ভিক্ষা চাই না মাগার কুত্তা সামলাও

April 7, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


রাজনীতির হিমালয় থেকে সংকুচিত করতে করতে বিএনপিকে বানিয়েছে- ভিক্ষা চাই না মাগার কুত্তা সামলাও। খালেদার ক্ষেত্রে ভোট চাই না মাগার কুত্তা সামলাও বলাটাই যুক্তিযুক্ত। ১০ নম্বর সতর্ক সংকেতের খাদে এবং ফাঁদে পড়া বিএনপির অশনি সংকেত বোধহয় সবচেয়ে বেশি আমিই লিখেছি! নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন, আইনের শাসন, বহু আগেই বাতিল। “ডিজিজ টার্মিনাল নাকি নরমাল”- প্রসঙ্গটি তুলে বিএনপি ধ্বংসের শেষ ধাপ জানিয়ে দিলো। আন্দোলনের হিমালয় থেকে নেত্রী এখন সুস্থ-অসুস্থতার আলোচনায় সংকুচিত। অন্যজন ভোট চেয়ে সরকারী টাকায় সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন। এটা নাকি তার অধিকার। অধিকার শুধুমাত্র আওয়ামী লীগেরই। সত্য কঠিন হলেও সত্যেরই জয়। আওয়ামী Vulgarism জাতির বিবেক-নীতি-নৈতিকতা পুরোপুরি ধ্বংস করেছে। সিকিম হয়েছি, গণতন্ত্র নেই, স্বৈরাচারি শাসন… অচল। মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে কয়েকটি কথা।
১) ২০১৮এর ২৬ মার্চে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটালেন হাইকমান্ড। সেক্টর কমান্ডারের স্ত্রীকে জেলে ভরে, সদলবলে সেদিন একাই সাভারে! ২১ ফেব্রুয়ারিতেও তাই। ২) ৪৭ বছরে এই প্রথম সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো স্বৈরশাসকের তালিকায় বাংলাদেশ। ৭১এর মৌলিক গণতন্ত্র এখন আপাদমস্তক কম্যুনিস্ট গণতন্ত্র।
জিয়া একজন বীরউত্তম পদকপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার। সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাও। তার স্ত্রী খালেদাও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধিনেত্রীও। ২০১৮ সনে একা হাইকমান্ডের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনে লজ্জিত নই। লজ্জিত এইকারণে, সেদিন গোটা জাতিই চুপ! আমরা একে আক্রান্ত মুক্তিযুদ্ধ, আক্রান্ত স্মৃতিসৌধ বলতেই পারি।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান নিয়ে সামান্য আলোচনা। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই যুদ্ধ না করে পালিয়ে গিয়েছিলো। অনেকেই কোলকাতায় বিলাসী জীবনযাপনে ব্যস্ত ছিলো। ৯০ লাখ বাদে বাকিরা দেশেই। অনেক চি‎িহ্নত রাজাকারই এখন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় দেয়। পার্লামেন্টে রাজাকারদের স্বরব উপস্থিতি।
অন্যদিকে, প্রথম দিন থেকেই শসস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার অপরাধে জিয়াউর রহমানের গোটা পরিবারকেই ক্যান্টমেন্টে বন্দি করেছিলো পাকিস্তানীরা। বিশেষ নম্বর বাড়ির বেলায় উল্টা। আওয়ামী নেতা তখন কী কারণে ৯ মাস পাকিস্তানে, ৪৭ বছরেও পরিষ্কার নয়। ঢাকায় পুরো পারিবারের সঙ্গে পাকিদের নমনীয়তাও তাই। সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ, আহমেদ ছফা, বদরুদ্দিন ওমরসহ অনেকেই বিষয়টির উপর জোর আলোকপাত করলে, বইগুলো হয় নিষিদ্ধ, নয় উধাও। দেয়াল বইটি কয়েকদফা কাটাছেড়ার আগে, ৩য় সংস্করণটি আমার হাতে। সেখানে ড. ওয়াজেদ মিয়া এবং রাওফরমান আলীর একসঙ্গে চা-নাস্তার লেখা পড়ে দুইচক্ষু চড়কগাছে। এগুলোই আমার অবস্থান পরিবর্তনের কারণ। ৭১ সনে কিশোরী এবং রিফিউজি হওয়ায়, সত্যতা খুঁজে পেতে কষ্ট হয়নি। বরং নিজেকে বলেছি, পাকিরা খুঁজে খুঁজে শুধু হিন্দু আর মুক্তিযোদ্ধাদের মারলো কিন্তু শহরেই এতোবড় টার্গেটকে আদরে-যতনে রাখলো? পরিবারটির প্রতি পাকিদের যে দরদ, কিঞ্চিৎ পেলেও সংখ্যালঘুদের অবস্থা হলাকস্টের রিফিউজিদের মতো হতো কী?
