নির্বাচনের মুখে ফারাক্কা বাঁধ

March 6, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


মহাকাশে অবস্থিত আওয়ামী স্যাটেলাইটটি থেকে আর কতো লক্ষবার সিগন্যাল পাঠানোর পর সুপারবুদ্ধিজীবিরা বুঝবেন, নির্বাহীর অধীনে নির্বাচন করলে- অর্থ, সময় এবং রক্তক্ষয়ের প্রাপ্তি একটাই। ন্যূনতম ২০৪১ পর্যন্ত প্রতিবারই ক্ষমতায় যাবে আওয়ামী লীগ। অসহায় বিএনপি না হয় চলন্ত ট্রাকের তলে মাথা দিয়ে মরতে পাগল হয়ে গেছে, কিন্তু বুদ্ধিজীবিদের সমস্যা কী? জুরিসপ্রুডেন্স বলে, অন্যায়কারীর চেয়ে বড় অপরাধী যে নাকি অপরাধ ঘটানোয় সমর্থন যোগায়। আবারো রক্তক্ষয় এড়াতে এই মুহূর্তে সবচে’ বেশি প্রয়োজন্ত মানবিকতা এবং মানসিকতা। এখন পর্যন্ত নির্বাচন বুদ্ধিজীবিদের চৈতন্য উদয় না হওয়াটা, অভিশপ্ত আইনটির চেয়েও বড় অভিশাপ।

“মানেন বা না মানেন, এই নির্বাচন কমিশনই থাকবে” আইনমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর, নির্বাচনের তল্পি গোটানো উচিত আওয়ামী লীগ ছাড়া সকল দলের। হাইকমান্ডের বেয়াই খন্দকার মোশাররফ, ২০৪১ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকেই ক্ষমতায় আনতে হবে, তাহলে বাংলাদেশ ধনী রাষ্ট্র হবে (১১ ফেব্রুয়ারির দৈনিক পত্রিকা)। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-হাসান মাহমুদ (১৭ ফেব্রুয়ারি নয়াদিগন্ত)। এরপরেও নির্বাচন কোথায় দেখলো, আমি তো দেখছি না।

প্রথম আলো ১০ ফেব্রুয়ারি, “৫ বিশিষ্ট নাগরিকের অভিমত, নির্বাচন কমিশনারকে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।” প্রশ্ন, সংবিধান বলার পরেও ইসিকে নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে বুদ্ধিজীবিরা বলার কে? এই দায়িত্ব সংবিধান দিয়েছে কিনা! ঘোষণা করে নিজেকে নিরপেক্ষ ইসি প্রমাণের ক্ষমতা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে? স্বতীত্ব প্রমাণের প্রয়োজন নেই, প্রমাণ শরীরেই। ৫ জানুয়ারিই সেই ছেড়া স্বতীচ্ছেদ।

উদ্দেশ্য, রোগি মারা যাচ্ছে, কিন্তু অপারেশন সাকসেসফুল করেই ছাড়বে। বরং স্বসম্মানে গণতান্ত্রিক অধিকারকে মরতে দেয়াটাই মর্যাদাপূর্ণ। বুদ্ধিজীবিদেরই বলা উচিত, নির্বাহীর অধীনে যতোবার নির্বাচন হবে, প্রতিবারই শপথ নেবে আওয়ামী লীগ, এবং সেই ব্যবস্থাই ১৫তম সংশোধনীতে।

 

গঙ্গায় ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পদ্মার কি সর্বনাশ করলো, জানে পদ্মাপাড়ের মানুষ। সংবিধানের মুখে নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনের বাঁধ দিয়ে গণতন্ত্রের কি ক্ষতি করলো, জানে সারাবিশ্বের মানুষ। আমেরিকার কথা বাদই দিলাম, এমনকি ভারতের ভোটারদের কয়জন ইসির নাম জানে? তাহলে আমাদের বেলায় কার স্বার্থে বারবার রকিবুদ্দিন তামাশা?

