পরিষ্কার পানিতেও মাছ শিকারে ব্যর্থ

September 25, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


 

পরিস্থিতি সাপেক্ষে, গণতন্ত্র বলতে এখন একমাত্র বিএনপি। স্বশরীরে না থাকলেও, সংসদের বাইরে থেকেই অভিভাবকের মতো পাহারা দিচ্ছে। প্রতিটি অধিবেশনেই জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার তুলে প্রমাণ করছে, হিজড়া পার্টি নয়, বিএনপিই একমাত্র বিরোধিদল। নাহলে, সংসদের একটি বক্তব্যও পাবলিক খায় না, খবরেও মূল্য পায় না। গণতন্ত্রহীনতা থেকে বাঁচতেই জিয়া-পরিবারকে সংসদের মধ্যমণি করে পাবলিক হিউমিলিয়েশন থেকে রক্ষা। হাইকমান্ডের মুখে ক্ষমতার ধারবাহিকতার বিষয়টি বারবার মনে করিয়ে দেওয়ায়, ভবিষ্যতে আর কোনো বৈধ নির্বাচন না হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি দলকে দূর করে দিয়ে যারা এভাবে ক্ষমতা হাতিয়ে নেয়, তখন জামায়েতের একটি কথাই মনে পড়ে। প্রতিবারই রায়ের আগে বলতো, ওমুক হলে আগুন জ্বলবে, আগুনে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে। আমরা খুশি, বিরাট ক্ষতি সত্ত্বেও আগুন জ্বালায়নি। তবে ঘোলা পানিতে শুধু মাছ শিকারই নয়, আগের চেয়ে পরের আগুন আরো তীব্র সত্ত্বেও, প্রতিবারই আগুনে হাত দিয়ে অক্ষত আওয়ামী লীগ প্রমাণ করলো- বিডিআর থেকে ১৬তম সংশোধনীর রায়, আগুনও তাদের কাছে পরাজিত।

বিএনপি ভদ্রলোকের দল, পাল্টা জবাব দিতে লজ্জা পায়। সেইজন্যই যা খুশি বলে, যা মনে হয় করে ক্ষমতাসীনরা। অশ্লীল হলেও সমস্যা নেই। দলীয় ফোরামে হাইকমান্ডের বক্তব্যকে রেফারেন্স করে লেখাটি, ৯/৯/২০১৭ তারিখে ‘আমাদের সময়’সহ প্রায় সকল পত্রিকায় প্রকাশিত।

“নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই নির্বাচন পরিচালনা করবে। আমরা সেটা নিশ্চিত করবো। এটা নিয়ে অহেতুক পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা আর সংবিধান লংঘন করে অন্যকিছু করার সুযোগ নেই।”

ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবে বিএনপি? অভিযোগটি অন্ধের এভারেস্ট জয়ের মতো। বিএনপি সেই অন্ধ এবং আওয়ামী লীগ হচ্ছে দুর্গম এভারেস্ট। একে অতিক্রম করা বিএনপি কেন, বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেক রাষ্ট্রের পক্ষেই অসম্ভব। বিডিআর থেকে ১৬তম সংশোধনীর রায়, প্রতিটি ইস্যুকেই ক্যাশ করতে ব্যর্থ বিএনপি, প্রতিটি আগুনেই হাত দিয়ে অক্ষত হাত আওয়ামী লীগের। ১ বছরের বদলে ৪ বছর পরেও ক্ষমতায় থাকা, তারই প্রমাণ। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার দূরে থাক, হিমালয়ে নদীর উৎপত্তিস্থলগুলো থেকেও টলটলে পানি এনে দিলেও পুটি-রুই সনাক্ত করতে পারবে না বিএনপি।

