তারেক নয়, এই টার্গেট জোবায়দা

May 5, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

সবুর সয় না। পুরানো বিতর্কগুলো বাসীও হতে দিলো না। এবারের জঞ্জাল- তারেক স্টেটলেস নাকি স্ট্যাটাসলেস নাকি হোমলেস? প্রশ্নটির আরেকটি পিঠও আছে।
একটি জাতিগোষ্ঠি, আদর্শের উপর আক্রমণ চালিয়ে কেউ যখন তাকে নির্মূল করতে চায়, জাতিসংঘের সনদে এটি মানবতাবিরোধি অপরাধ বলে স্বীকৃত। ন্যূরেমবার্গ ট্রায়াল যার উদাহরণ। এই দেশেও নিরবে গত ৯ বছর ধরে একই ঘটনা ঘটছে কিনা, প্রশ্নটি বৈধ। ইহুদিদের একই পাল্লায় তুলে একাধিক গোষ্ঠি ও দলকে নির্মূলের প্রক্রিয়ায় জোট সরকারের পর সর্বশেষ টার্গেট, তারেক পরিবার। আক্রমণের ধারাবাহিকতাই যার প্রমাণ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬ মিলিয়ন ইহুদিকে বিলুপ্ত করলো। সমপরিমাণ হত্যা না করলেও, অধিকসংখ্যক ভিন্নগোষ্ঠির উপর মানবতাবিরোধি আক্রমণ চালিয়ে যা খুশি করছে ৫ জানুয়ারির ফ্যাসিবাদিরা। ফলে লাখ লাখ মানুষ হয় গ্রাম ছাড়া, নয় দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে। এখনো যা অব্যাহত। কোন পরিসি’তিতে পড়লে এতো সংখ্যক মানুষ বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনায় বাধ্য হয়, সাংবাদিক ভাইবোনরা জানেন। তাদেরই পরিচিত কতো সাংবাদিক বেকারত্বে বাধ্য হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে, কতো মিডিয়া বন্ধ হয়ে গেছে, দেশত্যাগীদের সংখ্যা কতো… নিশ্চয়ই জানেন। গত ৯ বছরে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশিদের অধিকাংশই পাড়ি জমিয়েছে পশ্চিমে। রেকর্ড সংখ্যক এসাইলাম প্রার্থনা, অধিকাংশই সফল। অনেকের হাতেই স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী ট্রাভেল ডকুমেন্টও পৌঁছে গেছে। ফলে ডিপোর্টেশনের ভয় নাই। অবৈধ হলে, যেকোন সময় ডিপোর্টেশন। প্রতিবছরই ১০০টির বেশি দেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজারের উপরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন স্টেট ডিপার্টমেন্টে জমা পড়ে। এই প্রক্রিয়া না থাকলে, হাজার হাজার জীবন বিপন্ন হতো। অধিকাংশই স্বদেশে মৃত্যুর মুখোমুখি হতো।
এমন কোন মাস নাই যখন ঢাকার কোন সাংবাদিক, নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আসেন না। রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হয় না। নিউইয়র্কে বাংলা পত্রিকার যে বিপ্লব, বিপুল সংখ্যক দেশত্যাগী সাংবাদিকেরা এখানেই রুটিরোজগারের সুযোগ নিয়েছেন। এছাড়াও কেউ লটারি, কেউ চেইন মাইগ্রেশন, কেউ দত্তক, কেউ বিবাহ… বহু ক্যাটাগরিতে পশ্চিমে ঢুকছে। বাংলাদেশে এমন একটি গ্রাম বা শহর নেই, যার কোন সন্তান পশ্চিমে নেই। এইসব কথা সাংবাদিক ভাইবোনেরা ভালো করেই জানেন।
