তিউনিশিয়ার সুশীলসমাজের নোবেলের আয়নায় বাংলাদেশ

October 22, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


একমাত্র জাতীয়তাবাদি এবং বৈধ বিরোধিদল, আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। জনগণ মরণ ঘুমে। বাকি থাকলো সুশীলসমাজ যারা নাকি বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাসের মাথামুড়ে ঘোল ঢেলে, এমনকি গলায় জুতোর মালাও পরিয়ে দিয়েছে। টকশো আর শহীমিনারের বাইরে কিছুতেই যাবে না। তাহলে গণতন্ত্র কী ফুরিয়ে গেছে? নাকি এক ব্যক্তির হাতেই গণতন্ত্রের শেষ বিছানা? এর মানে কী এই দেশে আর কোন বৈধ নির্বাচন হবে না?

মনে হচ্ছে সেটাই। দেশ-বিদেশে নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন, বিশেষ করে হাইকমান্ডের যে মানসিকতা থেকে আগ্রাসী বক্তব্য, সেই পথেই যাচ্ছে নির্বাচন। তবে উত্তোরণের পথ খুঁজতেই তিউনিশিয়ার জেসমিন রেভ্যুলেশনে সুশীলসমাজের ভূমিকা এবং শান্তির নোবেল নিয়ে লেখাটি।

নিউইয়র্কের গণমাধ্যমকে হাইকমান্ডের বক্তব্যের কিছু হাইলাইটস। “বিএনপির সঙ্গে কোন আলোচনা নয়। তারা কে যে, তাদের ছাড়া দেশ চলবে না? এমনকি কি ঠেকা পড়েছে, বিএনপিকে আনতে হবে?” ভোয়াকে, “যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে। …মানুষ তার পছন্দমত লোককেই নির্বাচিত করবে, আমরা দিনের পর দিন আন্দোলন্তসংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক ধারাটা আবার ফিরিয়ে এনেছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে, মানুষ ভোট দিতে পারছে, এটা আমাদের অবদান। …আমরা যে কাজ করেছি, তাতে যদি জনগণ খুশি হয়, ভোট দেবে, না হলে দেবে না। … নির্বাচন অবশ্যই অবাধ নিরপেক্ষ হবে। তা না হলে বিএনপি কি জিততে পারতো? বিএনপির আমলে কেউ কি জিতেছে…?”

সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে “বাংলাদেশি মাহাথির” বলেও সনাক্ত করে, সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আরো কয়েকটার্ম ক্ষমতায় রাখার দাবি তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার। এটাই যদি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের বক্তব্য হয়, এরপর এই বিষয়ে আর একটি প্রশ্নও নয়। বারবার ক্ষমতা না ছাড়ার বার্তা দিয়েই যাচ্ছেন, কিন্তু আমরা রোবট।

হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বনিকৃষ্ট উদাহরণ ১৫তম সংশোধনী। আর যদি কিছু নাও করে, তারপরেও টানা ক্ষমতায় এক ব্যক্তিই। সব মাছ তারাই ধরবে, অন্যকোন শিকারির পুকুরে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। তাছাড়াও প্রতি ৫ বছর পর, ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। সুতরাং বাধ্য হয়ে এক ব্যক্তিকেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় রাখার দায়িত্ব জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে সংশোধনী। সরকার প্রধানে থেকেই নির্বাচনের বাধ্যবাধকতাও কায়েম করেছে। পছন্দ না হলে, তাকে ছাড়াই নির্বাচন এবং সেটাও হয়েছে। এখানে কোনরকম আলাপ-আলোচনা সমঝোতার চেষ্টা বৃথা। কারণ, সাংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নাকি আওয়ামী লীগের নেই।

