আমি কেন ৫৭ ধারার পক্ষে

August 20, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


প্রতিক্রিয়া হবে জেনেই, কোন প্রাপ্তবয়ষ্ক পাবলিকে মন্তব্য করেন। এই কাজে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। ইদানিংকালে সফল এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা, ভেরিফাইড ফেইসবুককেই মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফরম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে কারো বক্তব্য জননিরাপত্তার হুমকি হলে, সেটা রুখে দেওয়া প্রতিটি সুনাগরিকের দায়িত্ব। এই ধরনের একটি ঘটনা, বাংলাদেশের রাজনীতিকে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ভেরিফাইড ফেইসবুকে মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে, যথারীতি ছাত্র আন্দোলনেরও মোচড় ঘুরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো ব্যক্তির মন্তব্য। প্রতিঠি ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য করার দায়িত্ব কেন নিজের কাঁধে নিলেন? অথচ নন কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নন কোন বৈধ সরকারের উপদেষ্টা। তারপরেও তার হাতেই সর্বময় ক্ষমতা। ভেরিফাইড পেইজে তার বক্তব্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। তার অনুমতি ছাড়া ক্ষমতাসীনদের সুতাও নড়ে না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও বিশেষ ক্ষমতাবলে, ক্ষমতাসীনদের সকলে তাকেই কুর্ণিশ করে। এই অভিজ্ঞতা হয়েছে- অতীতে ইরান, লিবিয়া, হেইতির পাপাডকের পুত্র বেবিডকের বেলায়। বিষয়টির চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
মন্তব্যের সুস্পষ্ট ধারাবাহিকতা লক্ষ্যণীয়। শহীদুল আলমকেও গ্রেফতারের পরেই যথারীতি পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে ফেইসবুকে একাধিক মন্তব্য। বিষয়টি এইরকম। নোবেল লরিয়েট থেকে সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কিংবা সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান… প্রত্যেকেই তার বিচারে দোষী। নির্দোষ শুধুই অনির্বাচিত সরকার, যার সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক। তারাই বিশেষ ক্ষমতাবলে স্বপরিবারে পিপলস হাউজটি দখলে রেখেছেন। পাশ্চাত্যের শিক্ষার দাবি করলেও, আচরণে ন্যূনতম প্রতিফলন না থাকার অভিযোগে উত্তাল স্যোসাল মিডিয়া। মন্তব্যের মাধ্যমে, আইনের গতি পাল্টে দেওয়ার অসম্ভব ক্ষমতা তার।
রাতের অন্ধকারের সব অগ্রিম খবর জানার দাবি। সুতরাং সুজনের বাড়িতে মিটিং-এর খবরও অগ্রিম জানতেন। শহীদুল আমলকে ডিবির তুলে নেওয়ার বিষয়টিও দায়িত্ব নিয়েই বলেছেন। যেন সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার মতো অগ্রিম জানেন। তাহলে বার্ণিকাটের গাড়িতে হামলা হওয়ার আগেই প্রতিহত করলেন না কেন? প্রত্যেকেই দোষী হলে, ফেইসবুকের এডমিন তার ডিফেন্স মূল্য হারিয়েছেন।
ভেরিফাইড ফেইসবুক থেকে, “শুধুমাত্র সফল ও জনপ্রিয় হওয়ার জন্যই কী আজ শহীদুল আমলকে আইনের উর্দ্ধে রাখার কথা বলা হচ্ছে? তাহলে কী আমিসহ সকল সফল ও জনপ্রিয় মানুষই আইনে উর্দ্ধে?” বক্তব্যের ভেরিফাইড উত্তর লেখাটির গন্তব্যস্থল। তার আগে প্রাসঙ্গিক আলোচনা।


