রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টার অন্তরালে

October 25, 2017 in Article & Essays, Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


মাদার তেরেসা হওয়ার শতভাগ দায় বাংলাদেশিদের মাথায় চাপিয়ে, যারা রোহিঙ্গাদেরকে স্থায়ী করার চেষ্টা করছে! ক্রাইসিসের সঙ্গে ৭১এর কিছু বিষয় প্রাসঙ্গিক। সকলেই পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকতে চায়।

৭১এর ১ কোটি শরণার্থীর ৮০ ভাগ হিন্দু, শহীদদেরও ৮০ ভাগই হিন্দু। ৩ লক্ষ নাকি ৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা নিয়ে যে বিভ্রান্তি, ১৯৭১ থেকে ২০১৭এর জরিপ অনুয়ায়ী (১৩.৫ মিলিয়ন বনাম ৭.৫) প্রায় ৬ মিলিয়ন হিন্দুর আজব্দি হদিশ হয়নি। ৭১এর শরণার্থী আমিও। দেখেছি, বারবার যুদ্ধ-দাঙ্গায় ক্লান্তরা অনেকেই নিরাপদ জীবনের সন্ধানে ভারতেই থেকে গেছে, এখনো যাচ্ছে। অনেকেই ফিরে এসে দখল না পেয়ে অথবা পানির দামে বেচতে বাধ্য হয়ে চলে গেছে। অন্যদিকে, ৪৬ বছরের পরিত্যাক্ত বিহারীদের অধিকাংশই স্বদেশে ফিরতে উদগ্রীব কিন্তু স্বদেশ তাদের ত্যাগ করেছে। আরাকান জুড়ে সুচির যে মহাপরিকল্পনা, হলাকস্টের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পই যার একমাত্র তুলনা…। জেনেশুনে কিছুতেই মৃত্যুর মুখে ফেরত যাবে না রোহিঙ্গারা। (দ্র: মানবজমিন ২৩ অক্টোবর, যুগান্তর ২২, রোহিঙ্গা সম্পর্কিত আর্টিকেল।)

ফাইন প্রিণ্টগুলো পড়তে হবে। এতো বেশি মানবতা দেখাতে গিয়ে যে বিরাট ভুল, “ভুল নাকি অন্যকিছু?” মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের ইকোনোমিক ডেভলপমেন্টের কোনকিছুই সন্দেহ এবং ষড়যন্ত্রের বাইরে নয়। মনে হচ্ছে, ক্ষমতাসীন এবং পরাশক্তিরা মিলেমিশেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের পথের কাঁটা। প্রত্যাবর্তনকেই প্রায়রিটির বদলে ত্রাণ সহায়তাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে, সুচিকেই সমর্থন দিচ্ছে। আর ‘পাশে’ আছে বলে বন্ধু রাষ্ট্র সম্পর্কে জনগণকে ধোকা মারছে।

প্রথমে বললো, ঢুকতে দেবে না। হঠাৎই ভাত ভাগাভাগি করে খাওয়ার ঘোষণায় পুরো পরিস্থিতি ওলটপালট। যেন স্বজ্ঞানেই দেশটাকে আগুনের চুলার উপর বসিয়ে দিলো। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিয়ানমারকেই চীন-রাশিয়া-ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা হাইকমান্ড জানেন। তারপরেও ভয়ানক দুর্যোগ চাপিয়ে দিলো কেন? অরাজকতার মধ্যেই তথ্য উপদেষ্টার দাবি, মালয়েশিয়া হতে চাইলে তার মাকেই আরো ২০ বছর ক্ষমতায় রাখতে হবে। প্রশংসার ব্যুলিকে ক্ষমতা দখলের কাজে ব্যবহার করছে। খবর, বিশ্বের সবচে’ বড় রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাংলাদেশে! ওয়াশিংটনে মুহিতের চিৎকার, মিয়ানমার আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চায়। বিষয়টি দাঁড়ালো, রোহিঙ্গার বোঝা জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়ে সুখে থাকা আওয়ামী লীগ, সাপও মারবে না, লাঠিও ভাঙ্গবে না।

