গণতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশ

June 8, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


একমাত্র নির্বাচন ছাড়া অন্য কোন ক্রাইসিস বাংলাদেশে নাই। তবে এই ১টা ক্রাইসিস থেকেই কোটি কোটি ক্রাইসিসের জন্ম। এজন্য দায়ী দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদেরকে চি‎িহ্নত করাই লেখাটির উদ্দেশ্য। মোদিমুক্ত ভারত বা কংগ্রেসমুক্ত ভারতের কথা বহু শুনেছি। কিন্তু শান্তিনিকেতনে পুরোপুরি গণতন্ত্রমুক্ত হয়ে গেলো বাংলাদেশ! এজন্য কবিগুরুর নিকেতনকে জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিল বলাই উচিত। বোলপুর থেকে ফিরে সাংবাদিক সম্মেলনে যা শোনালেন, কাউকেই না জানিয়ে, উজার করে দেয়ার প্রমাণ। প্রতিদানে ক্ষমতায় না রাখলে, পূব-পশ্চিম দুইদিক থেকেই পাকিস্থানের সঙ্গে ঘর করার হুমকি মোদিকে। সত্যিই তার রাজনীতির আগামাথা হিসাব করার বুদ্ধি ১৬ কোটির মধ্যে একজনেরও নাই।
শান্তিনিকেতনে এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ২০১৮এর নির্বাচন বেচাকেনার ষড়যন্ত্র ফাঁস করে আনন্দবাজার ১ম পৃষ্ঠায় লিখেছে, “হাসিনা প্রতিদান চান মোদির কাছে।” কিসের প্রতিদান? সেটা দিতে হলে, কুখ্যাত ৫ জানুয়ারির মতো আবারো ভোটচুরির করে ক্ষমতার ব্যবস্থা করে দিতে হবে মোদিকেই। হাইকমান্ডের সুবিধা, মোদি রাজী না হলে, চীন তো হা করে বসে আছে। এভাবেই শান্তিনিকেতনে পুরোপুরি স্বৈরাচার যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। আসছে আরেকটা সিসিমার্কা নির্বাচন।
তাবেদার সরকার এর নাম দিয়েছে- ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’। মানুষও বিশ্বাস করছে, তাকেই বারবার ক্ষমতায় রাখলে কয়েকদিন পরেই মালয়েশিয়া হয়ে যাবে। মাহাথির, লি কুয়াংরা যা পারেননি, ওমুক সনে ইউরোপকেও হার মানাবে। স্যাটেলাইট পাঠিয়ে মহাশূন্যের দ্রাঘিমাংশের জমি কেনার গল্প খুব ভালো কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতে মর্ত্যের রাস্থাঘাটের যে নিদারুণ অবস্থা, মানুষ জানতে চায়, একনেকে বরাদ্দ করে, ঘাটতি বাজেট দেখিয়ে, তারল্য সংকটের কথা শুনিয়ে, লাখ লাখ কোটি টাকা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ?
মার্ক টোয়েন এর সহজ ব্যাখ্যা করেছেন- “কাউকে ভুল বোঝানো হয়েছে, এটা বিশ্বাস করানোর চেয়ে ভুল বোঝানোই সহজ।” অর্থাৎ ৫০ জন ছাত্রকে শেরেবাংলার নাম শুনেছে কিনা জিজ্ঞেস করলে, একটি হাতও উঠবে না। কিন্তু দাউদ ইব্রাহিমের কথা জিজ্ঞেস করলে, ১৫০টি হাত একসঙ্গে উঠবে।
প্রশ্ন, গণতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশ কায়েমের জন্য ভারত কী একাই দায়ী?
