এখন সিদ্ধান্ত জনগণের

September 10, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


ইসিকে বর্জন ছাড়া আর কোন অস্ত্র হাতে নেই। সর্বসম্মতিক্রমে রায়টি, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আগুনে ঘি। বৈধ এবং পরিপক্ক সংসদ ছাড়া কোন দেশ চলতে পারে না। এখন সিদ্ধান্ত জনগণের। লেখাটি তাদের জন্য যারা জেগে ঘুমায়। যারা হাত-পা বাঁধা বিএনপিকে সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাধ্য করতে চায়।

সংসদ অবৈধ হলে আইনের যুক্তি তুলে তর্কবিতর্ক করে কী লাভ? বিশেষ করে জোর করে যখন কেউ ক্ষমতায় থাকতে বদ্ধপরিকর। সরকার প্রধানে থেকেই নির্বাচন দিতে অনড়। সংবিধানকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করতেও আইনের শাসনের পরোয়া করে না। সুতরাং ১৫তম সংশোধনীর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। নিজের মতো করে ক্ষমতার রাস্তা বানানো। এই কাজে যাদেরকে ব্যবহার করেছে, অন্যতম প্রতিষ্ঠান জুডিশিয়ারি, যাদের মধ্যে খায়রুল হকের নাম সবার আগে। তাকে ব্যবহার করে, পরবর্তীতে নানান সুবিধা দিয়ে, আইনের যে ব্যত্যয় ঘটালো… এই রায়কেও ব্যর্থ হতে দিলে, দেশ থেকে গণতন্ত্রের চি‎হ্ন মুছে যাবে। যতোদিন না ৫ জানুয়ারির ষড়যন্ত্রের বিচার হবে, ভবিষ্যতে আর একটিও নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব।

রায়ে পাকিস্তান প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, বাক্যগুলো নাকি এতোই জঘন্য যে উচ্চারণ করতেও ঘৃণা হয়। দেখা যাক। পাগলের চিকিৎসা করাতে প্রধান বিচারপতিকে সাংসদ মতিয়ার উপদেশ? সাবেক বিচারপতি মানিকের ঘোষণা, তাকে শুধু পদত্যাগই নয় দেশ ছাড়াও করবেন। শিল্পমন্ত্রী আমু তার রক্ত পরীক্ষা করতে চেয়ে বলেছেন, ফাইজলামির একটা সীমা আছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস আপনাকে কে দিলো? এরপরেও প্রধান বিচারপতিকে অপরিপক্ক বলা, অপরিপক্ক সংসদের প্রমাণ। অর্থাৎ সর্বসম্মতিক্রমে রায়টি বৈধ, সংসদ অবৈধ।

বিডিআর থেকে ১৬তম সংশোধনী, প্রতিটি রায়কেই বিতর্কিত করা তার কাজ। মিডিয়া ট্রায়াল এবং জুডিশিয়ারিকে আক্রমণ করে যে প্রমাণ দিলো, সর্বসম্মতিক্রমে রায়কেই আরো বেশি বৈধতা দিলো। দুদক আর এনবিআর-এর মতো সংস্থাগুলোকে আবারো লেলিয়ে দিয়ে প্রমাণ করলো, খায়রুল হক মহামারীতে আক্রান্ত লীগ। এই মহামারী থাকলে, সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা ভুলে যেতে হবে। এতোকাল সন্দেহাতীত বিচার নিয়ে প্রশ্ন ছিলো না কিন্তু তীর যখন আওয়ামী লীগের দিকে, তখনই তিনি আইএসআইয়ের লোক? এরপরেও যারা ইসির সঙ্গে সংলাপে যায়, তাদের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন। নির্বাহীর কৃপাধন্য সিনহার বিবেক জাগলে সুশীল সমাজের জাগবে কবে?

“বাংলাদেশ এখন আর জনগণের প্রজাতন্ত্র নয় বরং বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে” -মন্তব্য খায়রুল হকের। অথচ ১৫তম সংশোধনীকে কেন্দ্র করে ভয়ানক সাংবিধানিক ক্রাইসিসের সৃষ্টি হলে, এইধরনের একটি বক্তব্যও দেননি। (প্রথম আলো ১২ আগস্ট, ৬ মাসেই উল্টো কথা) সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, “জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে এবং তা দেখার দায়িত্ব বিচারকদের উপর ন্যাস্ত যারা জনপ্রতিনিধি নন। যদি নির্বাহী বিভাগ অবৈধ আদেশ দেয়, আদালত তা সংশোধন করতে পারে। জাতীয় সংসদ যদি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন প্রণয়ন করে, তাও সুপ্রীম কোর্ট বেআইনী ঘোষণা করতে পারে। …এখানেই আইনের শাসনকে অর্থবহ করে মহিমান্বিত করার দায়-দায়িত্ব বিচারবিভাগের উপর ন্যাস্ত। …কখনো এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা ঠিক না। তা যতো মহান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হোন না কেন।” দুমুখো কুশিলবরাই কিন্তু নির্বাচনের সময় আরো ভয়ংকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।