টকশো স্টার সুলতানেরা সুষমার বক্তব্যের ফাইন প্রিণ্ট পড়তে অক্ষম। বক্তব্যের সারমর্ম, “আরাকানে ইকোনোমিক ডেভলমপেমন্ট দ্রুত বাস্তবায়নের মধ্যেই সব সমপ্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।” সুষমার গাজার নৌকা পাহাড় বায়। ২০০৮ থেকেই সুচির পরিস্থিতি বাংলাদেশকেও, (বিতাড়ন ক্রাইসিস বাদে)। দুই দেশেরই ইকোনোমিক ডেভলমপেমন্ট, ২ বছরের শিশুর গলায় কৈ মাছের পাথালে কাঁটা। আওয়ামী লীগ মাঝপথে, সুচির যাত্রা শুরু।

ব্যবসায়ীদের নিয়ে আরাকানে অর্থনৈতিক জোন গড়ার পরিকল্পনায় সুচি এবং ব্যবসায়ীদের জমজমাট পার্টি (যুগান্তর ২২ অক্টোবর)। রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার অবস্থা কোথায়? আমি তো দেখছি না। সুচির উদ্দেশ্য পরিষ্কার। যাচাই-বাছাই শেষে হিটলারের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে।

সাপ্তাহিকের সম্পাদক একেবারে উলঙ্গ করে ছাড়লেন। তার প্রশ্ন- সুচিকে ভালো মানুষ হিসেবে ‘সংবেদনশীল’ মানুষ বানানোর সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব কেন নিলো পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়? ১২-১৪ লাখ রোহিঙ্গার চাপ কাধে সুচির ভাবমূর্তি উন্নয়নের দায়িত্ব পালন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। আরসার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ২৪ আগস্টের কোন প্রমাণ বা তথ্য নেই।

নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বন্ধুত্বের নামে শত্রুর বলয়ে আবৃত্ত ক্ষমতাসীনরাও ক্রাইসিসের অন্যতম পার্টি। উন্নয়নের পাগলামোতে অদম্য এরা, ম্যানহলের ঢাকনাটুকু দিতে অক্ষম? শত্রু কিভাবে বন্ধু হয়? ৭১এ নিরাপত্তা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে চীনের ‘না’, রাশিয়ার ‘হ্যাঁ’ ভোট। ২০১৭তে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে উভয়ের ‘হ্যাঁ’ ভোট। দুই ক্রাইসিসেই দিল্লির বন্ধু রাশিয়া এবং বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ ও মিয়ানমারের পক্ষে চীন-রাশিয়ার ভেটো। তিন পরাশক্তির এহেন পরস্পর বিরোধি অবস্থানে জনমনে আতঙ্ক- “ক্ষমতাসীনরা ভূয়া বন্ধুত্বের শিকার।”

 

যেখানেই খনিজসম্পদ, সেখানেই ভালচারের দল, সেখানেই ক্রাইসিস। কর্পোরেট ট্রায়াঙ্গেলে সর্বশেষ বলি- রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠি। উত্তর অনেক, প্রশ্নের অভাব। পুঁজিবাদ যারা বোঝে না, রোহিঙ্গা আলোচনা তাদের জন্য অসম্ভব।

মূল ক্রাইসিস ট্রানজিট, খনিজসম্পদ এবং ক্ষমতা। ভৌগোলিক কারণে আফ্রিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত চীনের ওয়ানবেল্ট-রোডওয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ। পুঁজিবাদের এই রাস্তা খোড়াখুঁড়ির উদ্দেশ্য মার্কিন ব্লকের বিরুদ্ধে চীনপনি’ নতুন শক্তির অভ্যুত্থান, যার কেন্দ্রবিন্দুতে বঙ্গোপসাগার। মিয়ানমার এবং চীন যমজের মতো। চীন-ভারত চরম শত্রু। এই যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান ছাগলের ৩ নম্বর বাচ্চার মতো। আরাকানে যা ঘটছে, সবকিছুতেই ভারতপন্থি-চীনপন্থিদের অঢেল টাকা। নিষেধাজ্ঞা দিলেও কিছুই হবে না। ত্রাণ পাঠাবে কিন্তু নিষেধাজ্ঞা তারা দেবে না। সুতরাং অগণিতকাল ভাত ভাগাভাগি করে খাওয়াতেই হবে।

