১৩ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার রাস্তা পারের রেকর্ড

August 27, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


 

 

মাত্র ৯ দিনের জন্য বাংলাদেশে যাওয়াটা ছিলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন। অতিরিক্ত পাওনার মধ্যে বৃষ্টির সঙ্গে প্রায় পুরোটা সময় বসবাস। বৃষ্টি আমার পুরানো ভালোলাগা, এই অনুভূতির বর্ণনা সম্ভব নয়। তুমুল বর্ষণে জনদুর্ভোগ স্বাভাবিক কিন্তু সেটা রহিত করার দায়িত্ব রাজনীতিদদের। খবরে প্রকাশ, সৎকারের সুযোগের অভাবে বন্যার পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে লাশ। লেখার উদ্দেশ্য, বন্যা নয় বরং ঐতিহাসিক ট্রাফিক জ্যামে নাকাল ১৩ ঘণ্টা। ঢাকার জ্যাম নিয়ে এনসাইক্লোপিডিয়া লেখার ইচ্ছা না থাকলেও এবারের দুঃসহ যন্ত্রণার কথা না লিখে পারলাম না। এভাবে চলতে থাকলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার খবরও অচিরেই ক্ষুদ্র হয়ে যাবে।

ভারি বর্ষণে নাকাল বাংলাদেশের জন্য প্রত্যেকেই দুষছে বৃষ্টিকে। কিন্তু কেউই বলছে না, দোষ বৃষ্টির নয় বরং রাজনীতিকে মানিব্যাগ ভর্তি সিন্ডিকেট বানানোই কারণ। উদাহরণস্বরূপ, রাস্তা ঢালাই করতে লাগে ৪ থেকে ৬ ইঞ্জি সিমেন্ট অথবা এ্যাস্‌পল্ট। কিন্তু বছর খানেক পরেই চামড়া উঠতে শুরু করে। এতো সুরকি-সিমেন্ট যায় কোথায়? বড়জোর ২ ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে ৬ ইঞ্চির বিল। চলাচলের অনুপোযুক্ত রাস্তার উপর দিয়ে কয়েকগুণ ভারি যানবাহন, ধারণ ক্ষমতার বাইরে যানবাহনের সংখ্যা, মূর্খ এবং নিষ্ঠুর চালক, খানাখন্দ আর কাদার এনসাইক্লোপিডিয়া হয়েছে সড়ক-মহাসড়ক। অথচ রাস্তা মেরামতের নামে প্রতিবছরই হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ নিচ্ছে দলীয় সিন্ডিকেট।

আমার শহর থেকেই বিপন্ন রাস্তার শুরু। রাস্তার দুইপাশে চিরাচরিত ময়লার ভাগাড় এবং মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানো পশু সমপ্রদায়। পশুর কারণে অনেক দুর্ঘটনা কিন্তু দেখার কেউ কী আছে? অথচ ক্ষমতাসীনদের অবাস্থব দাবি, তারা নাকি অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। তারা না থাকলে নাকি উন্নতি বন্ধ হয়ে যাবে। প্রবাদে বলে, বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়। কথাটি আসলেই ঠিক, আপেল গাছে মরিচ ধরে না। অতীতের দুর্নীতিবাজদের খবর প্রত্যেকেই জানে। উন্নতি হলে জনগণই বলবে, ফিরিসি- লাগিয়ে বিলবোর্ডের প্রয়োজন নেই। যতো দূরেই চোখ যায়, ক্ষমতাসীনদের আমলে যেন উন্নতির বিলবোর্ডের মিউজিয়াম বাংলাদেশ।

