সম্পূরক প্রশ্নোত্তরের প্রতারণা এবং রওশনের বেদনা

December 21, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

সেনাবাহিনী এবং ডাক্তারের মতো সাংবাদিকতাও মহান পেশা। কিন্তু যখন কেউ এটাকে বিরোধিদলের বিরুদ্ধে- বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের মন্ত্রী বা কর্মীর মতো ব্যবহার করে, সেখানে সাংবাদিকতা থাকে না। লেখাটির উদ্দেশ্য, গণভবনে সংবাদ সম্মেলন। সম্পূরক প্রশ্নোত্তরের জন্য তে সংসদই রয়েছে। সেখানে ৩০০ অবৈধ এমপি জি-হুজুরের ভূমিকা ভালোভাবেই পালন করছে। মহানপেশার মধ্যে এসব যুক্ত করা কি ঠিক? সাংবাদিকেরাই সাংবাদিকতার শত্রু হয়ে উঠছে। তারা কী আমেরিকার বিরোধিদলের ভূমিকা দেখছে না? ট্রাম্পের মূর্তি বানিয়ে পশ্চাদে লাথি মারছে কিন্তু কোন ধারাতেই জেলে যেতে হচ্ছে না। আমার অভিযোগটি ঢালাও নয়। বরাবারের মতোই কম্বোডিয়া ফেরত প্রেসকনফারেন্সের ভিডিও যতোবার দেখি, চোখে সাংবাদিকতার কুলখানি দেখি।

সাংবাদিক সম্মেলনগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য, জিয়া পরিবারকে আক্রমণ। গুজবভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্বে যে অভিযোগগুলো মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের নারী সাংবাদিকের, প্রমাণ করতে না পারলে, মহানপেশা ছেড়ে দেবেন কিনা! ৫০ নাকি ৫০০ কোটি কিংবা ১২ মিলিয়ন নাকি ১২ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি… দলীয় সভা নয় বলেই যা-তা বলা যাবে না। ৭১এর সাংবাদিকের ভয়, বিশ্বনেত্রী হয়ে যাওয়ায় বিশ্বমিডিয়া নাকি তাকে কেড়ে নিয়েছে এবং দেশি মিডিয়া তাকে আর পাবে না। ব্যক্তির দেয়া টেলিভিশনের কারণেই এই প্রজন্মের সাংবাদিকরা করে খাচ্ছে। অন্যেরা প্রচার না করলেও ৭১ টিভি খালেদার দুর্নীতির খবর প্রচার করেছে বলে দলীয় কর্মীর সুরে গর্ব। সবচে’ বড় আপত্তি, যখন প্যারাডাইস পেপার্সে কোকো-তারেকের নাম এসেছে বলে দাবি করে নিজের টেলিভিশনেও প্রচারের ক্রেডিট নিলেন। ৭১ টিভি সেটা প্রমাণ করতে না পারলে, ক্ষমা চাইবেন কিনা! বিএনপিও মানহানি মামলাসহ এ্যকশনে যাবে কিনা! তাদের দলে ব্যারিস্টারদের অভাব নেই।

পানামা এবং প্যারাডাইস পেপার্সের তালিকা তন্নতন্ন করে খুঁজে কিংবা বিশেষ নামে সার্চ দিয়ে কোথাও খুঁজে পাইনি নাম দুটি। মাছরাঙ্গার নারী সাংবাদিকের সম্পূরক প্রশ্নোত্তর পর্বে আমি বিভ্রান্ত। সৌদিতে টাকা পাচারের বিচার দেশি নাকি আন্তর্জাতিক আদালতে হবে, প্রশ্নটি করবে রাজনৈতিক দল। বললেন, “…তারা যদি ক্লেইম করে থাকে এই টাকা আমাদের ব্যক্তিগত টাকা, যা তাদের স্বভাব, ওরা ক্লেইম করে…” অর্থাৎ যিনি সাংবাদিক, তিনিই বিচারক। সাংবাদিক হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন।

