খালেদার মৃত্যু কী জেলেই?

June 23, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


জিয়ার জানাযায় লাখ লাখ মানুষের ঢল। হাইকমান্ড না হয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের ব্যবসা খুলে বসেছেন কিন্তু লাখ লাখ নেতা-কর্মী থাকতে, রাস্তায় না নেমে ঘরে বসে কী সুখ বিএনপি জোটের? অভিযোগ-অনুরোধ করেই খালেদাকে মুক্ত করতে চায়? পারলে করুক। তবে ২০১৮এর নির্বাচনও ৫ জানুয়ারির মতোই চুরি হবে। সেটা হলে, ৩ মাসও টিকতে পারবে না ভোটচোরেরা। সমস্যা একটাই। “খালেদার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্ভাবনারও মৃত্যু হবে এবং সেটাই নিশ্চিত করছে অবৈধরা।” ভারতে যাক আর চুলায় যাক, আমার প্রশ্ন, বিএনপি কী তাহলে জিয়ার চেয়েও বড় জানাযার স্বপ্ন দেখছে?
জেলেই মারা যাচ্ছেন কিনা, একটি পরিপূর্ণ মানচিত্র আঁকা যাক।
ফামার্স ব্যাংককে ৭২৩ কোটি টাকার ঋণ খেলাপী থেকে আইনের অব্যাহতি (৩০ এপ্রিল, যুগান্তর)। ইয়াবাসম্রাটকে নিরাপদে দেশ ছাড়তে দেয়া। এরপরেও যারা ভয়ানক অসুস্থ খালেদার মৃত্যু গুলাগেই হবে কিনা, প্রশ্ন তোলেন, প্রত্যেকের উচিত মাথার চিকিৎসা করানো।
হ্যাঁ। অপজিশনের বিরুদ্ধে গুলাগ খুলে ক্ষমতায় থাকছে অবৈধরা। গুলাগের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। এটা স্বৈরাচারশ্রেষ্ঠ লেলিনের প্রতিষ্ঠা করা নির্যাতন এবং হত্যাকেন্দ্রের নাম। পরবর্তীতে স্টালিন, হিটলার, পুতিন, জিনপিং, কিম জং-এর মতো স্বৈরশাসকেরা মূলত পলিটিক্যাল অপজিশনদেরকে নির্যাতন এবং হত্যা করতে গুলাগে নিয়ে যায়। একবার ঢুকলে আর কখনোই বের হয় না। ৯ বছর ধরেই গুলাগের অহরহ প্রমাণ মিডিয়ায়। পশ্চিমের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হাতে সেগুলো পৌঁছেছে। কিন্তু তারপরেও বিষয়টি আমলে নেওয়ার বদলে উপেক্ষা করেছে জাতিসংঘসহ সকল মানবাধিকার সংস্থা। এতো প্রমাণ যে, মনে হতেই পারে, যেন আমরাও স্টালিনের যুগে প্রবেশ করেছি।
শিরোনামটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক একটি বাংলা পত্রিকার লিড নিউজ। আরেকটি পত্রিকা, “খালেদা জিয়ার প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র চলছে।” প্রবাসের বাংলা পত্রিকাগুলোতে মৃত্যুর খবরই অধিকতর গুরুত্ব পাচ্ছে কেন? এগুলো কী মানসিকভাবে প্রস্থত করার কৌশল? হতেও পারে। কারণ, ৯ বছর ধরেই প্রবাসীরা অধিকাংশই গুজবমিডিয়ার কবলে। গণতান্ত্রিক দেশে থাকি বলেই সব খবরকেই গুরুত্ব দেই। ফেইকনিউজের পেছনেও উদ্দেশ্য থাকে। হিটলার এবং গুজবমন্ত্রীর বিখ্যাত উক্তি, যথেষ্ট পরিমাণে মিথ্যা বারবারই বলতে থাকলে, সেটাই সত্য বলে বিশ্বাস করবে।
অনেকেই বলবেন, খালেদাকে নিয়ে আমার এতো মাথাব্যথা কারণ! কেন নয়? নিজেও নারী। তাই নারী উন্নয়নের নামে একজন অসুস্থ, বয়ষ্ক, স্বজনহারা নারীর উপর যে পরিমাণ নির্যাতন চালিয়েছে অবৈধরা, এরপর শত্রুও চুপ থাকবে না। ৩৭ বছর সর্বোচ্চ গণতন্ত্রের দেশে বাস করে শিখেছি, গণতান্ত্রিক অধিকারহীন জীবনের চেয়ে মৃত্যুই উত্তম। পশুর মতো বাঁচতে চাইলে, সেই অধিকারও ব্যক্তির আছে। তবে আজব্দি খালেদাই একমাত্র পরীক্ষিত নেতা যিনি, ঘটি-বাটি-উন্নয়ন-লোটকম্বল কোনটাই নয়। একমাত্র ভোটের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের চর্চা করেছেন। সুতরাং তাকে বাঁচাতে না পারলে, গণতন্ত্র দেখতে মিউজিয়ামে যেতে হবে।
