বাংলাদেশিদেরকে লজ্জা দিলেন প্রবাসী আফ্রিকান সুলায়মান

February 18, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


স্বৈরাচার পতন থেকে কারাগারে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত অদ্বিতীয় ভূমিকা যে প্রবাসীর, সুলায়মান গুয়েনগুয়েন মানবাধিকারের জগতে একজন হিরো। চাদের স্বৈরশাসক হিসনে হেব্রের শাসনামলে জ্যান্ত পুতে ফেলা থেকে ব্রাশফায়ারে গণহত্যা… সব করেছে। অকারণেই ৩ বছর জেলে রেখে অমানবিক শাস্তি দিয়েছে সুলায়মানকেও, পতনের উৎপত্তি সেখানেই।
আফ্রিকা… যেখানে গৃহযুদ্ধ আর গণহত্যা ছাড়া দৃশ্য নেই। ইদিআমিন, চার্লসটেলর, বশির, মুগাবে, কুনো… স্বৈরাচারদের হাত থেকে বাঁচাতেই, শান্তিমিশনে (আসলেই যা অশান্তিমিশন) সর্বোচ্চ সংখ্যক মার্সেনারি পাঠিয়ে হিরো হওয়ার প্রোপাগান্ডা বাংলাদেশের কিন্তু প্রদীপের তলে কেন এতো অন্ধকার?
আফ্রিকান স্বৈরাচারদের অভিনব হাতিয়ার “শিশুযোদ্ধা”। নাবালকদেরকে গুম করে খুনি বানাতে ব্যবহার করে মদ, ড্রাগ, নারী। লাইবেরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ নিয়ে অস্কারপ্রাপ্ত ছবি “ব্লাড ডায়মন্ড” স্বৈরাচারের পূর্ণদলিল। পুরো ছবিটাই ইউটিউবে। গৃহযুদ্ধের পর দেশটির ঘরে ঘরে ক্ষুধা, দারিদ্র, পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি… দায়ী কারা? সমস্যা একটাই, সবদেশেই গডফাদারদেরই সমর্থক বেশি। আফ্রিকার সঙ্গে তালমিলিয়ে ৩য় বিশ্বেও এদের স্বরব উপস্তিতি প্রায় মহামারী পর্যায়ে। পার্থক্য একটাই, আফ্রিকান স্বৈরাচারদের শরীরে গণতন্ত্রের পৈতা নেই।
কয়লার মতো কালো গায়ের রং। ভাবলেশহীন মুখ, লাখ লাখ আফ্রিকানদের ভিড়ে, সবার মতোই একজন। না ছিলো হাইস্কুল সার্টিফিকেট কিংবা স্টকমার্কেট ওঠানামা করানোর মতো রাজনৈতিক পেশী। অথচ তার পেছনেই ছুটছে এলিটশ্রেণি। এমনকি তাকে নিয়ে সিনেমাও হয়েছে। বাংলাদেশকে বড়ই লজ্জায় ফেলে দিলেন গুয়েনগুয়েন।
হিসনে হেব্রেকে কাঠগড়ায় তুলতে যা প্রয়োজন, জীবিতমৃত প্রায় ২২ হাজার ভিকটিমদের জবানবন্দি সংগ্রহের সকল কৃতিত্ব তার একার। জেল থেকে বের হয়েই, ১০ বছর ধরে জীবন বাজি রেখে অতিগোপনে ভিকটিমদের তথ্যসংগ্রহ। পুরষ্কার কিংবা মন্ত্রীত্ব লক্ষ্য নয় বরং স্বৈরাচারের শাস্তি। রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পর, অনেকের মতোই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু দেননি। বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি সাধারণ এ্যাপার্টমেন্টে, ছেলেটি উবার চালায়। “এখন আমি স্বর্গে আছি” -বলেছেন সুলায়মান।
