অফসোর ব্যাংক, কেনেডিতে বিমান বাংলাদেশ বনাম স্যাটেলাইট

June 2, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


১) দুই লাখ কোটি টাকা চুরি। ২) স্যাটেলাইটের মালিকানা দুই ব্যক্তির হাতে।
পরিচয় গোপন রেখে, যাদের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্রাইম এন্টারপ্রাইজের দিকে ইঙ্গিত করলেন, আশাবাদিখ্যাত মহাসচিব। প্রয়োজনীয় সমালোচনাগুলো ৫ জানুয়ারির আগেই বেশি বেশি ঝেড়ে কাশলে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হতো। কবিগুরু যথার্থই বলেছেন, “কোনকিছুই না বলে অনেক কথাই বলা যায়। ফকরুলরা অতিমাত্রায় অন্যের করুণার উপর নির্ভরশীল হওয়ায়, বিএনপি প্রায় নির্বংশের পথে।” আজব্দি আমার অনুমান খুব কমই ভুল হয়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুই ব্যক্তির অসীম ক্ষমতা এবং বিশাল পোর্টফলিও তাদেরকে করেছে বিশ্বখ্যাত। এমন কোন দুর্নীতি নেই যার প্রমাণ দেননি কিন্তু তারপরেও সর্বস্তরের মানুষ তাদেরকে পুঁজা করতে বাধ্য। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গই তাদের দাপটে অসি’র। অধিকাংশ সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবিরাই ডরায়। প্রশ্ন, কেনেডিতে বিমান বাংলাদেশ নাকি স্যাটেলাইট, কোনটা গুরুত্বপূর্ণ?
ক্রিমিনাল এণ্টারপ্রাইজের সর্বশেষ সংযোজনটি, ব্যক্তিদ্বয়ের সর্বশেষ টাকশাল। পোস্টারে পৃথিবীর ছবির উপর দুইপাখা বিশিষ্ট মহাকাশযানের উপর পারিবারিক প্রচারণা যেন ব্যর্থতার পর ব্যর্থতা এড়াতে জাতির সঙ্গে ভয়ংকর প্রতারণা! অথচ ৫৬টি দেশের ৫ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট আকাশে। ১৯৫৭ সনে স্পুটনিক-১ নামের প্রথম স্যাটেলাইটটি পাঠায় রাশিয়া। তাহলে কেন হৈচৈ? জাতিয় নির্বাচনের আগেই আকাশে উড়াতে যতো ধ্বস্তাধ্বস্তি এবং বারবার বিকলাঙ্গ হওয়ায়, যন্ত্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অসম্ভব শংকিত। কারণ, পদ্মাসেতুর বেলায়ও বছরের পর বছর ব্যর্থতা। কেউ জানে না শেষ পর্যন্ত পদ্মাসেতুর গন্তব্য কোথায়!!!
প্রশ্ন, স্যাটেলাইটের মালিকানা দুই ব্যক্তির হলে, এরা কারা? টাকার উৎস এবং ডেস্টিনেশন? কোষাকারের সঙ্গে ব্যক্তিদ্বয়ের সম্পর্ক? কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট? প্রকল্পের নামে লাখ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের নেপথ্যে? ক্রিমিনাল এণ্টারপ্রাইজের আওতায়, কাদের ভরণপোষণ?