যে সরকারকে বছরের পর বছর ডিফেন্ড করছেন, দীর্ঘদিন আমেরিকা প্রবাসী হওয়ায় বৈধ সরকারের ডেফিনিশন জানার কথা। তারপরেও মনে করিয়ে দিচ্ছি, সরকার তিনিই, যিনি ভোটে নির্বাচিত। রাগ, অনুরাগ বিবর্জিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার শপথ নেওয়ার অধিকার শুধু তারই।
অনির্বাচিত দখলদারদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে, সেটাও লাইসেন্সবিহীন ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের মতোই বৈধ। ট্রাক বা রাষ্ট্রচালক, অবৈধ লাইসেন্স বলে কিছু নেই। বরং রাষ্ট্রচালকের লাইসেন্সের বৈধতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে লিখেছি আগের কলামে। এডমিন জানেন, ৪ মাসের কথা বলে ৫ বছরেও অবৈধ কাগজপত্র বৈধ করতে ন্যূনতম চেষ্টা করেননি। উল্টা প্রতিপক্ষকেই ফাঁসিয়ে দিলেন।
আমেরিকা প্রবাসী বলেই জানেন, ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করলে, মার্কিনীদের প্রতিক্রিয়া কী হতো! জানেন, বিভিন্ন ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কয়’শ মামলা আদালতে। ট্রাম্প-রাশিয়া কানেকশন তদন্তে মুলার ইনভেস্টিগেশনের ক্ষমতা তিনি জানেন। এই তদন্ত বন্ধ করার ধৃষ্টতা আজব্দি দেখাননি ট্রাম্প। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট, ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপির পরিচালকও। প্রেসিডেন্টের হাতে অসীম ক্ষমতা সত্ত্বেও, আইনের কাছে অসম্ভব ক্ষমতাহীন। এতোকিছু জেনেও মাকে সুবুদ্ধি দেওয়ার বদলে, ভেরিফাইড ফেইসবুকে যা করছেন, অবশ্যই আইন নিয়ে খেলা। শহীদুল কেন, কেউই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেনি। কারণ এই দেশে কোন সরকারই নেই।
তবে ৭৫ সনে যারাই নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিলো, প্রত্যেককেই গ্রেফতার করা উচিত। খুনিদের অনেকেই তার মায়ের আশপাশে। ইনু, মেনন, মতিয়াদের মতো মুজিব বিদ্রোহীদেরকে গ্রেফতার করা কঠিন নয়। ট্যাংকের উপর ইনুর ভাইরাল হওয়া লুঙি ড্যান্সের ছবি অবশ্যই দেখেছেন। তারপরেও নির্বাচিত সরকারের খুনিদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে শহীদুলকে গ্রেফতার? এর মানে আইসিটি আইনে শুধুমাত্র তারাই কথা বলবে। বাকিদের কণ্ঠনালী ছিঁড়ে ব্র‏হ্মপুত্রে ফেলতে হবে?
আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাতকারে অনির্বাচিতদের সমালোচনা করা অবশ্যই সাংবিধানিক অধিকার। অন্যথায়, প্রায় ৪ কোটির বেশি বাংলাদেশিকে রিমান্ডে নিতে হবে। টকশোতে যে বিষয়গুলোতে, যে ভাষায় ‘আন-ইলেকটেন্ড’ সরকারের সমালোচনা, শহীদুল এর ধারেকাছেও নেই। তবে সোকলড সফল এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব সরকার চালানোর দায়িত্ব নিজের হাতে নিলে, পাবলিককে জানাতে হবে।