তারপরেও জেনেশুনে বিশেষ কোন ব্যক্তির এসাইলামের খবরটি এভাবে ছাপলো কেন? এটা কী সাংবাদিকতার এথিক্সে পড়ে? যেন ‘এসাইলাম’ শব্দটি প্রথম শুনলেন। যেন এসাইলাম প্রার্থনা করে মারাত্মক অপরাধ করেছেন। খবর যাচাই-বাছাই ছাড়াই রঙ মাখিয়ে ব্যক্তিঅধিকার হরণের প্রমাণ এগুলো। সেজন্যই দুটি পত্রিকা এবং হাফমন্ত্রীকে শোকজ। বিষয়টি সঠিক। কারণ, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারের কোন সাংবিধানিক পদে না থাকায়, বিষয়টি নিতান্তই গোপন। এটি অভিযুক্ত এবং ব্রিটিশ সরকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোন কারণে তথ্য পেয়েও থাকলে, প্রকাশের আগে উপযুক্ত মহলের সঙ্গে আলোচনা করেই পাবলিকে আনার নিয়ম।
সুতরাং এই হারে দেশত্যাগে বাধ্য করাই কী ফ্যাসিবাদের প্রমাণ নয়? বরং সাংবাদিকদের উচিত ছিলো, ফ্যাসিবাদিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। এতোকাল যার খবর প্রকাশ আইন করে নিষিদ্ধ রেখেছিলো, এই ঘটনায় জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠলো। ব্রিটিশ সরকারও জেনে গেলো, ব্যক্তি কতোবড় ভিকটিম! একে ফেরত দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। “যদি একটি লোকেরও রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার প্রয়োজন হয়, তারেকের নাম একনম্বরে। কারণ এই মুহূর্তে তাকে ছাড়া হাইকমান্ড আর কাউকেই শত্রু মনে করেন না। একমাত্র ওই ব্যক্তিই ক্ষমতার মসনদ উড়িয়ে দিতে পারেন।” সুতরাং যেকোন মূল্যে ধরে এনে ফাঁসি দিতেই হবে। লন্ডনে বক্তব্যের সারমর্ম এটাই। আগেও লিখেছি, আমি কোন দলের সদস্য নই। কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হলে, সেসব প্রশ্ন অবান্তর।
তারেকের যে বিদেশি পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই, প্রত্যেকেই জানেন। তবে পাসপোর্টটি কোথায়, কীভাবে ব্রিটিশ থেকে বাংলাদেশ কনসুলেটে পৌঁছালো, আদৌ কার হাতে… গুগল-আইফোনের যুগে যাচাই-বাছাই করা খুবই সহজ। হতে পারে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছে, কিংবা হয়নি। ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন যা বলবে, সেটাই মানতে হবে। এখানে হাফমন্ত্রীর সকল বিশ্বাসযোগ্যতা ধরাশায়ী। পাসপোর্টের ডানা সত্যিই গজিয়েছিলো কিনা, প্রশ্ন সেটাই। কারণ ব্রিটিশ হোম অফিস পাসপোর্টটি নিলে, তাদের কাছেই থাকবে এবং কাজ শেষে ফেরত দেবে। না দিলে হাফমন্ত্রীকে নয়, আবেদনকারীকেই জানাবে। ৩৭ বছর প্রবাসী জীবনে নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্ভট আবিস্কার প্রথম শুনলাম।
গুগল সার্চ, ইমিগ্রেশন আইনবিদ, এসাইলামপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝলাম, বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় আমেরিকা এবং ব্রিটিনে পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব ত্যাগের শর্ত নেই। জার্মান এবং সিঙ্গাপুরে আছে। এসাইলামপ্রাপ্তরা অস্থায়ী ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে সবদেশেই যেতে পারবেন শুধু মাতৃভূমি ছাড়া। পাসপোর্টটির মেয়াদ থাকলে, স্থায়ী ডকুমেন্ট পাওয়ার পর, মাতৃভূমিতেও যেতে পারবেন। তারেক রহমানও সকল শর্ত পূরণ করেই স্থায়ীভাবে আছেন। কিন্তু অন্যদের মতো ওই পরিবারের স্বদেশি পাসপোর্ট, ৫ জানুয়ারির অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত, কখনোই নবায়ন করবে না।
