বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের খেলা

February 15, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

প্রসঙ্গ সন্ত্রাস। কাবুল আর বাংলাদেশকে এক পাল্লায় তুলে দেয়াটা বিনা কারণে নয়। এর পেছনে বিরাট ষড়যন্ত্র। প্রণবের জানা উচিত সন্ত্রাস দুইরকম। অফেন্সিভ এবং ডিফেন্সিভ। ৯/১১এ আমেরিকা ছিলো অফেন্সিভ। পরবর্তীতে অফেন্সিভ এবং ডিফেন্সিভ দুটোই। সেইরকমই ইরাক এবং আফগানিস্তানও প্রথমে ডিফেন্সিভ হলেও এখন তারাও দুটোই। বলছি সন্ত্রাস নিয়ে প্রণব এবং আওয়ামী লীগের হিসাব এক। একমাত্র পাগল-ছাগলেরাই পেন্টাগন-কাবুলের পাল্লায় তুলবে বাংলাদেশকে।
অন্যের অধিকারহরণই প্রকৃত সন্ত্রাস। ২০১৯এর ভূয়া নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কিত মানুষ। অফেন্সিভ এবং ডিফেন্সিভ দুই ধরনেরই হাঙ্গামাকারীদের আশংকা ফেলে দেয়া যাবে না। যেকারণে ভারত বিরোধি সেন্টিমেন্ট এখন সর্বোচ্চ্। যা ঘটতে পারে, স্যোসাল মিডিয়ায় কিছুটা টের পাওয়া যায়। এই ভয়েই ওবায়দুল কাদেরদের মুখে, বারবার আরেকটা ১৫ আগষ্টের আশংকা? এবার প্রণবের প্রশ্নের উত্তরে দিতে মহানায়কদের হত্যার কারণ খুঁজবো।
বহুবছর ধরে রাজনীতিতে যে নিম্নচাপ বজায় রেখেছে প্রণব ডক্টরিন, আবহাওয়া বিজ্ঞান অনুযায়ী, শূন্যতা দখলে ঝড় তখনই উঠে।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানবাধিকার নেতা ড. কিং ১৯৬৪ সনে এভাবেই অফেন্সিভ এবং ডিফেন্সিভ হাঙ্গামার ব্যাখ্যা করেছিলেন, “ভায়োলেন্স ইন দ্যা ল্যাংগুয়েজ অব দ্যা আনহার্ড।” অর্থাৎ যাদের কথা শোনার কেউ নেই, হাঙ্গামা করে সেটাই জানাতে চায় নির্যাতিতরা।
বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি নোম চমস্কি ইহুদি হয়েও ইস্রায়েলকেই বড় সন্ত্রাসী মনে করেন। একইভাবে- ভিয়েতনাম, লাউস, কম্বোডিয়া, তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানে যে ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছিলো আমেরিকা, জবাবে, পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে যা করলো ৭১এর মিত্রশক্তি, প্রকৃত সন্ত্রাসের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। জ্ঞানের সাগর প্রণবের সন্ত্রাসজ্ঞান এতো কম হলে চলবে? কারণ ব্রিটিশ-ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা বোমা ফাটিয়ে মানুষ মারতো, অস্ত্রাগার লুন্ঠন করতো, রেললাইন তুলে ফেলে দুর্ঘটনা ঘটাতো… সূর্য সেন, ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতা সেনদের স্মৃতিতে অর্ঘ্য নিবেদন করে নিজেই নিজের গলা কাটলেন। “সূর্য সেনের ভিটা পরিদর্শনের পর সন্ত্রাস নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সবরকমের নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।” বাংলা একাডেমিতে যা বলতে চেয়েছেন, যা বলেননি এবং বলেছেন- সবটাই দুরাভিসন্ধিমূলক।
