আমি নৌকামন্ত্রীর পক্ষে

August 9, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


নৌকামন্ত্রী বলার কারণ, এদের প্রত্যেকেই নৌকার মন্ত্রী, যাদের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক নাই। তারপরেও তার পদত্যাগ চাই না। অন্যথায় টপ-টু-বটম ৫ জানুয়ারির প্রত্যেককেই পদত্যাগ করতে হবে। এই ঝুকি নেওয়ার মতো পরিস্তিতি এখন আর নাই। সেইফএক্সিটের গ্যারান্টিও বহু আগেই ফুরিয়েছে। লাইসেন্সবিহীন হওয়ায়, ক্ষুদ্ধ পাবলিকের সঙ্গে রক্তগঙ্গা হওয়ার আশংকা। সর্বোপরি, ৫ জানুয়ারির দায়িত্ব শাহজাহান খানের নয়। অবৈধ নির্বাচনটি হয়েছিলো বলেই তিনি এবং কালোবেড়ালদের মতো অনেকেই মন্ত্রী হতে পেরেছেন। প্রত্যেকেরই বেপরোয়া হওয়ার কারণও সেটাই। আইনহীন সরকার, আইন মানবে না। ইতিহাসের এটাই নিয়ম। সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের কারণেই জানলাম, দেশের আসল চালক কে! জানলাম, সরকার অবৈধ হলে, আইনও অবৈধ হয়। আরো জানলাম, লাইসেন্সবিহীন এবং ফিটনেসবিহীন সরকারের মতোই অর্ধেক গাড়ির অবস্থা। প্রশ্ন, সামান্য গাড়ি চালাতে লাইসেন্স লাগলে, দেশ চালাতে লাগে না?
যেভাবে এখানে পৌঁছালাম। দার্শনিক ব্যাখ্যাটি এইরকম, আমরা কী আমেরিকার কোর্টে ঢাকার বাড়ি রেজিস্ট্রি করতে পারবো? আগের সরকারগুলোর বেলায় দুর্নীতি ছিলো কিন্তু সীমানাও ছিলো। বিষয়টি হলো, ৫ জানুয়ারির লাইসেন্স দিয়ে ক্রেমলিন এবং দিল্লিতে গাড়ি চালানো বৈধ। কারণ ওই লাইসেন্সে তাদের অদৃশ্য সিল। ওইদিন বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিয়ে কাউকে নির্বাচন করে নাই, বলেছে সুপ্রীম কোর্ট। আদেশটি এখন পর্যন্ত বহাল। অর্থাৎ ক্রেমলিন্তদিল্লির লাইসেন্স দিয়ে বাংলাদেশে গাড়ি চালানো অবৈধ।
পর্কের মাংস হারাম নাকি হালাল, প্রশ্নটি একাধিক ধর্মের মানুষদের জন্য নিষিদ্ধ। একইভাবে কালোবিড়ালমন্ত্রী হারাম কিন্তু নৌকামন্ত্রী হালাল, এই দাবিও ভিত্তিহীন। কারণ ৫ জানুয়ারির খামার থেকে উৎপাদিত প্রতিটি বস্থই হারাম। সুতরাং মানুষ মেরে মন্ত্রী কাঁদবে কেন?
