সুবীর ভৌমিকের বাগাড়ম্বর এবং কিসিঞ্জার ডক্টরিন

February 10, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


নানান দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, গণহত্যা, অস্ত্র বিক্রি, অক্যুপেশন, মানবতাবিরোধি অপরাধ, যুদ্ধশিশু যার লেগেস্তি তিনি হেনরি কিসিঞ্জার। ফোর্ড-নিক্সনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং স্টেট সেক্রেটারি। ছিলেন নিক্সনের পীরের মতো। তার পরামর্শ অনুযায়ী ভিয়েতনামে প্রত্যেকদিন শতশত টন বোমাবর্ষণ, ৭১এ পাকিস্তানকে অস্ত্র বিক্রি, চায়নার সঙ্গে বন্ধ দরজা খুলে দেয়া, ৭৪এ দুর্ভিক্ষ ত্বরান্বিত করতে মধ্য সমুদ্র থেকে খাদ্য জাহাজ ফিরিয়ে নেয়া, মুজিব হত্যায় মোস্তাক গং রিক্রুট… অবসরে যাওয়ার এতো বছর পরেও দক্ষ কৌশলবিদ কিসিঞ্জারের অনবদ্য প্রভাব মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে। তার কুটনৈতিক সাফল্যেই পূর্ব গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্যবাদ বেড়েছে।
অন্যদিকে অবসরে যাওয়ার আগে ও পরে, বাংলাদেশের রাজনীতিতেও যার নিরঙ্কুশ প্রভাব, এশিয়ান কিসিঞ্জার বলাই যথার্থ। তিনি রাজনীতেতে না এলে, দিল্লির বাংলাদেশ নীতি কেমন হতো? এইধরনের প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন ভারতীয় থিংকট্যাংকের সিনিয়র ফেলো-সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক তার ইঙ্গিতপূর্ণ লেখায় (দ্রঃ আমাদের সময় ২১/১/১৮)।
কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ লাইন, “…২য় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রণব মুখার্জিকে গ্রহণ করা হলে, ২০১৪ সালে কংগ্রেস এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তো না। …রাহুল গান্ধি যদি স্মার্ট হন এবং কংগ্রেসকে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী থাকেন, তবে প্রণব মুখার্জি হবেন এমন এক রাজনীতিবিদ, যার পরামর্শ তিনি সক্রিয়ভাবে কামনা করতেন পারেন। প্রণব মুখার্জি হলেন ভাতের শেষ বাঙালি রাজনীতিবিদ, যিনি বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবলভাবে সম্পৃক্ত। …এই বাঙালি সমীরকণটি বিএনপি-জামায়েত ও তাদের মতো অন্যরা কখনো বুঝতে পারবে না। …মহান বঙ্গবন্ধু সচিন্দ্রকে (ত্রিপুরার ১ম মুখ্যমন্ত্রী) স্বাগত জানাতে তার অফিসের দরজায় দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছিলেন তা বিখ্যাত হয়ে আছে, ‘আপনাকে ছাড়া এই দেশ স্বাধীন হতো না।’ …৭৫ পরবর্তী সময়ে প্রণব ও জ্যোতি এই ভূমিকা পালন করেন। দিল্লিতে বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের প্রধান লবিস্ট হিসেবে দুই দেশ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বাঙালি ঐক্যতান হিসেবে, ৭ম বৃহত্তর ভাষার অধিকারী হয়েও বাঙালিদের রাজনৈতিক ক্ষমতায় নিয়ে যেতে ব্যর্থ বিভক্ত জাতির শেষ আশা হিসেবে তারা তা করেছিলেন। …বক্তৃতা করার আগে প্রণব মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের আকর্ষণীয় স্থান। …শেখ হাসিনাকে প্রণবদা কতো গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তা আমি জানি। যুক্তরাষ্ট্রকে কিংবা নিজের সেনবাহিনীকে সামলানোর মতো বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগে আমার এক বন্ধু বলেছেন, হাসিনার কাছে প্রণব মুখার্জি হলেন পীর সাহেব। বর্তমান সফরকালে নিশ্চিতভাবেই হাসিনার নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে তার মূল্যবান মতামত জানাবেন। ২০১৪ সালের মতো কোন বিতর্কিত নির্বাচন ছাড়াই যাতে ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র ক্ষমতায় ফিরতে পারে, সে ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কেও মোদিকে যথাযথ পরামর্শ দেবেন।”
জাতিয় নির্বাচন সামনে প্রণব পুঁজায় লিপ্ত লেখাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রণব তার স্মৃতি কথায় লিখেছেন, গণনেতা নন বরং দক্ষ কৌশলবিদ। সুবীর লিখেছেন, ২০১৪ সনে কংগ্রেসের বিরাট ভুলের কথা। বুঝিয়েছেন, কেন তিনি হাসিনার পীরসাহেব। ছড়িয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ঘৃণা, যদিও কাজটি সম্মিলিতভাবেই করছে আনন্দবাজারিরা। ভারতের সবচে’ নির্ভরযোগ্য মিত্র যাতে বিতর্ক ছাড়াই ক্ষমতায় ফিরতে পারে, সফরের পর মোদিকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেবেন বলে জানিয়েছেন। হাসিনাকেও প্রণববাবু কতো গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন, সুবীরের দাবি তিনি তা জানেন। ২০১৩এর মতো, এই সফরের পরেই ঘটনাগুলো ঘটছে খুব দ্রুত। প্রতিবারই অন্তরালে এমন কি রেখে যান প্রণববাবু?
কিসিঞ্জার সক্রিয় থাকাকালে এশিয়ায় যা ঘটেছে, ইতিহাস সাক্ষি। প্রণবের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে, ৭১এর আগে ও পরে, আমাদের রাজনীতিতে তার যে ম্যাসাকার, সেটারও সাক্ষি ইতিহাস।
আওয়ামী লীগ এতোদিন বলতো, বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। সফরের পর বলছে, বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে এমন কোন কথা নেই। খালেদার রায়ের দিন ঘোষণাও সফরের পরেই। রায় নিয়ে বাগাড়ম্বর যেন জামায়াত নেতাদের ফাঁসির দিনগুলোকেই স্মরণ করিয়ে দিলো। খালেদারও সন্দেহ, রায়ের আগেই রায় লেখা হয়েছে অন্য কোথাও। অতীতেও প্রমাণ, সাঈদীদের রায় কোথায় লেখা হয়েছিলো (দ্রঃ স্কাইপ কেলেংকারী)। কিসিঞ্জারের আমলে দক্ষিণ এশিয়ায় যতো দুর্ঘটনা, আমাদের বেলায় প্রণব। বিষয়টির উপর আলোকপাত করা জরুরি।