২৬ মার্চ থেকে পুরো ৯ মাস, জিয়া কোথায় ছিলেন, সকলেই জানে। রণাঙ্গনের সৈন্যদের Moral অটুট রাখতে, নেতৃত্বহীনতার উৎকষ্ঠা দূর করতে, ২৭ মার্চ কালুরঘাটে কি করেছিলেন, সামাল দিতে আওয়ামী লীগ হিমশিম খেলেও, পাবলিকের কষ্ট হয় না। নেতা ছাড়া যুদ্ধ হয় না। অনাদিকাল হতেই যার প্রমাণ। উদাহরণস্বরূপ, দাপড় যুগে কুরুপাণ্ডবের যুদ্ধে, দোটানা মনের অর্জুনকে যুদ্ধে Motivated করতে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকে যুদ্ধের আধ্যাত্মিক নির্দেশনাই- ভগবত গীতা। সুতরাং ৯ মাস রণাঙ্গনে জিয়া ঘুমিয়ে ছিলেন নাকি কালুরঘাটে যাওয়ার পথে ভুলে কোলকাতায় উপস্থিত হয়েছিলেন, এই বিতর্ক অতীত।
বীরউত্তম পদকটি সশস্ত্র সংগ্রামের পুরষ্কার। এটি নিজ হাতে দিয়েছিলেন মুজিব। জাদুঘর থেকে পদকটি সরিয়ে প্রমাণ করলো, পদকটি যেমন ভুল, যিনি দিয়েছিলেন তিনিও ভুল। বিএনপির জন্মের পর থেকে স্বাধীনতা দিবসসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক দিবসেই সব দল এক কাতারে। ব্যতিক্রম ২০১৮। যখন জাতিয় দিবস একাই ২১ ফেব্রুয়ারি এবং ২৬ মার্চ উদ্‌যাপন করে গোটা মুক্তিযুদ্ধের মুখে লাথি মারলো। তাতেও লজ্জিত নই। লজ্জিত এই কারণে, সেদিন একজন মুক্তিযোদ্ধারাও তাদের ফেলো-মুক্তিযোদ্ধাকে অপমানের বিরুদ্ধে সাভারে যাওয়া থেকে বিরত থাকেনি। একজন নারী মুক্তিযোদ্ধাও- বিধবা, বয়ষ্ক, পুত্রশোকীকে জার্মানির কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতো অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেনি। একজন পুরুষও, নারীর প্রতি অসম্মানের লজ্জায় মুখে কালো কাপড় দেয়নি।
একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ। ৬৫ সনে পাক-ভারত যুদ্ধের প্রতিবাদে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুরা সিদ্ধান্ত নিলো, মূর্তির বদলে ঘটে দূর্গাপূজা করবে। এই খবরে বিচলিত স্থানীয় প্রশাসন আমার পিতাসহ অন্যান্য হিন্দু নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও কাজ হলো না। এভাবেই অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে নিরব প্রতিবাদ করেছিলো সংখ্যালঘুরা।
জেলে এমনকি পকেটমারও স্বাধীনতা দিবসে ভালো ব্যবহার পায়। দিবসগুলোতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকের কয়েক ঘণ্টার জন্য জামিন দেওয়া যেতো না, বিশ্বাস করি না। এমনকি আগরতলা এবং ১/১১এর হুন্তারাও জামিন দিতো। বর্তমান ফিনানশিয়াল ক্রিমিনালদের তুলনায় খালেদা কতো বড় ফিনানশিয়াল ক্রিমিনাল, প্রশ্ন দুদক এবং এটর্ণি জেনারেলকে।
দুদক জানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০ মিলিয়ন ডলার মেরে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। রিপোর্ট এফবিআইয়ের। আইনমন্ত্রী এবং এটর্ণি জেনারেল জানেন, এতিমের টাকা একাউন্টেই। প্রতিটি ফিনানশিয়াল ক্রিমিনালের দেশে-বিদেশে বাড়ির ঠিকানা দুদকের হাতে। প্রমাণবিহীন মামলায় খালেদাকে জেলে পাঠালো দুদক। একই আইনে বাৎসরিক গড়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচার করা ফিনানশিয়াল ক্রিমিনালরা মুক্ত কীভাবে- টক-অব-দ্যা টাউন! অর্থমন্ত্রীকে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, জনতা ব্যাংক বারাকাত শেষ করে দিলে, কার বিচার জরুরি? “তারপরেও খালেদা জেলে।” ৯ বছর ধরে একমাত্র জোট সরকারের উপরেই তারা যেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতো- বিচারবিভাগের অস্তিত্ব পরীক্ষায় লিপ্ত।
