রাজনীতিতে মিসির আলী

November 6, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


যে পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আয়োজন হচ্ছে, বেগম জিয়া কিছুতেই ক্ষমতায় যেতে পারবেন না। সুষমাদের বার্তা পরিষ্কার, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। কৌশলে আবারো হাসিনাকেই ক্ষমতায় রেখে এই দফায় এরশাদের সিটে খালেদাকে বসিয়ে ৫ জানুয়ারিকে শুদ্ধ করবে। অন্যথায় হামলা-মামলায় জর্জরিত নেত্রীর গন্তব্যস্থল কোথায়, সকলেই জানে। রহস্যমানব মিসির আলীতে যাওয়ার আগে নোবেলপ্রাপ্ত গেইমথিওরির উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক।

গাড়ি চুরির অপরাধে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশের মনে হলো, এরা ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গেও যুক্ত। দুইজনকে আলাদা কক্ষে নিয়ে বললো- ১) ব্যাংক ডাকাতি এবং গাড়ি চুরি স্বীকার করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড। ২) একজন যদি ব্যাংক ডাকাতি স্বীকার করে, তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড। যে করলো না, তাকে ১০ বছর।

দুইজনের জন্যই নিরাপদ, ব্যাংক ডাকাতি অস্বীকার করে গাড়ি চুরির জন্য ২ বছরের সাজা। যেহেতু উভয়ের স্বীকারোক্তি গোপন, অন্যজনের ভয়ে এমনকিছু বললো, যেজন্য উভয় চোরের ১০ বছরের কারাদণ্ড হলো।

দরকষাকষির জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে গেইমথিওরির ব্যবহার অনিবার্য।

উদাহরণস্বরূপ, স্টকের উর্ধগতি দেখে লোভের বশবর্তী হয়ে না বুঝেই শেয়ার কেনার ১ মাস পর মূল্য অর্ধেকে নামলে, কেঁদেকেটে বলবে, সর্বনাশ! কেন কিনেছিলাম? বিশেষ করে “মার্জিন ঋণ” নিয়ে স্টক কিনলে ক্রেতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্টক বিক্রি করার ক্ষমতা রাখে লগ্নিদানকারী প্রতিষ্ঠান। এর নাম “মার্জিন কল।” আর এই কলেই আটকে আছে দুইনেত্রীর রাজনীতি। যখন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা, স্টক কিনছে, বিক্রি করছে মিসির আলী প্রভাবিত পররাষ্ট্রনীতি।

প্রণববাবুর বহুল আলোচিত বই থেকে- “তখন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ… ক্ষমতায় গেলে তাকে বরখাস্ত করতে পারেন শেখ হাসিনা, এ নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিলাম। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর, ওই জেনারেলকে পদে টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিলাম… বেশ কয়েকবছর পর, জেনারেল মঈনের যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার পথ সহজ করে দেই, তখন তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। …শেখ হাসিনা (আমার) ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু। ….২০০৮ সালে জাতিয় নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হলেন শেখ হাসিনা।” কাকুর স্বীকারোক্তি, নির্বাচনের আগেই জানতেন, ভাতিজিই ক্ষমতায় যাবেন!

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই মিসির আলীর জন্য হয়তো কোন হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্টি হবেন না কিন্তু রাজনীতিতে মার্জিন কলের প্রভাব থাকবে অন্তত ৫০ বছর। তার লেখাতেই প্রমাণ, আমাদের রাজনীতি কেন আমাদের হাতে নেই। কাদের ইশারায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটার পর একটা ধ্বংস করছে ক্ষমতাসীনরা। দফায় দফায় হেভিওয়েট রাজনীতিবিদদের ঢাকা সফর এবং আভ্যান্তরীণ বিষয়ে বেহাল্লাপণায় ২০১৯এর নির্বাচন নিয়ে আর সন্দেহ থাকবে কেন? অক্টোবরেই তিন হেভিওয়েট নেতার সফর। মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, বাংলাদেশ কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ হলো?

“ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে দিল্লি”- ৫ জানুয়ারির আগে মার্জিন কলারদের এই বক্তব্যের পর, পরবর্তীতে টার্গেট ২০১৯। শুধুমাত্র ১৯৯১এর নির্বাচন বাদে, অন্যকোন নির্বাচনই আমাদের হাতে ছিলো না। প্রটোকল ভেঙ্গে ২০১৭ সনে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির কিচেনে আগামী নির্বাচনগুলোর সর্ষে ইলিশ পাকিয়ে কাকা-ভাতিজির ভোজের খবর মিডিয়ায়। প্রশ্ন, আমাদের রাজনীতি কেন মিসির আলীদের কিচেনে?

