সংবিধানের ক্ষয়ক্ষতি এবং রাষ্ট্রদূতকে ইসির বার্তা

July 2, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


“১৫ ফেব্রুয়ারি ও ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে না” মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে দেয়া ইসির অর্ধ-সত্য বক্তব্য এবং “২০০১ সালের পুনরাবৃত্তি ২০১৮ সালে ঘটবে না” -ওবায়দুল কাদেরদের বক্তব্যগুলোর ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

সংসদীয় গণতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি এবং অনেক দেরিতে হলেও, রাষ্ট্রদূতকে দেয়া ইসির বক্তব্যে এটাই ৫ জানুয়ারির সর্বপ্রথম ভুল স্বীকারোক্তির প্রমাণ। স্বীকারোক্তি, ওটা কোন নির্বাচনই ছিলো না বরং নিজেরাই সিল-ছপ্পড় মেরে ভোটের বাক্স ভরেছে… নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের কথা বলে, প্রায় পুরোটার্মই পার করে দিচ্ছে।

১৫ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে তুলনা করা যাবে না। বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি ও সমাজের বিকল্প নেই। প্রথম থেকেই সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিটি ক্রাইসিসের জন্য এককভাবে দায়ী কোন দল? অন্য দলগুলো যেভাবেই ক্ষমতায় আসুক, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে কখনোই এসব করেনি বরং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে শাবেবর হয়েছিলো তারাই।

সংসদীয় গণতন্ত্র বজায় থাকা অবস্থায় ৪র্থ এবং ১৫তম সংশোধনীর কারণে সংসদীয় ক্ষয়ক্ষতির সমালোচনা কেউ করে না। উদাহরণস্বরূপ, ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫, ৪র্থ সংশোধনীর ১৩তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনরকম নির্বাচন ছাড়াই নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা। ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহতি পূর্বে যিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি থাকিবেন না, এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হইবেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করিবেন। উক্ত প্রবর্তন হইতে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকিবেন, যেন তিনি এই আইনের দ্বারা সংশোধিত বিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হইয়াছেন।” সেইমাফিক তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রপতি পদে, নির্বাচন ছাড়াই নির্বাচিত হয়ে, স্পিকারের কাছে শপথ গ্রহণ। ১৫তম সংশোধনীতেও অনুরূপ বিধান রেখে, ১২০ দিনের নিয়ম এবং সংসদ স্থগিতের যে ব্যবস্থা, নির্বাচিত সরকারের সকল রাস্তাই বন্ধ করে দিয়েছে।

ইসি ভালো করেই জানেন, নির্বাহীর নির্বাচনে বিএনপির কোন সুযোগ নেই। ১৩ জুন মানবজমিনের প্রবন্ধ, কোন মডেলের নির্বাচনের পথে হুদা কমিশন? “…নির্বাহীর অধীনে ওই নির্বাচনে খালেদার বিরুদ্ধে মামলাগুলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইসি জানেন, মামলাতেই বিএনপির রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ হবে। সুতরাং ওই নির্বাচন যে, ৫ জানুয়ারির চেয়েও ভয়ানক একতরফা হবে, সন্দেহ নেই। ইসির উদ্দেশ্য, যেকোন নামে ভাঙ্গাচোরা বিএনপিকে সংসদে এনে, ক্ষমতাসীনদেরকে বৈধতা দেয়া। কোন জুতায় পা ঢুকাবেন সিইসি? তিনি কি ১৫ ফেব্রুয়ারি গায়েবি ভোটের দিকে হাঁটবেন, নাকি ১৩ জুনের অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুসরণ করবেন?”