মুগাবে, কিম জং, সিসি… রুশ-মার্কিন ব্লকের রাজনৈতিক সন্তানদের ক্লাবে যোগ দিয়ে দেশের কি সর্বনাশ করছে, সেটাই গবেষণার বিষয়। পার্থক্য একটাই, আফ্রিকানদের দেশে বুদ্ধিজীবিদের উৎপাত নেই। যারাই ক্ষমতা দখল করে, পারলে আইনী লড়াই করে বিদায় করে ছাড়ে। না পারলে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এটাই বাস্তবতা।

তবে ড. আকবর আলী খানের গণভোটের প্রস্তাবটি শতভাগ সঠিক। সমস্যা, এই দেশে একমাত্র ভোট হচ্ছে, একব্যক্তির ইচ্ছা। নির্বাচন নিয়ে ফের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে পেট্রোডলার শক্তিগুলো। একমাত্র সমাধান, যে কোন মূল্যে নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনের আইনটি বাতিল করা।

জাতিসংঘের অধীনে অন্যান্য দেশে নির্বাচন হলেও, আওয়ামী লীগের বেলায়- অলৌকিক। কারণ, ৫ জানুয়ারির রাজনৈতিক সন্তানকে ক্ষমতায় রাখা, একাধিক পরাশক্তির পকেটে জাতিসংঘের ভয়ংকর ভেটো পাওয়ার। এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করলে, ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রিক রক্তক্ষয়ের পরেও মানবাধিকার ভঙ্গের প্রমাণগুলো কোন কাজেই লাগাতে পারলো না ভিন্নমত!

 

যে ব্যক্তি দ্রুত বডিল্যাংগুয়েজ বুঝতে সক্ষম, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা এড়াতে সক্ষম। ২০১১ সনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল ঘোষণাকালে ১০ হাজার মাইল দূরে বসে বডিল্যাংগুয়েজ থেকে সাধারণ বুদ্ধিতে যা বোঝার বুঝে নিয়েছি। সমস্যা অতিবুদ্ধিজীবিদের, দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে যারা চামুচ দিয়েই সমুদ্র সেচছে। ভূয়া গান্ধির যন্ত্রণায় পারা গেলো না। মহাকাশ থেকে স্যাটেলাইটের সংকেত অনুযায়ী, ২০৫০ পেরিয়ে বংশপরম্পরায় ক্ষমতায় থাকবে এরাই। অতএব নির্বাহীর অধীনে নির্বাচন আর বেসিক ডেমোক্রেসির তফাৎ থাকলে বলুক।

৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তর, “১৪ দলের তালিকায় সিইসিসহ ৪ জন পরিকল্পিত না কাকতালীয়? …১০ ফেব্রুয়ারি, ব্যর্থ বিএনপি, হতাশায় বেপরোয়া -কাদের।” ১০ ফেব্রুয়ারি নয়াদিগন্ত, “নুরুল হুদা কমিটেড আওয়ামী লীগার। …নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনে আসতে হবে বিএনপিকে -ওবায়দুল কাদের। …মানবজমিন ১২ ফেব্রুয়ারি, সর্বশেষ চালেও আওয়ামী লীগের বাজিমাত।” জুলাই ২০১১ থেকে হ্যারিকেন দিয়ে নির্বাচন খুঁজছি!

সামসুজ্জামান দুদু, “নির্বাচনের আগেই হাসিনাকে সরে যেতে হবে।” অর্থাৎ নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনে যাওয়া আর নিরস্ত্র অবস্থায় সিংহের খাচায় প্রবেশ- এক।

বডিল্যাংগুয়েজ বলেছে, ৭২এর সংবিধানে ফেরা নয়, উদ্দেশ্য নির্বাচন দিয়ে প্রতিবারই ক্ষমতায় থাকার আইনী কুটচাল। “ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো কাউকে পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত নির্বাহীই ক্ষমতায় এবং কাউকে পাওয়া না যেতেই অগ্রিম ব্যবস্থা অভিশপ্ত আইনটিতে।” ২০৪১ পর্যন্ত প্রোগ্রাম দেয়ার কারণ বুঝতে রকেট সাইন্টিস্টের প্রয়োজন নেই।

 

