প্রণব এখন রাষ্ট্রপতি নন

January 27, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


সফরকে কেন্দ্র করে যা দেখলাম, পড়লাম, শুনলাম… বিশ্বাস করতে চাই পুরোটই দুঃস্বপ্ন। ঘুম ভাঙ্গলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

স্মরণীয় আফ্রিকান উক্তি, “যতোদিন না আহত শিকারের কথা বলতে কেউ এগিয়ে আসবে, ততোদিন শিকারির গৌরব গাঁথাই লিখে যাবে ইতিহাস।”

৯৯ ভাগ বাংলামিডিয়া যখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লেখা ‘ফায়ার এণ্ড ফিউরির’ নোংরা ঘাটছে, আমি লিখবো শিকারের ইতিহাস। প্রণবের আত্মকথার ‘ফায়ার এণ্ড ফিউরিতে’ ২০০৮এর নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং ফাঁস করে মাইনু সম্পর্কে লিখেছেন, “হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তাকে বরখাস্থ করতে পারেন, এ নিয়ে শংকিত ছিলেন তিনি। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিলাম। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ওই জেনারেলকে পদে টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিলাম। …২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতিয় নির্বাচন হলো, ওই নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হলেন শেখ হাসিনা। …শেখ হাসিনা আমার ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু। যখন তিনি জেলে ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের কিছু নেতা তাকে ত্যাগ করেছিলেন, আমি তাদেরকে নিজের অবস্থানে ফিরে যেতে তাগিদ দিয়েছিলাম।”

 

অভিযোগের সংক্ষিপ্ত তালিকা:-

- বিডিয়ার হত্যাকান্ডে ক্ষমতার মসনদ নড়ে উঠলে, প্রকাশ্যে হুমকি, হাসিনার কোন ক্ষতি হলে ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এরপরেই ঢাকায় এসে গোপন মিটিং।

- জোট সরকারের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত তার, বাস্থবায়ন করেছেন হাইকমান্ড। বেছে বেছে ফাঁসির তালিকাটিও তার। সাঈদীকে ফাঁসি না দিতে পেরে বেজায় অখুশি।

- সুজাতা মিশনের কারিগরও তিনি।

- জামায়াত ত্যাগের শর্তে দিল্লিতে খালেদাকে সাক্ষাত।

- মুর্খার্জিবাবু এলেই বড়বড় বিপদ ঘটে। ২০১৩ সনের সফরের পরেই ৫ জানুয়ারির ভূয়া নির্বাচন।

- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ বইতে লিখেছেন, প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরের আগেই হাসিনাকে গ্রিণ সিগনাল জানিয়ে দেয় দিল্লি।

- সাংবাদিক কে.পি নায়ার লিখেছেন, দিল্লি সফরে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালার বদলে রাষ্ট্রপতিভবনে আতিথ্য গ্রহণের মূলে, অবসরে যাওয়ার আগে জাতিয় নির্বাচন বিষয়ে একান্তে আলোচনা। …ইউনুস ইস্যুতে ২০১১ সনে অভ্যুত্থানের অবস্থা হলে, প্রণবকে হাসিনার ফোন। হিলারিকে তিনি জানিয়ে দেন, হাসিনার প্রতি দিল্লির ্পূর্ণ আস্থা …প্রবন্ধটিতে সজীবকে উল্লেখ করে, ওয়াশিংটনে তার বিরাট নেটওয়ার্কের কথাটিও এসেছে।

- এইবারের সফরে সন্দেহ, ২০১৯এর নির্বাচনটিও ঝুলে গেলো কিনা…

 

প্রশ্ন উঠেছে, অবসরপ্রাপ্ত কাউকে সরকারি প্রটোকলের চাইতেও অধিক গুরুত্ব দেয়া নিয়ে। নানান কারণে রাউজান এলাকাটি বিতর্কিত। সেখানে গিয়ে হঠাৎ সূর্য সেনের বাড়ি দর্শন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট উপাধির অন্তরালে প্রকৃত মিশন কী? অভিযোগ- যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট, সেটা ফকা চৌধুরীর হাতে প্রতিষ্ঠিত?