বিচারবিভাগের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ নিয়ে দু’কথা না বললে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের উদাহরণটি পরিষ্কার হবে না। “এস.কে সিনহা যখন দৈত্য, যখন দেবতা।” সুপ্রীম কোর্টের সর্বোচ্চ রায় মাফিক, ১৫৪ জন অবৈধ এমপির পদত্যাগ সাপেক্ষে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে, অস্থায়ী সরকারের অধীনে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা। একজন বাদে সকল এমিকাসকিউরি এবং বিজ্ঞ বিচারকদের অকুণ্ঠ সমর্থনে রায়, “১৫৪ জন এমপি অবৈধ।” আপীল, রিভিউ পিটিশন চলতেই পারে। আদালতের সর্বশেষ গন্ডি পার হলে, উভয়পক্ষকেই রায় মানতে হবে। অর্থাৎ সংসদ বাতিল করে নির্বাচন। খালেদার বেলায় আদালতকে যারাই মাথায় তুললো, তারাই কিন্তু আপীল খারিজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, সংসদে এবং বাইরে এস.কে সিনহার বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করলো। ওইসব ফুটেজ আর্কাইভে। এরই ফলশ্রুতিতে সিনহার দেশত্যাগ। এরপর আকাশ থেকে পদত্যাগপত্রের অবতরণ। দুদককে প্রশ্ন, বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা কী এটর্ণি জেনারেলের?
স্বৈরশাসকের তালিকার আগেই আওয়ামী রেকর্ড, ৯ বছরে দুই প্রধান বিচারপতি ভুল! সিনিয়রিটি ডিঙ্গিয়ে ওয়াহাব মিয়ার বদলে প্রধান বিচারপতি অন্যজনকে। বলছি, এস.কে সিনহার রায় পক্ষে গেলে শতভাগ ঠিক! সংসদে সুবিচারক সিনহার প্রশংসায় গর্জন হাইকমান্ডের। অমুক নেতাদেরকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানোয় আদালতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইনুরা। কিন্তু পক্ষে না গেলে, সিনহাই নাকি রাজাকার, চোর, মিথ্যাবাদি, গুন্ড-বদমাইশ, অর্থ জালিয়াত…? অথচ তিনিই কিন্তু বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায় লেখকদের নেতৃত্বে। তাহলে? ভোট যাই হোক, বিএনপির অবস্থা এখন ভোট চাই না মাগার কুত্তা সামলাও।
সুতরাং খালেদার অসুস্থতার খবরে কতোটা উৎকণ্ঠিত বিএনপি? লক্ষণ অশুভ। এমনকি মহাসচিবকেও ঢুকতে দেয়নি। ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমকে অনুমতি দেয়নি। এটাই ঝড়ের আগে মেঘের গর্জন। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতোই নেত্রীর উপর যেধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পরিষ্কার করলেন বাচাল কাদের। এমনকি গুয়ান্তামোবে কারাগাড়ের বন্দিরাও মানবাধিকার পায়। “খালেদার অসুস্থতা নিয়ে গোপনীয়তায় মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন- কী খেলা চলছে পর্দার অন্তরালে!”
