লাশের পিছ্‌ ২০ হাজার হলে গরুর মূল্য কত?

May 17, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


মানুষের আয়ু ৪ ভাগে বিভক্ত এবং করণীয় নিয়ে একটি ধর্মগ্রন্থে যা লেখা। ১০০ বছর আয়ুর ১ম ২৫ বছর জ্ঞানার্জন। ২য় কিস্তিতে কর্মযজ্ঞ এবং সংসার। ৩য় কিস্তিতে আধ্যাত্মিকত্য লাভ। ৪র্থ কিস্তিতে হয় গৃহ সন্ন্যাস, নয় গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী অবস্থায় জীবনাবসান। বিষয়টি বেশ সঙ্গতই মনে হয়েছে। তবে ডিজিটাল রাজনীতিবিদদের কর্মকান্ড দেখে, কেউই কী বিশ্বাস করবে, এদের একজনও মৃত্যুকে ভয় বা বিশ্বাস করে? বরং হাবভাব এমন যেন যমের দুয়ারে তালা দিয়ে শর্ত দিয়েছে, যতোকাল খুশি জীবিত থাকবে এবং নিজের সময়মত মরবে। সেটা সত্য হলে, বর্তমান বিশ্বের লোকসংখ্যা ২২৫ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যেতো। পৃথিবীতে যদি একটি বিষয়েও যুক্তি-তর্ক, কোর্টকাছারি কিংবা আবেগ থাকাটা অবাঞ্ছিত হয়ে থাকে, সেটি মৃত্যু। বিজ্ঞানী নিউটন বলেছেন, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সমান। বাস্তবে যা, জন্মের প্রতিক্রিয়া মৃত্যু। নিউটন, আইনস্টাইন, রকেফেলার, চেয়ারম্যান মাও, গৌতম বুদ্ধ… অসীম ক্ষমতাধরেরাও মৃত্যুর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন। কয়জন মনে রাখে, জীবন কতো ছোট! জানার আগেই সময় ফুরিয়ে যায়। বিশেষ করে রাজনীতিবিদের জন্য ‘মৃত্যু’ নামক শব্দটি মনে রাখা খুবই প্রয়োজন। কারণ যুগে যুগে তারাই অন্যের মৃত্যুর কারণ হয়েছেন, হচ্ছেন, ভবিষ্যতেও হবেন। অন্যথায় ৯২ বছর বয়সে পৌঁছে মাহাথির এই কাণ্ড করলেন কেন?
হঠাৎ আধ্যাত্মিক হয়ে ওঠার কারণ, সীমাহীন অবহেলায় যত্রতত্র অকাল মৃত্যুর খবরে নাকাল। বিশেষ করে অবৈধ সরকারের আমলে অপমৃত্যুর কোন লাগাম নাই। সড়ক-মহাসড়ক জুড়েই ৬০ সাইজের শরীরে ৫ সাইজের গেঞ্জি ঢোকানোর চেষ্টায় মৃত্যুর মিছিল অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য। রাস্তাঘাটের যে ভয়ানক চেহারা, উন্নতির ঢাকনা দিয়ে আর কতো? পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নামে, আর কতো লক্ষ পোস্টার ছাপলে যথেষ্ট?
গাড়ি নামানোর কোন লাগাম নেই। হিবাস তো নেই-ই। একই সঙ্গে কমছে নিয়ম-শৃঙ্খলা। বাড়ছে বিশৃঙ্খলা। ঢাকার রাস্তাঘাটের একি চেহারা! মাত্র কয়েক বছরে একই অবস্থা মফসলেরও। হু কেয়ার্স? সর্বত্রই ৫০ সাইজের শরীরে ৫ সাইজের গেঞ্জি ঢোকানোর প্রতিযোগিতা। রাস্তায় যে যার মতো জমিদার। অবৈধ মন্ত্রীরাও যে যার তালুক খুলে বসেছে। ফলে প্রতিদিনই মরছে কুকুর-বেড়ালের মতো। এতো অপমৃত্যুর দায় কতোটুকু মন্ত্রণালয়ের? কতোটুকু গরু-ছাগলের চি‎হ্ন দেখে লাইসেন্স পাওয়া ড্রাইভারের? ড্রাইভারের হলে, মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন কোথায়? মন্ত্রণালয় থাকলে, বেপরোয়া যানবাহনের দায়িত্ব কেন ড্রাইভারের? একটা প্রশ্নেরও জবাব নেই। দরিদ্র পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে যা হয় সকলেই জানে। কোন কোন পরিবার চিরদিনের মতো নিঃস্ব হয়ে যায়। অনির্বাচিত সড়কমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টাই মুই কী হনুরে!