বরাবরই আমি বক্র চিন্তার মানুষ। এবার সাংবাদিক, শিক্ষক, সাধারণ মানুষসহ শহরের ৫ জনকে কয়েকটি প্রশ্ন করলাম। একটি প্রশ্ন- ৬ মাস আগেও ১ ডলারে ৮২ কিন্তু এখন ৮৫। টাকার মূল্য বাড়লো না কমলো? তাদের যুক্তি, ৮৫ টাকা মানেই আগের চেয়ে ৩ টাকা বেশি। বললাম, আগে যা ৮২ টাকা দিয়ে কিনতেন, এখন সেটা ৮৫ টাকা। এর মানে টাকার মূল্য কমলো।
এটাই যখন গড়পরতা বুদ্ধির সূচক, সকল আবর্জনাই খাওয়ানো সম্ভব। ৯ বছর ধরে সেটাই হচ্ছে। লাখ লাখ কোটি টাকার ব্যাংক ডাকাতি বা হাজার হাজার কোটি টাকার দেউলিয়া ঘোষণার অজানা উত্তর এগুলো। ফকরুলরা একটু ঝেড়ে কাশলে, এভাবে নির্বংশ করতে পারতো না।
বারবার আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রমাণ দিয়েছে- পদ্মাসেতু, সুন্দরবন, ট্রানজিট, সাবমেরিন, পারমাণবিক প্রকল্প, মেট্রোরেল, স্যাটেলাইট…। প্রতিটি ঘটনার পরেই ব্যাপক লুটপাটের খবর কয়েকটি মিডিয়ায়। কিছুদিন হৈচৈ, তারপরেই শেষ। কারণ, এদের ক্ষমতার কাছে, সকলেই পরাজিত। সুতরাং স্যাটেলাইটের প্রকৃত মূল্য বনাম কতো শত কোটি টাকা খর্চ দেখালো, ওরা ছাড়া কেউই জানবো না।
বিশেষ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি, “কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের” সুস্পষ্ট প্রমাণ। অর্গানাইজড ক্রাইমের ভূস্বর্গ এই মন্ত্রণালয়। অতীতে একজন মন্ত্রী, অমুক ব্যক্তির মাসিক ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার তুলে নেওয়ার খবর ফাঁস করলে, কপাল পুড়লো মন্ত্রীর। সেই পারিবারিক উপদেষ্টাই এখন ভয়ংকর শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক লবিস্টদেরও প্রিয়মুখ। স্যাটেলাইটের খর্চ সম্পর্কে যা বললেন, ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তির কাগজ না দেখালে, কারোই বিশ্বাস করা উচিত নয়। নাসাতে গিয়ে উন্নতির ঢাক পেটানো কিংবা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ভাড়া করে বারবার “মহীশাশূর” ব্যক্তিত্বের আরেক উপদেষ্টার ফালতু প্রচার বুঝি। এরাই কিন্তু আন্ডারওয়ার্ল্ডের দালালও। প্রশ্ন, গরিবের ঘাম ঝরানো টাকা দিয়ে উন্নতির নামে কী করছে? কোটি কোটি টাকার পোস্টার বাণিজ্যের বেনিফিশিয়ারি কারা!
ক্ষমতাসীনরা কথায় কথায় আমেরিকার তুলনা দেন। সর্বশেষ উদাহরণ, নাসিম জানতে চেয়েছেন, আমেরিকাতে নির্বাচনের আগে সরকার পদত্যাগ করে কিনা! ‘করে না।’ কিন্তু উন্নতির নামে এইসব নোংরামো দেখাতে পারবে কী? অথচ বিশেষ ব্রান্ডের কোট পরা ওবামার একটি ছবি টাইমস স্কয়ারে লাগানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউজের নির্দেশে নামিয়ে ফেলতে হলো। নিউইয়র্কের দুটি বড় এয়ারপোর্টের মাঝখানে থাকি। আমার ডাইনে মাত্র ১২ মিনিট দূরত্বে কেনেডি। বামে ২০ মিনিট দূরত্বে লাগার্ডিয়া এয়ারপোর্ট। প্রাক্তন ভাইসপ্রেসিডেন্ট ‘বাইডেন’ লাগার্ডিয়ার অবস্থা দেখে অসন’ষ্ট হলে, ৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেন। আধুনিকায়নসহ দুটি এয়ারপোর্টের মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপনের অভূতপূর্ব উন্নতি মাত্র দেড় বছরে। যে উন্নতির কোন দাবিদার নাই। থাকবেও না।