মহানপেশার কথা মাথায় রেখে যে প্রশ্নগুলো করা উচিত ছিলো:-

ব্যাংকখেকোরাই ব্যাংকগুলোকে খেয়ে ফেলছে। ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার দেউলিয়া ঋণ? মিডিয়া খুললেই অর্থসন্ত্রাসীদের খবর। অনেকদিন থেকেই যুগান্তর পত্রিকা এবং যমুনা টিভিসহ কয়েকটি মিডিয়া অর্থলুটপাটের ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট প্রকাশ করছে। ১৩ ডিসেম্বর, যুগান্তর- “অর্থ লোপাটের তথ্য ফাঁস”- প্রতিবেদনে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান বাচ্চুর লোমহর্ষক তথ্য। দুদকের ৫৬টি মামলায়, অদৃশ্য কারণে বাচ্চুকে আসামী করেনি। সুইফট ঘটনার পরেই সাংবাদিকের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য- বিশেষ রাজনৈতিক ব্যক্তির আত্মীয় হওয়ায় একশনে যাওয়া সম্ভব না। দুই বছর পর বাচ্চুকে ডাকলো দুদক? কিন্তু জিয়া অর্ফেনেজের বেলায় সর্বশক্তি ক্ষয়। তাহলে চোর কী উপরতলার কেউ!

-শেয়ারমার্কেট এবং জিএমজি এয়ারলাইন্সের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের খবর মিডিয়ায়। তিনিও রাজনৈতিক উপদেষ্টা হওয়ায় আজব্দি তাকে ডাকেনি দুদক। -বিবিয়ানা গ্যাস দুর্নীতির মাল্টিবিলিয়ন ডলারের তথ্য সাগর-রুনির ল্যাপটপে থাকায় রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ৫ বছর পরেও বিচারবিভাগ নির্বাক। -ব্যাংকগুলো কারা খেয়ে ফেলছে, প্রত্যেকের নাম ও পরিচয় দুদক এবং বিচারবিভাগ জানে। কারণ তারা পত্রিকা পড়ে। -বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা লোপাট, প্রথম আলোতে ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি এবং ১০ বছরে পাচার করা টাকার পরিমাণ নিয়ে তথ্যপ্রতিবেদনগুলো বিচারবিভাগ এবং দুদকের নাগালে। -আন্ডারইনভয়েস ওভারইনভয়েস করে ব্যাংকগুলোকে খেয়ে ফেলছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় পাওয়া ব্যাংকগুলো। -বাংলাদেশ ব্যাংকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ডাকাতি এবং তারপরেই ওই তলায় আগুন লাগা সত্ত্বেও আতিউরকে ডাকেনি দুদক। খুনি সোহেল রানা এবং দেলোয়ারের বিচার ঝুলছে। -আমিন জুয়েলার্সের গডফাদারদের জামিন দিচ্ছে। -ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেন এবং ৭ মার্ডারের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরাও চিন্তামুক্ত। -শুধু ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির দড়িতে রকেটের গতি, যেন তখনই ফাঁসি না দিলে জগৎ উল্টে যাবে। -১৬তম সংশোধনীর রায়ে সংসদ অবৈধ হলে, সরকারও অবৈধ। সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া বিষয়ে নির্বাক থাকাটা কী সাংবাদিকতা? -গণতন্ত্রের বিকল্প বিদ্যুৎ হলে, ওইখাতে কতো বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি, এসব প্রশ্ন না করলে, সেটা সাংবাদিকতার বদলে অন্যকিছু।

৫ জানুয়ারির ভোটডাকাতির ফুটেজ আর্কাইভে থাকলেও ওইবিষয়ে নির্বাক! অথচ কয়েক মাস পরেই নির্বাচন? ৩০ মে ২০১০ বিবিসি, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫টি দুর্নীতির মামলা খারিজ করা হলো ২০০৯ সনে তার ক্ষমতা নেয়ার পর।” -১/১১এর রিমান্ডে শেখ সেলিম, ওবায়দুল কাদের, আব্দুল জলিলসহ অনেকেই দুর্নীতির যে বক্তব্য দিলো, আর্কাইভে থাকা সত্ত্বেও কি কারণে ধারেকাছে যায় না এরা! -তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের করাপশন বিষয়ে নির্বাক! মাসে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার বেতন নিয়েও নির্বাক?

