা না করে, টকশো-সেমিনারের বাকযুদ্ধে… কে জঙ্গি, কে ঘোষক… খুঁজতে থাকবে, সমাধান তো হবেই না বরং রোগি মারা যাবে। লেখার প্রতিটি বক্তব্যই কোন না কোনভাবে শিরোনামের সঙ্গে যুক্ত। যদিও পুতিনের প্রশ্ন তুলে ক্ষমতা হস্তান্তরকে থামিয়ে দিতে পারতেন বারাক ওবামা কিন্তু ৫ জানুয়ারির মতো দুর্ঘটনা না ঘটায়, ক্ষমতা বুঝে পেলেন ট্রাম্প। ভোট চুরি হলে, ক্ষমতা হস্তান্তর হতো না। ফলে বিশ্বব্যাপী এর ফলাফল কতো ভয়ানক হতো, প্রমাণ ২০০৮এর গ্লোবাল ধ্বস। চুরি নয় হিলারিকে হারাতে নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছিলেন পুতিন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটা ছিলো, সরাসরি ভোটের বাক্সে দেশি-বিদেশি শক্তিশালী চক্রের হস্তক্ষেপ। উদ্দেশ্য, একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উপনিবেশ কায়েম। এটা করতেই ১৫তম সংশোধনী। অর্থাৎ ৫
…read more