এই রায়ে সমাধানের পথ

August 12, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


এতোকাল একতরফা বিচারবিভাগের দোহাই দিয়ে সব সুবিধাই আদায় করলো আওয়ামী লীগ। কিন্তু রায় প্রকাশে হঠাৎ তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠার কারণ? আইন সবদলের জন্য সমান। ১৬তম সংশোধনী বাতিলের রায়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ক্ষমতাসীনদের মাথার উপর আইনের সীমারেখা এঁকে দিলেন সর্বোচ্চ আদালত। এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের সামপ্রতিক দুটি ঘটনার উল্লেখ করে, নওয়াজ শরীফের পদত্যাগের রেফারেন্সও এই রায়ে। এর মানে কি অহেতুক রক্তপাত এড়াতে পদত্যাগেই সমাধান!

রায় থেকে কয়েকটি লাইন।

“ক্ষমতার লোভ মহামারির মতো। …আমাদের পূর্বপুরুষেরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছিলো, কোন ক্ষমতা-দানব তৈরি করা নয়। …আদালত লক্ষ্য করেছেন, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই পরাজিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন… নিরপেক্ষ ও হস্থক্ষেপমুক্ত স্বাধীন একটি সংসদ নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। …ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সংসদ অবিকশিতই রয়েছে। জনগণ এই দুই প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা করতে পারে না। …হাইকোর্টের রায়ের পর সুপ্রীম কোর্ট প্রিণ্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে লক্ষ্য করে যে, সাংসদরা সংসদে ওই রায় ও বিচারকদের সমালোচনা করে আলোচনা করেন। …অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করে বিচারকদের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এতে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র অপরিণত এবং পরিণতি অর্জন করতে হলে কমপক্ষে টানা ৪/৫ মেয়াদ সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চা করা প্রয়োজন।”

“ভারসাম্য আর কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অনুপসি’তিতে উদ্ধত আর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছে সরকার।”“মানবাধিকার হুমকির মুখে, দুর্নীতি অবাধ, সংসদ অকার্যকর, মৌলিক স্বাস্থসেবা বঞ্চিত কয়েক কোটি মানুষ এবং প্রশাসনে অব্যবস্থাপনা মারাত্মক।”

“বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে নির্বাহীরা এখন তা খোড়া করে দেয়ার চেষ্টা করছে। আর সেটা হলে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।”

ক্ষমতাসীনরা সর্বোচ্চ আদালতের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের সারমর্ম জানে। কমপক্ষে ৪/৫ মেয়াদ সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চার প্রয়োজনের বক্তব্য পর্যবেক্ষণে। সহজ বাংলায়, অবৈধ সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে বৈধ নির্বাচনের ইঙ্গিত এই রায়ে।

৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে সুপ্রীম কোর্ট যতোটা উদ্বিগ্ন, আমজনতার বেলায় তেমন নয়। কারণ আমজনতারা ভুক্তভোগী এবং স্মার্ট। জানে, ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে নিলেও, অপ্রয়োজনীয় আনুগত্যে ন্যূনতম পরিবর্তন আসবে না।

কঠোর আমিত্ববাদের সমালোচনা করে দারুণ ঝাল ঝাড়লো আদালত। যেন একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন এটা।

সংসদে শেখ সেলিম,“সংশোধনী যতোবার বাতিল হবে, ততোবার পাশ হবে সংসদে।” মালমুহিতের মুখেও একই আদালত অবমাননা। এমনকি প্রাক্তন বিচারপতি খায়রুল হককে পর্যন্ত ব্যবহার করছে একই কাজে। তার বিচারিক ক্ষমতা সকলেরই জানা। এর মানে কি, আদালত অবমাননা শুধুই বিএনপিজোটের জন্য? আইন অনুযায়ী সবকটা অবমাননাকারীকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করার কথা। সঠিক বলেছেন গয়েশ্বর রায়, নেত্রীকে বরখাস্থ করলে প্রধান বিচারপতির লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই রায়ের মাধ্যমে নৈরাজ্যের হাত থেকে মূলত কারা রক্ষা পেলো, সেটাই পর্যবেক্ষণে-“কোনরকমে বেঁচে আছে বিচারবিভাগ। এর বেশি হলে তলিয়ে যাবে।”