রোহিঙ্গা বিষয়ে ফকরুলদের বক্তব্য হাস্যস্কর। ত্রাণ বিলানোর অধিকার ছিনিয়ে নিলেও কিছু করতে পারলো? রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের অন্তরালে ভয়ংকর খেলায় মেতেছে কর্পোরেটওয়ার্ল্ড। চীন, রাশিয়া, আমেরিকার বিশাল বিনিয়োগ এবং ভয়ংকর স্নায়ুযুদ্ধের শিকার আরাকান।

কালের কণ্ঠ ১০ সেপ্টেম্বর, কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডের দাবি, দ্রুত আরকানের মাটি খালি করে দিতে হবে। “২০১২ সালের হামলার পর বড় বড় প্রজেক্ট স্থাপনের জন্য যে পরিমাণ ভূমি দরকার ছিলো, ২০১০-১৩ সালের মধ্যে দখলকৃত জমি বেড়েছে ১৭০%। ২০১২ সালে ভূমি নিয়ন্ত্রণের যে আইন, তা কেবল বিশালমাপের কর্পোরেট দখলদারিত্বকেই সমর্থন করে। …৩১ লাভ একর জমি অধিগ্রহণের পুরোটাই রোহিঙ্গাদের বাস। …উন্নয়নের দোহাই দিয়ে মূলত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ভূমিছাড়া করা হচ্ছে…” -গার্ডিয়ান পত্রিকার নিবন্ধটি কি বিএনপি পড়েছে?

মিয়ানমারে রাখাইন অভিযানে অকুণ্ঠ সমর্থন চীনের এবং রোহিঙ্গা সংকটে মায়ানমারের পাশে থাকবে ভারত -শ্রিংলা। ডিস্টার্বিং খবরগুলো প্রকাশ করেছে ১২ সেপ্টেম্বরে মানবজমিনসহ বহু পত্রিকা। ধুমছে অস্ত্র বিক্রি করছে পরাশক্তিরা, সৈন্য ট্রেনিং দিচ্ছে অষ্ট্রেলিয়া-ব্রিটিশ। হোয়াইট হাউজের ঘোষণা, পণ্য বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেবে না। এইসময়ে হাইকমান্ডের নির্দেশে গম কেলেংকারী মন্ত্রীর চাল কিনতে স্বস্ত্রীক মিয়ানমার ভ্রমণ? ডিস্টার্বিং নিউজগুলো মিডিয়ায় নেই, বরং হাইকমান্ডের নোবেল পাওয়ার আলোচনাই আসল। ১৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে ২ লাখ টন চাল কেনার চুক্তি করছে ক্ষমতাসীনরা। এতেই প্রমাণ, কর্পোরেটওয়ার্ল্ডের গণহত্যায় ক্ষমতাসীনদেরও সমর্থন। সংসদে গণহত্যা বিষয়ে নিন্দা প্রস্তাব না তোলাটা, হুন্তাদের রোহিঙ্গা পলিসিকেই সমর্থন।

২০০৮ সনে যে কর্পোরেটওয়ার্ল্ডের হাতে ধরা খেয়েছে বাংলাদেশ, এদের হাতেই ধরা খেলো আরাকান। উদাহরণস্বরূপ, যৌথ উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই নয়, ৪০০-এর বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন সুন্দরবনে। সুন্দরবনের বিদায়ের চেয়ে যোগ্য উদাহরণ আর কি? আমাদেরকে দেশেই রেখে আর রোহিঙ্গাদেরকে দেশছাড়া করে চলছে কর্পোরেটওয়ার্ল্ডের উন্নতির নামে ধ্বংসযজ্ঞ। চীনের কাজ খনিজসম্পদ সম্বৃদ্ধ দেশগুলোকে ঋণের জালে জর্জরিত করে মাছ শিকার। বাংলাদেশে ২৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সুখবর নেই। এই গভীর কখনোই পৌঁছায় না বিএনপি। আওয়ামী লীগও চায়, হালকা আলোচনায় ব্যস্ত রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে ঘরে তুলতে।

“নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই নির্বাচন পরিচালনা করবে। আমরা সেটা নিশ্চিত করবো। এটা নিয়ে অহেতুক পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা আর সংবিধান লংঘন করে অন্যকিছু করার কোন সুযোগ নেই।”

