ইয়েস স্যার!

July 30, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


আমার অভিজ্ঞতায় ‘স্যার’ শব্দটি যতোখানি সম্মানের, তারচেয়ে বেশি আত্মঘাতী। প্রথমে ‘স্যার’ শব্দটির ভালো দিকটা নিয়েই আলোচনা।
স্কুলজীবনে একমাত্র শিক্ষকদেরকেই স্যার বলতাম। স্যার মানেই সামান্য বেতনে জ্ঞান বিতরণ। সেই সময়ের কথাই বলছি, অধিকাংশের পড়নে মলিন শার্ট, ধুতি, পায়জামা। তিনি যা বলবেন, সকলেই ইয়েস স্যার। আজ মনে পড়ছে একজন স্যারের কথা, ডাক্তার না হলেও তার নাম- কাননবালা ডাক্তার। রূপের দেবী কাননবালাকে বিয়ে না করার দুঃখে- চিরকুমার। অংকে পারদর্শী সত্ত্বেও কেন শিক্ষক হননি, জানি না। তবে বিপদ হলো আমার। এমনিতেই সকালে-বিকালে প্রাইভেট মাস্টার। তার উপরে অতিরিক্ত আপদ কাননবালা স্যার। জোর করেই বিনাবেতনে অংক শেখাবেন। ত্যাক্তবিরক্ত হয়ে, গোপনে অনেক গালিগালাজ করতাম। এখন মনে হয়, স্যার বেঁচে থাকলে পা দুটো মাথায় রাখতাম। কারণ যা কিছু শিখেছি তাদের কাছ থেকেই। তার মতো বহু স্যারের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
পরবর্তীতে যাদের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকলাম, বাইরের স্যারদের সঙ্গে ক্লাসরুমের স্যারদের আকাশ-পাতাল তফাৎ। ৯৯ ভাগই দাম্ভিক, অসৎ, বদমেজাজী, বৈষম্যবাদী, সুবিধাবভোগী, ঘুষখোর, চাঁদাবাজ, নারীবাজ… ক্লাসটির সঙ্গে কমবেশি সকলেই পরিচিত। স্যার শব্দের বাইরে অন্যকোন সম্বোধনকে সহ্য করে না। দারোয়ান, বুয়া, চাকর, ড্রাইভার, কেরানী, হেলপার… নাতির বয়সী হলেও স্যার। বাপের বয়সী দারোয়ানের মুখেও স্যার। স্যারকে দেখামাত্রই দাঁড়াতে হবে। বাপ না পুত্র বয়সী সেসব বিবেচ্য নয়। পরবর্তীতে ‘স্যার কালচারের’ সঙ্গে পরিচিত হতে থাকলাম। অফিস্তআদালতে ‘নো স্যার’ বলে কোন শব্দ নেই। আমার কাছে যার একপয়সাও মূল্য নেই, কাজ আদায়ে তাকেও বলতে হতো- ‘ইয়েস স্যার’। বসেরও বস আছে। দেখামাত্র স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে- জ্বি স্যার, ইয়েস স্যার।
রাজনীতিবিদ স্যারদের উচ্চতা আরো ভয়ানক। পদ-পদবীতে বিরাট হলে, হিমালয়ের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে যায়। আবার আছে রাজনৈতিক-সাংবাদিক। এদের কথা কতো লিখবো! ওমুক ভবনের ইয়েস স্যার প্রেসকনফারেন্স দেখতে থাকুন। হাত কচলাচে কচলাতে পারলে ইয়েস স্যারের সামনে মাটিতেই গড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ইতোমধ্যে গোপাল ভাঁড়ের শূণ্যস্থান পূরণ করেছেন।
