রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টার অন্তরালে

October 25, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

মাদার তেরেসা হওয়ার শতভাগ দায় বাংলাদেশিদের মাথায় চাপিয়ে, যারা রোহিঙ্গাদেরকে স্থায়ী করার চেষ্টা করছে! ক্রাইসিসের সঙ্গে ৭১এর কিছু বিষয় প্রাসঙ্গিক। সকলেই পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকতে চায়। ৭১এর ১ কোটি শরণার্থীর ৮০ ভাগ হিন্দু, শহীদদেরও ৮০ ভাগই হিন্দু। ৩ লক্ষ নাকি ৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা নিয়ে যে বিভ্রান্তি, ১৯৭১ থেকে ২০১৭এর জরিপ অনুয়ায়ী (১৩.৫ মিলিয়ন বনাম ৭.৫) প্রায় ৬ মিলিয়ন হিন্দুর আজব্দি হদিশ হয়নি। ৭১এর শরণার্থী আমিও। দেখেছি, বারবার যুদ্ধ-দাঙ্গায় ক্লান্তরা অনেকেই নিরাপদ জীবনের সন্ধানে ভারতেই থেকে গেছে, এখনো যাচ্ছে। অনেকেই ফিরে এসে দখল না পেয়ে অথবা পানির দামে বেচতে বাধ্য হয়ে চলে গেছে। অন্যদিকে, ৪৬ বছরের পরিত্যাক্ত বিহারীদের অধিকাংশই স্বদেশে ফিরতে উদগ্রীব কিন্তু স্বদেশ তাদের ত্যাগ করেছে। আরাকান জুড়ে সুচির যে মহাপরিকল্পনা, হলাকস্টের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পই যার একমাত্র তুলনা…। জেনেশুনে কিছুতেই মৃত্যুর মুখে ফেরত যাবে না রোহিঙ্গারা। (দ্র: মানবজমিন ২৩ অক্টোবর, যুগান্তর ২২, রোহিঙ্গা সম্পর্কিত আর্টিকেল।) ফাইন প্রিণ্টগুলো পড়তে হবে। এতো বেশি মানবতা দেখাতে গিয়ে যে বিরাট ভুল, “ভুল নাকি অন্যকিছু?” মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের ইকোনোমিক ডেভলপমেন্টের কোনকিছুই সন্দেহ এবং ষড়যন্ত্রের বাইরে নয়। মনে হচ্ছে, ক্ষমতাসীন এবং পরাশক্তিরা মিলেমিশেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের পথের কাঁটা। প্রত্যাবর্তনকেই প্রায়রিটির বদলে ত্রাণ সহায়তাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে, সুচিকেই সমর্থন দিচ্ছে। আর ‘পাশে’ আছে বলে বন্ধু রাষ্ট্র সম্পর্কে জনগণকে ধোকা মারছে। প্রথমে বললো, ঢুকতে দেবে না। হঠাৎই ভাত ভাগাভাগি
…read more

