ক্ষমতার মৃত্যুঞ্জয় এবং আমৃত্যু ক্ষমতার জয়

May 14, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


এবার ব্রিটিশ প্রশাসনের গোপন নথিপত্রেও ঘাটাঘাটি শুরু করলো! প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র উপরেও খবরদারি করছে ঢাকা। ব্রিটিশ সরকারের নামে মিথ্যা-বানোয়াট-ভূয়া খবর তৈরি করে যা ইচ্ছা করছে। ফলে ক্ষমতাসীনদের উপর পরোক্ষ ক্ষুব্ধ ব্রিটিশ প্রশাসন, এর একটি জবাব চেয়েছে। ক্ষমতার লোভে আর কতো নিচে নামবে আওয়ামী লীগ! গুজব প্রচারি হাফমন্ত্রীর ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করা উচিত ছিলো। সকলেই জানে নির্বাচন চলে গেছে দুর্বৃত্তদের হাতে। চলে গেছে ফেইক নিউজ কারিগরদের হাতে। এখানে ভোটাভুটির সম্ভাবনা কোথায় দেখলো আওয়ামী লীগ? হাসান মাহমুদ এবার ভূয়া চিঠির জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দুষলেন না। এর মানে, তিনিও স্বীকার করলেন, সকল অপকর্মের মূলেই এইসব দুষকৃতিকারীরা। আজীবন ক্ষমতার বিনিময়ে মাল্টিপার্টি ডেমোক্রেসি বিক্রির প্রতিবাদে এই লেখাটি।
“যতোদিন হাসিনা জীবিত থাকবে, ততোদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে”- দাবি হানিফের। আজীবন ক্ষমতার গ্যারান্টির সঙ্গে, একমাত্র প্রতিপক্ষকে হত্যার মোটিভের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। হানিফের এই মহাবিপদ সংকেতের পর, ফ্যাসিবাদ উৎখাতে রাস্তার আন্দোলনের প্রয়োজন আরো বেশি জোরদার হলো। কারণ, ব্যক্তি খালেদা নয়। সংসদে বৈধ বিরোধিদলের স্থায়ী বিলুপ্তির প্রশ্নটিই এখানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ক্রাইসিস যখন এই পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, আদর্শের মতপার্থক্যকে বিদায় করে, সকলেই এক মঞ্চে না এলে পরাজয় নিশ্চিত।
হঠাৎই আজীবন ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা, শ্রেফ কথার কথা নয়। ৫ জানুয়ারি দিয়েছি কিন্তু আগামী নির্বাচনগুলোকেও হাতছাড়া হতে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে যেকোন মূল্যে আওয়ামী লীগকে রুখতেই হবে। এখন পর্যন্ত খালেদাই একমাত্র ব্যক্তি যিনি জেলের বাইরে কিংবা ভেতরে, ফ্যাসিবাদিদের ঘুম হারাম করে দিয়েছেন। এতোকিছুর পরেও তার বিকল্প এখনো তৈরি না হওয়ায়, তার উপরেই নির্ভরশীলতাকে অস্বীকারের উপায় নেই। নৈতিক অর্থে, সিম্বলিক অর্থে, জাতিয় নির্বাচনে মুক্ত খালেদার অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনকে অসম্ভব করে তুলতে হবে। অন্যথায় দুর্বৃত্তদের হাতে সহজ বিজয় তুলে দেওয়া হবে।
