সক্রেটিসের গণতন্ত্রে ভাল্লুকের হাতে খন্তা

November 12, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


রোহিঙ্গা ক্রাইসিসটি হলো কতিপয় বিগপাওয়ার আর সুপারপাওয়ারদের সমন্বয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি সাকসেসফুল মাস্টার প্ল্যান। রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী এবং শিশু। লাখ-লাখ মানুষ কতোকাল ঘেরাবেষ্টনির মধ্যে সীমিত থেকেও প্রতিক্রিয়াহীন থাকতে পারে? “জেলে থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত সত্ত্বেও কেউ কী জেলে থাকতে চায়?” পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভয়ংকর রোগ-বালাই থেকে মহামারি। বেকারত্ব এবং হতাশা থেকে সৃষ্টি হতে পারে অরাজকতা, এমনকি সন্ত্রাসও। এজন্য ক্ষমতাসীনরা কতোটুকু দায়ী? এই পরিস্থিতি হবে, বহু আগেই জানার পরেও কোনরকম প্রস্তুতি না নিয়ে যা প্রমাণ করলো। -বন্ধু রাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার আচরণে লিপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। -শক্তিপ্রদর্শনের ঘোরবিরোধি এবং ‘গণহত্যা’ শব্দটি উচ্চারণের বিরুদ্ধে হাইকমান্ড। -জাতিসংঘে বারবার চীন–রাশিয়ার ভেটোর বিরুদ্ধে সুনশান নিরবতা।

যেসকল বন্ধু রাষ্ট্র সরাসরি পক্ষ নিলো, ভারত তাদের অন্যতম। তাসত্ত্বেও বন্ধুত্বের নামে এসব কী দেখছি? প্রয়োজন, ৭১এ ইন্দিরার মতো হাইকমান্ডেরও চীন–রাশিয়ায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ভেটোর বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে দেয়া।

সবাইকেই কখনোই কেউই একইসঙ্গে খুশি করতে পারবে না। সেটা করতে গিয়েই বাংলাদেশের উপর একটার পর একটা ক্রাইসিসের সৃষ্টি করেই চলেছে ক্ষমতাসীনরা। রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের সমাধান আর ২০ দলকে হামলা-মামলা দিয়ে সিরাজ সিকদারের মতো দৌড়ের উপর রাখা এক নয়। বিরোধিদলকে যা খুশি করলেও কিচ্ছু হবে না। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের জন্য যারা দায়ী, টায়রনদের বিরুদ্ধে টুশব্দটি করলেই ক্ষমতা থেকে আউট। ধারাবাহিকভাবে ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখলেও রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের সমাধান ক্ষমতাসীনদের দিয়ে অসম্ভব। কারণ তাদের গোড়ায় গলদ। ক্রাইসিসের গভীরতা অধিকাংশেরই উপলব্ধির বাইরে। ভেটো পাওয়ারদের যুদ্ধে লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবন লন্ডভন্ড। এদের ক্ষতি কেউই পূরণ করতে পারবে না। পরাশক্তিরা চোখে মরিচের গুড়া মাখিয়ে কাঁদছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই না। নিরাপত্তা পরিষদের গ্লাস অর্ধেক খালি নাকি অর্ধেক ভর্তি নিয়ে নানান প্রশ্ন। সবার আগে তারা পুঁজিবাদিদের স্বার্থ দেখে। একই ইস্যুতে কতোবার ভেটো দিলো চীন–রাশিয়া কিন্তু জাতিসংঘ কী কিছু করতে পেরেছে? ৬ নভেম্বর রেজ্যুলেশনের বিরুদ্ধে আবারো ভেটো দিয়ে প্রমাণ করলো, বাংলাদেশের শত্রুর সংখ্যাই বেশি। তারপরেও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অবস্থান, গামছা গলায় অসহায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মতো! চারিদিকেই ষড়যন্ত্রের ‘মাইন’ বিছিয়ে রেখেছে সুচির বন্ধুরা।