তিউনিশিয়ার সুশীলসমাজের নোবেলের আয়নায় বাংলাদেশ

October 22, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

একমাত্র জাতীয়তাবাদি এবং বৈধ বিরোধিদল, আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। জনগণ মরণ ঘুমে। বাকি থাকলো সুশীলসমাজ যারা নাকি বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাসের মাথামুড়ে ঘোল ঢেলে, এমনকি গলায় জুতোর মালাও পরিয়ে দিয়েছে। টকশো আর শহীমিনারের বাইরে কিছুতেই যাবে না। তাহলে গণতন্ত্র কী ফুরিয়ে গেছে? নাকি এক ব্যক্তির হাতেই গণতন্ত্রের শেষ বিছানা? এর মানে কী এই দেশে আর কোন বৈধ নির্বাচন হবে না? মনে হচ্ছে সেটাই। দেশ-বিদেশে নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন, বিশেষ করে হাইকমান্ডের যে মানসিকতা থেকে আগ্রাসী বক্তব্য, সেই পথেই যাচ্ছে নির্বাচন। তবে উত্তোরণের পথ খুঁজতেই তিউনিশিয়ার জেসমিন রেভ্যুলেশনে সুশীলসমাজের ভূমিকা এবং শান্তির নোবেল নিয়ে লেখাটি। নিউইয়র্কের গণমাধ্যমকে হাইকমান্ডের বক্তব্যের কিছু হাইলাইটস। “বিএনপির সঙ্গে কোন আলোচনা নয়। তারা কে যে, তাদের ছাড়া দেশ চলবে না? এমনকি কি ঠেকা পড়েছে, বিএনপিকে আনতে হবে?” ভোয়াকে, “যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে। …মানুষ তার পছন্দমত লোককেই নির্বাচিত করবে, আমরা দিনের পর দিন আন্দোলন্তসংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক ধারাটা আবার ফিরিয়ে এনেছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে, মানুষ ভোট দিতে পারছে, এটা আমাদের অবদান। …আমরা যে কাজ করেছি, তাতে যদি জনগণ খুশি হয়, ভোট দেবে, না হলে দেবে না। … নির্বাচন অবশ্যই অবাধ নিরপেক্ষ হবে। তা না হলে বিএনপি কি জিততে পারতো? বিএনপির আমলে কেউ কি জিতেছে…?” সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে “বাংলাদেশি মাহাথির” বলেও সনাক্ত করে, সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায়
…read more

সংবিধানের ক্ষয়ক্ষতি এবং রাষ্ট্রদূতকে ইসির বার্তা

July 2, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

“১৫ ফেব্রুয়ারি ও ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে না” মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে দেয়া ইসির অর্ধ-সত্য বক্তব্য এবং “২০০১ সালের পুনরাবৃত্তি ২০১৮ সালে ঘটবে না” -ওবায়দুল কাদেরদের বক্তব্যগুলোর ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সংসদীয় গণতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি এবং অনেক দেরিতে হলেও, রাষ্ট্রদূতকে দেয়া ইসির বক্তব্যে এটাই ৫ জানুয়ারির সর্বপ্রথম ভুল স্বীকারোক্তির প্রমাণ। স্বীকারোক্তি, ওটা কোন নির্বাচনই ছিলো না বরং নিজেরাই সিল-ছপ্পড় মেরে ভোটের বাক্স ভরেছে… নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের কথা বলে, প্রায় পুরোটার্মই পার করে দিচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে তুলনা করা যাবে না। বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি ও সমাজের বিকল্প নেই। প্রথম থেকেই সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিটি ক্রাইসিসের জন্য এককভাবে দায়ী কোন দল? অন্য দলগুলো যেভাবেই ক্ষমতায় আসুক, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে কখনোই এসব করেনি বরং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে শাবেবর হয়েছিলো তারাই। সংসদীয় গণতন্ত্র বজায় থাকা অবস্থায় ৪র্থ এবং ১৫তম সংশোধনীর কারণে সংসদীয় ক্ষয়ক্ষতির সমালোচনা কেউ করে না। উদাহরণস্বরূপ, ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫, ৪র্থ সংশোধনীর ১৩তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনরকম নির্বাচন ছাড়াই নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা। ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহতি পূর্বে যিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি থাকিবেন না, এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হইবেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করিবেন। উক্ত প্রবর্তন হইতে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকিবেন, যেন তিনি এই আইনের দ্বারা সংশোধিত বিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত
…read more

