দুয়ারে আইসাছে পালকি নইওরি গাও তোল

April 28, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


খালেদার হায়াৎ-মউত নিয়ে ওবায়দুলের বক্তব্যে আব্দুল আলীমের বিখ্যাত গানটির কথাই মনে পড়লো। জবাবে রিজভী এবং ফকরুলের প্রতিক্রিয়ায় সুস্পষ্ট ইঙ্গিত, ম্যাডামের পালকি দুয়ারে চলে এসেছে। মুখে আল্লা-রসুল বলার জন্য নেতাকর্মীদেরকে প্রস’ত হতে হবে (দ্র. যুগান্তর-নয়াদিগন্ত, ২০ এপ্রিল)। গয়েশ্বরবাবু বুঝেছেন বলেই বলেছেন, নেত্রীর লাশের জন্য জেলগেটে অপেক্ষা করতে হবে। দায়িত্বশীল পদে থেকে কথাগুলো বলায়, মৃত্যুর সকল দায় আওয়ামী মহাসচিবেরই। চিকিৎসা নিয়ে শুধু ছলচাতুরিই নয়, জেলগেট থেকে প্রত্যেকেকেই ফেরত দেওয়ায় যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।
অনুমান করি, কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতো হয়তো গোপনে এমন কর্মকান্ড চলছে, যা মৃত্যুর নিশ্চিয়তা। অন্যথায় এতো ছলচাতুরি কেন? রহস্যজনকভাবে গৃহপরিচারিকা ফাতেমাও অদৃশ্য!!!
“তারেককে ফেরত নেবই”- লন্ডনে এই বক্তব্যে, প্রতিশোধ স্পৃহার উচ্চতা স্পষ্ট করলেন। মা-পুত্র কাউকেই বাঁচিয়ে না রাখার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। ওই বক্তব্যে, পোকায় খাওয়া ২০ দলের কেউই অবাক না হলেও, উত্তাল স্যোসাল মিডিয়া। মায়ের হত্যা মিশন হাতে, পুত্রকে দেশে এনে দণ্ড কার্যকর করতে, লন্ডনে প্রতিশোধ স্পৃহার গোলাবারুদ। এক পরিবার ছাড়া আর কেউই ক্ষমতায় না থাকার ডেসপারেশন। রাজা-রানীরা আমৃত্যু ক্ষমতায় থাকলেও, প্যালেস থেকে পার্লামেন্ট কিন্তু আলাদা। আমাদের বেলায় প্যালেস এবং পার্লামেন্ট একাকার। ৭১এর সংগ্রামীদের একাংশ স্পষ্টভাবেই গণতান্ত্রিককম্যুনিস্ট আগ্রাসনের পক্ষে।
সংবিধানের উপর বারবার কম্যুনিস্ট আক্রমণ চালিয়েও, প্রতিরোধের অভাবে, আরো অদম্য হাইকমান্ড। ১/১১ করেও ছাড় পেয়েছেন। ৫ জানুয়ারি করেও ক্ষমতাচ্যুত হননি। এমনকি হিলারি পর্যন্ত জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় বসিয়েছিলো কারা! সামনের নির্বাচনটা আগেরচে’ও বড় আন্তর্জাতিক ট্রেড। ওয়াটারগেট, ক্লিন্টনগেট, রাশিয়াগেট করে পার পাওয়া যায় না। ৫ জানুয়ারি করে পাওয়া যায়।
আত্মঘাতি ম্যাডামের ভুলের সংখ্যা কতো?