যেসব কারণে রোহিঙ্গারা এদেশেই থাকবে। ১) “যাচাই-বাছাই” করে ফেরত নিলে ১০ লাখের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি ঢুকতে পারবে না। বাঙালিয়ানা নিশ্চিত করেই রোহিঙ্গা বিতাড়ন। ২) দুই ভেটো পাওয়ারের অবস্থান সুচির পক্ষে কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে কোন ভেটো পাওয়ার নেই। ৩) ভারতের মতো ননভেটো পাওয়ার এবং আমেরিকার মতো ভেটো পাওয়ারের যুগলবন্দিতে, ২য় ট্রাম্পকার্ডটিও সুচির হাতে। ৪) প্রত্যাবর্তনে অনীহা কিন্তু ত্রাণ সহায়তায় হাজি মোহাম্মদ মহসীনের ভূমিকায় চীন–রাশিয়া-ভারত-আমেরিকা-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ৫) বাংলাদেশেই ভাত ভাগাভাগি করে খাওয়ার ঘোষণায়, পরাশক্তিদের মধ্যে স্বস্তির মানসিকতা। ৬) মানবতাকে প্রাধান্য দিয়ে ভূয়া প্রশংসার ফুলঝুড়ি। এভাবেই প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে ক্রমশ গুরুত্বহীন করছে। ৭) রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিষয়ে দিল্লির অবস্থান পরিষ্কার। তারাও পুশইন করছে…

প্রসঙ্গ- রক্তপিপাসু গণতন্ত্রের মানসকন্যার গণতন্ত্রের আসল-নকল চেনা নিয়ে। সুচিদের হাতে গণতন্ত্র এবং ভাল্লুকের হাতে খন্তা- এক। বানরের গলায় কী মুক্তার হার শোভে? কবিগুরু লিখেছেন, “এই মনিহার আমায় নাহি সাজে।” হ্যাঁ, সুচিদের শরীরজুড়ে নোবেলের তাবিজ কিংবা অক্সফোর্ডের কবজ কোনটাই সাজে না। বরং যা করছে, হিটলারের হুন্তা বাহিনীর হুবহু। হিটলারেরও খায়েস ছিলো, জার্মানিকে ইহুদি শূন্য করে বিশ্বের সবচে’ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। মিত্রবাহীনির সহায়তায় নূরেমবার্গ ট্রায়ালে নাৎসী পার্টির বড় বড় সুলতানদের ভাগ্যে কী ঘটেছিলো, সকলেই জানে। এখন সেই মিত্রবাহিনীই চিৎকার করে বলছে- মিয়ানমারে ‘গণহত্যা’ কিন্তু দিন শেষে সুচিই তাদের বন্ধু! রোহিঙ্গা ইস্যুতে সকলেরই বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা যেন শতাব্দির সেরা জোক। তারপরেও নোবেল কমিটির যা করা উচিত, করেনি। বরং রোহিঙ্গা ক্রাইসিসে পশ্চিমাদেরকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য হয়তো শান্তির নোবেল তৈরি হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের জন্যও।

সুচিরা কখনোই আমার লেখা পড়বে না। কিন্তু আমি সুচিদের মন পাঠ করতে পারি বলেই ২৪ অক্টোবরের কলামের শেষের লাইনে যা লিখেছিলাম, অক্ষরে অক্ষরে সত্য হলো। ৬ নভেম্বর নয়াদিগন্তসহ অন্যান্য পত্রিকার খবর, মিয়ানমারের উপর নিষেধাজ্ঞা চাচ্ছে না ইউরোপ-আমেরিকা। আমেরিকা চায় কুটনৈতিক সমাধান। রাখাইন সফর শেষে ৫০০ হিন্দু রোহিঙ্গাকে গ্রহণের নির্দেশ সুচির। কোথায় প্রমাণ, রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে?