টেনেটুনে ময়মনসিংহ পার হতেই চক্ষু চড়কগাছ। সড়ক বিভাগ আগেভাগে জানালে মহাজ্যামের মধ্যেই ঢুকতাম না। কারণ কয়েক ঘণ্টা পরেই নিউইয়র্কের ফ্লাইট। ভাগ্যিস অনেক সময় তখনো বাকি। আরো ১ ঘণ্টা পর সকল গাড়ির মুভমেন্ট বন্ধ। চারিদিকে উপচে পড়া পার্কিং লট। আরো ২ ঘণ্টা জ্যামে আটক থাকার পর ভাবলাম, বিষয়টি অস্বাভাবিক। এদিকে অসম্ভব গরমে হাসফাঁস। গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে গাড়ি বন্ধ রেখেছি। খবর পেলাম, চৌরাস্তার মোড়ে মাত্র এক লাইনে হঠাৎ হঠাৎ গাড়ি চলছে। বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি এসে হামলে পড়েছে মোড়ে। এই জ্যাম উত্তরা ছাড়িয়ে গেছে। কারণ, জলাবদ্ধতায় রাস্তাঘাট সব ডুবে গেছে। গ্যাসের অভাবে অনেক গাড়ি বন্ধ। দুর্ঘটনায় অচল অনেক যানবাহন। কিন্তু কোথাও উদ্ধারের তৎপরতা নেই।

সেদিনের কতো অভিজ্ঞতা! যারা ঢাকায় গিয়ে পণ্য বিক্রি করবে, মাছ-তরকারি… আনলোড করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছে। ট্রাক থেকে লাফিয়ে পড়ছে জ্যা ন্ত পাঙ্গাস। সেগুলো বস্তায় ভরে স্থানীয় বাজারে। পনির-এর বস্তার উপর বসে থাকা বেপারি, ট্রাক থেকে নামিয়ে দিলো কয়েক বস্তা। কারণ, এরপর খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যাবে পনির। এরকম বহু অভিজ্ঞতা। আরো ২ ঘণ্টা পর মাত্র আধা মাইল এগিয়ে গেলে বুঝলাম, ফ্লাইট ধরতে হলে যে কোন উপায়ে বের হতেই হবে।

রাত ১২টায় ফ্লাইট তাই ধৈর্য ধরলাম। চৌরাস্তার মোড় আরো দেড় মাইল বাকি। যেচে একজন পথচারী জানালো, আমার গাড়ির চাকা ফ্লাট? সর্বনাশ! ফ্লাট ঠিক করার প্রশ্নই আসে না। এমনকি কারো হার্টএ্যাটাক হলেও গাড়ি বের হতে পারবে না, বরং গাড়িতেই মরতে হবে। খানাখন্দের উপর দিয়ে চলার সময় হয়তো পেরেক ঢুকেছিলো। ট্রাফিকে ৬ ঘণ্টা পার করার পর, বিকল্প রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে গেলাম। কিন্তু কিছুদূর যেতেই আবারো একই পার্কিং লট।

এবার আমি সত্যিই বিচলিত। ৩টার মধ্যে এলাকা না ছাড়লে ফ্লাইট ধরা অসম্ভব। জ্যামে আটক এক ট্রাক ড্রাইভার বললো, মীরের বাজার থেকে ৬ ঘণ্টায় মাত্র ১ মাইল পার হয়েছে। হাতে সময় থাকায় সিদ্ধা ন্ত নিলাম, হেঁটে ৪ মাইল পার হয়ে অটোরিক্সা, রিক্সা, যেকোনভাবে এয়ারপোর্টে পৌঁছাবো। কিন্তু সেটা আর করতে হয়নি। স্থানীয়দের পরামর্শে, ভাওয়াল রাজার বনবাদরের রাস্তা দিয়ে আবারো যাত্রা শুরু। এভাবেই বাড়ির অদূরে পৌঁছে দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লাট টায়ার। গাড়ি বন্ধ। একফোটা গ্যাসও নেই। কিন্তু ফিলিং স্টেশনেরও চি‎হ্ন নেই। এরপর অসম্ভবের সঙ্গে যুদ্ধ করে শেষ পর্য ন্ত গ ন্তব্যস’লে।

 