স্যার মানসিকতার আরো নমুনা। ভাবুন, বসের স্ত্রীকে দারোয়ান বলছে- হ্যালো, মিসেস আমেনা! গুডমর্নিং! কেমন আছেন! নাস্তা নিয়ে বসের স্ত্রী এবং বাড়ির বুয়া এক টেবিলে! আপনার ড্রাইভার নবাবের মতো সিটে বসে আছে, আর আপনি নিজেই দরজা খুলে গাড়িতে উঠছেন! এরপর ভাবুন, রেস্টুরেন্টের পার্কিংলটগুলোতে গাড়ি রেখে প্রত্যেকের ড্রাইভারই স্যারের পরিবারের সঙ্গে চায়নিজ বা পিজা রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে খাচ্ছে! ম্যাডামের হাত-পা, কোমর মালিশের বদলে, বন্ধুর মতো গল্প করছে! জানি, এসব কল্পনা। তবে গাড়ির পেছনে বসে যখন ঢেকুর তোলেন বস, ‘ইয়েস স্যার’ ড্রাইভারেরা ফ্রাইড চিকেনের গন্ধ ঠিকই পায়।


১৯৮০ সনে আমেরিকাতে আসার পরেই দেখলাম, ‘স্যার’ বলে কোন শব্দ নেই। বরং ইয়েস স্যার বলাটাই বিপদজ্জনক। প্রমাণ হলে জেল-জরিমানা পর্যন্ত গড়ায়। অর্থাৎ ইয়েস স্যারের শূণ্যস্থান পূরণ করেছে আইনের শাসন। সেজন্য রয়েছে শতভাগ নিরপেক্ষ বিচারবিভাগ। ঘুষ দেয়া-নেয়ার প্রমাণ পেলে, কতোবড় ইয়েস স্যার, আদালতের কাছে বিবেচ্য নয়। বরং ইয়েস স্যারের তলে যে অপরাধ, সেটাই বিবেচ্য। গেলো সপ্তাহে প্রাক্তন নিউইয়র্ক এটর্ণি জেনারেলের শাস্তি হলো- ১০ বছরের জেল। অপরাধ, ৩০০ হাজার ডলার ঘুষ গ্রহণ। তবে ‘স্যার’ কালচারটি এখানেও ছিলো।
বলছি, বিলুপ্ত স্যার বনাম দাসপ্রথা। বর্ণবাদী শেতাঙ্গদের নিষ্ঠুরতার উপর অনেক ছবি করেছে হলিউড। আফ্রিকা থেকে শেকল পরিয়ে জাহাজে করে এনে, পশ্চিমের খোলাবাজারে গরু-ছাগলের মতো বেচাকেনা। বিনাবেতনে ২০ ঘণ্টাই গরুর মতো খাটাতো। পালিয়ে যাওয়ার দুঃসাহস করলে, ফাঁসিতে লটকানোর আগে ওই এলাকার সব স্লেইভমাস্টাদের খবর দিতো। তারাও তাদের কৃতদাসদেরকে এনে শাস্তি দেখিয়ে ভয় দেখাতো। মেয়েদেরকে যতো খুশি ধর্ষণ করতো। কাজে যেতে না চাইলে, সাঁড়াশি দিয়ে টেনে দাঁত তুলে ফেলতো। তখন ইয়েস স্যার, ইয়েস স্যার বলে চিৎকার করলেও, রক্ষা হতো না। ড. মার্টিন লুথার কিংসহ বহু এক্টিভিস্টদের প্রতিবাদের কারণেই, স্যার প্রথা চিরতরে বিলুপ্ত হয়েছে। পরবর্তীতে ‘সিভিল রাইটস্‌ এক্ট’ আইন পাশ হয়েছে।
অবস্থান, পদপদবী, সাদা-কালো, মিলিয়নিয়ার, নিম্নবিত্ত… স্যার শব্দটি এই দেশে কতোটা অপ্রয়োজনীয়, বিএনপি-আওয়ামী লীগ যাইহোক, প্রতিটি প্রবাসী বাংলাদেশিরই জানা। বড়জোর মিস্টার ওমুক, মিসেস তমুক। অনেকেই বসকে নাম ধরে ডাকে। বস এবং কর্মচারী এক রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ খায়। এক লাইনে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করে। প্রেসিডেন্টের নামের সঙ্গে বিশেষণ অনুপসি’ত। জাতির