নির্বাচনে যে বন্ধুত্ব অবাঞ্ছিত

November 23, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


বিপদেই বন্ধুর পরিচয় কিন্তু সামাজিক বন্ধুত্ব থেকে রাষ্ট্র আলাদা। বিপদে একমাত্র প্রতিবেশিরাই স্বার্থহীনভাবে ঝাপিয়ে পড়ে কিন্তু কোন রাষ্ট্রই তা করবে না। যেমন, সিরিয়া শেষ না হতেই যারা ইয়েমেন লন্ডভন্ড করছে, প্রত্যেকেই কোন না কোন জোটের বন্ধু। দিল্লির বন্ধুদের মধ্যে বাংলাদেশ নাকি ১ নম্বরে। অথচ এরাই অগণিতকাল তিস্তার পানি আটকে রেখেছে। জনমতের বিরুদ্ধে একটি পছন্দের দলের সঙ্গে রামপাল বানাতে গিয়ে সুন্দরবনসহ চিত্রা হরিণ থেকে চিতা বাঘ… প্রকৃতির বিরল সম্পদগুলোকে ডাইনোসরের মতো বিলুপ্তির ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশে মিডিয়ার বাজার খুলে নিজের দেশে আমাদের টেলিভিশন আজব্দি ঢুকতে দিলো না। অসম, অবাস্তব, স্বার্থবিরোধিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় না। বন্ধুত্বের সংজ্ঞা কী? এজন্যই আনন্দবাজার বলেছে, “৯০ ভাগ বাংলাদেশিরই ভারতবিরোধি সেন্টিমেন্ট।”

 

নির্বাচন:- সুজাতা মহাকাব্য শেষ, লিখবো মনস্তাত্বিক ব্যাখ্যা। খালেদা কেন বলেছিলেন, সাপকে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু ওমুককে নয়! ক্ষমতাসীনদের খুঁটির জোর বোঝার সাধ্য দুর্ভাগা জাতির নেই। ২০০৭ সনেই টার্গেট- একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় রাখতে, যুদ্ধাপরাধি এবং সন্ত্রাস বিতর্ক সামনে এনে, আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। এই কাজে সবার আগে বাংলাদেশিজাতিয়তাবাদি মনোজগতকে ধ্বংস করেছে। ইস্রায়েল-ফিলিস্তিনের মতো ঝগড়া বাঁধিয়ে রেখেছে যেন বিনা বাঁধায় যা খুশি করতে পারে। জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলটিকে মূল দল থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে দেশবিরোধি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে- রুখে দাঁড়ানোর মতো শক্তিকে ধ্বংস করেছে। এই কারণেই ৫ জানুয়ারির ট্রিজন সম্ভব হয়েছে। এরা এরশাদেরও স্রষ্টা, যাকে দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের সতীচ্ছদ লুটেছে।

অতীতে কখনোই এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি দেখিনি। বরং ৯০ পরবর্তী শিশু গণতন্ত্রে ভুলভ্রানি- থাকলেও, প্রতিটি দলের মধ্যেই স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিলো। ছিলো না ঘোষক কিংবা মীমাংসিত যুদ্ধাপরাধ ঝগড়া। প্রমাণ, ৯০ এর আন্দোলন থেকে ২০০৮এর নির্বাচন পর্যন্ত কখনো সংসদে, কখনো বিরোধিদলে। ‘‘জোট সরকারের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে স্বীকার করেই, ১৯৯৬ এবং ২০০৮ সনে আবারো ক্ষমতার মুখ দেখলো ৭৪এর বিলুপ্ত আওয়ামী লীগ।” এই দফায় একটি বিশেষ দলের আমীরকে জোরজবরদস্তি জেলে নিয়ে কি ধরণের দেনদরবার চালাচ্ছে, সময়ই বলবে। এজন্য দায়ী একা আওয়ামী লীগ নয়। বন্ধুরাই ৭০এর আওয়ামী লীগকে বানালো- বর্তমানের ধন্যবাদ, পুরষ্কার এবং অভ্যর্থনায় সীমাবদ্ধ মেয়াদউত্তীর্ণ একটি জি-হুজুর মার্কা পরজীবি দল।

