১/১১ থেকে লর্ড কার্লাইল, নিষ্ক্রিয়তার অভিশাপ

July 22, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


একাডেমিক লেখার জন্য একাডেমিক রাজনীতি লাগে। হাভাতে রাজনীতির কারণেই বারবার খালেদাকে নিয়ে চর্বিতচর্বণে বাধ্য হচ্ছি। কারণ, আজব্দি তিনিই একমাত্র নেতা, যাকে যমের চেয়েও বেশি ভয় পায় আওয়ামী লীগ। যেকারণে ভোটের বাইরে রাখতে, কারাগারে রাখতে হলো। এছাড়া অন্য, এই আগুন সামাল দেয়া অসম্ভব।
অবশ্যই দুর্ভাগ্যের জন্য নেত্রীর নিস্ক্রিয়তাই দায়ী। কিন্তু একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছে বাকিরাও! বারবার অর্থহীন জোট গড়ার ঘোষণাসহ, প্লাস-মাইনাসের হিসাব নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকায়, ২০৪১ পর্যন্ত গণতন্ত্রের ভাগ্য লাটে উঠলো। সেজন্যই মুক্তিযুদ্ধের ৪৭ বছর পর, ব্রিটিশের উচ্চকক্ষের পার্লামেন্টারিয়ান এবং আন্তর্জাতিক আইনজীবি লর্ড কার্লাইলের সঙ্গে দুই দেশের ভিসা প্রতারণা নিয়ে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। ভাবছি, কীভাবে উপস্থাপনা করা উচিত! ঢাকার হুকুমে ভিসা প্রতারণা করেনি সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত? ঢাকার কোন হাত নেই, মহাসচিবের বক্তব্য সঠিক? ভারতকে নিরাপদ রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে, হর্ষবর্ধনকে কড়া বার্তা দেয়নি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়…?
ইন্ডিভিজ্যুয়াল অর্থাৎ বেছে বেছে নয়। কালেক্টিভ অর্থাৎ সমষ্টিগত সমালোচনাই মহাসুনামি থেকে জাতিকে এখনো উদ্ধার করতে সক্ষম। কিন্তু আমরা করছি ঠিক বিপরীত। বিষয়টি বোঝাতে একটি উদাহরণ। আওয়ামী লীগ মানেই নৌকা বোঝাই করে মাঝদরিয়াতে ফেলে দেবে। কূলের সন্ধান চলাকালে আরো নৌকা বোঝাই করে এনে ডুবিয়ে দেবে। তখন কেউ কেউ এর কারণ খুঁজতে থাকবে। কেউ গালিগালাজ করবে। অন্যেরা দোষারোপকেই বেছে নেবে।
যেমন, ২০১২ সনে মনে হয়েছিলো, সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নিয়ে লিখতেই হবে। কিন্তু সংসদকে রেসলিং-এর মাঠ বানানো দেখে মনে হলো, “পুরুষশাসিত সমাজে হিজড়া নারীবাদ নিয়ে না লিখলেই নয়।” তথাকথিত সুদখোর ড. ইউনুস সেটা উল্টে দিলেন। সেখানে ঢুকে পড়লো ৫ জানুয়ারির ভোটফিক্সিং। ১৫তম সংশোধনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শেষ না করতেই মাঠ দখল করলো, বিদেশিদের সঙ্গে দায়মুক্তির চুক্তি আর অস্ত্র কেনার ধুম। কুইক রেন্টালের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণই ছিলো। কিন্তু ইলিয়াস আলী-বিশ্বজিতের ধাক্কা বাসী না হতেই, মাঠ দখল করলো হলমার্ক-বিসমিল্লাহ… অর্থসন্ত্রাসীরা। সেটাও নকআউট করলো ৭ মার্ডার। সিনহা বের না হতেই ঢুকে পড়লো, প্রিয় ঋণখেলাপিদের সঙ্গে ওমুক ভবনে, তমুকের সুদের হার নিয়ে ব্যাংক মালিকদেরকে অবৈধ নির্দেশ। সেটাও বাসী না হতেই, ওয়েলকাম রোহিঙ্গা! সেটাও বাসী হওয়ার আগেই আচমকা কারাগারে খালেদা!!! তথাকথিত ট্রাইব্যুনাল নিয়ে এখনো লেখা শেষ হয়নি। তবে তালিকার অক্ষমতা জানিয়ে এখানেই শেষ।
