হিলারির বিরুদ্ধে প্রণবের কাউন্টার রেভ্যুলেশন

April 23, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


অধিকাংশ বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট, যে কোন সময়ের তুলনায় তুঙ্গে। পাবলিককে মাইনাস করে এইদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে ভারত, বিষয়টি বাংলাদেশিদেরকে অত্যন্ত অসুখী করেছে। ফলে তারাও কতোদিন সুখে থাকতে পারবে, ভেবে দেখার সময়।

১৬০ বছর পর লিংকনকে ভুল প্রমাণ করলো ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব। লিংকন বলেছিলেন, কিছু লোককে সবসময়, সবাইকেই কোন কোন সময় বোকা বানানো সম্ভব কিন্তু সবাইকেই সবসময় একসঙ্গে বোকা বানানো অসম্ভব। আনন্দবাজারিদের চিতলের মুইঠ্যা, ভাপা ইলিশের পেটি, গলদা চিংড়ির মালাইকারির তলে চাপা পড়ে গেলো কঠিন সত্য। ৫ জানুয়ারির পর, আবারো ২০১৯ সনের নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি যার শীর্ষে।

দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে সবদলের অংগ্রহণে নির্বাচনের সম্ভাবনার সমাপ্তি ঘোষণা হলো। কলকাঠির মূল ইঞ্জিনিয়ার একব্যক্তি, যার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ দল ও ব্যক্তির আবেগই প্রধান, সার্বভৌম রাষ্ট্রযন্ত্রের এথিক্স যেখানে শতভাগ মূল্যহীন।

৮/৪/১৭-তে ‘দ্যা টেলিগ্রাফ’ পত্রিকাতে কে.পি. নায়ারের লেখা “এর্বোটেট কালার রেভ্যুলেশন” প্রবন্ধটি, অত্যন্ত সময়োপযোগী। লেখকের বিশ্লেষণ, সফরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব নিজে, উদ্দেশ্য ২০১৯এর নির্বাচনটি আবারো প্রিয় মানুষটিকেই উপহার দেয়া। “হাসিনাকে সরাতে ইউনুস-হিলারির চক্রান্ত ব্যর্থ করলেন প্রণব”- নামের মিডিয়ার শিরোনামটি ভুল। বরং কে.পি. নায়ার লিখতে পারতেন, বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে প্রণবের কাউন্টার রেভ্যুলেশন।

এইদফায় এথিক্স ভঙ্গের অন্যতম, দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে রাষ্ট্রপতির কিচেন পর্যন্ত প্রটোকল ভাঙ্গার সিরিজ। ৪৬ বছর পরেও ইন্দিরার কেবিনেটের প্রবীণ সদস্যটি দিল্লিকা লাড্ডুর চোখেই দেখছেন বাংলাদেশকে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কুপ্রভাব ১০ম সংসদে। কোন সংজ্ঞাতেই যাকে সংসদীয় গণতন্ত্র বলা যাবে না। খালেদার রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, রাস্তার আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, টকশোতে বসেই দিল্লিকা লাড্ডু বানিয়ে ফেলবেন।

দিল্লিকা লাড্ডুর ব্যাখ্যা। মাতুব্বরের ভাতিজির বিবাহের সান্ধ্যভোজে একপক্ষ গ্রোগ্রাসে গিলছে। অন্যপক্ষ শুধু পানি দিয়ে গিলছে। বাড়ি ফেরার পথে একপক্ষ আরেকপক্ষকে প্রশ্ন, কোন তরকারিতেই নুন নেই, ব্যাপার কি? আরেকপক্ষের উত্তর- সাহস কম না, দিল্লির লাড্ডু খাসনি? ‘হ্যাঁ’ বলে বিদায় নিলো অপরপক্ষ।