বহুবছর রাজনীতিতে থাকায়, রাজনীতির হিসাব-নিকাশ ম্যাডামের জানা। জাতিয় নির্বাচন কার হাতে, ১/১১এর পরেই জানতেন। তারপরেও নির্বাচনকে ট্রেড বানানোর বিরুদ্ধে নিরব। যেমন, ভারত ৫ বিলিয়ন দিলে, সঙ্গে সঙ্গে ৫০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী হাজির। চীন স্টকমার্কেটের আংশিক মালিকানা কিনতে চাইলে, তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠা দিল্লি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সচিব পাঠিয়ে, নীতিনির্ধারকদের হুমকি-ধামকি। শুরু হলো স্টকমার্কেট নিয়ে ট্রেড ওয়্যার। তখন খুশি-বেজারের প্রশ্নে, এমন এক ঝামেলা ঢুকিয়ে দিলেন হাইকমান্ড, উভয়ই হাত গোটালো। রাশিয়া রূপপুর প্রকল্প নিলে, প্রতিযোগিতা দিয়ে ভারত নিলো সুন্দরবনের কয়লা প্রকল্প। চীন থেকে সাবমেরিন ক্রয়ে দারুণ ক্ষুব্ধ আমেরিকার দাবি, সমুদ্র ব্লকের ইজারা চাই। ইজারার মাধ্যমেই চীনকে শায়েস্তা করতে হবে। অস্ত্র বিক্রিতে রাশিয়ার চেয়ে এগিয়ে চীন। ক্ষুব্ধ ভারত প্রস্তাব দিলো, আমাদের অস্ত্রই কিনতে হবে, হোক তা তৃতীয় শ্রেণির। কাউকেই বেজার রাখা যাবে না। পরাশক্তিরাও একদলীয় শাসনের পক্ষে বলেই প্রমাণিত। ওই হিসাবেই খালেদাকে মাইনাস করার পথে। ৭ম সংসদে ক্ষমতায় থেকেও, ভোটচোরদের বিরুদ্ধে কেন সতর্ক হননি ম্যাডাম? তার ভুলেই খাল ভরে ফেলেছে কুমির।
উন্নতির নামে ৯ বছর ধরে যে প্রচণ্ডরকমের ব্লাকমেইল চালাচ্ছে, একটি প্রতিবাদও করেননি! এই ভুলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো প্রতিটি শক্তিকেই বিলুপ্ত করলো আওয়ামী লীগ।
অসম বাণিজ্য যার অন্যতম প্রমাণ। ১০ টাকার পণ্য বিক্রি করে প্রতিবছর ২০ টাকার পণ্য কিনলে, ১০ বছর পরে মূলধন হবে শূন্য। এক ব্যক্তির কর্মকান্ডে, তলাবিহীন ঝুড়ির বদলে বাংলাদেশ এখন, তলা আটকানো বিশাল ঋণের গোডাউন।
উদাহরণস্বরূপ, ১৭ এপ্রিল, মানবজমিনে ভয়ানক তথ্য। “৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৯৭ হাজার কোটি টাকা।” …বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে ২০১০-১১ অর্থবছরে। পরিমাণ ৯৯৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। চলতি বছরে ৭ মাসেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি ১ হাজার ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। লিখেছে, …প্রতি ডলার ৮৩ টাকা হলে ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে ৪৬ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। রপ্তানির তুলনায় আমদানীর পরিমাণ এবং ব্যয় বেশি হলে যা হয়। এজন্য পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করেছে। ঘাটতি মেটানো হয় বিদেশি বিনিয়োগ দিয়ে এবং এই খাতেও চলছে ঘাটতি। ফলে ব্যালেন্স অব পেমেন্টও ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। আলোচিত সময়ে আমদানী বেড়েছে ২৬.২২ শতাংশ হারে। অন্যদিকে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৮.০৬ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৪৮ কোটি ডলারের মাইনাস ঋণ, যা এখনো অব্যাহত।
এইমাপের ডাকাতদের বিরুদ্ধে বরাবরই চুপ ছিলেন। অর্থসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করেননি। এতো বড় মাপের নেত্রীর কাছ থেকে যা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য ছিলো না!!
