মোদিজীকে খোলা চিঠি – ১

April 12, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

ভারতের ‘স্টার জলসা’ নিয়ে বাংলাদেশিদের যতো আগ্রহ, ভারতীয়দের মধ্যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা জানার ন্যূনতম আগ্রহ থাকলে, আমাদের পার্লামেন্টের চেহারা রাশিয়ার মতো হতো না। তবে কংগ্রেসের পথেই হাঁটবে কিনা বিজেপিও, দেখার জন্য ২০১৮এর নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। লেখার প্রথম পর্বে কংগ্রেস, দ্বিতীয় পর্বে বিজেপির আলোচনা-সমালোচনা। কংগ্রেস শোনেনি কিন্তু বিজেপিকে জনগণের কথা শুনতেই হবে। কারণ এবারের নির্বাচনটাও জনগণের হাত থেকে কেউ কেড়ে নিলে, ৫ জানুয়ারির মতো রাজনীতি এতো সহজ হবে না। যা দিল্লিরও মাথাব্যাথার কারণ হওয়াই স্বাভাবিক।
প্রথমেই ট্রাম্প, তেরেসা মে, পুতিন, জিংপিংকে পেছনে ফেলে, গ্যালাপ পোলের বাৎসরিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে তৃতীয় স্থান দখলে মোদিজীকে অভিনন্দন। নিশ্চয়ই এমনকিছু করেছেন যেজন্য দলচাটাদের মুখ থেকে নয় বরং বিশেষজ্ঞদের অনুসন্ধানেই এই পুরষ্কার। তবে অধিক আনন্দিত এই কারণে, আপনার দল সেটা উদ্‌যাপনে, সপ্তাহব্যাপী ভারত বন্ধ ঘোষণা করে দেশজুড়ে নাইটমেয়ার সৃষ্টি করেনি। চাইলে পারতো কারণ, রামমাধবেরাই ক্ষমতায়। উল্টা কংগ্রেসসহ সকল বিরোধিশিবিরের গর্জন, গ্যালাপের অনুসন্ধান ভুল। এর সঙ্গে প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থার মিল নেই। বরং টার্ম শেষ হওয়ার আগেই মোদিজীকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে পার্লামেন্টে এবং বাইরে- বিরোধিশিবিরের তুলকালাম। বলছি, ভারতের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারবাহিকতা।
সামনে দুই দেশেরই জাতিয় নির্বাচন। এপ্রিলে আপনার সঙ্গে আমাদের অনির্বাচিত প্রধানের (রায় এখনো বহাল) আবারো সাক্ষাতের খবর মিডিয়ায় দেখে যারপর নাই আতঙ্কিত। কংগ্রেস আমলে এতোবার সাক্ষাৎ, আবার সাক্ষাৎ? জনগণের কৌতুহল, এতোবার সাক্ষাৎ করলে কী হয়, না করলে কী হয়? একমাত্র বৈধ প্রতিদ্বন্দ্বিকে জেলে ভরে, একাই নির্বাচনের বিষয়টি মোদিজী জানেন। তারপরেও নিরব থাকাটা, জনগণকে বাদ দিয়ে বিশেষ একটি দলের সঙ্গেই সম্পর্কের অকাট্য প্রমাণ নয় কী? যে ভুল বরাবরই করলো কংগ্রেস। অন্যদিকে ভারতের জাতিয় নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে উভয়শিবিরে একেবারেই ভিন্ন চেহারা। আমাদের দেশে, ক্রেমলিনের চেহারা। -বিষয়টি কী চোখে দেখছেন মোদিজী??
