অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রধান শর্ত – অংশগ্রহণ নিষেধ?

March 17, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

গর্দভের আদালতে নির্বাচন:-
ছোটবেলায় বলতাম, ইফ যদি ইজ হয়, বাট কিন্তু হোয়াট কি? এর কোন ব্যাখ্যা আসলেই নেই। জানতে চাওয়াটাও গাঁধার কাছে প্রশ্ন ফাঁসের কারণ জানতে চাওয়ার মতো। প্রাচীনকাল হতেই গর্দভ একটি অতি নিরীহ প্রাণী। পিঠের উপর হাজারগুণ অধিক বোঝা তুলে দিলেও প্রতিবাদ করে না। গর্দভ সমপ্রদায়ের উপর বেজায় চটেছেন হাইকমান্ড। যদিও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রধান শর্ত, বেছে বেছে অংশগ্রহণ থেকে মাইনাস করা কিনা, বললেনই না। ওবায়দুল কাদেরদের বিষয়টি এইরকম- হবে… হচ্ছে… তবে… হয়তো… অনেকটাই constipation-এর মতো।
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের গ্রহণযোগ্য উদাহরণ। অর্থ পাচারের জন্য মোর্শেদ খানের মামলার তদন্ত চলবে কিন্তু প্রেসিডিয়াম সদস্য জাফরুল্লাহর অর্থ চুরির গন্তব্যস্থল পানামার ব্যাংকের নাম মুখে আনাও পাপ? ঠিক যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আনা মামলাগুলো থেকে শতভাগ খালাস হাইকমান্ড কিন্তু জেলে নিয়ে হত্যার ব্যবস্থা প্রতিপক্ষকে। সিইসিও সাফ বলে দিলেন, “নির্বাচনে সবদলের অংশগ্রহণের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে না” (দ্র: মানবজমিন ৮ মার্চ)। এরপরেও গর্দভ সমপ্রদায় চুপ থাকবে না কেন? তবে হাত-পা বেধে সাগরে ডুবিয়ে দেওয়ার পরেও, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলতে বিএনপি মহাসচিব কী বোঝেন, উত্তরটি “ইফ যদি ইজ হয়”-এর মতো। আজকের বিষয়, লালকেল্লার সবুজ সংকেত প্রেক্ষিতে বিজেপি বনাম কংগ্রেস এবং আওয়ামী লীগ।
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের “সময়” নিয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। ৭ বছরেও পাওয়া গেলো না ৩০ সেকেন্ড সময়? অথচ ৯ মাসেই পাকিস্তানিরা কাইৎ। ফেইসবুক আবিষ্কার ১০ মাসে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আরো কয়’শ কোটি ঘণ্টা লাগতে পারে কেউ কী জানে? তবে একমাত্র দিল্লির লালকেল্লাই লালবাতি-সবুজবাতি জ্বালানোর দুর্লভ ক্ষমতাধারী। বাংলাদেশিরা নিতান্তই অপেরা হলের দর্শক।
সুতরাং খালেদা-তারেককে বাদ দিয়েই নির্বাচন করবে। লালকেল্লার শর্ত একটাই। “ভারতের সব স্বার্থ পূরণ সাপেক্ষে বিএনপির নামটা আবছা হলেও ব্যালট বাক্সে রাখতে হবে।” সেইমাফিক কমিশনের আইনভঙ্গ করে, নৌকায় ভোট চেয়ে লর্ডদের মতো মাঠ চষে বেড়াচ্ছে একজন, প্রতিপক্ষের অবস্থা ফেরারি আসামী চেয়েও জঘন্য। খালেদার জীবন নিয়ে শংকিত হওয়ার যথেষ্ট কারণের অন্যতম, যেখানে এবং যে পরিসি’তিতে গুপ্তধনের মতো লুকিয়ে রেখেছে। উপযুক্ত চিকিৎসাতেও অনুমতি? এইধরনের গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর ইতিহাসে একটাই। ২০১৮ সনে রোগি আবারো মারা যাবে কিন্তু অপারেশন সাকসেসফুল।