৫ জানুয়ারির নাম ট্রিজন, যা একটি মারাত্মক অপরাধ এবং বিচার সাপেক্ষে নানান ধরণের শাস্তিই কাম্য। প্রমাণ, ষোড়শ সংশোধনীর রায়, যে সত্য উচ্চারণের জন্য চরম মূল্য দিলেন সিনহা। একটি উদাহরণেই টিজনের প্রমাণ। ২১ অক্টোবর ২০১৩ ভারতের দৈনিক নববার্তা প্রসঙ্গ- ‘‘হাসিনাকে ফেরানোর জন্য বাংলাদেশ নির্বাচনে দিল্লি খরচে করবে ১০০০ কোটি রূপী।” শত্রু খোঁজার প্রয়োজন শেষ।

বিশেষ ব্যক্তিকে আবারো ক্ষমতায় আনতে, খালেদার হাত-পা বেঁধে সাঁতার প্রতিযোগিতায় নামানোর চরম কুটনৈতিক চক্রান্ত চলছে। সুষমাদের বডিল্যাঙ্গুয়েজ, কথোপকথন এবং ব্যক্তির সঙ্গে পারিবারিক আচরণে, রাষ্ট্র নেই। অগণতান্ত্রিক সরকারকে টিকিয়ে রাখতেই ইভিএম-এর চক্রান্ত। উদ্দেশ্য, তথ্যপ্রযুক্তির তেলেসমাতি খাঁটিয়ে ভোটের বাক্সে ডিজিটাল হ্যাক।

 

ফ্লিপফ্লপ রাজনীতি- যে প্রশ্নের উত্তর একদিন দিতেই হবে। সংবিধান সংশোধন করে যাদেরকে সোকলড যুদ্ধাপরাধি বানালো, ৫ জানুয়ারির আগ পর্যন্ত এদের সঙ্গে একটি নির্বাচনও বয়কট করেনি। সাকাচৌধুরীরা তখনো সংসদেই কিন্তু সেই সংসদ বর্জন না করায়, জুডিশিয়াল মার্ডারের সন্দেহাতীত প্রমাণ? ইতিহাস বলে, ধর্মভিত্তিক দেশবিভাগের আন্দোলনের বন্ধুরা ৭১এর বিরোধিতায় বন্দি হলে, শাহ আজিজুর রহমান কিংবা ফকা চৌধুরীর মতো অনেকেরই দেখভাল করতেন নেতা। রাউজানে গণহত্যা করলে, পিতা-পুত্র মিলেই করেছে। সুতরাং সাকাকে ফাঁসি দেওয়ার মাধ্যমে কী মুজিবকেই কনটেস্ট করা হলো না! তাছাড়াও অতীতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের অংশীদারদের সঙ্গে কখনো সরকারে, কখনো বিরোধিদলে থাকার আগে, এই ইস্যুটি মনে থাকা উচিত ছিলো হাইকমান্ডের। ‘‘২০১০ সনে বিপক্ষের শক্তি হলে, এর আগে কোন বিচারে পক্ষের শক্তি হয়!’’ দায়ী একা আওয়ামী শীর্ষস্থানীয়রা নয়। কারণ ৭১এ যেখানে ছিলো, সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ছিলো না। সম্মুখ সমরে শীর্ষস্থানীয়দের অনুপসি’তির ফলে, মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাবে- উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে পাবলিক ক্ষেপিয়ে তোলা?

এর নাম ফ্লিপফ্লপ। দণ্ডিতরা ২০০১ থেকে ২০০৮ সংসদ পর্যন্ত শতভাগ নির্দোষ। তবে ১৫তম সংশোধনীর আগে বা পরে, এমন ভুল কোন রাষ্ট্রনায়কই করবে না, যে কারণে জুডিশিয়াল মার্ডারের অভিযোগ কেউ আনতে পারে। জবাবদিহিতা থেকে মুক্তি নেই বলেই আবারো গণজোয়ারে ভাসছে দেশ।

 

