স্বাধীন হয়েছি, মুক্তি হয়নি

August 2, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


দরজায় রোগির কণ্ঠ শুনেই নাকি রোগনির্ণয় করার ক্ষমতা ছিলো ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের। কিন্তু আমাদের রাজনীতিতে ডা. বদরুদ্দোজারা থাকলেও, ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার দেখেও, দাঁতের চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত। ফলে যা হওয়ার সেটাই হয়েছে। সব জেনেছি, সব বুঝেছি, সব দেখেছি। ভাবছিলাম, কোটাবিরোধি আন্দোলন নিয়ে লেখা মানেই আবারো সময় নষ্ট করা। তারপরেও লিখবো এবং মুক্তিযুদ্ধের খিচুরি বানাতে, ৭১এর সকল অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাবো।
“বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে দেশবিরোধি কার্যক্রমে যারাই অংশগ্রহণ করেছে, তারা সবাই যুদ্ধাপরাধী। তাদের উত্তরসূরীরা যেন কোনরকম সুযোগ-সুবিধা না পায়, সেটি নিশ্চিত করা হবে। এটি নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানিদের পক্ষে কাজ করেছিলো, সেইসব রাজাকার, আলসামস, আলবদরদের তালিকা করা হবে। কোটা সংস্কার বিষয়ে আদালতের রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা রেখে বাকিগুলো সংস্কার হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাদ দেয়া যাবে না।” কেন্দ্রিয় কমিটির সভায় হাইকমান্ডের এই বক্তব্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ লেখাটির গন্তব্যস’ল। শুধুমাত্র শেরেবাংলা এবং মওলানা ভাসানীর মতো পলিটিক্যাল একাউন্টেটের অভাবে, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এইধরনের গীবত শুনতে বাধ্য হচ্ছি। অন্যথায় বহু আগেই জিহ্বার লাগাম টানতে হতো।
আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন, রিফিউজি হওয়া। না। ডালভাতের সন্ধানে ভূমধ্যসাগরে এটা কোন বেকার বাংলাদেশির মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্চালড়ার অভিজ্ঞতা নয়। বরং পরাধীনতামুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা। ১০ এপ্রিল প্রায় ১০ হাজার সংখ্যালঘুর সঙ্গে ভারতের ডালু পাহাড়ে পৌঁছালে জুটলো, রিফিউজি স্ট্যাটাস। ততোদিনে অন্তত আরো ২০ হাজার রিফিউজি সেখানে, যাদের ৯৯.৯৯ ভাগই সংখ্যালঘু।
নতুন প্রজন্মের অধিকাংশই হয়তো জানে না, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান টার্গেট কিন্তু বড় মাপের নেতারা নন। হলে দূরের সেইফহাউজে নিয়ে, অন্যদেরকে মেরে সাফ করতো না। গুলি করার আগে টার্গেটের কাপড় খুলে জাতের সন্ধান ঠিক করতো না। যে কারণে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি পালিয়ে না গিয়ে ৯ মাস দেশেই। ফিরে যা দেখেছি, যা শুনেছি, স্বাভাবিক জীবনযাপনেই ছিলো। সরকারি-বেসরকারি চাকরি, স্কুল-কলেজ, সিনেমা, নাটক, পার্টি, বিবাহ… সবকিছুই ছিলো। ফিরে আসার পরেই পাকিস্তাপন্থিদের এক লোক, দখল করা ‘রূপকথা’ সিনেমা হলটির চাবি আমার তালৈয়ের হাতে বুঝিয়ে দেয়ার কয়েকদিন পরেই হলটি আবারো চালু হলো। ফিরে গেলাম স্বাভাবিক জীবনে। তবে যেসকল অবাধ্য সংখ্যালঘুরা দেশেই ছিলেন, অধিকাংশই শহীদ।