বিষয়টি যেন শেয়ালের কাছে মুরগি বাকি। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন না পরাধীন, আওয়ামী লীগের এখতিয়ার নয়। নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোন দেশের রাজনীতিবিদরাই এভাবে অশ্লীল নয়। রাকিবমার্কা কমিশনের চেয়ে আরো ডেঞ্জারাস বর্তমান ইসি। গণতন্ত্রের সবগুলো ফায়ারওয়ালই ব্লক করে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বাহাস। সুতরাং এই নির্বাচনও শতভাগ ভেজাল হতে বাধ্য। এইরকম ইসির অধীনে, ফকরুলরা অন্যকিছু করবে নাকি আওয়ামী লীগই হাতিয়ে নেবে নির্বাচন?

“আমার হাসি পায় যখন নির্বাচন নিয়ে কথা বলে।”

হাসি পাবে কেনো? ৪র্থ এবং ১৫তম সংশোধনী এনে সংবিধানকে তুরুপের তাস বানানোর ইতিহাস বিএনপির নয়। বরং একদলীয় শাসন বিলুপ্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মুক্ত করার ইতিহাস। এজন্যই বিলুপ্ত আওয়ামী লীগেরও পুর্নজন্ম ১৯৭৮ সালে। এখানেই শেষ নয়। হাইকমান্ডের অনুপস্থিতিতেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা। ইরানের শাহ্‌ পরিবরের মতো না করে বরং ১৯৮১ সনে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনেরও ব্যবস্থা। প্রতিটি ঘটনাই বিএনপি নেতার উদার মানসিকতার পরিচয়। যেজন্য হাইকমান্ডের উচিত আজীবন কৃতজ্ঞ থাকা। একই দৃষ্টান্ত নির্বাসিত জিয়া পরিবারের সন্তানদের বেলায় দূরে থাক, ১৩ সেপ্টেম্বরের সংসদে যে ভয়ানক ঘোষণা, নির্বাচন হলে খালেদাই প্রধানমন্ত্রী ভয়ে, নতুন করে অস্তিত্ব সংকটে ফেলার ব্লুপ্রিণ্ট। হাইকমান্ডের এইসকল বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পাল্টা জবাব যারা দিতে পারে না, এরাই করবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার?

“মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া শুরু করেছে বিএনপি। জিয়া ৭৫এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।”

ব্যাখ্যাটি সর্বৈব ভুল। ১৫ আগষ্টের পরেই খন্দকার মোস্তাক প্রেসিডেন্ট। ৭ নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্ত জিয়া আবারো আর্মি চীফ। ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সনে ৭ম প্রেসিডেন্ট। ১৯৭৮ সনে বিএনপি গঠন। ১৯৭৯ সনে জাতিয় নির্বাচন।

ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সমান। ফকরুলরা প্রতিক্রিয়াশীল হলে হয়তো এই মাপের অশ্লীল আর কদর্য বক্তব্য শুনতে হতো না। সম্বোধনেও হাইকমান্ডেই সীমিত থাকা উচিত ছিলো। তা না করে, ৫ জানুয়ারির প্রধানমন্ত্রীর পদটিকেই স্বীকৃতি দিচ্ছে সম্বোধনে। ইতিহাস বলে, যখন জাসদের আগুনে জ্বলছিলো দেশ, ইনুবাহিনী-গণবাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ, সময়ের দাবিতেই কর্ণেল তাহেরের ফাঁসি এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তন ইতিহাসে নতুন নয়। ৩০ মে ১৯৭৭এর ভোট জাতিয় নির্বাচন নয়। সেটা ছিলো- হ্যাঁ না কনফিডেন্স রেফারেন্ডাম। জিয়ার কেবিনেটে যোগ দেয়নি এমন বিশ্বস্ত আওয়ামী লীগারের সংখ্যা কতো? এদের অনেকেই হাইকমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ পদে, যেমন এইচ.টি ইমাম। বাগাড়ম্বর তথ্য দিয়ে সত্য ধামাচাপা দেয়ার মাত্রা লাগামছাড়া।