নিউইয়র্কে গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যের সারমর্ম। নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবে কিন্তু বিএনপিকে বাদ দিয়ে। ১) নির্বাচন থেকে জামায়াত নিষিদ্ধ। ২) এরশাদের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। ৩)  জাসদের কয়েক’শ। এর মানে জাসদকেই ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করার কথা বলছেন? এই প্রশ্নের কোন উত্তর তিনিও দিতে পারবেন না। তারপরেও উপস্থিত গণমাধ্যম এবং প্রবাসী বাঙালিদের ঠোঁটে রোবটের হাসি। অবশ্য আগ্রাসী বক্তব্যকে শামছুজ্জামান দুদু বলেছেন, “মিথ্যাচার।” দ্বিমতের সুযোগ নেই কিন্তু তারা তো মৃত। বিষয়টি দাঁড়ালো, ৫ জানুয়ারি এবং ৯২ দিনের আন্দোলন দুটোই বিএনপি করেছে এবং আওয়ামী লীগ তখন লক্ষ্মী ছেলে।

গণতন্ত্র যে মৃত্যুশয্যায়, কখনোই উপলব্ধি করেনি সুশীলসমাজ, এখনো না। এদের নিস্ক্রিয়তায় ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থাকবে ক্ষমতাসীনরাই। সুশীলদের রোবট ভূমিকায় অধিকাংশ মানুষই ত্যাক্তবিরক্ত। রাস্তায় নামা দূরে থাক, হাইকমান্ডের এক ধমকেই লোটাকম্বল নিয়ে উধাও। এরপরেও ইসির সঙ্গেই ধুমধারাক্কা? যদিও ড. ইউনুস থেকে ড. কামালদের মতো এমন অপমানিত বিশ্বের কোন দেশের সুশীলসমাজই হননি, তারপরেও, এক্টিভিজম বা একাডেমিক, প্রতিবাদের অধিকার চিরন্তন।

জুরিসপ্রুডেন্স বলে, কারো ইচ্ছাকৃত কু-মতলবে অন্যের ক্ষতি হলে সেটা ফেলোনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৫তম সংশোধনীর ৯৫ ভাগই কু-মতলব তাড়িত। কু-উদ্দেশ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান বিতাড়িত, যার ফলাফল ৯২ দিনের আন্দোলন। ৯২ দিনের জন্য শতভাগ দায়ী আওয়ামী লীগ কারণ, জেনেশুনেই তারা বিষপান করেছিলো। ১৩তম সংশোধনী বাতিল পরবর্তি যতো ক্ষয়ক্ষতি, আদালতকে কলুষিত না করলে, অনেকেরই দীর্ঘ মেয়াদি সাজা। কারো কারো বেলায় চরম শাস্তি কোন ব্যাপারই নয়।

৫ জানুয়ারির ভোটের মাঠে কুকুর-বেড়ালের উপস্থিতিই বেশি ছিলো (তথ্য-প্রমাণ ইন্টারনেটে)। বিরোধিদলকে ক্রেমলিন স্টাইলে নির্বাচন থেকে বের করে দিয়েছিলো। ১৬তম সংশোধনীর রায়েও অবৈধ সংসদ বিষয়ে বিচারকদের মতৈক্য। বেনআলীর স্বৈরাশাসন অবসান মাত্র ২৮ দিনে কিন্তু ৪ বছর ধরে বেহাত সংসদীয় গণতন্ত্র উদ্ধারে, কোন ভূমিকা দেখাতে পারলো সুশীলসমাজ? অন্যদিকে, তিউনিশিয়ার সকল মারমুখি দলকে সহিংসতা বন্ধ করে, সমঝোতার টেবিলে এনে, একমত হতে বাধ্য করেছিলো সেদেশের সুশীলসমাজ। সেজন্যই মার্কেল বা পোপকে না দিয়ে তাদেরকেই শান্তির নোবেল। আমরা কী কিছুই আশা করতে পারি না?