বাঙালির স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায়, সকালের কথা রাতেই ভুলে যায়। যেভাবে লাইসেন্সবিহীন সরকারের উদ্ভাবন, আবারো ঝালাই করবো। নির্বাচনটা হয়েছিলো পুতিন এবং কংগ্রেসের সমন্বয়ে। বহু বছর আমেরিকা প্রবাসী হওয়ায়, মার্কিন নির্বাচনে পুতিনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানি। ভোটচুরি কিংবা প্রভাব ফেলা, এমনকি মার্কিন নির্বাচনও রক্ষা পায়নি। দেশে দেশে নির্বাচন নষ্ট করাই সন্ত্রাসী পুতিনের কাজ। এমনকি বিএনপি-আওয়ামী লীগ স্টাইলে আমেরিকানদেরকেও বিভক্ত করে ফেলেছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তার অদৃশ্য হাত নিয়ে গণতন্ত্রকামীরা এখন পর্যন্ত ঘুমে!!! পুতিন-দিল্লি যাকে ক্ষমতায় চায়, তার জন্য নির্বাচন না হলেও চলে। কিন্তু চক্ষুলজ্জা বলে কথা এবং সেটাই ৫ জানুয়ারি।
বিনিময়ে নিরঙ্কুশ আনুগত্য এবং তাদের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করতে, নিঃশর্ত বিলিয়ে দেওয়া। যে কারণে তেল, গ্যাস, সুন্দরবন কিছুই রক্ষা করা যায়নি। ড. ইউনুস থেকে বিচারপতি সিনহা এবং বিরোধিশিবির… লাইসেন্সবিহীন গাড়ির চাকার তলে পিষ্ট হয়নি, ৯ বছরে একটি দৃষ্টান্ত থাকলে দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম মহাসচিব কাদেরের কাছে। সুতরাং পুতিনের কব্জা থেকে নির্বাচনগুলো আর কখনোই রক্ষা পাবে না। দুর্নীতিবাজ কংগ্রেসের উলঙ্গ হস্তক্ষেপের পর, একই পাগড়ি মোদিজীর মাথায়। এভাবেই বিদেশিদের দেওয়া লাইসেন্স দিয়ে ২০৪১ পর্যন্ত চলবে গণভবনের চাকা।
গণভবন একটি গাড়ি। এর চারটি চাকা। বাসের ভেতরে ১৬ কোটি মানুষ। রাস্তার চালকের লাইসেন্স না থাকলে, বড়জোর ১০০ যাত্রীর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু গণভবনের চালকের লাইসেন্স না থাকলে, ১৬ কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশ্ন, কার পদত্যাগ প্রায়োরিটি?
শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করে ছাড়লো, বৈধ সরকারের বিকল্প নাই। ক্রিমিনাল এণ্টারপ্রাইজ চলতে দিলে, মানুষ মরতেই থাকবে। প্রমাণ করলো, পুলিশের গাড়ির পর্যন্ত লাইসেন্স নাই। অনির্বাচিত মন্ত্রীদের গাড়িরও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সংসদীয় বৈঠক বাতিল করতে হলো। আরো প্রমাণ করলো, দিল্লি-পুতিনের হস্তক্ষেপে আর কোন নির্বাচনও নয়।
শিক্ষার্থীদের চোখ দিয়ে চালকের লাইসেন্স খোঁজার মধ্যে আমি রাষ্ট্রচালকের লাইসেন্স খুঁজেছি। আগেও লিখেছি, বেছে বেছে নয়, সমষ্টিগত সমালোচনা করুন। বাস চালকদের লাইসেন্স একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। দেশচালকের বৈধ লাইসেন্স একটি সমষ্টিগত আলোচনা। রাস্তার গাড়ির লাইসেন্স খুঁজতে গেলে কম্বলের লোম শেষ হয়ে যাবে। কারণ বাংলাদেশ পৃথিবীতে সবচেয়ে জনবহুল এবং অন্যতম দরিদ্র দেশ হওয়ায়, অনিয়মই নিয়ম। যানবাহন যার শীর্ষে। তবে ৯ বছরে মদখোর, গাজাখোর, নাবালক চালকের সংখ্যার বিস্ফোরণ হওয়ার কারণ মন্ত্রী শাহজাহান খান একাই একটা ক্রিমিনাল এণ্টারপ্রাইজ। আমরা সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের সমালোচনা করলেও, ‘খানদের এণ্টারপ্রাইজের’ গভীরে যাই না কেন?