অবশ্যই জিয়া পরিবার ধোয়া তুলসিপাতা নয়। তবে খালেদাই কিন্তু ৯৬তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান এনে, ক্ষমতা হারালেন। ৪র্থ সংশোধনীর কারণে বিলুপ্ত দলটিকে আবারো রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন দলটির ফাউন্ডার। প্রথম থেকেই একব্যক্তির প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে একবারও এ্যাকশনে যাননি। নচ্ছাড় প্রক্রিয়ায় দেশের স্বার্থ বিক্রি করে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রমাণ আজব্দি কেউ দিতে পারেনি। সবচেয়ে বড় কথা, হুমকির মুখেও কখনোই বিদেশে চলে যাননি এবং এই একটি কারণেই তাকে “মাদার অব ডেমোক্রেসি” বলা যায়।
অন্যদিকে আইয়ুব খানের সমপরিমাণ ক্ষমতায় থাকা এরশাদের সঙ্গে ৮৩ সন থেকেই যুক্ত হাইকমান্ড। এখন নাড়িভুড়ির ভেতরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের আশ্রয় ছাড়া সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। নাড়ি কেটে দিলেই ক্ষমতার গর্ভপাত হবে। প্রশ্ন, ৭২এর সংবিধান বিলুপ্ত করে বাকশাল সংবিধান এনেছিলো কারা? বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করে একপক্ষ কিন্তু বাকশালের নাম উচ্চারণ করতে ভয় পায় অন্যপক্ষ। ৬০০ পৃষ্ঠার রায় লিখতে ৬ দিন আর ৬ পৃষ্ঠার রায় লিখতে ৩ মাস। একটি প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়ার সাহস নেই।

আজকের প্রসঙ্গ, মিডিয়ায় খালেদাকে হত্যার ষড়যন্ত্র।
১/১১এর স্বৈরাশাসকরাও মানবিক আচরণ দেখিয়েছেন। ঘোড়ার আস্তাবলের বদলে দুইজনকেই সাবজেলে ভিআইপি ব্যবস্থায় রেখেছেন। চাইলে পশুর মতো রাখতে পারতেন (এখন যেখানে খালেদা)। সবার উপরে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধিদলীয় নেত্রী, বীরউত্তমের স্ত্রী! নারী উন্নয়নের নামে কতো পুরষ্কার আনলো। অথচ একজন নারীকেই যেভাবে নির্যাতন করছে নারী উন্নয়নের ঢাক, এরপর সব গোমড় ফাঁস। তবে তিলে তিলে না মেরে, দ্রুত জীবনাবসান ঘটানোই অধিকতর মানবিক। নারী উন্নয়নের ঢোলবাদকেরা কতোটা বেহায়া, সব বলে দিলেন্ত খালেদা।


কালের পঞ্জিকার এমন এক সন্ধিক্ষণে জন্মেছি, যখন অতি অল্প সময়ে অনেককিছুই দেখে ফেলেছি। এই সুযোগ অন্য কোন মিলিনিয়ামেই ঘটেনি। পশ্চিমাদের তাবেদার সাদ্দাম, গাদ্দাফি, হোসনী মোবারকের পতন দেখেছি। একটা আশ্রয়ের খোঁজে উড়োজাহাজে বসে থাকা ইরানের শাহের অসহায়ত্ব দেখেছি। মাইক্রোসফটের আইপিও দেখেছি। স্টিভ জবস্‌, বিল গেইটস্‌, মার্ক জাকারবার্গের উত্থান দেখেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধার খেতাব ছিনিয়ে নিতে দেখেছি। মুক্তিযোদ্ধার পুরো পরিবারকে ধ্বংস করা দেখেছি। অপছন্দের মিডিয়াসহ বিএনপির জোটকে বিলুপ্ত করাও দেখেছি। “কিন্তু যা কখনোই দেখিনি, মায়ের বয়সী একজন নারীকে এভাবে নির্যাতন করতে দেখেও, গোটা জাতি চুপ থাকে!” দলের নেতাকর্মীরাও এরশাদের আচরণ করে। দলের ব্যারিস্টারেরা সরকারি আমলার মতো কাজ করে। আমি ট্রাম্পের বিতর্কিত নির্বাচন দেখেছি। ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের ইরাক-আফগানিস্তান যুদ্ধ দেখেছি। কিন্তু এমন একটি জাতি কখনোই দেখিনি, যারা গণতন্ত্রের নামে ফ্যাসিবাদীকে হাততালি দেয় এবং ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে।
চিকিৎসা নিয়ে সোকলড প্রশাসনের প্রতিটি বক্তব্যই মিথ্যা। যেসকল হাসপাতালে খালেদা যেতে চান না, সেখানেই নিতে মরিয়া। নিঃসন্দেহে এর পেছনে ভয়ানক ষড়যন্ত্র। একবার পছন্দের হাসপাতালে নিতে পারলেই গুলাগের কর্মকান্ড ফাঁস। নিজ খরচে ইউনাইটেডে চিকিৎসা করানোর জন্য আবেদন জানিয়েছেন খালেদার ভাই। এতেই প্রমাণ, হাইকমান্ড তার মোটিভ পরিষ্কার করেছেন। এরপর ব্রেকিং নিউজের জন্য প্রস্থত থাকতে হবে। সক্রেটিস কাদেররা বলবেন, হায়াত না থাকলে আমরা কী করবো? এরপর সবাই সবকিছু ভুলে যাবে।
৯ বছর ধরে একাই যা করেছেন, ১০০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সেটা করতে পারেনি। বিডিআর হত্যাকান্ড দিয়ে শুরু। মাঝখানে অগণিত লীলাখেলা। ৫ জানুয়ারির মতো অপরাধ করেও ৫ বছরই ক্ষমতায়। সেখানেই শেষ নয়। সংসদ ভেঙ্গে দিতে সর্বোচ্চ বিচারপতির রায় আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকেই দেশছাড়া করে ছাড়লেন হাইকমান্ড। তাকেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় রাখতে দেশ-বিদেশে ‘জিরোটলারেন্সের’যুক্তি বেচাকেনা হচ্ছে। বোঝাচ্ছেন, তার হাতে গণতন্ত্রের লোটাকম্বল অক্ষুণ্ন আছে। প্রণবের পর বোলপুরে নির্বাচনের ফয়সালা শেষ করলেন মোদি। এরপর খালেদাকে বাঁচিয়ে রাখাটা বাড়তি ঝামেলা। আবারো শাহবাগে বাঙালি জাতিয়তাবাদিরা আবারো আসর বসবে। শেষ হবে কালের একটি অধ্যায়।


ষড়যন্ত্রের আরো খবর।
৮ জুন যুগান্তর, “খালেদা জিয়া মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন।”৩ সপ্তাহ ধরে ভীষণ জ্বরে ভুগছেন, যা কোনক্রমেই থামছে না। চিকিৎসা বিদ্যায় যেটিকে বলা হয়, ‘ট্রানজিয়েন্ট স্ক্রিমিক এটাক।’
১২ জুন নয়াদিগন্তে “জীর্নশীর্ণ খালেদা জিয়া” লেখাটি পড়ার পর, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছি। খবরটি যারা পড়েননি, পড়া উচিত। “জীর্নশীর্ণ খালেদা জিয়া, হাতের আঙুলগুলো কালো হয়ে গেছে, পায়ে পানি জমেছে, কারাগারে নির্জন প্রকোষ্ঠে ভালো নেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী…।” ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা দ্রুত ইউনাইডেট হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে একটি ৪ পাতার পরামর্শ দিয়ে এসেছেন। দ্রুত এমআরআই করে, খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ব্রেইন কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটি যেন দেখা হয়। এরপর ৩ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তাকে কোন হাসপাতালে নেয়া হয়নি পরীক্ষার জন্য…। ওজন কমে গেছে, বাম হাত উপরে তুলতে