হতে পারে, নবায়নের আবেদন করে পাসপোর্ট আর ফেরত পাননি। কিংবা সেই পথেই যাননি। বরং ব্রিটিশের নিয়মেই তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাসপোর্ট হস্তান্তর। হাফমন্ত্রী শুধুমাত্র ৩টি পৃষ্ঠা দেখাতে পেরেছেন, তা তার পক্ষে সংগ্রহ করা খুবই সহজ। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে পাসপোর্ট বিভাগ। আবেদনকারীর সকল তথ্য এবং ছবি থাকায়, চাইলে ১০০০ পাসপোর্ট বানিয়ে যা খুশি করতে পারেন। এসাইলাম নিলে নাগরিকত্ব ছাড়তে হয়, সংবাদ সম্মেলনে হাফমন্ত্রীর এই উদ্ভট বক্তব্যের পর যে কোন আলোচনাই নিষিদ্ধ।
দ্বৈত নাগিরকত্ব সমর্থন করে আমেরিকা-ব্রিটেন। সেই কারণেই বাংলাদেশ তার প্রবাসী নাগরিকদের পাসপোর্টে ১০ বছরের “নো-ভিসা রিকয়ারমেন্ট” সিল দেয়। ফলে দেশে ঢুকতে ভিসা লাগে না। অন্যথায় এয়ারপোর্টে নেমে ভিসা নিতে হয়। “অন্য দেশের পাসপোর্ট নিলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব চলে না যাওয়ার প্রমাণ এটাই।” শাহদীন মালিক বলেছেন, ১৭ কোটির মধ্যে মাত্র ১ কোটির পাসপোর্ট আছে, তাই বলে কী তারা নাগরিক নয়? উচিত ছিলো, নাগরিকত্বের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার আগে পড়াশোনা করা। এসাইলামের অর্থ বিদেশি পাসপোর্ট নয়। নাগরিকত্ব হারানোর প্রশ্নটি হাস্যস্কর।
২০১৪ সনের ভুলভাল চিঠি হঠাৎ ২০১৮এর নির্বাচনের আগে কেন আবিষ্কার হলো? ভারত থেকে ফিরেই হানিফ কেন বললেন, তারেক নাকি জন্মসূত্রে পাকিস্তানের নাগরিক? এসব গুজব অকারণে ছড়ায় না আওয়ামী লীগ। হানিফের জ্ঞাতার্থে বলছি, তারেকের জন্ম ঢাকায় ১৯৬৭ সনের ২০ নভেম্বর। সজীবের জন্ম ২৭ জুলাই ১৯৭১। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। সুতরাং জন্মসূত্রে কার নাগরিকত্ব প্রশ্নবিদ্ধ, যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব হানিফেরই।
খুনি মহিউদ্দিনকে যে কারণে হাত-পা বেঁধে প্লেনে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিলো মার্কিন স্টেটডিপার্টমেন্ট। এসাইলাম থাকলে পারতো না। জাতিসংঘের রিফিউজি ভিসায়ও বিদেশে থাকার সুযোগ। যদিও তারেককে মহিউদ্দিনের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। কিন্তু প্রসঙ্গটি তোলার কারণ, দেশে তার জন্যও ফাঁসির মঞ্চ তৈরি। ব্রিটিশ সরকার কখনোই জেনেশুনে সাক্ষাৎ যমের হাতে তুলে দেবেন না। ব্রিটিশ এটাও জান্তে সকালে আপীল, দুপুরে খারিজ, রাতে ফাঁসির ঘটনা। তবে লন্ডনে ‘তারেককে ফিরিয়ে নেবই’- বক্তব্যে প্রচণ্ড ভালগারিজম ভাইরাল হয়েছে। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।


