ডিল্যুশনাল বুদ্ধিজীবিদের ঘুম ভাঙ্গাতে চাই

September 6, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


“কারো কথাই আমলে নিচ্ছে না সরকার”- আবারো সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের অনুষ্ঠানে একই মন্তব্য নেত্রী সুলতানা কামালের। সুন্দরবন কেন, এদের হাতে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। দুঃখজনক, ১০ বছর ধরেই ৯৯ ভাগ বুদ্ধিজীবিরাই ডিল্যুশনাল।
যা সত্য, ১৯৭৫এর ধারাবাহিকতায় ১/১১, ২০০৯, ২০১৪এর সরকার। একই দল, একই পরিবার, একই মুখ, একই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। পার্থক্য শুধুই সর্বাধিনায়ক। সাদ্দাম হোসেন, গাদ্দাফি কিংবা ইরানের শাহ… একই ফ্যাসিজম সত্ত্বেও, পরবর্তীতে একজনও বংশপরাম্পর পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। কিন্তু বাংলাদেশে কীভাবে সম্ভব?
সাঁতার না জানলে, সমুদ্রবিলাস নির্ঘাত মৃত্যুর সঙ্গে কোলাকুলি। সত্য যে, এরশাদ পরবর্তী সময়ে, একমাত্র ৯৬ ছাড়া, আর কখনোই সামনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। সর্বশেষ দুইটার্মের সঙ্গে পূর্ববর্তী তিন পার্লামেন্টের কোন মিল নেই। এমনকি ৯৬এর গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগের সঙ্গেও সর্বশেষ দুই পার্লামেন্ট শতভাগ বিচ্ছিন্ন। অগণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগের হাতে ১/১১এর কুশীলবরা, পরিকল্পিতভাবে উত্তরাধিকার হস্তান্তর শেষে আমেরিকায় আত্মগোপনে। পরবর্তীতে উত্তরাধিকার রক্ষা করছে একটি সাম্রাজ্যবাদি গোষ্ঠি। এদের কারণেই সর্বশেষ দুইটার্মের একনায়কত্ব, রেজাশাহপাহলোভির তুলনায় হাজারগুণে জটিল। যেকারণে পাহলোভিদের রেজিম শেষ হলেও, এরা ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা!!!