এসব বলার কারণ, হাইকমান্ডের বয়ানের একটি গ্রহণযোগ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন। যুগে যুগে রাজনীতিতে এক পক্ষের হিরো, অন্যপক্ষের টেরোরিস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকানদেরকে এই কথাটি বোঝাতে পেরেছিলেন মেন্ডেলা। ফলে সাদা-কালোদের নিয়ে দেশ গঠনে সমস্যা হয়নি কালোজয়ী এই নেতার। মেন্ডেলার ১০০তম জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে যা ঘটলো, বন্দুকের বদলে হৃদয় দিয়ে অনুভবের বিষয়। ওবামার মতো শতশত নেতারা ছুটে গেছেন। কারণ নিশ্চয়ই তিনি অনেকের চেয়ে জ্ঞানী, তাই তিনি ঐতিহাসিক।
ব্যতিক্রম শুধু আমরাই। ৪৭ বছর পর, সারপ্লাসের হালখাতা খুলে বসেছি। তখন যাদের জন্মও হয়নি, তারাও মুক্তিযোদ্ধা। যারা অস্ত্রহাতে তুলে নেওয়ার বদলে খানসাহেবদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ছিলো, তারাও মুক্তিযোদ্ধা। যারা খানসাহেবদের সাইরেনওয়ালা গাড়িতে চড়ে ভাতা খেয়ে বেড়িয়েছে, তারাই এখন মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র জমিদার। আছে শৌখিন মুক্তিযোদ্ধাও। মুক্তিযোদ্ধার কার্ড মানেই- মাসিক ভাতা, ডিসির অনুষ্ঠানে দাওয়াত, বিশেষ দিবসে রজনীগন্ধা সম্বর্ধনা। মিলিয়ন ডলারের সুবিধার নাম- ৩০% কোটা।


৪৭ বছর পর দেরিতে হলেও ঘুম ভেঙ্গেছে কোটাবিরোধিদের। যাদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি না দিয়ে দিন শুরু হয় না। কেন্দ্রিয় কমিটির সভায় বয়ান, রাজাকারদের সন্তানেরা যেন কোনরকম সুযোগসুবিধা না পায়, সেটা নিশ্চিত করা হবে। আমার প্রশ্ন, রাজাকার অথবা ব্রা‏হ্মণ, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক কী? তখন তো এদের জন্মই হয়নি। এদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলাটা যতোখানি অপরাধ, তারচে’ বেশি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ন্যূনতম অভিজ্ঞতার অভাবের প্রমাণ।
১/১১এর হাত ধরে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্লাস্তমাইনাসের ছুরির তলে মুক্তিযুদ্ধ। সারপ্লস অর্থাৎ শত্রুপক্ষ। হিন্দুদের নিন্দিত কাস্ট সিস্টেমের মতো, বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করাই উদ্দেশ্য। সারপ্লাসের খেলাকেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু করে ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতা নিশ্চিত করেছে অনির্বাচিতরা। যেকারণে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা অনেক মুক্তিযোদ্ধাই, অনির্বাচিতদের সারপ্লসের রোষানলে পড়ে- সর্বহারা। অনেকেরই পদ-পদবী, ভাতা, সাংবিধানিক অধিকার, ইজ্জত… ঝুকির মুখে। এমনকি মুজিবের দেয়া বীরউত্তম পদকটিও রক্ষা পায়নি। সুতরাং ৯ মাসের অভিজ্ঞতা যাদের নেই, তারাই বলবে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আমি বলবো, স্বাধীন হয়েছি কিন্তু মুক্ত হইনি।