৫ জানুয়ারির ভূয়া নির্বাচনের পরেও প্রণবের সার্টিফিকেট, হাসিনার গণতন্ত্র নাকি আন্তর্জাতিক মানের। এই সফরেও বাগাড়ম্বর, গণতন্ত্রের পথেই আছে হাসিনা। অথচ তিনি কিনা সবচে’ বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের রাজনীতিবিদ! অনেকেরই অভিযোগ, প্রণব-আওয়ামী লীগ ভাই-ভাই, আলাদা করে দেখার কারণ নাই।

আনন্দবাজারের বরাত দিয়ে মানবজমিন ১৭ জানুয়ারি, “ভোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে হাসিনা-প্রণব আলোচনা।” সাংবাদিক অগ্নি রায়, “…রথ দেখা এবং কলা বেচা এই হলো তার চলতি সফরের উদ্দেশ্য। …শেখ হাসিনার বাসভবন, গণভবনে মধ্যা‎হ্ন ভোজের পর মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে হাসিনা সরকারের সঙ্গে ট্রাক-টু কুটনীতির সূত্রপাত হলো। …হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে দু’জনের। …বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন প্রণব মুখোপধ্যায়। …বছর শেষে এই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার বিএনপি অংশ নেবে কিনা, সেদিকে এখন সবার নজর।”

“খালেদা জিয়ার বিএনপি” মানে? এটা কী ২০১৯এর নির্বাচনে হাইব্রিড বিএনপির ইঙ্গিত? সবচে’ কাকতালীয়, দুদিন আগেই জঙ্গি অভিযানে ৩ জঙ্গি নিহত। এরপরেই বাংলা একাডেমিতে বিশেষ ব্যক্তির উন্নতির বাগড়ম্বরের পাশাপাশি, জঙ্গিদেরকে নিয়ে সাহিত্যকর্মের পরামর্শ! তবে কী ‘বঙ্গভঙ্গ’ মেনে নেননি প্রণববাবু?

 

বুদ্ধ, বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দ, আদিশংকর, রামকৃষ্ণ, বেদব্যাস… ৪টি ধর্মের জন্মস্থান… বেদ-উপনিষদ-গীতা-মহাপুরাণ… অসংখ্য মুণিঋষিদের পদচারণায় মহিমান্বিত প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য লেখার যোগ্য আমি নই। এই ভারত কী দেয়নি তার সন্তানদেরকে! ১৮৯২ সনে বিশ্ব হিন্দুসভায় বিবেকানন্দ যে কথাটি বলে স্ফূলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠলেন্ত “ভারত সবসময় সবাইকেই বিপদে-আপদে আশ্রয় দিয়েছে।” হ্যাঁ, এই ভারতই একজন চা বিক্রেতাকে প্রধানমন্ত্রী, মুসলিমকে প্রেসিডেন্ট, বাঙালিবাবুকে সবচে’ বেশি সময় ধরে কংগ্রেসের রাজনীতিতে থাকার সুযোগই শুধু নয়, বিজেপির আমলে প্রেসিডেন্টও বানিয়েছে।

প্রশ্ন, অতীত ঐতিহ্য কতোটুকু ধারণ করে বর্তমানের রাজনীতিবিরা! “গেরুয়া কাপড় পড়লেই বিবেকানন্দ হওয়া যায় না। হাঁটুর উপর ধুতি পড়লেই গান্ধি নয়।” যে বিবাহে একবার পচন ধরে, কিছু দিয়েই জোড়া লাগে না। “অন্যথায় অপু সরকার আর শাকিবের অবস্থা হয়। এখন তাদের বেডরুমের খবর সারাদুনিয়া জানে।”বাংলা ভাগও তাই। যা সত্য, তা স্বীকার করতে হয়। করেনি বলেই, দেশবিভাগের পর থেকে এসব হচ্ছে।