ভবিষ্যতে কারামুক্ত হলেও খালেদার অবস্থা হতে পারে “ভেজিটেবল রোলের” মতো। রোলের উপরে কিছুদিন মুখরোচক ক্যাচাপ লাগাবে মিডিয়া এবং অন্যরা, এরপর ভুলে যাবে। বিষয়টি যা, যতো দ্রুত মাইনাস ওয়ান ফর্মূলায় নির্বাচন সম্ভব। কারণ ভারতীয় মিডিয়ার মতে, খালেদাকে বেশিদিন জেলে রাখলে পরিসি’তি অশান্ত হবে। হলে, বাড়াভাতে ছাই পড়বে।
২০১১ সনের জুলাই মাসে যে ফর্মূলাটির আবিষ্কার। সবদল বলতে, সকল নিবন্ধিত দল নয়। বরং কোন কোন নিবন্ধিত দলকে মাইনাস করতেই দিনদুপুরে ১৫তম সংশোধনীর দুর্ধর্ষ ডাকাতি। লালকেল্লার চীফ আর্কিটেক্ট প্রণবের সবুজ সংকেত ছাড়া যেকাজ তখন অসম্ভব। ওই সবুজ সংকেত এতোটাই শক্তিশালী, যাকে মার্সে নাসার নভোযান অবতরণের সঙ্গে তুলনা সম্ভব। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গালেও জুতা মারতে ছাড়লো না।
প্রণববাবুদের সরাসরি হস্তক্ষেপে আপত্তি নেই কিন্তু বার্ণিকাট বললেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো। একবার বলে, ওবামা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে আমরা কেন করবো না? আবার বলে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার এতো মাথাব্যথা কেন? তাদের নির্বাচনও তো প্রশ্নবিদ্ধ। একমাত্র পাগল ছাড়া এসব প্রলাপ কেউ করে? পরিবর্তিত আওয়ামী লীগ জানে না, আসলেই কি চায়। ৩৭ বছরের প্রবাসী জীবনে যতোবার ভোট দিয়েছি, ওয়াশিংটন কেন, ৫ জানুয়ারির আগে বাংলাদেশেও দেখিনি, প্রধান বিরোধি নেতাকে জেলে ভরে কেউ নির্বাচন করার সাহস দেখায়। এমনকি পাকিস্তানিরাও করেনি। এরপর, পুতিনের বদলে তোফায়েলদেরকে ভাড়া করতে পারেন ট্রাম্প। একমাত্র পুতিনই পারে, যা আওয়ামী লীগ পারলো।
ঘরে বসে কূপির আলোয় বিশ্ব দেখার খায়েশ অনেকেরই। বিশ্ব দেখতে হলে, বিশ্বভ্রমণেই যেতে হবে। বিশেষ একটি দলের সমর্থক মিডিয়ার যারাই সিএনএন্তএর আমানপোর কিংবা ভারতের রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের অর্ণব গোস্বামী হতে গিয়ে গলদঘর্ম, হোস্ট হওয়ার একমাত্র যোগ্যতা কি চড়া গলা? অধিকাংশই সাংবাদিকতার নামে ভূয়া সংবাদের বিষ ছড়াচ্ছে। পার্লামেন্ট দখলদারদের সঙ্গে এদেরও বিচার হওয়া উচিত।
পার্লামেন্ট দখলের অংশ হিসেবে, আবারো পুরান ষড়যন্ত্র নিয়ে নতুন পোশাকে এরশাদ গং। বলেছিলেন, কিছুতেই নির্বাচনে যাবেন না। এবার বলছেন, “জাতিয় পার্টি কোন দল, রওশন তা জানে না।” স্যোসাল মিডিয়ায় মন্তব্য, “সারা রাত রামায়ন শুনে সকালে রওশন জিগায়- সীতা কার বাপ?” ৫ বছর পর আত্মপরিচয় খোঁজা জাতিয় পার্টি কি তাহলে জারজ দল? (দ্রঃ প্রথম আলো, ৩ ফেব্রুয়ারি, ঢোল-কর্তাল হাতে এরশাদ-রওশন)।