এমনকি মুক্তিযুদ্ধের তালিকাতেও ভেজাল। শহীদেরও কোন তালিকা করলো না। এসব কথা কে জানতে চায়! আমি সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি বলেই, আসল-নকল চিনি। শাসকগোষ্ঠির সুনজরে থাকায় অনেক বিরোধিরাও শহীদ পরিবারের মর্যাদায়। সংসদে এবং বাইরে এদেরকে সকলেই চেনে। সত্যকথা বললেই- রাজাকার। নিজেও এর ভুক্তভোগী।
অনির্বাচিত মন্ত্রী বলেছেন, রাজাকারদের সন্তানেরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বিধায় সরকারি চাকরি নিষিদ্ধ। আমি বলবো, ৪৭ বছর পরেও যাদেরকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ঢোকাচ্ছে মন্ত্রণালয়, এদের হাতে কী প্রমাণ আছে? অথচ প্রাকৃতিক কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমার কথা। সেই হিসেবে বড়জোর ২৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকার কথা। উল্টা সংখ্যা ২ লাখের উর্দ্ধে হওয়ায়, ৩০% কোটার হিসাবের জন্য এইমুহূর্তে একজন শেরেবাংলা বা ভাসানীর মতো পলিটিক্যাল একাউন্টেটের প্রয়োজন যেকোন সময়ের তুলনায় বেশি।


৪৭ বছর পর, দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বলে কিছু নেই। রাজাকার, আলসামস, আলবদরদের তালিকা করার প্রয়োজনও, রাজনীতিকে আরো বেশি পুড়িয়ে দেয়া। এর অর্থ দাঁড়ায়, এতোকাল ইচ্ছে করেই মনে ছিলো না। বাস্তবে ৯০ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সংসদগুলোতে এইসব দ্বিতীয় শ্রেণিদের সঙ্গেই ক্ষমতা। প্রণব-হিলারি প্রভাবিত নির্বাচনের পর, ২০১০ সনে সারপ্লাসদের প্রসঙ্গ প্রথম উঠলো সংসদে। ২০১১তে সংবিধান সংশোধন করে সারপ্লাসের প্রশ্নটি উন্মুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়লো ব্রিটিশের ডিভাইড এণ্ড রুল। অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল হলো, যা হবার তাই হলো। ক্ষিপ্ত পাবলিক স্যোসাল মিডিয়াতে অসংখ্য ছবি ভাইরাল করে দিলো। সেখানে সুরঞ্জিতবাবু, ইনু, হাইকমান্ড এবং সাঙ্গপাঙ্গোরা এক টেবিলে, রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত। বিষয়টি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উলঙ্গবাদ! দীর্ঘদিন এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজছি। মেন্ডেলার রাজনৈতিক দর্শন এদেশেও ব্যবহার করলে, বহু আগেই অগ্নিগর্ভ পরিসি’তির লাগাম টানা যেতো। কারণ হঠাৎই কেউ স্বাধীনতাবিরোধি হয়ে যায় না। হঠাৎ করেই কেউ মুক্তিযোদ্ধাও হয় না। হলে ৯০ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সংসদগুলো কল্পনা।
সারপ্লাসের অসুখ জাতিকে যেখানে নিয়ে গেছে, একটি প্রমাণ। নিউইয়র্কে এসে ঢাকার এক চাটুকার চলচ্চিত্রকার, খান আতাকে বানিয়ে দিলেন রাজাকার! যদিও আজব্দি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তুষ্ট হওয়ার মতো ছবি তৈরি হয়নি, তারপরেও চেষ্টা হয়েছিলো। সময়ের প্রয়োজনে অত্যন্ত গুণি চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমান তৈরি করলেন, ‘আবার তোরা মানুষ হ।’ ছবিটি জনপ্রিয় হয়েছিলো। কিন্তু ৪০ বছর পর, এই ছবিতে রাজাকার আবিষ্কার করলেন ওই লোক। শাসককূলের সুনজরে থাকায়, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছবি তৈরির জন্য প্রচুর অর্থ কামিয়েছেন। তবে টাকা খেয়েও ভালো ছবি করতে পারেননি। ‘আবার তোরা মানুষ হ’ নিয়ে বিষোদ্গারের কারণও তাই।