১০ম সংসদ হচ্ছে সেই দিল্লিকা লাড্ডু, যার কিচেনে তৈরি মোরগ-পোলাউ, রেজালা-কাবাব… সবকিছুই লবণ ছাড়া। ফলে গলা দিয়ে কিছুই ঢুকতে চায় না। জোর করে খেলে বিদ্রোহ করে বসে পাকস্থলি। কবির ভাষায়, প্রণববাবুর গোপন কর্মকাণ্ড গোপনই রয়ে গেলো। তিনি থাকতে, বিএনপি কিভাবে একাধিকবার ক্ষমতায় এসেছিলো, গবেষণার বিষয়। তবে ভবিষ্যতে যে বিএনপি বলে কিছু থাকবে না, সেই ইঞ্জিনিয়ারিং এই সফরের মূল প্রতিপাদ্য।

প্রবন্ধটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ:- “…প্রচলিত রাষ্ট্রিয় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রবণ মুখার্জির ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন… এই নৈশভোজের মাধ্যমে প্রণব মুখার্জির উপর অর্পিত অনেক দায়-দায়িত্বসমূহ সামনে চলে আসবে যা ১৯৭১ সালের ১৫ জুন ইন্দিরা গান্ধির থেকে তার উপর এসেছে। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে প্রবণ মুখার্জির ইতিবাচক ভূমিকা আরো জোরদার হয়েছিলো যখন ইন্দিরা গান্ধি তাকে পূর্ব পাকিস্তানের (তৎকালীন বাংলাদেশ) মানবাধিকারের লংঘনের ঘটনা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ১৯৭১ সনের ২ সেপ্টেম্বর ভার্সাই নগরীতে অনুষ্ঠিত ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ৫৯তম কনফারেন্সে পাঠান। ৪৬ বছর আগের সেসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সনে প্রবণ মুখার্জিকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মামনা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়। …শেখ হাসিনার ভারত সফরের দ্বিতীয় দিন এপ্রিলের ৮ তারিখে নয়াদিল্লিতে যাওয়া প্রায় ৩ ডজন চুক্তির উপরে গুরুত্ব দিবেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু নির্মম সত্যটি হচ্ছে, ৭ বছর পর শেখ হাসিনার এই রাষ্ট্রিয় সফরটি হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রবণ মুখার্জি বিদায়ের প্রহর গুণছেন। …ঢাকা ফিরে আসার পরে এমনকি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও শেখ হাসিনার প্রতি প্রবণ মুখার্জির সেই আগলে রাখা শেষ হয়ে যায়নি। …যুক্তরাষ্ট্র ও ভাতের একাধিক সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ইউনুসকে সরিয়ে দিতে শেখ হাসিনার পরিকল্পনার কথা প্রণবকে জানিয়ে তা বন্ধ করতে আকুল আবেদন করেছিলেন হিলারি। …প্রবণ মুখার্জি এর কোনটাই কানে নেননি। বরং শেখ হাসিনার প্রতি তার আস্থা ও বিশ্বাসে অটল ছিলেন। …দেশে-বিদেশে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও শেখ হাসিনা সোর্স অনেক শক্তিশালী। সম্ভবত ওয়াশিংটনে ছেলে সবীজ ওয়াজেদ জয়ের এক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এমন একটি বার্তা হাসিনা আগেই পেয়েছিলেন। এরপরেই হাসিনা প্রণবকে ফোন করেন। সেখানে প্রণব হাসিনাকে এই কথা বলে আশ্বস্ত করেন যে, ভারত সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকবে এবং এই বিষয়ে তার (হাসিনার) কোন দুশ্চিন্তার কারণ নেই। …চলতি সপ্তাহে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে হয়তো বিদায় জানাবেন কিন্তু ওই ঘটনাটি সব সময় মনে রাখবেন। …পরিবারের দুঃসময়ে হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল যখন নয়াদিল্লিতে স্কুল পড়তেন, শুভ্রা মুখার্জি ছিলেন তাদের কাছে দ্বিতীয় মায়ের মতো। ওই সময়ে অবসরের সর্বক্ষাণিক সঙ্গী ছিলো শুভ্রা মুখার্জির সন্তান অভিজিৎ ও শর্মিষ্ঠা। …শুভ্রা মুখার্জির মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা দেশের সবকিছু ফেলে শুভ্রার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শোক সন্তপ্ত রাষ্ট্রপতির পাশে থেকে তাকে স্বান্ত্বনা দেন। …২০১০ সালে হাসিনা যখন নয়াদিল্লিতে গিয়েছিলেন, প্রণব মুখার্জি তখনই হাসিনাকে রাষ্ট্রিয় সফরের জন্য বলেছিলেন। তার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়েই সফল হবে বলে হাসিনা তাকে বলেছিলেন। সাথে একথাও বলেছিলেন যে, নির্বাচনকে খুব সামনে রেখে ওই ভারত সফর থেকে তিনি খালি হাতে ফিরতে চান না। এই কথোপকথনের মধ্যেই শেখ হাসিনার ভারত সফরের সব অর্জন বা ব্যর্থতার সব বিষয়ে প্রণব মুখার্জির ভূমিকার বিষয়টি নিহিত রয়েছে।”