সুতরাং ‘এবার খালেদা জিয়া কোথায়’ বক্তব্যে নিশ্চিত হওয়া গেলো, এইদফায় বিদেশিরা কিছুই করবে না। অতীতে দেখেছি, এধরণের পরিসি’তিতে, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের প্রতিক্রিয়া, যা তাদের রাষ্ট্রেরই প্রতিক্রিয়া। দেখেছি জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়াও। বরং অবৈধ সরকারকেই রেকর্ডমাত্রায় সমর্থন দিচ্ছে, যদিও ৫ জানুয়ারিকে স্বীকার করেনি পশ্চিমারা। অর্থনীতিকে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করার ফসল এটা। আমাদের কাজ কী শুধুই অভিযোগ করা? ক্ষমতাসীনদের কাজ কী শুধুই অভিযোগ তৈরি করা? এটাই ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের বৈজ্ঞানিক ফর্মূলা।


লালকেল্লার কুমির:-
জাফর ইকবালের উপর তথাকথিত জঙ্গি হামলার পর, জঙ্গি প্রসঙ্গটাও প্রাসঙ্গিক। কারণ জামায়াতসহ নানান সংগঠনকে জঙ্গি বানিয়ে সংসদসহ সবকিছুই ব্যক্তিমালিকায় নিলো।
এর কারণ, “কংগ্রেসের কাটা খালে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ, সুবিধাভোগী বিজেপি। মোদির সরকার এখন কংগ্রেসের কাটা খালের বিশাল কুমির।” খাল কাটবেন কিন্তু কুমির আসবে না? গুজরাত এবং মিয়ানমার গণহত্যায় যাদের নাম, তারাই বাংলাদেশের বন্ধু কোন লজিকে! ট্রেনে বিশেষ গোষ্ঠিকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের কালো তালিকাভুক্ত মোদিকে ভিসা দিতো না। জেতার সঙ্গে সঙ্গে কালো তালিকামুক্ত। সুচির সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উত্তাল বিশ্ব। এদের সঙ্গে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা ঢাকার বন্ধুত্ব? প্রশ্নগুলো নিতান্তই আধ্যাত্মিক, ক্রিমিনালদের কাছে যা মূল্যহীন। “দিল্লির সবুজ সংকেত ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব না। আবার গুজরাত গণহত্যাকেও সন্ত্রাস বলে স্বীকার করবে না। ৮ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পেটে সিঁধিয়ে দেয়া সুচিকেও সরাসরি সন্ত্রাসী বলায় আপত্তি।” গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মতোই হাইকমান্ডের জঙ্গিবাদের বৈজ্ঞানিক ফর্মূলা নিয়েও দারুণ বিভ্রান্ত জাতি।
৫ জানুয়ারির মতোই আবারো সক্রিয় ঢাকা-দিল্লি-কোলকাতার মিডিয়াচক্র লিখছে, দিল্লি নাকি খালেদাকে ছাড়াই নির্বাচনের সবুজ বার্তা দিয়েছে। ফলে অতি আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগও দানবীয় শক্তি নিয়ে মাঠে। নির্বাচনের বছরে দফায় দফায় হেভীওয়েটদের দিল্লি সফরও মাইনাস্ত১ ফর্মূলারই বার্তা। ভারতীয় মিডিয়ায় আমাদের নির্বাচন নিয়ে মাথাব্যথা যেন তাদেরই নির্বাচন!