লাখ লাখ নেতাকর্মীদের জীবন হারাম করলেও কিছুই বলেননি। শুধু গ্রাম ছাড়াই নয়, দেশ ছাড়া করলেও প্রতিবাদ করেননি। কারাগার ভরে ফেললেও, নিরব। জেলেই অসংখ্য রাজবন্দির মৃত্যুর খবরে- প্রতিক্রিয়াহীন। ভূয়া মামলা, গুম-খুন-ক্রসফায়ার… সংখ্যা এখন পুরানো। ব্রিটিশ যখন অবিভক্ত ভারতে ছিলো, সেই পরিস্থিতি আর এই পরিস্থিতি এক নয়। এখন সত্যাগ্রহ করতে গেলে মানুষ হাসবে।
ম্যাডামের সবচেয়ে বড় ভুল, ক্যাঙ্গারু কোর্টের বিরুদ্ধে নিরবতা। বিদেশিরা করলেও, জোট নেতাদের ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেননি। সেই সুযোগে, ফ্যাসিবাদিরা তাকেও মৃত্যুর কোলে তুলে দিলো।
অবৈধদের বৈধতাও তারই অবদান। তিনিই যখন বৈধতার ভাষায় সম্বোধন করলেন, দেশি-বিদেশিরা ভুলে গেলো, ৫ জানুয়ারির প্রধানমন্ত্রী, প্রকৃত অর্থেই প্রধানমন্ত্রী নন। এভাবে নিজেই নিজের কবর খুড়ে, প্রাণচঞ্চল পল্টনকে শ্মশান বানিয়ে ছাড়লেন।
যে প্রসঙ্গটি হাতছাড়া করা বিশাল অংকের ভুল। যতোদিন না আপীলের মাধ্যমে বৈধ হবে, ততোদিন পর্যন্ত ৫ জানুয়ারির ক্রিমিনালরা, ক্রিমিনালই থাকবে। আপীল এড়াতেই সর্বোচ্চ রায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এছাড়া নিরূপায় হাইকমান্ড। ম্যাডাম জানতেন।
১৬তম সংশোধনীর মামলাটা কিন্তু বৈধ-অবৈধ নিয়ে নয় বরং পার্লামেন্টের হাতে বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতা নিয়ে। অথচ রায়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গেলো অন্যকিছু? মহামান্য আদালত বলছেন, ১৫৪ জন অবৈধ সাংসদের হাতে অভিশংসনের ক্ষমতা কিসের? সিনহাকে দেশে রাখলে, পার্লামেন্ট থাকবে না। দেশত্যাগে বাধ্য করলে, পথের কাঁটা পরিষ্কার। সেজন্যই বিতাড়িত করার এতো মাস পরেও, রায়ের ধারেকাছেও নেই। যতোবড় জগৎশেঠকেই প্রধানবিচারপতির পদে বসান, আপীল হলে, আগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন অন্যপক্ষ। ম্যাডাম জানতেন, ১১তম সংসদে, ১৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ক্ষমতাই ফিরিয়ে আনবেন হাইকমান্ড।
পৃথিবীতে যে গণতন্ত্রের দৃষ্টান্ত নেই। গণতান্ত্রিককম্যুনিজম রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম হয়েছে। এটা গণতন্ত্র এবং ফ্যাসিতন্ত্রের সঙ্গম। শরীরে পৈতা, হাতে বন্দুক- জয়ী হয়েছে পৈতা। উদাহরণস্বরূপ, যখন কোটা আন্দোলন করে দাবি আদায়ের কথা, উল্টা ‘মাদার অব এডুকেশন’ আদায় করে রাজপথ ছাড়তে বাধ্য করলো। গণতান্ত্রিককম্যুনিজম এতোটাই ডেঞ্জারাস, ৫ জানুয়ারি করেও আরো বেশি ডেসপারেট। প্রমাণ, লন্ডনে যারপর নাই ডেসপারেশন।
কম্যুনিজম, ফ্যাসিজম, ফিউডালিজম সার্চ দিলে হাজার হাজার ওয়েবসাইট এবং লিংক। কিন্তু ৯ বছর ধরে যে গণতান্ত্রিককম্যুনিজম, সার্চ দিলে, ফলাফল শূন্য। পৈতার সাফল্য এটাই। আমার ধারণা, ভবিষ্যতে হার্ভার্ড, কেব্রিজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্যাসিক্রেসির গবেষণা হবে। সেই পর্যন্ত হাইকমান্ডের ফিউডালিজমও উন্মুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ৭ম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হয়েও, আওয়ামী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একটি আইনী পদক্ষেপও নেননি কেন?
জানুয়ারি ২০১৮, সবচেয়ে ভালো থেকে সবচেয়ে খারাপ গণতন্ত্রের তালিকায়, বাংলাদেশের অবস্থানে ধ্বস। বলছি, “গণতন্ত্র যেভাবে কম্যুনিস্ট হলো।” ১০ নম্বরের মধ্যে জার্মানির ৮.৬১, ইন্ডিয়া ৭.২৩, পাকিস্তান ৪.২৬, বাংলাদেশ ৫.৪৩, যা ২০০৬এ ৬.১। প্রমাণ, ২০০৬ এর তুলনায় বর্তমান অবস্থান পাকিস্তানের কাছাকাছি!
বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশকে নিয়ে উভয় ব্লকের হিসাব ৫০-৫০। এটাই গণতান্ত্রিককম্যুনিস্টদের খুঁটির জোর। সঙ্গে দুষকৃতিকারী লিবারেলিজম তো আছেই। বলছি, দুষকৃতিকারী ইন্দিরার মতো এরাও “একাই রাষ্ট্র, একাই দল।”
অন্যদিকে বিএনপির অবস্থান এইরকম। ৪ দলীয় জোট হত্যার পর থেকেই, ওবায়দুলদের দয়া-দাক্ষিণ্যের অপেক্ষার দলে পরিণত হয়েছেন ফকরুলরা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির আবেদন খারিজের তালিকাই প্রমাণ। তারপরেও ম্যাডামের গান্ধি আচরণের অর্থ বুঝলাম না।
দিল্লির দুষকৃতিকারীদের বিরুদ্ধে চুপ থাকা কেন? যেন স্বেচ্ছায় ভোটের বাক্সটি প্রণববাবুদের হাতে সমর্পণ। ওদের মিশন একটাই। জোট সরকারকে কবর দিয়ে, ২০২১-৪১ মিশন এগিয়ে নেয়া। যে প্রমাণ হাইকমান্ডের মুখে ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো। এই জায়গায় আওয়ামী লীগ থাকলে বিএনপির চামড়া তুলে ফেলতো। যেমন তুলেছে- ড. ইউনুস থেকে ড. কামাল… শতশত গুণিজনদের চামড়া। ম্যাডাম নিরব!
প্রথম থেকেই ভিশন হওয়া উচিত ছিলো, ২০৪১ মিশনের হাঙ্গরটিকে বিতাড়িত করতে, কোমরে গামছা বেঁধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তার আন্দোলন। ৯২ দিনের পর, আন্দোলনের পরীক্ষায় আর কখনোই না গিয়ে, সক্ষমতার পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেন ম্যাডাম।
বিষয়টি হলো, তোরা যে যা বলিস ভাই, তালগাছটি আওয়ামী লীগেরই। ১৯৮১ সন থেকেই আওয়ামী হাইকমান্ড জানতেন, ট্রেড এবং মিশন কী! প্রমাণ- দুর্বৃত্ত এরশাদের সঙ্গে তিনবারের অবৈধ সংসদে আওয়ামী লীগ। তিনবারই বিএনপি বাদ। ১০ম সংসদকে কৌশলী খেলোয়াড় ভাবলেও আমি তা মনে করি না। কারণ মাংস যেখানে কুকুর সেখানে। বরং সার্বভৌমত্ব বিক্রির প্রমাণ এগুলো। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের ঘাড়ে অতিরিক্ত ৬ লাখ রোহিঙ্গা চাপিয়ে দিলেও, মিয়ানমার এবং ভারত নাকি বন্ধু? মিয়ানমারের প্রচণ্ড ব্যর্থতা, বারবার এড়িয়ে যান হাইকমান্ড। এর কারণ বুঝি। যেমন বুঝি, হেভীওয়েটদের বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য!!! দখলদারেরা এটাকে বিশ্বদরবারে ভাবমূর্তি উজ্জলে নেত্রীত্বের সাফল্য বলে প্রচার করলেও, বিষয়টি প্রচণ্ড বানোয়াট। বরং উন্নতির নামে বিরাট ব্লাকমেইল। দৃশ্যত বাংলাদেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ির বদলে, তলা আটকানো আন্তর্জাতিক দুর্বৃত্তদের বিশাল গোডাউন। এই জায়গায় আওয়ামী লীগ হলে যা করতো, প্রমাণ, জনতারমঞ্চ বানিয়ে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা। পেট্রোলবোমা মেরে হত্যা। ক্ষমতায় থেকেও হুকুমের আসামীর বিরুদ্ধে কেন চুপ ছিলেন ম্যাডাম? সেই কুমিরই তাকে খেলো।