“১৯৭৯ সনের নির্বাচন পূর্বপরিকল্পিত। আগেই ঠিক ছিলো আওয়ামী লীগকে ৪০টির বেশি আসন দেয়া হবে না।”

এই অভিযোগ সত্য হলে ক্ষমতাসীনদেরই লজ্জা পাওয়ার কথা। কারণ দুর্ধর্ষ বাকশাল আইনে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগকে পুর্নজন্মই নয়, ৭৯এর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে ৩৯টি সিট। এর অর্থ, গণতন্ত্র মানেই বিএনপি।

“ভোটচুরির অপরাধে নির্বাচনের দেড় মাসের মাথায় জনগণ আন্দোলন করে পদত্যাগে বাধ্য করে।”

হাইকমান্ড জানেন, ইন্টারিম সরকারের ৩ মাসের কোটায় নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তারপরেও অবৈধ ১৫তম সংশোধনীর ৭ম বর্ষ চলছে। ৫ জানুয়ারির অবৈধ ক্ষমতা দখলেরও ৪র্থ বর্ষ এটা। তারপরেও ৩ মাসের কোটা পূরণ করেনি হাইকমান্ড? অন্যদিকে ১৩তম সংশোধনী এবং জাতিয় নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত খালেদা। ২০১১ সনে এটাকেই বিলুপ্ত করলো হাইকমান্ড। জনতার মঞ্চ কিংবা ২৮ অক্টোবরের দৃষ্টান্তও তারাই। ৩০৩ দিনের হরতালও তারাই। আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারই নয়, দলটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং অশ্লীলতায় ভরপুর।

“নির্বাচন চলাকালে প্রশাসন এবং সবকিছু নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকে। …ইউনিয়ন পরিষদ, মেয়র… সকল নির্বাচনই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। …নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয় সেজন্য যা যা করণীয় আমরা করেছি। …ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে যে ওয়াদা করেছিলাম তা রেখেছি। …কাজেই ভোটের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না।”

ভোটের অধিকার নিয়ে বিএনপির ছিনিমিনি খেলার অক্ষমতার উত্তর দিয়েছি। প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের হাতে ক্ষমতা থাকলে অর্ধেক ভোটার যাদের, তাদের এই বেহাল অবস্থা কীভাবে? সরকারের ধারাবাহিকতার জোরজবরদস্তিই বা কেন! নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানের পদ ছাড়তে খালেদাকে এতো ভয়ের কারণ! স্থানীয় নির্বাচনের সঙ্গে যারা জাতিয় নির্বাচনের তুলনা করে, আসলেই তারা রাজনীতির যোগ্য কিনা! ভাত ও ভোটের অধিকার প্রসঙ্গে, ১০ টাকা নয় চালের মূল্য ৮০ টাকার পথে এবং সেজন্যই মিয়ানমার থেকে ২ লাখ টন চাল আমদানীর ব্যবস্থা। সুতরাং রোহিঙ্গা ক্রাইসিস আরো যা প্রমাণ করলো, সুচিকে যারাই সৃষ্টি করেছে, তারাই ৫ জানুয়ারির অস্বাভাবিক সরকারের আবিষ্কারক। আমাদের সর্ববিষয়ে সাউথব্লকের একচেটিয়া প্রভাব বিএনপির রাডারে নেই। এরা ব্যস্ত পরিষ্কার পানিতে মাছ দেখার আনন্দে।

“খুন, হত্যা, লুটপাট, মানিলন্ডারিং এটাই মনে হয় তাদের চরিত্র।”