১৫ ফেব্রুয়ারি প্রমাণ করেছে, সাংবিধানিক ক্রাইসিস থেকে সংসদকে বারবার রক্ষা করেছে বিএনপিই। আওয়ামী দাবির মুখে ১৩তম সংশোধনীও তারাই পাশ করেছে। ৭১ পরবর্তী বিশৃংখল রাজনীতির ইতিহাসে, ভালো দৃষ্টান্ত খুবই কম। তারপরেও সংসদীয় গণতন্ত্রের ভালো উদাহরণ এগুলো, যেখান থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত ছিলো। নেয়নি বলেই দ্বিতীয়বারের মতো সাংবিধানিক ক্রাইসিসে আটকে গেছে ভোটের নির্বাচন। সুতরাং ইসির একটি প্রলোভনেও বিশ্বাস করা, জেনেশুনে আত্মহত্যার সামিল।

১৫ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাপট। ৯০এর আন্দোলনে দুইদলই গলায়-গলায়। কিন্তু বহুদলীয় গণতন্ত্রের শুরুতেই একে অপরকে চরম অবিশ্বাস। কেয়ারটেকার সরকার প্রধান, বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের অধীনে নির্বাচন করলে মাত্র কিছুদিন সংসদ কার্যকরের পরেই, ১৯৯৪এর মধ্য মার্চ থেকে সরকার পতন আন্দোলন শুরু। লাগাতার সংসদ বর্জন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ধ্বস, জ্বালাওপোড়াও তান্ডব…। এমনকি কমনওয়েলথের মাতুব্বরদেরকেও আসতে হলো। কোনরকম সুযোগ না দিয়ে শুরুতেই এভাবে পার্লামেন্ট বর্জনের ফসল, ৩০৩ দিন হরতাল কিংবা ৯২ দিনের আন্দোলনের অভিশাপ।

জন্ম থেকেই আওয়ামী লীগের এক উদ্দেশ্য, শুধুমাত্র তারাই ক্ষমতায় যাবে। এটা করতে গিয়ে বারবার প্রমাণ করেছে, আইন উর্ধে তারা। সর্বশেষ প্রমাণ, সুপ্রীম জুডিশিয়ালকাউন্সিলের হাত থেকে অভিশংসনের ক্ষমতা কেড়ে এনে, আইনের লোকেদের বিচারের ভার দিতে চায় অনির্বাচিত সংসদের হাতে?

লন্ডনের ইনডিপেন্ডেট পত্রিকা ২২/২/১৯৯৪। শিরোনাম, বিরোধিদলের ১৫৪ এমপির একযোগে পদত্যাগ। …নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে অভিযোগে খালেদার পদত্যাগের দাবিতে দিনের পর দিন হরতাল। পরিস্থিতি এতোটাই বিষাক্ত, কমনওয়েলথ থেকে মধ্যস্থতাকারী এসেও নড়াতে পারেনি। ইতোমধ্যে ৪০ দিনের হরতালে দেশ প্রায় অচল। ডিপ্লোমেটরা বলেছেন, এমপিদের পদত্যাগে পরিস্থিতি আরো রক্তাক্ত এবং ভয়াবহ হতে পারে। খালেদাকে পদত্যাগ করে নির্বাচন দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হাসিনা।

 

একনায়কতন্ত্রের উদাহরণ কী? ৩য় এবং ১০ম পার্লামেন্টে পাল্টাপাল্টি এরশাদ এবং আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে, বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস করলো কারা! ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি সাংবিধানিক ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ প্রমাণ। ওই নির্বাচনে দিল্লি থেকে ক্রেমলিন এবং বেইজিং থেকে টোকিও… আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কিছুই বাকি রাখেনি।

৫ জানুয়ারির প্রেক্ষাপট ইসি ভালো করেই জানেন। ১৫তম সংশোধনীটি একটি অজুহাত মাত্র। উদ্দেশ্য, বিতর্কিত আইনটি সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে ঢুকিয়ে, নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনে জাতিকে বাধ্য করা। ওই ছকে, আর কারোই ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ থাকলো না। সেইলক্ষ্যে এরশাদকে জেলের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনে বাধ্য করা। আরো ৪ টার্ম ক্ষমতায় থাকতে একই ষড়যন্ত্র অব্যাহত। আবারো বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেলো মওদুদের বাড়ি অধিগ্রহণ মামলায়। তখন পঙ্কজ শরণের ঘোষণা, আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় দেখতে চায় দিল্লি। শ্রিংলার উপস্থিতিতে সেই রাহু আরো বৃহৎ পরিসরে। ইসিকে প্রশ্ন, রাকিবমার্কা নির্বাচনকে কতোটুকু গ্রহণ করেছিলো এদেশের মানুষ?