২০১১ সনে নিষিক্ত ভ্রুণটি পরিপূর্ণ মানবসন্তান, এখন মাতৃগর্ভে এর শেকড়। প্রতি ৫ বছর পরপরই শিশুটি ভূমিষ্ট হবে। হয় জেল, নয় নির্বাচন্ত আগামী সংসদে এরশাদের পথে খালেদা এবার অবৈধতার প্রশ্নটি মুছে ফেলবেন। নেপোলিয়ানের কথাই ঠিক, “বুদ্ধিজীবিরা নিরব থাকলে, দেশ অন্ধকার হয়ে যায়।” নিরপেক্ষ ইসির ম্যারাথনে যোগ দিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ডুবিয়ে মারার ব্যবস্থা করলেন, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনরা।

প্রশ্ন, নির্বাহীর অধীনেই নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা কেন? তত্ত্বাবধায়ক বাতিল না করলে অর্থনীতির চাকা বন্ধ হতো না, প্রমাণ ৯ বছরের জিডিপিতে। নিম্ন থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার বছরেই মাথাপিছু আয় কেন ১ ডলার কমলো, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রশ্ন। তাহলে অর্থনীতির টাকা নিচ্ছে কারা? সর্বত্রই প্রমাণ, অবৈধ ক্ষমতা দখলের সুবিধা নিয়ে কেরানিগঞ্জ থেকে কানাডা, ফিনানসিয়াল ক্রিমিনালদের উত্থান। অন্যথায় ৫ জানুয়ারির সরকারের আয়ু হতো উর্ধে- ২ মাস।

১৬ কোটি মানুষের দেশে, দেশ চালানোর মতো যোগ্য বিকল্প সত্যিই নেই? “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না” -বারবার বলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি জানেন, বিকল্প অবশ্যই আছে এবং তার অধীনেই নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা তুলে নিলেই একমিনিটে প্রমাণ হবে। তাহলে নয় কেন? ফলে ঝলসে যাওয়া নতুন গীতা সরকার কিংবা ৯২ দিনের আন্দোলন ইতিহাস হবে। এইসব বাস্তবতা সত্ত্বেও, রোগি মারা সাকসেসফুল অপারেশনের প্রয়োজন শেষ। সমস্যা তখনই যখন, ন্যাশনাল ক্রাইসিসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই আইনের লোক। তারাই আইন ভঙ্গের প্রমাণ দিয়ে ভরে ফেলেছেন আদালত।

“জেলের পথে খালেদা” -মিডিয়ার খবর। সংসদকে বৈধ বানাতে যেভাবে খালেদাকে টানাহেচড়া, আদালতের মাঠে এইসব অগণতান্ত্রিক দৃশ্য পৃথিবীর আর কোন গণতান্ত্রিক দেশে আছে কি? এমনকি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের কাছেও কিছু শিখতে পারতো। এমন একটি ঘটনা সেখানে ঘটলে, যা হতো, আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি। “ইসি দিয়ে নয়, ভোট চুরি করিয়েছিলো ইন্দিরাই। ৪৭ পরবর্তী ভারতে সেটাই একমাত্র আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্ত। জরুরি অবস্থায় বাধ্য করে সেনাবাহিনীকেও নামালো।” কিন্তু ভোট চুরি করলে কিছুই হয় না, এ কেমন গণতন্ত্র বাংলাদেশে!

১৫তম সংশোধনী ধর্মগ্রন্থ কিংবা প্রত্যাহার অযোগ্য (ইরোভেকেবল) ট্রাস্ট, দুটোর একটাও নয়। বরং সংশোধনী করতে লাগে উভয়পক্ষের ভোটাভুটি। ক্ষমতাসীনদের চেয়ে বিরোধিদলের গুরুত্ব বেশি। সংবিধান তৈরির প্রধান উদ্দেশ্য, সরকারের ক্ষমতা সীমিত করা। এমনকি বিরোধিদলের আন্দোলনের মুখে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ আটকে দিলো সাধারণ আদালত। আমাদের সংসদে বিরোধিদল থাকলে দেখাক। সুতরাং আর একটিও ৫ জানুয়ারির নয়।