এজন্যই তৈরি করছে- হাসপাতাল, হাজার হাজার টয়লেট, স্কুল, শিশুপল্লি, এতিমখানা, ত্রাণসামগ্রী, বাসস্থান…। বাধ্য হয়ে বিহারীদের মতোই মেইনস্ট্রিমে পৌঁছে যাচ্ছে রোহিঙ্গারাও। অর্থাৎ রোহিঙ্গা সমস্যা শুধুমাত্র রোহিঙ্গা নয়।

 

ভাত ভাগ করে খাওয়ার ঘোষণাটি শতাব্দির সেরা উস্কানিতে পরিণত হয়েছে। হাইকমান্ডের উদারতাকে রোহিঙ্গা বিতাড়নে ব্যবহার করছে হুন্তা এবং ভারতীয়রা। রোহিঙ্গাদের মধ্যে রব- চলো চলো বাংলাদেশ চলো। সুতরাং মানবতার ঘোষণাটি রীতিমত অভিশাপে রূপ নিয়েছে। ঢল নামাচ্ছে হুন্তারা, সঙ্গে সঙ্গে গণভবনে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখে মানবতার মলম থেরাপি? প্রশ্ন, তারা কেন কিছু রোহিঙ্গা অন্য দেশে পাঠাচ্ছে না?

আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারো সাথে যুদ্ধ নয়- সকলের সঙ্গেই বন্ধুত্বের পররাষ্ট্রনীতি! তাহলে এতো অস্ত্র কিনছে কেন? মূলত মধ্যপ্রাচ্যের শাসকেরা যা কেনে, সেগুলোই কিনে বহুবার হেডলাইন হয়েছে। ২৫৬ মিলিয়ন ডলারের দুটি সাবমেরিন ক্রয়। ২০১৩ সনে রাশিয়ার সঙ্গে ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি। ভারত এবং চীনের সঙ্গেও রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র ক্রয়। তিন শক্তি মিলে ঋণে ডুবিয়ে অস্ত্র বিক্রির প্রতিযোগিতায় পাগলই হয়ে গেছে। প্রশ্ন, বন্ধুত্বের সংজ্ঞা কী? ১৯ বার আকাশ সীমা লংঘনের পরেও শক্তি প্রদর্শনের বদলে যৌথ অভিযানের বাহানা কেন? শত্রুরা বন্ধু হলে- সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ কিনলো কেন?

আরকানে ভারতপনি’-চীনপনি’দের ভূমিকা এতো কম জানলে চলবে? ধমক খেয়ে নাটের গুরু নিত্যানন্দ জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই লুঙি পাল্টেছে। ভেটো পাওয়ারদের চাঁদা এবং নির্দেশনার শেকলে বন্দি সংস্থাটি। যখন এরা প্রশংসায় নামে, বুঝতে হবে, ডালমে কুচ কালা হ্যায়।

 

বন্ধুত্বের ফাইন প্রিন্টঃ-

-এথনিক ক্লিনজিং চলাকালীন সুচির সঙ্গে সাক্ষাত করে মিয়ানমারকে পূর্ণ সমর্থন মোদির। -অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা না দেয়ার ঘোষণা আমেরিকার। -মার্কিন মিডিয়াতে রোহিঙ্গা অনুপস্থিত। -চীন-রাশিয়ার ঘোষণা, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। ত্রাণ সহায়তা দেবে কিন্তু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের পক্ষে থাকবে পরাশক্তিরা। -এথনিক ক্লিনজিং ধামাচাপা দিয়েছিলো মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রতিনিধি রেনেটা লক। -ইইউ রাষ্ট্রদূতের ঘোষণা, মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টিতে সীমাবদ্ধতা আছে। -পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের মন্ত্রীর মুখে রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি যেন বিহারী বিষয়ে ভুট্টোর প্রত্যাবর্তন…