অবশ্যই বিএনপি ধোয়া তুলসি পাতা নয়। তাদের শিক্ষা সফরের ১০ বছর পূর্তি হয়েছে। জোট কেন ভেঙ্গে দিলো সেটাও প্রমাণ হয়েছে। তবে ভবিষ্যত নেতার বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ, নিরপেক্ষভাবে একটিও প্রমাণ করতে পারেনি। বহুদলীয় গণতন্ত্রের ক্ষয়ক্ষতির এইরকম একটি দৃষ্টান্তও থাকলে, দেখানো উচিত। বরং ৭৬ সনে তাদের আদর্শ থেকেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের জট খুললো। রাজনীতি থেকে বিদায় হলো একনায়কতন্ত্র, যদিও সেটা এরশাদের কারণে খুব বেশিদিন টেকেনি। সুতরাং ইতিহাসে ৫ জানুয়ারির একমাত্র দৃষ্টান্ত ৫ জানুয়ারি।

 

ডেইলি স্টার অক্টোবর ২৫, ২০০৯। ১৯৯১ থেকে ৯৬ পর্যন্ত ৪০০ কার্যদিবসের মধ্যে ১৩৫ দিন সংসদ বয়কট আওয়ামী লীগের। জবাবে ৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ৩৮২ দিবসের ১৬৩ দিন বর্জন বিএনপির। ৮ম পার্লামেন্টে হাসিনাসহ ৫৫ এমপি’র একসঙ্গে ৭৭ দিন বয়কট। সর্বমোট ৩৭৩ দিনের মধ্যে ২২৩ দিন বয়কট।

ডেইলি স্টার অক্টোবর ৪, ২০১৩। শিরোনাম, এ কান্ট্রি অব হরতাল। লিখেছে, ক্ষয়ক্ষতির মূল্য কে দেবে? ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত হরতালে ক্ষতি দিনে প্রায় ৫০০ কোটি। ২০০১ থেকে ২০০৬ আওয়ামী লীগের ১৭৩ দিন হরতাল, তুলনামূলকভাবে এই সময় পর্যন্ত বিএনপির ১৭ দিন। …দুই মহিলার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ক্ষয়ক্ষতির বোঝা পোষাতে পারছে না গরিব দেশের অর্থনীতি। প্রতিদিন হরতালের ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকা (উল্লেখ্য, তখন টাকার মূল্য প্রায় ৪০ ভাগ বেশি হওয়ায় দৈনিক ক্ষতি বর্তমান মূল্যে ৯০০ কোটি টাকার বেশি)। ৯ম পার্লামেন্টের নির্বাচনী মেন্যুফেষ্টতে দুই দলই নির্বাচন বয়কট না করার প্রতিজ্ঞা করে বলেছিলো, সরকার বা বিরোধিদল যেখানেই থাকুক, একসঙ্গে কাজ করবে। আরো লিখেছে, দলের অভূতপূর্ব বিজয়ের পর, হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, তার সরকার পাবলিক ওপিনিয়ন এবং ভিউজকে শুধু প্রাধান্যই দেবে না, দেশের স্বার্থে বিরোধিদলের সঙ্গেও কাজ করবে।

রাজনীতির পরিস্থিতি কলুষিত করার পেছনে কার দায় কতোটুকু? আমরা শুধুই ৯২ দিনের কথা শুনি কিন্তু জনতার মঞ্চের তান্ডব এবং ২৮ অক্টোবরসহ বিভিন্ন গণহত্যার কথা কেউ বলে?