পারি না কারণ, আমাদের সুশীলসমাজের চেয়ে নিষ্ক্রিয়, স্বার্থপর এবং ভীতু পৃথিবীর কোথাও নেই। জ্ঞান্তেগুণে এলিট সত্ত্বেও মূর্খদের কাছেই আত্মসমর্পণ যেন অকাল বৈধব্যের মতোই হৃদয়বিদারক। ইস্যু পেলেই ভূতের আগুনের মতো হঠাৎ জ্বলে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে নিভে যায়। হাতে হাত ধরে ড. কামাল এবং ডা. বি. চৌধুরীরা ঐক্যের ডাক দিয়েই লোটাকম্বল নিয়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবারই মনে হয়েছে, এইবার কিছু হবে কিন্তু হয়নি। ড. ইউনুসের কথা কি বলবো! তিনি তো শান্তির নোবেল বোচকায় ভরে, গালিগুলি আর অশান্তি এড়াতে দেশ-বিদেশে পালিয়ে বেড়ান।

টিআইবি, এমনেস্টি, জাতিসংঘ মানবাধিকার, ইইউ, অধিকার, ১৬তম সংশোধনীর রায়… অগণিত অভিযোগকারীদের প্রত্যেকেই ভুল, একমাত্র হাইকমান্ডই নির্ভুল! এই মাত্রায় প্রতিক্রিয়াহীন রোবট-সুশীলসমাজের কারণেই ক্ষমতাসীনরা কিউবা-ক্রেমলিনের আকার ধারণ করতে পেরেছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যগুলো প্রায় সকল পত্রিকাতেই, নির্বাচনের বিরুদ্ধে যা রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণার সামিল। পিতা-মাতার খুনিদের সঙ্গে তিনি কোনরকম রাজনৈতিক সমঝোতায় যাবেন না। যারা কিনা খুনি এবং সন্ত্রাসী, তাদেরকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে আমার কোন ইচ্ছাই নেই। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় আমাকে আর কেউ প্রশ্ন করবেন না। যারাই এইধরনের চিন্তাভাবনা করেন, মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। রোবট থাকার সময় ফুরোবে কবে?

রাজনীতিতে কাউকেই প্লাস বা মাইনাসের ক্ষমতা সংবিধান তাকে দেয়নি। অতীতের ৪টি নির্বাচন যাদের সঙ্গে, খুন্তিসন্ত্রাসীর আভিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে সাংবাদিকেরাও রোবট? পাল্টা প্রশ্ন না করে, আবারো হলুদ সাংবাদিকতার প্রমাণ দিলো। প্রশ্নটি হওয়া উচিত ছিলো, কেন তারা আর এই প্রশ্নটি করতে পারবে না! অথচ এরাই কিন্তু ট্রাম্পের প্রতিটি পশমের খুঁত খুঁজে বেড়ায়।

নির্বাচন নিয়ে বাগাড়ম্বরের পেছনে যে গেইমথিওরি, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত সুশীলসমাজ তা জানে। এও জানে, সত্যেন বোস আর আইনস্টাইনের যুগ্ম থিওরির অধিকতর গবেষণা থেকেই কয়েকজন পদার্থ বিজ্ঞানী নোবেল পেয়েছেন। এই মাপের অধপতনের ব্যাখ্যা করতেই লেখাটি।

২০১৩ সনে চারস্তরের সুশীলসমাজ নিয়ে গঠিত ‘তিউনিশিয়ান ন্যাশনাল ডায়লগ কোয়ার্টেট’। ২৩ বছরের স্বৈরশাসক বেনআলী প্রশাসনের লাগামহীন দুর্নীতি, চরম বেকারত্ব, বিরোধিদের উপর ভয়ানক অত্যাচারের খবর উইকিলিকসে ফাঁস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাত্র ১১ মিলিয়ন মানুষের দেশের লাখ লাখ জনতার পপুলার আপরাইজের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের প্রো-ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট শুরু। রাস্তার আন্দোলনের মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ধরাশায়ী বেনআলী, পালিয়ে সৌদি আরব। (গত ৯ বছর ধরে বাংলাদেশি করাপশন, পানামপেপার্স, ব্যাংকলুট, প্রশাসনিক দুর্বৃত্তায়ন, স্বৈরাচারি নির্যাতন নিয়ে উইকিলিকসহ দেশে-বিদেশি গণমাধ্যমের রিপোর্টের সংখ্যা কত?)