ভয় এখন মহামারী

May 7, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

ভয় যাকে নিয়ন্ত্রণ করে জীবনে সে কিছুই করতে পারে না। প্রশ্ন, কত বড় কোটিপতির স্ত্রী নয়, বরং কতটা স্বাধীনভাবে সংসার করতে পারে। এখন আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে অদ্ভূত এক ভয়। মৃত্যু নয়, বেঁচে থাকার ভয়। জীবন হচ্ছে গাড়ির নতুন চাকার মতো, ক্ষয় হতে হতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শেষ হয়ে যায়। বাঁচার জন্য শর্তের প্রয়োজন নেই কিন্তু এখন তা মিথ্যা। বরং ভয়, ঘরে জ্যান্ত ফিরবে কিনা, গুম-খুনের খাতায় নাম উঠবে কিনা। মুক্তিপণ, ক্রসফায়ার, গণপিটুনি, জেল-রিমান্ড, মিথ্যা মামলা, গুম… এগুলোই এখন চালকের আসনে। ভিন্নমত হলেই অস্বাভাবিক মৃত্যুভয় তাড়িয়ে বেড়ায়। বৈদ্ধিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে সাদা-কালো, পীতবর্ণ পোষাকের ভয়। এসবই শুধু ভিন্নমতের জন্য। আর অন্যদের জন্য আলাদ্দিনের চেরাগ। ভয় এখন একটি জাতীয় শুয়োপোকা। ভয়ে পাবলিক এখন কথা বলতেও ভুলে গেছে। ভুলে গেছে প্রতিবাদের ভাষা। ক্রসফায়ারের লাশ চাইতেও ভয়। কথিত জঙ্গিবাদের নামে শিশুও খুন হয় কিন্তু সন্তানের লাশ দাফনে ভয়। যদি, জঙ্গির বাবা-মা বলে ফাঁসিয়ে দেয়! ভয়ের রাজত্বে আমরা দুটি বিভক্ত জনগোষ্ঠি। এখন আর মৃত্যুর শর্তে বাঁচা নয়। বিশ্বজিৎ, ত্বকির, হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক কেলেংকারী, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম… বদলে যাওয়া বাংলাদেশের বিলবোর্ড। শাপলা ম্যাসাকার কিংবা কাউকে চাঁদে দেখা নিয়ে গণহত্যা… ভয়ে পাবলিকের মুখে শেলাই। বাঁচতে হলে ভোল পাল্টানোই পথ। যেমন শাপলা চত্বরের অভিশপ্ত ৫ মে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যতো অঘটন কিন্তু বদলে গেলো হেফাজতের খোলস। ওই
…read more

হিলারির বিরুদ্ধে প্রণবের কাউন্টার রেভ্যুলেশন

April 23, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

অধিকাংশ বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট, যে কোন সময়ের তুলনায় তুঙ্গে। পাবলিককে মাইনাস করে এইদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে ভারত, বিষয়টি বাংলাদেশিদেরকে অত্যন্ত অসুখী করেছে। ফলে তারাও কতোদিন সুখে থাকতে পারবে, ভেবে দেখার সময়। ১৬০ বছর পর লিংকনকে ভুল প্রমাণ করলো ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব। লিংকন বলেছিলেন, কিছু লোককে সবসময়, সবাইকেই কোন কোন সময় বোকা বানানো সম্ভব কিন্তু সবাইকেই সবসময় একসঙ্গে বোকা বানানো অসম্ভব। আনন্দবাজারিদের চিতলের মুইঠ্যা, ভাপা ইলিশের পেটি, গলদা চিংড়ির মালাইকারির তলে চাপা পড়ে গেলো কঠিন সত্য। ৫ জানুয়ারির পর, আবারো ২০১৯ সনের নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি যার শীর্ষে। দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে সবদলের অংগ্রহণে নির্বাচনের সম্ভাবনার সমাপ্তি ঘোষণা হলো। কলকাঠির মূল ইঞ্জিনিয়ার একব্যক্তি, যার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ দল ও ব্যক্তির আবেগই প্রধান, সার্বভৌম রাষ্ট্রযন্ত্রের এথিক্স যেখানে শতভাগ মূল্যহীন। ৮/৪/১৭-তে ‘দ্যা টেলিগ্রাফ’ পত্রিকাতে কে.পি. নায়ারের লেখা “এর্বোটেট কালার রেভ্যুলেশন” প্রবন্ধটি, অত্যন্ত সময়োপযোগী। লেখকের বিশ্লেষণ, সফরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব নিজে, উদ্দেশ্য ২০১৯এর নির্বাচনটি আবারো প্রিয় মানুষটিকেই উপহার দেয়া। “হাসিনাকে সরাতে ইউনুস-হিলারির চক্রান্ত ব্যর্থ করলেন প্রণব”- নামের মিডিয়ার শিরোনামটি ভুল। বরং কে.পি. নায়ার লিখতে পারতেন, বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে প্রণবের কাউন্টার রেভ্যুলেশন। এইদফায় এথিক্স ভঙ্গের অন্যতম, দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে রাষ্ট্রপতির কিচেন পর্যন্ত প্রটোকল ভাঙ্গার সিরিজ। ৪৬ বছর পরেও ইন্দিরার কেবিনেটের প্রবীণ সদস্যটি দিল্লিকা লাড্ডুর চোখেই দেখছেন বাংলাদেশকে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কুপ্রভাব
…read more