 

একনজরে কর্পোরেট ষড়যন্ত্র-

২৮/৯/২০১৭ বিবিসি নিউজের জোনাহ্‌ ফিশার। “হুন্তাদের পরামর্শে নির্যাতিত এলাকা পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে বাধা এবং দুর্ভিক্ষের খবর গোপন রেখেছিলেন জাতিসংঘের এই প্রতিনিধি।”

নয়াদিগন্ত ২৯ অক্টোবর, চীন-রাশিয়ার বিরোধিতায় সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ। ১৪ অক্টোবর, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে অবস্থিত বিদেশি কুটনীতিকরা নিরব।

বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৪ অক্টোবর- তোফায়েল আহমেদ, “ইপিজেড করতেই রোহিঙ্গাদের তাড়াচ্ছে মিয়ানমার।” (এতোক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে? ক্ষমতাসীনদের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যাখ্যা কী?)

ইত্তেফাক ১৮ অক্টোবর- “একদিনেই ৫০ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ।” (অনুপ্রবেশ শব্দটি সন্ত্রাসী বা গুপ্তচর। প্রকৃত শব্দ শরণার্থী। ২০১৬ সনেও ১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঢুকেছে কিন্তু ক্ষমতাসীরা চুপ।)

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ১৮ অক্টোবর- মিয়ানমারের উপর জাতিসংঘের স্টেটমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে চীন-রাশিয়া। গণহত্যা চলাকালে তৈরি রিপোর্টটি ব্লক না করলে পরিস্থিতি হয়তো নিয়ন্ত্রণে থাকতো।

২৯ সেপ্টেম্বর, খ্রীষ্টিয়ান সাইন্স মনিটর- রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভক্ত নিরাপত্তা পরিষদকে চীন-রাশিয়া মিলে বলেছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নয়, পক্ষে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ ইন্সষ্টিটিউট অব ইণ্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র সচিবের ১০ অক্টোবরের বক্তব্য- “২০০৮-০৯তে যখন এই বিষয়ে কাজ করছিলাম, তখন বলেছিলাম, রোহিঙ্গা সমস্যা যেকোন সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে… গত বছরের শেষদিকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন পাঠালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছু সুপারিশ নাকচ করে বলেন, ‘এগুলোর সময় এখনো আসেনি।’ … টিক চি‎হ্ন দিয়ে বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার নির্দেশ। …গতবছরেই বুঝতে পারি, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার।”

১৬ অক্টোবর, গার্ডিয়ান্ত “মিয়ানমারের অনুরোধে খবর গোপন করেছে জাতিসংঘ।” (বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি লিখছে গার্ডিয়ান পত্রিকা।)

“রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুসইন করছে ভারত” -১৯ অক্টোবর, নয়াদিগন্ত।

ইত্তেফাক ১৭ অক্টোবর, চীনের দ্যা গ্লোবাল টাইমস-এর বরাত দিয়ে যা লিখেছে, ষড়যন্ত্রের সূক্ষ্ম বার্তা। ফাইন প্রিণ্ট যারা পড়তে পারে না, রাজনীতি তাদের জন্য নয়। “রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টায় ভারত-চীন যৌথভাবে নের্তৃত্ব দিতে পারে। বেইজিং ও নয়াদিল্লির স্বার্থ বজায় রেখে, দেশ দুটি রাখাইনে ত্রাণ পাঠাতে, বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা শরণার্থী পুর্নবাসনে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সহায়তা দিতে পারে।”

 

কন্সপিরেসির আরো নমুনাঃ-

১) আগস্টের ঘটনা যখন অক্টোবরের বিভীষিকা, সেই অক্টোবরেই কিনা মিয়ানমার থেকে প্রায় ২ লাখ টন আতপ চাল ক্রয়? ২) ভারতের সঙ্গে আরো ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি (সর্বমোট ১৪ বিলিয়ন)! ৩) চীনাদের দিয়ে পদ্মাসেতুর স্প্যান উদ্বোধন এবং বিনিয়োগ বৈঠক (সর্বমোট ৩৬ বিলিয়ন)! ৪) বিতাড়িত প্রধান বিচারপতির পরেই হুন্তাদেরকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেয়া রাশিয়ার প্রধান বিচারপতির সুপ্রীম কোর্ট পরিদর্শন এবং সমঝোতা চুক্তি… ফাইন প্রিণ্টগুলোই আসল।

