না বলেও যা বলে গেলেন প্রয়াত নগরপিতা

January 17, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

পাকিস্তান আমলে মেট্রিকে ফার্স্ট ডিভিশন পেলে বাড়ি ভরে গেলো আমাকে দেখতে আসা লোকজন দিয়ে। সবার মুখে এককথা, ফার্স্ট ডিভিশন কী মুখের কথা! বাবার গর্ব দেখার মতো! দুর্ভাগ্য, একজীবনেই দেখতে হলো, শিক্ষামন্ত্রীর মুখে ঘুষের যোগ-বিয়োগ শিক্ষা। এরপরেও স্বপদে থাকার মতো বিশ্ববেহায়া। তবে বিশ্ববেহায়া তিনি একা নন। এজন্য দায়ী আওয়ামী লীগ, যারা সংগ্রামী দলের বদলে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। প্রথমদফায় ক্ষমতায় এসেছিলো অদৃশ্য ভোটডাকাতি করে। দ্বিতীয়দফায় উন্মুক্ত ডাকাতি। এদেরকে যারাই শক্তি যোগাচ্ছে, তারাই ইরাক-আফগানিস্তানে নরকের সৃষ্টি করেছে। এদের মোটিভ নিয়ে কেউই আতঙ্কিত নয়। উদ্দেশ্য, সমাজের সর্বস্তরে দুর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির মাধ্যমে অঢেল টাকার ব্যবস্থা করা, যার পেছনে অন্ধের মতো ছুটবে সর্বস্তরের মানুষ। দুর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠানগুলোই হবে অবৈধ টাকার একমাত্র ঠিকানা, যেগুলো ব্যবহার করবে দলীয় প্রতিষ্ঠানের মতো। শুরু থেকেই যুব সমাজের নীতিনৈতিকতা ধ্বংস করতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গডফাদারদের হাতে তুলে দিয়েছে। প্রশ্নপত্র এবং পরীক্ষার রেজাল্ট ফাঁস, টিউটেরিয়াল সিন্ডিকেট কেন এতো শক্তিশালী? কারণ দুর্নীতিবাজদের হুকুম মানতে বাধ্য নয় দুর্নীতিবাজরা। বিষয়টি গ্যাংস্টার বনাম গ্যাংস্টারের যুদ্ধের মতো।

নগরপিতার মৃত্যুতে উল্লাসিত দখলদারেরা পুর্নরুজ্জীবিত হয়ে দখলে নেমেছে। রাষ্ট্রকে এরা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটাই জানিয়ে গেলেন নগরপিতা। এই কাজটাই হোক তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। লেখাটির উৎসও তিনি।

মেয়রকে যারাই ক্ষমতায় বসিয়েছিলো, তারাও অনির্বাচিত হওয়ায়, দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যায়নি প্রশাসন। দুর্নীতি কখনোই পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব না। তবে আইনের শাসন থাকলে অনেকটাই সম্ভব। সেজন্য প্রয়োজন নির্বাচিত সরকার।

দেশের সর্বোচ্চ বিচারবিভাগ এবং বিচারকদের সমন্বয়ে জ্ঞানীগুণী নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়েছিলো- বর্তমান সংসদ অবৈধ। সেখানে কী হলো? দুর্নীতির রোগবালাই কোন পর্যায়ে,  বেসিক ব্যাংকের বাচ্চু ডাকাতের পর ফারর্মাস ব্যাংকের মখাই  প্রমাণ। এদেরকে বিচারের আওতায় আনার বদলে রাজনৈতিক পরিচয়ে আরো ৩টি নতুন ব্যাংকের ঘোষণা? শেয়ারবাজার ধ্বসের পরেও একই বক্তব্য মুহিতের।

কোনরকম জবাবদিহিতা ছাড়াই, মুহিত-বাজেট প্রতিবছরই কেন আরো বৃহদাকার ধারণ করে? উত্তর পাওয়া যাবে কুখ্যাত আমেরিকান ব্যাংকডাকাত উইলি সাটনের কাছে। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলো, “তুমি ব্যাংকডাকাতি করো কেন?” উত্তরে সাটন- “আমি ব্যাংকডাকাতি করি কারণ, ওইখানেই টাকা।” গেলো ৯ বছর ধরে যা দৃশ্যমান- মেগাবাজেট, কুইকরেন্টাল, একনেক, পদ্মাসেতু, ৫০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, ব্যাংক, মিডিয়া, আবাসন, সুদবাজার, গোপনইজারা… সর্বত্রই ব্যাংক এবং এর পেছনেই ছুটছে ডাকাতরা।