সবচে’ বড় অন্যায়, যখন কোন সাংবাদিক পলিটিক্যালি মোটিভেটেড হয়ে বিরোধিদলে উপর সরাসরি গুজবভিত্তিক আক্রমণ চালায়। বিষয়টি ঘুষ খাওয়ার সমান অপরাধ। প্যারাডাইস পেপার্সে বিএনপির যাদের নাম, মানিলন্ডারিং নিশ্চিত না করলেও, আওয়ামী সমপ্রদায়ভুক্ত ২০ সদস্যের বেলায় করেছে। এদেরই অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য জাফরউল্লা পরিবার এবং সামিত গ্রুপ। -বিদ্যুৎ ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সামিত গ্রুপ। নাওয়াজ শরীফের পদত্যাগের কারণ সাংবাদিকেরা জানে। সুতরাং সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের মতো না হয়ে, তারেক-কোককে বাদ দিয়ে- মহানপেশাকেই কি সমুন্নত রাখা উচিত নয়?

৯ ডিসেম্বর সাপ্তাহিকের সম্পাদক তথ্য-প্রমাণসহ লিখেছেন, “জিয়া পরিবারের দুর্নীতির খবরটি কোন বিদেশি পত্রিকায় পেলাম না।” একই বক্তব্য টকশোতেও দিয়েছেন। তার দাবি, যেসকল সোর্সের নাম বলেছে, ইন্টারনেটে তন্নতন্ন করেও খুঁজে পাননি। আরো বলেছেন, ইন্টানেটের দুনিয়ায় এইধরনের তথ্য থাকলে পাওয়া যাবে না, তা হতে পারে না।

মাছরাঙ্গাকে উদ্দেশ্য করে মর্তুজা, “মনে হচ্ছিলো তিনি কোন পারিবারিক দাওয়াতে এসেছেন…। উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সম্পাদিত ডেইলি অবজারভারে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছিলো ১ ডিসেম্বর।” মর্তুজার বিষ্ময়, ৬ মাস আগের দুর্নীতির অভিযোগ এখনো কেন প্রকাশ করলো না।

আসলে জনগণের টাকায় গুজবমেশিন খুলে ব্যাপকহারে এসব করাচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালীরা। তাদের রয়েছে কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা এবং টেলিভিশন। সৌদিতে ৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতির সোর্স তারাই। বিশ্বের সৎ রাজনীতিবিদদের ভূয়া তালিকার সোর্সও তারাই। ‘বাংলাইসাইডার’ ছাড়া এসব তথ্য আর কোথাও নেই।

দুইদলই যখন আমাকে এতো যন্ত্রণা করেছে, পাঠক বলতেই পারেন, এরপরেও বিএনপির ডিফেন্সে লিখছি কেন! কারণ, সবার মতো আমিও গণতন্ত্রকে খুঁজছি। দেরিতে হলেও বুঝেছি- এরশাদ, ১/১১, ৫ জানুয়ারির সাথে আপোষ না করাই গণতন্ত্র। ৪র্থ সংশোধনী বাতিল করে একদলীয় শাসনের হাত থেকে রক্ষাই গণতন্ত্র। বহুদলীয় গণতন্ত্রের মুক্তি এবং ১৩তম সংশোধনী এনে ক্ষমতা হারানোই গণতন্ত্র। জনতারমঞ্চ করে জানমাল ধ্বংস না করাই গণতন্ত্র…

বহুদলীয় গণতন্ত্র ছাড়া, অন্য যেকোন গণতন্ত্রই ভূয়া। বহুদলীয় গণতন্ত্র উন্মুক্ত করে ডিভাইড এণ্ড রুলের রাজনীতি থেকে দেশকে রক্ষা করেছে বিএনপি। পরবর্তীতে আবারো সেটাই আনলো আওয়ামী লীগ। সেইসব কারণেই সুন্দরবন ধ্বংস এবং পদ্মাসেতুর নাজেহাল ঘটনাগুলোর মতো ঘটনা ঘটতে পারছে। ১৯৮১ সনে দুর্ঘটনা না ঘটলে, বহু আগেই দেশ মধ্যম আয়ের হতো। পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে ৯০এর দশকেই গাড়ি চলতো। জিডিপি এবং মাথাপিছু আয় ছাড়িয়ে যেতো এক্সপেক্টেশন। বহুদলীয় গণতন্ত্রের ক্রমবিকাশ বাঁধাপ্রাপ্ত না হলে, ৫ জানুয়ারির ঘটনা কখনোই ঘটতো না।