অত্যন্ত দম্ভের সঙ্গে অনির্বাচিত মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছিলেন, গরু-ছাগলের চি‎হ্ন চিনলেই লাইসেন্স। এই বক্তব্য যে, কতোটা দায়িত্বহীন এবং ক্রিমিনাল, একমাত্র নির্বাচিত জনপ্রিতিনিধি হলে সেটা বলবেন না। যদিও প্রতিটি সরকারের বেলায়ই সড়কে মৃত্যুর মিছিল কিন্তু গত ৯ বছরে অধপতন সীমাহীন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে হাত ঝেড়ে ফেলে যেন বিষ্ঠা। দুর্ঘটনার ৫ মিনিটের মধ্যেই ক্ষতিপূরণ ঘোষণা যেন লাশেরও টাকার লোভ এবং সেইজন্যই লাশ হয়। লাশের পিছ্‌ ২০ হাজার টাকা। অঙ্গহানীর ক্ষতিপূরণ ১০ হাজার। এটাই কী জীবনের মূল্য? এমনকি ক্ষতিপূরণের অর্থ পৌঁছে দেওয়াকেও উন্নতির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে ক্ষমতা দখলদারেরা।
কোরবানীর মৌসুমে একটি মাঝারি সাইজের ভালো গরুর মূল্য ৪৫ হাজারের কম নয়। দুবলা-পাতলা হলে ৩০ হাজার। কোরবানীর বাজারে গরুর মূল্যের উত্তাপ এতো বেশি যে, অনেকেই ঢোকার সাহসও করে না। মিডিয়ায় দেখি, চাহিদা থাকায়, ৫ লাখ টাকা মূল্যের গরু একলাফে ৭ লাখ। এর মানে কী, পশুর জীবনের চেয়ে গরিব মানুষের মূল্য কম? মনে তো হচ্ছে সেটাই।
২০১৭ সনের আগষ্টে লিখেছিলাম ১৮০ কি.মি. রাস্তা পার হতে ১২ ঘণ্টা লাগার কথা। চৌরাস্তার মোড়জুড়ে, ৭০ সাইজের শরীরে ২ সাইজের সার্ট ঢোকাতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নরক ভোগ। এমনিতেই ব্রিটিশের রাস্তা ৪৭ বছরেও দৈর্ঘ্যে-প্রসে’ ১ ইঞ্চিও বাড়লো না। বরং ঠেলার চোটে, যা-তা। এরমধ্যেই চর্তুদিক থেকেই গাড়ির গোডাউন আসতেই থাকে। ২০১৮ সনের অবস্থা আরো খারাপ। জানি না, কোন ধরনের পাগলে পেয়েছে উন্নতির ফেরিওয়ালাদের। উন্নতি করেই যে ক্ষমতায় থাকতে হবে এমন কথা পলিটিক্যাল সাইন্সের কোথায় লেখা? ২০১৭এর নাইটমেয়ার এড়াতে এবার রওনা দিলাম যেন রাত ১২টায় চৌরাস্তা অতিক্রম করতে পারি। যে লাউ সেই কদু। আবারো নিষ্ক্রিয় যানবাহনের কাফেলায় যোগ দিয়ে ৩ ঘণ্টা বেকার বসে অবস্থা খারাপ। এবার ৬ ঘণ্টার রাস্তা ৯ ঘণ্টায়। দিনের বেলায় হলে কয় ঘণ্টা লাগতো ভাবতেও চাই না। কোন মিলিনিয়ামে চৌরাস্তার গতি হবে, কেউ কী জানে?