 

যে ভয়ে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল। পাল্টাপাল্টি ক্ষমতার ছকে ভোটারদের অবস্থান নিম্নরূপ:-

১৯৯১তে ক্ষমতায় বিএনপি।

১৯৯৬তে আওয়ামী লীগ।

২০০১এ বিএনপি।

২০০৮এ আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীনদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ভোটাররা, প্রতিবারই বিরোধিদলকে ক্ষমতায় আনে। কারণ তারা মনে করে, এটা করলেই তান্ডব বন্ধ হবে। উক্ত নির্বাচনগুলো তত্ত্বাবধায়কের অধীনে হওয়ায়, পাল্টাপাল্টি ক্ষমতা সম্ভব হয়েছে। পাল্টাপাল্টি ক্ষমতার অংকে, ২০১৪ সনে ক্ষমতায় আসার কথা বিএনপির। কারণ ততোদিনে ক্ষমতাসীনদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষরো দেখেছে, আবারো একদলীয় পার্লামেন্ট ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা প্রায় শেষ। এইলক্ষ্যে ২০১১এর ৩০ জুন, সংবিধানকে ক্রুশে তুলে, ২৯১টি পক্ষের ভোটের বিরুদ্ধে মাত্র ১টি বিরোধি ভোট? এর অর্থ, ৯৯.৯৯ ভাগ মানুষের সমর্থনের বাইরে ওই আইন।

উন্নতির প্রোপাগান্ডাও ১৫তম সংশোধনীর একটি বড় অংশ। ১০ বছরের প্রাপ্তির শীর্ষে- “ব্যাংক লুট, ধর্ষণ, অর্থপাচার, শেয়ারবাজার এবং আবসন শিল্পে ধ্বস, বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের রেকর্ড…।” খালেদার বক্তব্য, “১০ বছরে এই দেশে কোন নির্বাচন হয়নি… যারা তাকে ক্ষমতায় রেখে শুধু তাদেরকেই তোষামোদ করে।”

৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি ছিলো একটি বহুমুখী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। এর মূলে  খনিজ সম্পদ লুটপাট। বিষয়টি নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা প্রায় নেই। সেজন্যই ১৫তম সংশোধনীর বিকল্প ছিলো না, এখনো নেই। এখানেই ওবায়দুল কাদেরের প্রসঙ্গ। বলেছেন, “২০০১এর পুনরাবৃত্তি হবে না ২০১৮ সনে।” আমিও কার সাথে শতভাগ একমত। কারণ ২০০১এর নির্বাচনটি হয়েছিলো তত্ত্ববধায়ক সরকারে অধীনে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতিয় পার্টি, জামায়েতসহ বহুদল অংশ নিয়েছিলো। কাউকেই নির্বাচন থেকে বের করে দেয়া হয়নি কিংবা সেই চেষ্টাও কেউ করেনি। এই প্রথম দুরাভিসন্ধিমূলক ১৫তম সংশোধনীর উদ্দেশ্য পরিষ্কার করার জন্য মহাসচিবকে অভিনন্দন।

বিভিন্ন কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা নেই। ডিজিএফআইয়ের জরিপ, আগামী নির্বাচনে ভরাডুবি হবে ক্ষমতাসীনদের। সেজন্যই রকিবের পর, হুদা কমিশনের তান্ডব শুরু হয়ে গেছে।

মানবজমিন জুন ১৩, “নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনেই আগামী নির্বাচন কেমন মডেল হবে। জনগণ কি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে? তাদের দেয়া ভোট কি গণনা হবে? …বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, একতরফা? অংশগ্রহণপূর্ণ? প্রতিযোগিতামূলক?” সন্দেহের ফুলঝুড়ি সর্বত্রই।

