ডিভাইড এণ্ড রুলের পোশাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ!

December 30, 2017 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


অনাদিকাল হতেই ফলাফলের আশায় মানুষ পরিশ্রম করে। কিন্তু ৯ বছরের ‘পক্ষ-বিপক্ষের’ যুদ্ধের ফলাফলটা কী? নাকি হাজার হাজার ঘণ্টা সময়, মেধা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, অকটেন… খর্চ করে এমন কোন ফর্মূলা আবিষ্কার করেছি, যা দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনে দুইপক্ষই একমত! মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য এখন সবচে’ বড় হাসির খোরাক। বক্তব্যের সারাংশ- বিএনপি-জামায়াতকে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে হবে। প্রসঙ্গ, চার্চিলের সিক্রেট প্লান এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের স্ট্যান্ট।

মাউন্টব্যাটেন চেয়েছিলেন, বিবাদমান দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে একমত করে- অবিভক্ত ভারতের শান্তিপূর্ণ সমাধান। কিন্তু পার্টিশন নিয়ে রায়ট শুরু হলে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভারত ভাগে বাধ্য হলেন ভাইসরয়। পুরো বিষয়টাই চার্চিলের প্রতারণা বলে দাবি “দ্যা শেডো অব দ্যা গ্রেট গেইম” বইয়ের লেখক নরেন্দ্র সিং সেরিলার। প্রিন্স চার্লসের উৎসাহে বইটি থেকে নির্মিত ছবির নাম- “ভাইসরয়ে’স হাউজ।”

সেরিলা লিখেছেন, ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে পাওয়া অনেক সিক্রেট ডকুমেন্টস অনুযায়ী, ১৯৪৫ সনেই গোপনে পাকিস্তান সৃষ্টির মানচিত্র বানিয়েছিলেন “ওয়ার টাইম প্রধানমন্ত্রী চার্চিল।” উদ্দেশ্য, একটি ‘বাফার স্টেট’ অর্থাৎ দুটি বিবাদমান দেশের মধ্যখানে ৩য় দেশ বানিয়ে সোভিয়েতকে দূরে রাখা। ডকুমেন্টের নাম, “ওয়ার কেবিনেট-টপসিক্রেট-পোস্ট হস্টালিটিস প্লানিং।” চার্চিলের সন্দেহ, অবিভক্ত ভারত থাকলে, এশিয়া দখল করবে সোভিয়েত। এই কাজে সবচে’ বেশি প্রয়োজন বন্দর। সোভিয়েতের বন্দরগুলো অধিকাংশ সময়েই বরফ। সেজন্যই স্টালিনের চোখ, উষ্ণপানির করাচির পোর্ট।

লেখকের দাবি, পাকিস্তান বানানোর বহু আগেই ছদ্মনামে জিন্না এবং চার্চিল যোগাযোগ করতেন। পূর্বপরিকল্পিত রায়টগুলোর উদ্দেশ্য, দেশবিভাগে মাউন্টব্যাটেনকে মোটিভেটেড করা। এতোবড় মানচিত্র বির্ণিমানে মাত্র ২ মাস সময়? চার্চিলের মিলিটারি চিফ অব স্টাফ ‘লর্ড ইসমের’ অফিসে সিক্রেট প্লান দেখার পরেই উভয়ের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। মাউন্টব্যাটেন বুঝতে পারেন, পরিণতি কী হতে যাচ্ছে এবং সেটাই হলো। সাম্রাজ্য হারানোর প্রতিশোধ নিতে যে আগুন জ্বালালেন চার্চিল, পরবর্তীতে আগুন আরো ছড়িয়ে পড়লো। কাশ্মির-বাংলা-পাঞ্জাব-অরুণাচল… দেশবিভাগের ২৪ বছর পরেই আরেকটি দেশবিভাগসহ অন্যান্য যুদ্ধ-দাঙ্গা লেগেই আছে।

প্রসঙ্গ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টির পেছনে আওয়ামী লীগেরও সিক্রেট প্লান। এই আগুনে পেট্রোল ঢালছে পুবভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো, যাদের একমাত্র আস্থা আওয়ামী লীগে। আর এই কারণেই অদম্য হাইকমান্ড। তাকে রুখে দেয়ার মতো শক্তি কোথাও নেই। তার পকেটে রাশিয়া এবং চীনের ভেটো ছাড়াও ভারতের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর সমর্থন।