একটার পর একটা ভূয়া চিঠির বিপ্লব। সিনহার পর এই চিঠিও ভূয়া। বিষয়টি উদ্বেগজনক। একমাত্র আওয়ামী লীগ বাদে সকলেই জানে, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে এম্বেসি থাকে না। ওরা বলে হাইকমিশন। উইকিপিডিয়া লিখেছে, “নন্তকমনওয়েলথ দেশগুলোতে ডিপ্লোমেট মিশনের জন্য এম্বেসি থাকে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে থাকে হাইকমিশন। এম্বেসির দায়িত্বপ্রাপ্তকে বলা হয় এম্বাসাডর। অন্যটাকে বলা হয় হাইকমিশনার।” হবে ‘বাংলাদেশ এম্বেসি’, লিখেছে ‘বাংলাদেশি এম্বেসি’। ৪ জনের নাম উল্লেখ করে, ১টি পাসপোর্ট জমা রাখার কথা লিখেছে। টেলিফোন নম্বর কখনোই এভাবে হাইলাইট করে না। হোম অফিসের নম্বরটিও ভুল। ফেইথফুলি বানানে বড় এলফাবেট ‘এফ’। চিঠিতে সইকারকের নাম নাই। মূর্খও জানে, লেখা নামের উপরেই সই করার নিয়ম। ‘ডিয়ার স্যারর্স’ মানে কী? হবে একবচন, দেখলাম বহুবচন। অনেক পত্রিকাই ১৩টি ভুলে ভরা নীল-লাল রঙ্গের হাইলাইট করা চিঠিটি ছেপেছে। বেকায়দায় পড়া অবৈধ হাফমন্ত্রী বললেন, ভুল থাকলে ব্রিটিশকে বলুন। অর্থাৎ স্বীকার করলেন, সিনহার পদত্যাগের চিঠির মতোই এই চিঠিও স্বরচিত। (দ্র: কালের কণ্ঠ, ২৪ এপ্রিল, হাফমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে আগামাথাহীন বক্তব্য।)
পাবলিক রিএকশন দেখামাত্রই, নিজের পোস্ট নিজেই হ্যাক করে দোষ চাপালেন হ্যাকারদের উপর। ভেবেছিলেন সবাইকেই একসঙ্গে বারবার বোকা বানানো সম্ভব। খনার বচন, “চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড়ে ধরা।”
নিউইয়র্ক শহরে বহু বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন আইনবিদ রয়েছেন। একজনের কাছে জানতে চাইলে বললেন, বিষয়টি জানেন এবং পুরাই ভূয়া।
এবার কারণ খোঁজা যাক। গোপন মিশন পূরণের আগে, গুজব সৃষ্টি করে। উদারহণস্বরূপ, সিনহার একাউন্টে ঘুষের টাকা কিংবা এতিমের ২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার আগে প্রচণ্ড গুজব ছড়ানো (যদিও কোনটারই প্রমাণ নেই। ভিকটিমদের একাউন্টে আসলেই কে বা কারা টাকা জমা দেয়, ক্ষমতাসীনরা জানে)। এরপর সংসদে মিশন সফল করে।
খালেদার হায়াৎ-মউত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতোমধ্যেই তাকে মাইনাস করা শেষ। তারেকের দেশে ফেরার প্রশ্নই ওঠে না। বাকি রইলো কে? দলের হাল ধরার কথা ছিলো জোবায়দা রহমানের। তাকে ঠেকাতেই কী রাতারাতি এই অপকর্ম? মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, টার্গেট তারেক হলে, ভূয়া চিঠিতে জোবায়দার নাম কেন? অর্থাৎ এই পরিবারের কারো পাসপোর্টই নবায়ন না করার বিষয়টি পাবলিকে আনলো।
এরপর যা করবে। ২০১৬ সনে আনা অসমাপ্ত নাগরিকত্ব আইনের বিলটি নতুন করে প্রাণ পাবে। চোর-গুন্ডা-বদশাইশ, পলাতক, খুনি, ফিউজিটিভ… পরিবারটির বিরুদ্ধে সংসদে আবারো ভাঙ্গা রেকর্ড বেজে উঠবে। এরপর ‘হ্যাঁ জয়যুক্ত’ কণ্ঠভোটে পাশ করবে। এরপর নাগরিকত্ব আইন বানাবে। জোবায়দার প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে, এটাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ‘হাসিনাই আজীবন প্রধানমন্ত্রী’- হানিফের রাজনৈতিক বক্তব্যের ধারাবাহিকতা এটা। “প্রেসিডেন্ট ফর লাইফ”- জিনপিং দ্বারা অনুপ্রাণিত আওয়ামী লীগ। সেই প্রচার শুরু হয়ে গেছে। গুজবের উদ্বোধন করলেন, পণ্ডিত(!) হাসান মাহমুদ। এর আগেই সবক’টা পথের কাঁটা শেষ করবে।