রাজা জর্জ লুইয়ের মতো অদম্য-অসীম ক্ষমতাধর শাহজাহান খানের কিছু স্মরণীয় উক্তি। তারেক মাসুদের মৃত্যুর পরেই নরপিশাচটা বলেছিলেন, “গরু-ছাগলের চি‎হ্ন চিনতে পারলেই লাইসেন্স দেওয়া যাবে।” দিনে লাশের সংখ্যা কখনো ৫০, কখনো ৫০০। অধিকাংশ খবর মিডিয়ার বাইরে থাকে। চালকেরা জানে, দৌর্দ্যণ্ড প্রতাপশালী নৌকামন্ত্রী একাধারে মালিক নেতা, শ্রমিক নেতা, প্লাস মন্ত্রীও। অর্থাৎ সর্প তিনি, ওঝাও তিনি। তবে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট মন্ত্রী তিনি একাই নন।
অনির্বাচিত মন্ত্রীর উইকিপিডিয়া থেকে কিছু তথ্য নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছে প্রথম আলো। সেখানে ক্রিমিনাল এণ্টারপ্রাইজের কিছুটা চেহারা। লেবারলিডার হওয়ায়, ইউনিয়নভুক্ত ক্রিমিনালদের বিচার কাজে আদালতে হস্তক্ষেপ করা তার রুটিন। মালিকেরা গন্ডগোল করলে, শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে মালিকের জীবন হারাম করে দেন। মন্ত্রণালয়টি তার ব্যক্তিগত অফিস হওয়ার অভিযোগ। দিনে ২ কোটি টাকা পরিবহণ চাঁদা আদায়েরও অভিযোগ। যে ছেলেটি কখনোই স্কুলে যায়নি, গরু-ছাগলের চি‎হ্ন তার জানা। সুতরাং তাদের হাতেই লাইসেন্স তুলে দেওয়ার জন্য দায়ী কী শাহজাহান খান একা?


ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক। কোন অস্তিরতা ঢাকতে বাস দুর্ঘটনা? ভল্টের লাখ লাখ কোটি টাকার স্বর্ণ চুরির খবর অফসেট করতেই কী, মাহমুদুর রহমানকে হত্যার চেষ্টা? সিঁদ একদিনে কাটেনি এবং ব্যাংক পরিচালকের সেটা জানা। এতো স্বর্ণ কেউ একদিন বা এক মাসে চুরি করেনি। ছাত্রলীগের সন্ত্রাস দেখলে মিডিয়া একটু বেশিই উত্তেজিত হয়। যে কারণে মাহমুদুর রহমান এবং স্বর্ণ চুরির ঘটনা প্রায় সমসাময়িক। সাংবাদিক হত্যার খবর আন্তর্জাতিক হওয়ার আগেই, হুড়মুড় করে ঢুকিয়ে দিলো- ৫০০ কোটি টাকার কয়লা চুরি। সুতরাং মাহমুদুর রহমান ফিনিশ।
স্বর্ণের মতোই ৫০০ কোটি টাকার কয়লাও কেউ এক রাতে চুরি করেনি। শিশুও জানে কয়লার হাত-পা নেই। এটা নিতে লাগে রেল-ট্রাক। এটা স্বর্ণের বার নয় যে, এক ব্যক্তি ৩০০০ স্বর্ণের বিস্কিট গিলে খেয়ে, হোটেল সোনাগাঁতে গিয়ে পেট খারাপের ওষুধ খেয়ে স্বর্ণের ডিম পাড়বে। সুতরাং রাজাকারের বাচ্চাদেরকে খুঁজতে গিয়ে, কয়লা চোরদেরকেও ধরার কথা র‌্যাব-পুলিশের। প্রশ্ন, ভবিষ্যতে আর কোন ক্রাইসিস আড়াল করতে, প্রবাসীদের গচ্ছিত ৩২ বিলিয়ন ডলার গায়েব হওয়ার খবর প্রকাশ করবে? তখন যেন কেউ অবাক না হয়।
মিডিয়া যখন কয়লা মহাকাব্য নিয়ে মহাব্যস্ত, জানতাম, কেস্টবেটা কে! যারাই ৫ জানুয়ারির লাইসেন্স দিয়েছে, তারাই সুদে-আসলে নিচ্ছে। তারা জানে, অনির্বাচিত সরকারের পর, আইনের বালাই ভুলে দালাল হয়ে গেছে অধিকাংশ মানুষ। অন্যথায় কেন্দ্রিয় ব্যাংকের মতো সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার চুরির পরেই নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা গেলো, এরপরেও লাখ লাখ কোটি টাকার স্বর্ণ চুরি। ঘটনাটি এইরকম। কেন্দ্রিয় ব্যাংকে গচ্ছিত স্বর্ণগুলো কেউ চুরি করে, রেখে দিয়েছে ভেজাল বার। এর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ক্রেস্টে ভেজাল স্বর্ণের হুবহু মিল। ক্রেস্টের স্বর্ণ চোর মন্ত্রীর নাম মিডিয়ায় এসেছে। ওই চোরই এই চোর। রাবিশ খ্যাত মুহিত বললেন, এই ভেজাল কোন ব্যাপারই নয়। নির্বাচিত সরকারের আমলে দুর্নীতি দেখেছি কিন্তু চোরবাটপারদের পক্ষ নেওয়া মন্ত্রীর উদাহরণ দেখিনি।