 

খান আতার কপালে রাজাকার সেঁটে দেওয়ার বিষয়টির ব্যাখ্যা। এখন আমরা ব্রিটিশ-ভারতের মতো, হয়- এইপক্ষ, নয়- ওইপক্ষ। হঠাৎ তাকে রাজাকার বানালো বাচ্চু। খান আতা রাজাকার হলে, সাড়ে ৬ কোটি মানুষও রাজাকার। চমৎকার ব্যাখ্যা করেছিলেন, সাপ্তাহিক হলিডের এনায়েতউল্লা খান।

তখন যা ঘটেছিলো। প্রায় ৯৯ ভাগ হিন্দু এবং অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধারা বাদে সকলেই দেশে। ৭১এ আমার শ্বশুরও দেশেই সরকারি চাকুরি করতেন। ডালভাত খেতে হলে এছাড়া গতি নাই। এর মানে অবশ্যই তিনি রাজাকার নন। তার মতো সাড়ে ছয় কোটি মানুষ তখন দেশেই। যে কারণে মুনির চৌধুরি, আব্দুল আলীম, ড. নীলিমা ইব্রাহিমরা, সাংবাদিক সিরাজউদ্দিনরাও দেশেই। হিন্দু হওয়ায় আমার আত্মীয় বিধবা হলেন। আরেকটি হিন্দু পরিবার বিধবা হলো পাকসেনাদের ভুলে। তারা মনে করেছিলো লোকটি মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু আসলে তা নয়। ফলে পুরো ৯ মাস শহীদ পরিবারের ভরণপোষণ করলো খুনিরাই। এজন্য কী ওই বিধবাকে রাজাকার বলবো? খান আতাকে নিয়ে যারা উশৃংখল বক্তব্য দেয়, তারাই- ‘ইতিহাস বিকৃতির বিষবৃক্ষ।’

যুদ্ধফেরত সৈন্যরা মানসিক রোগ থেকে ‘পোস্ট ট্রমাটিক সিনড্রোম’-এর কারণে বিশৃংখল হয়ে ওঠে। ইরাক-আফগানিস্তান ফেরত মার্কিন সৈন্যরা হামেশাই সমস্যার সৃষ্টি করছে। মুক্তিযুদ্ধের পরেও সেটা হয়েছিলো। নাসিরউদ্দিন বাচ্চুর জানা উচিত, ছবিটির উদ্দেশ্য ওদেরকে সুপথে আনা।

আবার জিয়াকে  বহুদলীয় গণতন্ত্রের ক্রেডিট দেওয়ায়, ইসির উপর দারুণ ক্ষিপ্ত বঙ্গবীর। আমার প্রশ্ন, ৭৫এ বাকশাল বিলুপ্ত না করলে, কী ‘কৃষক-শ্রমিক’ দল বানাতে পারতেন? আসল কথা, চার্চিলের মতোই আওয়ামী লীগেরও উদ্দেশ্য, মাস্টারপ্লান অনুযায়ী পক্ষ-বিপক্ষের বিতর্ক বাঁধিয়ে রাখা।

 

ব্রিটিশের ডিভাইড এণ্ড রুলের লক্ষ্য, সব ধর্মের মানুষের মধ্যে কলহ বাঁধিয়ে রেখে রাজত্ব করা। মানুষ একত্র থাকলে, ব্রিটিশকে চলে যেতে হতো। হয়নি বলেই ৭০ বছর পরেও এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের মানুষকে হত্যা করছে। অন্যদিকে, “পৃথিবীর প্রতিটি বড় দেশেই সব ধর্মের মানুষ থাকা সত্ত্বেও কোথাও কিন্তু জিন্না, গান্ধি, নেহেরুর মাতুব্বরির প্রয়োজন হয়নি।” হলে, আমেরিকার অবস্থা বহু আগেই ব্রিটিশ-ভারতের মতো খণ্ডবিখণ্ড হতো। ড. কিং-এর সিভিল রাইটস আন্দোলন সফল বলেই, পৃথিবীর সব ধর্মের এবং সব দেশের মানুষই আমেরিকাতে নিজনিজ সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করছে।