আমার অভিজ্ঞতায় পিতার অসমাপ্ত এজেন্ডা পূরণ করেছেন ইন্দিরা, যার অন্যতম নিয়ামক প্রণব। পৈত্রিক এবং বিবাহ সূত্রে বাঙালি হওয়ায় বিষয়টি বিস্ফোরক হয়েছে। দেশবিভাগের ২৪ বছর না যেতেই, আরেকটি দেশবিভাগের কুশীলবদের ‘ফায়ার এণ্ড ফিউরি’ কেউ লেখে না। ৭৫এ তার বাড়িতেই মুজিব পরিবারের বাকি সদস্যদের আশ্রয়। হাসিনাও বারবারই এই উদাহরণ দিয়েই রাষ্ট্‌্রকে পারিবারিক পাল্লায় তোলায়, বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ ধ্বংস হয়েছে।

সফরের দুটি দিক। -খালেদার মামলার দিকনির্দেশনা। -আগামী নির্বাচনেও পছন্দের দলকে ক্ষমতায় আনা।

 

অবসর গেলেই মার্কিন প্রেসিডেন্টরা রাজনীতির কথা ভুলে গিয়ে শান্তির এ্যাম্বাসেডার হয়ে যান। ৯৩ বছরের বৃদ্ধ জিমি কার্টার গির্জায় বাইবেল পড়ান। বৃদ্ধ বয়সে দুর্নাম না কুড়িয়ে তিনিও এইরকম কিছু করতে পারতেন। গীতা-মহাভারত না পড়ালেও, সংখ্যালঘুদের ক্রাইসিস নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারতেন।

“দুইবার দেশভাগের পর, সংখ্যালঘুদের উপর যে অব্যাহত সন্ত্রাস, সেই তুলনায় তার দেখা সন্ত্রাস শিশু।” সবদলের বেলায়ই সন্ত্রাসীরা সক্রিয় কিন্তু তার পছন্দের দলটি প্রমাণ করেছে, তাদের আমলেই বেশি ঘটে। বিচারের বদলে আইওয়াশ করে। যেমন রামু-উখিয়া-সাথির ঘটনায় ভিক্ষুদেরকে জমি আর টাকা দিয়েই খালাস।

দেশবিভাগের পর থেকেই এই ভূখণ্ডের সংখ্যালঘুরা রাজনৈতিক ফুটবল। হয় ভোট, নয় জমি। স্বাধীনতার ৭ বছর পর বিএনপির জন্ম এবং এই ৭ বছরে, বিশেষ করে মুজিবের সাড়ে ৩ বছরে রক্ষিবাহীনির অত্যাচার এবং বাকশালের পেষণে লাখলাখ সংখ্যালঘু দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে। দিল্লির মতো অভিভাবক এবং হাসিনার দল ক্ষমতায় থাকতেও প্রতিবছরই সংখ্যায় কমছে। আমি জানি কারণ, সংখ্যালঘু পরিবারে থেকে সব দেখেছি। আমেরিকাতে এসেও আমি সংখ্যালঘু কিন্তু আমাদের পক্ষে কথা বলার লোকই বরং বেশি।

৭০ বছরে, ভারতীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৬০ ভাগ। কিন্তু ৪৭ সনে এপারের সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ৩৭ থেকে নেমে প্রায় ৮ শতাংশ। তবে রামু-উখিয়া-সাথির ঘটনা জোট সরকারের আমলে নয়। আইয়ুব খানের শত্রুসম্পত্তিকে অর্পিতসম্পত্তিতে ভূষিত করেনি বিএনপি। ‘ক ‘খ’তফসিল বানিয়ে সংখ্যালঘুদেরকে বিপদে ফেলার ঘটনাও ওই সরকারের নয়। জমিগুলো বংশপরাম্পর যাদের দখলে, দিল্লিকে খুশি করতে গিয়ে সেক্টেরিয়ান ভায়োলেন্স উষ্কে দেয়ার দৃষ্টান্তও খালেদার শাসনামলে নয়। “এগুলো ইস্যু না হলে, অন্যকোন ইস্যুই- ইস্যু নয়। ৩৭ কিভাবে ৮ হলো, সেই সন্ত্রাসের গবেষণাই একাডেমিতে মূল বক্তব্য হওয়া উচিত ছিলো।”