যেভাবে ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতা দখলের বিষয়টিকে হালকা চোখে দেখছে নতুন জোট, সেটারও প্রতিবাদ প্রয়োজন। কারণ অনেকের কর্মকান্ডই অস্বাভাবিক। সন্দেহের কারণও। অন্যথায় চর্বিতচর্বণ প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে, বহু একাডেমিক লেখা লিখতে পারতাম। এতে অনেকেরই অন্যরকমের উপকার হতে পারতো।


প্রতি ঈদেই নেত্রী বলতেন, ঈদের পরে আন্দোলন হবে কিন্তু কোন ঈদ সেটা বলেননি। যেকারণে তার স্থান আজ কারাগারে। এতোবড় ক্রাইসিস, হাজার বছরের বাঙালির জীবনে এই প্রথম। অতীতের ক্রাইসিসগুলো বাইরের কিন্তু এই ক্রাইসিস অন্দরমহলের।
খালেদার আইনজীবিকে ঢাকার ভিসা অস্বীকার এবং দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে বিতাড়ণের পর, অন্তত একবার সুনামির উচ্চতা নিয়ে সমষ্টিগত আলোচনায় বসুন। সিনহা প্রসঙ্গে যাচ্ছি না কিন্তু এরপরেও অবৈধ সংসদ কীভাবে বহাল, যোগ্য প্রতিবাদ করলে, লর্ড কার্লাইলকে আইনজীবি হিসেবে নিয়োগ দিতে হতো না। এরপরেও যারা নিরপেক্ষ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সোনারকাঠি-রূপারকাঠি নিয়ে ভাবছেন্ত টোটাল রাবিশ। ১২ জুলাইতে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ দুনিয়াতে এমন কোন মিডিয়া নাই, যেখানে লর্ড কার্লাইল আলোচিত হননি। কালের কণ্ঠ, “কার্লাইলকে ঢুকতে না দিতে দিল্লিকে সুপারিশ। উচ্চ পর্যায়ে একটি সূত্রে গতকাল এ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।” অন্যান্য পত্রিকার ভাষ্য, ঘটনার সূত্র ঢাকার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
তাকে ভারতে নামতে না দেওয়া দোষের নয়। বিষয়টি হলো, কী কারণে ঢুকতে দিলো না!!! আওয়ামী লীগ তার ভিসা নাকোচ করলে বাধ্য হয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতে প্রোগ্রাম দিলেন। কিন্তু সেখানেও বেঁকে বসলো ঢাকা। চুলায় গেলো ভারতের গণতন্ত্র। ঠিক ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় হাজির! তাকে নিয়ে কুৎকুৎ প্রশাসনে। লর্ড কার্লাইল দেশে ফিরে স্কাইপে ভারতীয় মিডিয়াকে বলেছেন, “ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতি আমার শ্রদ্ধা চুরমার হয়ে গেছে। রাজনীতির চাপের মুখে তারা যেভাবে নতীস্বীকার করলো, তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, কৈফিয়ত দেয়া উচিত।” ৩৬ ঘণ্টার গেইমথিওরি, যার যা বোঝার বুঝে নিন!


