পরবর্তী সিসি মার্কা নির্বাচনের জন্য দায়ী কে?

April 24, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

প্রকাশিত স্বৈরশাসকের নতুন তালিকা নিয়ে ৯ এপ্রিল প্রথম আলো লিখেছে, সিসি মার্কা নির্বাচনের কথা। …অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গণতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে একদলীয় শাসকের সংখ্যা। …জিনপিং আমৃত্যু প্রেসিডেন্ট ঘোষণায় উৎসাহিত মিশরের সিসিও টার্মলিমিট অবলুপ্ত করার ঘোষণা দিলেন। ৪ বছরের টার্মলিমিটকে ৬ বছর বানিয়ে আমৃত্যু ক্ষমতার পথে পুতিনও। ভূয়া নির্বাচন করে সিসি এবং পুতিন যথাক্রমে ৯৭ এবং ৭৭ ভাগ ভোটের দাবি। জার্মান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় তুরষ্কের এরদোয়ান, সিরিয়ার আসাদ, ফিলিপাইনের দুতার্তে, মালয়েশিলার নাজীব, হাঙ্গেরির ভিক্টর…। স্বৈরাশাসকদের তালিকায় এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে নিয়ে গেলো কে?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামূয়েল ফিলিপ হান্টিংটনকে উল্লেখ করে প্রথম আলো লিখেছে, গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত নির্বাচন। …কেবল সিসি মার্কা নির্বাচন হলেই গণতান্ত্রিক বলা যাবে না। প্রথম আলোর মতো লিবারেলরাও স্বীকার করলো, ভোট দেয়া মানুষের অধিকার! অধিকাংশই লিবারেলও হতে পারলো না। বরং কম্যুনিস্টদের মতো তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই লেখাটি প্রকাশ করলো (দ্র: আমাদের সময়…)।
আড়াই হাজার বছর পর সক্রেটিসকে সত্য বলে প্রমাণ করলো আওয়ামী লীগও। বলেছিলেন, “মূর্খদের জন্য গণতন্ত্র নয়।” ৬৯এর সংগ্রামী দলটি কার নেতৃত্বে এতো দ্রুত স্বৈরশাসকের তালিকায় ঢুকলো, এসব প্রশ্ন অবান্তর। ক্ষমতার লোভে কম্যুনিজমকেই লুফে নিলো আওয়ামী লীগ। অভিযোগ অস্বীকারের উপায় নেই। ফলে নির্বাচনের চেহারা হাঙ্গেরি, মিশর, রাশিয়ার মতো না হয়ে কী ভারত-আমেরিকার মতো হবে? তবে এজন্য ভারতই সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ তারাই কিন্তু বহুদলীয় গণতন্ত্রের সেরা দৃষ্টান্ত! এ যেন আওয়ামী প্রীতির বাইরেও, সরাসরি কম্যুনিস্টদের আচরণ।
আওয়ামী লীগের উপর কম্যুনিজমের প্রভাবের জন্য সবচে’ বেশি দায়ী চীন-রাশিয়া। পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিকভাবে গ্রাস করতে, এমন মাপের ঋণ দিচ্ছে, যা পূরণের মতো অর্থনীতি ক্ষমতাসীনদের অলীক কল্পনা। সোকলড উন্নতির নামে এ যেন পরাশক্তিদের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। অনুসঙ্গ হিসেবে রয়েছে, জাতিসংঘ নামের একটি স্বৈরাচার তৈরির প্লাটফমর। সিকিউরিটি কাউন্সিলে ৫টি ভেটো পাওয়ারের ২টি চীন-রাশিয়া। এদের কারণেই সুচি, বশির, আসাদদের মতো স্বৈরাচারেরা এখনো ক্ষমতায়। আসাদের পক্ষে আজব্দি ৮৬ বার জাতিসংঘে আস্থা জানালেন পুতিন! এসব বলার কারণ, গণতন্ত্রকে জাতিসংঘে এনে, এভাবেই ভোটাভুটির মাধ্যমে হত্যা করে। ভারতের ভেটো পাওয়ারের প্রস্তাবটি বন্ধ করলো চীন। তাতে কী? ভারতের পাশে রাশিয়া। বাংলাদেশের বন্ধু- চীন-ভারত-রাশিয়া। তবে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে উভয় ব্লককে এক প্লাটফরমে রাখার ক্ষমতা একমাত্র ভারতেরই।
আজকের লেখার কেন্দ্রবিন্দু, গণতান্ত্রিক ভারতের অগণতান্ত্রিক আচরণ এবং লর্ডক্লাইভের প্রত্যাবর্তন। ১/১১এর সময় থেকেই গোটা জাতির সঙ্গে নিরন্তর প্রতারণা। ১ নম্বরে ভোটপ্রতারণা। ৫ জানুয়ারির ভোটচুরির পরেও, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার বদলে, বারবার সুজাতা সিং মিশন!