চুম্বক অংশের আহরণ, ১) …৭ বছর পর হাসিনার সফরটি হচ্ছে এমন এক সময়ে যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জি বিদায়ের মুহূর্ত গুনছেন, যাকে “নির্মম সত্য” বলে উল্লেখ করেছেন লেখক। ২) ২০১০ সালেই সফরটির আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রণব। হাসিনা তখন বলেছিলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই সফর থেকে খালি হাতে ফিরতে চান না। হিলারি-ইউনুসের বিষয়টি নিয়ে প্রণবকে ফোন করলে, প্রণব নাকি এইমর্মে আশ্বস্ত করেছেন, হাসিনার দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। ৩) এমনকি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও নাকি হাসিনার প্রতি মুখার্জির আগলে রাখা শেষ হয়নি বলে মন্তব্য। ৪) ভারতের রাষ্ট্‌্রপতিকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানালেও পারিবারিকভাবে গড়ে ওঠা সম্পর্ক সবসময় মনে রাখবেন শেখ হাসিনা বলেও মতামত।

এতে বোঝা গেলো, ব্যক্তিগত সম্পর্কই- রাষ্ট্র।

 

আসল চমকটি রেখেই দিলো। দ্যা হিন্দু বলে দিলো, যেভাবে আবারো আব্রাহাম লিংকনকে মিথ্যা প্রমাণ করবে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব। ২০১৯এর নির্বাচনের আগে, সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিস্তা বিতর্কের সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন মোদি। (দ্যা হিন্দু, ৯ এপ্রিল, বাংলাদেশের জাতিয় নির্বাচনের আগে তিস্তা চুক্তি)। তিস্তার গেইমথিওরি উভয়পক্ষ জানে বলেই এতো আত্মবিশ্বাস।

সুতাজা সিং’দের অপকর্ম মানতে পারি কারণ তারা হুকুমের দাস। কিন্তু বিশ্বের সবচে’ সেরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হয়েও, প্রণববাবুর একি ভীমরতি! কোন পর্যায়ের নৈতিক স্খলন এটা! জানি বাংলাদেশে তার শ্বশুরবাড়ি কিন্তু পর্দার অন্তরালে জামাইবেশি মানুষটি চিরকালই রহস্যময়। চ্যানেল আই আয়োজিত টকশোতে মুক্তিযোদ্ধা মেজর আক্তারুজ্জামান জানতে চেয়েছেন, প্রতিমাসে প্রণবপুত্র বাংলাদেশে এসে কি করে? কোন কোন মাসে বারবার আসে। এইদেশে কি কি ব্যবসা সেটাও জানাতে বলেছেন। বিদ্যুৎখাতে কয়েকটি কোম্পানির মালিকানা নাকি মুখার্জি পরিবারের!