চৌরাস্তায় দেখলাম কিছু শ্রমিক এবং কিছু হেভী ডিউটি মেশিন দিয়ে মধ্যরাতে খোড়াখুড়ি। এইধরনের কাজে আমেরিকাতে যে ধরনের কর্মকাণ্ড দেখার অভিজ্ঞতা, সমপরিমাণ না হলেও কাছাকাছি থাকার কথা। অর্থাৎ পর্যাপ্ত লাইট এবং দক্ষতার সঙ্গে খোড়াখুড়ি। এখানে আমেরিকা কিংবা বাংলাদেশ বলে পার্থক্য চলবে না। মধ্যরাতে যাদেরকে দেখলাম, যা দেখলাম, অবশ্যই উদ্বেগজনক। জানি না কোন দশকে আদৌ এই কাজ শেষ হবে কিনা!
প্রশ্ন, মূল বেনিফিশিয়ারি কারা? উন্নতি বলতে আসলেই কী বোঝাতে চায়? সাধারণ মানুষের পক্ষে ধান্দাবাজি বোঝা অসম্ভব। তবে কিছুটা নমুনা মিলবে ঘাটতি বাজেটে। মালমুহিত থাকা অবস্থায় ভবিষ্যতে যার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ দীর্ঘ হতেই থাকবে। কারণ, মুহিতই একমাত্র বৈজ্ঞানিক অর্থমন্ত্রী, যিনি নিজের ফর্মূলায় অর্থনীতি চালান। ব্যাংক ফেল করার পরেও আরো নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেন। তার রাবিশ এখন বিশ্বকুখ্যাত। বোকা পাবলিক, পাগলের কথাই বিশ্বাস করে। বলছি, “প্রতিবছরই লাখ-লাখ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট বাড়িয়ে না রক্ষা হবে ব্যাংক, না হবে সড়ক।” অর্থনীতির এই সোজাসাপ্টা হিসাব বুঝি না বলেই, পোস্টার ছাপিয়ে যা বোঝায় সেটাই বুঝি।


প্রসঙ্গ সড়ক মন্ত্রীর মহাসচিবত্ত্ব লাভ বনাম রাজিবের ছেঁড়া হাত। এতো ক্ষমতা যাদের হাতে, মৃত্যুর মিছিল থামানোর সময় কোথায়? কারণই বা কোথায়? প্রয়োজনই বা কেন? একই সঙ্গে মহাসচিব। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী। হাইকমান্ডের আস্থাভাজনদের একনম্বরেও। দলের মহাসচিব কী চাট্রিখানি? তার উপর আওয়ামী লীগ বলে কথা। দলবাজদের কাছে দল আগে, দেশ পরে। সবার উপরে হাইকমান্ড। তাকে খুশি রাখতেই আঁচলের সঙ্গে কাঁঠালের আঁঠার মতো লেগে থাকাই অনির্বাচিত মন্ত্রীদের কাজ। তবে সড়কমন্ত্রীকে স্বান্ত্বনামূলক “আগাছা পরিচ্ছন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব” দিলে যথার্থ।
অর্থনীতিতে একটি কথা আছে, ডিমান্ড এণ্ড সাপ্লাই। সড়কের পরিমাণ, স্বাস্থ্য, রোগ, বিপর্যয়, বয়স বনাম যানবাহনের পরিমাণ এবং চাহিদা। প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় এনফোর্সমেন্ট, ট্রাফিক নীতি এবং ঘুষবাণিজ্য। ঘুষ নেয়ার জন্যই গাড়ি ধরে আর ছাড়ে। এর কোন প্রমাণের প্রয়োজন আছে কী?