নির্বাচনের মুখে ফারাক্কা বাঁধ

March 6, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

মহাকাশে অবস্থিত আওয়ামী স্যাটেলাইটটি থেকে আর কতো লক্ষবার সিগন্যাল পাঠানোর পর সুপারবুদ্ধিজীবিরা বুঝবেন, নির্বাহীর অধীনে নির্বাচন করলে- অর্থ, সময় এবং রক্তক্ষয়ের প্রাপ্তি একটাই। ন্যূনতম ২০৪১ পর্যন্ত প্রতিবারই ক্ষমতায় যাবে আওয়ামী লীগ। অসহায় বিএনপি না হয় চলন্ত ট্রাকের তলে মাথা দিয়ে মরতে পাগল হয়ে গেছে, কিন্তু বুদ্ধিজীবিদের সমস্যা কী? জুরিসপ্রুডেন্স বলে, অন্যায়কারীর চেয়ে বড় অপরাধী যে নাকি অপরাধ ঘটানোয় সমর্থন যোগায়। আবারো রক্তক্ষয় এড়াতে এই মুহূর্তে সবচে’ বেশি প্রয়োজন্ত মানবিকতা এবং মানসিকতা। এখন পর্যন্ত নির্বাচন বুদ্ধিজীবিদের চৈতন্য উদয় না হওয়াটা, অভিশপ্ত আইনটির চেয়েও বড় অভিশাপ। “মানেন বা না মানেন, এই নির্বাচন কমিশনই থাকবে” আইনমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর, নির্বাচনের তল্পি গোটানো উচিত আওয়ামী লীগ ছাড়া সকল দলের। হাইকমান্ডের বেয়াই খন্দকার মোশাররফ, ২০৪১ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকেই ক্ষমতায় আনতে হবে, তাহলে বাংলাদেশ ধনী রাষ্ট্র হবে (১১ ফেব্রুয়ারির দৈনিক পত্রিকা)। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-হাসান মাহমুদ (১৭ ফেব্রুয়ারি নয়াদিগন্ত)। এরপরেও নির্বাচন কোথায় দেখলো, আমি তো দেখছি না। প্রথম আলো ১০ ফেব্রুয়ারি, “৫ বিশিষ্ট নাগরিকের অভিমত, নির্বাচন কমিশনারকে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।” প্রশ্ন, সংবিধান বলার পরেও ইসিকে নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে বুদ্ধিজীবিরা বলার কে? এই দায়িত্ব সংবিধান দিয়েছে কিনা! ঘোষণা করে নিজেকে নিরপেক্ষ ইসি প্রমাণের ক্ষমতা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে? স্বতীত্ব প্রমাণের প্রয়োজন নেই, প্রমাণ শরীরেই। ৫ জানুয়ারিই সেই ছেড়া স্বতীচ্ছেদ। উদ্দেশ্য, রোগি মারা যাচ্ছে, কিন্তু
…read more