আন্ডারওয়ার্ল্ড বসদের প্রতিহত করতে আমরা কী করছি? উল্টা এদের সমর্থনে সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবিদের হাতে রক্তের প্রমাণ।
এছাড়াও মাত্র ৪ ঘণ্টা দূরত্বে দুবাই এখন গোটা পৃথিবীর ডেস্টিনেশন। বুর্জ খলিফা এবং এমিরাটস এয়ারলাইন্সের মতো অভূতপূর্ব উন্নতির পেছনে শেখ পরিবার। কাকতালীয় হলেও দুই দেশেই শেখ পরিবারের পারিবারিক শাসন। এমিরাটস এয়ারলাইন্সের জন্ম মাত্র ১৯৮৬ সনে। কতো অল্প সময়ে সারা পৃথিবীকে জোরা লাগিয়েছে। ৪০ বছরেও ডলারের বিনিময়ে কারেন্সি একচুল নড়েনি। কোথায় এসবের প্রচারণা! জানি না, ঢাকা এয়ারপোর্টে নেমে বিদেশিদের কী ধারণা হয়! পোস্টারে টাইলস লাগানো, সিলিং মেরামতের প্রচার, কোন বিজ্ঞাপন কোম্পানির হলেই ভালো। এরপর দেশের ভাবমূর্তি শেষ।


মৌলিক প্রশ্নটি ছিলো, দুর্নীতির টাকার ডেস্টিনেশন। যদিও চুক্তিগুলো হওয়ার কথা প্রকাশ্যে কিন্তু প্রতিটি চুক্তিই হয় দায়মুক্তিসহ গোপনে। পরিকল্পনা কমিশনের দেয়ালজুড়ে পারিবারিক পোস্টারগুলো কিন্তু গোপন আন্ডারওয়ার্ল্ডের কথাই বলছে। ২০১৩ সনে লিখেছিলাম ১ বিলিয়ন ডলারের হ্যান্ডশেকের বিস্তারিত। এখন সেটা ১৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত, ফ্রান্স, আমেরিকা, নেদারল্যান্ড, চীন, ব্রিটেন, রাশিয়া… দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ করে, বিদেশিদের উন্নতি করছেন হাইকমান্ড। ফকরুলের অভিযোগ, ৯ বছরে ২ লাখ কোটি টাকা চুরি। পাবলিকের ধারণা, টাকার অংক বেশি। যা লক্ষ্যণীয়, যারাই ৫ জানুয়ারির বিরুদ্ধে ছিলো, প্রত্যেকেই বাণিজ্য পেয়ে মুখে ঠুলি সেঁটেছে।
কারণ, উন্নত দেশের সরকারগুলোর নির্ভরতা বহুজাতিক কোম্পানির হাতে। ওদের প্রফিটের আরেক নাম- অর্গানাইজড ক্রাইম। কর্পোরেট পৃথিবীর এই শকুনেরাই আমাদের নির্বাচনের পথের কাঁটা। প্রতিযোগিতা দিয়ে ঋণ দিচ্ছে। আবার সুদে-আসলে লুটছে। বিনিময়ে অবৈধ সরকারকেই সমর্থন। অন্যথায় খালেদার ঘটনায় প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো নিরব কেন? যদিও অতীতে শুধুমাত্র রাশিয়া, ভারত, ভূটান ছাড়া কেউই অবৈধ সরকারকে সমর্থন করেনি। এখন করছে। আশাবাদিখ্যাত ফকরুলরা এখনো সাবালক না হলে, পরিপূর্ণ নির্বংশ হবে বিএনপি।
বহুবার লিখেছি, প্রতিবছরই বাজেটের আকার এবং ঘাটতি বাড়ানোর কারণ অন্য কোথাও। শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে যে বাজেটের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। থাকলে প্রতিবছরই লাখ লাখ বেকার যোগ হতো না। “মুখের কথায় মাথাপিছু আয় এবং প্রবৃদ্ধির দাবির তলে ভয়ংকর আন্ডাওয়ার্ল্ডের ঠিকানা।” যে আকারের ঋণ সংগ্রহ, শোধরাবার ক্ষমতা কোথায়? ফলে বিশেষ করে আফ্রিকান দেশগুলোর মতো, অগনিতকালের জন্য কর্পোরেট পৃথিবীর হাতে জিম্মি হয়ে গেলো বাংলাদেশ। এতে দুই উপদেষ্টার পোয়াবারো।


প্রশ্ন, কেন স্যাটেলাইট? কেন কেনেডিতে বিমান নয়? কোনটার প্রয়োজন বেশি? উন্নতির সূচক কোনটা? রেমিটেন্স যোগানদাতাদের প্রত্যাশা কোনটা? প্রতিবছরই আমেরিকাতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা কেন চলে যাচ্ছে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের হাতে?