প্রিন্স চার্লসের দাবি, তার গ্রেটআঙ্কেল কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না এবং ভালোমানুষের ইমেজকেই কাজে লাগিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির নেপথ্যে প্রতিশোধপরায়ণ চার্চিল।

প্রসঙ্গ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে হঠাৎ বিতর্ক কেন? বিতর্কের অবসান হয়েছিলো ১৭ জুলাই ১৯৭৩এর ১ম সংশোধনীতে। যাচাই-বাছাই শেষে যুদ্ধাপরাধের মিমাংসাও হলো। এরপর এমনকি কি ঘটলো, যেজন্য আওয়ামী লীগকে ব্রিটিশের আকার ধারণ করতে হলো?

বাস্তবতা এই। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এই অঞ্চলে ক্রমশই দুর্বল হয়ে পড়ছে। শূন্যস্থান পূরণ করছে পুবভিত্তিক কর্পোরেট শক্তিগুলো, যাদের অন্যতম- সোভিয়েত ভাঙ্গা রাশিয়া। ‘জার’ পরবর্তী ধূর্ত লৌহমানব পুতিনের লক্ষ্য ভারতকে সঙ্গে করে এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার। রাশিয়ার পুরানো বন্ধু আওয়ামী লীগ। এর মূলে ৭১এ ইন্দিরা-কোসিগিন ট্রিটি। মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারত-রাশিয়ার নবযুগ শুরু। রাশিয়ার সামরিক, স্ট্যাটেজিক এবং কুটনীতিক সাহায্য ছাড়া এতো দ্রুত বিজয় সম্ভব হতো না। অন্যতম উদাহরণ, বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন ডিপ্লোমেসি। যে কারণে এখন নতুন নতুন বিদেশিদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করতে বাধ্য হচ্ছে। যে কারণে ওরাও ঘটা করে বিজয়দিবস উদ্‌যাপন শুরু করলো। ষড়যন্ত্রের গভীরে পৌঁছানোর দায়িত্ব কার?

চার্চিলের মতোই এটাও পুবভিত্তিক শক্তির মাস্টারপ্লান। উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে “বাফার স্টেটের” মতো ব্যবহার করে পশ্চিমা শক্তিগুলোকে দূরে রাখা। “জিওপলিটিক্যালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশকে ঘিরে যা ঘটছে, সেই চোখেই করাচিকে দেখেছিলেন চার্চিল।” একই কারণে বিদেশিদের চোখে বাংলাদেশও মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদের আশ্বাসেই অদম্য হাইকমান্ড ও তার পরিবার। এবং বিলুপ্তর পথে বিএনপি-জামায়াত!

পক্ষ-বিপক্ষ বলে আসলেই কিছু আছে কী? আসলে কৃত্রিম যুদ্ধ বাঁধিয়ে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ধাবিত করাই উদ্দেশ্য। দুই দলের মধ্যে কলহ বাঁধিয়ে রেখে, ৭১এর কৃতিত্ব দখল করাই উদ্দেশ্য। দিন যতোই যাচ্ছে, ক্ষমতা নিয়ে পরিসি’তি ততোই ৪৬এর আকার ধারণ করছে। এমনকি ব্রিটিশ-ভারতেও মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের নেতারা বারবার আলোচনায় বসতো।

কিন্তু ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে কী আনলো? এককথায়, ওটাই ষড়যন্ত্রের বিষবৃক্ষ। এরপর ২০০ বছর পরেও বিএনপি-আওয়ামী লীগ আর কখনোই এক হতে পারবে না। সংখ্যালঘুরাও স্বস্তি পাবে না। তত্ত্বাবধায়ক বিলুপ্তি ছাড়াও একই সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং রাষ্ট্রধর্মের স্ট্যান্টবাজি। বাঙালি এবং বাংলাদেশি পরিচয় নিয়েও স্ট্যান্টবাজি। ১৫তম সংশোধনীই ক্ষমতার খাঁটি বলেই বাঘের পিঠে হাইকমান্ড- বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচন করতে ডেসপারেট।

 