প্রয়াত নগরপিতা জানিয়ে গেলেন, বৈধ সরকার না থাকলে, উল্টা দুষকৃতিকারাই রক্ষা করবে অবৈধ প্রশাসন। অন্যথায় ১/১১এর মতো হয় জেলে, নয় পালিয়ে বাঁচতে হবে। ফিরে এসে আরো বেশি অদম্য এরা। উদ্দেশ্য, ২০৪১ পেরিয়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রই দখলে রাখা। অন্যথায় ব্যাংক থাকবে না, ডাকাতিও সম্ভব না, টাকার খায়েশ ধুলায় মলিন হবে।

১৬তম সংশোধনী বাতিলের বিষয়টিকে খুব কমই গুরুত্ব দেয়া হলো। সিনহাকে চাকুরিচ্যুত করার পেছনের শক্তি- আন্তর্জাতিক। হ্যাঁ, ১৬তম সংশোধনী বাতিল হবে। অবৈধরাই বিচারপতিদের বিচার করবে- করছেও। সিনহা বনাম খায়রুল হকদের দৃষ্টান্ত একমাত্র আওয়ামী লীগ। সিনহা চ্যাপ্টার শেষ, গ্যাংস্টারদের এবার ঠেকায় কে? তবে এরা শুধু এখন আর আওয়ামী লীগেই সীমাবদ্ধ নয়।

রসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলতে চেয়েছেন, হাসিনাই সরকার প্রধানে থেকে নির্বাচন দিলে বিএনপির সমস্যা নাই। ব্রিটিশ আমল থেকেই ঘরের শত্রু বিভীষণ বলে কথা। অনেকেরই মোটিভ সম্পর্কে জনমনে স্পষ্ট ধারণা নেই। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি ইডিয়ট পার্টি, লিডাররা স্টুপিড। দলনেত্রী এদের নাম দিয়েছেন, ভূত-পেত্নি (দ্রঃ ইত্তেফাক, ৩১ ডিসেম্বর)। এইরকম একটি অকেজো বিরোধিদল থাকলে, ২০০ বছর ক্ষমতায় থাকা কোন ব্যপার?

জোটসরকার দুর্নীতি করেনি সেটা বলবো কেন? তবে ১১ বছর ক্ষমতায় না থাকাটা বিশাল ব্যাপার। যেকারণে তাদের কর্মকাণ্ড অপ্রাসঙ্গিক। বর্তমান জনজীবনেও প্রভাবহীন। ৯ বছর ক্ষমতায় থেকেও জোটসরকারকে প্রত্যেকদিন যারাই অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে নিজেদেরকে নির্বাচিত সরকার বলে দাবি করে, তারাই ৪৭ বছরের শ্রেষ্ঠ দুর্নীতিবাজ। এদের সিন্ডিকেট এতো বিশাল, যার তলে মাটিচাপা পড়ে বহু আগেই খাম্বা দুর্নীতির মৃত্যু হয়েছে। তবে ‘আওয়ামী খাওয়াভবনের’ তুলনায় ‘হাওয়াভবনকে’ শিশু বললেও ভুল হবে বরং ভ্রুণ।

নির্বাচিত সরকার থাকলে, মন্ত্রীর জামাই তারেক সাঈদসহ ২৬ খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর কিংবা হলমার্কের তানভীরের ফাঁসির জন্য এতোকাল অপেক্ষা করতে হতো কী? ব্যাংকখেকো বাচ্চু এবং মখাকে নিয়ে যখন তোলপাড় হওয়ার কথা, উল্টা সবাই ব্যস্ত অর্ফেনেজ ট্রাস্ট মামলা নিয়ে! “যেন দাউদ ইব্রাহিমের বিচার করছে পুরান ঢাকার আদালত।” অন্যান্য নেতাকর্মীদের কথা বাদই দিলাম, সপ্তাহে একাধিকবার হাজিরা দিতে হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আর ফুরফুরা বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রাক্তন গর্ভণর আতিউর, বাচ্চু, মখা ডাকাত…!