প্রথমে দুই হাত ভেঙ্গে দিয়ে বললো, সাঁতারে যাওয়া নিষেধ। পরবর্তীতে দুই পা এবং কোমর ভেঙ্গে দিয়ে বললো, সাঁতার প্রতিযোগিতা অংশ না নিলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। খালেদাকে হয় নির্বাসনে নতুবা জেলে পাঠিয়ে আরেকটা ৫ জানুয়ারির ব্লুপ্রিণ্ট তৈরি। এবার জুডিশিয়ারির বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করে প্রমাণ করলো, রাষ্ট্রের কোন অঙ্গই এদের রক্তাক্ত থাবা থেকে নিস্তার পাবে না।

এদিকে পাকিস্তানের পর থাইল্যান্ডও প্রমাণ করলো, জুডিশিয়ারির সম্মান এবং শক্তি। রায়ের পরেই নওয়াজ শরীফের পদত্যাগ এবং রায়ের আগেই গ্রেফতার এড়াতে দুবাই পালিয়ে গেলেন ইংলাক। অথচ কারোই সমর্থকের সংখ্যা কম নয় সত্ত্বেও কেউই আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্ত নয়। ২০০৬ সনেও ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এভাবেই নির্বাসনে ইংলাকের ভাই। পাকিস্তান এবং থাইল্যান্ডের রেফারেন্সগুলো আমরা কেন মানতে পারলাম না? তোফায়েল আহমেদের দাবি, বঙ্গবন্ধুর ‘আমি’ থেকেই নাকি সংবিধানে ‘আমরা’। এসবই অপরিপক্ক এবং ভেজাল সংসদের প্রমাণ।

এমনকি হাইকমান্ডের প্রথম সারির সমর্থক আগাচৌ পর্যন্ত মিডিয়া ট্রায়ালের নিন্দা করে ৭১ টেলিভিশনের কুৎসিত প্রচারণার বিরুদ্ধে লিখেছেন। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের হটলাইনে প্রায় তিনশতাধিক অভিযোগ জমা। মিডিয়া ট্রায়ালে প্রবাসী জিয়াউদ্দিনের চেকের কপি সত্য হলে,  উল্টা আওয়ামী লীগই প্রমাণ দিলো, কয়েকটা জুডিশিয়ারি কিলিং-এর সঙ্গে জড়িত উভয়পক্ষই। বোমা ফেললেন সাংবাদিক স্বদেশ কর। লিখেছেন, বিচারপতি নাকি গোলাম আযমের সৈনিক, কোলাবরাটর, অনুচর, পাকিস্তানের দাস? আমরা শোকাহত। কুলাঙ্গার মানিক চড়ালেন সামপ্রদায়িকতার রঙ। সিনহার বদলে সিনহাবাবু এবং ৭১এর শান্তিবাহিনীর সদস্য ঘোষণা। ৪৬ বছর পর সামসুদ্দিন মানিকের স্মৃতিশক্তি ফিরলো?

তবে উম্মাদ মানিককে উলঙ্গ করে ছাড়লো স্যোসাল মিডিয়া। দ্বৈত নাগরিকত্বের খবর লুকিয়ে রেখেছেন। বিচারক থাকা অবস্থায় সে নাকি লন্ডনে ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট? এই বিচারকই সাঈদীর একমাত্র ফাঁসির রায় লেখক বলে মুখে খৈ ফোটাচ্ছেন। এদিকে ৬০টি রায় না লেখা পর্যন্ত মানিকের অর্থনৈতিক সুবিধা বন্ধ রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি। মানসিক ভারসাম্যহীন এবং ফাজিল বিচারকেরাই ফাঁসির রায় দিলে, সাঈদীদের কী হবে! রায়ে পাকিস্তানকে নিয়ে মন্তব্যে উত্তপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে হাইকমান্ডের নানান খবর তো মিডিয়ায় তারাই দিচ্ছে। ঘটনা কী অন্যকিছু? অবশ্যই। রায়টি তাদের আরেকটা ৫ জানুয়ারির ষড়যন্ত্র ভাঙ্গার হাতিয়ার হিসেবে অবতীর্ণ।