৭০এ মুজিব বলেছিলেন, ভোট দেয়া মানুষের মৌলিক অধিকার কিন্তু ১৯৭৪ এবং ৫ জানুয়ারিতে সেই অধিকারই কেড়ে নিলো। রোহিঙ্গারা হারিয়েছে দেশ, বাংলাদেশিরা হারিয়েছে গণতন্ত্র। ক্ষমতাসীনরাও জানে, ৫ জানুয়ারির জন্য তারা কতোটা ঘৃণিত। আর সেই লজ্জা ঢাকতেই খালেদাকে জোরদবরদসি- সংসদে এনে রওশনকে আউট করতে সাঁড়াশি আক্রমণ।

এবার প্রসঙ্গ, বৃদ্ধ রওশনকে জোরজবরদসি- ক্ষমতায় এনে অপমান! তিনি তো ইচ্ছা করে আসেননি। আফটারঅল রওশনই বিরোধিদলীয় নেতা। তার বহুগামী স্বামী শুধু পার্টির চেয়াম্যানই নন, হাইকমান্ডের বিশেষ দূতও। অথচ তিনি মিডিয়ায় নেই, আলোচনায় নেই, রাজনৈতিকভাবেও মৃতপ্রায়। বিদেশিরাও হাইকমান্ডের পরেই খালেদার সঙ্গে দেখা করেন। একটি ভিজিটিং কার্ড হাতে কেরির সঙ্গে দেখা করতে, রওশনের কি ব্যাকুলতা! অথচ খালেদাকে মার্কিন দূতাবাসে নিয়ে কেরির সঙ্গে সাক্ষাৎ! রওশনকে কেউ দাওয়াতও দেয় না, বিদেশ সফরেও দেখলাম না। এমনকি আনন্দবাজারিদেরও মাথাব্যাথা খালেদা এবং তারেক। অন্তত ৫ জানুয়ারির পুরষ্কার দিতে রওশনকে দিল্লিতে নিয়ে সম্বর্ধনা দিতে পারতো। তার দুঃখে আমি দুঃখিত।

বলছি, হাইকমান্ডের ভাষায় যিনি অপাত্র, সেখানেই ঘিয়ের টিন খালি করছে দেশি-বিদেশি সকলেই। কারণ তিনিই সবচে’ বড় গণতন্ত্রের ঢাক বলে প্রমাণ হয়েছে। এই ঢাক দেশি-বিদেশি সকলেই বাজায়, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ। মিডিয়াও তাই। সুতরাং কাদম্বীণি মরিয়া প্রমাণ করিলো সে মরে নাই।

নিরপেক্ষ নির্বাচন দিলে ন্যূনতম ৮৫ ভাগ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করবেন খালেদা। এটা প্রমাণ হয়েছে দেশে ফেরা এবং উখিয়ায় যাওয়ার দিন। এসব দেখে মাথাখারাপ হয়ে গেছে ইনুদের। তাই প্রলাপের মাত্রাও বেড়েছে। “সেই কারণেই ইনুর ৪ নম্বর মীরজাফর আবিষ্কার।”

সংসদে এবং বাইরে কোথাও নেই। ৯২ দিনের গণতন্ত্রের সন্ধানে গিয়ে, ক্ষমতাসীনদের বোমাবাজিতে নাজেহাল হয়ে, সেই যে ঘরে ঢুকলো! তারপরেও হাইকমান্ডের মুখে সারাক্ষণ শুধুই জিয়া পরিবার কেন? এর কারণ- ভয়।

জনগণকে ভয়। খালেদা-তারেককে ভয়। রাস্তাকে ভয়। জনসমাবেশকে ভয়। ভয়ে এক্কেবারে ভিডিও কনফারেন্সের ক্যামেরার পেটের মধ্যে সিঁদিয়ে গেছে। অতিকথন কাদেররা জানেন, সবসময় সবাইকে একসঙ্গে বোকা বানানো যায় না। এই কারণেই তাদের নেত্রীর সকল কর্মকান্ড শূন্যতে এসে ঠেকেছে।