৯ ফেব্রুয়ারি বার্ণিকাট-কাদের সাক্ষাত শেষে রাষ্ট্রদূতের অভিমতটি- পরিষ্কার। এমনকিছু জেনেছেন যা বার্ণিকাটের পক্ষে বলা অসম্ভব। নির্বাচনে বিএনপিকে অপ্রাসঙ্গিক করার পরিষ্কার ইঙ্গিত কাদেরের বক্তব্যে।

 

জেনেশুনে অন্যায়ে সমর্থন দিলে অপরাধের পরিমাণও সমান। জুলাই ২০১০, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে ১৫তম সংশোধনী বিষয়ে ১৫ সদস্যের বিশেষ পার্লামেন্টারি কমিটি গঠন। ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়ে বিএনপির বয়কট। ৮ মাসের নাটক শেষে, এপ্রিল ২০১১তে হাইকমান্ডের মন্তব্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়সীমা সীমিত করা হবে। কিন্তু বাতিলের কথা বলেননি। ২৯ মে ২০১১তে তত্ত্বাবধায়ক সময়সীমা সর্বোচ্চ ৯০ দিন করার প্রস্তাব। ১ দিন পরেই হাইকমান্ডের ইউটার্ণ। প্রস্তাবের বদলে নির্দেশ, তত্ত্বাবধায়ক বাতিল হবে। কারণ, মে ২০১১তে সুপ্রীম কোর্টের রায়। পরবর্তী ২টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে হওয়ার বিষয়টি হারিয়ে গেলো। জুন ২০, ২০১১তে পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার আগেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলো সুরঞ্জিতদের কমিটি। বিরোধিদলের বয়কটে থাকা অবস্থায় ১৫তম সংশোধনী পাশ।

ক্ষমতাসীনদের টার্গেট ২০৪১। বিষয়টি এখন ৯২ বয়ষ্ক মুগাবের ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকার মতো। সে পারলে এরাও পারবে, কারণ, উভয়পক্ষেরই রাজনৈতিক পিতা- এক।

 

ক্রাইসিসটা এইরকম। অবসরে যাওয়ার পর শপথহীন অবস্থায়ই রায় লিখে ওই সংশোধনীকে অবৈধ বানালেন খায়রুল হক। সেখানেই শেষ নয়, নির্বাহীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লক্ষ টাকা সাহায্য গ্রহণ করে যে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের উদাহরণ, অবশ্যই বিচারযোগ্য অপরাধ। তথ্যগুলো ইন্টারনেটেই। এই দফায় উল্টা ক্ষমতাসীনরাই পাগল হয়ে গেছে একটি নির্বাচন দিতে, কারণ, তারা জানে, কিভাবে খাল কেটে দিয়েছেন খায়রুল হক।

তবে সকল প্রশ্নের সমাধান করলেন এস.কে সিনহা তার ১ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে। “নিউএজ ২৭ জানুয়ারি ২০১৬, ১৯ জানুয়ারিতে এস.কে সিনহা বলেছেন, অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখার কোন সুযোগ নেই, হলে তা সাংবিধানিক আইনে অবৈধ।” তার ওই বক্তব্যের পরেই বিএনপিকে আইনমন্ত্রী, “বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা করা যাবে না। এটি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্র। …সুরঞ্জিত সেন, রাজনীতিতে একটি টেনশন সৃষ্টি করলেন এস.কে সিনহা, যা অগ্রহণযোগ্য… আরো বলেছেন, প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্য হয়তো খারাপ ছিলো এবং তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন… যদি এটাই সত্য হয়, তাহলে তিনিও অবৈধ… আবদুল মতিন খসরু, বিষয়গুলো পাবলিকে বলা উচিত নয়… যা খুশি বলতে পারেন না… (নিউএজ ২৭ জানুয়ারি)।” আমি বলবো, ঘোলা পানি কেন, টলটলে পানিতেও মাছ শিকারে ব্যর্থ বিএনপি। তবে যে প্রশ্নটি প্রধান বিচারপতির, সমাধান না করে কিছুতেই ছাড় দেওয়া নয় ভিন্নমতের।