প্রসঙ্গ, মন্ত্রীদের ক্রিমিনাল এণ্টারপ্রাইজ এবং বেপরোয়া গাড়ি। ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নামার কারণ কী শুধুই ২টি লাশ (মরেছে ৭ জন, বলছে ২ জন)। নির্বাচনের ঠিক আগে যেভাবে দালালশ্রেণি দিয়ে এই আন্দোলনটাও হত্যা করলো, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উদাহরণস্বরূপ, ৫টি বাস পেয়ে শিক্ষকরাও দালাল। নিহতদের পরিবারকে ৪০ লাখ টাকা দিয়ে মুখে সিলগালা। এমনকি মন্ত্রী হওয়ার তালিকায় থাকা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানকেও দালাল বানিয়ে ছাড়লো। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রশ্ন, এভাবে কয়জনের মুখ বন্ধ করবেন প্রধানমন্ত্রী? প্রশ্নটা এখানেই। বেপরোয়াদের বিরুদ্ধে যখনই কোন আন্দোলন দানাবাঁধে, তখনই দালালশ্রেণি দিয়ে মুভমেন্ট ধ্বংস করে দেয়। সর্বশেষ দৃষ্টান্ত, কোটার পর শিশুদের সঙ্গেও হাইকমান্ডের প্রতারণা। অর্থাৎ দালালশ্রেণির সময়ের স্রোতে বিপন্ন ১৬ কোটি মানুষ।


হোস্টেল এবং ভাতের খোটার পরেই রাস্তার খোটার বিষয়টি অত্যন্ত স্থূলবুদ্ধির পরিচয়। বলেছেন, “৫ টাকায় বাসে চড়ার সুযোগ করে দিয়েছি, তারপরেও এতো লাফালাফি কিসের? এই যে সাধারণ ছাত্ররা এতো সুন্দর রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে এই রাস্তা কে তৈরি করে দিয়েছে? আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে। তাহলে বাস ভাড়া ১০০ টাকা করে দেই? ছাত্রদের ভাড়া দ্বিগুণ করে দেই, তেলের দাম বাড়িয়ে দেই। দেই ভতুর্কি বন্ধ করে। নাকি শাহজাহান খানকে বলে দেবো, বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। তখন যেন কেউ আন্দোলন করে না বলে, বাস বন্ধ করলেন কেন? …রিপোর্ট হাতে এলেই বুঝতে পারবো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি জামায়াত-বিএনপির লোক ছিলো যারা কিনা বাস হাইজ্যাক করে ছাত্রদের গায়ের উপর উঠিয়ে দিয়েছে।”
লক্ষ্যণীয়, বিএনপি-জামায়াত এখন কারো মাথার কিড়িপোকা। নামটি না বললে, পেটের ভাত হজম হয় না। প্রসঙ্গ, বেপরোয়া আমিত্ববাদ এবং আক্রান্ত মানবতা। সংবিধানে ‘আমি’ বলে কোন শব্দ নিষিদ্ধ। রাষ্ট্র থাকে। চালক বদল হয়। ‘আমি’ নামের কেউ রাস্তা বানায় না। পাবলিকের টাকায় রাস্তা বানায় রাষ্ট্র। সিসিমার্কা নির্বাচনের সমালোচনা করলেও যা করে না, আইসিটি আইনে সেটাই করছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ নেয়ায় ফটোসাংবাদিক শহীদুল আলমকে তুলে নিয়ে গেছে ২০টি গাড়িতে আসা ৩৫ জন সাদা পোশাকধারী। যাওয়ার সময় বাড়ির সিসি ক্যামেরাগুলো খুলে নিয়ে গেছে। এর অর্থ, মানুষ কথা বলতে পারবে না, একা ওরাই বলবে। প্রশ্ন, তাহলে এরা কারা?