বিষয়টি এইরকম। প্রয়োজন হলে যেকোন উপায়ে তত্ত্ববধায়ক সরকার আদায়। প্রয়োজন শেষ হলেই বিদায়। ধরে নিতেই পারি, নির্বাহীকে সরিয়ে নির্বাচন হলে, ২০১৯ সনে ক্ষমতায় আসবে বিএনপি। তখন দেখা যাবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালে আবারো মাঠে আওয়ামী লীগ। ৪০ বছরেও যারা বদলায়নি, তারা কেন বদলাবে! এরশাদকে হটানোর পর, বহুদলীয় গণতন্ত্রের যে যাত্রা, ১৩তম সংশোধনী একে আরো মজবুত করলেও, ১৫তম সংশোধনী এনে ধ্বংস করে দিলো।

 

বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি ও সমাজের বিকল্প না থাকার সর্বশেষ প্রমাণ, জাতিয় পার্টির অজ্ঞাতনামা এক মহিলা এমপি, যার সম্পর্কে ৯৯.৯৯ ভাগ মানুষেরই ন্যূনতম ধারণা নেই। আইনপ্রণেতা হওয়ার কিছু যোগ্যতা এবং নিয়ম-কানুন আছে। বলেছেন, “আমরা কোনও ইলেকশন চাই না, প্রধানমন্ত্রী আছেন, থাকবেন, আরো ৫-১০ বছর দেশ চালাবেন।” (আমাদের সময় ৮/৬/২০১৭)। আরো বলেছেন, আমি খালেদাকে নির্দেশ দেই, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলবেন না। লজ্জা নেই তার। মাথা যেন পাখির বাসা…।

তার বক্তব্যের বিরোধিতার প্রয়োজন নেই। শুধু এইটুকু বলবো, করের টাকায় চলা সংসদে দাঁড়িয়ে কথাটি এমন দিনে বলা, যেদিন ব্রিটেনবাসী ভোট দিয়ে  এমপি নির্বাচন করলো, মুজিব নাতনি টিউলিপ তাদেরই একজন।

আওয়ামী দুর্নীতির বিরুদ্ধে- ধৈর্য-সহ্য, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা… সবকিছুতেই প্রমাণ হয়েছে, দেশের ক্রানি-কালে একমাত্র বিকল্প, জোটনেত্রী খালেদা। জোটনেত্রীর শিক্ষাসফর সমাপ্ত যেখানে, এবার সেখান থেকে শুরু করবে আওয়ামী লীগ। ইতিহাসবিদরা তাদের কাজ করবেন কিন্তু রাজনীতির কালচারকে নষ্ট করার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা চি‎হ্িনত হয়েছে। ৯২ দিনের জ্বালাওপোড়াও নিয়ে যারাই মুখে ফেনা তুলে ফেলছে, উচিত ৩০৩ দিন হরতালের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দেয়া। সুতরাং ইস্যু ৯২ দিনের আন্দোলন নয় বরং এই কালচার যারা সৃষ্টি করেছিলো, ইস্যু তারাই।

নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে যারাই বেপরোয়া, উচিত বারবার সাংবিধানিক ক্রাইসিস সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা। নির্বাচন নিয়ে ন্যূনতম সন্দেহ থাকলে যা হয়, ক্যাপিটল হিলের আইনপ্রণেতা এবং মন্ত্রীদের চলমান শুনানিসহ, বিশেষ কাউন্সিলের তদন্ত থেকে কি শিক্ষা নিতে পারে বাংলাদেশ? গণতন্ত্রকে নিজের মতো করে ব্যাখার সুযোগ কারোই নেই।

২০ দলের উচিত, নির্বাহী এবং হুদা কমিশনের গর্তে পা না দেয়া। ইস্যু, নির্বাহীর অধীনে নির্বাচন নয় বরং মোটিভ। সুতরাং অন্তত আরো ৪ টার্ম নির্বাচন হওয়া উচিত নির্বাহীকে ক্ষমতার বাইরে রেখে। তবে এর বাইরে কোন সমাধান থাকলে, আওয়ামী লীগ নয়, আসতে হবে ন্যাশনাল ডালয়গের মাধ্যমে।

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

২৯ জুন ২০১৭, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)