রায় পড়ে মনে হতেই পারে, ৭০ অনুচ্ছেদের সমালোচনা এবং অভিশংসনই মূল পর্যবেক্ষণ। মানুষ জানে, আসল বিতর্ক ভিন্ন। ১৫৩ জন অনির্বাচিতরাই অভিশংসনের ক্ষমতা চায়। সুতরাং এই রায়কে বলা চলে, ভীষণ দেরিতে হলেও ১৫তম সংশোধনীকে হাতিয়ার করা অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতের সঠিক অবস্থান। এরপর, ক্ষমতাসীনদের আর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে প্রশ্ন। কিংবা নওয়াজ শরীফের রেফারেন্সই দুইবিভাগের উত্তেজনা হ্রাস করতে পারে। অতএব, মামলার মাধ্যমে নৈরাজ্যের বিষয়গুলো নিস্পত্তির যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হলো।

আমিত্ববাদের ভয়ানক অপব্যবহার নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ।

“আমাদের লোক এ জঘন্য নীতি থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। এছাড়া, ‘আমি একাই’ সবকিছু করেছি ‘আমিত্ব’র এই আত্মঘাতি পথ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। …একজন মাত্র ব্যক্তিই সবকিছু করেছে এটাই হলো এই আমিত্ব। …আমরা একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছি। এ রোগের নাম ‘অদূরদর্শী রাজনীতিকরণ’। এটা একটি ভাইরাস …আমাদের নীতিনির্ধারকেরা এমন একটি ভবিষ্যত দেখতে বা কল্পনা করতে পারছেন না, যে ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে গোটা জাতি, কোন একজন মাত্র ব্যক্তি নন। …জঘন্য এ রোগের কারণে তারা তাদের ক্ষুদ্র ও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে একটি ভূয়া ও মেকী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। …পরিত্যাগ করতে হবে ‘আমি একাই সব’ এই আত্মঘাতি নীতি।”

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারার মামলাগুলো আমিত্ববাদের বিরুদ্ধে আদালতের পর্যবেক্ষণকেই সমর্থন করে। রায়ে বলেছে,“তারা জনগণের ক্ষমতায়ন করেনি। বরং তারা তাদের অবস্থানের অপব্যবহার করেছে এবং নিজেদের ক্ষমতার খেলা দীর্ঘায়িত করতে ধোকা দেয়ার বিভিন্ন হাতিয়ার (কখনো গণভোট, কখনো কারচুপির ভোট, আর কখনো কোন নির্বাচনই নয়!) উপস্থাপন করেছে। ফলে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজনীতির ধারণা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।”

 

অভিশংসন শব্দটি বিশেষভাবে পরিচিত ‘ওয়াটারগেট কেলেংকারির’ পর। বিরোধিদলের আস্তানায় গোপনে টেলিফোনে আড়ি পাতাকে অভিশংসযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হলে, পদত্যাগে বাধ্য হলেন নিক্সন।

ভূয়া উন্নতির বদলে প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নতি হলে অভিশংসনের হাত থেকেও রক্ষা হয়, প্রমাণ কলিরকৃষ্ণ বিলক্লিন্টন। অর্থনীতিতে অভাবনীয় সাফল্যের কারণে, অভিশংসনের পক্ষে যথেষ্ট ভোট মেলেনি সেনেটে।

ট্রাম্পগেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্বাচনে প্রভাব ফেলা। দু’টি তদন্ত কমিটির প্রথমটি কংগ্রেস, দ্বিতীয়টি স্পেশাল কাউন্সিল। গোপনে প্রভাব ফেলাও অপরাধ এবং প্রমাণ হলে ট্রাম্পকেও নিক্সনের পথে যেতে হবে। এমনকি হিয়ারিং থেকে রক্ষা পায়নি তার পরিবারও। তদন্তের আওতাভুক্ত, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা সংক্রান্ত সকল নথিপত্র এবং ট্যাক্স রিটার্ণ। বিশ্বের সবচে’ ক্ষমতাধর সত্ত্বেও আইনের কাছে হাত-পা বাঁধা। তদন্ত কমিটির উপর কোনরকম প্রভাব খাটানো বেআইনী। মিডিয়ায় ট্রাম্প সমালোচনা, এমনকি বিএনপি-আওয়ামী লীগ কালচারকেও পরাজিত করেছে। সুপ্রীম কোর্টের রায়ে যেন আমিত্ববাদের বিরুদ্ধে সেই সত্যই প্রতিধ্বনিত্ব হলো।

আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যে ধরনের গুণাবলির প্রয়োজন উল্লেখ করলো আদালত, সেই প্রমাণ দেখছি ক্যাপিটল হিলে। উদাহরণস্বরূপ, কংগ্রেসে স্বাস্থবীমা পাশ না হওয়ার কারণ, ৯টি ‘না’ ভোটই দলের। এমনকি বিভিন্ন কোর্টে তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা। এই ‘আমিত্বহীন’ পার্লামেন্টের প্রেসক্রিপশনই রায়ে।

ভোটে নির্বাচিত নয় সত্ত্বেও, সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে দানবীয় ক্ষমতা ১০ম সংসদের! সাংসদদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যে, ভূয়া গণতন্ত্র আর মেকী উন্নতির চিত্রই ফুটে উঠছে। রায়ে নওয়াজ শরীফের পর্যবেক্ষণ যেন ঝি মেরে বৌ শিক্ষা।

 

হাজারটা ওয়াটারগেট, ট্রাম্পগেট এবং নওয়াজগেটকে একসঙ্গে করলেও ঢাকাগেট কেলেংকারির সমান নয়। প্রথম দুটির অভিযোগ, নির্বাচনে প্রভাব ফেলা। শেষেরটি ফিনানশিয়াল ক্রাইম। ৫ জানুয়ারি এর কোনটাই নয় বরং সরাসরি ভোটডাকাতি। এমনকি দলের লোকেদের পর্যন্ত ভোট দিতে দেয়নি।

রায়ের প্রতিটি বক্তব্যই যেন ঢাকাগেট কেলেংকারির মুখোশ উন্মোচন। এরপরেও সুশীল, বুদ্ধিজীবি এবং সাংবাদিকদের মুখে ট্রাম্পের সমালোচনা কিন্তু ৫ জানুয়ারির বিষয়ে শুনশান নিরবতা? যেন ঢাকা নয়, অবৈধ নির্বাচনটি হয়েছিলো ওয়াশিংটনে। তবে দোষ একা ৫ জানুয়ারির নয়। অন্যকোন গণতান্ত্রিক দেশের বুদ্ধিজীবিরাই রাকিবমার্কা কমিশনের মুখও দেখতো না। দুঃখজনক কিন্তু সত্য, এই রাশেদা কে চৌধুরীরাই, ১/১১ থেকে আজব্দি প্রতিটি অগণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গেই হাত মিলিয়ে চলেছেন। পরামর্শ দিচ্ছেন জেনেও, নির্বাহীর বাইরে ইসির ক্ষমতা নেই। আদালতের দীর্ঘ রায়ে এদের কথাই ফুঠে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর এই রায়ে আবারো জনগণের জয় হয়েছে।

নিক্সনগেট পুরানো হলেও, ট্রাম্পগেট এক্কেবারে নতুন। নওয়াজগেট রায়টি একবিংশ শতাব্দিতে আইনের শাসনের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। তবে ক্ষমতাসীনদের অনেকেই নওয়াজগেটের মতো একই পানামা পেপার্স কেলেংকারির সঙ্গে যুক্ত সত্ত্বেও প্রতিটি অস্বাভাবিক বিষয়কেই উল্টে ফেলার দানবীয় ক্ষমতা লীগের।

প্রভাব ফেলার অপরাধে ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে এতো কৌতুহল কিন্তু ৫ জানুয়ারির হোতাদের বিচার হবে না? ভূয়া নির্বাচনের সকল তথ্যই দেশে-বিদেশে। সেদিন ভোটকেন্দ্রে যা ঘটেছিলো, এই প্রথম সেই গভীরে হাত দিলো সর্বোচ্চ আদালতের মতো বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানটি। বলা চলে, নওয়াজ শরীফের রায়ের মতোই বৈপ্লবিক পদক্ষেপ রায়ে।

