পুতিনের শাস্তি বনাম অমীমাংসিত ৫ জানুয়ারি

February 1, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


একটি সত্য ঘটনা। মারা যাওয়ার এক বছর আগে আমার এক আত্মীয়কে বমি আর পেটের ব্যথার চিকিৎসা দিতে শুরু করলো স্থানীয় হাসপাতাল। ব্যথা ক্রমশ বাড়লো, কিন্তু বিলের আকার বড় করার লোভে বড় হাসপাতালে যেতে দিলো না। পরবর্তীতে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, চিকিৎসা দিয়ে আবারো বড় অংকের বিল। কিছুদিন পর সে মারা গেলো। রোগির হয়েছিলো ক্যান্সার। শ্বাসকষ্ট, পেট ব্যথা সবকিছুই ক্যান্সারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। একবছর আগে অপারেশন করলে হয়তো বেঁচে যেতো। আসল রোগের চিকিৎসা না করে ভোগান্তিই বাড়িয়েছে কিন্তু জীবন রক্ষা হয়নি।
৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-আওয়ামী লীগ কতো বেশি অসহিষ্ণু… পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এসব। আসল রোগ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। শ্বাসকষ্টের ডাক্তারেরা যতোদিন পর্যন্ত গোড়ার চিকিৎসা না করে, টকশো-সেমিনারের বাকযুদ্ধে… কে জঙ্গি, কে ঘোষক… খুঁজতে থাকবে, সমাধান তো হবেই না বরং রোগি মারা যাবে। লেখার প্রতিটি বক্তব্যই কোন না কোনভাবে শিরোনামের সঙ্গে যুক্ত।
যদিও পুতিনের প্রশ্ন তুলে ক্ষমতা হস্তান্তরকে থামিয়ে দিতে পারতেন বারাক ওবামা কিন্তু ৫ জানুয়ারির মতো দুর্ঘটনা না ঘটায়, ক্ষমতা বুঝে পেলেন ট্রাম্প। ভোট চুরি হলে, ক্ষমতা হস্তান্তর হতো না। ফলে বিশ্বব্যাপী এর ফলাফল কতো ভয়ানক হতো, প্রমাণ ২০০৮এর গ্লোবাল ধ্বস।
চুরি নয় হিলারিকে হারাতে নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছিলেন পুতিন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটা ছিলো, সরাসরি ভোটের বাক্সে দেশি-বিদেশি শক্তিশালী চক্রের হস্তক্ষেপ। উদ্দেশ্য, একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উপনিবেশ কায়েম। এটা করতেই ১৫তম সংশোধনী। অর্থাৎ ৫ ভাগ ভোটের সংসদ। ফলে ওরা যেটাই করে, সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আর জোর-জবরদস্তি চাপিয়ে দিতে গিয়ে নাস্তানাবুদ এই সংসদ।
৩ বছর ধরেই সংবিধানের প্রতিটি আইনের গেড়াকলে ঝুলে আছে ৫ জানুয়ারি। জোর খাটিয়ে খারিজ করলেই বৈধ নয়, কারণ এই দেশ কিউবা নয়। অনির্বাচিত সরকারের বিষয়টি সামাল দিতেই ঘটা করে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন। সভা-সমাবেশের মাধ্যমে বারবার মনে করিয়ে দেয়া, যা ডাহা মিথ্যা। কম গণতন্ত্র বেশি উন্নতির বিলবোর্ড দিয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলকে ঢেকে ফেলা। মানুষ এতো বোকা নয়। বৈধতার প্রশ্নটি কোথাও যাচ্ছে না।