ঘটনার পেছনের ঘটনা। তিস্তার পানির সঙ্গে মমতার গদির সম্পর্ক। বোলপুরে তিস্তার রফা করতে আবারো ব্যর্থ হলে, মুখ ফসকে যা বেরিয়ে গেলো, সেটাই সমষ্টিগত আলোচনার বিষয়। ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, “ভারতকে আমি যা যা দিয়েছি সেটা তারা কোনোদিন ভুলতে পারবে না।”
সেদিন ৯ বছরের জমে থাকা সকল প্রশ্নের উত্তর, এককথায় দিলেন হাইকমান্ড। এরপর আর কোন প্রশ্ন নেই। তবে আজব্দি কী কী দিয়েছে, তালিকা প্রয়োজন। চোরাইপথে দেনা-পাওনা করলে, মন্দভাষায়- স্মাগলিং। সেই পর্যায়ে যাচ্ছি না। তবে দেশের সম্পদের প্রকৃত মালিকানা কার, এই বক্তব্যও বাসী। কিন্তু চোরাইপথে দেনা-পাওনার খবর ফাঁস করে, ফেঁসে গেলেন হাইকমান্ড। আমাদের আশংকা, তালিকাটি এতো গভীর, প্রকাশ করা যাবে না। বরং অগণতান্ত্রিক উপায়ে ২০৪১ পর্যন্ত যে কোন শর্তে ক্ষমতায় থাকাই নিরাপদ। অন্যথায় রক্তগঙ্গা বইবে দুই দেশেই। প্রভাব পড়বে প্রবাসে বিভক্ত বাংলাদেশি সমাজেও।
৬ জুলাই বাংলাদেশ প্রতিদিন, “৫৩ হাজার শটগান কেনা হয়েছে নির্বাচনের জন্য।” জোটের মহাসচিবকে বলবো, অনুনয়-বিনয় রেখে, লেখাটি পড়-ন। কারণ আপনাদের নেত্রী জেলেই ফিনিশ। হিসেব ছাড়া কাজটি করেনি ক্ষমতাসীনরা। ৫৩ হাজার শটগানের প্রয়োজন হয়তো শেষ। কারণ ভোটকেন্দ্রের ৪০ মাইলের মধ্যে গুলি খাওয়ার মতো একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি ৫ জানুয়ারির মতো কুকুরও নয়। গুলি যা করার, করে ফেলেছে।
কার্লাইলকে ভারতে ঢুকতে না দিয়ে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিভাবে ঢাকায়, সেইসব জটিল প্রসঙ্গ এখানেই শেষ।


এবার নিস্ক্রিয়তার অভিশাপ নিয়ে দু’কথা। কেন তিনি এমন নিষ্ক্রিয় ছিলেন? বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির পর কর্মকান্ড প্রায় বন্ধ। সুযোগ সত্ত্বেও একমাত্র রোজার মাস ছাড়া তেমন কোথাও দেখিনি। অবাক হয়েছি, এটাই নেতৃত্ব? ঘরের শত্রু বিভীষণদেরকেও চিনতে ব্যর্থ। বন্ধু চিনতেও ভুল। যারা আদালতে ডিফেন্ড করছেন, একটি অংশ অনির্বাচিতদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বললে ভুল হবে না। ক্যান্টমেন্টের বাড়ির জন্য ‘স্টে-অর্ডার’ না চাওয়াটাই অন্যতম প্রমাণ। এরপরেও টনক নড়লো? মনে রাখার মতো প্রতিবাদ করে জানতে চাননি, হাইকমান্ডের ১৫টি মামলা কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পরেই গায়েব হলো! দল-পরিবার-জোট সব শেষ। বীরউত্তম পদক ছিনতাই। নিরব দর্শক ম্যাডাম!
কারাগারই হতে পারতো মুক্তির আরেকটি পথ, কিন্তু সেখানেও একই নিষ্ক্রিয়তা। এখন পর্যন্ত নেই কোন নির্দেশনা। জেলে বসে কারা দেশ স্বাধীন করেছেন, ইতিহাস আমি লিখবো না। তবে এখনো যদি মনে করেন, ঈদের পরেই আন্দোলন হবে, সেই সুযোগ শেষ!