ভিকটিমদের তথ্য সংগ্রহের আগ পর্যন্ত, একটি আদালতকেও রাজি করানো যায়নি। অবশেষে সেনেগালের কোর্টে বিচার শুরু কিন্তু সেখানেও স্বৈরসমর্থকদের হৈচৈ। জেলে বসেই গুয়েনের সিদ্ধান্ত, বের হলেই হেব্রেকে তার জায়গায় পৌঁছে দেবেন এবং দিয়েছেনও।
১১/১/১৭ তারিখে নিউইয়র্ক টাইমস, “…গুয়েনগুয়েন একজন হিরো।” তার সাহায্য ছাড়া হেব্রেকে কাঠগড়ায় তোলা অসম্ভব। সাধারণ মানুষের ভিড়ে অসাধারণ এই মানুষটি এখন ব্যস্ত পুরুষ্কার, সেমিনার, মানবাধিকার রক্ষার কাজে। চাদিয়ানদের তদন্তকারী টিমের সঙ্গে কাজ করার সময় চোখের রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ, জেলের অত্যাচার। মানবাধিকার আইনজীবি তাকে চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে এনে নিজের বাড়িতে রাখেন। ফিরে গেলে জীবন বিপন্ন তাই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা। নেই কাজ, নেই যোগ্যতা, ভাতার উপর নির্ভরশীল। নিরাপত্তা কর্মীর কাজ পেলেও, হঠাৎ পা ভেঙ্গে গেলো একটি মুদির দোকান দিলে সেটাও ব্যর্থ। এর মধ্যেই মারা গেলো একমাত্র উপার্জনকারী কন্যা। বাধ্য হয়ে ভাঙ্গা পায়েই ট্যাক্সি চালক। বসবাসের অযোগ্য সিটিশেল্টারে বসেই ওয়্যারক্রিমিনালের বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাওয়া। ফের আফ্রিকাতে আরেক কন্যার মৃত্যু। বাড়িভাড়া করলেও, ভাড়া দিতে না পারায় উৎখাত। আবারো শেল্টার থেকে শেল্টারে।
এতো দুর্ভাগ্য যার, বিচার চাওয়া থেকে কিছুই দমাতে পারেনি। যেভাবে অসাধ্য সাধন।
হেব্রের বিরুদ্ধে তখন পশ্চিমের মিডিয়া, হলিউডের একাধিক অভিনেতা, লেখক, সাংবাদিক, এক্টিভিস্ট… নিকোলাস ক্রিস্টভ এবং জর্জ ক্লুনি অন্যতম… স্বরব।
ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ অফিসের একটি তদন্ত টিম তখন স্বৈরাচারের উপর কাজ করতে চাদে থাকা অবস্থায় সুলায়মানের সঙ্গে যোগাযোগ। আফ্রিকান স্বৈরশাসকদের বিচারে বরাবরই ভূমিকা রাখছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। কিন্তু শান্তিমিশনের নামে বরং স্বৈরাচারদের জন্যই সুবিধার সৃষ্টি করছে জাতিসংঘ। অন্যথায়, অন্যায়ের শাস্তি দিতে গণঅভ্যুত্থানের বিকল্প নেই। আর এইখানেই মার খেয়েছে বাংলাদেশ। বলছি, শান্তিমিশনে সৈন্য পাঠিয়ে বিখ্যাত ভাবার কারণ সঠিক নয়। কঠিন সত্য আলোচনায় নেই বলেই ভেঙ্গেচুড়ে পড়ছে আমাদেরও মানবাধিকার পরিস্তিতি।


যেকারণে সুলায়মান প্রাসঙ্গিক। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ক্ষমতাদখলকারীরা পশ্চিমা মিডিয়াকে পুরোপুরি বাইরে রাখতে সাকসেসফুল। উদ্দেশ্য, স্বৈরাচারের খবর যেন পশ্চিমের কোথাও প্রচার না হয়। হলেই এক্টিভিস্টরা জেগে উঠবে। এরমধ্যেও যতোটুকুই হয়, ভিন্নমতের মিডিয়ার জীবন তচনছ করার কাহিনী কে না জানে!