৯২ দিনের ধারাবাহিকতায়, ৩য় বর্ষপূর্তিতেও, গণতন্ত্র হত্যা প্রমাণের চেষ্টা করলে, খালেদাকে যমের মতো ভয়। সেই কারণেই পল্টনের গেটে পুলিশ, সোহরাওয়ার্দির গেটে তালা।
ক্ষমতা দখল করতে যতো অঘটন। ২০০৮এর গোমড় ফাঁস করেছিলেন হিলারি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ফাঁস করলো হ্যাকাররা নিজেই। হস্তক্ষেপকারীদের বক্তব্য, নির্বাচনের জন্য একটি বিশেষ দলকে বেছে নিয়েছিলো। কারণ তারা মনে করে, বিএনপি জোট ক্ষমতায় এলে জঙ্গি দিয়ে ভরে যাবে উপমহাদেশ। সেটা প্রমাণেরও সর্বোচ্চ চেষ্টা তাদের। দুঃখজনক কিন্তু সত্য, প্রতিবেশি দেশটির পছন্দ ছাড়া, নির্বাচন হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই।
লঘুপাপে পুতিনের গুরুদণ্ড কিন্তু ৩ বছর পরেও ৫ জানুয়ারির অপরাধিদের বিচার দূরে থাক বরং আরো বেশি শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। দেশদ্রোহিতা এবং গুপ্তচরবৃত্তির শাস্তির বিধান সংবিধানেই। সেই মোতাবেক হস্তক্ষেপকারী দেশটির সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত কিন্তু সবচে’ বড় বাধা ১৫তম সংশোধনী। ওই অভিশাপ থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জনগণের সরকারের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
ভোটের বাক্সের নিয়ন্ত্রণ নিতে যা করেছিলো, ওয়াশিংটনের মতো কষ্ট করে গোয়েন্দা তদনে-র প্রয়োজন নেই। ৫ জানুয়ারির ভুড়িভুড়ি প্রমাণ দুইদলেরই হাতে। বাস্তবে সেদিন কোন নির্বাচনই হয়নি। ৫ ভাগ ভোটে জাতিয় সংসদ হয় না। এছাড়াও, আজব্দি ১৫৪ জন অনির্বাচিত এবং সরকারের মধ্যেই বিরোধিদল। ৩০০ সিটের সংসদে একটি সিটেও ৩ বার ক্ষমতায় যাওয়া দলটির প্রতিনিধিত্ব নেই। হস্তক্ষেপকারী দেশটির স্বীকারোক্তি, নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছিলো। দেশটির প্রভাবশালী নেতারা ঢাকায় এলে বিএনপিকে আর আমলেই নেয় না। এই সংসদকে বৈধ প্রমাণের মতো আদালত, বিশ্বের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ঐক্যমতের ভিত্তিতে পুতিনের শাস্তি হওয়ায়, রেফারেন্সটি ৫ জানুয়ারির জবাবদিহিতার জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ। ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার বিরুদ্ধেও নতুন সংকট।
প্রভাবশালী বর্ষীয়ান কলামিস্ট কুলদীপ নায়ারের পিলেচমকানো লেখাটির প্রতিবাদ না করে ক্ষমতাসীনরাও স্বীকার করলো, নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ। ২১ শতকের মাতাহারি স্পাই, সুজাতা সিং-এর অপরাধ, সরাসরি দেশদ্রোহিতার আওতাভুক্ত। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে জাতিয় পার্টিকে বাধ্য করারও প্রমাণ। এরশাদকে জেলে ঢোকানোর হুমকি দিয়ে বলেছিলো, নির্বাচনে না এলে বিএনপি-জামায়েত ক্ষমতায় আসবে। ওরা সব জঙ্গি, সেটাই কী চান? সুযোগ লুফে নিলো আরেক মাতাহারি রওশন। দেশদ্রোহিতা এবং গুপ্তচরবৃত্তির কারণে ফরাসি স্পাই মাতাহারিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করেছিলো। ৩৫ রাশিয়ান ডিপলোমেটকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মাত্র কয়েকদিন আগে আমেরিকা থেকে বের করে দিলো। কিন্তু ৩ বছর পরেও, সুজাতা সিং এবং পঙ্কজ শরণসহ কংগ্রেসের কারোই শাস্তি না হওয়াটা সার্বভৌমত্বে সরাসরি আঘাত। পুতিনের দৃষ্টানে-র পর, বল এবার বিরোধিশিবিরের কোর্টে কিন্তু পল্টনের কর্মকাণ্ড ভীতিকর।
বিরোধিশিবিরে যে শ্বাস্তপ্রশ্বাস কষ্ট, দায়ী ওরাই। পছন্দের দলকে ক্ষমতায় রাখতে, অপছন্দের দলের উপর জঙ্গিবাদের এমনসব দায় চাপালো, বাস্তবে যার কোন অস্তিত্বই নেই। প্রমাণ ছাড়াই জঙ্গি বানিয়ে দিচ্ছে। জঙ্গিবাদ হচ্ছে এই শতাব্দির সবচে’ বড় চ্যালেঞ্জ। সকলেই এটাকে পুঁজি করে জিততে চায়। আর এই গেইম থিওরিতেই ৩য় বর্ষপূরণ। বৈধ নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে যখন উত্তপ্ত আমেরিকার রাজপথ, তখন আমাদের অবৈধ নির্বাচনকে বৈধ দেখাতে শান্ত রাজপথ। সোহরাওয়ার্দিতে সমাবেশ করতে না দেওয়াটা যার অন্যতম। ৯২ দিনের পর আবারো প্রমাণ করলো, বৈধতার প্রশ্নে কতো বেশি অস্বস্তিতে এবং খালেদাকে কতো বেশি ভয় পায়। তবে ৯২ দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ক্ষমতাসীনরাও দাবি করে না, ৫ জানুয়ারিতে বৈধ নির্বাচন হয়েছে। বরং বলে, বিএনপি নির্বাচনে না আসায়, ফলাফল মানতে বাধ্য। কিন্তু যেসকল পরিসি’তির সৃষ্টি করে বিরোধিশিবিরকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখলো, সেটা বৈধ না হলে সরকারও বৈধ নয়। এই কারণেই পশ্চিমা নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী দেশগুলো সফর বাতিল করলে, মাঠে রইল একমাত্র ভারত-ভূটান। যে নির্বাচন চুরি হবে সেটা পর্যবেক্ষণ করে কি হবে? ফলে সরকারের সঙ্গে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও ভারত-ভূটান ছাড়া আর কোন গণতান্ত্রিক দেশই বলেনি, সরকার বৈধ। মাঝে মাঝেই স্বচ্ছ নির্বাচনের আওয়াজ, বিশেষ করে ইউরোপিয় ইউনিয়ন।
“কম গণতন্ত্র বেশি উন্নতি”, ভয়ানক একটি ইল্যুশন। এই ইল্যুশনটি চোখের সামনে রেখে এমন এক ধোঁয়ার কুণ্ডলী বানিয়েছে, যার বাইরে কিছুই দেখতে দিচ্ছে না। অর্থনীতির ছাত্রী না হলেও বুঝি, “জিডিপির আকার অনুযায়ী গণতন্ত্র হলে চীন হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। আর কম গণতন্ত্র বেশি উন্নতি সঠিক হলে রাশিয়া হচ্ছে ১ নম্বর গণতান্ত্রিক দেশ।”