৯ এপ্রিল প্রায় সব পত্রিকাতেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের বাংলাদেশ সফরের খবর। গোখলের বক্তব্যের সারমর্ম উত্তাপ ছড়ায়নি কোন মহলেই। তিনিও বললেন, বরাবরই যা অসত্য, বানোয়াট বলে প্রমাণিত। ফের প্রমাণ হলো, দিল্লির সঙ্গে দলের সম্পর্ক, রাষ্ট্রের নয়। অন্যথায়, বন্দি নেত্রীর খবর নিতেন ২০ দলের কাছে। ভাবখানা এমন, হু ইজ খালেদা? বরাবরের মতোই বাগাড়ম্বর, “বাংলাদেশের নির্বাচন আভ্যান্তরীণ বিষয়।” এটা আভ্যান্তরীণ বিষয়ের নমুনা হলে, ভোটচুরির নমুনা কোনটা?
আমরা জানি, মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের রাজনৈতিক অর্থ, বিরোধিদলের সঙ্গে সম্পর্ক। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিরোধিলের ভূমিকা ক্ষমতাসীনদের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ১/১১এর সময় দুই নেত্রীকে নিয়ে দিল্লির হৈচৈয়ের প্রধান উদ্দেশ্য, জেল থেকে বের করে একজনকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় বসানো। পরবর্তীতে অন্যজন মাইনাস হলে, ভিকটিমের বিষয়ে হাত ঝেড়ে ফেলেছে দিল্লি। বরং আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে, নির্বাচনের আগে লন্ডনে দুই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ এবং মোদিজির ঢাকা সফর। সুজাতার পর গোখলের মিশনেরও উদ্দেশ্য, আরো ৫ বছর এদেরকেই ক্ষমতায় রাখা।
তবে ২০১৮এর নির্বাচন কেন ৫ জানুয়ারির চেয়ে ভয়ংকর হবে, একটি প্রমাণই যথেষ্ট। ৯ এপ্রিলের খবর, সেনা মোতায়েনের পক্ষে সিইসি। কথাটি শোনামাত্র তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন হাইকমান্ড। ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে সিইসিকে কড়া বার্তা, নির্বাচন নিয়ন্ত্রন করবে কে! খালেদা কারাগাড়ে। তিনি বাইরে থেকে নির্বাচনের হুজুগ সৃষ্টিতে ব্যস্ত। বোঝা গেলো, স্বপরিবারে ক্ষমতার সেঞ্চুরি করেই ছাড়বেন। এরপরেও ২০১৮এর নির্বাচনের প্রয়োজন কোথায়?
