ভোটের শক্তির কাছে ধরাশায়ী ক্রাউলি

July 15, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


৭টি কনিনেন্টে বিভক্ত সত্ত্বেও সবার মৌলিক চাহিদাগুলো অভিন্ন। ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা যার অন্যতম। পৃথিবীতে সাড়ে আট মিলিয়ন জীবের মধ্যে একমাত্র মানুষই সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ মানুষই চিন্তাশক্তির অধিকারী। সেজন্যই চাহিদাগুলোও পশু কিংবা অন্যান্য জীবের চাইতে ভিন্ন। যারা একটি আদর্শে সীমাবদ্ধ থাকে, তারা ওই ব্যক্তির মাথার আগাছা। যারা সব আদর্শ আমলে নিয়ে চিন্তাশক্তিকে বিকশিত করে, তারা প্রকৃত মানুষ। বাংলাদেশ একটি আদর্শের কারাগাড়ে বন্দি।
কেউ কেউ বলতেই থাকে, আমরাও শুনতেই থাকি। কিন্তু মানুষের মতো ভাবি না। উদাহরণস্বরূপ-
- ইউরোপসহ কাতারকেও নাকি অর্থনীতিতে পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ!!!
- বাংলাদেশের উন্নতি নাকি বিশ্বের কাছে রোল মডেল!!!
- এক ব্যক্তিকেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় না রাখলে, দেশ চলে যাবে জামায়ত-বিএনপি সন্ত্রাসীদের(?) হাতে। যারা আওয়ামী লীগের উন্নতি নষ্ট করে দিয়ে সন্ত্রাসবাদ চালু করবে!!!

উদাহরণগুলো ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিরুদ্ধে মহাজনদের আস্ফালন। এদেরকে ব্যালটবাক্স থেকে চিরতরে দূর করে না দিলে, ২০১৮ সনে আরেকটা সর্বনাশ অনিবার্য। কিন্তু কীভাবে সম্ভব?


বাংলাদেশ ক্যকাসের চেয়ারম্যান, কংগ্রেসে ১০ বার নির্বাচিত জোষেফ ক্রাউলির নাম বাংলাদেশিদের অত্যন্ত সুপরিচিত। ডেমোক্রেট পার্টির ৪র্থ শক্তিশালী নেতা। ট্রাম্পের তীব্র সমালোচক। মিডটার্ম ইলেকশনের পর, হাউজ স্পিকারের পদটি পাওয়ার কথা। কিন্তু ভোটের শক্তির কাছে কী হলো?
নিউইয়র্কের চ্যানেল ওয়ানের ডিবেট টেবিলে মুখোমুখি দুই প্রার্থী। একপ্রান্তে মোটাসোটা মধ্যবয়েসী জোষেফ ক্রাউলি, চেহারায় অভিজ্ঞতার ছাপ। মোটা ফ্রেমের চশমা। গায়ের রঙ ভয়ানক সাদা। বক্তব্যে গতানুগতিক রাজনীতির ভাষা।