আমাদের নির্বাচন যাদের হাতে, ওয়াশিংটন-টু-দিল্লি, আত্মজীবনীতে ষড়যন্ত্রের কিছুটা লিখেছেন প্রণব। অন্যথায় ৫ জানুয়ারি হলো কেন? বিষয়টি এইরকম, “স্বৈরাচার আসাদকে যেভাবে ক্ষমতায় রেখেছে পুঁজিবাদিরা, গণতন্ত্রের মুখোশ পরিয়ে তারচেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে হাইকমান্ডকে।” যে কারণে মো: মুরসি আউট, সিসি ইন। যে কারণে ৯৬তে ৩ মাসও টিকতে পারেননি খালেদা। এর কারণ, “ভারতের নেতৃত্বে এক ব্যক্তিকেই বেছে নিয়েছে পুঁজিবাদিরা।” গণতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যে গরিবের ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় করে, ‘ডিলিট’ আয়োজন যেন রাজনীতি থেকে খালেদাকে স্থায়ী ডিলিটের বার্তা।
আমার ধারণা খুব কমই ভুল হয়। ২০১৮এর নির্বাচন শুধুই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানিকতা। সক্রেটিস কাদেরের উচিত, মরা বিএনপিকে নিয়ে ঝামেলা করার বদলে শপথ গ্রহণের মোরগ-পোলাউ ঠিকঠাক করা। পরিমাণমত লবণ কিনে বাবুর্চিকে দেয়া। কারণ, হাইকমান্ডের পদত্যাগ সাপেক্ষে নির্বাচন আর ইস্রায়েল-প্যালেস্টাইন ভাইভাই- সমান। প্যালেস্টাইনে ইহজীবনেও শান্তি আসবে না, এদেশেও ভোট দিয়ে নির্বাচন হবে না। হলে লুজার হবে পুঁজিবাদিরাই। এই ঝুকি কিছুতেই নেবে না। অন্যতম দৃষ্টান্ত, “আসাদ-সিসি বনাম গাদ্দাফির ভাগ্য।”
তবে সিসিমার্কা সাংবিধানিক জটিলতাগুলো এখনই দূর করতে হবে। কারণ এক দেশে দুইধরনের রাষ্ট্রনীতি চলতে পারে না। বুদ্ধিমান মুজিব সেজন্যই ৪র্থ সংশোধনী এনেছিলেন।


যেসকল কারণে গণতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশ এখন বাস্থব। সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ বিচারপতি সিনহা বলে দিয়েছেন, দলটি কেন ভোটচোর এবং সংসদ কেন অবৈধ!!! লাখ লাখ পোস্টার ছাপিয়ে যে গণতন্ত্রের প্রচার করছে, ১৬তম সংশোধনীর রায় অনুযায়ী এর কোন অসি-ত্বই আদালতের কাছে নাই বিধায়, প্রতিটি কার্যকলাপই হারাম।
বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ভারতের নির্বাচনের দিকে তাকাতে হবে। ২০১৯এর জাতিয় নির্বাচন নিয়ে সবদলের মধ্যে সাজসাজ রব। আমাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া এইসব খবর দেখায় না। মোদিকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে একতাবদ্ধ নতুন জোটের কয়েকটা উপনির্বাচন এবং ছোট নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি। আগামী নির্বাচন মোদির জন্য অশনিসংকেত হতে পারে। ভোটের বাক্স নিয়ে লীলাখেলা নেই। ইসির চেহারাও কেউ দেখে না। অবশ্যই তাদের গণতন্ত্রে ভাইরাস আছে কিন্তু তারপরেও লোক ও রাজ্যসভায় গণতন্ত্র্ত্র চর্চা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। পাহাড় সমান দুর্নীতির পরেও সংসদে কংগ্রেস।