সন্ত্রাসের রাজনীতি:- সন্ত্রাস কেউই চায় না। সন্ত্রাস কী- ইরাকী, আফগানী, পাকিস্তানিরা জানে। এখানেও বাংলাভাই এবং জনতার মঞ্চের পর সরাসরি সন্ত্রাস বলতে হলিআর্টিজেন। এর বাইরে যা, শ্রুতিমধুর নাম দিয়ে বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দারুণ বিতর্ক। জনতার মঞ্চের সন্ত্রাসের প্রমাণ, ২৮ অক্টোবরে জ্যান্ত মানুষ পিটিয়ে মারা। এরই ধারাবাহিকতায় ৯২ দিনের আন্দোলনের সুযোগে যারা আগুনসন্ত্রাস করলো, বিএনপির কী উচিত নয় স্বরব হওয়া? ২৬ অক্টোবর হাইকমান্ডের নিজ মুখে লগি-বৈঠা-চইর নিয়ে রাস্তায় সন্ত্রাসী করার হুকুমের ক্লিপ ইন্টারনেটে। ৯২ দিনের আগুনসন্ত্রাসের মূলেও ওরাই।

জিরোটলারেন্সের নামে যাদেরকে ক্রসফায়ারে দিচ্ছে, সাদা পোশাকে তুলে নিচ্ছে, তারা বিএনপি জোটের একাংশ। বাড়ি ঘেরাউয়ের অভিযান শেষে যাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে,  একই গোত্রের কর্মী। জিরোটলারেন্সের নামে বিরোধিদল নিধন অভিযান, একা আওয়ামী বুদ্ধিতে নয়। তারেককে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে স্বদেশ রায়ের কলামে বন্ধুদেরকে যে ভাষায় টেনে আনলো, দিল্লিতে তারেক বিরোধি চক্রান্তের সন্দেহাতীত প্রমাণ। সুতরাং জিরোটলারেন্সের মনস্তাত্বিক ব্যাখ্যা এটাই- ‘‘ব্রিটিশের ডিভাইড এণ্ড রুল থিওরি।”

পশ্চিমারা সন্ত্রাসের নাম শুনলে কাঁপে। ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে জিরোটলারেন্সের চেয়ে ভালো পন্থা নেই। হাইকমান্ডের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, রাজনীতিতে একমাত্র ক্ষমতাসীনরা ছাড়া বাকিরা সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাস না চাইলে হাইকমান্ডকেই বারবার ক্ষমতায় রাখতে হবে। ফলে জিরোটলারেন্স নিয়ে একব্যক্তির উপর অতিআস্থায়, ৯ বছরে আমাদের রাজনৈতিক কম্বলের লোম উদ্বেগজনকহারে উধাও। দল বলতে এখন একটি মাত্র ঢাক, বাকিরা ফুটা। বন্ধুদের কারণেই ঘরে-বাইরে শত্রুর ভয়ে ভিডিও কনফারেন্সে দেশ চালায়। দেশটাকে বন্ধুরা কোন নরকে নিলো!

 

অসম বাণিজ্য:- আমেরিকা-ইংল্যান্ড যে ধরনের ঘাটতি হজম করতে  সক্ষম, বাংলাদেশে কী সম্ভব? ভারতীয় পণ্যের আইটেমের তুলনায়, আমাদের সংখ্যার রক্তহীনতা নিয়ে খোদ বিকেএমইএ-এরই অভিযোগ। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকাকে আর চুষে খেতে দেয়া হবে না। বাংলাদেশিদের অধিকাংশই ট্রাম্পবিরোধি কিন্তু ভারতের সঙ্গে ভয়ানক বাণিজ্য ঘাটতির ব্যাখ্যা কী? ওরা পেয়াঁজ না পাঠালে দ্রব্যমূল্যের ভূমিকম্প শুরু হয়।

উন্নয়নের গুজব আকাশ ছুঁয়েছে। ক্ষমতাসীনদের মাথা খারাপই হয়ে গেছে। ১০ নভেম্বরের প্রায় সকল পত্রিকার খবর, ২০৩০ সনে বাংলাদেশ নাকি অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াকে ছাড়িয়ে যাবে। বাস্তবে প্রতিটি ম্যানহোলের মুখে ঢাকনা দিতে পারলেই, যারপর নাই উন্নতি বলে স্বীকার করবো। তবে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে, আম-ছালা দুটাই গেছে।