তোপের মধ্যেই অক্টোবরে নির্বাচনী তফসিল জারির ঘোষণায়, নির্বাচন দখলের পরিকল্পনা আরো বেশি নিশ্চিত হলো। এটাই একদলীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস। এরপর চিকিৎসা না দিয়ে জেলে পচানো খালেদাকে শেষ মুহূর্তে হয়তো বিদেশে পাঠিয়েই ছাড়বে। এরপর এরশাদকে নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন করে আরো ৫ বছর ক্ষমতায় থাকবে। এর মধ্যেই সংবিধান সংশোধন হবে। সুতরাং কেউ যদি মুহূর্তের জন্যও ভাবে, হানিফ এটা কথার কথা বলেছেন, এটাও ভাবতে হবে, এরাই কিন্তু ৫ জানুয়ারি করেও বৈধতা আদায় করে ছাড়লো। সুতরাং খালেদার প্রশাসনকে কে কতোটুকু ঘৃণা করে, এসব প্রশ্ন আর নয়। বরং দেশের কল্যাণে, নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদেরকে সক্রিয় করে, রাজপথে দ্রুত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আসার পথের সকল অনিশ্চয়তা অতিক্রম করতে হবে।
মিডিয়ার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে- ডায়েবেটিস, গ্লুকোমা, পারকিনসনসহ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত। যে কারণে তার হাত শক্ত হয়ে যাচ্ছে। অন্ধত্বেরও প্রশ্ন উঠেছে। মৃত্যুর সম্ভাবনাও মহাসচিবের বক্তব্যে। ডাক্তারাই ভালো বুঝবেন। তবে পুরো দৃশ্যই তার স্বাসে’্যর চরম অবনতিকে সমর্থন করে। এই অবস্থায় উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়ার বদলে, সত্য অস্বীকারের মধ্যে নানান ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। এখন পর্যন্ত হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের মতো সংগঠনগুলো নিরব! জাতিসংঘ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়লের মানবাধিকার বিভাগেও নিরবতা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানে, প্রতিটি মানুষেরই সুচিকিৎসার অধিকার রয়েছে। এর মানে, সবাই কি আজীবন ক্ষমতা বনাম মাইনাস ওয়ান ফর্মূলার পক্ষে? মনে তো হচ্ছে তাই।
বেশ জোর দিয়েই হানিফ বলেছেন, “আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন শেখ হাসিনা। ২০২৯এর পর অন্যেরা ভাবতে পারে।” বিষয়টির ব্যাখ্যা করা যাক। আজীবন শব্দের অর্থ আমৃত্যু। ২০২৯ সনে হাসিনার বয়স হবে ৮২। ডিজিটাল পৃথিবীতে ৮২ কোন বয়সই নয়। অস্ত্রের মুখে বাধ্য না হলে ৯২ বছর বয়ষ্ক মুগাবে কখনোই ক্ষমতা ছাড়তেন না। তাহলে ২০২৯এর পর হবেটা কী? তিনি যদি ৯২ বছর বয়সী মাহাথিরের মতো গ্যাপ না দিতে চান, তাহলে ২০৪১ পেরিয়ে তিনিই একটানা ক্ষমতার রেকর্ড। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিপ্লবে সব দেশেরই মানুষের আয়ু বাড়ছে। বাংলাদেশেও বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। পশ্চিমে উন্নত চিকিৎসার কারণে বুড়া-বুড়িরা মরতেই চায় না। অথচ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আহত সৈন্যদেরকে এন্টিবায়েটিক দেয়া যেতো না। কারণ, পেনিসিলিন আবিষ্কার হয়েছে ২৮ অক্টোবর ১৯২৮ সনে। চিকিৎসা শাস্ত্রের কারণে হয়তো এমন এক ‘টিকা’ আবিষ্কার হবে, যেজন্য আয়ু বেড়ে ২০০ অতিক্রম করতে পারে। হয়তো