আরো লিখেছেন, “নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগে শহীদুল অভিনয় করছে।” “অভিনয়?” তার বক্তব্য মিডিয়া দমন করলেও, প্রত্যেকেরই আমলে নেয়া উচিত, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হওয়ায়, এইধরনের বক্তব্য দেয়ার অধিকার নেই। ৮ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের সাক্ষাৎকারে শহীদুলের বক্তব্য ২ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড থেকে ৬ মিনিট ২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত। সাড়ে ৩ মিনিটের বক্তব্য কয়েকবার শুনেছি। এর সঙ্গে জ্যাকসন হাইটসের ফুটপাথ থেকে সদরঘাটের লঞ্চ, সমালোচকদের ভাষা এক।
প্রশ্ন, আমি কেন ৫৭ ধারার পক্ষে! সন্ত্রাসবাদকে উষ্কে দিয়ে, যেভাবে আইসিটি আইনের অপব্যবহার, দাণ্ডাবেরি পরাতে হলে, শহীদুলদের মতো আরো কিছু আন্তর্জাতিক পান্ডাদেরকে দাণ্ডাবেরি পড়ানো দেখতে চাই। এছাড়া সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। উদাহরণস্বরূপ, বার্ণিকাটের গাড়িতে ছাত্রলীগের হামলার পরেও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার নিয়ে মাথাব্যথা নেই ওয়াশিংটনের। অথচ একজন আমেরিকান যাজককে মুক্তি না দেয়ায়, এরদোগানের উপর দুইদফা নিষেধাজ্ঞায় লন্ডভন্ড তুরষ্কের অর্থনীতি। বিদেশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ ছাড়া সম্ভব না। আলজাজিরার সঙ্গে সাক্ষাতকারে এটাই প্রমাণ করতে পেরেছেন শহীদুল। এরপরেই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক।


কে এই বিখ্যাত এবং কুখ্যাত শহীদুল আলম? তার মতো কুখ্যাত শাহবাগীদের অনেকেরই নিদ্রা ভেঙ্গেছে। ফলে কেউ রিমান্ডে, কেউ মামলায়, কেউ দেশছাড়া, কাউকে দেশ ছাড়ার আগেই চ্যাংদোলা করে প্লেন থেকে ধরে আনছে সাদা পোশাকধারী। সাদা পোশাক এবং সাদা গাড়ি আওয়ামী লীগের ট্রেড লাইসেন্স। এদের ঘাড়ের উপরেই ভর করে ক্ষমতায়। আওয়ামী সুকতারাদের অনেকেই এখন কুখ্যাত থেকে বিখ্যাত শহীদুল।
মতে না মিললেই রাজাকার আবিষ্কার আওয়ামী লীগের অসুখের মতো। শাহবাগীদের অন্যতম, বিচারপতি সিনহা এবং ইমরান সরকারের চামড়াতেও রাজাকার। এর মানে রাজাকারেরাই মেজরিটি। একবার শাহবাগের প্রশংসায় সংসদ কাঁপিয়ে তোলে। আবার রাজাকার খুঁজতে গিয়ে শাহবাগী শহীদুলকেই গ্রেফতার করে। আসল কথা, আইসিটি আইনের প্রত্যেকেরই চোরের মন পুলিশ-পুলিশ।
ডিবির উল্লেখযোগ্য বক্তব্য, “কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন শহীদুল আলম। রিমান্ডে তাকে অনুতপ্ত মনে হয়েছে” (যুগান্তর ৯ আগস্ট)। ক্ষমা চেয়েছেন? বিষয়টির ভেরিফিকেশন খুব প্রয়োজন। এইকাজে ভেরিফাইড ফেইসবুক যথেষ্ট নয়। ডিবিকে বলছি, এতো সমালোচক রাখবেন কোথায়? তবে আইসিটি আইনের সত্যিকারের প্রয়োগ চাইলে- ইনু, মতিয়া, মেনন, কর্ণেল শফিউল্লা, এ.কে খন্দকার, এইচটি ইমাম, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু… ১৫ আগস্টের সমর্থকদেরকে এখনই গ্রেফতার করুন।
প্রসঙ্গ, অবাধ ক্ষমতা বনাম কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। পারিবারিক সরকারের উপদেষ্টা হওয়ায়, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট প্রশ্নে, এটিএন-এর সাংবাদিককে বলেছেন, “আমার কোন রিস্ক নাই, কারণ আমি এই দেশে খুব কমই থাকি।” কথা ঠিক। তবে তিনি যে আসলেই কোথায় থাকেন, বিষয়টি অদৃশ্য গডের মতো।