সাউথব্লকের অবস্থান বুঝতে আওয়ামীপন্থি পত্রিকায় স্বদেশ রায়ের লেখাটিই যথেষ্ট। “…তারেক রহমানকে তারা কখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় না। …তারেক রহমানকে চালায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকজন। …দিল্লির নীতিনির্ধারকরা খুব ভালোভাবে জানেন, বিএনপির কোনভাবেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর হাত থেকে বের হয়ে আসার উপায় নেই। …খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেই আইএসআই ও আইএস মিলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার হুমকিস্থলে পরিণত করবে। …জঙ্গিমুক্ত সাউথ এশিয়ার জন্য শেখ হাসিনাই একমাত্র অনিবার্য নেত্রী। …বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়, ভারত ও আমেরিকা কারো পক্ষেই বেগম জিয়াকে কোন ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এই সিগন্যাল দিয়ে গেলেন বিএনপিকে সুষমা স্বরাজ।  …শেখ হাসিনার মতো নেতা পাওয়ার পরে ভারতের জন্য বিকল্প কোনকিছু চিন্তা করার কোন সুযোগ নেই। সেটা আবারো প্রমাণিত হলো সুষমা স্বরাজের সফরের মধ্য দিয়ে।” বার্তা পরিষ্কার, বিএনপি জোট সন্ত্রাসী নির্ভর দল। ক্ষমতায় থাকবে হাসিনাই। কতোটুকু সতর্ক বিএনপি?

 

যখন এক সপ্তাহ আগের ঘটনাই মনে রাখতে পারছে না, ৪ বছর আগের ঘটনা মনে রাখবে কেন? খালেদার উচিত, ৫ জানুয়ারির ঘটনা বারবার মনে করিয়ে দেয়া। অন্যথায় আগামীর ৫ বছর বিএনপির জন্য হতে পারে ক্রেমলিন-কিউবার মতো ভয়ংকর, যেখানে বিরোধিদলের মাথায় বন্দুক। সুজাতা সিং-এর হস্তক্ষেপে তখন যা ঘটেছিলো, অধিকাংশই ভুলে যাওয়ার কারণ, ক্রাইসিস ঢাকতে ক্রাইসিস সৃষ্টি করে, স্মৃতিশক্তিতে ধ্বংস নামিয়েছে।

এরশাদকে বাধ্য করতে সেদিন যা বলেছিলেন সুজাতা সিং- নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে আপনাকে আসতেই হবে। আপনি না এলে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় যাবে এবং জামায়াতের উত্থান হবে। আপনি কি তাই চান?

২৬ ঘণ্টা আত্মগোপনে থাকার পর গণমাধ্যমে সব খবর ফাঁস করে দেয়া এরশাদকে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলে, জোরজবরদস্তি সিএমএইচ-এ নিয়ে গওহর রিজভী থেরাপি। ২০১৯কে কেন্দ্র করে আবারো হেভিওয়েটদের বেহাল্লাপনায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের গায়েবানা জানাযা নিশ্চিত।

প্রচণ্ড কৌতুহল, নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানে থাকার রহস্য কী? না থাকলে কী হবে? তাকেই কেন সরকার প্রধানে থাকতে হবে? তাকেই সরকার প্রধান রাখতে মিসির আলী  প্রভাবিত বিদেশমন্ত্রীর সায় কেন? ক্ষমতাসীনরা যা চায় সকলেই জানে। কিন্তু প্রশ্নগুলোর জবাব পেতেই হবে।

২৫ অক্টোবর, মানবজমিন- “ম্যাসেজ লাউড, নট ক্লিয়ার।” আর্টিকেলে উল্লেখিত সুষমার দুই বার্তা- ১) ভারত বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায়। ২) অন্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও তেমন হলে ভারতের আপত্তি নেই।

২৬ অক্টোবর, মানবজমিন- “অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে হ্যাঁ, সহায়ক সরকারে না।” হাসিনার অধীনে নির্বাচনে বিএনপির আপত্তিকে কেন্দ্র করে সুষমার বার্তা- “দিল্লির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এমনকোন কনসেপ্ট ভারতের রাজনীতিতে নেই। ভারতে নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন, সে সময়ও সরকার থাকে, তারা রুটিন কাজের বাইরে কিছু করতে পারে না।”

সুষমা বলছেন, -নির্বাচনকালীন সরকারে হাসিনাই থাকছেন। -সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে খালেদার অংশ নেয়া উচিত।

বক্তব্যটি নিয়ে মিডিয়াতে ভিন্ন বিশ্লেষণ থাকলেও, ম্যাসেজ ক্লিয়ার- “হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে খালেদা থাকছেন।”

সাবেক সিইসি বিচারপতি রউফের বক্তব্যে সব প্রশ্নের উত্তর। “সরকারি কর্মচারিদের দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।” নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে সরকারের সবরকম প্রভাবমুক্ত হওয়ার সুপারিশ ইসিকে।

বিএনপি মহাসচিব, “সেনা মোতায়েন করবেন না, সহায়ক সরকার করতে দেবেন না, সংসদও বহাল রাখবে, তাহলে নির্বাচন করার দরকার কি?”