পিতা জর্জ ওয়াশিংটনের নাম সারাবছরে একবারও উচ্চারণ হয় কিনা সন্দেহ। অধিকাংশই বলেন, মি. প্রেসিডেন্ট! অনেকেই নাম ধরে ডাকেন। যেমন, মি. বুশ একজন ওয়্যার ক্রিমিনাল! কিংবা ট্রাম্প একটা পাগল, ইডিয়েট, সন্ত্রাসী! পূজনীয়, মাননীয়, দেশবরেণ্য, দেশনেতা, ফাদার অব ডেমোক্রেসি… বিশেষণ যুক্ত না করায়, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটির প্রেসিডেন্টের সম্মান কমে কিনা, বলবে একমাত্র বাংলাদেশিরাই। কারণ তারাই এখন পর্যন্ত ব্রিটিশের পয়দা করা কলোনিয়াল মানসিকতাকে জোঁকের মতো আকড়ে ধরে আছে।
৬০এর দশকে খান সাহেবদের মুখের উপর ‘না’ বলা জাতি যেভাবে মাত্র ১০ বছরে একটি পরিপূর্ণ ‘ইয়েস স্যারের’ জাতিতে রূপান্তরিত হলো, সেটাই আজকের বিষয়।


কাউকে স্যার বলার মানেই, তিনি উঁচু- অন্যজন নিচু। তিনি মুনিব- অন্যজন ভৃত্য। কলোনিয়াল মানসিতার ডিকশনারীতে ব্যাখ্যা এটাই। অবিভক্ত ভারতে ব্রিটিশের আনা দাসপ্রথায়, মুনিব-চাকরের কৃত্রিম পার্থক্য, ভারতীয়দের মনোজগতের ব্লুপ্রিন্ট পাল্টে দিয়েছে। পরবর্তীতে স্যার শব্দটি সমাজ এবং রাজনীতিকে আরো বেশি শৃঙ্খলিত করেছে। পরবর্তীতে ‘কমনওয়েলথ’ নামের সার্কাস সৃষ্টি করে দেশে দেশে অদৃশ্য দাসত্ববাদ টিকিয়ে রেখেছে ব্রিটিশ। যে কারণে ব্রিটিশ শাসিত দেশগুলোতে ‘নো স্যার’ শব্দটি বিরল।
পৃথিবীতে কেউ কারো দাস বা প্রভু নয়। বিশ্বব্র‏হ্মাণ্ডের শুরু থেকেই প্রতিটি মানুষই মৃত্যুর মাধ্যমে ক্ষুদ্রতার প্রমাণ দিয়ে গেছেন। অসীম ক্ষমতাধরদের অন্যতম- ইরানের শাহ্‌, ফিলিপাইনের মার্কোস, হেইতির পাপাডক… প্রত্যেকেই চুরির টাকায় সুইস ব্যাংক ভরে ফেললেও, শূন্য হাতেই গেছেন। এখনো যারা চুরির টাকায় অফসোর ব্যাংক ভরে ফেলছেন, তালিকার প্রত্যেকেই শূণ্য হাতেই যাবেন। ইরানের শাহ্‌, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, ফিলিপাইনের মার্কোস… স্টেচুগুলো কোথায়?
ব্রিটেনের রাণী প্রত্যেক বছর কিছু গুণিজনকে কেন ‘স্যার’ উপাধি দেন, বোধগম্য নয়। যারাই স্যাররিচার্ডব্রানসনের মতো সাকসেসফুল, বড়জোর দুই-চার প্রজন্ম মনে রাখবে। স্টিভ জবের মতো যারাই যুগের ব্লুপ্রিন্ট পাল্টে দিয়েছেন, অনেক প্রজন্ম মনে রাখবে। কিন্তু জীবনের শক্তি দিয়ে যারাই প্রকৃত মানুষ হওয়ার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, অনন্তকাল তারাই থাকবেন। তাদেরকে স্যার বলি না, বলি মহামানব। মহামানবদের অধিকাংশেরই স্ট্যাচু নেই। যাদের আছে, ভক্তরা স্ট্যাচু দিয়ে রাস্তাঘাট দখল করে না। আইন বানিয়ে গুরুর ছবি লটকাতে বাধ্য করে না। ভগবানের ছবি ব্যাগে ভরে বিদেশে নিয়ে প্রচার করে না। বরং স্বতস্ফূর্তভাবেই ধর্মাঙ্গনে গিয়ে যীশুর স্ট্যাচুকে সম্মান দেখায় খৃস্টানরা। এতে ভক্তরাও খুশি। বলছি, স্ট্যাচুর সামনে দিনরাত ইয়েস স্যার, ইয়েস স্যার চিৎকারের কালচার- টোটাল রাবিশ। এইধরনের মানসিকতা নিতান্তই স্থূলবুদ্ধির পরিচয়।