সামান্য পঞ্চায়েত নির্বাচন কিংবা কর্ণাটকে যা ঘটলো, এগুলোই মৌলিক গণতন্ত্র। এমনকি কর্ণাটকে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে ২ দিনের মাথায় বিদায় করে শপথ নিলো নতুন জোট। অনেকেরই ধারণা, ২০১৯এ মোদির বিরুদ্দে লড়বেন মমতা। এসব বলার কারণ, এরাই আমাদের অগণতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যার শুরু করেছিলেন স্বৈরাচারি ইন্দিরা। পরবর্তীতে পশ্চিমা পুঁজিবাদিরা যার অন্যতম সুবিধাভোগী। সর্বশেষ প্রমাণ, খালেদাকে সলিটারি কনফাইনমেন্টে রেখে হত্যার পরিকল্পনা দেখেও, পশ্চিমারা রহস্যজনকভাবে নিরব। ১/১১এর বেলায় যা ঘটেনি। বরং ওয়াশিংটন, জাতিসংঘ, দিল্লিতে হুলুস্থূল। কোন গণতান্ত্রিক দেশের বিরোধি নেতাকে এভাবে আটকে রাখার ঘটনায়, পশ্চিমারা নিরব থাকবে, ভাবাই যায় না। অথচ এতোগুলো রাষ্ট্রদূত ঢাকায়!!! রাশিয়া-ভেনিজুয়েলা নির্বাচনের বিরুদ্ধে এরাই হৈচৈ করছে। কয়েকটা সরকার পরিবর্তনেরও চেষ্টা চলছে ওয়াশিংটনে।
বার্ণিকাটরা জানেন, গুয়ান্তানামো বে’র সন্ত্রাসীরাও খালেদার চেয়ে ভাগ্যবান। উকিল, মানবাধিকার সংস্থা, চিকিৎসা, খাদ্য, ধর্ম, বিনোদন… সবকিছুতেই অধিকার। কিন্তু একজন বয়ষ্ক, অসুস্থ, তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে যার করছে, সব জেনেও, কোন প্রশ্ন নেই একজন রাষ্ট্রদূতেরও? বরং অবৈধ সরকারকেই তোষণ। সুতরাং দোষ একা ভারতের নয়। এটাই এখন বুঝতে হবে।
খালেদাকে নির্বাচনের আগে বের করবে না বলেই জামিন আটকানোর তামাশা। যখন জামিন হবে, ততোদিনে পুরোপুরি গণতন্ত্রমুক্ত হয়ে যাবে বাংলাদেশ। বিএনপি জোট অপ্রয়োজনীয় হবে। কারণ কর্পোরেটরা চায়, সি’তিশীল বাংলাদেশের স্বার্থে ইরাক-মিসরের মতো সিলেকশন। ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ নিয়ে কথা। এরাই ৬৯এর গণতান্ত্রিক দলটিকে বাধ্য করলো, ব্রিটিশের ডিভাড এণ্ড রুল শাসনে এবং লুজার হলো বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় মরাণ হলো- আওয়ামী লীগ।


গণতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশের প্রথম সূচনা হয়েছিলো ৭১এ। বিষয়টি কখনোই উন্মোচিত না হওয়ার কারণ, জমজের মতো কোমর থেকে জোড়া আওয়ামী লীগ এবং কংগ্রেসের ভাই-ভাই রাজনীতি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই ইন্দিরার কর্মকান্ডে আমার সন্দেহগুলো পরবর্তীতে আরো জোরদার হয়েছে। ৭৪-৭৫এ পৌঁছে মনে হয়েছে, কলোনী বানানোই ৭১এর উদ্দেশ্য ছিলো। পাকিস্থান ভাঙ্গার পরেই, পশ্চিমকে এটাক করতে গেলে, ব্রেজনেভের আপত্তিতে ভেসে- গেছে। কিন্তু তারপরেই সিকিমের লেন্দুপ দর্জিকে দিয়ে যা আদায় করলেন, ইতিহাস সাক্ষি। এরপরেই ভোট চুরি করে ক্ষমতায় গিয়ে ৭৫এ যা ঘটালেন, সেই পাপের বোঝাই টানছে কংগ্রেস। সংসদের ব্রাঘ্য থেকে এখন মুশিকের সিটে। গান্ধি পরিবারটি এই অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠির জন্য অভিশাপ হওয়ার বহু প্রমাণ।
