খালেদাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন শেষ

February 25, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


ভূয়া ডক্টরেট এক উপদেষ্টা, ২০১০ সনে বলেছিলেন, নিশ্চিত থাকেন, বিএনপি আর কখনোই ক্ষমতায় আসবে না। আমাদের ওমুক ভাই ফিউচার পিএম। সেই ব্যবস্থা হয়ে গেছে। সেদিন কথার গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন ছিলো না। আগুনসন্ত্রাসী, পাকিস্তানপন্থি, রাজাকারদের দোসর, মানুষ পুড়িয়ে মারা, স্বাধীনতাবিরোধি, গুপ্তচরের স্ত্রী… বহু পদবীপ্রাপ্ত খালেদাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন শেষ যে কারণে। অতীতে ধর্মানুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতারের পরেই জামায়াতের নেতাদেরকে অন্যান্য মামলায় ‘শ্যোন’ এরেস্ট দেখিয়ে যা করলো, এবার বিএনপির পালা। খালেদার ‘শ্যোন’ এরেস্টগুলোও তৈরি। তাকেও ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নেয়নি।

ব্যক্তি খালেদা:-
ডিজিটাল পৃথিবীতে যেন ‘জাহেলিয়া’ যুগের প্রত্যাবর্তন, যখন নারীকে উৎসব করে কবর দিতো সমাজপতিরা। খালেদার উপর নির্যাতনগুলো বিলুপ্ত সতীদাহ, বাল্যবিবাহের যুগকেই ফিরিয়ে দিলো। ২ বছরের কন্যাশিশুকে যখন ১০০ বছরের কুলীন ব্রা‏হ্মণের সঙ্গে বিবাহ দিয়ে স্বর্গের সিঁড়ি নিশ্চিত করতো পরিবার। যখন মৃত স্বামীর সঙ্গে চিতায় তুলে দিয়ে ঢোল-কর্তাল বাজাতো পুরুষবাদি সমাজ। তুলনামূলকভাবে আফগান নারীদের উপর কাঠমোল্লাদের নির্যাতনকেও ম্লান করে দিলো এই নির্যাতন। এই যুগের একজন খালেদা, যাকে মধ্যযুগীয় নির্যাতনের পরেও দেশ-বিদেশে একজন নারীবাদিকেও পাওয়া গেলো না। বিশেষ করে বাংলাদেশি পুরুষদের হৃদয়হীনতা, ‘নিষ্ঠুরতা’ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য।
একজন বয়স্ক বিধবা, ব্যাধিগ্রস্তকে যখন স্বামীর ভিটা থেকে উপড়ে ফেললো, ৮ কোটি পুরুষের একজনও রুখে দাঁড়ায়নি। পুত্রশোকে বিধ্বস্ত খালেদা যেদিন বিশেষ কাউকে ঘরে ঢুকতে দিলো না, সমবেদনার বদলে সমাজপতিরা তার বিচারে বসেছিলো। পুত্রশোকের বদলে বড় হয়ে উঠেছিলো, ওমুক কতোবড় মাপের ব্যক্তি। যদিও সকলেই জানে, কোকোর মৃত্যুর কারণ প্রতিপক্ষের হাতে মানসিক নির্যাতন। “কারণ তারাই মায়ের কাছ থেকে দুই সন্তানকে চিরতরে ছিনিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, হামলা-মামলা দিয়ে এমন ব্যস্ত রেখেছে যেন শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরো পরিবারটিই ধ্বংস হয়ে যায়, সেটাই হলো।” কেউই মানলো না, নির্যাতনকারীর মুখদর্শন না করাই ওই সময়ের জন্য যথার্থ।
নির্যাতকদের পূর্বসূরী হুন্তা মাঈনুদের হাতে এক পুত্রকে হত্যা, অন্যজনকে চিরতরে নির্বাসনের ব্যবস্থা করলেও, ন্যূনতম সমবেদনাহীন সমাজবিজ্ঞানীরা। আগুনসন্ত্রাসীর অপবাদে প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত করলেও, কেউই জানতে চাইলো না অপরাধিদেরকে কেন গ্রেফতার করলো না! খুঁড়িয়ে হাঁটা বয়ষ্ক বিধবাকে লাগাতার হাজিরায় বাধ্য করলেও, একজন ব্যারিস্টারও মোটিভ নিয়ে প্রশ্ন তুললো না। আদালতটি পুরান ঢাকায় স্থানান্তির করার বিরুদ্ধে একজন নারীবাদিদেরকেও রাস্তায় দেখলাম না। পরিত্যাক্ত কারাগারটি বেছে নেওয়ার প্রশ্নে, বকপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে ছিলো সমাজবাদিরা। বলছি, শুধু কাবাব বানিয়ে খাওয়াটাই বাকি।
৮ কোটি নাসিম-কাদেররা না হয় মাটি ফুঁড়ে বের হয়েছে, বাকি ৮ কোটিও কী তাই? সকলেই ভুলে গেছে, ব্যক্তি খালেদাও কারো মা, বোন, স্ত্রী… যার অনুভূতিগুলো মরেনি। উপগ্রহ থেকে উড়ে আসেননি কিংবা অর্ধমানবও নন। বিশেষ করে আমাদের ধর্ম ও কালচারে নারীর স্থান সর্বোচ্চ। মা-বোনের উপর নির্যাতন হলে, অধিকাংশই পুলিশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে না। ইসলামে নারীর অধিকার নিয়ে ওয়াজকারীরা পর্যন্ত জাহেলিয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি বয়ানও দেননি।
“কারণ তিনি খালেদা, যাকে বিলুপ্ত না করলে, রাজনীতিতে বিলুপ্ত সামান্তবাদ প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হবে।” অথচ শুধুমাত্র নারী নির্যাতনের অভিযোগেই ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বিতাড়িতদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। পশ্চিমায় মিডিয়ায় রক্ত ঝরাচ্ছে দুই নারীর রক্তাক্ত মুখের ছবি। ভারতে নারী নির্যাতনের হার ন্যাক্কারজনক হলেও, পক্ষে দাঁড়ানোর মানুষ প্রচুর।
বাংলাদেশি সমাজে নৃশংস্যতার প্রতিবাদে একজনও নেই, বিশ্বাস করা কঠিন। উল্টা- মিডিয়া, সমাজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা খালেদার বিচারে বসেছে! একজন সরকারি বাসভবনে নিজের পরিবার নিয়ে অপার সুখে। অন্যজন নির্জন কারাগারে অপার নরকে। খালেদা প্রমাণ করলেন, ক্ষমতাসীনদের নারীর উন্নয়ন্তক্ষমতায়ন্তসংরক্ষিত আসন শ্রেফ প্রোপাগান্ডা। বরং নারী নির্যাতনের জন্য হাইকমান্ডের গিনিসবুকে যাওয়াই উচিত।