১৭ জানুয়ারি আনন্দবাজার, ভোটের ভবিষ্যত নিয়ে হাসিনা-প্রণব আলোচনায় যে ছবিটি ব্যবহার করেছে পত্রিকা, সেখানে নির্বাচন নেই বরং প্রণব-হাসিনার চোখ ভরা ভয়ংকর ভাপা ইলিশ। আভ্যান্তরীণ বিষয়ে ভারতীয়দের বাগাড়ম্বর থেকে একটি মীমাংসায় আসা উচিত। প্রশ্ন, নির্বাচনের আদৌ প্রয়োজন আছে কী? যা করার প্রণববাবু তো সবই করে দিয়েছেন। হাসিনাকে বলেছেন, মোদিকেও করণীয় বিষয়ে বলবেন্ত সুবীরের দাবি তিনি সব জানেন। যদিও এই দেশের ভোটাররা কিছুই জানে না।
বলতে চেয়েছেন, রাহুল একটা বোকা। একটা গাঁধা। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের মতো স্মার্ট হতে পারেননি। প্রণবের সঠিক পরামর্শ নেয়নি বলেই কংগ্রেসের ভরাডুবির অভিযোগ। পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে হলে, রাহুলকে স্মার্ট হওয়ার পরামর্শ। সত্যিই তাই। ২০১৩ সনে কংগ্রেসও আওয়ামী লীগের মতো স্মার্ট হয়ে প্রণবের পরামর্শ নিলে… মনমোহন সিং-এর বদলে সোনিয়া তাকেই প্রধানমন্ত্রী বানালে, ভারতেও ৫ জানুয়ারি ঘটিয়ে ছাড়তেন। তিনি সবচে’ বড় কুটকৌশলবিদ বলে স্বীকারোক্তি। জ্যোতি বসু এবং প্রণবকে প্রধানমন্ত্রী বানালে কংগ্রেসের এই অবস্থা হতো না বলে অভিযোগ সুবীরের। তার মতে, এটা রাহুলদের প্রায়শ্চিত্ত।
সত্যিই তাই। ২০১৩ সনে টেলিগ্রাফকে সজীব, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো কেউ নেই। মায়ের কাছে যেতে হলে রক্তের উপর দিয়ে যেতে হবে। যে ঝুকি কোন বাহিনীই নেবে না। সজীব কিন্তু রাহুলের মতো বোকা নন। ৫ জানুয়ারির আগেই পীরের দরগায় ছুটে গেছেন।
এই সফরের পরেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, জাতিয় নির্বাচন, খালেদার রায়ের তারিখ ঘোষণা, তারেকের শাস্তি নিয়ে বাগাড়ম্বর… ভোটের বাক্স শূন্যে রেখে নির্বাচনের প্রস্থতি? দল বলতে একমাত্র আওয়ামী লীগ, সঙ্গে এরশাদের মতো খুচরা। এটাই আগামী নির্বাচনের ফর্মূলা। পীরসাহেবের অলৌকিক ক্ষমতা নিয়ে সুবীরবাবুর পর্যবেক্ষণ সঠিক।
তবে একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে আমাদের একশ্রেণির মধ্যে প্রচণ্ড উম্মাদনা প্রমাণ করলো, জাতির নৈতিক অবস্থান কতোটা নিচু। ড. আনিসুজ্জামানদের গোলামির মাত্রা দেখে মনে হয়েছে, ভারত নয়, বাংলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। বিশেষ কাউকে ক্ষমতায় আনতে প্রণব এবং জ্যোতিবাবুদের বাঙালি পরিচয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব। অন্যদিকে খালেদা এবং তারেককে পাকিস্তানপন্থি এবং আইএসআইপন্থি বলে বরাবরই চিত্রিত করে চলেছে আনন্দবাজারিরা। যদিও সন্ত্রাসের প্রমাণ শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের। সংসদীয় গণতন্ত্র থাকাকালে, ১/১১এর আগের বাংলাদেশের সঙ্গে যার মিল নাই। সবকিছুই ঘটে দুই ব্যক্তির একান্ত বৈঠকের পরে, কিন্তু কেন?