অবৈধ সরকারের সমালোচনা করলেই আমেরিকার সঙ্গে তুলনা করা এডমিনের রুটিন। সব বলেন কিন্তু একটি বাদে। সেটা হলো- মার্কিনীদের বাকস্বাধীনতা। সরকারবিরোধি সমালোচনার অধিকার। আমেরিকা প্রবাসী বলেই জানেন, কার্টুন আঁকা দূরে থাক, প্রেসিডেন্টের স্ট্যাচু বানিয়ে জুতা মারলেও গ্রেফতারের আইন নেই। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও ট্রাম্পের অবস্থা করলে, মমতাকে গ্রেফতার করেননি মোদি।
সুতরাং যে ক্ষমতাবলে নিজেই আইসিটি উপদেষ্টা হয়ে, ৫৭ ধারায় সমালোচকদের দাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করছেন, আমরাও তার ক্ষমতার প্রমাণ চাই। ৫৭ ধারার প্রয়োজনীয়তা এবং বিশেষ কারো কার্টুন আঁকলে ১৪ বছরের জেল কেন, সেটাও বলতে হবে। (ঈশ্বরের সমালোচনাই নিষিদ্ধ।) সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কোন অধিকারবলে, অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা! কারণ তিনি না নির্বাচিত, না বৈধ সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত। সবচেয়ে বড় সমস্যা, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। এজন্য পাবলিক বা আদালত কারোই মতামত চাওয়া হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় টাকা এবং দুর্নীতির গোডাউন। পাবলিকের টাকা কোথায় খর্চ করছে, পাবলিক জানে না। জানে আভ্যান্তরীণ কয়েকজন। আমেরিকা প্রবাসী বলেই জানেন, পাবলিকের টাকা খর্চ করার আগে পাবলিককে জানাতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, স্যাটালাইটের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও, নয়ছয়ের কথা পাবলিক শুনেছে। সুতরাং মনে হওয়াই স্বাভাবিক, আমেরিকার প্রেসিডেন্টেরও এতো ক্ষমতা নেই।


এবার তার মূল্যবান বক্তব্যের উত্তর। বলেছেন, “…তাহলে কী আমিসহ সকল সফল ও জনপ্রিয় মানুষ আইনের উর্দ্ধে?” অবশ্যই আইনের উর্দ্ধে। প্রমাণ নিজেরাই দিয়েছেন। মাসিক ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার বেতন, যা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অর্ধেক বার্ষিক বেতনের সমান। নিউইয়র্কে গোমড় ফাঁস করলেন বস্ত্রমন্ত্রী। আইনের উর্দ্ধে না হলে তার বিরুদ্ধে আদালতে যেতো। কিন্তু কী দেখলাম? সঙ্গে সঙ্গে প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকেই অবৈতনিক ঘোষণা! অর্থাৎ এতোকাল না জানিয়ে পাবলিকের টাকায় পকেট ভরলেও, আইন তার বেলায় প্রযোজ্য নয়। উপদেষ্টার পদ থেকেও বরখাস্ত নয়। বরং পরবর্তীতে ক্ষমতা আরো সমপ্রসারিত করে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কথা একাই বলছেন। এর অসংখ্য প্রমাণ মিডিয়ায়। বলছি, আইনের উর্দ্ধে হওয়ায়, এতোবড় অপরাধের পরেও প্রজ্ঞাপনই শেষ। মহানবীকে অপমানের জন্য বস্ত্রমন্ত্রীর মন্ত্রীত্ব যায়নি, গেছে গোপন খবর ফাঁস করার অপরাধে।
যে বিষয়টি কলামের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৯১ থেকে ১/১১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি জোট গণতান্ত্রিক সম্পর্কেই ছিলো। পাল্টাপাল্টি একবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, আরেকবার বিরোধিদলে। জামায়াত কয়েকদফা বিরোধিজোটে থাকলেও তখন এসব প্রশ্ন অপ্রয়োজনীয়। প্রসঙ্গ হাইকমান্ডের ৩৬০ ডিগ্রি পরিবর্তন যেভাবে!