অন্যপ্রান্তে প্রথমবারের মতো রাজনীতিতে পদার্পণ করা এক হালকা-পাতলা নারী। গায়ের রঙ মিশ্র। চেহারায় চঞ্চলতা। ভাষায় দুর্বার এক্টিভিজম। মা পোর্টরিকান। বাবা ব্রংক্সের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দেখতে অনেকটাই বাংলাদেশি। বাবা মারা গেলে মা গৃহপরিচাকার কাজ নেন। মাকে সাহায্য করতে পড়ার ফাঁকে নিজেও বার টেন্ডারের চাকরি নেন। টেড কেনেডি, বার্ণি স্যান্ডার্সের ক্যাম্পেইনেও কাজ করেন। এরপর কমিউনিটি অর্গানাইজার। বার টেন্ডিং-এর ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে নির্বাচন করার নীলনকশা। একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নজর কাড়েন। ডিবেট টেবিলে জায়েন্ট ক্রাউলির মুখোমুখি বসা ২৮ বছরের মেয়েটিকে দেখে প্রথমেই মনে হবে, অসম্ভব!!!
আলেকজেন্দ্রিয়া ওকাশিও কর্টেজ বোকা বা বোবা কোনটাই নয়। বরং ডিবেট টেবিলে তার কণ্ঠ এতোটাই ধারালো যে, প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নাস্তানাবুদ ক্রাউলির মতো রাজনীতির বুলড্রোজার। ভোটের বাক্সে এক কোপে ফেলে দিলেন ১০ বার নির্বাচিত জায়েন্টকে। রাজনৈতিক মহল হতবাক! আলেকজেন্দ্রিয়া এখন টক-অব-দ্যা আমেরিকা। অবিশ্বাস্য ঘটনার পরেই হাজারের বেশি মিডিয়া পিছু ছুটলো।
আলেকজেন্দ্রিয়ার ম্যাসেজগুলো ইউনিক। “…মানুষ যখন ভোট দেয়, এইরকম ঘটনাই ঘটে। এই চ্যালেঞ্জ সম্ভব। এই নির্বাচন মানুষ বনাম অর্থের শক্তি। আমাদের আছে মানুষ, ওদের আছে অর্থ। আমি যা বিশ্বাস করি, সেজন্য কখনোই ক্ষমা প্রার্থনা করি না। নৈতিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে রেডিক্যাল বলে কিছু নাই। ভোটারদের প্রত্যাশা ছিলো- সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি পরিকল্পনা। ভোটের মাধ্যমে ২০ বছরের অবহেলার জবাব দিয়েছে মানুষ।”
ক্রাউলির বিরুদ্ধে আলেকজেন্দ্রিয়ার অভিযোগগুলোও ইউনিক। যারা ভোট দিয়ে ১০ বার কংগ্রেসে পাঠিয়েছে, তাদেরকে উপেক্ষা করে, ছেলেমেয়েদেরকে অন্য স্টেটে রাখা? নিজ এলাকার বাতাসের গন্ধ যিনি শোকেন না, পানি পান করেন না, তিনি ভোটারদের স্বার্থে কাজ করবেন কেন? বরং কর্পোরেট ডোনারদের স্বার্থ রক্ষাই তার কাজ। তিনি কোন মুদিখানায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেনি। আমি ভুলে যাওয়া সেইসব তৃণমূল ভোটারদের দুয়ারে ধাক্কা দিয়ে বলেছি, ওদের আছে টাকা, আমার আছে মানুষ। যে কিনা ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার চাঁদা নেয়, সে কীভাবে গরিব মানুষের স্বাস্থ্য বিলের উপর ভোট দেবে! আজ প্রমাণ হলো, টাকার শক্তির চেয়ে ভোটের শক্তি বেশি।


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক স্যোসালিস্ট প্রার্থী বার্নি স্ট্যান্ডার্স বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। কর্টেজও বার্নি ঘরানার। মূল বক্তব্য, সমঅধিকার। নির্বাচনী প্রচারণায় সেই কথাগুলোই তৃণমূলের ভোটারদেরকে বুঝিয়েছেন। ভোটাররাও ব্যালটবাক্সে জবাব দিয়েছে। ক্রাউলির খর্চ প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার। আলেকজেন্দ্রিয়ার খর্চ প্রায় ৩০০ হাজার ডলার। এরপরেও হেরে গেলেন ক্রাউলি!
এরপর, কী করা উচিত? আওয়ামী লীগ তো আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে ভীষণ দুর্ভাবনায়। বার্নিকাটকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। এক উপদেষ্টার ভাষ্য, বার্নিকাট হচ্ছে ওমুকের মুখপাত্র। ইসির সচিব বলেছেন, বার্নিকাটরা আমাদের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন না। এখন তারা ক্রাউলিকে কী পরামর্শ দেবেন? ভোটকারচুপির অভিযোগ? সম্ভব কারণ, ১০ বার নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান তিনি।
উল্টা আলেকজেন্দ্রিয়াকে অভিনন্দন জানাতে গিটার বাজিয়ে গান গাইলেন। বললেন, মিডটার্ম নির্বাচনে কর্টেজকে জেতাতে সবরকম সহায়তা করবেন। তার মুখ দিয়ে একটি নোংরা কথাও নয়। “এযেন ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের দুর্লভ দৃষ্টান্ত।”