পারছেন না। আগে একটু হাঁটতে পারতেন এখন তাও পারেন না। কথা বলার ভঙ্গি সহজ নয়, মুখে বাঁধে…। এমনিতেই ডায়েবেটিসে আক্রান্ত। হাতের আঙুলগুলো কালো হয়ে গেছে, পা ফুলে গেছে, পায়ে এসেছে পানি। পায়ে চাপ দিলে আঙুল ভেতরে ঢেবে যাচ্ছে। চোখে রয়েছে প্রচণ্ড ব্যাথা। লাল হয়ে গেছে দুইচোখ। সুচিকিৎসা করা না হলে চোখ দুটির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। …বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বেগম জিয়া পড়ে গিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট জ্ঞান হারানোর লক্ষণটি ভালো নয়, সামনে তার জন্য আরো বিপদ। …যেখানে থাকতে দেয়া হয়েছে, ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করে। সারাক্ষণ স্যাঁতসেঁতে অবস্থা বিরাজ করছে। যে পরিবেশ তাতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া মশার আক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে যে কোন সময়।
এই রিপোর্টে সব বলা হয়ে গেছে। তারা চাইছে, কালক্ষেপণ করে ব্যাধিগুলোকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যেখান থেকে বাঁচানো অসম্ভব। উপসর্গের উৎসগুলো ভয়ানক। হতে পারে- হৃদপিন্ড, ফুসফুস, কলিজা, কিডনি, চোখ, মস্তিস্ক… এক বা একাধিক একসঙ্গে বা স্বতন্ত্রভাবে আক্রান্ত। বেঁচে থাকার জন্য যে অর্গানগুলো খুবই ভাইটাল, প্রায় সবগুলোই আক্রান্ত হওয়ার নমুনা। ডায়েবেটিস কী যা-তা? “পড়ে গিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট অজ্ঞান থাকার খবরটি গোপন করায় হত্যার মোটিভ আরো স্পষ্ট হয়েছে।”এমআরআই না করে গুলাগেই রেখে দিয়েছে। মিডিয়ায় ফাঁস না হওয়া পর্যন্ত চকলেট খাওয়ানোর কথাও লুকিয়ে রেখেছিলো।
আদালত বলবে, সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার। এতবড় একটি দল অথচ হত্যার মোটিভ আমলে নিয়ে ব্যতিক্রমী কিছু করার মতো একজনকেও দেখলাম না। জাতিসংঘ থেকে ঢাকা, প্রতিটি মানবাধিকার সংস্থাই চুপ। এরাই আবার মানবাধিকার ভঙ্গের বাৎসরিক রিপোর্ট প্রকাশ করে। অধিকাংশই পুঁজিবাদিদের খয়ের খাঁ। ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূতেরাও খালেদার বিরুদ্ধে বলেই বোঝা যাচ্ছে।


ডায়েবেটিস থেকে অন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা। পায়ে পানি এসেছে, কিন্তু কেন? চিকিৎসাশাস্ত্রে এটা ‘ইডিমা।’ এর মানে, অর্গান ফেইলিওর হওয়ার সম্ভাবনা। হাতের আঙুলগুলো কালো হওয়ার কারণ হয়তো, ডায়েবেটিক গ্যাংরিন। সেটা হলে, পচন রোগ হাড়ের ভেতরে পৌঁছায়। পচণ্ড ব্যাথা হয়। দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করলে, হাড় কেটে ফেলতে হয়। ডায়েবেটিক গ্যাংরিন কোন তামাশা নয়। এরপর ফাঙ্গাস পড়বে। ভেতরের টিস্যুগুলো মরে পচে যাবে। চামড়ার তলে পানি আসবে। সেখান থেকে ফোঁড়ার মতো ফুটে বের হবে পুঁজ-রক্ত-পোকা। এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে ছড়াবে ব্যাধি। সেখান থেকে কিডনি ফেইলিওর, ফুসফুসে পানি, শ্বাসকষ্ট… সবকিছুরই আলামত। তারপরেও চিকিৎসা নিয়ে প্রশাসনের বিশ্বকাপ খেলা?