হানিফের হিসাব ঠিক হলে, ২০৬৯ সালের পর, এরশাদ বা হাইকমান্ডের পরিবারের কেউ ক্ষমতায় আসবেন। ততোদিনে এরশাদের বয়স হবে ১৩৯। এরশাদের জন্য অসম্ভব বলে কোন শব্দ ডিকশনারিতে নেই। কারণ, ১৫তম সংশোধনীতে তার শাসনামল বিলুপ্ত। প্রেসিডেন্ট হিসেবেও বিলুপ্ত। এরপরেও হাইকমান্ডের বিশেষ উপদেষ্টা এবং সরকারে এবং বিরোধিদলেও!!! তবে এরশাদেরও আরেকবার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন আছে। তাই ২০৬৯কেই টার্গেট করা যাক। হয়তো তখনো বেঁচে থাকবেন ক্ষমতার এইসব মৃত্যুঞ্জয়ীরা।
সুতরাং আজীবন ক্ষমতা বনাম মাল্টিপার্টি ডেমোক্রেসির শেষ যুদ্ধ এটা। ২০১৮এর নির্বাচনে খালেদা না থাকলে ভূইফোঁড় বিএনপির অভ্যুত্থান কিছুতেই ঠেকানো যাবে না। ফলে এদের নিয়েই একাদশ সংসদ নির্বাচন করবে। এই আওয়াজই মুখে মুখে। এমনকি ড. জাফরুল্লা চৌধুরিও বলেছেন, লন্ডনের কথা ভুলে যেতে। বললেন, খালেদার জেলে থাকারও পক্ষে। কথাগুলো খুব ভালো ঠেকছে না। জানি না, কোথায় কারা কিসে ব্যস্ত! মানুষের বিশ্বাস নাই। তবে খালেদাকে ছাড়া নির্বাচন হতে দিলে বিরোধিদলের কালচার চিরতরে বিলুপ্ত হবে। দুর্বৃত্তরাই অবশেষে বিজয়ী হবে। শেষ যুদ্ধের সিদ্ধান্ত বিরোধিশিবিরের।
কে না জানে, এরশাদের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র উদ্ধারের পর, খুড়িয়ে হলেও চলছিলো সংসদ। ওয়াকআউট, ওয়াকইন, বয়কট ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে প্রাণ পাচ্ছিলো সংসদীয় গণতন্ত্র। কিন্তু জুলাই ২০১১ কে বা কারা, হঠাৎই সব হিসাব বদলে দিলো। এরপর থেকে যাকিছু ঘটছে, সবই একদলীয় নির্বাচনের পক্ষে। যেকোন ঘটনা ঘটানোর আগে এভাবেই ওরা আওয়াজ তোলে। এরপর যা হবার, সেটাই হয়। যেভাবে হয়ে আসছে। আজীবন ক্ষমতায় থাকার প্রশ্নে, হানিফের সংকেত বুঝবো না কেন?


মাত্র কয়েকদিন আগে সংবিধান সংশোধন করে জিংপিনকে আমৃত্যু প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হলো। বহু আগেই ‘প্রতিবাদ’ শব্দটিকে উধাও করেছে কম্যুনিস্ট রেজিম। ফলে এক ব্যক্তিকে আজীবন প্রেসিডেন্ট মানতে বাধ্য চীনারা। বেইজিং কিভাবে ক্ষমতাসীনদেরকে প্রভাবিত করলো, প্রমাণ হানিফের বক্তব্যে। ভারতের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় আওয়ামী লীগকে প্রভাবিত করছে চীনা রেজিমও।
এই ধরনের ঘটনা আরো একবার এদেশেই ঘটেছিলো। বাকশালের সংবিধানে এমন সব আদর্শ ছিলো যা ৭১এর সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। ক্ষুব্ধ মানুষ সেদিন বিপ্লবী এবং প্রতিবিপ্লবী হওয়ায় কারণ, বাকশাল কেউই গ্রহণ করেনি। এমনকি খোদ আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মোস্তাকরাই এর বিরুদ্ধে ছিলেন। সেনাবাহিনী এবং জাসদের মধ্যে প্রতিবিপ্লবীদের ঝড়। এদেরই অন্যতম কর্ণেল তাহের। ইতিহাস মনে রাখলে, অনেক বিপদ এড়ানো সম্ভব। হাইকমান্ডও জানেন্ত ইনু, মেনন, এরশাদ, জেনারেল শফিউল্লাহ… সবকটাই ৭৫এর পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ খুনি। অনেকেই অবশ্য যার যার যুক্তিও মিডিয়াকে বলেছেন। এসব পাওয়া যাবে নেটে। ইতিহাসের কিছুটা ধারাবাহিকতা মনে করিয়ে দেয়াই লক্ষ্য।