দ্যা টেলিগ্রাফ (ইনকিলাব ২৬ আগষ্ট), পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করে নাকি শেখ হাসিনাকে হুমকি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সুতরাং তাকে পদত্যাগ বাধ্য করা হবে অথবা ক্ষমতা থেকে অপসারিত করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আদালত দীর্ঘ ছুটিতে গেলে সেটাই বাস্তবায়ন হতে পারে। প্রথম আলো ২৬ আগস্ট, দ্যা হিন্দু বিজনেস লাইনের প্রবন্ধে লিখেছে, শেখ হাসিনা বিরোধিদলবিহীন নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন। ২০১৯এর নির্বাচনের আগে সুষমা সরাজের ঢাকা সফরের বরাদ দিয়ে রাষ্ট্রদূত শ্রিংলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও উল্লেখিত। নির্বাচন আমাদের কিন্তু মাথাব্যথা কাদের? এইসব দুষকৃতিকারীদের হাতেই ২০১৯এর নির্বাচন।

ক্ষমতাসীনদের গুপ্ত কৌশলটি এইরকম। প্রত্যেকটি ইস্যুকেই প্রথমে বিতর্কিত করবে, এরপর জিতে যাবে। বিডিআর থেকে অভিশংসন রায়… প্রতিটি সাংবিধানিক সংকটকেই বিতর্কিত করার মাধ্যমে, বছরের পর বছর ক্ষমতায়। শুধুই কি রায় বিতর্কিত করা! সংবিধানকেও বারবার তুরুপের তাস বানিয়ে সংকট পার করছে। ১৫তম সংশোধনী এই শতাব্দির সবচে’ বড় সাংবিধানিক ক্রাইম। আর এটাকেই শনাক্ত করলো সর্বোচ্চ আদালত।

যে যাই ভাবুক, রায় বিনা কারণে নয়। নওয়াজ শরীফের রেফারেন্সটাও কথার কথা নয়, সেটা যে দেশ থেকেই আসুক। ‘‘১৩তম সংশোধনীতে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে” -তোফায়েলের এই বক্তব্যে প্রতিয়মান, নির্বাহীর হসে-ক্ষেপেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল। ১৫ এবং ১৬তম সংশোধনী দুটোই তাদের ব্রেইন চাইল্ড। তারপরেও ইসির উপরে আস্থা?

দলটির জন্য কি-না করেছেন বিচারপতি সিনহা! সুতরাং আক্রমণের বদলে তার তো প্রশংসা পাওয়ার কথা। তাহলে? উদাহরণস্বরূপ, জুডিশিয়ারিতে থেকেও উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা। ১৩তম সংশোধনী বাতিলে একমত ৩ বিচারকের একজন তিনি। তার এক্টিভিজম সর্বস্ব জুডিশিয়ারিতেই ট্রাইবুন্যালের বৈতরণী পার। স্কাইপ কেলেংকারীতে বিচারপতি নিজামুল হক সিনহার রেফারেন্স দিয়ে প্রবাসী জিয়াউদ্দিনকে বলেছিলেন, তিনডারে দিয়া লন, তারপর আপনেরে এইখানে নিয়া আমু…।

কাদের মোল্লা মামলার একমাত্র বিতর্কিত সাক্ষি মোমেনার তিন কিসিমের বক্তব্যের পরেও সিনহার মনে হয়েছিলো, একটি বক্তব্যকে আমলে নিয়ে যাবজ্জীবনের রায় উল্টে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। গণজাগরণ মঞ্চের ভরা বসন্তকালে সংসদে জুডিশিয়ারির ন্যায়বিচারের প্রশংসায় মুখে খৈ ফোটাতেন হাইকমান্ড। সংসদে বলেছেন, বিচারবিভাগ স্বাধীন এবং সুষ্ঠুভাবে কাজ করছে… আমাদের করার কিছু নেই… আদালত যে রায় দেবে সেটাই মানতে হবে। মনে আছে? তখন কিন্তু এই সিনহাকেই দারুণ সুবিচারক মনে হয়েছিলো। এরাই অনেকগুলো ফাঁসির রায় লিখেছেন, রিভিউতে যথারীতি খারিজ করেছেন। এই বিচারপতিও আদালত অবমাননার দায়ে অনেকের জীবন হারাম করেছেন। সবকিছুই অবৈধ সরকারকে খুশি করতে। ঘটনা যাই হোক, পর্দার অন্তরালে কিছু একটা ঘটছে। সে সব রুখতেই, মন্ত্রী কামরুলের হুংকার, সিনহার নিয়োগ ছিলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরাও জানি, রায়ের প্রতিটি বিচারকই তাদের হাতে নিয়োগপ্রাপ্ত। এতোক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে?