২০০ বছরের ‘ইয়েস স্যার’ এপিডেমিক্স থেকে গত ১০ বছরে সুপারএপিডেমিক্স। উদাহরণস্বরূপ, বস হুকুম করলো- লগি-বৈঠা-চইর-গানপাউডার নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। এটাই ২৮শে অক্টোবরের গণহত্যা। এইরকমের অমানবিক উদাহরণগুলো গত ১০ বছরে রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেও, ইয়েস স্যারদের ভয়ে সবার জিহ্বায় তালা। অন্যায় হতে দেখেও, ছাত্র থেকে শিক্ষক, সকলেই ইয়েস স্যার, জ্বি স্যার। সর্বশেষ, মাহমুদুর রহমানকে রক্তাক্ত করা দেখেও, ইয়েস স্যার লীগ এবং তার অভিভাবক। এই বিষয়ে একজন রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবির ইয়েস স্যার ভিডিওটি ভাইরাল। বিষয়টি এমন পর্যায়ে, বস যদি বলে, বিশ্বব্র‏হ্মাণ্ডের মালিক আমি, উত্তরে বলবে- ইয়েস স্যার।


দীর্ঘদিন থেকেই ব্রিটিশের ‘ইয়েস স্যার’ মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি। বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গন এবং যুবসমাজের মনোজগতের উপর রাজনীতিবিদের সর্বোচ্চ হামলার প্রতিবাদ করেই চলেছি। “আমিত্বহীন আমিত্ববাদীরা” কখনোই মানুষ তৈরি করতে পারবে না। কারণ তাদের ভেতরে আমির বদলে, অমানুষের জায়গাটাই বড়। আমি হতে চাইলে, আমিত্ব থাকতে হবে।
অস্ত্র নয়, এই হামলা কলোনিয়াল মানসিকতা দিয়ে মস্তকের ঘিলুকে পোচ বানিয়ে ফেলা। ঘিলু থাকলেও মাথা নষ্ট। খালি কলস বাজে বেশি! যে কারণে দেশটা নাৎসী জার্মানির মতো দ্বিখণ্ডিত। এতোবড় হিউম্যানেটিরিয়ান ক্রাইসিস বোধহয় এই শতাব্দিতে একটাই। কারণ এই ক্রাইসিসের ভুক্তভোগী ১৭০ মিলিয়ন মানুষ। ইয়েস স্যারের অভিশাপে অভিশপ্ত আমরা, হয় মুক্তিযুদ্ধেরপক্ষে, নয় রাজাকার। মাহমুদুর রহমানকে রক্তাক্ত করার কারণও সেটাই। অন্যথায় আদালতের ভেতরে কেউ রক্তাক্ত হয়? তাকে ঘিরে থাকা পুলিশের নিরব দর্শকের ভূমিকাও, ইয়েস স্যারের অভিশাপে অভিশপ্ত।
এই মানসিকতার আরো নমুনা:-
- মাহমুদুর রহমান অনেক পাপ করেছে, এই শাস্তি তার প্রাপ্য ছিলো, মন্তব্য একজন ইয়েস স্যার রাজনৈতিক সাংবাদিকের।
- জামায়াত-বিএনপি খুঁটি ধরে টানাটানি করেছে বলেই রানাপ্লাজার দুর্ঘটনা, বলেছেন্ত ইয়েস স্যার মন্ত্রী।
- সাগর-রুনির তদন্ত চলছে, চলবে!