চৌরাস্তার ভিড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করার সময় ভাবছিলাম, হয়তো সেতুমন্ত্রীকে কোথাও দেখবো। কারণ হামেশাই ফুল ক্যামেরা ইউনিটসহ ট্রাফিক পুলিশ বনে যান। আইন অবমাননার অপরাধে ড্রাইভারদেরকে শাসি-ও দেন। এমনকি লাইসেন্সও বাতিল করে দেন। কিন্তু না। অনেক অপেক্ষার পরেও রাস্তাঘাট মন্ত্রীর দেখা মিলল না। জানি, এসব তুচ্ছ ব্যাপারে তাদের সময় নেই বরং ব্যস্থ বড় বড় কাজে।

যেমন সেতুমন্ত্রীর এখন ১নম্বর কাজ, বিধ্বস্থ রাস্তাঘাটের বদলে, ১৬তম সংশোধনী বাতিলের রায়টি মেরামত করা। কারণ- অপরিপক্ক, অপরিণত, সংসদীয় গণতন্ত্রহীন চলমান সংসদ বিষয়ে রায়ে যে পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক মহাপ্লাবনে ভেসে গেছে দুর্নীতিবাজ আওয়ামী মহাসড়কের উপর থেকে নিচ পর্য ন্ত। সেখান থেকে বের হওয়ার প্রায় প্রতিটি রাস্তাই বন্ধ করতে ৭ বিচারপতিই একমত। এমনকি গজলডোবার পানিতে ভাসা বনার্তদের চেয়েও করুণ অবস্থা, বিধ্বস্থ আওয়ামী সড়ক-মহাসড়কের। তবে চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী, এই রায়কেও বিতর্কিত না করলে, এবার রক্ষা নেই। কারণ এরপর আসতে পারে, অবৈধ সংসদের পদত্যাগের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। বিষয়টি আমি বলিনি, বলেছেন, ৭ জন বিচারপতি, যাদের প্রত্যেকেই আওয়ামী সরকারের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত। রায়ে পর্যবেক্ষণ, বিচারবিভাগকে শক্তিশালী করার বদলে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে, যা করলে ভয়াবহ পরিসি’তির সৃষ্টি হতে পারে। ওবায়দুল কাদেরদের দৌড়ঝাপ দেখে মনে হচ্ছে, এইসব পলিটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে, এমনকি বিচারবিভাগের মহাসড়কও ভেঙ্গে যেতে পারে। হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী জুডিশিয়ারির বিরুদ্ধ যেধরণের এক্টিভিজম রাস্তায় এবং ভেতরে, রায়ে কী এদের বিরুদ্ধেই সতর্ক করেননি ৭ বিচারক? এই ‘আমিত্ববাদের’ বিরুদ্ধেই হুশিয়ারি জারি করে বলা হয়েছে, ক্ষমতা হচ্ছে মহামারি রোগ, একটি ভাইরাস।

পরবর্তীতে খবরের কাগজে যা দেখলাম, হজম করা কঠিন। রাস্তাঘাট মন্ত্রী নাকি সত্যিই সেদিন একবার প্রধান বিচারপতি, আরেকবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আওয়ামী মহাসড়ক মেরামতে ব্যস্থ ছিলেন। সেখানে নাকি ভারতীয় ও নেপালী কারিগরেরাও উপসি’ত ছিলো। বিষয়টি মোটেও ভালো ঠেকলো না। অন্যকোন সভ্য দেশে হলে, এই কিসিমের অপরিপক্ক সাংসদদেরকে পদত্যাগ বাধ্য করার আগেই ইস্থফা দিতো।