২০১৮এর অবৈধ পার্লামেন্টকে বৈধতা দিতে, এবার বিএনপিকে লাগবেই। হাইব্রিড নাকি মৌলিক, পরাশক্তিরা তোয়াক্কা করে না। সেই হিসেবেই আগামী নির্বাচনের জালটাকে এমনভাবে বুনেছে, বিরোধিশিবিরের রুই-কাতলা কেন, পোনাও ঢুকতে পারবে না। এই জালের নেতৃত্বে কে, প্রমাণের প্রয়োজন নেই। ২০ দল কী কখনোই জানতে চেয়েছে, ক্ষমতায় ওরা কারা? কোত্থেকে এসেছে? বাকশালীদের হাতে বিলুপ্ত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুরুদ্ধার করা বিএনপির মতো জায়েন্ট দলটি কীভাবে দয়া-দাক্ষিণ্যের দলে পৌঁছালো, সেই প্রসঙ্গ অতীত। অক্ষম, অথর্ব, অদূরদর্শী… এইরকম একটি বিরোধিদল যেকোন স্বৈরাশাসকের স্বপ্ন।

কথা হচ্ছে সিসি মার্কা নির্বাচন, স্বৈরশাসকের নতুন তালিকা এবং ‘আমিত্ববাদ’ নিয়ে। রাষ্ট্র এবং সমাজে ‘আমিত্ববাদের’ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আলোচনা থেকে উধাও। তবে ১২ বছর ধরেই যে সংবাদগুলো মিডিয়া দমন করছে, সেটাই ক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া। “১৬ কোটি মানুষের দেশে আরো ৫ বছর এদেরকেই ক্ষমতায় বসতে দিলে, দেশ বলে কিছু থাকবে না। সুতরাং মৌলিক সরকারের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার কোনই বিকল্প নেই।”
বহুদলীয় বনাম একদলীয় সংসদ এবং ইমপিচমেন্টের কিছু উদাহরণ।
দীর্ঘদিন বিল ক্লিন্টনের অভিসংশন হিয়ারিং হয়েছে ক্যাপিটলহিলে। একটি মাত্র মেজরিটি ভোটে, রক্ষা পেলেন বিল। ওই ভোটটি ক্লিন্টনের প্রতিপক্ষই দিয়েছিলো। একইভাবে ওয়াটারগেট কেলেংকারির প্রমাণ হাতে নিক্সনকে আইনপ্রণেতাদের কড়া হুশিয়ারি, পদত্যাগ না করলে ইমপিচমেন্ট। সার্কাস চাননি বলেই হোয়াইটহাউজের মায়া ত্যাগ করে, পদত্যাগ করলেন নিক্সন। প্রশ্ন, অগণতান্ত্রিক সংসদ হলে বিলের ভাগ্যে কী জুটতো?
সামপ্রতিককালে আসন্ন অযোধ্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিসংশনের চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধিশিবির। তারা মনে করছে, নির্বাচনের আগে রায় হলে, ক্ষমতা বিজেপির পক্ষে যাবে। বিজেপি চাইছে, নির্বাচনের আগেই রায়। কারণ, মামলার মতিগতি বলছে, বাদিপক্ষই জিতবে। বিজেপি মেজরিটি সরকার হওয়ায়, বিরোধিশিবিরের সেই ক্ষমতা নেই। তারপরেও এটা মৌলিক অধিকার। সেই হিসেবেই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ঘুষ, গুন্ডাবাজি, অর্থজালিয়াতি অভিযোগ তুলে দারুণ হৈচৈ বিরোধিশিবিরে।
এবার ৫ জানুয়ারির পার্লামেন্টে। এই পার্লামেন্টটি কীভাবে, কখন, কোত্থেকে এলো, সেই প্রসঙ্গ অতীত। “এখানে সরকারই বিরোধিদল।” এ নিয়ে তর্কবিতর্ক করে ফায়দা হবে না। কারণ সাদাকে কালো বলা অসম্ভব। ২০১৪ সনে হাইকমান্ড নিজ মুখে বলেছিলেন, নিয়ম রক্ষা শেষে, ৯০ দিনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হবে কিন্তু হয়নি। এ যেন জাতির সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার প্রমাণ। ৫ বছর পূরণের পরেও আরেকটা সার্কাস নির্বাচনের আয়োজনে এমনকি পুতিন-সিসিকেও ডিফিট। ওই স্বৈরাচারেরা অন্তত প্রতিপক্ষকে জেলের বাইরে রেখেই নির্বাচন চুরি করেছিলো। সুতরাং এতো দ্রুত স্বৈরশাসকের তালিকায় সিসির নাম থাকায় আমি বিস্মিত। কারণ ৫ জানুয়ারি করেও, ৯ বছর ক্রমাগত স্টিমরোলার চালিয়েও, অনেক দেরিতে তালিকাভুক্তি বাংলাদেশের। এর মূলে, অত্যন্ত সফলভাবে পশ্চিমা মিডিয়াকে রাডারের বাইরে রাখার অপকৌশল।