উল্টা সুচিই বলছেন, মিলিয়ন–মিলিয়ন ডলার ভিক্ষার আশায় ক্ষমতাসীনরাই নাকি ফেরত দিচ্ছে না। আমি এই নরপিশাচের কথাই বলছি। সুচিদের পোড়ামাটি মেগাপ্রকল্পের অন্যতম পার্টি বাংলাদেশ। রাখাইন প্রজেক্টগুলো সফল করতে রীতিমত হিটলারের ভূমিকায় মাঠে নেমেছে সুচি সমর্থিত গং। বারবার আকাশসীমা লংঘনের পরেও বন্ধুত্বের অজুহাত যেন দেশবাসীর সঙ্গে মশকরা।

রোহিঙ্গাদের বাবা-মা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নয়। সুতরাং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার আরচণও অবান্তর। কন্যার বিবাহ নিয়ে কান্নাকাটিতে সমাধান নেই। রোহিঙ্গাদের ডিএনএ অনুযায়ী মিয়ানমারই তাদের বাবা-মা। এরপরেও শক্তিপ্রদর্শনের বদলে ভাত ভাগ করে খাওয়ার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন। অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদেরকেও ভাতের লোভ দেখিয়ে পুশইন করছে হুন্তারা। কারো সঙ্গেই পরামর্শ না করে একক সিদ্ধান্তের অন্যতম বিপর্যয়ের নাম- রোহিঙ্গা। চীন–রাশিয়া-ভারতের অবস্থান অগ্রিম জেনেও, এই বোঝা চাপিয়ে দেয়ার সকল দায়ভার কার?

যে কারণে রোহিঙ্গারা স্থায়ী হচ্ছে। প্রতিবারই ইস্যু উঠলে চীন–রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভেটো দেবে আমেরিকা। “আমেরিকাকে সমর্থন দেবে প্রাচ্যের আমেরিকা- ভারত।” ভেটোর সমীকরণেই রোহিঙ্গা ক্রাইসিস আটকে থাকবে অনন্তকাল। চীন–রাশিয়ার বিরুদ্ধে টুশব্দ করার ক্ষমতা হাইকমান্ডের নেই। করলে আম-ছালা দুটোই যাবে। সুতরাং ৭১এ ইন্দিরার ভূমিকা হবে না। হঠাৎ লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা নিয়ে নানান গুঞ্জন।

 

প্রবাদে আছে, ভাল্লুকের হাতে খন্তা দিলে কী হয়! ভাল্লুক কী খন্তা দিয়ে ফার্ণিচার বানাবে? নাকি রান্নার খড়ি বানিয়ে খালামনিকে দেবে! না। ভাল্লুক সেসব কিছুই করবে না। প্রশ্ন, “গণতন্ত্র ভুল হাতে পড়লে কী হয়?”গৃহবন্দি সুচির রাজনৈতিক মৃত্যু শেষে পুঁজিবাদিদের আতুরঘরে পুর্নজন্ম হয়েছে। হুন্তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মিয়ানমারকে ধনী রাষ্ট্র বানাতে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে বসেছে সুচিও। তবে হুন্তাদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে গণতন্ত্রের মানসকন্যা উপাধি যেন ১/১১এর দ্বিতীয় সংস্করণ। আমেরিকার উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে মিডিয়ার সামনে হাইকমান্ডেরও ঘোষণা, ক্ষমতায় গেলে ১/১১এর সরকারকে বৈধতা দেবে। সুচি টাইপের গণতন্ত্র কী ক্ষমতাসীনদেরও পরিকল্পনায়? গণতন্ত্রের মানসকন্যার সংজ্ঞা কী?

খ্রীস্টপূর্ব ২৪০০ বছর আগে, ২১০০ খ্রীস্টাব্দের জটিল প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন পণ্ডিত সক্রেটিস। হেমলক দিয়ে হত্যার আগে টায়রনদের আদালতে বলেছিলেন, “হ্যাঁ, আমিই সবচেয়ে জ্ঞানী কারণ, একমাত্র আমিই জানি যে, আমি আসলেই কিছু জানি না।” তারই ছাত্র প্লেটো, রিপাবলিক-৬ বইতে ব্যাখ্যা করেছেন, গণতন্ত্রকে কেন ঘৃণা করতেন সক্রেটিস!