- কোটা বাতিল করলে আদালতের রায় অবমাননা হয় কিন্তু ১৬তম সংশোধনীর রায় মানা বেআইনী।
- ভোট হবে, কিন্তু ভোট দেয়া নিষেধ। ভোটচোরেরাই নির্বাচনের দায়িত্বে থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে (মদের দোকানে মাতালের চাকরির মতো)।
- প্রত্যেকেই ষড়যন্ত্রকারী, একমাত্র ইয়েস স্যারই কখনোই ভুল করে না।
- ইয়েস স্যার ছাড়া পৃথিবীতে আর কারোই নাম থাকবে না, মন্তব্য ইয়েস স্যার মন্ত্রীর।
- বন্ধু গ্যারান্টি দিয়েছে, কয়লা বিদ্যুতের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না। নিউক্লিয়ার ডিজাস্টার হলেও মানুষ নিরাপদ।
- ব্যাংকে তারল্যসংকট নেই- রাবিশ স্যারের মন্তব্য।
- ভল্টে সোনা গায়েবের ঘটনা ঘটেনি, এটা বিএনপির সাজানো নাটক, বলেছেন, ইয়েস স্যার- কাদের।
- নির্বাচন, নির্বাচন, নির্বাচন… নির্বাচন আমি চাই না। আমি চাই পরিবার শুদ্ধা তারাই আরো কয়েকবছর ক্ষমতায় থাকুক। সংসদে হাইকমান্ডের উদ্দেশ্যে, বিপ্লবী সাংসদ, সংরক্ষিত আসনের নব্যনারীবাদের ডিজিটাল প্রবক্তা- জনাবা খুরশিদ হক (ভিডিওটি নেটে)।
- নির্বাচনকালীন সরকার কে হবে, ঠিক করবে ওমুক, এতে অন্য দেশের নাক গলানোর অধিকার নাই।
ইয়েস স্যারের তালিকা করার অক্ষমতা জানিয়ে এখানেই ইস্তফা।
লেখার মূল টার্গেট, বার্ণিকাটের মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইয়েসস্যার ইসি রফিকুল ইসলামের বক্তব্যের জবাব (যুগান্তর ৩০ জুন/১৮)। বলেছেন, গণতন্ত্রের ফেউরিওয়ালা মার্শা বার্ণিকাট এই প্রশ্ন তুলতে পারেন না। কারণ তাদের দেশের নির্বাচনের সুষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাদের প্রেসিডেন্টকে তদন্ত করছে আদালত। হাসবো না কাঁদবো!
আমেরিকার নির্বাচন সম্পর্কে জেনেই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা। নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বার্ণিকাটের কথা বলার অধিকার আছে কিনা, আমার কাছে শুনুন। কারণ আওয়ামী পুলিশ ছাড়াই রেগ্যান আমল থেকে ভোট দিচ্ছি। ট্রাম্প-পুতিন কেলেংকারী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ওরা আইন দেখায়, রফিকুল ইসলামরা দেখান্ত স্যার। স্যার মানেই আইন। এর বাইরে কোন আইন থাকা নিষেধ।
সোকলড গণতন্ত্রের ফেউরিওয়ালাদের কিছু নমুনা। প্রেসিডেন্টের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ম্যানোফোর্টকে জেলে পাঠিয়েছে তদন্ত কমিশন। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত উকিলের বাড়িতে আদালতের ওয়ারেন্ট নিয়ে গোপনে হামলা করে প্রেসিডেন্টের অনেক গোপন তথ্য জব্দ করেছে এফবিআই। নির্বাচনে ট্রাম্প-রাশিয়া কানেকশন তদন্তে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা থাকলেও প্রেসিডেন্ট সেটা করেননি। ইমপিচমেন্টের সম্ভাবনা ৫০-৫০। পারবেন এমন একটি দৃষ্টান্ত দেখাতে? পারবেন না। কারণ বিচারপতি সিনহাকে শুধু আদালতই নয়, দেশছাড়া করার দৃষ্টান্তও আপনারাই। বলবো, ৫ জানুয়ারিতে ঢাকা-দিল্লির কানেকশন থাকলে, তদন্ত করে তারপর বার্ণিকাটের দিতে আঙুল তুলুন। গাজিপুরে যা হলো, সেটার সমালোচনা করুন। কারা ওমুকের দুর্নীতি তহবিলে বড় অংকের চাঁদা দিয়ে নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ করছে, তদন্ত করুন।
আমেরিকাকে গণতন্ত্রের ফেউরিওয়ালা বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ইসির ভাগ্য ভালো, এরা ভূয়া নির্বাচন করেও নিরাপদে। আমেরিকাতে হলে এদেরকে কীভাবে জুতাপেটা করতো, দৃষ্টান্ত মুলার ইনভেস্টিগেশন কমিশন। বলছি- হিম্মত থাকলে, ৬৯এর মতো ‘নো স্যার’ বলে, ৭০এর মতো নিরপেক্ষ নির্বাচন করে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখানো সময় এখনো আছে।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
ফেইসবুক: minafarahfacebook
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com
২৫ জুলাই ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)