শহীদমিনার এবং রমনা কালি একরাতেই গুড়িয়ে দিলেও, ৭২এ কার হস্থক্ষেপে পরেরটার স্থায়ী পুনর্বাসন হয়নি? মন্দিরটি সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। এর আশপাশে অশ্লীল কর্মকাণ্ড- ড্রাগের ব্যবসা। মন্দির দখলে রেখে কোটি-কোটি টাকা লুটছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আশ্রয়প্রাপ্ত গডফাদারদের গ্যাং। তার পছন্দের দল ক্ষমতায় সত্ত্বেও ৭৩ সনের মামলা এখানো ঝুলছে! দিল্লির নেতারা কেন সব মন্দিরেই যায়, শুধু এই মন্দির বাদে?

বাবরি মসজিদের ঘটনায়ও এইদেশের সংখ্যালঘুরাই অধিক ক্ষতিগ্রস্থ। রক্ষিবাহিনীর পর, দ্বিতীয় দফায় আবারো ব্যাপকহারে দেশত্যাগের হিড়িক। ছিলো বাকশালের কষাঘাতে সংখ্যালঘুদের বাংলাদেশ বিমুখ হওয়ার ইতিহাস। এগুলোই প্রকৃত সন্ত্রাস।

ধর্মনিরপেক্ষ দেশের রাজনীতিবিদ হওয়ায় জানেন, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রধর্ম থাকে না এবং ভাইস্থভার্সা। অথচ ২০১১ সনে কাজটি এদেশের ধর্মসন্ত্রাসীদের। বাংলাদেশিরা মূলত অসামপ্রদায়িক। পাকিস্থান আমল থেকেই বারবার যা প্রমাণ হয়েছে। অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ নামে যে ভয়ানক সামপ্রদায়িকতার রাজনীতি বজায় রেখেছে তার পছন্দের দল, পরিণতি সবার জানা। কারণ, ধর্মভিত্তিক স্বাধীনতার ঘটনা এবং লাগাতার বিষফল পৃথিবীতে একটাই। কাশ্মির-বেলুচিস্থানের স্বাধীনতা অপেক্ষমান। ২৪ বছর না যেতেই আরেকটি দেশবিভাগ। এইরকম অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে একটি দল এবং নেতাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার দায়িত্ব তাকে কে দিলো?

জঙ্গিবাদ নিয়ে গীবত বাদ দিয়ে যা করতে পারতেন। ছাত্রলীগের হাতে নিহত বিশ্বজিৎ, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত উৎপল দাসের মতো পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করে শান্ত্বনা দিতে পারতেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিশ্বজিতের খুনিরা কেন খালাস হলো, নিজের মানুষটিকে অসন’ষ্টির কথা জানাতে পারতেন। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করতে পারতেন। হলে, প্রণব লেগেসি কেউ ঠেকাতে পারতো না।

বাস্থবতা এটাই। সবচে’ বড় সীমান্ত দুই বাংলার। ধর্ম ছাড়া অন্যকিছুই আলাদা নয়। কার ভুলে বাংলাভাগ, লেখার বিষয়বস্থ নয়। যদিও, ১৯০৫ সনে প্রথম বঙ্গভঙ্গ ব্যর্থ হলো ২০১১ সনে। ২য় দফায় পূর্ববাংলা গেলো পাকিস্থানের হাতে, ১৯৫৫ সনে যার পরিবর্তিত নাম- পূর্ব পাকিস্থান। ১৯৭১ সনে অতীত ঘুচিয়ে বাংলাদেশের জন্ম।

তবে সব ছাড়িয়ে- শুভ্রা মুর্খাজি নড়াইলের মেয়ে। তার স্বামী প্রণব মুর্খাজি। “এই বাংলা সেন্টিমেন্টই বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ ধ্বংসের কারণ।”

 