সুবীর লিখেছেন, বাঙালিদেরকে ক্ষমতায় এনে ব্যর্থ বিভক্ত জাতির শেষ আশা পূরণ করেছেন প্রণব ও জ্যোতি বসু। বাঙালি সমীকরণটি না বোঝার জন্য বিএনপি-জামায়াতের উপর ক্ষুব্ধ। বলতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ এবং বাঙালির মধ্যে রাজনৈতিক পার্থক্য নাই। প্রণবকে বলেছেন হাসিনার ঢাল এবং তাকেই ক্ষমতায় রাখতে কতোটা অবিচল! এই কাজে হিলারিকেও একহাত নিতে ছাড়েননি। মঈনকে ব্যবহার করেছেন মিত্রকে ক্ষমতায় আনার কাজে। তিনি নাকি পেন্টাগনকেও উপদেশ দেওয়ার মতো পরাক্রমশালী। আমাদের পর্যবেক্ষণ, তিনি হচ্ছেন সেই কুটনীতিবিদ, যাকে এই অঞ্চলের ধূর্ত কিসিঞ্জার বলাই উচিত।
কোলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবিরা মোদিকে বুঝিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত টেরোরিস্ট দল। টেরোরিস্টদেরকে কেউ ক্ষমতায় চায় না। ১/১১এর সময় থেকে একই বাগাড়ম্বর আওয়ামী লীগের মুখে। অর্থাৎ হাসিনার আওয়ামী লীগের ক্যামেস্ট্রি পাল্টে দিয়েছেন বাঙালিবাবু। তার কুটকৌশলে রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের। এই দফায় কবর খনন করলো।
প্রণবের সমতুল্য আরেক বাঙালি নেতা ‘তথাগত রায়’ বৃদ্ধ হওয়ায়, আধিপাত্যবাদ বজায় রাখতে এরকমই কাউকে খুঁজে বের করার পরামর্শ আতঙ্কিত সুবীরের। কারণ তিনি জানেন, প্রণবের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগকে একইরকম গুরুত্ব দেবে না। ফলে দলটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সেই আশংকা থেকেই আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কোলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবিদের। কারণ, দিল্লি নয়, হাসিনার একমাত্র কানেকশন প্রণব, যিনি দিল্লি থেকে বাংলাদেশকে আলাদা করে রেখেছেন। সোনিয়া অথবা মোদি, এরা পাকিস্তানকে যতোটা বোঝে, বাংলাদেশকে ততোটা নয়। সেই দায়িত্ব বরাবরই প্রণবের কাঁধে। ৬৯ থেকেই আওয়ামী-ভারত সম্পর্ক প্রণবের কিচেন থেকে বের হয়নি, যা অত্যন্ত বিপদজ্জনক। সুবীরের উৎকণ্ঠা যথার্থ। প্রণববিহীন আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
জুনিয়র রাজনীতিবিদ হয়েও ইন্দিরার সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাকিস্তানকে দূর করে দেয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। ত্রিপুরা ষড়যন্ত্র, অর্থাৎ আগরতলা ডক্টরিন বিষয়ে যা লিখেছেন, প্রকৃত ৭১ সম্পর্কে কাউকেই জানতে দেয় না ক্ষমতাসীনরা। ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সচিন্দ্র লাল সিংহ ইন্দিরাকে যা বুঝাতে পেরেছিলেন। ইন্দিরাও সেই সুযোগ নিতে প্রণবকে সঙ্গে করে ৭১এ সর্বশক্তি দিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। এখান থেকে কী অর্জন করতে পারি!
জ্যোতি বসু এবং প্রণবকে আওয়ামী লীগের প্রধান লবিস্ট উল্লেখ করা সঠিক। আমি বলবো তারা আওয়ামী লীগের বিরাট মাইক। লিখেছেন্ত “বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরবঙ্গ নিয়ে ৩য় ভুবন অর্থাৎ ৩য় ফ্রন্টের কথা।” ৩য় ফ্রণ্টের চিন্তা, কংগ্রেস এবং বিজেপের সংশোধিত বা পরিবর্তিত বাংলার মানচিত্রের ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। মিয়ানমার আর আসামে যা ঘটছে, বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ডার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বাঙালি হয়েও প্রণব যে আওয়ামী লীগের বাইরে কাউকেই বাঙালি মনে করেন না, বাঙালি তাড়াও অভিযানে মৌনতাই প্রমাণ।
ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে হাসিনা বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে ১/১১ প্রশাসনকে বৈধতা দেবেন। যা প্রণবের স্মৃতি কথার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এরপরেই বদলে যাওয়া লীগ, জোট সরকারের বিরুদ্ধে মধ্যযুগীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করলো। ৫ জানুয়ারিতে প্রমাণ হলো, ১৫তম সংশোধনীটি প্রণব ডক্টরিন। খালেদার রায়ের দিন ঘোষণাও তাই। ধাপে ধাপে প্রণব ধ্বংস করেছে জাতিয়তাবাদি রাজনীতি। রাজনৈতিক অভিধানে এগুলো সরাসরি ট্রিজন। গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে ট্রিজনের বিচার করতো।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো রায়ও ফাঁস হয়। প্রশাসনের হুশিয়ারি, রায় না মানলে খবর আছে। রায়ের দিন রাস্তা দখলে রাখার ঘোষণা আওয়ামী লীগের। আবারো ছাত্রলীগের মহড়াও শুরু। যেন ফিরে গেলাম জামায়াত নেতাদের ফাঁসির দিলগুলোতে। রায় ঘোষণার আগেই শাস্তির খবর জানে নের্তৃবৃন্দ। খালেদাও সেটাই বলছেন। প্রণব যেখানে যায় সাগর শুকিয়ে যায়।
বাংলা একাডেমিতে সন্ত্রাস নিয়ে বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসায় সুবীর। দেশটি কখন কাবুলের মতো হলো, যেখানে কথায় কথায় বোমা ফাটে? না। এমন কোন আলামত তারা দেখলেও, আমরা দেখেনি। এমনকি, পেন্টাগনে সন্ত্রাসী আক্রমণের কথাও এইবারের সফরে। ঢাকায় কখন পেন্টাগন ঘটলো, যদিও প্রণববাবু সেটা পরিষ্কার করেননি কিন্তু করা উচিত ছিলো। কারণ, সন্ত্রাস সবসময় ভয়ংকর।
পেন্টাগনের হামলায় বুশ ডক্টরিনকেই দায়ী করা হয়। প্রমাণ হয়েছে, জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়ালের ডাব্লিউএমডি আবিষ্কারে। দেখা গেছে ডাব্লিউএমডি শতভাগ ভূয়া। প্রকৃত উদ্দেশ্য, পটপরিবর্তনের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা। “আফগানিস্তান এবং ইরাক এটাকের আগে ৯/১১। ১/১১ এবং ৫ জানুয়ারির আগে বারবার দুই ব্যক্তির একান্ত বৈঠকে ভাপা ইলিশের রাজনীতি।” ইলিশ এখন বাংলার রাজনীতিতে অন্যতম রাজনীতিবিদ হিসেবে আবির্ভূত। পর্দার অন্তরালে কী কথা হয়, কিছুটা বললেন সুবীরসহ অন্যান্য আনন্দবাজারিরা। দৃশ্যত জয়বাংলা, বাঙালি এবং বাঙালি জাতিয়তাবাদ ছাড়া অন্য কোন জাতিয়তাবাদ সমর্থন করে না কোলকাতা কেন্দ্রিক গোষ্ঠিটি। তার লেখায় একইসঙ্গে প্রণবের জয়বাংলা এবং জয়হিন্দ নিয়ে আস্ফলন থেকে কি আহরণ করতে পারি? এরা সবসময় দিল্লিকে ভুল বোঝাতে ব্যস্ত।
পুত্র অভিজিৎকে সঙ্গে না আনায় সুবীরের স্বস্তি। কারণটাও বলে দিয়েছেন। অভিজিৎ নাকি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাণিজ্যে লিপ্ত। খবরে পড়েছি, এই দেশে নাকি শতশত কোটি টাকার ব্যবসা করে প্রতিবছরই বিপুল কারেন্সি নিয়ে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রের একটি বাড়িতে পিশির বাড়ির মতো যাতায়াত। মাসে একাধিকবার আসেন। প্রণবের মতে, “বাংলাদেশ হচ্ছে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের জায়গা।”সত্যিই তাই। আমদান্তিরপ্তানির ৯৭ ভাগই ভারতীয়দের পক্ষে। তবে সব ছাড়িয়ে গেছে সেই ছবিটির বিরুদ্ধে জনগণ। ফুঁসে উঠেছে স্যোসাল মিডিয়া। প্রণবের বিরাট বন্ধু কাদের সিদ্দিকী পর্যন্ত ছবির হিসাব মেলাতে পারছেন না। অর্থাৎ বসে আছে গোলাম, পিঠের উপর দাঁড়িয়ে হোসেন।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)