মুজিব হত্যার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ এবং দলছুট তাহের-ইনুদের মতো অসংখ্য এক্টিভিস্ট। মোস্তাক কিন্তু বিএনপির মন্ত্রী ছিলেন না। (দুঃখিত, বিএনপির তখন জন্মই হয়নি)। ক্ষমতালোভী ভুট্টোকে হত্যা করেছিলো আরেক ক্ষমতালোভী জিয়াউল হক। পরবর্তীতে তাকে বহনকারী বিমানটিকেও ভূপাতিত করে হত্যা করলো ক্ষমতালোভীরা। মুজিবের মতোই ইন্দিরাকেও হত্যা করেছিলো তারই বিশ্বস্তরা। এরাই রাজীব এবং সঞ্জয় গান্ধির খেলার সাথী দুই শিখ দেহরক্ষী। স্বাধীন খালিস্তানের আন্দোলনে ১ জুন ১৯৮৪ সনে স্বর্ণমন্দিরে লুকিয়ে থাকা শিখদের উপর “অপারেশন ব্লুস্টার” নামের গণহত্যাই ইন্দিরার মৃত্যুর কারণ। ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪ ইন্দিরা হত্যা। রাজিব গান্ধি হত্যার কারণ, তামিলরা ভাবতো, ভারত চায় না শ্রীলংকার তামিলরা স্বাধীন হোক।
এতো নিম্নচাপ কখনোই চিরস্থায়ী হয় না। দীর্ঘদিন যারা ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করতে পারছে না, ১/১১ এবং ৫ জানুয়ারির স্টিম রোলারে নিস্পেষিত… অসম্ভব রকমের রাজনৈতিক নিম্নচাপে ভুগছে। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের চোখ। কোথায় গিয়ে ভূপাতিত হবে, কেউ জানে না। যখন হবে, লন্ডভন্ড হবে। এই অঞ্চলকে অশান্ত রাখলে, ভারতই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যে সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকাও অশান্ত।
একমাত্র নির্বাচিত সরকারই সকলের জন্য মঙ্গলজনক। উদাহরণস্বরূপ, ৬৯এর আন্দোলন নিয়ে সুবীরবাবুরা যাই লিখুক, আমাদের চোখে সেটা শুধুমাত্র ভোট দিয়ে স্বায়ত্বশাসন কায়েমের আন্দোলন। ভোট হয়েছিলো কিন্তু স্বায়ত্বশাসন আসেনি, যা ৭ মার্চের ভাষণে পরিষ্কার। নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা মুজিবের। দেয়নি বলেই, সেটা ভুট্টোর কাল হলো। ফাঁসির আগ পর্যন্ত দেশবিভাগের দুঃখ ভুলতে পারেননি। একটি কলেজ ডিগ্রি অনেক সফলতার দরজা খুলে দেয়। ৬৯এর পপ্যুলার আপরাইজও সেটাই। আর সেই সুযোগই নিয়েছিলেন ইন্দিরা। সচিন্দ্র লাল সিংহ তাকে এই পরামর্শই দিয়েছিলেন। ৭১এর অন্যতম নিয়ামক ইন্দিরার সঙ্গে ছিলেন প্রণব।
সমাধান একটাই। ২০১৯এর নির্বাচন চুরি করে বাংলাদেশকে আবারো হাঙ্গামার দিকে ঠেলে না দেয়া। প্রধান দায়িত্ব পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের। অধিকার হরণ করলেই হাঙ্গামাকারীরা স্বরব হয়।
বাংলাদেশের ১ নম্বর সমস্যা বিশাল জনগোষ্ঠির সিংহভাগই বেকার যুব সমপ্রদায়। অধিকাংশই হতাশাগ্রস্ত হওয়ায় বিভ্রান্ত এবং বিপথগামী। প্রায় ১ কোটির উপরে প্রবাসী শ্রমিক মানবেতর জীবনের মুখোমুখি। হাজার হাজার মা-বোনেরা প্রবাসে যৌনদাসী হওয়ার খবর। বাধ্য হয়ে নিকৃষ্ট পেশায় লাখ লাখ। সুযোগ পেলে যাদের অনেকেই চমক দেখাতে পারতো। এমনকি রাজধানীতেই প্রায় ৪৮ ভাগ বস্তি এবং কয়েক লাখ রিক্সা। কয়েক লাখ শিশুশ্রমিক এবং দিন-আনা-দিন খাওয়া মজুরদের দুঃসহ জীবন। তালিকায় প্রতিবছরই বেকারদের সাথে যোগ হচ্ছে আরো ২৫ থেকে ৩০ লাখ যুবক। ঝরেপড়া মানুষগুলো ঝুকে পড়ছে ইয়াবা-ফেনসিডিল-চোরাচালান্তিঅস্ত্র-দেহব্যবসার দিকেই। কথায় বলে, “প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর।” বেকার জনগোষ্ঠি এবং মানবেতর জীবনের মুখোমুখিরাই বিশ্বজুড়ে অসি’রতার প্রধান কারণ। আওয়ামী লীগের পেছনে সকল ক্যাপিটাল ধ্বংস না করে দিল্লির উচিত এই বিষয়ে মনোযোগ দেয়া। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল সোনারগাঁ পর্যন্ত কয়েক মাইল রাস্তার ইউরোপীয় সাজসজ্জা দিয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলকে বিচার করা সকলের জন্যই ভুল।