পারিবারিক সম্পর্কের বাইরেও রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এথিক্স ভঙ্গ এবং কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের বিষয়গুলো আদালদের নজরে আসা উচিত ছিলো, ৪ বছর আগেই। তা না করে কাজ শুধুই এক নেত্রীকে সারাক্ষণ খোঁচানো। গণভবন থেকে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন, সবকিছুরই মালিক জনগণ কিন্তু প্রণবরা সেসব তোয়াক্কা করেন না।

বিশেষ পরিবারের প্রতি দুর্বলতা বনাম আরেক পরিবারের প্রতি চরম বৈষম্য ও ঘৃণার বিষয়টিকে কখনোই গুরুত্ব দেয়নি বিরোধিদল। চরম অজ্ঞতার কারণে, রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক এখন ভাপা ইলিশ পর্যন্ত পৌঁচেছে। এরপর কোথায় যাবে, জানি না। একজন রাষ্ট্রপতিকে গণভবনের কিচেনে নিজ হাতে রান্না করা পায়েস খাওয়ানোর মধ্যে রাষ্ট্র নেই। সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের ধ্বজাধর স্বত্ত্বেও বোনকে যেভাবে কুপরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন, নায়ারের লেখায় সেই নোংরা ইঙ্গিত। ওদের কপাল ভালো পশ্চিমা মিডিয়া এসব দেখছে না। তারা ব্যস্ত, ট্রাম্প-পুতিন কানেকশনের সুইচ নিয়ে। অথচ প্রণব-হাসিনা কানেকশন পুরো পাওয়ারস্টেশনটাকেই তুলে নিয়ে পালিয়ে গেলো। বাংলাদেশ থেকে নেয়া ৬ বাবুর্চি দিয়ে কিচেনের প্রটোকল ভাঙ্গার খবর অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে। রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা বাদ দিয়ে কারো বাসভবনে থাকার বিষয়টির সমালোচনা কোথায়? সেখানে ডিনার টেবিলে যে ষড়যন্ত্র হলো, গণতন্ত্রের জন্য ভয়ানক দুঃসংবাদ সামনে। অবসরে যাওয়ার আগে যে উপকারটি করে গেলেন, সারাজীবন মনে রাখবেন শেখ হাসিনা।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে খালেদাকে দূরে রাখতে যেসকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলো কংগ্রেস, এথিক্স ভঙ্গের তালিকার ১নম্বরে- প্রণব। প্রবন্ধতে শুভ্রা মুখার্জিকে বলা হয়েছে দ্বিতীয় মা। ভাপা ইলিশের পেটভর্তি কাঁচালঙ্কার রগরগে ঝোলের সম্পর্ক, কি বার্তা দিলো বিএনপিকে?

প্রাবন্ধিকের বিশ্লেষণ, দিল্লি সফরের বিষয়টি ইন্দিরা গান্ধির রেখে যাওয়া দায়-দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। বারবার কালার রেভ্যুলেশনের করে, গণতন্ত্রের ইজ্জত খোয়ানোর ইতিহাস সৃষ্টি করে গেলেন প্রণববাবু।

 

কে.পি. নায়ার থেকে কুলদীপ নায়ার… কালার লেভ্যুলেশনের আঙুল রাষ্ট্রপতির দিকেই। প্রণব বেঁচে থাকা অবস্থায় বিএনপির কোন ভবিষ্যত নেই। না থাকলেও নেই। অবসরের যাওয়ার আগে নিশ্চিত করে গেলেন, ক্ষমতায় যেতে আর কখনোই ভোটের প্রয়োজন হবে না আওয়ামী-লীগের।