তবে আমার মতো মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা বলবে, খান আতাকে যারা রাজাকার বলে, তারাই রাজাকারসুলভ। কারণ ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিতে খান আতার অভিনয় ছিলো একজন প্রতিকী মুক্তিযোদ্ধার। রওশন জামিলের অভিনয় ছিলো একজন প্রতিকী স্বৈরাচারের। স্বৈরাচারি স্ত্রীর অত্যাচারে প্রতিকী মুক্তিযোদ্ধা ছাদে বসে গান গাইতেন, ‘এ খাঁচা ভাঙ্গবো আমি কেমন করে।’ আর স্বৈরচারী স্ত্রী তখন ঘরের মধ্যে ভূতের সঙ্গে যুদ্ধ করতেন। সময়টা তখন স্বৈরাচারবিরোধি আন্দোলনের শীর্ষে। আন্দোলকারীদের মুখে মুখে এই গান। মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগে, ছবিটি যেন আন্দোলনের আগুনে পেট্রোল ঢেলে দিলো। আমার শহরে প্রতিটি শো হাউজফুল। ৭১এর ঢাক বেজে উঠলে, ছবিটি সঙ্গে নিয়ে কোলকাতায় চলে গেলেন সিনেমা হলের মালিক।
আমেরিকাতে আমার বড়বোনের বান্ধবী জহির রায়হানের বোন নফিসা। ঠিকানা যোগাড় করে ছবির সন্ধানে কোলকাতায় আমাদের বাড়িতে হাজির জহির রায়হানকে ছবিটির সন্ধান দিলাম। এরপরেই আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতেও দেখানো শুরু হলো। মুক্তিযুদ্ধের সেন্টিমেন্ট তৈরিতে জহির রায়হান এবং খান আতাদের যে অবদান, একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ সচেতনরাই জানে। যারা অন্দরমহলের আরাম-আয়েশে, কিছুতেই জানবে না। জহির রায়হানকে কারা খুন করেছিলো, সকলেই জানে। শহীদের মর্যাদা দূরে থাক, জন্ম এবং মৃত্যুদিবসে তার নামটি উচ্চারণ না করলেও, প্রতীকি মুক্তিযোদ্ধা খান আতাকে রাজাকার বানিয়েই ছাড়লো।
শুরুতেই লিখেছি, সাড়ে ৬ কোটি মানুষ তখন দেশে থেকেই সবধরণের নাগরিক সুবিধা ভোগ করেছেন। পালিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ সত্ত্বেও যাননি। দেশেই সরকারি-বেসরকারি চাকরি করেছেন অধিকাংশই। ৭১এ এদের অনেকের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন। বিষয়টি দাড়ালো, ১৪ ডিসেম্বরে নিহতরা শহীদ। জীবিতরা, গায়ক আব্দুল আলীমের মতো ব্লাকলিস্টেড।


স্বাধীনতাযুদ্ধে যারাই দেশবিরোধি কার্যক্রমে লিপ্ত ছিলো, সকলেই নাকি যুদ্ধাপরাধী। আমার প্রশ্নগুলো অবশ্যই যৌক্তিক। এদের অনেকেই তখন ঢাকা শহরে থেকে খানসাহেবদের দেয়া পুলিশী নিরাপত্তা, মাসিক ভাতা, সাইরেনওয়ালা গাড়ি… কোনকিছুই বাদ দেননি। এখন যিনি খানসাহেবদের তুখোড় সমালোচক, তাদের পাঠানো দুধ খেয়েই শিশুটি বড় হয়েছে। সিএমএইচ-এ নিয়ে পৃথিবীতে তার আগমনকে নিরাপদ করেছিলো তারাই। ইতিহাস সাক্ষি। তবে শুধুমাত্র শেরেবাংলা এবং ভাসানীর মতো পলিটিক্যাল একাউন্টেটের অভাবে, এদের উদ্ভট প্রশ্নের জবাব কেউই চায় না। আগেও লিখেছি, মুক্তিযুদ্ধের টার্গেট বড় নেতারা নন। সেদিনকার শিশুটি নিজেও এই ক্লাসের।