 

বলছি, গডফাদার সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্কের কথা। ধরা যাক, আওয়ামী তিনটার্মেই শেয়ারবাজার দুর্নীতি এবং আবাসনখাতে ধ্বস। প্রতিষ্ঠান দুটোই এখনো ‘কোমায়’। এর সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই প্রশাসনে। এক বিলিয়নিয়ার হাইকমান্ডের রাজনৈতিক উপদেষ্টাও! যুগান্তর পত্রিকা একাধিকবার যার ব্যাপক অর্থকেলেংকারী এবং জিএমজি এয়ারলাইন্সের ৩০০ কোটি টাকা খেয়ে ফেলা বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছিলো। বলছি, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের শিরোমনি এই লোক, ৩২ নম্বরের ত্রাণতহবিলের দানবীরদের শীর্ষে। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলেই এসব রোগবালাই ছড়ায়, কিন্তু কাউকেই জেলে যেতে হয় না।

সরকারি এবং বেসরকারি- যা হচ্ছে ব্যাংকে। গ্যাংস্টাররাই ভূয়া ব্যবসা খুলে বন্ধ দরজার ভেতরে ঋণ লেখে। নিজেরাই গ্রাহক, প্রাপক, পাচারকারী। আন্ডারইনভয়েস, ওভারইনভেয়েস, ভূয়া দলিল…। ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করা সবচে’ সহজ। উদাহরণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ মিলিয়ন ডলার উধাওয়ের সময়কালীন গর্ভণর আতিউর। মখা-বাচ্চুর মতোই তিনিও নিরাপদে! আতিউর জানেন না, হতেই পারে না।

কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের কয়েকটি নমুনা।

যিনি পরিবহণ শ্রমিক নেতা, তিনিই মন্ত্রী শাহজাহান খান। যিনি এমপি পাপন, তিনিই সারাক্ষণ মাল্টিমিলিয়ন ডলারের ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত। যিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী, টেলিভিশন খুললেই বিজ্ঞাপনে তার কণ্ঠ।

যিনি সড়ক মন্ত্রী, তিনিই মহাসচিব, তিনিই আওয়ামী লীগের সবচে’ বড় মাইক। তার অবহেলায় সড়কে প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল। কারণ, সড়কে সময় দেওয়ার মতো সময় তার হাতে নেই। বরং ব্যস্ত বড়বড় কাজে। উদাহরণস্বরূপ, অমৃত্যাক্ষর ছন্দে প্রত্যেকদিনই যাত্রাগানের গায়কের সুরে বলেই যাচ্ছেন, হাসিনাকে সরকার প্রধানে রেখে নির্বাচন। নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে বিএনপি। ৬ বছর পরেও পদ্মাসেতুর একটা ঠ্যাং ছাড়া আর কী দেখালেন! আসল কথা, সড়কমন্ত্রীর উন্নয়নের মহাসড়কে ব্যাপক ধ্বস।

ভূয়া সরকারের আমলে ভূমিদস্যুরা সবচে’ বেশি বেপরোয়া। ৯ বছরে কতোগুলো বস্তিতে আগুন এবং কারা দিচ্ছে? বস্তিসিন্ডিকেটটি এতো বেশি শক্তিশালী, কালশীর ২ বছর পর আবারো জ্বালিয়ে দিলো মিরপুরের বস্তি। অথচ কালশীতে ৯টি মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি এমপি মোল্লার যুক্ত থাকার প্রমাণ মিডিয়ায় সত্ত্বেও কিছুই হলো না। বলছি, জীবিতাবস্থায় একজন অসহায় মেয়রের কথা, যার মৃত্যুর পরেই দখলদারেরা বেজায় খুশি।

 

বাংলাদেশে গুম এখন টক-অব-দ্যা ওয়ার্ল্ড। উত্তরে হাইকমান্ড- “ইংল্যান্ড-আমেরিকাতেও গুম হয়।” এর একটি সুষ্ঠু জবাব প্রয়োজন। কারণ এভাবে গুমের ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। শুধুই কী ২০ দল? গুমের তালিকায় মিডিয়া, সাংবাদিক, পদক, কবর, পানামা পেপার্সের ২৬ আওয়ামী লীগার…।