পাতানো নির্বাচনে গেলেই ধরা খেতেন খালেদা জিয়া। বরং না গিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করেছেন। “ভবিষ্যতেও নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়।” কারণ দফায় দফায় সংবিধান সংশোধন করে, বিরোধিশিবিরের জন্য সকল দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। ১৫তম সংশোধনীর আগে সকল ভিন্নমতকে অগ্রাহ্য করেছে। “ফলে একতরফা সংশোধনীর বৈধতা সংকটে, উক্ত নির্বাচনের ফলাফলও অবৈধ।” বিএনপি জোটকে ফাঁদে ফেলার এমন কোন চেষ্টা নেই, যা করছে না। সংলাপ এবং ভুড়িভোজন যার অন্যতম। আর সেই বুলডোজারের তলেই মাথা পেতে দিতে উদগ্রীব বিরোধিশিবির।


কংগ্রেস যেমন্ততেমন বিজেপি বাধিয়েছে লঙ্কাকাণ্ড। খালেদার নাম শুনলেই তাদের গায়ে জ্বালা। পল্টন কিভাবে দেখছে বিষয়টিকে জানি না কিন্তু অন্যদের চোখে স্পষ্ট। বিরোধিশিবিরকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে আনন্দবাজারিরা। এই লক্ষ্যে পশ্চিমে দুর্দান্ত লবি। এইজন্যই ২০২১-৪১এর প্রোগ্রাম দেয়ার আগে ভোটের কথা ভাবতে হয় না। তারা জানে নির্বাচন হবে, কিন্তু ক্ষমতাও তাদের। ২০১৯এর নির্বাচন হ্যাকাররা আরো বেশি আটঘাট বেঁধে মাঠে। যে যতোই বলুক, বৈধ নির্বাচনের সম্ভাবনা শেষ।
নির্বাচন কমিশন উপগ্রহটি অচল। ইঞ্জিন মেরামত নয়, ফেলে দিতে হবে। কারণ নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনের যুদ্ধে জেতার ক্ষমতা একমাত্র অলৌকিক শক্তি ছাড়া আর কারোই নেই। গেলেই পিঁপড়ার মতে পিষে ফেলবে বিএনপিকে। আর সেই আয়োজনেই নানান ফর্মূলা নিয়ে হাজির আওয়ামী লীগ, যার অন্যতম- সংলাপ নামের বুলডোজার।
১৮ জানুয়ারিতে ওবায়দুল কাদের সাফ বলে দিলেন, সংসদ মেনেই নির্বাচন। তার মনের কথাটি, আসলেই কার মনের কথা! ১৫তম সংশোধনী অনুযায়ী নির্বাহীর অধীনেই নির্বাচনটি পাঠ্যপুস্তকের অংশ নয় বরং সংবিধানের আইন। আর এটাকেই মানতে হলে, নির্বাহীর অধীনে নির্বাচন করে বিরোধিদলকে ক্ষমতায় যেতে হবে। একটি ফোনকলের অজুহাত দিয়ে যারা ৩ বছর পার করে দেওয়ার মতো শক্তিশালী, বাকিটুকু বলার অপেক্ষা রাখে না। সামান্য বার্তাটুকু পল্টন না বুঝলে, রাজনীতিও তাদের জন্য নয়।


আরেকটি ৫ জানুয়ারি এলো, চলেও গেলো। একপক্ষের দাবি গণতন্ত্র হত্যা দিবস, অন্যপক্ষের দাবি গণতন্ত্র রক্ষা। গণতন্ত্র রক্ষা দাবিদারেরা বারবার সোহরাওয়ার্দিতে সভা করলেও, গণতন্ত্র হত্যা প্রমাণে অপরপক্ষকে কিছুতেই সোহরাওয়ার্দিতে ঢুকতে দিচ্ছে না। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রশ্ন, “সংবিধানের কোথায় লেখা, একমাত্র ৫ জানুয়ারির সরকারই সোহরাওয়ার্দিতে ঢুকতে পারবে? থাকলে সেটা পাবলিককে দেখানো উচিত।”
তবে সোহরাওয়ার্দিতে সমাবেশ করতে না পেরে, গণতন্ত্র হত্যার ‘জিরো স্যাম গেইম থিওরি’তে জিতে গেলো বিরোধিশিবির। ৯২ দিনের আন্দোলন যা পারেনি, সেদিন মাত্র ১ মিনিটেই সন্দেহাতীতভাবে তা প্রমাণ করে ছাড়লেন খালেদা। অর্থাৎ ৫ জানুয়ারিতে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে। আর সোহরাওয়ার্দিতে ঢুকতে না দিয়ে, এই কাজে সহায়তা করার জন্য আওয়ামী লীগকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এরপর, সমালোচক এবং এক্টিভিস্টদের কাজটাও অনেক কমে গেলো।