২ মাস ধরে ইসিকে মেজরিটির বক্তব্যের সারমর্ম:- সরকারি কর্মচারিদের দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। অর্থাৎ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন নয়।

তাসত্ত্বেও তালগাছটা আওয়ামী লীগেরই। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এইদফায় উভয়পক্ষের গেইমথিওরিতে কিছুটা পরিবর্তন। যেমন এরশাদের জায়গায় এবার খালেদা। যেকোন উপায়ে খালেদাকে সংসদে এনে, হাসিনাকে বৈধ করতে ৪টি কারণ। ১) ৫ জানুয়ারির অবৈধ পার্লামেন্ট নিয়ে পশ্চিমাদের দারুণ অস্বস্তি। ২) পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে দিলে, এমনকি হাইকমান্ডের নিজের সিটেও ধ্বস। ৩) ষোড়শ সংশোধনীর রায় অনুযায়ী ৪ বছর কোন বৈধ সরকার নেই। ৪) বৈধ সরকার না থাকায়, যে ধরনের অস্থিরতা বিরাজমান, খালেদার জনপ্রিয়তার উর্ধগতিতে  দিল্লির ঘুম হারাম।

সেটা রুখতেই, হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার বার্তা, খালেদাকে দিয়ে গেলেন সুষমা। আঞ্চলিক আধিপাত্যবাদ রক্ষায় চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে শক্তিশালী করছে পশ্চিমারা। আমাদের নির্বাচন তারই শিকার।

খালেদাকে বিরোধিদলে বসাতে এবার পশ্চিমাদের চাপের আরও কারণ- অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের নিস্পত্তি কিছুতেই হতে দেবে না। সিনহাকে জোরপূর্বক বিদেশে না পাঠালে, সংসদ ভেঙ্গে দিতো। নেওয়াজ শরীফকে বরখাস্ত করার রেফারেন্স ওই রায়ে যা ক্ষমতাসীনদের হৃদপিণ্ডে রক্ত ঝরাচ্ছিলো। সুতরাং জোরজবদস্তি ক্যান্সার রোগি বানিয়ে সিনহাকে বিতাড়নে বিরাজমান অস্থিরতার মধ্যে নির্বাচন হতে পারে ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী উদাহরণ। তা হতে দিলে, পুঁজিবাদিদের স্বার্থে বড় ধরনের আঘাত আসবে। অবৈধ সরকার জোরজবরদস্তি নির্বাচন দিলে সেই সরকারও হবে অবৈধ। অবৈধ বিধায় নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানে থাকার বিধানও আসতে হবে সুপ্রীম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে। সুতরাং কোন ঝুঁকিই বিনিয়োগকারীরা নেবে না। উভয় সংকটে বিনিয়োগ, বিনিয়োগকারী এবং মার্জিন কল।

 

এই ঘটনায় আরো যা প্রাসঙ্গিক। মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্প-রাশিয়া কানেকশন নিয়ে তদন্ত চলছে। বিরোধি নেতা হত্যার দায়ে ভুট্টোর ফাঁসি। ভোট চুরির দায়ে ইন্দিরার জেল। গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোন গঠনতন্ত্র গ্রহণযোগ্য করেনি বলেই, ৭৫এ চরম মূল্য দিলো আওয়ামী লীগ। আবার তদন্ত দূরে থাক, ৫ জানুয়ারির অপরাধীরাই ৪ বছর ক্ষমতায়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাঁধা দিলে শাস্তি পেতে হয়। গণতন্ত্রের সংজ্ঞা এক এবং ব্যবহারও এক। তা সত্য হলে ট্রাম্প-রাশিয়া তদন্তের মতোই ৫ জানুয়ারিরও তদন্ত সাপেক্ষে বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি হওয়া জরুরি। অন্যথায় আগামীতে ভূয়া নির্বাচন ছাড়া কিছুই হবে না। গণতন্ত্রের মড়কও কেউ থামাতে পারবে না।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্পেশাল প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে ক্যাপিটল হিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের সবচে’ ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কিন্তু “সিনহা বানানোর ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে নেই। বরং স্পেশাল প্রসিকিউটরের হাতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাই এখন টালমাটাল।” প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করে, ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের দুই হেভিওয়েটকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করলেন প্রসিকিউটর। অতীতেও নিক্সনকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলো, কংগ্রেস। “বিচার প্রক্রিয়াকে সিনহা বানানোর ক্ষমতা তারও ছিলো না, যেমন ছিলো না নেওয়াজ শরীফেরও। সুতরাং লক্ষগুণ অধিক অপরাধে অপরাধী ৫ জানুয়ারি ব্যতিক্রম কেন?” আমাদের নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিলো দিল্লি।