উদাহরণস্বরূপ, রানাপ্লাজার ঘটনায় পশ্চিমা মিডিয়ার একজনকেও ভিসা দেয়নি। দলের এমপি মুরাদ জংয়ের সঙ্গে খুনি সোহেল রানার রাজনৈতিক সম্পর্ক ততোদিনে প্রচার হয়ে গেছে। মুরাদের আস্কারায় ভিত্তির অতিরিক্ত আরো ৪তলা নির্মাণ করলে, ভবন ভেঙ্গে মরার পাহাড়। একইধরনের পলিটিক্যাল করাপশনের খবরগুলো পশ্চিমের মিডিয়ায় পৌঁছালে হয়তো গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে চলে যেতো মুভমেন্টবাদিরা। তাজরিনের আগুন কি থেমেছে? গুহায় থাকা সাংবাদিকদের প্রকাশিত খবরের পরেই আদালতে টানাহেচড়া। শাপলাচত্বরের ঘটনায় ভিন্নমতের মিডিয়ার পরিণতি কি? হলি আর্টিজমের ঘটনা দৈব্যক্রমে লাইভ প্রচার হলে, হাইকমান্ডের ঝালঝারা কি গ্রহণযোগ্য? উদ্দেশ্য, একটি খবরও দেশের বাইরে যাওয়া বন্ধ। এরা জানে, মানবাধিকার প্রশ্নে চার্লস টেলর, হেব্রের পরিণতি। “শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান… আমাদের নিকোলাস ক্রিস্টভ, কিন্তু কারামুক্ত হয়েই কোথায় লুকান তারা? এইখানেই সকল প্রশ্নের জবাব।”
সেনেগালে নির্বাসিত ক্রিমিনালের বিচার শুরু হলে, ব্রোডির সঙ্গে মূল্যবান সাক্ষি সুলায়মানকে বারবার যেতে হয়েছে আদালতে। ২০/৭/১৫তে গার্ডিয়ান, “হেব্রে নিজেকে ঈশ্বরের মতো ভাবতো। সবকিছুতেই হুমকি মনে করতো। কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ করলে, সিংহের মতো ছিঁড়ে ফেলতো। হেব্রের ছিলো ডিডিএস নামের সিক্রেট পুলিশ নেটওয়ার্ক যাদেরকে দিয়ে হাজার হাজার ব্রাশফায়ার, ক্রসফায়ার…”-বলেছেন সুলায়মান।
টাইমসকে মানবাধিকার জগতের সুপারস্টার সুলায়মান, “আমি যদি এই অবস্থা চলতে দিয়ে স্বাভাবিক জীবন পালন করতাম, নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করতাম, যেমন অর্ধেক মানুষ। হেব্রে হয়তো বলছে, সে এখন তার জায়গায়, আর আমি কারাগারে… এখন অন্যদেরকে সাহায্য করতে চাই।”
“পৃথিবী যতোই ডিজিটাল হচ্ছে, স্বৈরাচারেরাও পাল্লা দিয়ে সুপারডিজিটাল হচ্ছে। কেউ গণতন্ত্রের পৈতা পড়ে, কেউ পৈতা ছাড়া।” ৩য় বিশ্বের যাদেরকে গণতন্ত্র বলি, অধিকাংশই ভূয়া। ক্ষমতা নিয়েই নিজেকে হেব্রের মতো ঈশ্বর বানিয়ে ভিন্নমতের জীবনের উপর ত্রাস চালায়। কাশ্মিরে কি করছেন মোদী আর শ্রীলঙ্কায় কি করলো রাজাপাকসে? অতএব, পৈতা অথবা পৈতা ছাড়া, সব স্বৈরশাসকদের চরিত্র এক।


৮০তে যখন দেশ ছাড়ি, স্বৈরাচার তখনো থাকলেও সুলামানদেরকে দেশেই মরতে হতো। কারণ রেগানের ইমিগ্রেশন রিফর্মের আগ পর্যন্ত, বিশেষ কারণ ছাড়া আমেরিকার ভিসা বন্ধ, মুসলমানরা তো নয়ই। উদাহরণস্বরূপ, ওবামার বাবাকে ভিসা দিলো তার বুদ্ধিবৃত্তির কারণে। অবৈধদের চাকরি, রাজনৈতিক আশ্রয়, সেকেন্ডহোম… প্রশ্নই আসে না। কিন্তু ইমিগ্রেশন রিফর্মের পরেই সব বদলে গেছে।
স্বৈরাচারদের হাত থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়ার হিড়িক, বাংলাদেশ সম্ভবত শীর্ষে। দেশ স্বাধীন করার পরেও যে যেভাবে পারছে, কেন দেশ ছাড়ছে? পশ্চিমের প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী এবং আইনজীবিদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ‘দিগন্ত টিভি’, ‘আমার দেশের’ মতো ঘটনার পেছনের ঘটনা, এখন পর্যন্ত জায়গামত পৌঁছায়নি। রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পশ্চিমের নিরাপত্তাই কি সব? “আমাদের দেশে সুলায়মান সৃষ্টি না হওয়ার প্রধান বাধা এটাই।”