এবার দেখা যাক আদালতের রায় বনাম কোটাসংস্কার। ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটার উপর নাকি হাত দেয়া নিষেধ। কারণ আদালতের রায়। ওটা বাদ দিয়ে বাকিগুলোতে ছুরি চালানোর ঘোষণা। অর্থাৎ নৃগোষ্ঠি, প্রতিবন্ধী এবং সংখ্যালঘুরা ভিকটিম হওয়ার পথে।
তাহলে ধরে নেবো, সিনহার রায় মেনে অবৈধ সংসদ ভেঙ্গে দিয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যাননি। সিনহাবাবুও স্বসস্মানে দেশে ফিরে পদত্যাগের অনুষ্ঠানের প্রথম সারিতে বসে ফুরফুরে মেজাজে। কেন নয়? মুক্তিযোদ্ধা কোটার মতোই অনির্বাচিত সংসদের বিরুদ্ধেও রায়টি এখন পর্যন্ত বহাল।
বাস্তবে সত্য-মিথ্যা, সব মুক্তিযোদ্ধার ঘরেই নাতিপুতির সমাহার। এদের জন্য ৩০% কোটার উপর রায় থাকলে, অবশ্যই সংস্কার করতে হবে। কারণ প্রাকৃতিক কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা কমেছে। তাছাড়াও সাড়ে ৭ কোটি এখন ১৬ কোটি। সাড়ে ৭ কোটির ৩০ ভাগ আর ১৬ কোটির ৩০ ভাগের সংখ্যায় বিস্তর তফাৎ। এরাই ৩০ ভাগ খেয়ে ফেললে, বাকিরা কী খাবে? যেকারণে কোটাবিরোধি আন্দোলন যোগ্যতা অর্জন করেছে।
আসল কথা, ঘুষবাজি-চাঁদাবাজি-কোটাবাজি- সমান। সংসদে উত্তেজিত হাইকমান্ড যেদিন কোটা না রাখার ঘোষণা দিলেন, তখনই জানতাম। কারণ যে বাঘের পিঠে উঠে বসেছেন, নামতে চাইলেই খেয়ে ফেলবে। এই বাঘের নাম- ছাত্রলীগ। মিডিয়া যাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড লিখে শেষ করতে পারছে না। রামদা, চাপাতি, বন্দুক হাতে নিত্য নতুন ছবি আসছেই। বিশ্বজিৎখ্যাত অদম্য ছাত্রলীগের হাতে পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলার ভিডিও ভাইরাল। হাতুড়ি দিয়ে হাড় ভেঙ্গে ফেলার ছবিও ভাইরাল। হাসপাতালে ঢুকে আতহদেরকে বের করে দিচ্ছে। এমনকি গোপনে চিকিৎসা নিলে সেখানেও হানা। (দ্র: মানবজমিন ২৫ জুলাই, ৫ হাসপাতাল বদল নূরের)। কোটাবিরোধি আন্দোলন করতে দেখলেই গুলি করার ঘোষণা। বিষয়টি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি কুখ্যাত পার্টি এবং তাদের ৬টি সংগঠনর সঙ্গে পরিপূরক। সুতরাং মিছরির ছুরির উপর বসা হাইকমান্ডের একমাত্র সম্বল, আদালতের দোহাই।
কোটাবিরোধি আন্দোলন অযৌক্তিক হলে, স্কুল-কলেজগুলো এখনই বন্ধ করা উচিত। কারণ প্রত্যেকেই খর্চ করে পড়ছে। সবাই বিদেশে যাবে এমন গ্যরান্টি নেই। অনর্থ জীবনও অপ্রয়োজনীয়। অতএব নৃগোষ্ঠি, প্রতিবন্ধী, সংখ্যালঘুদের কোটা অর্ধেক বাদ দিয়ে, ৩০%-এর পুরোটাই ছেটে ফেলা হোক। কারণ প্রজন্মের মেধাকে সম্মান করতে হবে। এইদিন আর সেইদিন এক নয়। ভিক্ষা-করুণার দিন শেষ। ভাতাখোর অলস প্রজন্ম তৈরি যতোটা অপরাধ, তারচেয়ে বেশি বিপদজ্জনক। এরাই বইখাতার ফেলে দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। এমনকি শিক্ষকদেরও গুলি করছে।
স্বাধীন হয়েছি, মুক্ত হইনি। মুক্তির যেকোন আন্দোলনকে সমর্থন করা প্রয়োজন।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
ফেইসবুক: minafarahfacebook
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com
০১ আগস্ট ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)