হঠাৎ বাড়ি ঘেরাও করে অভিযানের তোলপাড়। সব মিডিয়া তখন অভিযানের দিকে ছোটে। দেশি সন্ত্রাসীরা কিন্তু বিদেশিদের মতো বাজার, ধর্মাঙ্গন বা বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মাহুতির ঘটনা ঘটায় না। কিন্তু রাষ্ট্র যেন কোত্থেকে আগাম খবর পায়, কোন বিশেষ বাড়িতে সন্ত্রাসীরা রয়েছে। অভিযান শেষে শুধুমাত্র সন্ত্রাসীরাই মরে। ঘটনাগুলো তখনই বেশি ঘটে, যখন অবৈধ সরকারের ভীত নড়েচড়ে ওঠে।

করাপশনের গভীরে পৌঁছানোর দায়িত্ব যাদের, দুদক এবং বিচারবিভাগ নিরব কেন! গুপ্ত আস্তানা ফেরত ভিকটিমদের প্রত্যেকের ঘটনাই হুবহু। মিছিরআলী কিংবা দস্যুবহুর সিরিজের মতোই রহস্য। চোখ বেঁধে ফেলে ৩ ঘণ্টার যাত্রা। এরপর বনাঞ্চলের গহীনে একটি বাড়ির শানবাঁধা মেঝেতে দিনের পর দিন রাখা। দরজার নিচ দিয়ে খাবারের প্লেট। ২ সপ্তাহ পরপর বাইরে এনে কিছুক্ষণের জন্য চোখ খুলে দেয়া। মারপিট না করা। ফেরার পথেও ৩ ঘণ্টার যাত্রা। নামিয়ে দেওয়ার সময় একই বক্তব্য। “পেছন ফিরে তাকাস না, তাকলেই গুলি করবো।” উৎপল দাসরা নিশ্চয়ই মামাবাড়িতে বেড়াতে যান না। কিন্তু ফিরে এসে সকলেই বোবা হয়ে যায়? “নাকি প্রত্যেকেই কণ্ঠনালী জমা রাখার শর্তে ফেরত আসে!” বিএনপির ২ নেতাকে গুমের দীর্ঘদিন পর, হঠাৎ গ্রেফতার দেখালো পুলিশ। এরপরেই জেলহাজতে রেখে রিমান্ড চাওয়া।

যুক্তিবাদিরা বলবে, “ভিকটিমদের প্রথম এবং দ্বিতীয় গুম-বাড়ির ঠিকানা একটাই!” যারা সন্ত্রাসীদের আগাম তথ্য জানার মতো পারদর্শী, নিশ্চয়ই ‘গুম-বাড়িটিও’ বের করার মতো পারদর্শী।

 

এতোকিছু বলার কারণ অনুন্নত দেশে ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব নেয়া সবচে’ কঠিন কাজ। কর্মসংস্থান, আইনের শাসন, মানবাধিকার… প্রতিটি ইঞ্চিতে চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ, ভেনিজুয়েলা, নাইজারের মতো দেশগুলোতে গণতন্ত্রের নামে বিরাট ধাপ্পাবাজি। বন্দুকের নলের মুখে ভোটের বাক্স ভরে নিজেরাই ক্ষমতায়। ফলে বছর জুড়েই উত্তেজনা, অসন্তোষ, বিক্ষোভ, রায়ট, টিয়ার-গ্যাস, গুম-খুন…।

ঢাকা এয়ারপোর্টের পুলিশের পক্ষ থেকেও চমৎকার তথ্য। “শ্রমিকেরা নাকি কামলা।” সত্যিই তাই। কারণ বিশেষ রাজনৈতিক দলের ভরণপোষণ যোগাতে গিয়ে, অন্যদের কর্মসংস্থানের জায়গাগুলো ধ্বংস করেছে। উপজেলা থেকে রাজধানী, সর্বত্রই চাকরির পূর্বশর্ত, দলের কিনা!