ভোটের শক্তি বলতে কী বুঝিয়েছেন কর্টেজ? ক্রাউলির বিরুদ্ধে কর্পোরেট শক্তির অভিযোগ কীভাবে গ্রহণ করলো তৃণমূলের ভোটাররা? ভোট দিলে কী হয়? ভোটের অধিকার বলতে কী বোঝায়? নাকি পুরো বিষয়টাই অর্থহীন!
খুব পরিষ্কারভাবে এর জবাব দিলেন আলেকজান্দ্রিয়া। ওবামার পর, রাজনীতিতে এ যেন আরেকটি জোয়ার। এমনকি ট্রাম্পও মন্তব্য করলেন। হার্ভার্ড থেকে কমিউনিটি কলেজ, আলেকজেন্দ্রিয়ার জ্বরে কাঁপছে আমেরিকা।
বাংলাদেশ ক্যকাসের চেয়ারম্যান ক্রাউলির বিরুদ্ধে অনন্ত অভিযোগ আমাদেরও। তার অফিসে বাংলাদেশি রাজনীতিবিদদের একদল বের হয়, আরেকদল ঢোকে। ফান্ডরেইজিং, ক্যাম্পেইন সবখানেই তারা। তার অফিসটি জ্যাকসন হাইটসেই।
আমাদের রাজনীতিতে ৯ বছরের অনাচার থামাতে কিছুই করেননি। বরং একশ্রেণির বাংলাদেশি পেশীশক্তির কাছ থেকে নানান রকমের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ। অনেককিছুই করার ক্ষমতা ছিলো। ৫ জানুয়ারির সার্কাসের পর, আরেকটা সার্কাস ঠেকানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও ছিলো। কংগ্রেসে বিল উত্থাপন করতে পারতেন। যে দেশগুলোতে সিসি মার্কা নির্বাচন হয়, তাদের বিরুদ্ধে হামেশাই কংগ্রেসে বিল উত্থাপিত হয়। কিন্তু কিছুই না করে অগণতান্ত্রিক শক্তিকেই এগিয়ে দিলেন। তার পরাজয় এখন অনেক রাজনীতিবিদের জন্য সতর্কবার্তা।