প্লেটোর ভাষায়, সমাজকে তিনি একটি জাহাজের সঙ্গে তুলনা করে বলেছিলেন, ঝড়ের মধ্যে যাত্রাকালে তোমরা কাকে নাবিক হিসেবে চাও? অবশ্যই চাইবে বিজ্ঞ নাবিক। তাহলে কীভাবে নির্ধারণ করবে, দেশ শাসনের উপযুক্ত কারা? ইলেকশনে ভোট দেয়াটা একটি দক্ষতা, বিলাসিতা নয়। অন্যান্য শিক্ষার মতোই, ভোট দেয়া শিখতে হলে সমাজকে অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে। সক্রেটিস কখনোই চাননি সকলেই ভোট দিক, কিন্তু তারাই দেবে যারা ভোট সম্পর্কে গভীরভাবে জানে। তা না করলে, গণতন্ত্র হবে বিপদজ্জনক। একেই বুঝিয়েছেন, ভাল্লুকের হাতে খন্তা। “বুদ্ধিবৃত্তিক গণতন্ত্র থেকে হুজুগে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক করেছেন সক্রেটিস।” পুরান গ্রীসের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, দেবতার মতো সুন্দর আচরণ করে গণতন্ত্রের বারোটা বাজিয়ে মিলিটারি শাসন কায়েম করেছিলো এ্যালসিবায়াডেস। পরবর্তীতে ভয়ানক অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো এথেন্স। নির্বাচনে জিততে ধোকা মারার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, দুই প্রার্থীর ডিবেটের কথা। একজন ডাক্তার, অন্যজন মিষ্টি বিক্রেতা। মিষ্টি বিক্রেতা ডাক্তারের বিরুদ্ধে বলেছে, ওই লোক তোমাদেরকে ওষুধ খাইয়ে ভালো খাবার থেকে বঞ্চিত রাখে। ডাক্তার ওই ডিবেটে জিততে পারবে না কারণ, মানুষ ভালো খাবার পছন্দ করে।

প্লেটোর ভাষায়, গণতন্ত্র এবং ভোটের জন্য সক্রেটিস সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন “শিক্ষা এবং উন্নত মানসিকতার উপর।” ২৪০০ বছর পর প্রমাণ হলো- হুন্তাদের ২৫% ক্ষমতা ভাগের ক্যাবিনেটে সুচির মাকারি এবং ৫ জানুয়ারির ১৫৩ জন ভোটারবিহীন আইনপ্রণেতাদের সংসদীয় গণতন্ত্র যেন– সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গ। এইসকল টায়রনদের বিরুদ্ধেই সতর্ক করেছিলেন সক্রেটিস।

বঙ্গোপসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর, কুশিক্ষিত কাণ্ডারিদের তাণ্ডবে কুকুর-বেড়ালের মতো মানুষ মরছে। মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ একই উন্নতির মহাসড়কে উঠে দেশবাসীকে ফেলেছে মহাবিপদে। কিছু দিয়েই সামলানো যাচ্ছে না ধ্বস। উন্নয়নের মহাসড়কে ধ্বসের বিস্তারিত অন্য লেখায়। তবে গণতন্ত্র নিয়ে সক্রেটিসের অবস্থান জানানোই লেখাটির উদ্দেশ্য।

সমঝোতার প্রসঙ্গটিও ফেলে দেওয়ার নয়। যেমন স্কাইপের সেই বিখ্যাত সংলাপ- “আমি দাড়াইয়া যামু আর আপনে আমারে বসাইয়া দেবেন।” দেখেশুনে মনে হচ্ছে, সমঝোতার রাজনীতিতে কেউ কাউকে দাঁড়াতে আর বসতে বলছে এবং ভাইস্তভার্সা।