সফর এবং বক্তব্যের গহীনে যাওয়া যাক। এই অঞ্চলের বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতাদেরকে কেন বারবার হত্যা করা হচ্ছে, বিষয়টি গবেষণার আহ্বান ছাত্রদেরকে। হঠাৎ এমন আহ্বানে কিসের ইঙ্গিত? ওই আহ্বানে সামরিক শাসক জিয়াউল হক থাকলেও বাকশালের থাবা থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধার করে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আনার পেছনে যার অবিস্মরণীয় অবদান, সেই নামটি বাদ! অথচ চট্টগ্রামেই নিহত হয়েছিলেন জিয়া এবং জেনেশুনেই কথাটি বলেছেন বলে বিশ্বাস করা উচিত। এই একটি উদাহরণই প্রমাণ- জাতিয়তাবাদ ধ্বংসই তার মিশন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাননি কিন্তু ব্র‏হ্মদেশে সুচির পিতাকে হত্যার গবেষণারও উপদেশ। রোহিঙ্গা-মিয়ানমার শব্দ উচ্চারণ না করলেও, ব্র‏হ্মা থেকে ব্র‏হ্মদেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে ভোলেননি। তার এই বক্তব্যে সামপ্রদায়িকতার আলামত।

এদিকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ঘুমহারা ভারতীয় পত্রিকাগুলো। যেন তাদেরই নির্বাচন। আটঘাট বেঁধে বিশেষ ব্যক্তিকে ক্ষমতায় আনতে কলমসন্ত্রাসে লিপ্ত। ২০দল এবং জোটসরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য, তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে বিরাট গুজবমেশিন। অগ্নি রায়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯এ আওয়ামী লীগই ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগও সাফ বলে দিয়েছে, বাঁধা দিলেই হাড্ডি গুড়া করে দেবে। অথচ তাদের নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং কেন, কমিশনের আশপাশে যেতে পারেনি প্রণববাবুরা। পারলে কংগ্রেস ডায়নেস্টির পতন হতো না। সুতরাং আমাদের করণীয় কী?

 

ভারতীয়রা এখন গান্ধির ভ্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। তার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন। সমালোচকদের দাবি, দেশবিভাগে গান্ধি রাজি না হলে, দেরিতে হলেও সত্যিকারের স্বাধীনতা আসতো। হিন্দু-মুসলমানের জন্য ভিন্ন রাষ্ট্রের প্রয়োজন হলে সেই মানচিত্রও নিজেরাই বানাতো। আমাদের পর্যবেক্ষণ, “দেরিতে হলেও বাংলাদেশও একদিন নিজের শক্তিতেই স্বাধীন হতো।” কারণ ৭১এর ঘটনা দেশবিভাগের প্রতিশোধ বলেই প্রমাণিত। ১৬ ডিসেম্বরে কোন বাংলাদেশি নেতার কাছে আত্মসমর্পণ করতে দেয়নি কংগ্রেস। ৭১এর সর্বাধিনায়ককেও গুম করেছিলো।

“পাকিস্থানকে বিভক্ত করতে ইন্দিরা যেমন দেশে দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন, কংগ্রেসের প্রণবও তেমনি পাকিস্থান থেকে এই বাংলাকে আলাদা করে আবারো পুরানো দিনে ফিরে যেতে যা করার সবই করেছেন, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে করে।” সময় আসবে যখন গান্ধির মতোই তার বিচারও করবে ইতিহাস।

মূলকথা:-

সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনটি রিট করে স্থগিত করা ছিলো ফাইনালের আগে টেস্টম্যাচ। জাতিয় নির্বাচনটিও স্থগিত বা বিলম্বিত করার আগে, পানির গভীরতা পরীক্ষা করলো। প্রমাণ হয়েছে ডুবে মরবে না বরং বেঁচে থাকবে। কারণ এদেশের মানুষ এখন পুরোপুরি প্রতিবাদহীন। খালেদার বিএনপিও গুড-ফর-নাথিং। ২০৪১ পর্যন্ত স্থগিত ও বিলম্বিত নির্বাচনেই থাকবেন হাইকমান্ড। “একান্ত বৈঠকের ফতোয়া এটাই।” আওয়ামী লীগ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা পারে না এমন কিছু পৃথিবীতে থাকলে, প্রমাণ দেখাতে হবে।

-মিনা ফারাহ।

ইমেইল: farahmina@gmail.com

২৪ জানুয়ারি ২০১৮,  নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)