আদালত রায় দিয়েছে। সঙ্গে হাতিয়ারও দিয়েছে। আদালত যা বলেছে, এরপর আত্মরক্ষার সুযোগ কোথায়? কনটেমপ্ট অব কোর্ট, ভোটচুরির নির্বাচন, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড… অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত লীগ। এরপর দায়, আমজনতার।

 

রায়ের আলোকে, আমেরিকার চলমান তদন্ত থেকে, গণতান্ত্রিক মানসিকতা ধারণই সংসদীয় গণতন্ত্রকে শৃংখলমুক্ত করতে পারে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি হয়েছিলো পাশ্ববর্তী দেশের সরাসরি হস্থক্ষেপ এবং পৃষ্ঠপোষকতায়। এই ঘোষণা পঙ্কজ শরণরাই দিয়ে বলেছিলেন, নির্বাচনে ভারত আওয়ামী লীগের পক্ষ নেবে। পরিকল্পিতভাবে বিএনপিজোটকে নির্বাচন থেকে আউট। আবারো দিল্লি থেকে ফিরেই এরশাদের ঘোষণা, ভারত আমার পক্ষে আছে। তবে ২০১৯এর নির্বাচনের সতীত্ব রক্ষার রাস্তা খুলে দিলো এই রায়।

দিল্লির অগণতান্ত্রিক পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করে একাধিক কলাম লিখেছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার। সাংবাদিক কৌশিক নায়ার লিখেছেন, হাসিনার দিল্লি যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিলো, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির উপসি’তিতে ২০১৯এর ব্লুপ্রিণ্ট। আমরাও দেখেছি, যেভাবে রাষ্ট্রপতির লন্ড্রি-কিচেন হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের নির্বাচন।

সদ্যসমাপ্ত ভেনিজুয়েলার নির্বাচন যেন আরেকটা ৫ জানুয়ারি কিন্তু পশ্চিমাদের আচরণ একেবারেই ভিন্ন। নির্বাচনের পরেরদিনই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা। প্রতিবাদি এটর্ণি জেনালেরকে তাৎক্ষণিক বরখাস্থ করলে, এই রায়ের আশংকাই প্রমাণ করলেন ভোটচোর মাদুরো। আরেকটা ৫ জানুয়ারি ঘটার আগে সঠিক প্রেসক্রিপশনটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। আইনের রেফারেন্স তৈরি, সিদ্ধান্ত জনগণের।

 

জোরপূর্বক আইনস্টাইন বানানো গেলে, ঘরে ঘরে আইনস্টাইন তৈরি হতো। প্রসঙ্গ, মুহিতঅর্থনীতির সঙ্গে ঢাকাগেটের সম্পর্ক। মুহিতঅর্থনীতির খবর শুধুমাত্র নির্বাহী ছাড়া আর কেউ জানে না। বেসিক ব্যাংক এবং সুইফট কেলেংকারির বিচার না হওয়াটা অন্যতম রেফারেন্স। মেগাবাজেট, মেগাঅর্থনীতি, উন্নয়নের গণতন্ত্র, রাবিশ খ্যাত বক্তব্য… মুহিতঅর্থনীতির সঙ্গে ঢাকাগেট কেলেংকারির সংযোগের প্রমাণ।

এই অর্থনীতির একপাল্লায় ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতার ধারাবাহিকতা। অন্যপাল্লায় ৫০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। দেশের স্বার্থে বাজেট হলে, মুহিতবাজেটের গ্রহণযোগ্যতা নেই। কারণ সুন্দরবন পুড়িয়ে কেউই বিদ্যুৎ চায় না। পুরো অর্থনীতিটাই সার্ভিস নির্ভর হওয়ায়, যারাই ধনী দেশের স্বপ্ন দেখায়, সেইসব ফিনানশিয়াল ক্রিমিনালদেরকে চি‎িহ্নত করলো এই রায়।