তাছাড়াও অবৈধ সরকারকে সর্বপ্রথম বৈধতা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাকেই বলা যায়, যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচন করে। যারা ভোটফিক্সিং করে ক্ষমতায় বসে, তারা অবৈধ।
ম্যাচফিক্সিং ক্রিমিনাল হলে, ভোটফিক্সিংও ক্রিমিনাল। ৫ জানুয়ারিতে ভোটফিক্সিং হয়েছে। অতিসমপ্রতিকালে ক্রিকেটে ম্যাচফিক্সিং কেলেংকারীতে অনেকেরই শাসি- হয়েছে কিন্তু ভোটফিক্সিং-এর জন্য কাউকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়নি। এই বিষয়ে বিরোধিনেত্রীর মুখ থেকে প্রয়োজনীয় বক্তব্য পাইনি কেন? ৫ জানুয়ারির পর বিদেশিরাও অনির্বাচিত মনে করেই দূরত্ব বজায় রাখতো। ভোটফিক্সিং-এর খবর জানতো বলেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বর্জন করেছিলো। আমি বলবো, ৫ জানুয়ারির অবৈধ সরকারের সবচেয়ে বেশি উপকার করেছেন ম্যাডাম জিয়া।
ব্যর্থতার ফিরিসি- লেখার বিষয় নয়। তবে এই শতাব্দি যে জাতিয়তাবাদিদের, জাতিয়তাবাদি দলের নেত্রী হয়েও কীভাবে জানেন না? হেভিওয়েট দেশগুলোতে জাতিয়তাবাদিরাই জিতে যাচ্ছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতেও ন্যাশনালিষ্টরাই ক্ষমতায়। ৬৯এর পর প্রথম পপুলার আপরাইজের নেতা তার স্বামী। আরেকটি ব্যর্থতা, ভোটের নম্বর বাদ দিয়ে জোটের নম্বরের দিকে ঝোক।
জোটের কথা কী বলবো! যদিও অধিকাংশই ওয়ানম্যান শো! অনেকেরই হাজারখানেক ভোট থাকতেও পারে। অধিকাংশই নিষ্ক্রিয় এবং সুবিধাবাদী। পদ-পদবী পছন্দ। অধিকাংশই পাবলিকের কোন কাজে আসে না। পুলিশ দেখলে অন্য রাস্তায় হাঁটে। টকশোতে তুফান ওঠায়, বাইরে গেলেই হাওয়া। এতো ঝড়, রাস্তায় টিকিটিও দেখলাম না। অধিকাংশই মনে করে, সংসদে যেতে পারবো না কিন্তু জোটের নাম ভাঙ্গিয়ে মিলিয়নিয়ার হবো। ঘরের শত্রু বিভীষণ চিনতে ভুল করা এবং জোটের সাইজকে গুরুত্ব দেয়ায় সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে কোমরে। ফলে বিরোধিজোট আর কখনোই কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। একরকম বাধ্য হয়েই জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক, একলা চলার পথ বেছে নিয়েছে বলেই প্রতীয়মান।


আইনমন্ত্রীর একটি বক্তব্য যা প্রায় সব দৈনিকেই। “জামায়াত-বিএনপির এদেশে থাকার অধিকার নেই।” বিষয়টির সমষ্টিগত বিশ্লেষণ প্রয়োজন। আইনমন্ত্রী আইন বুঝলে, কথাটি হয়তো বলতেন না। কারণ এইধরনের বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। আমার ধারনা, তিনি ইতিহাস পড়েন। শায়ত্বশাসনের পক্ষে, হুজুর ভাসানী এবং শেখ মুজিবের সমঅবস্থান নিশ্চয়ই জানেন। না জানলে বৃত্তান্ত নেটে এবং পুস্তকে। বীরউত্তম পুরষ্কারটি প্রত্যাহার করে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকারের পদবী তারাই দিয়েছেন। ৪০এর লাহোর প্রস্তাব ছাড়া, বাংলাদেশের জন্ম কল্পনা। সবকিছুর সঙ্গে জড়িতের অন্যতম হুজুর ভাসানী, ভারতীয়রা যাকে ৭১এ গৃহবন্দি রেখেছিলো। তাহলে ভাসানীও কী রাজাকার? জানি, এর কোন জবাব আইনমন্ত্রীর কাছে নেই।