অভিযোগ, উন্নতি ঠেকাতে নাকি উঠেপড়ে লেগেছে ২০ দলীয় জোট। তাই তাদের উপর অভিনব দমনপীড়ন চালাতে হবে। অথচ ৯ বছর নিরবিচ্ছিন্ন ক্ষমতা ভোগ করছে আওয়ামী লীগ। বিলবোর্ড যাই বলুক, তারা প্রমাণ করেছে উন্নতির বদলে সবক্ষেত্রেই ভয়ানক অবনতি। কারণ, পাহাড় সমান দুর্নীতি। ইংরেজিতে বলে করাপশন। বরাদ্দের হাজার হাজার কোটি টাকা খেয়ে ফেলছে সড়ক-সিন্ডিকেট। একমাত্র আফ্রিকা এবং বাংলাদেশেই করাপ্ট রাজনীতিবিদরা পদত্যাগের বদলে অন্যদেরকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপ, রাষ্ট্রের সবগুলো অঙ্গ শেষ করে, এবার ধরেছে বিচারবিভাগকে। তাদেরকে নাকি হয় পদত্যাগ নয় এক্সপাঞ্জে বাধ্য করা হবে। আমাদের প্রশ্ন, হর্স ট্রেডিং আর এক্সপাঞ্জের রাজনীতিই কী আওয়ামী লীগের একমাত্র সম্বল?

 

একটি দেশের উন্নতির সবচে’ বড় প্রমাণ তার যোগাযোগ ব্যবস্থা। কতো দ্রুত পণ্য পৌঁছাতে পারে একপ্রা ন্ত থেকে অন্যপ্রানে-। কতো দ্রুত পাবলিক গ ন্তব্যস’লে পৌঁছায়। বাংলাদেশের বেলায়, কতো দেরিতে পৌঁছাতে পারে। গোদের উপর বিষফোঁড়া, হাইকমান্ডের ট্রাফিকজ্যাম নীতি। হাইকমান্ড বের হলে পাবলিকের পুরো দিন সাবাড়। তুরুপের তাস কয়েকটি ফ্লাইওভার। বিশেষ ব্যক্তি ক্ষমতায় না থাকলে নাকি দেশ বাঁচবে না। বাস্থব বলে ভিন্ন কথা। রাস্তা বাড়ানোর কোন সম্ভাবনাই নেই বরং যা আছে সেখান থেকেই কমছে। সাধারণ মানুষেরা প্যারাসিটিক মানসিকতার শিকার না হলে এই জীবনযাপনে অভ্যস্থ হলো কেন?

যে পরিমাণ রাস্তার প্রয়োজন, কিছুতেই সম্ভব নয়। যেসকল প্রজেক্ট হাতে, অধিকাংশই অবাস্থব। বর্ষা এলেই রাস্তা কাটার ধুম। এরমধ্যেই প্রতিদিন বাড়ছে কয়েক’শ গাড়ি। পরিকল্পিত নগরের বদলে, পরিকল্পিত কল্পনা। গাড়িগুলোর ৯৫ ভাগই গ্যাস চালিত কীভাবে? সিএনজি’র উদ্ভাবন জনজীবনকে আরো দুর্বিষহ করেছে। অথচ বাসাবাড়িতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ। গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিগুলো গ্যাসের অভাবে নাকাল। সংকটের কারণে, বিকল্প ব্যবস্থায় চলছে উনান। গরিব মানুষেরা গাড়ি কেনে না। তাহলে কাদের স্বার্থে সিএনজি চালিত গাড়ি?

ট্রাফিক জ্যামের অন্যতম কারণ সস্তায় গ্যাস। গ্যাসের মূল্য তেলের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ। তেলের ব্যবহার থাকলে, সস্তা সিএনজির গ্যারাকলে পড়তে হতো না। গাড়ির সংখ্যাও কমতো। আ ন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের তুলনায় এবং বাংলাদেশি নব্য ধনীদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তেলের মূল্য বরং অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক কম। সুতরাং জ্বালানির মূল্য সাশ্রয় বড়লোকদের জন্য কি হাস্যস্কর নয়? প্রশ্ন- গ্যাস পাম্পগুলো বন্ধ হচ্ছে না কেন? বরং ক্ষমতায় এসেই এই উদ্যোগ নিলে এতোদিনে ভোগানি- অনেক কমতো।

 