২০০৬ সনে একটি রায়ে খায়রুল হকের মন্তব্য, “৭০ অনুচ্ছেদের বিধিনিষেধ একজন এমপিকে দলীয় বন্দীতে পরিণত করেছে।” -ডেইলি স্টার, মে ২৫, ২০১৭। এখন কী বলছেন? ‘‘সাংসদেরা স্বাধীন নন এটা নাকি আদালতের ভুল ধারণা।” -প্রথম আলো ১০ আগস্ট ২০১৭। নিজের ভোট কাস্ট করে ১৩তম সংশোধনী বাতিলের মেজরিটি। এরপরেই হাইকমান্ডের ত্রাণতহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা অনুদান গ্রহণ এবং আইন কমিশনারের চাকরি অবশ্যই উৎকোচের সামিল। যে মন্তব্য করেছিলেন এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে, সেটাই কি ১৬তম সংশোধনী বাতিলের রায়ের বক্তব্য নয়? এইসব নৈরাজ্যবাদিরা থাকলে, কখনোই নওয়াজ শরীফ আর ইংলাকের দৃষ্টান্ত হতে পারবে না আওয়ামী লীগ।

“সব সহ্য করা যায় কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা করলে কিছুতেই সহ্য করতে পারবো না। পাকিস্তানী রায় দিলো দেখে কেউ ধমক দিবে, জনগণের কাছে এর বিচার চাই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন তুলনা করবে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ সেই অপচেষ্টা চালায় তাকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হবে” -মন্তব্য হাইকমান্ডের। সব বিচারপতি স্বাধীন মতামত দিয়েছেন কিনা সেটা নিয়েও সংশয়!

এখানে গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রসঙ্গ। ১) ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি জোটের জন্য কোথায় জায়গা রাখা হয়েছিলো, প্রমাণ দেখাতে হবে। ২) পাকিস্তানের সাথে কোথায় তুলনা? বরং পাকিস্তানকে উল্লেখ করে ন্যায় বিচারের রেফারেন্সটাই আসল। গুরুত্ব পেয়েছে নওয়াজ শরীফ বনাম আদালত। পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, আমেরিকা… যে কোন জুডিশিয়ারির বেলায় সেটা হতেই পারে। অর্থাৎ পক্ষে যায়নি বলেই পাকিস্তান বিতর্ক তুলে মূল বিতর্ক থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা।

ঘটনা যাইহোক, সর্বসম্মতিক্রমে রায়টি ১৫তম সংশোধনীর মতো ভেজাল নয়। ১৫তম সংশোধনীকে আইন বানানোর ভোটাভুটিতে ২৯১ পক্ষে, মাত্র একটি বিপক্ষে। এর মানে সংসদ আবাল- অপরিপক্ক এবং বিশেষ কারো এজেন্ডা পূরণে বাধ্য। রায়ে বলেছে, পার্লামেন্ট এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া এখনো শৈশবে, কোনটাই বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নয়।

১৬ কোটি মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার মতো অপরিপক্ক পার্লামেন্টের একটি নমুনা। রানাপ্লাজার লাশের উপর দাঁড়িয়ে সাংসদ হওয়া এনামের বক্তব্য, ‘‘৫টাকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি ১৪ জনের লিস্টি হাতে।”  তবে দুষকৃতিকারী রাকিবুদ্দিনদের উদাহরণের প্রয়োজন নেই।

অবশেষে প্রমাণ করলো, বিচারকেরা কখনোই স্বাধীন ছিলো না। বিচারকদের উপর চাপ দিয়ে দাবি আদায় করাই তার কাজ। খায়রুল হকের উপরও চাপ ছিলো, আছে বর্তমান ইসির ওপরেও। কৃতজ্ঞতার প্রতিদান সকলেই পান, প্রমাণও আছে। উদাহরণস্বরূপ, তাৎক্ষণিক রায়ে আরো দুইবার তত্ত্বাবধায়কের কথা বললেও, পূর্ণাঙ্গ রায়ে অনুপসি’ত এবং এরপরেই তিনি আইন কমিশনার। সুতরাং গণতন্ত্রের শত্রুদেরকে তাড়াতে হলে, রায় কার্যকরী করার বিকল্প নেই।

সহজ জবাব দিলেন সোস্যাল মিডিয়ার এক্টিভিস্ট। ‘‘…এবার এনবিআর জেগে উঠেছে, দুদক সক্রিয় হয়েছে, হোল্ডিং ট্যাক্সওয়ালা সক্রিয় হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্তাগুলো জেগে উঠেছে, ব্যাংকগুলোও সচেতন হয়েছে, অতীতে এস.কে সিনহা ঋণ খেলাপী ছিলো কিনা ইত্যাদি।” এই অবস্থায় ইসিকে বর্জন দিয়েই সংসদীয় গণতন্ত্রের রাস্তা পরিষ্কার করা শুরু হোক।

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

০৭ সপ্টেম্বের ২০১৭, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

 

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)