“হিন্দু-মুসলিম এক থাকলে, ব্রিটিশ কখনোই সফল হতো না। আওয়ামী লীগ-বিএনপিও এক থাকলে, সাম্রাজ্যবাদি শক্তিও সফল হতো না।” ৭০এর আওয়ামী লীগকে যারা চেনে, অধিকাংশই বর্তমান আওয়ামী লীগকে চেনে না। এমনকি বঙ্গবীরের মতো বহু আওয়ামী প্রেমিরা, দলটিকে ত্যাগ করেছে। ৪ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের ১ম পর্বের পরিকল্পনা সফল। দ্বিতীয় পর্বে ২০ দলের হাত-পা বেঁধে নির্বাচনে এনে, বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়াও সমাপ্ত। “আদালতের নামে খালেদাকে নাজেহালই এককথায় প্রকাশ।” আওয়ামী লীগকেই বারবার ক্ষমতায় রাখতে, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বিশেষ মন্ত্রণালয়ের যেসকল পরিকল্পনা, ধূলায় উড়ে যাবে ২০ দল। মাস্টারপ্লানের সঙ্গে যারা যুক্ত, অধিকাংশই আন্তর্জাতিক শক্তি, যাদের অন্যতম ঘরের শত্রু বিভীষণ।

৫ জানুয়ারিতে কার কী ভূমিকা, অধিকাংশেরই অজানা। “আমরা সুষমার কথাই বলি কিন্তু সুষমাদেরকে চালায় কারা?” মার্কিন নির্বাচনে পুতিনের ভূমিকা সকলেই জানে। আমেরিকাতে সরাসরি ভোটচুরি না করলেও, নানান দেশে তার বিরুদ্ধে ভোটচুরির প্রমাণ। লৌহমানবের সিক্রেট, পশ্চিমাদেরকে সরিয়ে দেশে দেশে নিজের পছন্দের লোককে ক্ষমতায় বসিয়ে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। ইভিএম মেশিন নিয়ে মহাষড়যন্ত্র যার অন্যতম। তথ্যপ্রযুক্তিতে অদম্য রাশিয়ার এইদফায় সরাসরি নির্বাচনে জড়ানোর আশঙ্কা।

কারণ “ইতোমধ্যেই এতবেশি বিনিয়োগ করে ফেলেছে এবং ঋণ দিয়েছে, সরকার পরিবর্তন হলে প্রত্যেকেই ঝুকিতে পড়বে। অন্যদল ক্ষমতায় এলে, ঐতিহাসিক করাপশনের তদন্তে বাধ্য হবে। মানুষ জানতে চাইবে, চুক্তিগুলোর ব্লুপ্রিণ্ট কোথায় এবং দুর্নীতির অংশীদার কারা! কাদের পকেটে ঘুষের টাকা! লাখ লাখ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং-এর গন্তব্যস্থল! বিদেশে বিনিয়োগ এবং সেকেন্ডহোমের তদন্ত হবে। গোপন চুক্তিগুলোর বৈধতাও চ্যালেঞ্জ হবে। দায়মুুক্তি এবং কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের জবাবদিহিতা চাইবে। স্থবিরতার সৃষ্টি হলে, প্রত্যেকেই মহবিপদে পড়বে। মিলিয়ন নয়, বলছি প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা। রামপাল এবং রূপপুর জাতিয় প্রকল্পগুলো ষড়যন্ত্রের অন্যতম উদাহরণ।

মিডিয়ায় যতোটুকু দেখায়, বরফের মাথা। চুক্তিগুলোর পুরো শরীরটাই পানির তলে। আওয়ামী লীগের প্রতিটি কাজেই রাশিয়ার একপেশে সমর্থন, এমনকি ট্রাইব্যুনালকেও সমর্থন দিয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য বনাম বিএনপিকে এড়িয়ে চলা দৃশ্যমান। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে অসংখ্য চার্চিল-পুতিন্তসাউথব্লকের ভিড়…!

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য ৭১এই বেঁধে রাখা। এর বাইরে দেখতে দিলে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ফাঁস হয়ে যাবে। ফলে তারাই বিপদে পড়বে। কারণ মুক্তিযুদ্ধে কে কোথায় ছিলো, কার কী ভূমিকা, কলঙ্ক ফাঁস হতে শুরু করেছে মাত্র। অনেকেরই প্রশ্ন, সম্মুখসমরে না গিয়ে নেতৃস্থানীয়রা কেন অন্যকোথাও ছিলেন?