এমনকি সামান্য পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়েও স্বরব ভারত। পার্লামেন্টে থেকে মিডিয়া, সর্বত্রই বহুদলীয় গণতন্ত্রের জয়জয়কার। আপনাকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে মোদিমুক্ত ভারতের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ১১ দলের ফেডারেল ফ্রন্টে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া। আগামীতে অনেকেই মমতাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান। এইখানে কংগ্রেসকে জোটে রাখা নিয়ে কিছু সমস্যা। কারণ, মমতা প্রধানমন্ত্রী হলে রাহুল কী ঘাস খাবে? তাই কংগ্রেসকে অন্যভাবে সমর্থনের কথা সোনিয়াকে জানালেন মমতা। এমনকি বালঠাকরের দল পর্যন্ত আপনার বিরুদ্ধে চলে গেছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং মমতা মিলে যা করছেন, একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়েও বিরোধিশিবিরের কাছে আপনি কতোই না অসহায়! আর অনির্বাচিত অবস্থায় (রায় বহাল) পার্লামেণ্টে প্রায় ৫ বছর পূরণের পরেও, কার আশ্বাসে এতো আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ? বলছি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা।
২০১৯এর নির্বাচনে আপনাকে পরাজিত করতে শত্রু-মিত্র এক আসনে। সেই হিসেবেই দিল্লিতে সোনিয়া-মমতার সাক্ষাৎ। হেভীওয়েটদের সঙ্গে স্বশরীরে সাক্ষাৎ করে এ্যালায়েন্স ভাঙ্গার তালে মমতা। রামনবমীর উৎসবকে কেন্দ্র করে আসানসোলের দাঙ্গা কিংবা দলিত সমপ্রদায়ের সংঘর্ষে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পরিদর্শনে শাসকদলকে অনুমতি দেননি মমতা। ফলে দিলীপ ঘোষের মতো হোমড়াচোমাদেরকেও প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়ে ঢুকতে হলো। এদিকে ৯ বছরে ঢাকার পার্লামেন্ট কম্যুনিস্ট আকার ধারণ করলেও, বিজেপির আচরণে ন্যূনতম পরিবর্তন হয়নি। বরং কংগ্রেসের মতোই বিরোধিশিবিরকে পুরোপুরি উপেক্ষার পথটাই বেছে নিলো। সুতরাং আগামী নির্বাচনটাও গ্রহেই থেকে গেলো।
ভারত জুড়ে এই যে উভয়শিবিরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত চর্চা এবং ধারবাহিকতা… প্রচারে কতোটুকু আগ্রহী আমাদের মিডিয়া? তাদের পছন্দ- বলিউড, স্টার জলসা, ফেয়ার এণ্ড লাভলী…। “হতে পারে সেটা বুদ্ধিস্বাধীনতায় চাপা দেওয়ার কৌশল।”
খবর, মমতার উৎসাহে পার্লামেন্টে তিনবার অনাস্থা প্রস্তাবের ব্যর্থ চেষ্টা। কংগ্রেসও এককভাবে অনাস্থা আনার চেষ্টা করেছিলো। কোনটাই গ্রহণ না করে পার্লামেন্ট মূলতবী করেন স্পিকার। বহুদলীয় পার্লামেন্ট এবং বিরোধিশিবিরের গণতান্ত্রিক অধিকারের কথাই বলছি।
ভারতের পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার দৃষ্টান্ত বহু। মিডিয়ায় সেসব নিয়ে তর্কবিতর্কও সমানতালে। কিন্তু আমাদের সংসদে অনাস্থা দূরে থাক, ৩০০ কণ্ঠ যখন একসঙ্গে ‘হ্যাঁ জয়যুক্ত’ বলতে থাকে, ভয়ে দম আটকে যায়। এই ক্যান্সারের জন্য বিজেপি দায়ী নয়। কিন্তু তারাও কেন পরিবর্তনের বদলে কংগ্রেসের ব্যুরোক্রেসিকেই বেছে নিলো, প্রশ্ন- গণতন্ত্রকামীদের।
বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসমুক্ত ভারতের ডাক অত্যন্ত সময়োপযোগী। কারণ, দলটির কারণেই বহু বছর ধরে গোটা অঞ্চল জুড়েই অশান্তি। বিশেষ করে বাংলাদেশ যারপর নাই ক্ষতিগ্রস্ত। ১/১১এর সময় থেকে, জনগণের বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা কংগ্রেসের। জনগণ নয়, তাদের কাছে আওয়ামী লীগই বড়। এবিষয়ে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও প্রাসঙ্গিক। সংখ্যালঘু পরিবারের হওয়ায় দেশবিভাগের নাইটমেয়ার খুব কাছ থেকে দেখেছি।