 

হিটলারের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের আরো প্রমাণ। বিদেশিরা করলেও “গণহত্যা” শব্দটি কিছুতেই ব্যবহার করলো না হাইকমান্ড। সংসদেও সুচিকে অসহায় প্রমাণের চেষ্টায় ডেসপারেট। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে সুচির সংবেদনশীলতার সাফাই। ‘পাশে’ থাকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো। ‘যাচাই-বাছাই’ শব্দ দুটি বাদ দিয়ে সুচির ভূয়া আশ্বাসের প্রশংসা।

“এগুলোর সময় এখনো আসেনি”- পররাষ্ট্র সচিবের বক্তবে ‘এগুলো’ বলতে কী বুঝিয়েছে? রোহিঙ্গাদের ঢল নামার আশংকা থেকেই কি সুপারিশগুলোকে নাকচের ইঙ্গিত ‘এগুলো’? ২০১৬ সনেও প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গার প্রবেশ।

মানবতা দেখাতে গিয়ে, যে শূলে চড়ালেন হাইকমান্ড, দ্রুত এর ব্যাখ্যা প্রয়োজন। মলম থেরাপিস্টদের কেউই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে প্রমাণ করলো, রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে স্থায়ী করতেই মাছের মায়ের কান্নাকাটি। ১৮ অক্টোবর ইইউ দূতের দুটি বক্তব্যে মিলিয়ন ডলারের উত্তর।

মানবজমিন ১৯ অক্টোবর- “…রোহিঙ্গা সংকটে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সময় লাগবে। তার মতে এ সংকট নিরসনে রাশিয়া, চীন ও ভারতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মিয়ানমারে চীনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের বিষয়টি সংকট সমাধানে যে কোন উদ্যোগের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিচ্ছে।”

নয়াদিগন্ত ১৮ অক্টোবর- মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টিতে সীমাবদ্ধতা আছে। -ইইউ রাষ্ট্রদূত। “এই ভুমিকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়েছে। এজন্য আমরা রাখাইন সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদে অনেক প্রস্তাবই পাশ করতে পারিনি। এর সাথে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। চীনের বেল্ট এণ্ড রোড উদ্যোগে মিয়ানমার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এসব কারণে মিয়ানমারে মানবাধিকারের চরম লংঘন ও জাতিগত নির্মূল অভিযান চলার পরেও আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দ্বিধাগ্রস্ত।”

অতএব হিন্দু, বিহারী, রোহিঙ্গা… ক্রাইসিসের রং এক। প্রতিটি ঘটনাই আওয়ামী আমলে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আওয়ামী বন্ধুদের অবস্থান, ৭১এর পাকিস্তানের মতোই নৃশংস্য। ৭৩এর চুক্তি অনুযায়ী ফেরত নেয়ার আগেই প্রায় ১ লক্ষ যুদ্ধবন্দিদের ফেরত। পররাষ্ট্রনীতি আওয়ামী লীগকে দিয়ে হবে না। হিন্দু এবং বিহারীদের পর রোহিঙ্গারাও প্রমাণ করলো, আওয়ামী লীগ রাজনীতি বোঝে না।

সারমর্মঃ-

বিহারীরা এখনো ফেরত যেতে চায়। হিন্দুদের আত্মা ভারতে, দেহ বাংলাদেশে। সুচির কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে কিছুতেই ধরা দেবে না রোহিঙ্গারা। বরং পরিবার-পরিজন নিয়ে বাংলাদেশেই নিরাপদে থাকতে চায়। আর সেটাই সফল করতে যেন পরাশক্তিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আওয়ামী লীগ।

 

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

২৫ অক্টোবর ২০১৭,  নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

 

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)