প্রফেসর আবু সাঈদের অত্যন্ত মূল্যবান বক্তব্য- “সক্রেটিস ছিলেন বলেই প্লেটো। প্লেটো ছিলেন বলেই এরিস্টটল। এরিস্টটল ছিলেন বলেই মহামতী আলোকজান্ডার।” অর্থাৎ উপযুক্ত শিক্ষকেরা তৈরি করে সোনার ছেলে। আমার বলি, জায়গাগুণে কেঁচো মোটা।

ক্ষমতাসীনরাও জানে, খালেদাকে জোরজবরদসি- নির্বাচনে না আনলে মুসলিম লীগের অবস্থা হবে। তাদের ডিভাইড এণ্ড রুল থিওরি ফেল করেছে। তাই আরো কয়েকটার্ম ক্ষমতা দখলে রাখতে, সকল মৌলিক অধিকার হরণ করে গুম-খুন ক্রসফায়ারের রাজত্ব চালাচ্ছে। ২০১৯ ম্যানেজ করতেই বিএনপি এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে স্বরব গুজবমেশিন। গুজবমেশিনের খবর, তার কাছে নাকি আবারো তথ্য এসেছে, আওয়ামী লীগই আবারো ক্ষমতায় আসবে। লীগকে হারানোর মতো দল নাকি এদেশে নেই। আনন্দবাজারিরাও তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে আরো বড় গুজবমেশিন নিয়ে মাঠে। আসল কথা, “মুসলিম লীগ হওয়ার ভয় তাদেরই।” আর সেই ভয়েই সরকার প্রধানে থাকতে অনড়। সহজ কথাটিই বুঝতে এতো কষ্ট!

গণতন্ত্রের বিকল্প গণতন্ত্র। এইদফায় আর কোন ৫ জানুয়ারি হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়েই নির্বাচন। বাকি ধানাইপানাই বাদ। অন্যথায়, ৫ জানুয়ারিতে যেভাবে ভোটডাকাতি করলো, এবার আরো বেশি হবে। এর কারণ, তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ভয়ংকর গুজবমেশিন, যা গোয়েবলসকেও লজ্জা দেয়।

নিরপেক্ষ নিরর্বাচনের অন্যতম পার্টি- নিরপেক্ষ মিডিয়া। মহানপেশার এরাই জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করে। এমনকি ৫ জানুয়ারিতেও অনেক সাংবাদিকই লাঞ্ছিত হয়েও ভোটডাকাতির খবর প্রচারে ছাড় দেয়নি। এজন্য কয়েকজনকে মেরেও ফেলেছে। তবে ৫ জানুয়ারির পর সাংবাদিকতার মানচিত্র পাল্টে গেছে। অন্যতম প্রমাণ, গণভবনের সংবাদ সম্মেলনগুলো। যা বুঝলাম, “ভোটচুরির তথ্য এরাই ধামাচাপা দিয়ে বলবে, শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।” রাজনৈতিক মদদে এরা এখন কতোটা প্রভাবশালী, প্রমাণ হয়েছে কম্বোডিয়া ফেরত সংবাদ সম্মেলনে।

নিজের অজান্তেই অপাত্রে এতো বেশি ঘি ঢেলে ফেলেছেন, না নেচে রাধার উপায় নেই। চেষ্টা করলেই পা পিছলে মুসলিম লীগের অবস্থা হবে। ড্রেনের মুখে ঢাকনা দেওয়ার ক্ষমতা যাদের নেই, তাদের মুখে উন্নতির প্রলাপ, তীর্থের কাকের মতো। সুতরাং যেকোন মূল্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধ্য করতে অনড় থাকবে ‘জাতিয়তাবাদি বাংলাদেশ।’ এর বাইরে সবকিছুই নাকচ।

 -মিনা ফারাহ।

ইমেইল: [email protected]

১৯ ডিসেম্বর ২০১৭,  নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 5.5/10 (2 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: +2 (from 2 votes)
সম্পূরক প্রশ্নোত্তরের প্রতারণা এবং রওশনের বেদনা, 5.5 out of 10 based on 2 ratings