চার্চিল চেয়েছিলেন সোভিয়েতকে দূরে রাখতে বাফার স্টেট পাকিস্তান। পূর্বভিত্তিক শক্তিগুলো চাইছে, পশ্চিমাদের দূরে রাখতে, জিওপলিটিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের উপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা।

 

অভিযোগ অনেক কিন্তু সমাধানও থাকা উচিত। সেটা চাইলে, সবার আগে পক্ষ-বিপক্ষের বিতর্ক চাঁদে পাঠিয়ে দিতে হবে। দুই দলকেই তাদের আলোচনা থেকে ‘পক্ষ-বিপক্ষ’ শব্দটি মাইনাস করতে হবে। সেটা করতে চাইলে, সবার আগে ১৫তম সংশোধনী বিলুপ্ত করতে হবে। চার্চিলের বেলায় যা অসম্ভব ছিলো, এখানে নয়। কারণ ১৫তম সংশোধনীর পুরোটাই পাবলিকের আদালতে।

এখন যা প্রয়োজন। বাঙালি নাকি বাংলাদেশি, হারানো “আইডেনটিটি” পুনরুদ্ধার। “বাঙালি নাকি বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ?” ৭২এর সংবিধান দিয়েই মহাষড়যন্ত্রের যাত্রা শুরু। বাংলাদেশের অস্তিত্ব হয়তো অনেকেই স্বীকার করতে চায় না। ব্রিটিশ-ভারতের দুই বাংলার মানুষের পরিচয়- ‘বাঙালি’, যার আয়ু শেষ হয়েছে ৭১এর ১৫ ডিসেম্বরে। এরপর যে রাষ্ট্রটির সৃষ্টি হলো, সেটাই বাংলাদেশিদের একমাত্র পরিচয়। তবে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগই বাঙালি আর বাংলাদেশিকে মিশিয়ে এমন জিলাপির-প্যাঁচ লাগালো, প্রকৃত অর্থে যা জাতিয়তাবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। একমাত্র জাতিয়তাবাদই একটি রাষ্ট্রকে তার সঠিক পরিচয় নির্ধারণ করে দেয়।

৫ম সংশোধনীর ব্যাখ্যায় যা বলা হয়েছিলো, “আমরা বাংলাদেশি, আমাদের ইতিহাস ভিন্ন, তাই আমাদের সংস্কৃতিও ভিন্ন। আমাদের ভাষাও আলাদা, যাকে আমরা নিজেদের মতো করে আধুনিক করছি। আমাদের গদ্য এবং পদ্য আলাদা। জিওগ্রাফিও আলাদা। নদী-মাটিও ভিন্ন। আমরা নিরঙ্কুশভাবে স্বাধীন…। আজকাল মানুষের মধ্যে এমন একটি চেতনার জাগরণ হচ্ছে, যা কিনা, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসহ অন্যান্য দেশগুলো থেকে ভিন্ন।”

১৫তম সংশোধনীতে যা আনলো, সমালোচকদের ভাষায়, “অধিকাংশ মানুষের প্রত্যাশা বিতর্কিত করলো, আর্টিকেল ৬(২)। ওই আর্টিকেলে বলা হয়েছে, “জাতি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় তারা বাঙালি এবং নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশিদের পরিচয় তারা বাংলাদেশি।” এরপরেই কিছুদিন প্রতিক্রিয়া কিন্তু তারপর? সংশোধনীটি বিলুপ্ত করার এটাও অন্যতম কারণ। জাতি হিসেবে আমরা ৭১এ বাঙালি পরিচয় থেকে বের হয়ে এসেছি।

‘আইডেনটিটি’ নিয়ে আওয়ামী লীগের স্ট্যান্টবাজি চি‎িহ্নত করে, সোচ্চার হওয়া জরুরি। পক্ষ-বিপক্ষের বিতর্ক, আসলেই যা “বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ” ধ্বংসের বিতর্ক। এটা পুনরুদ্ধার হলেই, বাকি সমস্যাগুলো মিটে যাবে।

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

২৬ ডসিম্বের ২০১৭,  নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

 

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)