অতি উৎসাহী আরেকজনের ঘোষণা, তার নাকি বিদেশি পাসপোর্ট নাই!!! থাকলেই কী, না থাকলেই কী! যারা নাকি স্বপরিবারে নিজেরাই রাষ্ট্র, তাদের জন্য কোন আইন লাগে? অতীতেও তাদের ভাই-ভাতিজরা বলতেন, অমুকই আইন, অমুক ছাড়া এই দেশে কোন আইন নাই। যখন এসব শুনেছি তখন কিশোরী, এখন বার্ধক্যের পথে। তাই অতীতের পুনরাবৃত্তিতে শংকিত নই কিন্তু লজ্জিত।
কালো পাসপোর্ট প্রশ্নে উত্তাল স্যোসাল মিডিয়া। দাবি, ব্যক্তির কালো পাসপোর্ট আছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি পরিবারে বিদেশিদের ভিড়ে ওদের কোন কথাই আর বিশ্বাসযোগ্য নয়।
তবে স্যোসাল মিডিয়ায় যে প্রশ্নটি ভাইরাল।
১৯৭১এর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন। এরপর যারাই বিদেশে, দেশি ট্রাভেল ডকুমেন্ট না পাওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকেরই স্ট্যাটাস নিয়ে সমস্যা। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে মুজিবের সঙ্গে ফিরেছিলেন ড. কামাল হোসেন। ২৬ আগষ্ট ‘সাপ্তাহিক’ নামের একটি ম্যাগাজিনকে ড. কামাল বলেন, ৭২ সনের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ তাদেরকে মুক্তির কথা জানিয়ে কারাগারে ক্যামেরাম্যান পাঠিয়ে ছবি তোলে।
লন্ডনে যাত্রাবিরতিতে জাতিসংঘের ট্রাভেল ডকুমেন্ট গ্রহণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সরাসরি রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণের বিষয়টির আইনগত ব্যাখ্যা চেয়েছেন ভদ্রলোক। বলছি, জিয়া পরিবারকে নিয়ে যতোই নোংরা ঘাটবে, ততোই নোংরা হবে আওয়ামী লীগ।
তারেকের নাগরিকত্ব যদি নাও থাকে, প্রয়োজনে কীভাবে দেশে ফিরবেন, উত্তর ১৯৭২ সনের ৮ জানুয়ারি। ৭৫ সনে হাইকমান্ডও স্বপরিবারে ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। তখন ভিসার স্ট্যাটাস কী ছিলো, প্রকাশ করা উচিত। ১/১১এর তান্ডব উঠলে, তাদেরও হাজার হাজার নেতাকর্মী বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলো। সেই সুযোগে অনেকেরই বিদেশি পাসপোর্ট এবং বিদেশেও দ্বৈত সংসার। দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগে দেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যাদের অধিকাংশই রাজনীতিতে সক্রিয়। ক্ষমতা কারো জন্যই চিরস্থায়ী নয়। বলতেই হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটার পর একটা মানবতাবিরোধি অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগ।
ড. কামাল হোসেনরা শুধু বলেই গেলেন, কিছুই করলেন না। শান্তিতে নোবেলপ্রাপ্ত অন্যজন শুধু পদক কুড়াতেই ব্যস্ত। দেশের অশান্তির আগুনে এক লোটা পানিও ঢাললেন না। এর কোন ব্যাখ্যা কী তারা করবেন?

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
০২ মে ২০১৮ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 10.0/10 (1 vote cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)
তারেক নয়, এই টার্গেট জোবায়দা , 10.0 out of 10 based on 1 rating