ভোটের বাক্সে হস্তক্ষেপ করেনি ক্রেমলিন। শুধুমাত্র নির্বাচনী আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলেছিলো। নির্বাচন আমাদের, মাথাব্যথা কাদের? যেধরনের হস্তক্ষেপ দিল্লির, ভারতীয়দের হলে সহ্য করতো কিনা! বিএনপি জোটকে নির্বাচন থেকে নির্মূল করতে যা করলো, জোটের একটি দলকে যেভাবে স্বদেশে নির্বাসিত করলো, উদ্দেশ্য কী এখনো পরিষ্কার নয়? আমাদের দুর্বলতা, আমরা পুঁজিবাজারের স্টকের মতো মার্জিনে কেনা। দরপতনের সুযোগ দেখলেই বেচে দেয়।

সুতরাং ট্রাম্প-রাশিয়া কানেকশনের বিচার প্রক্রিয়াটি আমাদের জন্যও প্রযোজ্য। শুধুমাত্র তারপরেই নিরপেক্ষ নির্বাচন। অতএব মিসির আলীদের মার্জিন কলের রাজনীতি থেকে দ্রুত আরোগ্যলাভ, গণতন্ত্রের ক্যান্সারের জন্য জরুরি। এতোবড় অন্যায় করে কেউই বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে এবং অপরাধীদের শাস্তি হয় না, এই দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নেই।

জানি ২০৪১ পেরিয়ে ক্ষমতার কার্ড আওয়ামী লীগের সিন্দুকে। পারিবারিক থেকে ক্ষমতা এখন রাজতান্ত্রিক। যদিও ভোট কারো প্রিভিলিজ নয় বরং সাংবিধানিক অধিকার কিন্তু এই অধিকারকেই মিসির আলীরা নিজেদের প্রিভিলিজ বানিয়ে গণতন্ত্রকে বানিয়েছে মার্জিন কল। তারপরেও স্বপ্ন দেখি।

সুষমাদের আশা পূর্ণ হবে। সবদলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন হবে। এইদফায় এরশাদকে মূল্যহীন করে তার জায়গায় বসানো হবে বিএনপিকে। কারণ হাসিনাকে বৈধ না করলে, খালেদার জনপ্রিয়তায় বিনিয়োগকারীরা অস্বস্তিতে। নিরপেক্ষ নির্বাচন মানেই ক্ষমতাসীনদের হোয়াইটওয়াশ। এমনকি হাইকমান্ডের সিটেও ধ্বস। এটাও সত্য, মিসির আলীদের মার্জিন কল থেকে বেরনোর শক্তি বিএনপির নেই। সুতরাং নির্বাচনে যাবে এবং হারবে। তবে রওশনের সিটে ম্যাডাম বসলে যা সম্ভব।

“সংসদের বাইরে থাকায়, বিএনপিকে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন বানিয়েছে সাউথপন্থিরা। “ডাস্টবিনের নাম জিয়া পরিবার’, যেখানে সারাক্ষণ নিজেদের কলঙ্ক ফেলে ক্ষমতাসীনরা। বিরোধিনেতার সিটে বসলে ডাস্টবিনের হিসাবে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। প্রয়োজন গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সেই সুযোগ ফিরবে। তখন ১/১১ থেকে আজব্দি মিসির আলীদের যতো নৈরাজ্য, প্রতিটি ইস্যুর উপর সাংবিধানিক আন্দোলনের অধিকার ফিরবে। ওয়াকআউট এবং সংসদ বর্জনের গণতান্ত্রিক অধিকার দিয়ে দাবি আদায়ের সীমাহীন সুযোগ। এভাবেই ৯০এর ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রত্যাবর্তনে, মধ্যবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তন সম্ভব।”

যদিও মনে করি এর কোনটারই প্রয়োজন হবে না।

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

০৪ নভম্বের ২০১৭,  নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

 

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)