সোকলড যুদ্ধাপরাধীরা স্বাধীনতার কতো ক্ষতি করেছে জানি না। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের অবস্থান জানেন বঙ্গবীর, ড. কামাল হোসেনরা। তখন একজন রণাঙ্গনে, অন্যজন নেতার সঙ্গে পাকিস্তানে। এতোকিছুর পরেও সত্য প্রকাশ থেকে কেন বিরত, মোটিভ পরিষ্কার নয়।
এবার আসল কথা। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ১৩ জুলাই একটি বাংলা পত্রিকার খবর নজর কাড়লো। “বিশ দলে নানা শঙ্কা। বদরুদোজ্জা, রব, সিদ্দিকী চাইছেন জামায়াত মাইনাস। ড. কামাল নিরব।” আমার আশংকা, ড. বদরুদোজ্জারাও ম্যাডামের মতোই খোয়াব দেখছেন। হাইকমান্ডের হাতে আবারো অবৈধ ক্ষমতা তুলে দিতেই যেন, প্লাস-সাইনাসের দোকান খুলে বসেছেন। অথচ ৫ জানুয়ারির এরশাদ একটি জীবন্ত বিভীষণ এবং প্রমাণিত সার্বভৌমত্ববিরোধি। তাকে বাদ দিয়ে কিসের প্লাস-মাইনাস? অথচ এটাই চাইছেন হাইকমান্ড। ড. চৌধুরিরা জানেন, লোম বাছতে বাছতে জোটের কম্বল শেষ। এটাও জানেন, পৃথিবীতে এখন একমাত্র শত্রুহীন দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। ৫টি ভেটো শক্তিই তাদেরকে ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখতে একমত। একমাত্র বাংলাদেশেরই কেন শত্রু নেই, সমষ্টিগত আলোচনায় বসুন। অন্যথায় প্লাস-মাইনাসের হিসাব- রাবিশ।
প্লাস-মাইনাসের হিসাব বুঝলে, ৫ বছর আগেই কলাম লেখা বন্ধ করতে পারতাম। কারণ ১০ হাজার মাইল দূরে বসে কাজটি প্রায় অসম্ভব। তারপরেও হিমালয় টেনে চলেছি।
এসব বলার কারণ, না জেনে বলার অভ্যেস নেই। প্রত্যেকদিন একঘণ্টা ভারতীয় টেলিভিশনে নিউজ দেখি। আমেরিকান মিডিয়ায় ট্রাম্পপন্থি এবং বিরোধিপন্থিদের খবর ছাড়াও স্টকমার্কেট দেখা রুটিন। বিবিসি, ফ্রান্স টিভি… কোনটাই বাদ দেই না। গাড়িতেই আমার অফিস। সেখানে পাবলিক ওপিনিয়ন রেডিওকেই প্রাধান্য দেই। এতে আপটুডেট থাকি। বলছি, প্লাস-মাইনাস করে ফায়দা হবে না। মোদিমুক্ত ভারত আন্দোলনে দলিত, পতিত, ব্রা‏হ্মণ সব এক মঞ্চে। এরাই অতীতে একে অপরের শত্রু। সবচেয়ে বড় খবর, দলিত নেতার মঞ্চে সোনিয়া গান্ধি! কিছুদিন আগেও নাকউঁচা কংগ্রেস যা কল্পনাও করতো না। মোদি সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে, ৩য় জোটের নেতৃত্বে মমতার অভাবনীয় সাফল্য। ইতোমধ্যে অনেককেই বিজেপি ছাড়া করেছেন।
থাইল্যান্ডের গুহা থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করা গেছে। প্লাস-মাইনাস বাদ না দিলে যে গুহায় বিএনপি, সবার স্থান একদিন সেখানেই হবে। কবরটিও সেখানেই হবে। সুতরাং সবাই একসঙ্গে এখনই রাস্তায় নামুন। অন্যথায় তফসিল ঘোষণা করে হঠাৎ নির্বাচন দিয়ে আরো ৫ বছরের জন্য ভোগানি- নিশ্চিত করলো বলে।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
১৯ জুলাই ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)