ভেবেছিলাম, ভ্রষ্ট প্রণবের পথ ত্যাগ করবেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত মোদি, কিন্তু না। যদিও এইদফায় সোনিয়া-প্রণব গং-এর মতো সুজাতা সিংকে পাঠিয়ে নির্বাচন লন্ডভন্ড করার দৃষ্টান্ত নেই কিন্তু তারপরেও অগণতান্ত্রিক সরকারকেই সমর্থন? “কারণ মোদিভাই জানেন, যেকারণে কংগ্রেসকে বিচারের কাঠগড়ায় তুলেছেন, ৫ জানুয়ারি না হলে, একইকারণে কাঠগড়াতে থাকতো আওয়ামী লীগও। কংগ্রেসের তুলনায় আওয়ামী দুর্নীতিবাজদের করাপশনের তালিকা কম নয় বরং দীর্ঘ। ১৯৯৬ এবং ২০০৮, দুইদফায় যতো নৈরাজ্য এবং দুর্নীতি, কংগ্রেসের ৫ দশকের সমান।”
ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ৮ ফেব্রুয়ারি, জ্যোতি মালহোত্রার পর্যবেক্ষণ, বেগম জিয়াকে টেনে নামালে বাংলাদেশ একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। “প্রকৃত বিরোধিদল ছাড়াই দেশ শাসন করতে চলেছে আওয়ামী লীগ।” হাসিনাকে ‘শ্রেষ্ঠ বাজি’ বানানো বনাম না বানানো নিয়েও আলোচনা। নেপাল-ভূটানে ব্যর্থতা নিয়েও সতর্ক করা।
ভরত ভূষণের নিবন্ধেও, দিল্লিকে একই ভুল না করার পরামর্শ। লিখেছেন, “২০০৭ সালে ক্ষমতায় আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই মামলাগুলো করা হয়েছিলো। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাগুলো আদালতে নিস্পত্তি হয়। যদিও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলো চলতে থাকে, যোগ হয় আরো নতুন মামলা… সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ফলাফল অনিশ্চিত হতে পারে… বিষয়টিকে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।”
অমর্ত্য সেন থেকে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী… লিবারেলদের যন্ত্রণায় পারা যাচ্ছে না। (নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় লুটপাট করে শেষ করে দেওয়ার জন্য অমর্ত্য সেনকেই দায়ী করলেন বিজেপি নেতা ড. স্বামী।) পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী লিখেছেন, (দ্র:হিন্দুস্তান টাইমস ১৩ ফেব্রুয়ারি)- “হাসিনাকে অবশ্যই সমর্থন করবে ভারত কিন্তু খালেদাকে ফেলে দিয়ে নয়।” এই বক্তব্যেই প্রমাণ, এখনো নির্বচনকে প্রভাবিত করছে প্রণবপন্থিরা!


কংগ্রেসের থাবায় আওয়ামী লীগ:-
আমাদের রাজনীতিকে খাদে ফেলার মূলে প্রায় ৫ দশক ধরে একটি দলকে সরাসরি কংগ্রেসের থাবায় নেয়া। দ্বিতীয় দেশবিভাগের মূলেও ইন্দিরা। ইন্দিরার ক্যাবিনেট থেকে সোনিয়া পর্যন্ত যার একচ্ছত্র প্রভাব, ৭৫এর দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে, তার গৃহেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং পারিবারিককরণ। ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং পারিবারিক শাসনে বিশ্বাসী ইন্দিরার আদলে, এদেশেও দ্বিতীয় ইন্দিরা প্রতিষ্ঠার মিশন সিংহভাগ সফল।
তবে ২০১৪ সনের ভোটের বাক্সে নিরব বিপ্লব, মোটেও টের পায়নি কংগ্রেস। পেলে ৫ জানুয়ারি বাদ দিয়ে, ঘরের আগুনই সামলাতো। ভেবেছিলো, টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় যাবে কিন্তু বিধিবাম। কারণ সোভিয়েত মডেলের করাপ্ট কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির সফল ক্যাম্পেইন। এরই অন্যতম- “কংগ্রেসমুক্ত ভারত” গড়ার ডাক।
২০০৪ সনে কংগ্রেস ক্ষমতায় না এলে, ঢাকার রাজনীতির এই চেহারা অসম্ভব। মনমোহন সিং শ্রেফ কাষ্ঠঘোড়া। ক্ষমতায় গিয়েই ১/১১এর ষড়যন্ত্র প্রণববাবুদের। পছন্দের দলকে ক্ষমতায় আনতে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, পররাষ্ট্রনীতি… সর্বত্রই অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে দখলের রেকর্ড। ভারতের রাজনীতিতে পরিবর্তনগুলো কেন গুরুত্ব পায় না ঢাকায়? কেন শুধুমাত্র প্রণববাবুকে নিয়েই হৈচৈ?