যা ঘটেছিলো তিউনিশিয়ায়। ২০১০ সনের ১৭ ডিসেম্বরে মো: বুয়াজিদ নামের এক গরিব ভেন্ডার, তার উপর পুলিশী নির্যাতনের প্রতিবাদে, শরীরে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে প্রতিবাদ করলে, স্ফুলিংগের মতো ফুঁসে উঠলো তিউনিশিয়া। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বুয়াজিদের মৃত্যুর খবরে দাবানল আরো ছড়িয়ে পড়লো। প্রথম থেকেই এদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সুশীলসমাজ। অন্যতম হাতিয়ার, লেবার ইউনিয়নের ১ মিলিয়ন শ্রমিকের অসহযোগ আন্দোলন। ৯৫ ভাগ আইনবিদরাও আন্দোলনে। ছিলো ট্রেড ইউনিয়ন, হ্যান্ডিক্রাফটসহ নানান সংগঠনের লাখ লাখ কর্মী। জেসমিন রেভ্যুলেশনের উত্তাপে অচল তিউনিশিয়া- পালানোর পথ খুঁজছিলো বেনআলী। বিপ্লব থেকে ছড়িয়ে পড়া আরব বসন্ত তেমন সফল না হলেও, সফল তিউনিশিয়া। ইসলামপনি’ সরকার, বিরোধিদল এবং সেক্যুলার মুভমেন্ট গ্রুপের সবাইকেই এক টেবিলে বসিয়ে সমঝোতার দরকষাকষিতে সফল।

জুলাই ২৯, ২০১৩, সমঝোতার ৪ শর্ত:-

১)   ইনডিপেনডেন্ট টেনোক্রেটিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে  ক্ষমতাসীন ইসলামিক দলের পদত্যাগ।

২)   পার্লামেন্টারি নির্বাচনের জন্য সময় নির্ধারণ।

৩)   পুরানো সংবিধান শুদ্ধ করে নতুন সংবিধান।

৪)   গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি আনতে সবধরনের আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে সব দলের একমত।

ওই আলোচনাতেই মতৈক্য, ক্ষমতাসীনদের পদত্যাগ এবং ইন্টারিম প্রধানমন্ত্রীর হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। সেই মাফিক নতুন সংবিধান তৈরির পরেই নির্বাচনের প্রস্থতি। ১টি ছাড়া বাকি ২১টি দল এই প্রস্তাবে সই। লক্ষ্যে পৌঁছাতে মারমুখি দলগুলোর উপর ছিলো সুশীলসমাজের প্রচণ্ড চাপ।

৯ অক্টোবর ২০১৫ সনে কোয়ার্টেট-কে দেয়া নোবেল সাইটেশন থেকে “তিউনিশিয়াতে শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন আনতে কোয়ার্টেট-এর যে ভূমিকা,  স্বীকৃতি দিতেই শান্তির নোবেল। …সবচেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ, পুরষ্কারটি দেয়া হয়েছে তিউনিশিয়ার জনগণকে, যারা জাতীয় ঐক্যের জন্য একটি ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পেরেছে।  কমিটির আশা অন্যেরাও এখান থেকে অনুপ্রাণিত হবে।”

তিউনিশিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ১১ মিলিয়ন বনাম আমাদের প্রায় ১৭০ মিলিয়ন। তুলনামূলকভাবে আমাদের সুশীলসমাজের আকার-আয়তন বিশাল।