মিশন্ত জিয়া পরিবারের কাউকেই বাঁচিয়ে রাখা হবে না। ভারত থেকে ফেরত আসার কিছু সময় পরেই জিয়া হত্যা। মানসিক চাপে রেখে কোকো হত্যা। প্রধান প্রতিপক্ষকে চিরতরে নির্বাসন। খালেদাও অনি-মের পথে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সুপার-আত্মবিশ্বাসী হাইকমান্ড। “খালেদার মৃত্যু হলেও কিছুই হবে না।” যেমন হয়নি গত ৯ বছরে, জোট সরকারের উপর লাগাতার রাজনৈতিক বোমাবর্ষণ করে ধ্বংস করে দেওয়ার পরেও।
গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ। অতীতে প্রতিবারই ওয়াশিংটন থেকে দিল্লি এইধরনের ঘটনায় স্বরব। ১/১১তে দুই বেগমকে নামমাত্র জেলে ঢোকানোর পরেই সরগরম। মাইনু-ফাকরুর অবস্থা ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।’
জিম্বাবুয়ে-মালদ্বীপের মতো ফালতু দেশে পটপরিবর্তনের খবরও পশ্চিমা মিডিয়ায় গুরুত্ব পায়। খালেদার বেলায় সুনশান নিরবতা? বলছি, ভারত-রাশিয়া-চীনের সমর্থন ছাড়া এই কাজ অসম্ভব। আমেরিকাকে ম্যানেজ করেছে ভারত। ভারতের উপর নির্ভরশীল আমেরিকা। কারণ ছাড়া কিছুই হয় না। উপনিবেশবাদিদের রক্তের ভেতরে ঢুকে পড়েছে আওয়ামী লীগ।


এবার পরিবর্তিত বিএনপির ভুল আন্দোলন নিয়ে কিছু কথা। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে একমাত্র বিএনপি অনুমতি না পেলেও, চোর-গুন্ডা-বদমাইশদের অনুমতি দেয প্রশাসন। তারপরেও পল্টনের দুই কান কাটার আচরণ। লজিক্যাল প্রতিবাদটুকুও দেখাতে ব্যর্থ। অতীতেও Stay order না নেওয়ায়, চুলের মুঠি ধরে ক্যান্টমেন্টের বাড়ি থেকে উৎখাত করেছিলো। অথচ তাদের দলেই ব্যারিস্টারের সংখ্যা নাকি বেশি।
বিএনপির বক্তব্য কাটাকুটি করে প্রচার করে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে চায় সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া। এই সুযোগটুকুও নেয়া যেতো। নেত্রী যখন মৃত্যুপথে তখনও গান্ধিবাদের মানে হয়?
গান্ধি নিজেই গান্ধিবাদ বুঝতে ব্যর্থ। অন্যদিকে ভারতে এসে ২ বছর অহিংস আন্দোলন গবেষণা শেষে আমেরিকাতে ফিরে গিয়ে বাঘ আর ছাগলকে এক ঘাটের পানি খাইয়ে ছেড়েছেন ড. কিং। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টও ড. কিং-এর অহিংস আন্দোলনে বিচলিত হয়ে ‘সিভিল রাইটস এক্ট’ পাশ। এর কারণ, অহিংস কিন্তু অসহায় ছিলেন না। সঙ্গে লাখো জনতার শক্তি। ড. কিং হাঁচি দিলেই, হাজার হাজার সাদা-কালোরা রাস্তায়। কথায় কথায় ‘মিলিয়ন ম্যান মার্চ’। “প্রশ্ন, কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে খালেদা- বিএনপি কর্মীরা কোথায়?”