বাংলাদেশিদেরকে লজ্জা দিলেন প্রবাসী আফ্রিকান সুলায়মান

February 18, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

স্বৈরাচার পতন থেকে কারাগারে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত অদ্বিতীয় ভূমিকা যে প্রবাসীর, সুলায়মান গুয়েনগুয়েন মানবাধিকারের জগতে একজন হিরো। চাদের স্বৈরশাসক হিসনে হেব্রের শাসনামলে জ্যান্ত পুতে ফেলা থেকে ব্রাশফায়ারে গণহত্যা… সব করেছে। অকারণেই ৩ বছর জেলে রেখে অমানবিক শাস্তি দিয়েছে সুলায়মানকেও, পতনের উৎপত্তি সেখানেই। আফ্রিকা… যেখানে গৃহযুদ্ধ আর গণহত্যা ছাড়া দৃশ্য নেই। ইদিআমিন, চার্লসটেলর, বশির, মুগাবে, কুনো… স্বৈরাচারদের হাত থেকে বাঁচাতেই, শান্তিমিশনে (আসলেই যা অশান্তিমিশন) সর্বোচ্চ সংখ্যক মার্সেনারি পাঠিয়ে হিরো হওয়ার প্রোপাগান্ডা বাংলাদেশের কিন্তু প্রদীপের তলে কেন এতো অন্ধকার? আফ্রিকান স্বৈরাচারদের অভিনব হাতিয়ার “শিশুযোদ্ধা”। নাবালকদেরকে গুম করে খুনি বানাতে ব্যবহার করে মদ, ড্রাগ, নারী। লাইবেরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ নিয়ে অস্কারপ্রাপ্ত ছবি “ব্লাড ডায়মন্ড” স্বৈরাচারের পূর্ণদলিল। পুরো ছবিটাই ইউটিউবে। গৃহযুদ্ধের পর দেশটির ঘরে ঘরে ক্ষুধা, দারিদ্র, পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি… দায়ী কারা? সমস্যা একটাই, সবদেশেই গডফাদারদেরই সমর্থক বেশি। আফ্রিকার সঙ্গে তালমিলিয়ে ৩য় বিশ্বেও এদের স্বরব উপস্তিতি প্রায় মহামারী পর্যায়ে। পার্থক্য একটাই, আফ্রিকান স্বৈরাচারদের শরীরে গণতন্ত্রের পৈতা নেই। কয়লার মতো কালো গায়ের রং। ভাবলেশহীন মুখ, লাখ লাখ আফ্রিকানদের ভিড়ে, সবার মতোই একজন। না ছিলো হাইস্কুল সার্টিফিকেট কিংবা স্টকমার্কেট ওঠানামা করানোর মতো রাজনৈতিক পেশী। অথচ তার পেছনেই ছুটছে এলিটশ্রেণি। এমনকি তাকে নিয়ে সিনেমাও হয়েছে। বাংলাদেশকে বড়ই লজ্জায় ফেলে দিলেন গুয়েনগুয়েন। হিসনে হেব্রেকে কাঠগড়ায় তুলতে যা প্রয়োজন, জীবিতমৃত প্রায় ২২ হাজার ভিকটিমদের জবানবন্দি সংগ্রহের সকল কৃতিত্ব তার একার।
…read more