এবার মোদিকে কিছু কথা। তার জাতিয়তাবাদি পার্টির মতোই, এদেশের বিশাল জনগোষ্ঠিও একাধিকবার জাতিয়তাবাদি শক্তিকেই ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিলো। সকল ন্যাশনালিস্ট পার্টির মধ্যেই ধর্ম এবং জাতিয়তাবাদের রঙ থাকে। বিজেপি, রিপাবলিকান পার্টি, বিএনপি… একই।
বিশ্ব জুড়ে এখন পপ্যুলিস্ট মুভমেন্টের জয়জয়কার। যে কারণে কংগ্রেস এবং ডেমোক্রেট ডায়নেস্টির পতন। ব্রেক্সিটের পর ইউরোপ জুড়েই পপ্যুলিস্টদের পদধ্বনি। ট্রাম্পকে পছন্দ না করলেও তার উত্থানের মূলে কিন্তু করাপ্ট হিলারির বিরুদ্ধে ন্যাশনালিস্টদের আপরাইজ। মোদির উত্থানের মূলেও করাপ্ট কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যাশনালিস্টদের আপরাইজ। সোনিয়া গান্ধির বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি রূপী জালিয়াতির প্রমাণ বিজেপির হাতে বলে দাবি।
বিজেপি, রিপালিকানপার্টি, বিএনপি, কনজারভেটিভপার্টি… সব ন্যাশনালিস্ট। ন্যাশনালিস্টদের উদ্দেশ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট। অন্যদিকে ডেমোক্রেট দল, আওয়ামী লীগ, কংগ্রেস… চরম লিবারেল। লিবারেলিজম একটি মানসিক রোগ। এই রোগের কোন ওষুধ নাই। একবার যাকে ধরে, পাগল বানিয়ে ছাড়ে। এই দৃশ্যই ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে। লিবারেলদের উদ্দেশ্য যত্রতত্র ভোট খুঁজতে গিয়ে জাতিয় স্বার্থ… সব বিসর্জন। হিলারি, রাহুলদের পরাজয়ের কারণও তাই। আওয়ামী লীগের কোন ইজ্জত নাই বলেই জাতিয় স্বার্থ-সংবিধান সব বিসর্জন দিয়েছে। এরশাদের মতো গার্বেজের সঙ্গে নির্বাচন করে কখনো ক্ষমতায়, কখনো বিরোধিদলে। কখনো তেতুল হুজুরের পরামর্শে পাঠ্যপুস্তকের উপর কাঁচি, কখনো সংবিধানের বুকে ছুরি চালিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার বয়ান। পূর্ব থেকে পশ্চিম, লিবারেলরা সংখ্যালঘুদেরকে রাজনৈতিক ফুটবল বানিয়ে ভোটের জন্য চাপে রাখে।
সংখ্যালঘু পরিবারে জন্ম নেয়ায়, নিজের ক্ষোভের কথাও বলবো। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই দেখেছি, ৭১এর আগে ও পরে সংখ্যালঘুদের অবস্থা একই আছে। কংগ্রেস এবং আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা স্বত্ত্বেও, ৭১এর আগে ও পরে সমপরিমাণ সংখ্যালঘু দেশতাগ্যে বাধ্য হয়েছে কিংবা অনিরপত্তার কারণে দেশ ছেড়েছে। সংখ্যালঘু ইস্যুতে দিল্লি কখনোই একটি কার্যকরি পলিসিও গ্রহণ করেনি। মন্দির পোড়ানোর পরেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া এবং হুশিয়ারি দেওয়া সমাধান নয়। যদিও ৬৯ থেকে একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ, দিল্লির পররাষ্ট্রনীতিতে অসম্ভব প্রভাবশালী, তারপরেও ৪৭ বছর ধরেই, বাঙালিবাবুর চোখের সামনে দিয়ে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা শুধু কমছেই। বাংলাদেশে বারবার এলেও ভাপা ইলিশের রাজনীতির বাইরে তিনি কখনোই যাননি। ৩৭ যখন ২৭এ নামলো, তখনও তিনি কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা। ২৭ যখন ১৭ হলো, তখন তিনি আরো বেশি ক্ষমতাশালী। ১৭ যখন ৭এর পথে, তখন তিনি রাষ্ট্রপতি থেকেও শুধুমাত্র আওয়ামী তোষণবাদে কিছুই করেননি। উল্টা দিল্লির সকল ক্যাপিটাল ব্যয় করেছেন শুধুমাত্র একটি পরিবারের পেছনে। এটাই হলো কাল। যদিও কিউবার মতো একদলীয় শাসনের জন্য স্বাধীন হইনি। ৭১এর আগে না হোক, পরবর্তীতে তিনি কিছুটা ক্যাপিটাল ব্যয় করতে পারতেন সংখ্যালঘুদের নিরপত্তার কাজে। পলিসিতেও পরিবর্তন আনতে পারতেন। উল্টা ভাপা ইলিশের রাজনীতির কবলে পড়ে আরো বেশি অরক্ষিত সংখ্যালঘুরা।