এর জবাব দিতে ব্যর্থ পল্টন। তারা এখন হতাশার দেবতা। নেত্রীকে জেলে রেখেও অনুনয়-বিনয়ে সীমিত। পাবলিককে বৈধ সরকার বলতে শিখিয়েছে ওরাই। প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বলতে বলতে মুখের ফেনা তুলে ফেলছেন ফকরুল। একমাত্র ভরসা যুবসমাজ। দুটি আন্দোলনে প্রমাণ করে দেখালো, বৈধ সরকারের বিকল্প নাই। প্রমাণ করলো, দিল্লি এবং ক্রেমলিনকে কেন ভোটের বাক্স থেকে বহুদূরে পাঠিয়ে দিতে হবে। এতো দূরে, যেখান থেকে বাংলাদেশের চেহারা দেখতে পারবে না।


সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের বলেছিলেন, “আমি আর কোন কোটা রাখবো না, কোটা বাদ।” আন্দোলন শেষ। এরপর কী বললেন? “আদালতের রায় থাকায় কোটা বাদ দেয়া যাবে না।” প্রতিশ্রুতি এসেছে কিন্তু কোটার পরিবর্তন হয়নি। ছাত্রদের ৯ দফা মেনে নিয়ে নতুন সড়ক পরিবহণ সংস্কারও হয়েছে কিন্তু ওইখানেই শেষ। তারপরেও এই আন্দোলন সফল এবং আগামী দিনের অনুপ্রেরণা। কারণ, ক্রিমিনাল এণ্টারপ্রাইজের মুখোশ খুলে দিতে পেরেছে ছাত্রদের এই আন্দোলন।
নির্বাচন সামনে, অন্ধকারের ভূতড়ে গলি। “একজনকে ধরা গেছে” শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, যে ছাত্রটি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে ছাত্রদের উপর আক্রমণ করছিলো, নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সে। এই একটি রিপোর্টই অনির্বাচিতদের অনুপ্রবেশ রাজনীতির গোমড় ফাঁস করে দিলো। অর্থাৎ যারা অনুপ্রবেশকারী তারাই অভিযোগকারী। এরপর হাইকমান্ডের আর একটিও অনুপ্রবেশকারী রাজনীতি বাতিল।
ছাত্র আন্দোলন সফল কারণ, তাদের এই কয়দিনের আন্দোলনে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অনেক জীবন রক্ষা হয়েছে। সড়ক পরিবহণ আইন সংস্কার করতে বাধ্য করে প্রমাণ করলো, গাড়ির আসল চালক যুবসমাজ। ওরাই দুটি আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণ করলো, কতোবড় প্রতারক এই রাষ্ট্র! প্রমাণ করলো, বৈধ নির্বাচন সম্ভব।
১ টাকায় ১০ জিবি ইন্টারনেট নয়, চাই বৈধ সরকার।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
ফেইসবুক: minafarahfacebook
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com
৮ আগষ্ট, ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)