কেনেডিতে একটি বিমানের আশায় ৯ বছর পার করলাম। স্যাটেলাইটও এলো। সাবমেরিন্তকাড়িকাড়ি অস্ত্র এলো। সুন্দরবন, বহুদলীয় সংসদ…. গেলো। অথচ ৯ বছর পরেও কেনেডিতে বিমান নামলো না? হলে, কতো বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো! এমিরাটস একাই নিচ্ছে যাচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। ৯টি সেপ্টেম্বর এলো আর গেলো। প্রতিবছরই জাতিসংঘে সফরসঙ্গীর সংখ্যাও বাড়লো। ৩ লাখ ডলারের নাগরিক সম্বর্ধনায় প্রতিবছরই শুনলাম, বিমান আসছে। কিন্তু কেউ কী কেনেডিতে ‘বিমান বাংলাদেশ’ দেখেছেন? “এই একটি উদাহরণই, ভূয়া উন্নতির কেন্দ্রিয় ব্যাংক।” একটি উদাহরণই, পরিবর্তনের পক্ষে প্রয়োজনের চেয়ে বেশিই প্রমাণ।
বাস্তব যে, খালেদাই কেনেডিতে বিমান নামিয়েছিলেন। কেনেডিতে ঢোকার পথে বড় সাইনবোর্ডে লেখা থাকতো ‘বাংলাদেশ বিমান।’ ভারত-পাকিস্তানের থাকলেও, আমাদেরটা উধাও। উল্টা বিমান মন্ত্রণালয়টি হয়েছে, নিরাপদে গরিবের টাকা লুণ্ঠনের এণ্টারপ্রাইজ। ১৫ বছর স্যাটেলাইট চলার বদলে, কেনেডিতে ১৫ বছর বিমান চললে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের হিসাব কার? এসব প্রশ্ন যারা তুলবে, উত্তর কোরিয়ার মতো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দিয়ে সবাইকেই কিনে ফেলেছে। এণ্টারপ্রাইজের বৈশিষ্ট্যই তাই। নাসাতে নিয়ে হৈচৈ করানোর কারণও তাই। দলবাজ প্রবাসীদের অনেকেই কিন্তু নানান প্রকল্পের বেনিফিশিয়ারিও।


প্রশ্ন, অগণিত টাকার গন্তব্যস্থল এবং যেভাবে যাচ্ছে টাকার ফ্লাইট। তারল্য সংকটের নেপথ্যে যা! অর্থসন্ত্রাসীদের বিচার না হওয়ার কারণ! স্যাটেলাইটের ফাঁকে ভারতের সঙ্গে নতুন ৫টি প্রতিরক্ষা চুক্তি…! প্রতিটি ঘটনায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের ঠিকানা।
বিষয়টি জানতে হলে, বিভিন্ন অফসোর একাউন্ট বুঝতে হবে। নাওয়াজ শরীফকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দেওয়ার পরেই, ‘পানামা পেপার্স’ নামটি বিখ্যাত হলো। ব্রিটেনের রাণী, সোনিয়া গান্ধি, ডেভিড ক্যামেরুন, অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই, প্রিন্স মুসা… বিখ্যাত-কুখ্যাত অনেকের নাম পেপারে।
বিষয়টি এইরকম। সাম্রাজ্য সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষায় যে পদক্ষেপ নিলো ব্রিটিশ, সেটাই অফসোর একাউন্ট। কর্পোরেট পৃথিবীর অর্ধেক টাকার গন্তব্যস্থল। প্রায় ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে অর্ধেকের মালিকই ১০০টি পরিবার। এছাড়া উন্নত বিশ্ব চলতে পারতো না। এপেল-গুগলের মতো বহুজাতিক কোম্পানি ছাড়াও মাফিয়া গোষ্ঠি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী… হরেক রকমের অর্থের গন্তব্যস্থল। একাউন্টের কোন তথ্যই প্রকাশ না করার কঠোর আইন, ব্রিটিশের পর আমেরিকারও। ব্রিটিশের আইল্যান্ড ন্যাশানগুলোর অন্যতম- বারমুডা, ভার্জিন আইল্যান্ড, ক্যামেন আইল্যান্ড…। সুইজারল্যান্ড একাই প্রায় ৩৫ ভাগ অবৈধ টাকার ভূস্বর্গ। পানামা, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, নেভিস… কয়েক গজ দূরে দূরে মুদিখানার মতো অফসোর ব্যাংক। “শর্ত পূরণ করলেই গোপন একাউন্ট এবং গ্লোবাল কানেকশনের অবারিত সুযোগ।”