কথায় বলে, পেটে আগুন না থাকলে তাকে দিয়ে রাজনীতি হয় না। ওবায়দুল কাদেররা শুধু পেটেই নয়, আপাদমস্তকও আগুনের গোলা। যে গোলায় ভস্ম জিয়া পরিবার। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। জাত-ধর্ম-একাদশী-দ্বাদশী বলেও কিছু নেই। একমাত্র সংগ্রামী শরিককে যখন নিঃশ্বেস করলো প্রণবপনি’রা, ম্যাডাম জানতেন পরবর্তী ঝড়ের সংকেত! দুষকৃতিকারীদের বিরুদ্ধে তখনই মুখ খুললে, হায়াৎ-মউতের প্রশ্ন আসতো না। বহু লিখেছি, এরা কম্যুনিস্টদের মতোই ডেঞ্জারাস। কারণ, এরা গণতান্ত্রিককম্যুনিস্ট।
২০১৩ সনে সার্কাস সিং-এর (মনমোহন) পর, ২০১৭-১৮ সনে ফের সুজাতা মিশনে, দিল্লির তৎপরতায় উদ্বিগ্ন নয় বিএনপি। সুজাতা মিশন পরিত্যাক্ত ঘোষণার দাবি আজব্দি একমাত্র আমারই। যদিও আমার কথা কেউ শুনবে না।
ওবায়দুলের ঘোষণা, “নির্বাচনে ভারত হস্তক্ষেপ করবে না।” এরপরেই রামমাধবের নিমন্ত্রণে দিল্লিতে। (ওবায়দুল কী লজ্জাহীন?) লন্ডনে মোদি-হাসিনার বৈঠক হলো। বোঝা গেলো, ক্ষমতায় না থাকলেও, প্রণব মিশন অত্যন্ত সাকসেসফুল। ঢাকার পথে মোদি, যা খালেদাকে ফের মাইনাসের অশনিসংকেত! নির্বাচন নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ- ১) সেনা শাসনের আশংকা। ২) খালেদা মাইনাস নির্বাচনে সন্ত্রাসীদের বিপ্লব। মাথাটা ভাবীর, ব্যথা দেবরের?
তালিকার শেষ কোথায়?
দুষকৃতিকারীদের হাত থেকে সুন্দরবন রক্ষায় কী করলো পোকায় খাওয়া জোট? ট্রানজিট, তেল-গ্যাস পাইপ, গভীর সমুদ্রবন্দর, ব্লকের ইজারা, দায়মুক্তি… কী আন্দোলন তাদের? যদিও ব্রিটিশের মতোই লুটপাট কিন্তু ঈদের পর ঈদ এলেও- আন্দোলন নিখোঁজ।
ওবায়দুলের বক্তব্যের জবাবে বলতেই হয়, এই জায়গায় আওয়ামী লীগ থাকলে, বিএনপির চামড়াই শুধু নয়, মাংস কেটে লবণও ভরতো। একবার নয়, প্রমাণ বারবার দেখেছি। ৫ বছর অবৈধ ক্ষমতা দূরে থাক, ৬ষ্ঠ সংসদের প্রথম দিন থেকেই বিএনপির চামড়া পুড়িয়ে দিয়েছিলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারে খালেদাকে বাধ্য করেছিলেন হাইকমান্ড! সব জেনেও এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনকের উত্তরাধিকারী খালেদা জিয়া- নিরব ছিলেন!
সেদিন দূরে নয়, যেদিন কেন্দ্রিয় কারাগারের গেট থেকে লালবাতির এম্বুলেন্সটি বেরিয়ে আসবে। জ্বলে উঠবে হাজারো ক্যামেরা। সাংবাদিকেরা লাইভে যাবে। ব্রেকিংনিউজের ক্রাশ হবে। গণজাগরণ মঞ্চের উল্লাস এবং মিষ্টি বিতরণ চলবে। রামদা-চাপাতি হাতে ছাত্রলীগের মোটর শোভাযাত্রার খবর হেডলাইন হবে। গয়েশ্বরবাবুর কথাই সত্য হবে। সিগন্যাল দিয়ে দিয়েছে।
তারপরেও বলবো, জেলগেটে লাশের অপেক্ষার বদলে, লাখ লাখ নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলের পথে মার্চের বিকল্প নেই। ২০২১-৪১ মিশন পরিত্যাক্ত ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। কম্যুনিস্টদের বিরুদ্ধে, এ-টু-জেড, একসঙ্গে রাস্তায় না নামার অজুহাত শেষ। অন্যথায় এদের হাত থেকে খালেদাকে বাঁচানো একেবারেই অসম্ভব। লন্ডনে হাইকমান্ডের ঘোষণা সেটাই।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
২৬ এপ্রলি ২০১৮ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)