পুতিনের শাস্তি বনাম অমীমাংসিত ৫ জানুয়ারি

February 1, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

একটি সত্য ঘটনা। মারা যাওয়ার এক বছর আগে আমার এক আত্মীয়কে বমি আর পেটের ব্যথার চিকিৎসা দিতে শুরু করলো স্থানীয় হাসপাতাল। ব্যথা ক্রমশ বাড়লো, কিন্তু বিলের আকার বড় করার লোভে বড় হাসপাতালে যেতে দিলো না। পরবর্তীতে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, চিকিৎসা দিয়ে আবারো বড় অংকের বিল। কিছুদিন পর সে মারা গেলো। রোগির হয়েছিলো ক্যান্সার। শ্বাসকষ্ট, পেট ব্যথা সবকিছুই ক্যান্সারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। একবছর আগে অপারেশন করলে হয়তো বেঁচে যেতো। আসল রোগের চিকিৎসা না করে ভোগান্তিই বাড়িয়েছে কিন্তু জীবন রক্ষা হয়নি। ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-আওয়ামী লীগ কতো বেশি অসহিষ্ণু… পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এসব। আসল রোগ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। শ্বাসকষ্টের ডাক্তারেরা যতোদিন পর্যন্ত গোড়ার চিকিৎসা না করে, টকশো-সেমিনারের বাকযুদ্ধে… কে জঙ্গি, কে ঘোষক… খুঁজতে থাকবে, সমাধান তো হবেই না বরং রোগি মারা যাবে। লেখার প্রতিটি বক্তব্যই কোন না কোনভাবে শিরোনামের সঙ্গে যুক্ত। যদিও পুতিনের প্রশ্ন তুলে ক্ষমতা হস্তান্তরকে থামিয়ে দিতে পারতেন বারাক ওবামা কিন্তু ৫ জানুয়ারির মতো দুর্ঘটনা না ঘটায়, ক্ষমতা বুঝে পেলেন ট্রাম্প। ভোট চুরি হলে, ক্ষমতা হস্তান্তর হতো না। ফলে বিশ্বব্যাপী এর ফলাফল কতো ভয়ানক হতো, প্রমাণ ২০০৮এর গ্লোবাল ধ্বস। চুরি নয় হিলারিকে হারাতে নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছিলেন পুতিন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটা ছিলো, সরাসরি ভোটের বাক্সে দেশি-বিদেশি শক্তিশালী চক্রের হস্তক্ষেপ। উদ্দেশ্য, একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উপনিবেশ কায়েম। এটা করতেই ১৫তম সংশোধনী। অর্থাৎ ৫
…read more

নির্বাচন শেষ, বিরোধিদলে আসছেন খালেদা জিয়া

November 6, 2016 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

নির্বাচনী ফলাফলকে সহজবোধ্য এবং বাস্তাবসম্মত করতেই এই লেখা। আগাম বা আগামী নির্বাচন বিষয়ে, জ্ঞানীগুণিদের লেখা পড়ছি। তবে ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝি, ২৬ মাস আগেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে কাউন্সিলের মঞ্চ থেকে। নির্বাচনের আর প্রয়োজন কী? “রওশন আউট, খালেদা ইন।” ১৫তম সংশোধনীর ভাষা এখনো যারা বুঝতে অক্ষম, তাদের জন্য সুসংবাদ। এই নির্বাহীর অধীনে আগামী সবগুলো নির্বাচনেই খালেদার ভাগ্যে আজীবন বিরোধিনেতার পদ। আর তিনি না চাইলে, বিকল্প বিএনপি ছাড়াও সংসদে মধু লোভী মৌমাছিরাও তৈরি। জাতিয় নির্বাচন নয়, কাউন্সিল থেকে এ যেন বিএনপি এবং নির্বাচনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা। এরপর যাচ্ছে কনডেম সেলে। কারণ আওয়ামী লীগের গোড়ার চেয়ে ডালপালার শক্তি বেশি। আন্দোলনের বদলে “নিধিরাম সর্দার” বিএনপি যদি আলোচনার জন্য আওয়ামী লীগকে অনুরোধ করতেই থাকে, ৬ বা ২৬ মাস পর (ট্রাম্প বা হিলারি সাপেক্ষে), আম-ছালা দুটাই যাবে। আমার আত্মবিশ্বাস যারা বিশ্বাস করবে না, করবে নির্বাচনের পর। “আগামী নির্বাচনে সরকারে যাওয়ার স্বরব ঘোষণা আওয়ামী লীগের।” কারণ তাদের হাতে-পায়ে শেকল। স্বঘোষিত বিজয় ঘোষণা ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। বিএনপি দেখুক আর না দেখুক, গণতন্ত্রের বস্ত্রহরণের প্রমাণ, ১০ বছর ধরেই দেখিয়ে আসছে লীগ। আগামী নির্বাচন আরো ভয়ংকর। কাউন্সিলের পর থেকে যে জটিল সংবাদগুলোতে চোখ আটকে যাচ্ছে…। আমাদের সময় ২৯ অক্টোবর, “একাদশ সংসদে এই ধরনের বিরোধিদল চায় না আওয়ামী লীগও।” এর মানে হলো, ২৬ মাস আগেই নিজেদেরকে নির্বাচিত মনে করছে
…read more