অসম বাণিজ্যের দৃষ্টান্ত। ২০১৪-১৫ সনে ভারত রপ্তানি করেছে ৬.৫ বিলিয়ন এবং বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে মাত্র ৫২৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য! ২০০০ সনে বাণিজ্য ঘাটতি ৭৭৪ মিলিয়ন ডলার, ২০০৫এ ১৯৩৩ মিলিয়ন ডলার, ২০১০ সনে ২৯১০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ থেকে ভারতের আমদানী .২% এবং ভারত থেকে আমদানী ১৩.২%। (ডেইলি স্টার, আগষ্ট ২০১১)। ২০১৩ সনে পুতিনের সঙ্গে ঋণের টাকায় ১ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র ক্রয়ের হ্যান্ডশেক। ভারতের ২ বিলিয়ন ডলার ঋণের ঘোষণার পরেই চীনের তড়িঘড়ি ২৪ বিলিয়ন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির আরো সাড়ে ৪ বিলিয়নের ঘোষণা। রোহিঙ্গা ক্রাইসিস তোয়াক্কা না করেই, সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণের চুক্তি সই? বিষয়টি এইরকম, কার আগে কে লুটেপুটে খাবে। ২০১৭ সনে ভারত সফরে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ঘোষণায়, হাসিনার বরাত দিয়ে রয়টার, ‘‘৫০০ মিলিয়ন ব্যয় হবে মিলিটারি ইকুইপমেন্ট ক্রয়ে।” সর্বশেষ বাণিজ্য ঘাটতির নম্বর কেউ কী জানে? ভূয়া উন্নতির অর্থনীতি কী শুধুই মুখের কথা?

এদিকে তুরষ্কের সঙ্গে লাভজনক বাণিজ্য সত্ত্বেও কথায় কথায় যুদ্ধাপরাধিদের সমর্থনের দায়ে তুরষ্ককে গালিগালাজ করে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ  রপ্তানি করেছে ৬৩ কোটি ১৬ লাখ ডলারের পণ্য, তুরষ্ক থেকে আমদানী করেছে ২১ কোটি ২৩ লাখ ডলারের পণ্য। অর্থাৎ নেট মুনাফা ৪১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।

সাউথ এশিয়ান মনিটর লিখেছে- ব্র‏হ্মপুত্র নদীপথে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণের কথা ভাবছে ভারত। টাইমস্‌ অব ইন্ডিয়া জানায়, সেনাবাহিনী ও ইনল্যান্ড ওয়াটার ওয়েজ অথরিটিজ অব ইন্ডিয়া, যৌথভাবে মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) ডিবরুগড়ের বগিব্রিজ ঘাট থেকে জরিপ অভিযার শুরু হয়েছে। এই জরিপের লক্ষ্য, নদীর ৮৯১ কিলোমিটার দিয়ে বড় আকারের বাণিজ্যিক এবং সামরিক পরিবহণ।

 

রূপপুর এবং রামপাল:- ঝুঁকিপূর্ণ বলেই দায়মুক্তির মুচলেকা। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান নেয়ার কথা, ৭০এর সেই আওয়ামী লীগই, ভোটের বদলে ৫ জানুয়ারির আশ্রয় নিয়েছে। প্রকল্পগুলো নিয়ে যা বলছে, ৯৯ ভাগই অসত্য। জনতন্ত্র এবং গণতন্ত্র থেকে ক্ষমতাসীনদেরকে বিচ্ছিন্ন না করলে, রামপালের মতো প্রকল্প অবম্ভব। ভারতে গণতন্ত্র আছে বলেই নিজেদের সুন্দরবনের অংশে কয়লা-বিদ্যুতের অনুমতি দেয়নি আদালত এবং আমজনতা। সোকলড যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে ঝগড়া বাঁধিয়ে না রাখলে, উল্টা তোফায়েলরাই তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির প্রথম সারিতে থাকতো।