এই বক্তব্যেই প্রমাণ, বিডিআর থেকে ১৬তম সংশোধনীর রায়… আগুনে হাত দিলে সত্যিই হাত পোড়ে না আওয়ামী লীগের। প্রতিটি ঘটনাই ম্যানেজ করে ফেলে। যেমন ১৫তম সংশোধনীতে সই দেওয়া সিনহা তখন মহাত্মা গান্ধি, ১৬তম সংশোধনীর বেলায় তিনিই- খালেদা। ট্রাইব্যুনালের বেলায় এনবিআর-দুদকের প্রয়োজন হয়নি, হয়েছে বিচারকদের অভিশংসনের রায়ের বেলায়। এরই নাম আওয়ামী লীগ, যা চিনতে বারবারই ভুল করেছেন ম্যডাম জিয়া।

“২০১৪ সালে যে নির্বাচন করেছিলাম, তাতে স্পষ্টই দেখা গেছে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করে থাকে।”

বিষয়টি যেন, ঠাকুর ঘরে কে কলা খাই না। ২০১৪ সালে স্বাধীন নির্বাচন হলে, পরাধীন নির্বাচন কেমন, ২০১৯এর আগে স্পষ্ট করতে হবে। ক্রেমলিন স্টাইলে রাজনৈতিক মাফিয়া কবলিত নির্বাচনের রূপকল্পও পরিষ্কার করতে হবে। তা না করে যারাই হাত-পা বাঁধা বিএনপিকে সাঁতার প্রতিযোগতায় বাধ্য করে নিজেকে আবারো বিজয়ী ঘোষণায় অনড়, লেখাটি তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক।

কথায় বলে মরাকে মারিস না। মারতে মারতে বিএনপিকে রোহিঙ্গা বানিয়ে ফেললেও, থামার চি‎হ্ন নেই! ১৩ তারিখের সংসদে দুটো হৃদয়বিদারক ঘটনার একটি, ত্রাণ বিতরণে বাঁধা। অন্যটি, সংসদে সিনহা ও জিয়া পরিবারকে তুলোধুনো করা। সেখানে কথিত সাংসদদের ভাষা, বডিল্যাংগুয়েজ, শব্দচয়ন… জাতি সত্যিই শোকাহত। একজন প্রধান বিচারপতিকে গালিগালাজের মাধ্যমে যে বার্তাটি পাবলিককে দিলো, বিচারবিভাগকে অপমান করা যাবে, পক্ষে না গেলে রায় মানার কারণ নেই, পাবলিকও একইভাবে হট্টগোল করে বিচারবিভাগকে উড়িয়ে দিতে পারে…। সংসদে জিয়া পরিবারের নতুন অর্থ পাচারের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার থেকে পরিষ্কার, বৈধ কিংবা অবৈধ কোন নির্বাচনই হবে না বরং পলিটিক্যাল রোমান্স এবং শোকেস নির্বাচনের বাইরে যাবেন না হাইকমান্ড। এরপরেও ঘোলা পানিতে বিএনপির মাছ শিকার নিয়ে বাগাড়ম্বর কেন!

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উচ্চারিত প্রতিটি শব্দই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, জনজীবনে প্রভাব রাখে। বক্তব্যগুলোও সেই মাপেরই হবে। নির্বাচন হাতছাড়া হলে এইদফায় নির্মূল-নির্বংশ হওয়ার সম্ভাবনা তাদেরই মুখে। তাইতো দিশেহারাদের বাগাড়ম্বর, আসলেই যার সংবাদ মূল্য নেই। তারপরেও গুরুত্ব দিয়ে ছাপতে বাধ্য মিডিয়া। কারণ, ১৬তম সংশোধনীর রায় অনুযায়ী, অবৈধ সংসদের গণতন্ত্রহীনতার মধ্যে একমাত্র জিয়া-পরিবারকে গালিগালাজই অপমান থেকে রক্ষা করছে ক্ষমতাসীনদেরকে। এছাড়া, গণতন্ত্র প্রমাণের অন্য কোন ইস্যু হাইকমান্ডের হাতে নেই।

 

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

২৩ সপ্টেম্বের ২০১৭, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

 

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)