প্রসঙ্গ, সংসদে এবং রাজপথে ১৬তম সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতি বনাম স্বৈরাচারদের যুদ্ধ। প্রায় ২ ডজন এমিকাস কিউরি এবং বিচারক মিলে সর্বোচ্চ আদালত থেকে এমন একটা রায় দিলো, যার বিরুদ্ধে দাঁড়াবার শক্তি কারোই নেই। এমনকি আওয়ামী লীগেরও নেই। সিনহাকে নিয়ে ক্ষমতাসীদের অবস্থান ভুলে যাবো কেন? দেশ-বিদেশে বহু লেখালেখি, লম্বা প্রতিবাদ কিন্তু প্রতিটি অঘটনে অনঢ়-অদম্য হাইকমান্ড। ৯ বছর ধরেই ৯৯.৯৯ ভাগ সময় কণ্ঠেভোটে তিনবার ‘হ্যাঁ জয়যুক্ত’ বলার প্রমাণ। এর বিপরীতে একটিবারও ‘না জয়যুক্ত’ জয়ী হয়নি। তিনবার ‘হ্যাঁ জয়যুক্ত’ বলা কণ্ঠভোটের পক্ষে, অবৈধ স্পিকার নিজেও তিনবার ‘হ্যাঁ জয়যুক্ত’ যুক্ত করে বিলটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তা আইনে পরিণত হয়।
বলছি, বর্তমান একদলীয় পার্লামেন্টের সঙ্গে মানুষের কোন সম্পর্ক নেই। কারণ বৈধ বিরোধিদল সেখানে অনুপসি’ত। এরশাদকে যারা বিরোধিদল বলে, তারা মানবতার শত্রু। ১৬তম সংশোধনীর বিরুদ্ধে রায়ের প্রধান কারণ অনির্বাচিত সংসদ। বাতিলকারীদের যুক্তি, ১৫৪ জন সাংসদই অনির্বাচিত হওয়ায় অবৈধ। সুতরাং অবৈধদের হাতে অভিসংশনের ক্ষমতা দেয়াটা অত্যন্ত বিপদজ্জনক। রায়ের মর্মার্থ, ইচ্ছামত যাকে খুশি কণ্ঠভোটে অভিশংসন করবে।
সিনহাকে যা করলো, বিচারবিভাগের ইতিহাসে রেফারেন্স হয়ে থাকলো। এদের হাতেই অভিসংশনের ক্ষমতা দেওয়ার কথা যারা বলে, দেশ চালানোর যোগ্যতা তাদের নেই। অভিসংশনের ক্ষমতা ছিলো না বলেই, তারেকের পক্ষে রায় দেওয়া বিচারপতি এবং সিনহা পালিয়ে বাঁচলেন। অন্যথায় খালেদার অবস্থাই হতো। কারণ সিনহার বিরুদ্ধেও, অর্থজালিয়াতি এবং শান্তিকমিটির সদস্য হওয়ার অভিযোগ সংসদে। উল্লেখ্য, ক্যাঙ্গারু কোর্টের অন্যতম বিচারক সিনহাই। ফলে কোন আইনের মুখোমুখি হতে হতো, শাস্তি কী হতো, জানতেন বলেই নিখোঁজ বা নির্বাসিত।
এবার আসা যাক অন্য যুক্তিতে। একইসঙ্গে কেউই সেক্সপিয়ার, আইনস্টাইন, হেগেল, গান্ধি… হতে পারবে না। আইনস্টাইনের মতো সাদা গোফ রাখলেই, আইনস্টাইন নন। বলার কারণ, ১৬ কোটি মানুষের দেশে, এক ব্যক্তির ইচ্ছাই সব! এরচে’ মারাত্মক রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনটা? ব্যক্তির ইচ্ছার সঙ্গে কারোই দ্বিমত পোষণের ক্ষমতা নেই। সংক্ষিপ্ত উদাহরণ, ইউনেস্কো যখন সুন্দরবনে ভারতের কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অভিমত দিলো, তখন ইউনেস্কো আর ইউনুস একমাপের শয়তান। আবার ৭ মার্চের বক্তৃতাকে ইয়েস বললে সবচেয়ে বড় মহাত্মা গান্ধি। এর মানে, অমুক ব্যক্তি একইসঙ্গে আইনস্টাইন এবং সেক্সপিয়ার, যা পৃথিবীর ইতিহাসে একটাই। এগুলোই বাংলাদেশকে স্বৈরশাসকের তালিকায় তুললো।