অতিসামপ্রতিকালে ক্যামেন আইল্যান্ডে সুইস ব্যাংকের এক কর্মচারীর সঙ্গে উইকিলিক্সের গোপন যোগাযোগ হলে, রাণীর নামও বেরিয়ে আসে। যে কর্মচারী এসব তথ্য ফাঁস করেছিলো, বর্তমানে জেলে। কারণ, অফসোর একাউন্ট আইনে অবৈধভাবে বৈধ করা টাকার বিরুদ্ধে কোনকিছুই ফাঁস করা বেআইনী। এই কারণেই কয়েক লাখ অফসোর একাউন্টের খবর কেউই জানবে না।
উদাহরণস্বরূপ, নাইজেরিয়ার বাজেট ঘাটতি ১৭০ বিলিয়ন ডলার। অথচ অফসোর একাউন্টে জমা ১ ট্রিলিয়নের বেশি! কীভাবে? ক্যামেন আইল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র ৬০ হাজার। অফসোর ব্যাংক ডিপোজিট ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি! গোপন টাকা প্রথমে ছোট ব্যাংকে জমা হয়। পরবর্তীতে চলে যায় পশ্চিমের বড় ব্যাংকে। সেই টাকায় বিনিয়োগের ভূস্বর্গ। প্রয়োজনে কালো টাকা সাদা করে দেশেও ফিরিয়ে আনে। যেভাবে ধরা খেলেন, সোনিয়া গান্ধি। অবসরে যাওয়ার পর, অধিকাংশ পশ্চিমা রাজনীতিবিদরাই কনসালটিং ফার্মে চাকরি নেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে এদেরকে কিনে নেয় ওয়াশিংটনের লবি ফার্ম। ৯ বছরে যাদের কাছে বাংলাদেশ একটি সুপরিচিত নাম। ভাবমূর্তিতেও চকমকা।
পুঁজিবাজার, হলমার্ক, ডেস্টিনি, বাচ্চু, মখা, আতিউর… মুখোশের তলেও মুখোশ আছে। মুখোশ যতোই শক্তিশালী হোক, এণ্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে এখনো সতর্ক না হলে, যেটুকু আছে সব খেয়ে ফেলবে।
“এই বিশ্লেষণ ভুল হলে, এতোগুলো ব্যাংকের ভরাডুবির পর, ফার্মাস ব্যাংকেরও এই অবস্থা কেন?” টাকাগুলো নিশ্চয়ই কোথাও গেছে। “মুহিত সেটা জানেন না, বলা যাবে না।” কারণ, তারপরেও নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দিচ্ছেন। “এতো তারল্য সংকটের পরেও বাজেটের আকার এবং ঘাটতি বাড়িয়ে নিশ্চয়ই কারো পকেট ভরছেন।” নাওয়াজ শরীফের মতো একটি তদন্ত করলেই বের হতো, অফসোর একাউন্টে যাদের নাম! প্রবাসের কেরানীগঞ্জে, বেগমগঞ্জে বিনিয়োগ যাদের! একটা তদন্তে হাত দিলেই, কেঁচো খুড়তে সাপ। উন্নতির বাগাড়ম্বরে ব্রেইনওয়াশ না হয়ে, এগুলোই আসল কর্ম।
নেটে অফসোর তথ্য ভুড়িভুড়ি। উদাহরণস্বরূপ, “স্পাইডার ওয়েব, ব্রিটেন্স সেকেন্ড এম্পায়ার” নামের তথ্যচিত্রটি। অধিকারবলে যেভাবে মাকড়সার জালের মতো অফসোর একাউন্টের সুবিধা দিয়ে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করছে পশ্চিমারা। তথ্যচিত্রে রয়েছে, এদের কারণেই অনুন্নত দেশগুলো বছরের পর বছর পেছনে পড়ে আছে।
সুতরাং আমি নিশ্চিত, অফসোর একাউন্টগুলোই অধিকাংশ তারল্য সংকটের কারণ।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
৩০ মে ২০১৮ নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)