রাজনৈতিক খালেদা:-
ক্লাস টুর অংক। ২ কোটি নাকি ৪ লক্ষ হাজার কোটি, কোনটায় টাকার পরিমাণ বেশি? আমাদের অর্থনীতিবিদরা দারুণ অংক বিভ্রাটে ভুগছেন বলেই ৯ বছরেও সামান্য অংকটি সমাধানে ব্যর্থ। হাজার হাজার দাউদ ইব্রাহিমদের কবলে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে যখন ৯ বছরে গড়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে, ২ কোটি টাকার মামলায় শাস্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার গায়েবের ১০ দিন পরেই ওই তলাতেই আগুন লাগার মতো সন্দেহাতীত প্রমাণ খালেদার বেলায় কোথায়? সোনালী ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকা গায়েবের পর, পরিচালনা পর্ষদের কয়জনের বিচার হয়েছে? উল্টা পর্ষদের ক্রিমিনালরাই টকশোতে ব্যক্তিপুঁজা আর রাস্তায় খালেদাওয়াশ দুটোই করছে।
অভিনব ফিনানশিয়ার ক্রাইমের অন্তরালে ২টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি অন্দরে- আরেকটি বাহিরে। প্রতিটি জালিয়াতের খবর মাল মুহিতের নখদর্পণে। কারণ লাইসেন্স দেয়া থেকে বাচ্চু-বারাকাতদেরকে নিয়োগের দায়িত্বে মাল মুহিত, যিনি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার মূলে। অতিসামপ্রতিকালে ফামার্স কিংবা বেসিক ব্যাংকে ডাকাতি, প্রতিটি ঘটনাই মাল মুহিতের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে। “বারবারই বলেন, কেন অপরাধীদের বিচার করা সম্ভব না।” সুতরাং বারাকাতের আগে মুহিতকে দুদকের ডাকার কথা। “ব্যাংকগুলোকে শেষ করে দিয়েছে বারাকাত” বলেছেন মুহিত। গভর্ণর আতিউরের আমলে ১১৭% ঋণ খেলাপী কিংবা বারাকাতের পূর্বসূরী হলমার্কের তানভিরের পকেটে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ… প্রত্যেকের দায়িত্বেই মুহিত। এখনও আমানত ছাড়াই একেকজনকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে কার ইশারায়? দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে প্রতিবছরই বিরাট অর্থ যোগান দিচ্ছে মুহিতবাজেট। বাজেট নয়, যেন ঋণজাতিয়াতদের সুয়েজ ক্যানেল, যেখান দিয়ে টাকার জাহাজ ঢোকে আর বের হয়। দ্রঃ নয়াদিগন্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের মূলধন যোগান দেবে সরকার। টাকা নয়, যেন হরির লুটের বাতাসা। অথচ ৪টি বাজেটের সমপরিমাণ অর্থ লুটের দেশে একমাত্র ক্রিমিনাল খালেদা?
খালেদার ২ কোটি সম্পর্কে ড. জাফরউল্লা যা বলেছেন্ত “ব্যাংকে সুদে-আসলে সেই টাকা এখন তিনগুণ হয়েছে, তাহলে আত্মসাৎ হলো কোথায়?” এটাই সত্য। একাধিক হাত ঘুরে ট্রাস্টের পুরো টাকাই এখনো একাউন্টে। সুদে-আসলে ২ কোটি এখন ৬ কোটি।
মামলা এবং শাস্তি নিয়ে পানি ঘোলা করা শেষ। অচিরেই অন্যান্য ক্রাইসিসের মতো এই ক্রাইসিসকেও মিডিয়া থেকে উপড়ে ফেলবে। মানুষ ভুলে যাবে। যেমন গেছে শেয়ারবাজার, সিনহা, ট্রাইব্যুনাল, ১৫তম সংশোধনী, ৫ জানুয়ারি… ক্রাইসিসগুলো। খালেদাবিহীন বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রস্থতি ইতোমধ্যেই শুরু। বিদেশিদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের বডিল্যাংগুয়েজ-কথার ধরণেই প্রমাণ।
অন্যদিকে হাইকমান্ডের একাধিক ট্রাস্ট এবং ফাউন্ডেশনে যারাই নিয়মিত অর্থ দেয়ার বিনিময়ে সুবিধাভোগ করেন, এরাই দুদকের আসল ক্লায়েন্ট। ১/১১এর রিমান্ডে শেখ সেলিম, ওবায়দুল কাদেরদের দেওয়া ১৫ হাজার কোটি টাকা ঘুষের তথ্যগুলো কেন এড়িয়ে গেলো দুদক? সুতরাং খালেদাকে খাঁচায় ভরার মোটিভ নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন। রায়ের দিন থেকে কপি পাওয়া পর্যন্ত সময়টা অভিনব। পুরো ৭ দিন একা, যা পরিকল্পনা বাস্তাবয়নে যথেষ্ট সময়। অতীতে শুনেছিলাম, “কোথায় সিরাজ শিকদার?” ৪০ বছর শুনলাম, “খালেদা জিয়া এখন কোথায়?” যার যা বোঝার বুঝে নিক।