কে কতো সাহায্য দিলো, সারাক্ষণ সেই বাঁশিই বাজাচ্ছে “হ্যামিলনের বংশীবাদকেরা” কিন্তু…। ক্ষমতাসীনরাও জানে পরাশক্তিদের মলম থেরাপিতে কাজ হচ্ছে না। চোখে মরিচ মাখিয়ে কান্নাকাটির অর্থ মানুষ বোঝে। ত্রাণ সহায়তার কারণও পরিষ্কার। মুক্তিযুদ্ধের পর, শরণার্থীদের যথার্থ ব্যবস্থা হলেও, সিরিয়া কী ৩৫ লাখ নাগরিকদের ফেরত নিয়েছে? আসাদ তো পুতিনের কথা শোনে কিন্তু কই? বাংলাদেশও যাদের নয়নের মনি, প্রত্যেকের কথা মিয়ানমার শুনতে বাধ্য কিন্তু কই? বাংলাদেশ কোন জার্মানি নয় যে সস্তা শ্রমের প্রয়োজন আছে। সুতরাং সর্বস্তর থেকে যে দাবি আসা উচিত, দ্রুত চীন–রাশিয়ায় গিয়ে আর ভেটো না দিতে সরাসরি অনুরোধ। সেই গুড়েও বালি। কারণ একমাত্র আওয়ামী লীগই মনে করে- একমাত্র তারাই সবজান্তা এবং ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে শুধু একব্যক্তি ছাড়া আর কেউই কোনকিছুই জানে না। যতো বিজ্ঞই থাকুক, একব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউই সিদ্ধান্ত দেওয়ার উপযুক্ত নয়।

রোহিঙ্গাদের বিষয়টি এখন এই পর্যায়ে। রথ দেখবো কলাও বেচবো। দেখতে এসে চুক্তির হিড়িক। ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সমঝোতা চুক্তি করে গেলো সিমন্স কোম্পানি। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারিও তাই। মায়াকান্নার ঈশ্বর ইউরোপিয়ান দূতেরা সারা বছরই ব্যস্ত নিজেদের প্রফিট নিয়ে। সেইফ জোনের বুদ্ধিদাতারা জেরুজালেমের ক্রাইসিস সৃষ্টি করে প্রফিটের অংক বাড়াতে চাইছে। ক্রাইসিসের মধ্যেও বাণিজ্য চুক্তিগুলো যেন চিতার আগুনে চা বানিয়ে খাওয়ার মতো জঘন্য। সবজান্তাদের কারণে ৯ বছর ধরেই একব্যক্তির ভুলের শিকার জাতি।

 

মহাবিপদ যারা চাপিয়ে দিলো, সবক’টাই গণমানুষের শত্রু। যারা ভেটো দিচ্ছে তারাও বন্ধুর বদলে শত্রু। ৭১এ ভেটো দেয়া চীন কী বন্ধু ছিলো?

সমস্যা একটাই। ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে অনড় ক্ষমতাসীনরা। এই কাজে তথাকথিত বন্ধুদের কাউকেই অখুশি করা যাবে না। বরং যেকোন মূল্যে সবাইকেই খুশি রাখতে হবে এবং রোহিঙ্গা ক্রাইসিসও সেটাই।

সমাধানও আছে। পদত্যগের দৃষ্টান্ত দেশে-দেশে। ভাসুর হয়ে ভাবির উরুর ঘায়ে হাত দেবে না তথাকথিত বন্ধুরা। সংকটের সমাধান আওয়ামী লীগকে দিয়ে হবে না কারণ, তাদের পলিসি সর্পরাজের মতো। যখনই ক্রাইসিস, তখনই ম্যাজিক। ব্যর্থতার দায় কাধে বহু মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, সচিবদের পদত্যাগের উদাহরণ। যেমন, পানামা পেপার্স কেলেংকারির জন্য আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। ব্রেক্সিটের দায় কাধে ডেভিড ক্যামেরুনও তাই। বাড়ির পাশেই আরশি নগরের লাল বাহদুর শাস্ত্রি থেকে সুরেশ প্রভু, রেল দুর্ঘটনায় প্রায় হাফজডন রেলমন্ত্রীদের পদত্যাগ কিংবা পদত্যাগের বাসনা- কল্পনা নয়। সুতরাং ৯ বছরের সঞ্চিত ব্যর্থতার দায় কাধে পদত্যাগই হতে পারে সময়ের শ্রেষ্ঠ দাবি। কেন নয়? ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ- গণতন্ত্রের রঙ এবং গান, এক। ২০ দলকে দাঁড়াতেই দেয় না। একমাত্র মানুষ জাগলেই ফুল ফুটবে। ফুটবেই কারণ, সক্রেটিসের মিষ্টিবিক্রেতাদেরকে দেশবাসী প্রায় চি‎িহ্নত করে ফেলেছে।

 

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

১১ নভম্বের ২০১৭,  নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

 

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)