সকলেই জানে, ৪৭এর পর থেকে সিংহভাগ সময় জুড়ে কংগ্রেসই ক্ষমতায়। দেশবিভাগের পর থেকেই বারবার দাঙ্গা আর যুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় বদলে যেতে থাকলো সাইনবোর্ড এবং মালিকানা। ৬৪ থেকে ৭০, দেশত্যাগের রেকর্ড। ৭১এর পর নতুন রেকর্ড। বাবরি মসজিদের ঘটনার সময়ও তারাই ক্ষমতায়। তখন মন্দির-মসজিদ ভাঙ্গার ধুম পড়লে, সংখ্যালঘুদের ভাগ্যে নামলো চরম বিপর্যয়। আগেও লিখেছি, ক্ষমতায় থেকেও সংখ্যালঘু ইস্যুতে একটি কার্যকরী পদক্ষেপও নেয়নি কংগ্রেস। তাদের অবহেলাই সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ৩৭ থেকে ৭এ নেমে আসার প্রধান কারণ।
স্বৈরাচারি ইন্দিরার মৃত্যুর পর, কেন্দ্রের ব্যুরোক্রেসিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন আরেক স্বৈরাচার প্রণব। বিশেষ করে বাংলাদেশ পলিসিতে সবাইকে ডিঙ্গিয়ে, যার একক আধিপত্যবাদ। শ্বশুরবাড়িটি এপারে হওয়ায়, কপাল পুড়েছে। সকলেই জানে, কার হস্তক্ষেপে খালেদা জেলে। কার ছকে পুড়ে ছাড়খাড় বিরোধিশিবির। ফলে কয়েকজন বাদে অধিকাংশই তাকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে। “প্রণবের মুখোশটি জাতির কাছে উন্মোচনের চেষ্টা চলবে।” ভাতিজিকে ক্ষমতায় রাখতে আত্মজীবনীতে যা লিখেছেন, নিজেই অপরাধ স্বীকার করে, নিজেকেই দোষী সাব্যস্ত করা। “ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচন ব্যাভিচারের অভিযোগে ম্যুলার ইনভেস্টিগেশনকেও অপ্রয়োজনীয় বানালেন প্রণব।” ফলে বিরোধিদলের উচিত, সকল অপরাধের তালিকা বানিয়ে দিল্লির কাছে উপযুক্ত শাস্তির দাবি। এতে লাভ না হলেও ক্ষতি হবে না। “সিনহা এবং খালেদার ঘটনার পর, বিষয়গুলো বিরোধিশিবিরের পক্ষ থেকে বিজেপিকে অভিযোগ জানানোর শ্রেষ্ঠ সময় এটা।”
যে বিষয়গুলো মোটেও অবহিত নন রামমাধবেরা। আসাম থেকে যাদেরকে পুশব্যাক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ভোটের স্বার্থে এদেরকেই ভারতে ঢুকতে দিয়েছিলো মূলত কংগ্রেস। দেশবিভাগের পর থেকে দেশত্যাগিদের রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় বিজেপি। এই কাজে বাম এবং মমতাও কম দায়ী নয়। সুতরাং লাখ লাখ অবৈধদেরকে পুশব্যাক না করে, প্রকৃত দোষীদেরকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয় কী?
কংগ্রেসের কব্জায় থাকা নেতাজীর সিক্রেট ফাইলগুলো ডিক্লাসিফাই করায়, ভারতীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করলো বিজেপি। যদিও শেষ পর্যন্ত তুমুল বিরোধিতা করেছিলো কংগ্রেস। ফলে গান্ধি পরিবারের ঘরের আগুন আরো জ্বলে উঠলো। নেতাজী পরিবারের উপর গুপ্তচরবৃত্তি ছাড়াও ইন্দিরার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পুড়িয়ে ফেলারও অভিযোগ। এই বিষয়ে আগেও লিখেছি। ডিক্লাসিফাইড ফাইলের পর, নেহেরু নন, নেতাজীই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর খবর সামাল দিতে হিমশিস কংগ্রেস। ফলে পাঠ্যপুস্তকসহ নানান অঙ্গনে বিকৃত ইতিহাস পুনরুদ্ধারে আপনাদের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। মোদিজীর বিজয়ের পর এইধরনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণও আশা করেছিলো কিন্তু হায়…!