গণতন্ত্রের পৈতা পড়া স্বৈরশাসকেরা যতোই লুকাক, স্বরব বঙ্গোপসাগার থেকে ভেনিসের তীর এবং মেক্সিকো-আমেরিকার বর্ডার। গেলো ৯ বছর ধরেই বিশেষ করে ভিন্নমতের সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক কর্মীদের দেশত্যাগের হিড়িক। বাংলাদেশ যেন আরেক আফ্রিকা, ঘটনাগুলো ঘটছে গণতন্ত্রের পৈতার তলে। এবং ভিকটিমদের নিস্ক্রিয়তায়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও নিস্ক্রিয়। তবে মানবাধিকারের রিপোর্টগুলো নিয়মিতই প্রকাশ করছে। বিদেশে বেগমগঞ্জ, কেরানিগঞ্জ, সেকেন্ডহোমের সংখ্যা বাড়ার কারণ পরিষ্কার।
রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে হিতে-বিপরীত। ইমিগ্রেশনের ব্যবহার, অপব্যবহার দুটোই চরমে। ভিকটিমদের নিরবতা (বিশেষ করে সাংবাদিক), স্বৈরাচারদের জন্য আশির্বাদ। “রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা বৈধ হচ্ছে কিন্তু যে কারণে দেশত্যাগ, হারিয়ে যাচ্ছে সেটা। ব্যতিক্রম সুলায়মান, রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েও হারাননি দায়িত্ববোধ।”
‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচের’ নাম শোনেনি, সচেতন একজন বাংলদেশিও কি আছে? ৯ বছর ধরেই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দ্বিমত পোষণকারী সংস্থাগুলো যতো লিখেছে, এতো গভীর এবং বিশাল পরিসরের পরিসংখ্যান, আফ্রিকার বেলায়ও করে কিনা সন্দেহ। গুগল সার্চেই প্রমাণ। “সরেজমিনে তদন্ত হয় কিন্তু প্রতিবারই মিথ্যাবাদী বানানো হয়।”
বিডিআর থেকে ট্রাইব্যুনাল, ৭ মার্ডার থেকে সংখ্যালঘু ইস্যু, প্রতিটি অভিযোগই মিথ্যা, একমাত্র পাগলের প্রলাপ। নিশ্চয়ই মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজাখুরি গল্প লেখে না। কিন্তু আওয়ামী মনে করে সেটাই। অর্থাৎ তারাই শতভাগ সত্য, হেব্রেও সেটাই ভাবতো।
বাংলাদেশে অবস্তিত স্যাটেলাইট সংগঠনগুলোর সংখ্যা কতো? টিআইবি, অধিকার… যা লিখছে সারাবছর, সবই গাজাখুরি? সমীক্ষা চ্যালেঞ্জের বদলে মিথ্যবাদী বানানোর গেইমথিওরি। আদালতের কাঠগড়া শেষে ‘অধিকার’ এবং ‘এলেন’-এর মতো বহু মানবাধিকারকর্মীদের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। হেনস্তার অন্যতম… নিবন্ধন বাতিল, গুপ্তচর লাগিয়ে রাখা, ভিসা ক্যান্সেল, দেশত্যাগে বাধ্য করা… গণতন্ত্রের পৈতার তলে এ যেন নিরব আফ্রিকা। পশ্চিমা এক্টিভিস্টদের ক্যামেরা দূরে রাখতে পারাটাই আওয়ামী লীগের একনম্বর সাফল্য। ৭ মার্ডারের সঙ্গে র‌্যাবের সম্পর্ক, বিডিআর মার্ডারের মূল হোতা… আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এলে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অন্যরকম হতো।
হয়নি বলেই হেব্রোর ‘ডিডিএস্থ বাহিনীর মতো র‌্যাব-পুলিশও চালিয়ে যেতে পারছে হত্যাযজ্ঞ। আবারো র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি করে গালি খেলো, এ্যামেনেস্টি ইণ্টারন্যাশনাল। কিন্তু বিলুপ্তির সকল কারণই প্রমাণ করলো আদালত নিজে। আমাদের দুর্ভাগ্য, জায়গায়মত কড়া নাড়তে ব্যর্থতা এবং পরিবার নিয়ে ভিকটিমদের সুখে থাকার প্রবণতা। এইজন্যই কাঠগড়ায় তোলার বদলে, ক্রসফায়ার-ব্রাশফায়ার খ্যাত র‌্যাব-পুলিশকে বন্ধু হিসেবে দাড় করাতে সাকসেসফুল। শেষ পর্যন্ত যা পারেনি ডিডিএস।