মুহিতপূর্ববর্তী অর্থমন্ত্রীদের কেউই বাংলাদেশ যা নয়, বানানোর বা দেখানোর চেষ্টা করেননি। রুগ্ন অর্থনীতির কারণে প্রতিবারই সাইফুর রহমানকে খোটা দিলেও, জনাব তাজউদ্দিন থেকে সাইফুর রহমানদের দেয়া বাজেটই প্রকৃত অর্থনীতি। অন্যদিকে, মুহিতঅর্থনীতি জনস্বার্থ বিরোধি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। এই কারণেই আগেভাগে গণভোট বাতিল করে বিস্থর সম্পদ বিদেশিদের হাতে বন্টনের ব্যবস্থা।

সারসংক্ষেপে, যে কারণে সুন্দরবন পোড়াতে ডেসপারেট নির্বাহী, এটাই প্রকৃত মুহিত অর্থনীতির গহীনে ঢাকাগেট কেলেংকারির গোড়া।

এতোকাল সংসদ বর্জনের রাজনীতিতেই ধুকেধুকে এগোচ্ছিলো সংসদীয় গণতন্ত্র। কিন্তু ৫ জানুয়ারি এসে তা গুড়িয়ে দিলো। যাদের ষড়যন্ত্রে ৫ জানুয়ারির উদ্ভাবন, তারাই ৯২ দিনের আন্দোলনের মূল হোতা এবং সেই দানবের ইঙ্গিতই রায়ে। কোন সুস’ মানুষই আরেকটা ৯২ দিনের প্রেক্ষাপট কিংবা গীতা সরকারদের জন্য বার্ণইউনিট দেখতে চায় না। বার্ণইউনিটগুলো কারো নির্বাচনী প্রচারের জায়গা নয়। কিন্তু কিছুতেই মানতে নারাজ নির্বাহী। সব অভিযোগই রায়ের আওতাভুক্ত।

সুতরাং, ট্রাম্পগেটের আলোকে ঢাকাগেট কেলেংকারির সুরাহাই সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি। আরো ৪/৫টা সংসদীয় গণতন্ত্রের মতামত দিয়ে, শর্টলিস্ট করা হলো নওয়াজ রেফারেন্স। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের সারমর্ম, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অবৈধ।

 

ভুল স্বীকার করাও একটি আর্ট। সকলেই পারে না, কেউ কেউ পারে। যেমন আইনস্টাইন। হিরোশিমা-নাগাসাকিতে গণহত্যার ভয়াবহতার পর বলেছিলেন, যদি ঘূর্ণাক্ষরেও জানতাম, এটম বোমা বানানোর জন্য প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে চিঠি লিখতাম না।

এখন নিঃশর্ত একমত হওয়া জরুরি। ভুলের মাশুল প্রয়োজনের চেয়ে বেশিই দিয়েছে বিএনপি। ৯ বছর ক্ষমতার বাইরে সত্ত্বেও জনতার মঞ্চের মতো বিস্ফোরক আন্দোলনে যায়নি। অতীতের ভুল আর না করার বক্তব্যও শুনেছি।

এখন আওয়ামী লীগের সময়, অতীতের ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা। জনতার মঞ্চ, ১/১১, ৫ জানুয়ারির অপরাধ স্বীকার। গণজাগরণ মঞ্চ, গুপ্তহত্যা এবং গণতন্ত্র ধ্বংসের দায় স্বীকার। অন্যথায় আত্মরক্ষার জন্য ন্যূনতম জায়গা পাবে না। কারণ আনন্দবাজারিরাই বলেছে, ৯২ ভাগ বাংলাদেশি মুসলমানের ভারতবিরোধি সেন্টিমেন্ট তুঙ্গে। ৪৬এর ডাইরেক্ট এ্যাকশনের কারণও কংগ্রেস বিরোধি মুসলিম সেন্টিমেন্ট। একই পরিসি’তির পুনরুত্থান কারোই কাম্য হতে পারে না। এই রায়ের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা হলো।

 

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

১১ আগস্ট ২০১৭, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

 

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)