এখন মোদির সরকারের উচিত, দ্রুত প্রণবের পরামর্শ বর্জন। কারণ কিসিঞ্জারের মতো তিনিও কুবুদ্ধির ঢেকি। দুইজনেরই লেগেসি পলিটিক্যাল মাস্যাকার। মোদি সরকারের উচিত, ন্যাশনালিস্ট পার্টির প্রতি আস্থা রেখে দূরত্ব কমিয়ে আনা। কারণ হাঙ্গামার দায় জোট সরকারের যতোটা, লক্ষ গুণে বেশি ১৪ দলের। দিল্লির হাতে সকল তথ্য।
এই ডক্টরিন গ্রহণ করলে দুই দেশের শান্তি কেউ রুখতে পারবে না। অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে। ফিসফিস এবং দায়মুক্তি চুক্তিরও অবসান হবে। কানাডা-আমেরিকার মতো শান্তিতে থাকবে। ফেলানিদের বুকে গুলির বদলে হাতে ফুল দেবে বিএসএফ। প্রকৃত বিজেপি যা চায়, প্রণব প্রভাবিত বিজেপ থেকে ভিন্ন। তাদের গেরুয়া রাজনীতি বাংলাদেশকে বোঝাতে পারেননি বলেই প্রণবের উপর নির্ভরতা।
কংগ্রেসের পতন মানেই বাঙালি লিবারেলিজমের পতন। সুবীরের লেখায় অশনি সংকেত। দুই দেশের সম্পর্ক সুবিধাজনক রাখতে, প্রণবের মতো কাউকে খুঁজে বের করার পরামর্শ। কারণ প্রণব মৃত্যুঞ্জয়ী নন।
প্রণবের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগেরও গর্ভপাত হওয়ার আশংকা। গর্ভবতীর শরীরে হরমোন কমে গেলে গর্ভপাত হয়। অতীতেও হয়েছিলো। লোটা-কম্বল নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলো আওয়ামী লীগ। এবারও একই সুযোগ নেবে হাঙ্গামাকারীরা। প্রণববিহীন ভুবনে অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে মুভমেন্ট শুরু হলে বিপদে পড়বে দিল্লি। কারণ পৃথিবীতে বাংলাদেশের সঙ্গে সবচে’ বড় সীমান্ত তাদের। বাঙালি হওয়ায় একপেশেভাবে যে অপরাজনীতি করছেন, ভাপা ইলিশের রাজনীতির জন্য হয়তো জড়াবেন না অন্য কেউ।
জনপ্রিয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। জনসমর্থনই পুপ্যলার আপরাইজের মূলে। বরাবরই এই দেশে জাতিয়তাবাদি রাজনীতির সমর্থক বেশি। জিয়ার উত্থান কিংবা মৃত্যুর পর জানাযায় লাখ লাখ মানুষের উপসি’তি যার প্রমাণ। নিষ্কর্মা সত্ত্বেও লন্ডন থেকে ফেরার দিন খালেদাকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর সমর্থন। আওয়ামী সভায় ৮০ ভাগ ভাড়া করা বস্তির লোক। জাতিয়তাবাদিদের সভায় ৮০ ভাগই দলের লোক। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
১০ বছর পর প্রণব হবেন ৯৩, হাসিনা ৮১। ২০৪১এর টার্গেট তখনো ১৩ বছর বাকি। আমেরিকার মতো ভারতে টার্মলিমিট নাই। তাই পরের কয়েক টার্ম ক্ষমতা বিজেপির। রাহুলকে দিয়ে কংগ্রেসের কোন ভবিষ্যত নাই। প্রণব মরলে সজীবেরও কপাল পুড়বে। তারেকও ফিরে আসবে। তখন কী হবে? এই কথাটি দিল্লিকে অগ্রীম ভাবতে হবে। কারণ কংগ্রেসের মেরুদণ্ড বিজেপিই গুড়া করেছে। বাংলাদেশকে বোঝে না বলেই বাঙালিকে প্রেসিডেন্ট বানিয়েছে। তবে ন্যাশনালিস্টদের সঙ্গে ন্যাশনালিস্টদের সম্পর্কই এই অঞ্চলকে আবারো শান্তিপূর্ণ এবং ঐশ্বর্যমন্ডিত করতে পারে।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 8.5/10 (2 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 2 votes)
বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের খেলা, 8.5 out of 10 based on 2 ratings