পরবর্তীতে এশিয়ান কিসিঞ্জারখ্যাত প্রণবের ষড়যন্ত্র নিয়ে একমাত্র আমিই লিখছি। আমাদের “নির্বাচনকে কারাগারে পাঠানোর জন্য” দায়ী প্রণবের স্বজনপ্রীতি। এই লোকটাকে যারা চেনে না, তারাই আশাবাদিখ্যাত ফকরুল নামে পরিচিত। অবসরে যাওয়ার পর, ভারতের গণতন্ত্রে ভেজাল ঢোকানোর চেষ্টা। সন্ত্রাসী ‘আরএসএস’-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে চলেছেন বৃদ্ধ প্রণব। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙ্গে কাকা-ভাতিজির কুখ্যাত ‘ইলিশ রাজনীতি’ পৌঁছে দিয়েছেন শান্তিনিকেতনে। ক্ষমতায় কে থাকবে, মোদিকে প্রণবের পরামর্শই শেষ কথা। এটাই ফাঁস করলো আনন্দবাজার। তার ঢাকা সফরের পরেই সব লন্ডভন্ড এবং মোদি আরো বেশি বিএনপি বিমুখ। বিএনপি যে একটি দল, মনেই করেন না মোদি। তবে বিডিআর হত্যাকান্ডের টেলিফোন কথোপকথন প্রকাশ হলেই আসল প্রণবের চেহারা জানা যেতো! এসব বলার কারণ, কংগ্রেসের হাত ধরে গণতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশের রাস্থা অনেক লম্বা।


কংগ্রেস এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শের মূল্যবান একটি প্রমাণ। পারিবারিক শাসনে বিশ্বাসী, এরা অন্য কোন দলকে জায়গা না দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ, কংগ্রেস যা করেছে নেতাজী এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে সেটাই করছে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সনে ধুলিসাৎ না হলে, চৌর্যবৃত্তি চলতেই থাকতো। মোদির সরকার সিক্রেট ফাইলগুলো অবমুক্ত করলে, পৈশাচিক চেহারা ফাঁস হলো। ইতিহাস থেকে নেতাজীকে মুছে ফেলতে কিছুই বাকি রাখেননি নেহেরু পরিবার। সিক্রেট ফাইল প্রকাশের বিরুদ্ধে যারপর নাই যুদ্ধ কংগ্রেসের। কারণ ব্রিটিশের ভারত ত্যাগের মূলে নেহেরু নন, নেতাজীর প্রভাবই আসল। নেতাজীর বীরত্ব লুকাতেই এইসব অপচেষ্টা। সিক্রেট ফাইলগুলোতে প্রমাণ, নেহেরু নন, তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী। এসব বলার কারণ, স্বাধীনতার ঘোষক নিয়েও একই প্রতারণা থেকে বিএনপিমুক্ত বাংলাদেশের শুরু করেছিলো ১৫তম সংশোধনী এনে।
সুতরাং বিজেপির আগমনে আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু তাদের আওয়ামী তোষণ যেন কংগ্রেসের চেয়েও খারাপ। শান্তিনিকেতনে হাসিনার পক্ষে থাকার প্রতিশ্রুতি। তাছাড়া নিরূপায় মোদি। অন্যথায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরানোর দায়িত্ব নিতে হবে। রোহিঙ্গাদেরকে এই দেশে পাঠানোর জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী ভারত। যে কারণে তাবু, পায়খানা, খাবার… দিচ্ছে। আমরাও দেখেছি, ক্রাইসিস চলাকালে সুচির সাথে সাক্ষাৎ করে রোহিঙ্গা খেদাও অভিযানে মোদির অকুণ্ঠ সমর্থন। আরকানে ওয়ানবেল্ট ওয়ের পার্টি তারাও। সুতরাং গণতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশ, কথার কথা নয়। “আমরা লুজার বলেই ১১ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত দেওয়ার বদলে, ঢাকায় বসে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার ব্যবসা খুলেছি। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারও কামাচ্ছি। কোথাও যাচ্ছে না রোহিঙ্গারা। কংগ্রেসের কাটা খালে এখন লাখ লাখ দেশি-বিদেশি কুমিরের ভিড়ের মূলে এবার- বিজেপি।”