বাংলাদেশ একটি অসম্ভব জনবহুল দেশ। যেখানে প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তার পরিমাণ নাই বলাই নিরাপদ। এইমাপের যাত্রীবাহী বাস বা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ধারণের ক্ষমতা সড়ক-মহাসড়কের নেই। তবে প্রয়োজনের তুলনায় যানবাহনের পরিমাণ ঠিক আছে। সমস্যা রাস্তার পরিমাণ নিয়ে। ফেরিঘাটের কথা বাদই দিলাম। সর্বসাকুল্যে, এমন দিন নেই যখন প্রতিযোগিতা দিয়ে ওভাটেকে উল্টে যাচ্ছে না গাড়ি। মরছে না। রাস্তা ব্লক করে ড্রাইভার পেটাচ্ছে না। এই দফায় কয়েকটি দুর্ঘটনায় মহাসড়কে একাধিক মৃত্যু নিজ চোখে দেখলাম। ভাবলাম, এই দেশেও কোটি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের সিস্টেম থাকলে, মালিকেরা অবশ্যই সাবধান হতো। লাশের পিছ্‌ ২০ হাজারের বদলে দায়িত্বহীন মন্ত্রণালয়কেও গুনতে হতো ২০ লাখের বেশি।
মূল সমস্যা, প্রফিট। পণ্য চলাচলে অন্যকিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফলে ৩৫ কিলোমিটার গতিপথে ৮৫ কিলোমিটার কোন ব্যাপারই নয়। এই ধ্বংসযজ্ঞে যাদেরকে পিষে ফেলছে, অধিকাংশই অধরা। অপরাধগুলো সেখানেই শেষ। তার উপর অনির্বাচিত মন্ত্রী শাহজাহান খান আবার পরিবহণ সংগঠনেরেও নেতা। যিনি “গরু-ছাগলের চি‎হ্ন চিনলেই লাইসেন্স” দেওয়ার কথা বলে চালকদেরকে আরো বেশি বেপরোয়া বানিয়ে ছাড়লেন। বলছি, একাই তিনি গোদের উপর ১০০ টনের বিষফোঁড়া। তার কথা সঠিক হলে, দ্রুত পণ্য পৌঁছানোই আসল। পণ্যের সঙ্গে আসে প্রফিট। এটাই রাজিবদের দুর্ভাগ্য। এমন ঘটনা থামার কারণ নেই। কারণ, “মহাসড়ক মানেই প্রফিট।”
তদারকির জন্য মহাসচিবের সময় কোথায়? ঠিকানাই বা কী? আছে। তাকে প্রায়ই মিডিয়ায় দেখা যায় সিনেমার শূটিং-এর মতো পুরো ইউনিট নিয়ে রাস্তায়। যেন নায়ক সাবিক খান আর নায়িকা শাবনূরের শূটিং এগুলো। মানুষ কী ভাবলো, সোস্যাল মিডিয়া দেখলে ঠিকই টের পেতেন। সত্যই এরা জ্ঞানহীন এবং লজ্জাহীন।
ঠিক ধরেছেন। আমি নায়কসুলভ ওবায়দুল কাদেরের কথাই বলছি। একদা দেখে মনে হয়েছিলো, তিনি যেন পাশের বাড়ির একজন কাদের ভাই। বরং সুরঞ্জিতদাকে দেখে সেদিন কিছুটা রাজনীতিবিদ বলে মনে হয়েছিলো। ওবায়দুল কাদেরের বেশভূষাও ছিলো অতি সাধারণ। আজকের সড়ক মন্ত্রীর মধ্যে যার সলিল সমাধি হয়েছে। হবে না কেন? এতো ক্ষমতা রাখার জায়গা কোথায়?