যে গণতন্ত্র আনলো ৫ জানুয়ারি! এমনকি আইনপ্রণেতারাও পর্যন্ত ‘গানম্যান’ চায়। তাহলে সাধারণ মানুষও কি গানম্যান চাইবে? এই পরিসি’তির সৃষ্টি হলো কখন এবং কেন? এমন পরিসি’তি ৪৫ বছরে প্রথম। সংসদে দাঁড়িয়ে হাইকমান্ডের ঘোষণা, লিটন হত্যার বিচার হবে। কিন্তু সাগর-রুনিদের বিচার কবে হবে, সেই কথা কখনোই বলেন না। মাত্র ৫ ভাগ জনপ্রতিনিধিত্বের প্রমাণ এসব।
নিজেদের অসি’র আর অস্বস্তিকে সামাল দিতেই বারবার সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার উন্নতির রেফারেন্স। এই ইল্যুশনটি এখন একটি জাতিয় ক্রাইসিস। লি কুয়াং কিংবা মাহাথির কখনোই গণতন্ত্রের কথা বলেননি। বরং সকল বিরোধি মতামতকে দীর্ঘমেয়াদি অচল রেখে দেশ দুটির আধুনিকায়ন যা ৭১এর ভেল্যুজের বিপরীত। দ্বিমত হলে, ওদের উন্নয়নের ইতিহাস ঝালিয়ে নিতে পারে। সুন্দরবনের মতো সম্পদ পুড়িয়ে, জিডিপি বাড়ানোর দৃষ্টান্ত ওদের বেলায় নেই। অন্যদিকে, কম গণতন্ত্র বেশি উন্নতি, সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। এজন্যই জিডিপি বাড়লেও মাথাপিছু আয় কমেছে ১ ডলার। উন্নতির ইল্যুশন ক্রাইসিসে আক্রান্ত বুদ্ধিজীবিরাও!
ভারত হচ্ছে ৩য় বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। অর্থনীতির বেলায় থাকলেও, গণতন্ত্রের বেলায় ১ম, ২য় এবং ৩য় বিশ্ব বলে কিছু নেই। হলে, ভারত এবং আমেরিকার ক্ষমতা হস্তান্তর দুইরকমের হতো। কিন্তু জন্মের পর থেকেই দুই মেরুর দুই দেশের গণতন্ত্র চর্চায় হেরফের নেই। তবে ৭২এর নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় গেলে, আদালত তাকেও জওহরলালের কন্যা বলে ক্ষমা করেনি, বরং জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়লো। এসব বলার কারণ, তৃতীয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশটির প্রতিবেশি বাংলাদেশ, যাদের কাছ থেকে এইধরণের অগণতান্ত্রিক এবং অসুস্থ্য দৃষ্টান্ত, দেশের মানুষ আশা করে না।
সারমর্ম: ভোটের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলার অপরাধে, ওয়াশিংটনের ঐক্যমতের ভিতিত্তেই পুতিনের শাস্তি হয়েছে। সেই মাফিক, আমাদের নির্বাচনেও সরাসরি হস্তক্ষেপের অপরাধে, অপরাধিদের যথাযোগ্য বিচার ও শাস্তির অজুহাতও শেষ হয়েছে আওয়ামী লীগের।

- মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 10.0/10 (1 vote cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: +1 (from 1 vote)
পুতিনের শাস্তি বনাম অমীমাংসিত ৫ জানুয়ারি, 10.0 out of 10 based on 1 rating