সুতরাং আরো ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকুক আওয়ামী লীগ। তারপরেও যেন কুকুরের মতো মানুষ মারা বন্ধ করে। সোকলড যুদ্ধাপরাধ, জিরোটলারেন্সের পর, নির্বাচনের আগে নতুন তামাশা মাদক!!! রোজার মাসে এমন হত্যাকান্ড কী ফিলিসি-নিরাও দেখেছে? রমজানে এই পর্যন্ত বাংলাদেশিদের লাশের সংখ্যা ফিলিসি-নের চেয়ে বেশি। জম্মু-কাশ্মিরেও সিজফায়ারের ডাক। অথচ “বিশ্বের তৃতীয়-বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও, ইস্রায়েলকে পরাজিত করলো আওয়ামী লীগ!!!” আমি এর নাম দিয়েছি, বাংলাদেশি দাউদ ইব্রাহিম ফ্যাক্টর। এইসব নাটকের উদ্দেশ্য, সিসিমার্কা নির্বাচনের আগে বিরোধিশিবিরে ব্যাপক হত্যাকান্ড। এই কাজে পশ্চিমাদের আপত্তি না থাকারও প্রমাণ- রাষ্ট্রদূতদের পিনপতন নিরবতা।
স্কাইপ এবং সিনহার পর, কুখ্যাত তুরিন আফরোজ ঘুষ কেলেংকারী প্রমাণ করলো, গণতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশ একটি সম্মিলিত আয়োজন। কারণ ৯২ দিনের আন্দোলনের পরেই খালেদাকে কার্যত চার দেয়ালের ভেতরে বন্দি করলো ১৮টি দেশের রাষ্ট্রদূত। ফিরোজায় দেখা করে, রাস্থা ছাড়ার হুমকি। না হলে, অন্য ব্যবস্থা। এরপর আর কখনোই রাস্থার আন্দোলনে দেখা যায়নি। এরপরেই নিভে গেলো পল্টনের আলো। ওই রাস্থায় আর কখনোই লাখ লাখ পোস্টার আর গণতন্ত্রকামীদের সমাগম হয়নি। এভাবেই পরিকল্পিতভাবে সংসদকে অকার্যকর করে, দাউদ ইব্রাহিম স্টাইলে চলছে দেশ।
উন্নয়নের নাম এখন তেল-গ্যাস্থসুন্দরবন দখল। ওয়ানবেল্ট ওয়ের ষড়যন্ত্র। ডলারের বিনিময়ে টাকাকে আরো দুর্বল করা। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ইয়াবা এবং অস্ত্রের ব্যবসা। গভীর সমুদ্রবন্দর দখলের প্রতিযোগিতা। প্রায় মূল্যহীন শ্রম বাজারে সর্বোচ্চ শোষণ। অসম বাণ্যিজের অভাবনীয় উত্থান। পুঁজিবাজার-ব্যাংক, একনেক- সর্বত্রই দাউদ ইব্রাহিম ফ্যাক্টর। অফসোরে বিনিয়োগের ভূস্বর্গ। প্রবাসের কেরানিগঞ্জে-বেগমগঞ্জে লুটের টাকায় মিলিয়নিয়ারদের উত্থান… কর্পোরেট পৃথিবীর চেহারা এটা।
“বিএনপি নির্বাচনে না এলে গণতন্ত্রের ধারবাহিকতার ক্ষতি হবে না”- বলেছেন সক্রেটিস কাদের।
এবার তার উদ্দেশ্যে একটি কেস হিস্ট্রি, যার জবাব তাকে দিতেই হবে। নিউইয়র্কে অনির্বাচিত এক মন্ত্রীর পুত্রের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের খবরে তথ্যপ্রমাণসহ হূলুস্থূল সোস্যাল এবং প্রিণ্ট মিডিয়া। ছাত্র হয়ে এতো টাকা কোথায় পেলো, প্রশ্নটি টক-অব-দ্যা টাউন। আওয়ামী কেন্দ্রিক ফেইক মিডিয়া খবরটি ছাপায়নি। অথচ হাস্যষ্কর মামলায়, খালেদার সঙ্গে কিম জং-এর মতো আচরণ। জানি এর কোন জবাব দিতে পারবেন না। যেমন পারবেন না, হাইকমান্ডও। যদিও ভারতকে উজার করে দেয়ার বিনিময়ে ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি পরিষ্কার।
আসল কথা একটাই। সিরিয়ার আসাদের চেয়ে হাইকমান্ডের গদির পজিশন ভালো। গণতন্ত্রের তাবিজ গলায়, নিন্দুকদের রাডারের বাইরে। তবে তিউনিশিয়ার মতো সবাই একসঙ্গে রাস্থায় না নামলে, গণতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশই শেষ কথা।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
০৬ জুন ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)