যেভাবে চলছে, কিচ্ছু হবে না। দেশি এক্টিভিজম রীতিমত হাস্যষ্কর। জগৎশেঠদের বিস্তার সর্বত্রই। এদেরকে প্রতিহত করার একমাত্র অস্ত্র, আইনী লড়াই। এজন্য প্রয়োজন সর্বোচ্চ সংখ্যক ভিকটিমদের নির্ভুল তথ্যপ্রমাণগুলো জায়গামত পৌঁছানো। সুলায়মান যা করেছেন লুকিয়ে, আমাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা। যথেষ্ট ফুটেজ মিডিয়া এবং ভিন্নমতের পাবলিকের সংগ্রহে। শাপলাচত্বরের ঘটনা এবং সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবকে কেন্দ্র করে গণহত্যা… তথ্যপ্রমাণগুলো মূল্যবান সাক্ষি।
আরেকটি সাক্ষি। ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি রায়ের পরেই দ্বিমত পোষণ করে সন্দেহাতীত বিচার নিয়ে বারবারই প্রশ্ন তুললো যারা, তারাই আইসিসি এবং আইটিস্তির সারোগেট সংস্থা, অন্যতম জাতিসংঘ। সম্মিলিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই, দুই কোর্টের কর্মকাণ্ড। সন্দেহাতীত প্রমাণ না থাকলে, সন্দেহাতীত বিচার নিয়ে ওরা প্রশ্ন তুলবে কেন? এজন্য দায়ী করবো বিচারপ্রার্থীদের নিস্ক্রিয়তাকেই।
যা সবচে’ অস্বস্তিকর, চাদের জনসংখ্যা মাত্র ১২ মিলিয়ন বনাম আমাদের ১৭০এর উপরে। আফ্রিকা হচ্ছে বুদ্ধিহীন আর শিক্ষাহীনদের দেশ। সেই তুলনায় বাংলাদেশিরা অনেক উন্নত। কিন্তু তারপরেও গণতন্ত্রের পৈতা পড়া স্বৈরশাসন একটি দেশে কীভাবে চলতে পারে, মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন এটাই।


পশ্চিমে বাংলাদেশি দুইপক্ষেরই ব্যরিস্টারদের সংখ্যা কতো? গুগল সার্চ দিলেই চোখ উল্টে যায়। লন্ডনে বরং বিএনপি-জামায়াতের ব্যরিস্টারদের সংখ্যাই বেশি। দেশেও তাই। কিন্তু আজব্দি কেন তারা সুলায়মানের মতো একটি উপায়ও খুঁজে পেলো না? বিষয়টি বিস্ময়কর-অগ্রহণযোগ্যও। ব্যরিস্টারদের কাজ কি শুধুই বক্তৃতা, টকশো আর পশ্চিমে নেত্রিরা গেলেই জুতা ছোড়াছুড়ি? এই অভিযোগ আমি বারবারই করেছি। একাধিক ব্যরিস্টার, হেগের ওয়্যারক্রাইম বিষয়ক আদালতের সঙ্গে যুক্ত। ব্যরিস্টার কামাল হোসেনদের মতো পণ্ডিতদের কর্মকাণ্ডে দারুণ হতাশ। “অথচ সুলায়মান কোন ব্যরিস্টার না হয়েই, স্বৈরাচারকে কারাগাড়ে পাঠিয়ে ছাড়লো। ব্যরিস্টারদেরকে বড়ই লজ্জায় ফেলে দিলেন সুলায়মান।”
বিচারপ্রার্থীকে ১০ বছর ধরে আইনী সহায়তা এবং হেব্রেকে কারাগাড়ে পাঠাতে যার অশেষ অবদান, রায়ের পরেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্রোডি লিখেছেন, “টায়রনরা যদি নিজের দেশের মানুষদের উপর ব্রুটাল নির্যাতন চালিয়ে যেতেই থাকে, নির্বাসনে গিয়েও যদি জাকজমক জীবনযাপন করে, সেই যুগের অবসান হলো। আজকের দিনটি ইতিহাসের এমন একটি ক্ষণ, যখন ভিকটিমরা তাদের অত্যাচারিকে বিচারের কাঠগড়ায় আনবেই।”
পৈতা কিংবা পৈতা ছাড়া, প্রতিটি স্বৈরশাসকেরই বিচার হওয়া উচিত। শনির দশা থেকে মুক্তি চাইলে, সুলায়মানের এক্টিভিজম ফলো করা উচিত। ওরা চাইবে যেকোন মূল্যে বিচার অসম্ভব করা। আর ভিকটিমদের কাজ, যেকোন মূল্যে তা ব্যর্থ করা। এইক্ষেত্রে সবচে’ বড় ভিকটিম বিএনপি-জামায়েত। সুতরাং তাদের উচিত- সার্চ কমিটির ফাঁদে পা না দেয়া। টকশো, সভাসমাবেশ, পল্টন, প্রেসব্রিফিং… সব বন্ধ। বরং নির্বাহীর অধীনে আবারো ক্ষমতাদখলের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে ধূলিস্যাৎ করাই একমাত্র লক্ষ্য।

- মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 10.0/10 (1 vote cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)
বাংলাদেশিদেরকে লজ্জা দিলেন প্রবাসী আফ্রিকান সুলায়মান, 10.0 out of 10 based on 1 rating