এস.কে সিনহার বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং সংসদ- অবৈধ। এটাই সিটিং বিচারপতির ব্যাখ্যা হলে, শপথে থাকা অবস্থায় উচিত এ্যাকশনে যাওয়া কিন্তু যাননি কারণ…। তবে ১৬তম সংশোধনী বাতিল করার মাধ্যমে মুজিবের দেয়া ক্ষমতার উপহারটি এখন পর্যন্ত আদালতের হাতে। সুতরাং ওই ক্ষমতাবলে, সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করলে, বিচারপতিদের চাকরি হারানোর ভয় নেই। মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল আদালত। ন্যাশনাল ক্রাইসিস নিরসনে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের বিকল্প নেই। না করলে আবারো ভয়ংকর প্রাণহানীর আশংকায়, রক্তক্ষয়ের দায়িত্ব আদালতের উপরেও বর্তায়।

 

আলাউদ্দিনের চেরাগটি কোথায়? সেটা হলো, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পথে বাংলাদেশও। ন্যাশনাল ক্রাইসিসের মূলে সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে অগাধ খনিজ সম্পদ আবিষ্কার। যে দেশেই এইধরনের সুযোগ, হামলে পড়ে পেট্রোডলার পরাশক্তিরা। তৈরি করে স্বৈরাচার অথবা গণতন্ত্রের পৈতা পড়িয়ে দেয়। বঙ্গোপসাগরটি যেন চর্তুমুখী ক্রাইসিস। ব্রিটিশের সিল্করুটের মতো চীনের তৈরি নতুন সিল্করুটের ফোকাস, বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত। আওয়ামী লীগের হাত-পায়ে শেকল।

ওয়েষ্টার্ন ডেমোক্রেসির ফিলোসফি- হিউম্যান রাইটস ইজ ভোটিং রাইটস… ভোটিং রাইটস ইজ হিউম্যান রাইটস…। নির্বাহীর অধীনে বাধ্যবাধকতায় সেই অধিকারটি শতভাগ খর্ব হয়েছে। কলুষিত নির্বাচন ঠেকানোর দায়িত্ব আওয়ামী লীগসহ সবার কারণ, দিন শেষে দেশটা শুধুমাত্র বাংলাদেশিদেরই।

 

সুতরাং জরুরি ভিত্তিতে ২০১৯এর নির্বাচন বুদ্ধিজীবিদের মানবিক দায়িত্ব, জেনেশুনে জ্বলন্ত আগুনে ঘি না ঢালা। কারণ, ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রিক প্রাণহানীর ঘটনা তারা জানেন। গীতা সরকারের ঐতিহাসিক বক্তব্য এবং জ্বালাওপোড়াও রোগিতে ঠাসা বার্ণইউনিটের দৃশ্যও ভুলে যাননি। ভুলে যাননি, ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রিক পেট্রোল বোতল ছুড়ে মারার পর ঝলসে যাওয়া মুখগুলো।

১৪ কিংবা ২০ দল বুঝি না, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। ৫ জানুয়ারির মৃতদেরকে আর কখনোই ফেরানো যাবে না। যার ক্ষতি, সেই পরিবারই বোঝে। রাজনীতিবিদরা ভুলে গেলেও ওই ক্ষতি চিরস্থায়ী। মৃত্যুঞ্জয়ী কেউই নয়। পারলৌকিক জগতকে মনে রেখে এই মুহূর্তে, নির্বাহীসহ প্রত্যেককেই মানবিক হতে হবে। কারণ জেনেশুনে ফের প্রাণহানীর ঘটনা আর ঘটতে দেয়া উচিত নয়।

এখনো বুঝতে না পারলে, বুদ্ধিজীবিদের উচিত, ন্যূনতম ২০৪১ পর্যন্ত অপেক্ষা করা। কারণ, ওই পর্যন্ত যতো নির্বাচন হবে, রক্তক্ষয় করেই ক্ষমতায় যাবে। সেটা এড়াতে হলে, এক্টিভিস্টের ভূমিকার বিকল্প নেই। জাতির সামনে দুটি পথ। হয় নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনের অভিশপ্ত আইনটি বাতিলের ব্যবস্থা, নতুবা লীগ যা চাইছে, রক্তক্ষয় এড়াতে, সেটাই মেনে নেয়া।

- মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

০৪ মার্চ ২০১৭, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)