এই অবস্থা প্রশাসনের অনেকেরই মা-দাদীর বেলায় ঘটেছে বলেই জানেন, টয়লেট করা কতোটা দুরূহ। তার উপরে ভয়ানক মানসিক চাপে বিধ্বস্ত। এক পুত্রকে স্বপরিবারে নির্বাসনে রেখে মানসিক চাপে হত্যা। আরেক পুত্রকে স্বপরিবারে নির্বাসনে। স্বামীকে হত্যা করিয়েছে। বিধবা এবং নিঃসঙ্গ। “একা ফাতেমা কতো করবে?” ন্যূনতম মনুষ্যত্ব থাকলে, কারোই চুপ থাকা উচিত নয়।
হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনগুলো বছরের পর বছর খুন্তিডাকাতদেরকে দখলে থাকার অভিযোগ মিডিয়ায়। অবৈধ মন্ত্রীর ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামাই নাকি ২ বছর একটি ভিআইপি কেবিন দখলে রেখেছিলেন। তার মতো ব্যক্তিত্বকে হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে রাখা যেতো না, একমাত্র আওয়ামী লীগই বিশ্বাস করে। তবে আদালত বন্দির শারীরিক অবস্থা আমলে নেয়। না নিলে কানের চিকিৎসা করতে আমেরিকা যেতে পারতেন না হাইকমান্ড। প্রশ্ন, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে।


একটি অভাবনীয় উদাহরণ। দেশি এক ভিভিআইপির সারা বছরই চোখের সমস্যা। কিন্তু দেশের চিকিৎসায় বিশ্বাস নাই। যদিও এই দেশে স্বনামধন্য বহু চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসা নেয়। বছরে দুইবার গরিবের লাখ লাখ ডলার ধ্বংস করে লটবহরসহ পাল্টাপাল্টি লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরে যান কিনা, মিডিয়াই বলবে। চোখ এবং চেকআপের জন্য যিনি সুস্থ থেকেও প্রয়োজনের বেশি সচেতন, সেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা মানুষটির সুচিকিৎসা নিয়ে প্রশাসনের বদহজমের অভিযোগটি আমি তাকেই করছি। ভিভিআইপির মতো লন্ডন ও সিঙ্গাপুর নয়। খালেদা চাইছেন, দেশেই পছন্দের হাসপাতালে যেতে। এতে সমস্যা কোথায়?
নিউইয়র্ক ভিত্তিক পত্রিকার আরেকটা চাঞ্চল্যকর খবর, “অদম্য সরকার, অনুকম্পা নয়, আধিপত্য বিস্তারে অনড়।”সক্রেটিস কাদেরের বক্তব্যের সঙ্গে যা হুবহু। “যতোদিন শেখ হাসিনা জীবিত থাকবেন, ততোদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়।”

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
২১ জুন ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)