আরেকটি শীতলযুদ্ধ এবং রক্তস্নাত ১০ বছর

October 30, 2016 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষে, ঠান্ডাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া থেকে যে বিষয়টি পুরোপুরি বাদ পড়লো, ‘দেশবিভাগ’কে কেন্দ্র করে ৬৯ বছর ধরে চলা আরেকটি শীতলযুদ্ধ। একসময় যার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে ৫৬ হাজার বর্গমাইল। ভিয়েতনামের মতোই এই যুদ্ধের পেছনেও দুই সুপারপাওয়ারের চরিত্র ঠিক আগের মতোই। উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণকে আক্রমণ করলে, আমেরিকা নিলো দক্ষিণের পক্ষ। সোভিয়েতের উষ্কানিতে চীন নিলো উত্তরের পক্ষ। সেটাই শীতলযুদ্ধের শুরু। আর আফগানিস্তান আক্রমণ করলে সোভিয়েতকে উচিত জবাব দিতে, ‘তালেবান’ সৃষ্টি করে ১০ বছর যুদ্ধ করলো আমেরিকা। সেটাই শীতলযুদ্ধের শেষ। ভিয়েতনাম আর তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানেও একই সময়ে বোমা পড়ছিলো। সায়গন পতনের আগেই, পূর্ব পাকিস্তানের পতন হয়েছিলো ঢাকায়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের বহু আগেই অবিভক্ত ভারতে ছোটখাটো বিশ্বযুদ্ধের মূলে, সাম্রাজ্যবাদি ব্রিটিশ। ২য় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশের অর্থনৈতিক কোমর ভেঙ্গে যাওয়ায়, যেনতেন দেশবিভাগ করে প্রতিশোধ। কোরিয়া এবং কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে শীতলযুদ্ধের শুরু, একই সময়ে। ১৯৮৯ সনে বার্ণিল দেয়াল পতনের মধ্য দিয়ে, শীতলযুদ্ধ শেষ করলেন প্রেসিডেন্ট রেগ্যান। কিন্তু ৬৯ বছর পরেও শেষ হয়নি কাশ্মির যুদ্ধ এবং দেশবিভাগকে কেন্দ্র করে আরো কয়েকটি যুদ্ধের সঙ্গে চলমান দাঙ্গার ধারাবাহিকতা। এসব কারণেই, ৯০এর আন্দোলন শেষ হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি রক্তস্নাত ১০ বছর। আর্মেনিয়া, রুয়ান্ডায় গণহত্যায় মৃতের সংখ্যা তুলনামূলক কম সত্ত্বেও বিশ্ব দরবারে সেগুলোই বহুল আলোচিত। অথচ ৪৭কে কেন্দ্র করে এরচে’ বড় মাপের একাধিক গণহত্যা সত্ত্বেও টুশব্দ নেই? ঘটনার ধারাবাহিকতার মধ্যে, ১৯০৫ সনে
…read more