রায়ের আগে এবং পরে:-
৭ তারিখে যুগান্তরে কেন্দ্রিয় কারাগারের সামনে বন্দুকহাতে ৬ পুলিশের ছবিসহ খবরটি দেখে ভয় হচ্ছিলো, এই আয়োজন কী দাউদ ইব্রাহিমের জন্য? রাস্তাঘাটে প্রশাসনের সাজসাজ রব এবং গ্রেফতারের সাইজ দেখে মনে হচ্ছিলো, জেল ভেঙ্গে পালিয়ে গেছে দাউদ ইব্রাহিম এবং সাঙ্গপাঙ্গোরা।
খুনি, মুদ্রাপাচারকারীরাও রাজবন্দির স্ট্যাটাস পায় কিন্তু ৩ বারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফাঁসির আসামীর মতো ব্যবহার অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। “প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সকল অভিযুক্তই নির্দোষ। খালেদার অভিযোগও প্রমাণ হয়নি।” জেলে নেওয়ার আগে যে কোন বন্দির শারীরিক, মানসিক অবস্থা বিবেচনা বাধ্যতামূলক। হত্যার মোটিভ না থাকলে সলিটারি কনফাইনমেন্ট অপ্রয়োজনীয়। নির্জন প্রকোষ্ঠে নেওয়ার আগে গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে বিদায় দূরভিসন্ধিমূলক। খালেদার অসুস্থতা কে না জানে? তারপরেও জেলখানা কোন আরাম-আয়েশের জায়গা নয় বলে মহাসচিবের হুশিয়ারিতে হত্যার ইঙ্গিত। কারণ ১/১১এর সাবজেলের মতো মানবিক না হলেও, কেন্দ্রিয় কারাগারের বদলে খালেদাকে আরেকটু কম নরকে অবশ্যই রাখা যেতো।