নিউক্লিয়ার এশিয়ার খবর- ভারতের দেয়া সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের ১ বিলিয়ন ব্যয় হবে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে। নিউক্লিয়ার সাইন্সে বাংলাদেশের তেমন পারদর্শীতা নেই সত্ত্বেও দায়মুক্তির মুচলেকা নিয়েই প্রকল্পের সমালোচনা কেউ করে না।  নির্মাতারা ঝুঁকির দায় নেবে না, যেমন নেয়নি ভূপালে। প্রতিটি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টই একেকটি পারমাণবিক বোমার সমান। এজন্য লাগে সবধরনের প্রস্থতি। আমাদের নেই ন্যূনতম স্টাফ, শিক্ষক, রিসার্চ এণ্ড ডেভলপমেন্ট, জনসচেতনতা, উদ্ধার ব্যবস্থা…। যে কোম্পানি প্রজেক্ট তৈরি করছে, রসাডোমের ৩য় শ্রেণির নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে খোদ ভারতীয়দেরই অভিযোগ। অথচ পারমাণবিক বর্জ্যের ১ বিলিয়ন ডলারের ঠিকাদারীও নিলো ভারত?

 

সীমান্ত হত্যা:- লাশ না আসা পর্যন্ত অনেক ধর্মের দেবতার ভোগ হয় না। হামেশাই নরবলির প্রমাণ উদ্ধার করছে প্রত্নত্ত্বাতিকেরা। সীমান্ত হত্যার বিষয়টিও তাই। ডজনখানেক লাশ না ফেললে পেটের ভাত হজম হয় না দিল্লির। একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের অন্য কোন সীমান্তে গুলি চালালে যা হয়, দিল্লি জানে। কথায় কথায় একটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে প্রতিবাদ এবং অপমান কিন্তু ব্যতিক্রম বন্ধু রাষ্ট্রটি! এমন কী, ভারতের প্রতিটি ওয়েবসাইটে মুক্তিযুদ্ধকে ৪র্থ ইন্দো-পাক যুদ্ধ বলে অপমানের পরেও প্রতিবাদহীন। কার কাছে এতো অসহায় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়! ফেলানি হত্যা যারা করে এবং খুনির পক্ষেই রায় দেয়, এরপরেও কী শত্রু খুঁজতে হবে? যতোদিন উদ্দেশ্য হাসিল হবে, সীমান্ত হত্যাসহ প্রতিটি অন্যায়ই মেনে নিতে বাধ্য ক্ষমতাসীনরা।

 

টেলিভিশন:- মিডিয়ায় বন্ধু রাষ্ট্রটির প্রভাব এতো বেশি, ‘পাখি’ পোশাকের জন্য একাধিক আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। ছোটদের মুখে হিন্দি, স্টারজলসা না দেখতে পেরে স্বামী খুন, উত্তেজক সিরিয়ালগুলোর কারণে দাম্পত্য কলহ তুঙ্গে…। ক্ষমতাসীনরা জানলেও, ‘‘ক্যাবলসুইচে” হাত দেয়ার ক্ষমতা নেই। অসম, অবাস্তব পরিসি’তিতে বন্ধু হয় না। যা হয় তা এইরকম, ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির বন্ধু হতে প্রতিযোগিতা ছিলো অখণ্ড ভারতেও। সময় পাল্টেছে, পাল্টায়নি বিভীষণদের চেহারা।

“বন্ধু ছাড়া জীবন চলে তবে নির্বাচন থেকে বন্ধুত্বকে আলাদা করাই এখন সবচে’ বড় অগ্নিপরীক্ষা। এই পরীক্ষাতে বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদকে জিততেই হবে। অন্যথায় ধ্বংস হয়ে যাবে সকল মৌলিক অধিকার।” আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাস থেকে এই শিক্ষা নিতেই পারি, ৪র্থ এবং ১৫তম সংশোধনী একসূত্রেই গাঁথা। এই আমিত্ববাদ এবং সর্বগ্রাসী ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধেই ১৬তম সংশোধনীর রায়!

অগ্নিপরীক্ষায় ব্যর্থ হলে, খালেদাকে চূড়ান্ত গন্তব্যস্থলে পাঠিয়ে, তারেককে আজীবন নির্বাসিত রেখে, রামরাজত্ব কায়েমে একচুল ছাড় দেবে না হাইকমান্ড- যা তার বক্তব্যে পরিষ্কার। কথার ফাইনপ্রিণ্টগুলো অতি দ্রুত বুঝতে হবে।

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

২২ নভম্বের ২০১৭,  নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

 

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)