রাজনৈতিক পরিচয়ে কর্মসংস্থানের বিষয়টি এতো বেশি ক্ষতি করেছে, যেজন্য লাখ-লাখ যুবক বেকার। প্রতিবছরই পুরানো বেকারদের সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরো কয়েক লাখ। এরাই কর্মসংস্থানের অভাবে কেউ যোগ দিচ্ছে সিন্ডিকেটে, কেউ বিদেশে যেতে মরিয়া। ২০১৭ সনেই গেছে ১৩ লাখের বেশি। আওয়ামী লীগের আমলে যোগ হয়েছে মহিলাকর্মী, আসলেই যাদেরকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহারের তথ্য মিডিয়ায়। বেকারত্ব থেকে অসি’রতা। অসি’রতা থেকে রায়ট। আগুন সামলাতে বিদেশে নতুন নতুন শ্রমবাজার খুলতে মরিয়া হাইকমান্ড। “দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা শেষ। বেঁচে আছে ফেইক নিউজের উপর।” একমাত্র বৈধ সরকারই পারে এসবের উর্ধে উঠে, জনকল্যাণে কাজ করতে।

“সুশৃংখল রাষ্ট্রই বৈধ উপায়ে জীবনজীবিকা সম্ভব করতে পারে।” গুম বিষয়ে হাইকমান্ডের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমিও পশ্চিমের রেফারেন্স দিচ্ছি। যারা আইনের বাইরে গিয়ে বড়লোক হতে চায়, পশ্চিমের আইনশৃংখলাবাহিনী এদেরকে প্রতিহত করে। আর যারা সৎপথে চলে, রাষ্ট্রই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। বিশেষ করে ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পশ্চিমের অর্থনৈতিক উর্ধগতির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে সারাবিশ্বের মানুষ। ওয়ালস্ট্রিটের সৌজন্যে গেলো ৩০ বছরে মিলিয়নিয়ার-বিলিয়নিয়ারদের বিস্ফোরণ ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৫ সনে যারা এ্যামাজন স্টকে ১ ডলার বিনিয়োগ করেছে, বর্তমান মূল্য ৪০ হাজার ডলার। সার্বিক আবাসন খাতের মূল্য প্রায় ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সনে ডাউজোন্সের মূল্য বেড়েছে ২৭%।

বুঝলাম, আমেরিকাতে গুম হয় কিন্তু এই প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন। “আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, প্রতিবারই আবাসন এবং শেয়ারবাজারে ধ্বস নামে কেন? মেয়রের মৃত্যুর পরেই দখলদারেরা আবারো সক্রিয় কেন?”

 

সমস্যার গোড়া, ৫ জানুয়ারির রোগবালাই। এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার হয়নি বলেই, রন্ধ্রে রন্ধ্রে গ্যাংস্টারদের বিস্তার। পুলিশের ঘুষ খাওয়া যেমন ওপেনসিক্রেট, তেমনই মিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ঘুষের ফরমান জারি করলেন শিক্ষামন্ত্রী নিজে। জিয়া অর্ফেনেজের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি ক্ষয় করলেও মাইনু-ফাকরু সরকারকে বৈধতার ঘোষণা দিয়েছিলো কে?  যুদ্ধাপরাধীদেরকে ফিরিয়ে আনতে মিলিয় মিলিয়ন ডলার ব্যয় কিন্তু মাইনু-ফাকরুকে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহ না থাকার কারণ? ১/১১এর ষড়যন্ত্রের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। তবে সবার প্রশ্নের উত্তর দিলেন প্রয়াত নগরপিতা।

“রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতাদের কী বলেছেন জয়”- পরিচয়, নিউইয়র্ক, ২০ ডিসেম্বর। সারাংশ এইরকম- ১) ব্যাপকহারে জোটসরকারের দুর্নীতি প্রচারের নির্দেশ। ২) মিডিয়াসহ রাস্তা এবং সকল প্রচারযন্ত্র দখলে রাখার নির্দেশ। ৩) ব্যাপকহারে ক্ষমতাসীনদের উন্নয়ন প্রচারে বাধ্যবাধকতা। ৪) যেকোন মূল্যে আওয়ামী লীগকেই আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে।

সারমর্ম:- অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে সংঘবদ্ধদের মধ্যে সবদলেরই লোক। কারণ সৎভাবে জীবিকার সুযোগ ধ্বংস করায়, দুর্নীতিবাজদেরকে সমর্থন না করলে, না খেয়ে মরতে হবে।

 

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: [email protected]

১৬ জানুয়ারি ২০১৮,  নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: +1 (from 1 vote)