তিউনিশিয়ার মতোই আমাদের সুশীলসমাজও রাজনৈতিক দল নয়। তারাও মন্ত্রী-এমপি হবেন না। তবে এদের রোবট ভূমিকা, আওয়ামী-সামন্তবাদকে আরো উষ্কে দিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এদের শহীদমিনার, টকশো, মানববন্ধন… হৃদয়বিদারক। সময় শেষ হয়নি। এক্টিভিজম এবং একাডেমিক দুটোই চলতে পারে। তাছাড়াও ভারত-চীন্তরাশিয়ার মতো যেসকল পরাশক্তিরা আগুনে ঘি ঢালছে, সাম্রাজ্যবাদিদের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এখনই মুখ খোলা উচিত। দ্রুত বেদখল হচ্ছে খনিজসম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, ট্রেড ব্যালেন্সে আকাশ-পাতাল ফারাক। আরকান শূন্য করে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠাকারীরা ৯ বছর আগেই এদেশে ঢুকে পড়েছে। নাকের ডগায় উন্নয়নের মূলা ঝুলিয়ে দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিস্তার চলছে নিরবে। মিয়ানমার বিষয়ে দেশে-বিদেশে হাইকমান্ডের অবস্থানই নিখুঁত প্রমাণ। দৃশ্যত তিনি সুচির পক্ষে, কারণ চীন্তরাশিয়া-ভারত সূচির পক্ষে। হিসাব মেলানো মোটেও কঠিন নয়। ডিল্যুশনাল হাইকমান্ড এবং কল্পিত গণতন্ত্র পাশাপাশি চলতে পারে না। নির্বাচন নিয়ে মিথ্যাচারও আর চলতে দেয়া উচিত নয়।

যে প্রত্যাশায় শান্তির নোবেল দিয়েছিলো কমিটি, তিউনিশিয়ার আগেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি সেখানে পৌঁছে গেছে। তাসত্ত্বেও নিস্ক্রিয় সুশীলসমাজের সামনে দুটি পথ এখনো খোলা- ১) সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা। ২) লক্ষ্যে পৌঁছাতে এক্টিভিজম, একাডেমিক্স দুটোই চালিয়ে যাওয়া। প্রথমটা অসম্ভব। সুতরাং ড. ইউনুস, ড. আকবর আলী খান, ড. জাফরুল্লা চৌধুরি, ড. আসিফ নজরুল, নুরুল কবির… ওই স্তরের মানুষেগুলো রাস্তায় না নামা পর্যন্ত গণতন্ত্রের উত্তাপ ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ এদেরকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত প্রো-ডেমোক্রেটিভ মুভমেন্ট শুরু হবে না। এই শ্রেণির মানুষদের কারাবরণের মাধ্যমে উত্তাপ ছড়াবেই, গণতন্ত্রও আসবে। অতিসমপ্রতি বেনআলী এবং অন্যান্য স্বৈরাচারের পতন, এই শিক্ষাই দিলো।

সংবিধান কোন বিশেষ ব্যক্তিকে ক্ষমতা কিংবা ক্ষমতার ধারাবাহিকতা না দিলেও, সেটাই করছে। কোন ধারা কিংবা উপধারাই পারিবারিক শ্রেষ্ঠত্ববাদ, আবেগ-রাগ-অনুরাগ সংযোজিত না করলেও, সকলেই হাততালি দিচ্ছে। এটাই নিষ্ঠুর বাস্তবতা।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যতোখানি কৃতিত্ব আমজনতার তারচে’অধিক তিউনিশিয়ার সুশীলসমাজের। ১৬তম সংশোধনীর রায় ঠিক এইরকমই একটি সুযোগ এনে দিলো। সুশীলসমাজের দায়িত্ব এর সদ্ব্যবহার। কোয়ার্টেটের উদাহরণ কাজে লাগানো। “তবে এই দায়িত্ব পালনের ন্যূনতম লক্ষণ সুশীলদের মেন্যুতে নেই। বরং তারাই সংলাপে অংশ নিয়ে, ২০১৯ সনে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে, একনায়কত্বকেই উস্কে দিচ্ছে।”

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

১১ অক্টোবর ২০১৭,  নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)