ফকরুলদের আন্দোলনের উদাহরণ। যখন একহাত কেটে নিলো, ভাবলো আরেক হাত তো আছে। এক পা কেটে নিলে তখনও ভাবলো, আরেক পা আছে। এরপর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো বিচ্ছিন্ন করতে থাকলে, ফকরুলদের ধারণা, মাথা তো আছে। মাথা কেটে নিলে ভাবলো, কবরে নামফলকটি তো পাওয়া যাবে।
তারপরেও ভালো মানুষ আছে। না থাকলে চার দেয়ালের ভেতরে বন্দি খালেদার দিন কীভাবে কাটতো? একবার ভাবুন, আমাদেরই কারো বয়ষ্ক এবং অসুস্থ দাদী, নানী, চার দেয়ালের ভেতরে দিনের পর দিন একা এবং দরজায় তালা। এর পরিণতি কী হতে পারে?
বলছি, এই মুহূর্তে সবচে’ বড় ফেমিনিস্ট ফাতেমার কথা, যিনি আওয়ামী কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি খালেদার পক্ষে ১৬ কোটির মধ্যে একাই লড়ছেন। তার তুলনায় ফেমিনিস্ট, মানবাধিকারবাদি, বুদ্ধিজীবিসমপ্রদায়… তুচ্ছ। আমার অর্থনৈতিক অবস্থা ফাতেমার মতো হলে, মাসে ৫ লক্ষ টাকা বেতন দিলেও চার দেয়ালে বন্দি থাকার মতো চাকরিই করতাম না। বরং ভিক্ষা করতাম। মুক্ত হাওয়ায় ভিক্ষাও আনন্দদায়ক। আমেরিকাতে বিনা পয়সায় শেল্টার কিন্তু গৃহহীনদের পছন্দ ফুটপাত। কারণ, মুক্ত বাতাসে মানুষের ছন্দ। সুতরাং ২০১৮ সনে ফাতেমাকে শানি-তে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হোক।
“প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা দেয়া হবে”- কাদেরের এই বক্তব্যের সঙ্গে নিউইয়র্কের একটি আওয়ামী সমর্থিত পত্রিকার মিল খুঁজে পেলাম। ৩১ মার্চ ওই পত্রিকার হেডলাইন্ত “ষড়যন্ত্রের ছক, তারেক, সিনহার পথে খালেদা জিয়া।” দেশে-বিদেশে অগ্রিম জানান দেয়ার প্রস্থতি এগুলো।
সেদিনের পর থেকে খালেদাকে কেউ দেখেনি। অথচ তার সমর্থক কয়েক কোটি। নেত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ে জানার অধিকার সকলের। দ্রুত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থবিষয়ক বুলেটিন প্রচারের দাবিটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।
১৬ জানুয়ারি নয়াদিগনে- লিখেছিলাম, আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বারা বৈঠকে সজীবের চার নির্দেশনা। ১) ব্যাপকহারে জোট সরকারের দুর্নীতি প্রচার, ২) মিডিয়াসহ রাস্তা ও প্রচারযন্ত্র দখলে রাখা, ৩) ব্যাপকহারে ক্ষমতাসীনদের উন্নয়ন প্রচারে বাধ্যবাধকতা, ৪) যেকোন মূল্যে আওয়ামী লীগকেই আবারো ক্ষমতায় আনা।
সারমর্ম: ৪৭ বছরে এই প্রথম স্বৈরাচারের তালিকায় বাংলাদেশ। তারেক, সিনহার পর খালেদাকেও বিদেশে পাঠানোর গুঞ্জন। স্বৈরাচারের প্রতিবাদে A-to-Z সবাই রাস্তায় না নামলে, আগামী নির্বাচনগুলো কম্যুনিস্ট দেশগুলোর মতোই হবে। “কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের” প্রসঙ্গটিকে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ সবাইকে।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
৪ এপ্রিল ২০১৮ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)