কংগ্রেসের দুর্বিসহ অত্যাচারের পর খালেদা আশা করেছিলেন, মোদির সরকার হয়তো গণতান্ত্রিক আচরণ করবে। সেইলক্ষ্যেই খালেদার উৎসাহ নজর কেড়েছিলো। কিন্তু সেই গুড়ে বালি দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি উল্টা মোদির বাংলাদেশ নীতিতে ফের ভূতের আছড়। মনমোহনের পর বিজেপি কেবিনেটেও একইব্যক্তির প্রভাব। ফলে ভবিষ্যতে বাংলদেশি সংসদীয় গণতন্ত্রের কিচেনের সকল রান্নাই হবে নুন ছাড়া। জোটের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে ছেটে ফেলার পর, বিএনপির ফুসফুস দুটিও ফেলে দিলো সাউথব্লক। পাবলিক এখন বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাঙ্গ করে। বিদেশিরাও পল্টনকে ত্যাগ করেছে। রাষ্ট্রদূতেরা মাঝেমধ্যে ছেলেভোলানো মোলাকাত করে। তবে ভাতিজা-ভাতিজিরা পিশির বাড়িতে বেড়াতে এলে, মনে হবে খালেদা নামের কেউ এইদেশে কখনোই ছিলো না, নেই। যার প্রতি এতো ভালোবাসা, তাকে বাদ দিয়ে চাচির জন্য ঘর তুলবে কেন? বন্ধু না শত্রু- চেনার সময় এখন। প্রণবের সঙ্গে সাক্ষাৎ ক্যান্সেল করে জাতিয়তাবাদের ইজ্জত বাঁচিয়েছেন খালেদা।

 

এথিক্সের যে বিষয়টি সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ। গ্লোবাল ভিলেজে রাজনীতির বোতাম খোলা। তাস্বত্ত্বেও মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ফেইকনিউজের ধুম পড়েছে বাংলা মিডিয়ায়। সরকার সমর্থিত মিডিয়াগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্বাচন বিষয়ে ভুল বোঝাচ্ছে বাংলাদেশি ভোটারদেরকে। বিষয়টি রীতিমত ঝাঝুর হয়ে সুইকে খোচা। আমেরিকাতে আছি ৩৭ বছর। রাজনীতি না করলেও রাজনীতি সচেতন। ৫ জানুয়ারি ঘটাননি পুতিন। তবে প্রভাব বিস্তারে ট্রাম্প-পুতিন কানেকশন থাকলে, তদন্ত করছে ক্যাপিটলহিল। প্রেসিডেন্ট বলে ছাড় নেই। বরং দুইদলের আইনপ্রণেতাদের মতৈকের ভিত্তিতেই তদন্তের কাজে বিচারবিভাগের সকল শাখাকে নিয়োজিত করেছে আইনবিভাগ। নিজের দলের প্রেসিডেন্টের এথিক্স ভঙ্গের সম্ভাবনার বিচারে বসেছেন জন ম্যাককেইন এবং লিনসে গ্রামের মতো প্রভাবশালী রিপাবলিকানরা। প্রমাণ পেলে ইম্পিচ করবে কিন্তু সেজন্য লাগবে তদন্ত রিপোর্ট। এই কথাটি কোন শতকে বলতে পারবে বাংলাদেশ?

সারমর্ম:- নিক্সন, মার্গারেট থ্যাচার, প্রফুমো, ট্রাম্প, ইন্দিরা, ভুট্টো… প্রমাণ দিয়েছেন, ব্যক্তি যতো বড়ই হোক, রাষ্ট্রযন্ত্রের এথিক্স ভঙ্গের অধিকার কারো নেই। ৫ জানুয়ারির কারিগরদেরকেও নির্দোষ প্রমাণের দায়িত্ব বাংলাদেশিদের। তবে সংসদ  কেন নুন ছাড়া হলো তদন্তে, ক্যাপিটলহিলের মতো বিশাল আকারের আয়োজন লাগবে না। কারণ ডিজিটাল ভোটচুরির প্রমাণ, বিরোধিদল ছাড়াও পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের হাতে। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব মানেই, ২০ দলকে বাদ দিয়ে সম্পর্ক। সুতরাং ভারতবিরোধি হওয়ার বিকল্প নেই বিএনপির। জুজুর ভয় ঝেড়ে ফেলে সত্যের পথে আসা জরুরি। ট্রাম্প-পুতিনের কানেকশন তদন্তের বিষয়টি ২০ দলের জন্য বিনা পরিশ্রমে মূল্যবান রেফারেন্স। কি ভাবছে বিএনপি?

 

- মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

২০ এপ্রিল ২০১৭, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)