টানা দুর্নীতি এবং দুঃশাসনের কারণে অস্তিত্ব সংকটে কংগ্রেস। দোষী সাব্যস্থ হলে সোনিয়া-রাহুলের জেল হতে পারে। দুর্নীতিবাজদের বিচারে ন্যূনতম ছাড় দিচ্ছে না বিজেপি। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি. চিদাম্বরামের পুত্র কার্তিককে এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করে সরাসরি জেলে। এরপর অর্থমন্ত্রীকেও গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। মন্ত্রী থাকা অবস্থায় বহু অনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার হার্ড এভিডেন্স আদালতে। উদাহরণস্বরূপ, ২০ ভাগ স্বর্ণ পাচারের শর্তে আইন পরিবর্তন অর্থমন্ত্রীর। সোনিয়া-রাহুলের স্বাক্ষরসহ বেনামে অর্থসন্ত্রাসের নথিপত্রও আদালতে। আগেও লিখেছি, বেনামে ‘ইয়াং ইন্ডিয়ান কোম্পানি’র ৭৬ ভাগ মালিকানা সোনিয়া-রাহুলের। ‘ন্যাশনাল হেরার্ল্ড স্ক্যাম’ মামলায় বেনামে ৯৩ কোটি রুপি ঋণ নিয়ে ৫ হাজার কোটি রুপির ভূমি আত্মসাতের মূল আসামী- রাহুল। বিএনপির মামলাগুলোর মতো একটাও কল্পনাপ্রসূত নয়। পাকিস্তান অবর্জারভারে লেখা নিবন্ধে যে বিচার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন প্রবীণ আমলা ও সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার। বছরে গড়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচারের অপরাধে কয়জনকে জেলে ঢোকাতে পেরেছে বাংলাদেশ? আজ যেখানে কংগ্রেস আর বিএনপি, বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতি সচেতন হলে, আওয়ামী লীগ থাকতো সেখানেই।
এসব বলার কারণ, বাম এবং লিবারেলদের পর, এবার রামদের দরজায় ধর্ণা দিতে এতোটুকু লজ্জা নেই পার্লামেন্ট দখলদারদের। আমি বিজেপির দোষ দেবো না, দোষ তাদের, যারা দুইদফায় ১০৮টি শর্ত পূরণ করে, সবুজ সংকেত আদায় করে!
৭ মার্চ মানবজমিন, “জনগণের সঙ্গে, দলের সঙ্গে নয়।” ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে কুটনৈতিক রিপোর্টার- “সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের সঙ্গে, কোন বিশেষ ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠির সঙ্গে নয়।” মোদিভাইকে প্রশ্ন, এটাই কী তার লক্ষণ? তাছাড়াও বিজেপির মতো জনগণের ম্যান্ডেটে নয়, ভোটচুরি করে ক্ষমতায় আসার বিষয়টি তিনি জানেন। ভোটচোরদেরকে সমর্থন জাতিয়তাবাদি বিজেপির আদর্শ কিনা! বিজেপিকে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে পুরোপুরি ব্যর্থ জাতিয়তাবাদিরা।
জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রথম শর্ত, কংগ্রেসের আনা ভারসাম্যহীন বাংলাদেশ নীতিগুলোকে সংস্কার করা। কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার ডাক দেয়া বিজেপির উচিত, আমাদের দেশেও কংগ্রেস প্রভাবমুক্ত রাজনীতি আনতে উদার হওয়া। নির্বাচনকেও কংগ্রেসের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। এছাড়া অন্য কোন পথেই শান্তি আসবে না।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
১৪ মার্চ ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 10.0/10 (2 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: +3 (from 3 votes)
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রধান শর্ত - অংশগ্রহণ নিষেধ?, 10.0 out of 10 based on 2 ratings