এছাড়াও ৯ বছর ধরে যতো গোপন চুক্তি, কোনটার সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক? ২০ দলও এটাকে দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে। ক্ষমতাসীনরাও প্রতিবাদ না করায়, এই অভিযোগ মেনে নিয়েছে বলেই ধরে নেবো। এইকাজে অবৈধ ১৫তম অপসংশোধনীর চরম ব্যবহার। দায়মুক্তির শর্তে চুক্তিগুলোর শীর্ষে- সুন্দরবন, রূপপুর, কুইকরেন্টাল, ট্রানজিট, পাইপলাইন, অস্ত্র ক্রয়, মেগাঋণ…। অথচ ৬ বছর পরেও পদ্মাসেতুর কোন খবরই নেই। বিশ্বব্যাংককে তাড়িয়ে না দিলে, এতোদিনে সেতুর উপর গাড়ি চলতো। খর্চও ৪ ভাগের ১ ভাগেই থাকতো। এতে দেশের কী উপকার হতো, সেই আলোচনার বদলে এখন এরা পদ্মাসেতুর ঠ্যাং নিয়েই ব্যস্ত!
ভয়ানক বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য। গুগল সার্চে এসব তথ্য ভুড়িভুড়ি কিন্তু কোন উত্তাপই ছড়ালো? একটি উদাহরণ, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৫২৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির বিপরীতে ভারত থেকে আমদানী ৬.৫ বিলিয়ন ডলার। আজব্দি কতোগুলো দায়মুক্তির শর্তে ক্ষমতা, শাসক এবং সোকলড বন্ধুরা জানে। আসল কথা, ডিভাই এণ্ড রুল থিওরিকে আগলে ধরে ২০৪১ পেরিয়ে স্বপরিবারে ক্ষমতায় থাকবে এরাই। এই কাজে সর্বোচ্চ ব্যবহার, ‘জিরোটলারেন্স’ গুজব। ভারতের সৌজন্যে বিদেশিরাও বিশ্বাস করেছে। কিন্তু দেশবাসী দেখেছে, জিরোটলারেন্সের নামে বিরোধিশিবিরকেই শেষ করে দিলো। এই হিসেবেই খালেদা জেলে। আরেকটা সার্কাস নির্বাচনের লক্ষ্যে আবারো দিল্লির আনাগোনার অন্যতম- লন্ডনে বৈধ এবং অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ।
শিরোনামটি ছিলো সিসি মার্কা নির্বাচনের জন্য দায়ী কে? বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ভারমুক্ত মহাসচিবকেই বলছি, শুধু ভারতকেন্দ্রিক অপশক্তিই নয়, বিএনপির বর্তমান অবস্থার জন্য আপনারাও কী কম দায়ী? ২০ দলকে বার্তা, ঘরে বসে আন্দোলন করে খালেদাকে মুক্ত করার কথা ভুলে যান। বিএনপির ভাঙ্গন ঠেকানোর কথা ভুলে যান।
দিল্লিকে গণতন্ত্রের একটি নমুনা। -এক পুত্রকে নির্বাসন, মাকে জেল, আরেক পুত্রকে নির্বাসনে রেখে মানসিক রোগি বানিয়ে হত্যার মুখে ঠেলে দেওয়া। -নিজের দেশেই এতোবড় জোটসরকারকে পরবাসী বানিয়ে ফেলা। -পুলিশ দিয়ে গণতন্ত্র পাহারা…।
আরো ৫ বছর এদেরকেই বহন করা অসম্ভব। সুতরাং মোদির ঢাকা সফরের আগেই যে বার্তাগুলো দেয়া গণতন্ত্রকামীদের জন্য সবচে’ জরুরি। -আবারো ৫ জানুয়ারির পথ পরিত্যাগ করা। -সুজাতা সিং মিশনকে চিরদিনের মতো পরিত্যাক্ত ঘোষণা। -২০৪১ মিশন বাতিল ঘোষণা। -বারবার গণতন্ত্র হত্যার নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা। -দল বাদ দিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
১৯ এপ্রিল, ২০১৮ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)