বিজেপির অভিযোগ, ইন্দিরা গান্ধি একজন আপাদমস্তক স্বৈরাচার। কথা সত্য। কারণ- সিকিম দখল, পাকিস্তান ভাঙ্গায় উষ্কানি, জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতায় থাকা, ভোটচুরি, স্বর্ণমন্দিরে গণহত্যা, বিচারবিভাগের উপর হস্তক্ষেপ, ম্যানেকা গান্ধিকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা… কোনটাই বাদ দেননি। ৮৪তে দুই শিখ দেহরক্ষির হাতে নিহত হওয়ার কারণও তাই। পরবর্তীতে রাতের শৃগালরূপে উদয় হলেন আরেক স্বৈরাচার। সিটিজেনশিপ প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী হতে না পারলেও, পর্দার অন্তরালে কলকাঠি সোনিয়ার হাতেই। ৫ জানুয়ারির অন্যতম কারিগরও সোনিয়া। শ্বাশুড়ির মতোই সোভিয়েত মডেল থেকে ভারতের রাজনীতিকে কখনোই বের হতে দেয়নি। একই মডেল বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিয়ে দূষিত করলেন ৫৬ হাজার বর্গমাইল। পানামা পেপার্স অনুযায়ী অফসোর একাউন্টে একাই প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের মালিক সোনিয়া! অর্থাৎ করাপশনের দেবতা গান্ধি পরিবার।
ব্যাপক প্রমাণ থাকায়, সোনিয়াসহ বহু হেভীওয়েটকেই আদালতে ব্যস্ত রেখেছে বিজেপি। ভারতের বিচারবিভাগের সৌন্দর্য এটাই, ক্ষমতাসীনদের হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। ফলে খালেদার অবস্থায় পড়তে হয়নি সোনিয়াকে। …৪২০ কোটি টাকা ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকির মামলায়, সোনিয়াকে আদালতের হুশিয়ারি। ১০ কোটি টাকা জরিমানা না দেওয়া পর্যন্ত আপীল গ্রহণ নিষেধ। আইনের মাধ্যমে সোনিয়াকে এমন জায়গায় আনলো বিজেপি, যখন পদত্যাগ করে পুত্রকে পার্টির দায়িত্ব দিতে বাধ্য হলেন।
নেহেরু থেকে রাহুল, লেখার স্বার্থে কম্যুনাল রাজনীতির ধারবাহিকতার বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক। দেশবিভাগকে কেন্দ্র করে কম্যুনাল রায়টের সুযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নেহেরু। চাইলে দিল্লির কেবিনেট মিটিং-এ দেশবিভাগ এড়ানো যেতো। রাজনীতিতে রাহুল গান্ধি এক অতি আশ্চর্য বিরল প্রজাতির মানব। যার একমাত্র যোগ্যতা, নেহেরু পরিবারের সদস্য। মা-পুত্র মিলে সঞ্চয় গান্ধির পরিবারকে কংগ্রেসের রাজনীতির বাইরে রেখেছেন। ২০১৪এর ভরাডুবির পর আবারো ক্ষমতায় যেতে মরিয়া রাহুল, এবার অস্ত্র বানালেন কম্যুনাল রাজনীতিকেই। বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে হিন্দু ধর্মীয়দের মধ্যে ধর্ম ত্যাগের উষ্কানি। ক্ষমতায় গেলে ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠির কোটাভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার লোভ দেখানো। ফলে কিছু পাওয়ার আশায় অবহেলিত হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে ইতোমধ্যেই ধর্মত্যাগের অভিযোগ তুললো বিজেপি। আপনার কংগ্রেসমুক্ত ভারতের ডাক ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মূল কথাটি হলো, ভারতের রাজনীতিতে আইনের শাসন না থাকলে, এতোক্ষণ যা লিখলাম, একটাও সম্ভব হতো না। যেমন