রাজনীতিতে কারো অনুপ্রবেশের পরেই ভৌতিক ঘটনাগুলো ঘটছে। ধারণা করা যায়, তার কারণেই বাংলাদেশ আজ দ্বিখন্ডিত। রাষ্ট্রপরিচালকের পুত্র ছাড়াও আমেরিকা প্রবাসী হওয়ায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের অবাধ সুযোগ। ওয়াশিংটনের ‘কে-স্ট্রিটের’ পরিচিত মুখ। আন্তর্জাতিক দালাল সমপ্রদায় এই সুযোগই নিলো। ২০১৩ সনে ‘স্টেটসমেন্ট’ পত্রিকাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন- “এই সরকারকে উৎখাতের ক্ষমতা কারোই নেই। চেষ্টা করলে, রক্তের নদীর উপর দিয়ে হেঁটে মায়ের কাছে পৌঁছাতে হবে।” এই মন্তব্যের সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন খালেদা।
এখানে কিছু ঐতিহাসিক এবং সমান্তরাল উদাহরণ। জিংপিং, ক্যাস্ট্রো… এদের চোখে গণতন্ত্র হচ্ছে দুশমন। কম্যুনিজমই একমাত্র উপযুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা। ক্ষমতাসীনরা অবশ্যই কাউকে অনুসরণ করেন। যে কারণে মাহমুদুর রহমান থেকে শহীদুল আলমের ঘটনা, থামছেই না। এদের বহু এ্যাকশনে কম্যুনিজমের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ।
যে বিপ্লব ঘটলো চীনে। জিংপিংকে চেয়ারম্যান মাওয়ের সমান মর্যাদা দিয়ে আমৃত্যু প্রেসিডেন্ট জিংপিং। সহিসালমতে থাকলে আরো ৬০ বছর প্রেসিডেন্ট। সমালোচনা করলেই গ্রেফতার। বই-পুস্তকে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, জীবনী বাধ্যতামূলক। রাস্তায় স্ট্যাচু-পোস্টার বাধ্যতামূলক। বিরোধিদলের চি‎হ্নও নাই, নিয়মও নাই। ধর্মগ্রন্থ এবং ধর্মাঙ্গনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আক্রমণ। বরং ঈশ্বরের মর্যাদা দিয়েছে জিংপিংকে। জিংপিং-এর স্ট্যাচুর সামনে আরাধনা করার ব্যবস্থা করেছে বেইজিং। বাবা-মায়েরা ছোটছোট বাচ্চাদের পকেটে ইচ্ছে করেই জিংপিং-এর ছবি ঢুকিয়ে দেয়। তবে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি সত্ত্বেও চীনারাই সর্বোচ্চ দেশত্যাগী। পশ্চিমে এসাইলাম প্রার্থীদের এক নম্বরে। বার্ষিক ফাঁসির সংখ্যাতেও এক নম্বরে। গোপন ক্যাম্পে আটকদেরও এক নম্বরে।
জিংপিং-এর জন্য কোন আইন লাগে না কারণ তিনি নিজেই আইন। সেই ক্ষমতাবলে বন্দুকের নলে দেশ শাসন। ৫৭ ধারায় বিশেষ কারো সমালোচনা করে, কার্টুন এঁকে, অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি জেলে। লাখ লাখ সমালোচকের জীবন লন্ডভন্ড। কতো লাখ মামলা আদলতে, বিচারকেরাও অসহায়।
ঈশ্বর ও মানুষের দূরত্ব বুঝতে চাই। ৫৭ ধারায় বিশেষ পরিবারের সঙ্গে ঈশ্বরের দূরত্ব কমেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ঈশ্বরের মর্যাদা কমেছে। মহানবীর সমালোচক বস্ত্রমন্ত্রীকে কৌশলে মুক্ত করেছে। শহীদুলদের মতো অনেকেই আন-ইলেকটেডদের সমালোচনা করে জেলে। যাকে খুশি তুলে নেওয়ার জন্য দায়ী সাদা পোশাকধারীরা নয়। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বেপরোয়া গাড়িচালককে নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ।
আদালতে বিচারকের মন্তব্য, “আরে রাখেন, ওনাকে যে গুম করে নাই এটাই ভাগ্য।”

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]il.com
ফেইসবুক: minafarahfacebook
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com
১৬ আগস্ট ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 7.0/10 (1 vote cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)
আমি কেন ৫৭ ধারার পক্ষে, 7.0 out of 10 based on 1 rating