নির্বাচন নিয়ে যে সার্কাস বাংলাদেশে, ভবিষ্যতে ভয়ানক হবে। স্বেচ্ছাচারিতার চূড়ান্ত আস্ফালন যেন রুটিন। লিখেছিলাম ১০০টি রাষ্ট্র মিলে যতো অন্যায় করে, একা আওয়ামী লীগ সেটাই করে। আরো চারটার্ম ক্ষমতার কথা জানিয়ে দিলো। ঝানু উকিলরা খুলে বলে না। অপরপক্ষকে ফাঁদে ফেলানোর সুযোগ দিতে থাকে। আমাদের নির্বাচনকে যারা অগণতান্ত্রিক করলো, মহাজনেরা- আন্তর্জাতিক।
নিউইয়র্কের ঠিকানা পত্রিকার লিড নিউজ, বঙ্গোপসাগরের শর্তে নির্বাচন। দ্যা ডিপ্লোম্যাট লিখেছে, এই নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে চীন-ভারত। আনন্দবাজারিরা লিখেই যাচ্ছে, একটি দল ছাড়া কাউকেই ক্ষমতায় দেখতে চায় না দিল্লি। সিদ্ধান্ত ২০১২ সনে দিল্লিতে প্রথম দিয়েছিলো, প্রণবগং। ২০১৮ সনে বোলপুরে একই তরবারি আরো শানিত করলেন মোদি।
কেউ যদি ভুলেও মনে করে, অস্বাভাবিক বিষয়গুলো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই, রাজনীতি তাদের জন্য হারাম। এই ব্লকেরই অন্যতম সদস্য ২০ দলীয়জোট। বিএনপির ফাউন্ডারের আদর্শকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে বর্তমান বিএনপি। বলছি, মিয়ানমার-বঙ্গোপসাগর, জামায়াত-বিএনপি ধ্বংস, জামায়াত নেতাদের ফাঁসি, তথাকথিত ট্রাইবুন্যাল, পরিবেশ, অর্থনীতি, সমাজ, সংষকৃতি, রাজনীতি… মহাজনদের ম্যান্ডেট মেনে নেয়ার শর্তেই ২০০৮এর তথাকথিত নির্বাচন। ৫ জানুয়ারি ফলোআপ। ২০১৮ শেষ খেলা।
বিরোধিদলের রাজনীতি এখন পর্যন্ত আবেদন, অনুনয়, বিনয়ে সীমাবদ্ধ। অথচ নবাগতা কর্টেজের প্রতিটি বক্তব্যই যেন শানিত তরবারি। আমাদের বুদ্ধিজীবিরা অধিকাংশই স্থূলবুদ্ধিতে বন্দি।
একটি উদাহরণ। সাউথ চায়না সী বনাম বঙ্গপোসাগর। সাউথ চায়না সী’র নিয়ন্ত্রণ আমেরিকা-চীনের কাছে যতোটা গুরুত্বপূর্ণ, ভারত-চীনের কাছে বঙ্গপোসাগরের নিয়ন্ত্রণ ততোটাই গুরুত্বপূর্ণ। চীন-ভারত কেউই দাবি ছাড়বে না। যে কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন খাঁটি বসিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। হামেশাই যৌথ মহড়া চালিয়ে চীনকে সতর্ক করে। পাল্টাপাল্টি চীনও সেটাই করে।
২৮ জুন, আমাদের সময়.কম, “সাগরে বাংলাদেশ ও ভারতের নৌবাহিনীর যৌথ টহল আজ শুরু” লেখাটি পড়ুন এবং ভাবুন। মনে আছে, প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে দিল্লি-ঢাকার উত্তেজনা? ওই চুক্তি কেন চেয়েছিলো দিল্লি? কিছুদিন ঠেকানো গেলেও, ঘটনার প্রবাহে ভাসিয়ে দিয়েছে। আজব্দি যা পাবলিকের কাছে গোপন রেখেছেন হাইকমান্ড। দ্যা ডিপ্লোমেটও একই কথা লিখেছে। অর্থাৎ এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নাখোশ চীন। এর মানে হলো, অচিরেই দেখবো, চীনারাও একই মহড়া করছে বঙ্গোপসাগরে। বঙ্গোপসাগর এখন চীন-ভারতের প্রতিযোগিতার ঘাঁটি। আমেরিকার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য নিয়ে যুদ্ধ চলছে, আমাদের তো কোন বাণিজ্যই নেই। তবে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের মতো এ্যাটোমবোমা এবং ভারতের মতো প্রতিবেশি। ভোটের বাক্স থেকে যাদেরকে চিরতরে দূর করে দিতে তৃণমূলের মুভমেন্ট সবচেয়ে জরুরি।


ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ব্যক্তির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অধিকার। অন্যথায় ক্রাউলির মতো বুলডোজারকে পরাজিত করা অসম্ভব। হিলারির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিজয়ও অসম্ভব হতো। হিলারির পরাজয় নিয়ে আমাদের মহাজনেরা কুৎসা রটালেও আসল ঘটনা ভিন্ন। ফেইকনিউজ কোন সাংবাদিকতা নয়। “ট্রাম্পের ভোটের বাক্সে ৫ জানুয়ারির ক্রাইম হয়নি। যা হয়েছে সেটা রাশিয়ার প্রভাব ফেলা।” আসল কথা, “২০০৮এর নির্বাচন যাদের সৌজন্যে, বঙ্গোপসাগর নিয়ে তাদের মধ্যে অমীমাংসিত যুদ্ধ এখন আরো বেশি তীব্র। সবাই চায় বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ।” সুতরাং ভোট হবে না। আওয়ামী লীগ চাইলেও সেই ক্ষমতা তাদের হাতের বাইরে। “সরকার পতন দূরের কথা, কিছু করার ক্ষমতা কারো হাতে নেই” -হানিফের এই বক্তব্যের কারণও সেটাই। ভোট বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে গেছে লীগ। এটা চীনা স্টাইলে আমৃত্যু ক্ষমতার নিশ্চয়তা।
চীন, ভারত, রাশিয়া, আমেরিকা, ইইউ… হেভিওয়েট শক্তিগুলোর মধ্যে এক ব্যক্তিকে ক্ষমতায় রাখা নিয়ে নানান অংকের দরকষাকষি অব্যাহত। সাউথ চায়না সী প্রসঙ্গে আমেরিকার পক্ষে ভারত। পাক-ভারত সীমান্তে উত্তেজনার পর উত্তেজনায়, পাকিস্তানের পক্ষে চীন। দিল্লির সঙ্গে আওয়ামী লীগের মামা-ভাগিনার সম্পর্ক। চীনকেও ক্ষেপানো যাবে না। তাই ব্যাংক খালি করে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। না হলে, লঙ্কাকাণ্ড প্রজেক্টের খর্চ যোগাবে কীভাবে? আমাদের আয় কোথায়? এটাও ব্যাংক ডাকাতির অন্যতম কারণ। চীনাদের দুর্নাম আছে, কাজ নিয়ে বছরের পর বছর ভোগায়, খর্চেরও আগামাথা থাকে না। অন্যতম উদাহরণ, “চীনাদের ভয়ানক দুর্নীতির জালে পদ্মাসেতু।” কথায় বলে, ভাগের মা গঙ্গা পায় না। সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে ভারতের মামু- রাশিয়া। মস্কোতে বৃষ্টি পড়লে, দিল্লিতে ছাতা ধরে। প্রয়োজনে চীন-ভারত-আমেরিকা সবার পক্ষই নেবে। অর্থনীতির ভাগবাটোয়ারতেও সুবিধাজনক অবস্থানে পুতিন। মেগাবাজেট এবং মেগাঘাটতির হিসাব কে করে? চোরদের পেট ভরানোর জন্যই ব্যাংকের পকেট মারা। এনিয়ে বিস্তারিত লিখবো পরে।
ভৌগোলিক দিক থেকে চীন অনেকটাই দূরে। ৭১এর মতো ৭ম নৌবহরের যুগ শেষ। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সীমান্ত এবং তা চিরস্থায়ী। আর এইখানেই মার খাবে চীন। ভারতকে ডিঙ্গিয়ে কিছুই করতে পারবে না। চীনকেও এই দেশে পসরা সাজাতে দেবে না ভারত। এই সমীকরণেই মৃত্যু হয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্রের।


কর্টেজ বলেছেন, মানুষ ভোট দিলে যা হয়, আজ সেটাই হলো। ২০০৮ সনে প্রণব মুখার্জি এবং হিলারি যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন, সেটাই হয়েছে। ২০১৮ সনে দিল্লি যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছে, সেটাই হচ্ছে। “দিল্লি যতোই বলুক, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না, কারোই বিশ্বাস করা উচিত নয়। কারণ ওরা বারবার প্রমাণ করেছে, কতোবড় মিথ্যাবাদী!” খালেদাকে জেলে ভরার মতো শক্তিশালী যারা, মহাজনদেরকে শনাক্ত করা গেছে কিন্তু ভোটের বাক্স থেকে দূর করা যায়নি। উল্টা এইদফায় ৫ জানুয়ারির চেয়েও বড় ষড়যন্ত্র অব্যাহত। এখন প্রচার করছে, আরো চারটার্ম ক্ষমতায় থাকছেন হাইকমান্ড।
তারপরেও নির্বাচনকে রক্ষা করা সম্ভব। সেজন্য “দিল্লিকে ভোটের বাক্স থেকে চিরতরে দূর করে দিতে হবে। এই কাজে লাগবে, গ্রাসরুট অর্থাৎ তৃণমূলের মুভমেন্ট। যাদেরকে কাজে লাগিয়ে বুলডোজার ফেলে দিলেন আলেকজান্দ্রিয়া। আরো লাগবে, স্বপ্ন দেখানোর- পরিকল্পনা। ২০ দলীয়জোট পুরোপুরি স্বপ্নহীন।
হিলারিও ২ বছরে পরিকল্পনা দিতে পারেননি। ট্রাম্প দিয়েছিলেন। এর নাম- “মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন।” ট্রাম্প থেকে কর্টেজ, তৃণমূল ভোটার এবং পরিকল্পনা ছাড়া এরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাননি।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
১১ জুলাই ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)