হয় না আমাদের বেলায়। তলেতলে বিচারবিভাগের উপর যে হস্তক্ষেপ, সিনহার একটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। খালেদা কেন জেলে, না বলাই নিরাপদ। কারণ আইন করে কথা বলার অধিকার বন্ধ করেছে। প্রতিনিধিত্বহীন পার্লামেন্ট যখন্ততখন আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো আইন পড়ছে। মোদিজীকেই বলছি, স্টালিন্তমাও যাদের আদর্শ, তারা কী অন্য রাস্তা চেনে? তারপরেও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে অস্বীকার বিজেপিরও! তারা ক্ষমতায় আসার পর, ন্যায় আচরণের যে উচ্ছ্বাসটুকু তৈরি হয়েছিলো বিরোধিশিবিরে, বহু আগেই নিভে গেছে। যে দুঃসাহস লৌহমানব পুতিনও দেখাননি। এইবারের নির্বাচনে পুতিন অন্তত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিকে জেলে নিয়ে হত্যার ব্যবস্থা করেননি। সুতরাং দাবি করা যেতেই পারে, ঢাকা এখন ক্রেমলিনের চেয়েও শক্তিশালী। তারপরেও অগণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গেই আতাঁতে যারপর নাই হতাশ।
যেসকল কারণে স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় ঢুকলো বাংলাদেশ, মোদিজীর জানা। সুতরাং আপনাকেই বলতে বাধ্য, জাতিয় নির্বাচন সামনে ভারত জুড়ে যখন উভয়শিবিরে ভোটের যুদ্ধ, তখন এই দেশে মাইনাস্ত১ ফর্মূলায় নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্থতি। প্রকৃত অর্থেই যা একদলীয় নির্বাচনের প্রস্থতি। ঢাকা ফেরত প্রণব আপনার কানে যে মন্ত্র দিলেন, খালেদাকে জেলে নেয়ার আগেই লিখেছিলাম।
আর বদলা নয়, বদলে যাওয়ার সময় এটা। কারণ উপনিবেশবাদের চক্রান্ত মানুষের কাছে স্পষ্ট। ভারতবিরোধি সেন্টিমেন্ট এখন সর্বোচ্চ। কংগ্রেস চেয়েছিলো, বাংলাদেশেও ইন্দিরা মডেলের দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরতান্ত্রিক সরকার। কিন্তু ২০১৪ সনের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। এই অবস্থায়, বিজেপি বিরোধিদলে থাকলে, কী করতেন অমিত শাহ? তারা কী একদলীয় নির্বাচন মেনে নিতেন? সরকার হয় কম্যুনিস্ট, নয় গণতান্ত্রিক। মাঝামাঝি কিছু নেই কিন্তু ঢাকার বেলায় সেটাই। এভাবে কোন দেশ চলতে পারে না। ৫ জানুয়ারির ভোটকেন্দ্রে মানুষের বদলে কুকুর-বেড়ালের উপসি’তির ফুটেজগুলো এখনো নেটে।
ঢাকার ক্ষমতায় কে বসবে, দিল্লির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে প্রমাণিত। জানি, প্রণব বুরোক্রেসির বাইরে যাওয়া বিজেপির জন্য অত্যন্ত কঠিন। “কংগ্রেস বলতো, তাদের সম্পর্ক জনগণের সঙ্গে, দলের সঙ্গে নয়। বিজেপিও সেটাই বললো।” যদিও উভয় দলই একটি প্রমাণও দেখাতে ব্যর্থ। বরং জনগণকে মাইনাস করে দলের সঙ্গেই সম্পর্ক। তারপরেও সময় শেষ হয়নি।
কংগ্রেস পর্ব শেষ। এবার সেই আসনে বিজেপি। তাই ২০১৮এর নির্বাচনে বিজেপির ভূমিকা ৫ জানুয়ারির মতোই হবে কিনা, দেখার অপেক্ষায় কোটি কোটি মানুষ।

(পরবর্তী সংখ্যায় সমাপ্ত…)

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
১১ এপ্রিল, ২০১৮ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: +1 (from 1 vote)