এবার আসি প্রাক্তন মহাসচিবের কথায়। আশরাফুল ইসলামের কর্মকাণ্ডে নিঃসন্দেহে হতাশ ছিলেন হাইকমান্ড। কারণ তিনি ভালগারিজমে কাচা। গালিগালাজে কাচা মহাসচিবকে বিদায় করতে আদাজল খেয়ে লেগেছিলো। তার উপর চীনপনি’ হওয়ায় ভারতীয়দের রোষানলে। নিতান্তই ভদ্র এবং ঐতিহ্যবাহি পরিবারের হওয়ায়, কপাল পুড়েছে। “সাদা স্যান্ডউইচ আর বিলাতি মদের” চেয়ে বেশি বলাতে পারেননি হাইকমান্ড। আশরাফুল ইসলামের মতো ব্যক্তিত্বদের মেরুদণ্ডের হাড়গুলো দলের পছন্দের তুলনায় একটু বেশিই খাড়া। তার উপর তিনি “সৎ।” আওয়ামী লীগে সৎ মানুষের জায়গা নেই। ক্যামেরার সামনেও বারবার বেসম খেতে দেখেছি। ভালগারিজম ডেলিভারির সময়ে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থেকেছেন। মনে হতো, নর্দমায় কী ভীষণ অরুচি! হয়তো ওয়ার্নিং-এর পরেও শোধরাননি। তাই তাকে শান্ত্বনামূলক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে অদৃশ্য করা। প্রাক্তন মহাসচিবকে যারা চেনেন, জানেন, পদে থাকার জন্য কখনই ওবায়দুল কাদের হবেন না। ৯ বছরে এই একটাই ভালো দৃষ্টান্ত। আমরাও দেখলাম, কোন ধরণের মহাসচিব পছন্দ তার। চাহিদার উচ্চতা, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ। এটাই কাদেরভাইয়ের একমাত্র সাকসেস।
ভুলে গেলে চলবে না এই লোকটাই কিন্তু হাইকমান্ডের ঘুষ খাওয়ার ধারাবিবরণী দিয়েছিলেন ১/১১এর রিমান্ডে, যা এখনো নেটে। তবে তার বাচনভঙ্গি এবং মুখভঙ্গি বরাবরই এতোটাই লজ্জাজনক এবং কৌতুকময়, তাকে নিয়ে দারুণ রসিক সোস্যাল মিডিয়া। বিষয়টি হয়তো তিনি জানেন কিংবা জানলেও ডেমকেয়ার। যেকোন মূল্যে ক্ষমতা চাই। ক্ষমতাই যাদু।


এমনকি পাশ্ববর্তী দেশেও যে উদাহরণ নেই। অমিত শাহ্‌ প্রধানমন্ত্রী নন। মোদিও দলের প্রধান নন।
অবৈধ সরকারের প্রতিটি মন্ত্রীরই পদত্যাগ চাই কিন্তু করবেন না জানি। কারণ তাদের চোখে ক্ষমতা হচ্ছে জোকের মতো লেগে থাকার বস্থ। যখন লিখছি, তখনও পা ছিঁড়ে যাওয়া এবং রাস্তায় লাশের খবর। সারসংক্ষেপে, “ওবায়দুল কাদেরের উচিত অন্তত একটি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মানুষ বাঁচানো।” কারণ সকলেই জানে, সড়ক মন্ত্রণালয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়। আর সেই লোকটাই যখন মহাসচিবের মহাদায়িত্বে, তার পক্ষে কী সম্ভব সড়কে মনোযোগ দেয়া?
অতি তুচ্ছ কারণে পদত্যাগ করেন বিদেশের মন্ত্রীরা। এমন উদাহরণ ভুড়িভুড়ি। অথচ আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়েও মন্ত্রীত্বের পায়ে কামড় দিয়ে পড়ে থাকার দৃষ্টান্ত আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোথায়? এই দৃষ্টান্তের মৃত্যু হোক। যদিও পদত্যাগের দাবিটি শুধুমাত্র ‘কাদেরের’ বেলায় সীমাবদ্ধ নয়। ক্ষমতার খায়েশের সঙ্গে অন্যের মৃত্যুর শর্ত জুড়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমরা। সাগর-রুনি প্রমাণ করেছে, ক্ষমতাসীনদের কাছে যেভাবে দল আগে, দেশ পরে। সাগর-রুনি আন্দোলনের নেতা ‘ইকবাল সোবহান চৌধুরী’ যা করেছেন, সেসব মনে করাও লজ্জা।
রাজনীতিবিদদের এতো ক্ষমতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই হবে। প্রতিটি জীবনই সমান মূল্যবান। মৃত্যুর কাছে ধনী-গরিব বলে কোন শ্রেণিবৈষম্য কখনোই ছিলো, এখনো নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। সকলেই জানে, কফিন ও কাফনের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ এবং মূল্য।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
১৭ মে ২০১৮ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)