মোটিভ:-
জামায়াতের অতীত থেকে এটাই শিক্ষণীয়, কোনরকমে জেলে ঢোকাতে পারলেই হলো। সেদিনও সন্দেহাতীত বিচার নিয়ে সারাবিশ্ব প্রশ্ন তুললেও কী হয়েছে? কেউ কী ফাঁসি থামাতে পারলো? “সুতরাং খালেদার বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্নটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানসম্মত।” ইয়াসির আরাফাতের মতো অনেক নেতাকেই গোপনে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরাফাতের টুথব্রাশ ও শার্টে রাসায়নিক পদার্থ ছিলো। যেভাবে রেখেছে- খাদ্য, পানীয়, ওষুধ, বিছানা, মেঝে, তোষক ট্যাম্পারিং কোন ব্যাপারই নয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানিরা বলবে, দ্রুত অনেক কাজই শেষ হওয়া লক্ষ্যণীয়। উদাহরণস্বরূপ, ডাক্তারসহ প্রত্যেককেই কারাগারের গেট থেকে বিদায়, যা ১/১১এর সাবজেলেও করেনি। ৯ বছরে বহু রাজনৈতিক বন্দীদের হত্যার কারণ আজো অমীমাংসিত।
১) প্রথম দফায় জামায়াতকে ধ্বংস করার মাধ্যমে ৫ জানুয়ারি কায়েম।
২) দ্বিতীয় দফায় খালেদাকে শেষ করে ২০১৮ কায়েম।

যে কারণে এতোদিন বাঁচিয়ে রাখা:-
খালেদাই একমাত্র ৫ জানুয়ারি রক্ষার ঢাল। অন্যথায় “যতো অন্যায় তাদের, খালেদাকে সামনে না রাখলে, উল্টা ক্ষমতাসীনদেরকেই টার্গেট করতো পাবলিক।”
উদারহণস্বরূপ, ৯২ দিনের আগুনসন্ত্রাস। টপ-টু-বটম, আওয়ামী লীগের সবার মুখেই খালেদাওয়াশ। খালেদা নাকি মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে তাই জেলে যেতে হয়েছে। যুক্তিবাদিরা বলবে, ৫ জানুয়ারির ক্রাইম যাদের, তারাই ৯২ দিনের আগুনসন্ত্রাসের আর্কিটেক্ট। ওই আন্দোলনে যারাই বাধ্য করলো, ৫ জানুয়ারির অপরাধ থেকে দৃষ্টি ফেরাতে, নিজেরাই পেট্রোল বোমা মেরে আগুনসন্ত্রাসের বিতর্ক সৃষ্টি করলো। খালেদার রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল বলে প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ার মানে এটা নয়, আগুনসন্ত্রাস করেনি ক্ষমতাসীনরা। “খালেদার রায়ের পর আন্দোলন না করায় নাখোশ আওয়ামী লীগ। কারণ আবারো পেট্রোলবোমা মারার সুযোগ হারালো।”
সুতরাং যতোদিন খালেদাকে নিয়ে গালিগালাজের রাজনীতি জিইয়ে রাখবে, ততোদিন লাভ। মানুষ জানতে চাইবে না, ৩ মাস হতে কী ৫ বছর লাগে? ক্যালেন্ডারে ৩ মাস হয় কয় বছরে? ১৫৪ জন অবৈধ এমপি নিয়ে কী করে বৈধ সংসদ ৫ বছর চলতে পারে? “এবার বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন শেষ।”

গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী:-
স্বৈরাচার এরশাদের সঙ্গে আপোষ করে লীগের মতো বিরোধিদলে যাননি খালেদা। স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের নের্তৃত্বও তিনি। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গ রূপদান। ত্রয়োদশ সংশোধনী পাশ করে প্রতিপক্ষকে ক্ষমতায় আসার রাস্তা বানিয়ে দিলেন। ত্রয়োদশ সংশোধনী গুম করে ৫ জানুয়ারির মতো কুউদ্দেশ্য থেকে বিরত থেকেছেন। নিয়মরক্ষার নির্বাচনে ৪ মাসেই ৯৬এর জাতিয় নির্বাচন। ১/১১এর সময় হাসিনার মুক্তি দাবি। জিয়াই বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন বলে স্বীকার হাইকমান্ডের। যদিও রাজাকারের রঙ চড়ালেন কিন্তু সত্য-সত্যই। অন্যথায় আওয়ামী লীগ চিরতরে বিলুপ্ত হতো। বাকি পরিবারকেও শাহ্‌ পরিবারের মতো চিরনির্বাসিতই থাকতে হতো। বাকশালের একদলীয় শাসন এতোটাই লজ্জাষ্কর, আওয়ামী লীগ নিজেও দিবসগুলোতে শীতনিদ্রায় যায়।

সক্রেটিসের মৃত্যুদণ্ড:-
খালেদা কোন সক্রেটিস না হলেও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। রোমান টায়রনরাও সাধারণ একজন সক্রেটিসকে তার অসাধারণ মতবাদের জন্য হত্যা করলো। টায়রনদের অভিযোগ, যুবকদের মাথায় পশ্চিমা দর্শন ঢুকিয়ে সমাজ নষ্ট করছিলেন সক্রেটিস। ৫০০ বিচারক মিলে একজন সাধারণ নাগরিকের বিচার? তখন রোম শহরে আজকের ঢাকার অবস্থা। বৃদ্ধকে টানাহেচড়া এবং ভূয়া বিচার শেষে জেলে পাঠিয়ে হত্যার আগে প্রস্তাব, হয় দেশত্যাগ নয় মৃত্যুদণ্ড। “অনেক বছর রাজনৈতিকভাবে নিস্ক্রিয় খালেদাও অতীতে আপোষ করে কখনোই দেশ না ছাড়ার একমাত্র দৃষ্টান্ত।”
বলছি, ব্যক্তি খালেদা শুধুমাত্র ব্যক্তি নন বরং বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদের উত্তরাধিকারী, যাকে ভীষণ ভয় পায় ক্ষমতাসীন এবং তাদের বিদেশি বন্ধুরা।

বিচারবিভাগ:-
বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি যেকারণে প্রাসঙ্গিক। উদাহরণস্বরূপ, বিতর্কিত প্রধান বিচারপতিগণ। খায়রুল হক সরাসরি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের দোষে দূষিত। দুই বিচারপতির (একজন ভারপ্রাপ্ত) পদত্যাগের কারণ, হাইকমান্ডের বেআইনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আপোষ না করা। জামায়াত নেতাদের একাধিক রায় লেখা বিচারপতি মানিক সরাসরি খালেদা বিরোধি এক্টিভিজমের সঙ্গে জড়িত। জুরিসপ্রডেন্স বলে, “বিচার সন্দেহাতীত না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তি নির্দোষ।” এতিমের টাকা এখনো একাউন্টে থাকায় দোষ প্রমাণে ব্যর্থ, যে দাবি ম-খা, বারাকাতরা করতে পারবেন না। অবিলম্বে খালেদাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া উচিত।
সারমর্ম:- “Injustice anywhere is a threat to justice everwhere. Whatever effect one directly, effect all indirectly.” -ড. মার্টিন লুথার কিং।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)