জলাবদ্ধতার বিষয়ে হাইকমান্ডের ব্যাখ্যা সত্যিই লজ্জাজনক। জিয়াউর রহমান নাকি নদীনালা, খালবিল বন্ধ করে দিয়েছে বলেই জলাবদ্ধতা। অথচ তিনি গত হয়েছেন, ২৬ বছর আগে। বরং এদের সিন্ডিকেটই অধিকাংশ নিচু জায়গা ভরাটের জন্য দায়ী। এমনকি শিশুদের খেলার মাঠগুলো পর্য ন্ত রেহাই পায়নি। এমনকি ধানমন্ডির অভাবনীয় ট্রাফিক জ্যাম সত্ত্বেও বিশেষ একটি লেকঘেরা রাস্তার দুইপাশেই লোহার ব্যারেজ দিয়ে বন্ধ করা কেন? ৭ বিচারপতি এই আমিত্ববাদের বিরুদ্ধেই একসঙ্গে রায় দিয়ে পাবলিককে সজাগ হওয়ার ইশারা দিলেন।

ক’টা বলবো? ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের অ ন্তর্ভুক্ত- নূর হোসেনদের বালুমহাল, বালুর ট্রাক সংগঠন, ড্রেজার ব্যবসায়ী, মেগাবাজেট…। ক্ষমতাসীনদের ছায়াতলে বহু অর্গানাইজড ক্রাইম সংগঠনের জন্ম হয়েছে। এরাই একের পর এক খেয়ে ফেলছে উঁচু-নিচু জায়গাগুলো। অথচ নিচু জায়গাগুলো দিয়েই পানি বের হওয়ার কথা। সুতরাং জিয়াউর রহমান নয়, জলাবদ্ধতার দায়িত্ব ক্ষমতাসীনদেরকেই নিতে হবে। বরং তারা ব্যস্থ জনদুর্ভোগ ঠেকানোর বদলে, এক্সপাঞ্জ নিয়ে হর্স ট্রেডিং-এ। যেন এক্সপাঞ্জ করতে পারলেই ট্রাফিক জ্যামের অবসান হবে।

ভবিষ্যতে মুখ থুবড়ে পড়বে ট্রাফিক পরিসি’তি। অসম্ভব হবে মুভমেন্ট। দ্রুত বাংলাদেশ হয়ে উঠছে ড্রেজারমিউজিয়াম। যে যেখানে পারছে দখল করছে। ৭ বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এটাই অনিয়মিত এবং অপরিপক্ক সংসদ। অদূর ভবিষ্যতে, সুন্দরবনেরও পুরোটাই হয়তো পুঁজিবাদের ক্যাপিটল হতে যাচ্ছে। হয়তো উন্নতির ভিশন এবং রূপকল্পে গড়ে উঠবে, সবচে’ উঁচু ও ব্যায়বহুল ভবন। ইতিহাস হবে চিত্রা হরিণ আর চিতাবাঘ। বরং ‘শ্যালা’ নদী হয়ে উঠতে পারে, দুবাই স্টাইলে নয়নাভিরাম মেগালেকসিটি। সুন্দরবনে ৩শতাধিক শিল্পকারখানার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অথচ ব্যক্তি যতোবড়ই হোক, সুন্দরবনের মতো প্রকৃতির ভারসাম্যতা নষ্ট করার এখতিয়ার কারোই নেই। বলছি, প্রকৃতির সঙ্গে জনদুর্ভোগের ভারসাম্যের কথা। ধ্বসে পড়া রাজনীতির মহাসড়ক মেরামতে যতো আ ন্তরিক ওবায়দুল কাদের এবং হাইকমান্ড, ন্যূনতম আ ন্তরিকতা থাকা কি উচিত ছিলো না, জলাবদ্ধতায় ধ্বসে পড়া জনজীবন মেরামতে?

৭ বিচারপতি যখন একসঙ্গে একমত, তখনও রাস্তা মেরামত বাদ দিয়ে ক্ষমতা মেরামত কী লজ্জাজনক নয়?

 

 

 

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

২৪ আগস্ট ২০১৭, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

 

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)