বিবিসি বাংলাকে হানিফ- উন্নতির জন্য নাকি আওয়ামী লীগকে আজীবন ক্ষমতায় রাখতে হবে। “আজীবন বলতে, আমৃত্যু।” উন্নতিই যদি কাউকে ক্ষমতায় রাখার একমাত্র যোগ্যতা হয়, তাহলে একথাও সত্য, আজকের পৃথিবীতে ‘মেড-ইন্তচায়না’ ছাড়া কোন জিনিস পাওয়া কঠিন। দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ায় মার্কিন অর্থনীতির জন্যও চ্যালেঞ্জ। তবে পশ্চিমে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের শীর্ষে কিন্তু “চীন।” এতো উন্নত দেশ কিন্তু দেশবাসী কেন থাকতে চায় না? এরাই কেন সাদা এবং কালো টাকা দিয়ে ভরে ফেলছে পশ্চিমের স্টকমার্কেট এবং রিয়েল এস্টেট? কারণ, চীনের উন্নতির কাছে ধরাশায়ী মানবাধিকার। কম্যুনিস্ট রেজিমের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলা নিষেধ। সমালোচনা করলেই, নিখোঁজ। কারণ, উন্নত এবং ডিজিটাল চীনে মোটেও আস্থা নেই চীনাদের। আমাদের মতো তারাও চায় গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার। তাই নৃশংস্য রেজিমের হাত থেকে ব্যাপকহারে পশ্চিমে পালিয়ে যাচ্ছে বলেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের ১ নম্বরে চীন।
এতোক্ষণ যা লিখলাম, হানিফের বক্তব্যকেই সমর্থন করে। হানিফ বলেছেন, যার কোন মানে হয়? বলেছেন, ভোটের মাধ্যমেই আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন শেখ হাসিনা। হাসিনাই আজীবন ক্ষমতায় থাকলে, ভোট দিবে কাকে? আজীবন ক্ষমতাকে ভোট দেওয়ার বিধান আছে কী? চীনা গঠনতন্ত্রে অবশ্য ভোটের অধিকার নেই। বাকশালও বেইজিং-এর মতোই, সংবিধান সংশোধন করেই, প্রেসিডেন্ট ফর লাইফের বিধান আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলো। আজীবন ক্ষমতার প্রশ্ন যখন সামনে আনলো, দেখতে হবে, আওয়ামী লীগ এবার কী করে। এই পর্যায়ে হয়তো তারাও সংবিধান বদলে দিয়ে আজীবন ক্ষমতায় থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।


আজীবন ক্ষমতার প্রশ্নে, বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের তাবেদারদের কথা না বললে লেখাটি অসম্পূর্ণ থাকবে। সুবীর ভৌমিকের পর, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিরাট ট্যাংক, মনোয যোশী যা বললেন, ভারতীয়রা হলে পিটিয়ে মেরুদণ্ড গুড়া করে দিতো। যোশীর লেখায় খালেদাকে “উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করে আরো লিখেছেন, আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় দেখতে অধিক আশ্বস্তবোধ করে ভারত (নয়াদিগন্ত, ১৮ এপ্রিল)। মা-পুত্রকে সন্ত্রাসের অভয়াশ্রম বলেও উল্লেখ। জবাবে বলতেই হয়, সামান্য পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রত্যেকদিনই বোমা অথবা গুলিতে মানুষ মরার খবর ভারতীয় মিডিয়ায়। এবার তাদের জাতীয় নির্বাচনে যে ধরনের সন্ত্রাস হবে, কিছুটা আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, এবার শুধু কংগ্রেসই নয়, বিরাট ফ্যাক্টর, নতুন ফেডারেল ফ্রন্ট। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এরা সর্বশক্তি নিয়োগ করে মোদিকে হারাতে মাঠে নেমেছে। এদের নেতৃত্বে মমতা ব্যানার্জি। দুই ব্লকের যুদ্ধে রাজনীতির মাঠে সন্ত্রাস ইতোমধ্যেই সক্রিয়। মোদিও মরণযুদ্ধ করেই ক্ষমতায় থাকবেন বলে মনে হচ্ছে। সুতরাং আগামী নির্বাচন যে কোনক্রমেই শান্তিপূর্ণ হবে না সেই আওয়াজও ভারতীয় মিডিয়ায়। ক্ষমতা কিছুতেই ছাড়বে না বিজেপি। সুতরাং ভারতে চলমান সন্ত্রাস নিয়ে ভারতীয় থিংকট্যাংকের যন্ত্রণা কোথায়? মনে হচ্ছে, মনোযরা প্রচণ্ড ডিল্যুশনাল না হলে, আমাদের নির্বাচন নিয়ে এতো গবেষণার প্রয়োজন মনে করতেন না। নিশ্চয়ই তাদের উদ্দেশ্য, দিল্লির স্বার্থে আওয়ামী লীগকেই “আজীবন ক্ষমতায়” রেখে যা খুশি তাই করা। করছেও তাই।
২৬ এপ্রিল যে খবরটি প্রায় প্রতিটি পত্রিকায়। বিবিসি বাংলাকে হানিফ, “বর্তমান বাংলাদেশে হাসিনার সমপর্যায়ে বা ধারেকাছে অন্য কোন দলের বা যেকোন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই… শেখ হাসিনার বিকল্প কেউই নেই… যতদিন কর্মক্ষম থাকবেন ততদিন দেশ পরিচালনা করবেন…”
প্রসঙ্গ, বিকল্প থাকা না থাকা। আজব্দি বারবারই প্রমাণ হয়েছে, বিকল্প না থাকার একটি উদাহরণও রাজনীতির ইতিহাসে নেই। হানিফ নিজেকে অলৌকিক মনে করেন কিনা!
এখানে একটি উদাহরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৪৭এর পর থেকেই দুইবাংলাকে পুনরায় এক করতে বদ্ধপরিকর দিল্লি। যে কারণে ২৪ বছর পর দ্বিতীয় দেশবিভাগ। এই যুক্তিতে, কংগ্রেস্তবিজেপি সমান। ভোটের প্রতি সম্মান না দেখানোই ৭১এর কারণ। তবে ৭১এর পর, পাকিস্তান কিন্তু কখনোই দুই অঞ্চলকে আবারো এক করার দাবি তোলেনি। কিংবা সেই ধরনের কোন রাজনৈতিক বক্তব্যও দেয়নি যা কংগ্রেসের পর, দিয়েই চলেছে বিজেপি। উল্টা, সার্বভৌমত্ব এবং ভোটের অধিকারের প্রতি ৪৭ বছর ধরেই সম্মান দেখিয়ে যাচ্ছে। যেকথা কংগ্রেসের পর, বিজেপিও বলতে পারবে না। এতোক্ষণ যা লিখলাম, চীন ছাড়াও ভারতও আমাদের ভোট এবং সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলেই প্রমাণিত।
বাকশাল বনাম বহুদলীয় গণতন্ত্রের শেষ যুদ্ধ এটাই। এই যুদ্ধে একপক্ষের পরাজয় হবেই। অন্যথায় ডান্তবাম-লাল-নীল… সবাইকেই একমঞ্চে আসতে হবে। “বড় যুদ্ধে জয়ী হতে চাইলে, নৈতিক বিজয় সবার আগে।”

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
০৯ মে ২০১৮ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: +1 (from 1 vote)