সুলতানা আপাদের মতো বুদ্ধিজীবিরা কী ইচ্ছা করেই বাকশাল ভুলে গেছেন? বাকশাল এবং সর্বশেষ দুইটার্ম- হুবহু। একে আলাদা করে দেখার নাম- ডিল্যুশন।
৭৫এর স্বর্ণালী যুগে শেখ ফজলুল হক মনির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যটি এখনো মিডিয়ায়। ৪৩ বছর পরের প্রেক্ষাপটে যা ৭৫এর চেয়ে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। বলেছিলেন, “মুজিব ছাড়া বাংলাদেশে কোন আইন আমরা মানি না, মুজিব মানেই আইন।” ৪র্থ এবং ১৫তম সংশোধনী, ৪৩ বছর পরেও- আমিই রাষ্ট্র, আমিই আইন, আমিই সংসদ, আমিই সংবিধান, আমিই সরকার, আমিই বিরোধিদল…।
অধিকাংশ বুদ্ধিজীবিরা কেন সাধারণ পাবলিকের চাইতেও ডিল্যুশনাল? সভা-সেমিনারে পাবলিক বিভ্রান্ত করাই যেন কাজ। যে কারণে জেসমিন রেভ্যুলেশন সফল কিন্তু বাংলা বসন্ত ভ্রুণেই গর্ভপাত। ঐক্যজোটবাদিরা সাঁতার না জেনেই সমুদ্রবিলাসে ছুটছেন। আবহাওয়া অফিস থেকে ৯নম্বর বিপদসংকেত কিন্তু সঙ্গে ট্রানজিস্টার নেই। বিএনপি জোটের এই অবস্থা কেন হলো, খালেদা কেন জেলে, ঐক্যজোটবাদিরা সত্য এড়িয়ে ভ্রান্তিবিলাসে মগ্ন। এটা ব্যর্থ হবেই। কারণ ১/১১এর ধারাবাহিকতায়, সর্বশেষ দুই পার্লামেন্টের ক্যামেস্ট্রি বুঝতে অক্ষম। এরশাদ পরবর্তী সংসদগুলোতে গণতান্ত্রিক ধারবাহিকতায় ক্ষমতা হস্তান্তর হলেও, ১/১১ এবং পরবর্তী দুইটি সংসদই, গণতান্ত্রিক যুগের মৃত্যু। যেকারণে খালেদার মতো মহীরুহের ডেস্টিনেশন একটি নোংরা নিসঃঙ্গ জেলে। কীভাবে সম্ভব?
যা ঘটেছিলো। ২০০৯ এবং ২০১৪এর পার্লামেন্টে, একসঙ্গে ৭৫ এবং ৫৭ দুটোই চালু রেখেছে (২০০৬ বিএনপি ৫৭ আনলেও, ২০১৩ সনে যমদূত ঢুকিয়েছে লীগ)। দুটোই এবসলুট ক্ষমতা এবং ওয়ান পার্টি স্টেট। সরাসরি বলার বদলে, এইদফায় একটুখানি গণতন্ত্রের গুড়া ছিটিয়ে দিয়ে এরশাদকে সামনে এনেছে।
ধারাবাহিকভাবে যা ঘটেছিলো, কেউ একে ফাউল বলবেন না। অস্ত্রের মুখে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ক্ষমতা দখল করে, দুই নেত্রীকে সাজানো গ্রেফতার দেখিয়ে, একজনকে কিছুদিনের জন্য আমেরিকায় পাঠিয়ে, কুশীলবদের কালক্ষেপণ। টার্গেট, ২০০৮। ভার্জিনিয়ায় বিশেষ বাড়িতে নানান শক্তির সঙ্গে মোলাকাত। হিলারি-প্রণবদের ষড়যন্ত্র নিয়ে আগেও লিখেছি।
বিমানবন্দরে হাসিনার ঘোষণা, “ক্ষমতায় গেলে ১/১১ সরকারকে বৈধতা দেবো।” ক্ষমতায় যাওয়ার পর ঘোষণা, “১/১১ আমাদের আন্দোলনের ফসল।” মিলিটারি শাসন কবে কারো আন্দোলনের ফসল হতে পারে? বরং আন্দোলন হয় মিলিটারি শাসন থেকে মুক্তি পেতে। হাইকমান্ড কী না জেনেই বলেছেন? পরবর্তী সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলো ১/১১ এবং সত্যি সত্যি কুশীলবদেরকে বৈধতা দিয়ে রেখেছে। যা বিমানবন্দরের ওই ঘোষণার সঙ্গে শতভাগ সঙ্গতিপূর্ণ।
২০০৯এর শুরুতেই বিরোধিদল মাইনাসের কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন, ১/১১এর উত্তরাধিকারীণি। শুরুতেই ২০১০ সনে জামায়াতকে মাইনাস করতে আইন বানিয়ে ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সনে ১৫তম সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের মাধ্যমে বিএনপিকে মাইনাস। ১৫তম সংশোধনীতে দুই সামরিক সরকার বাতিল করলেও বৈধ ১/১১। ওই পার্লামেন্টেই সামনের সারিতে কে কোথায় বসবে, সামান্য বিষয়টি নিয়ে তুলকালাম হাইকমান্ডের। না সংসদে বসতে দেয়, না বাইরে দাঁড়াতে দেয়। পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকেই নিজের ১৫টি মামলা খারিজ।
২০১৩এর কথা মনে আছে? ততোদিনে ৪ দলীয়জোট সংকুচিত হতে হতে পরমাণুর মতো ক্ষুদ্র। শুরুতেই পুরো পার্লামেন্ট রেডিক্যাল, ব্যক্তিরাও রেডিক্যালাইজড। ৪ দলীয়জোটের বিরুদ্ধে যেন প্রত্যেকদিনই ২৬ মার্চ। এর কোন বিচ্ছিন্ন বর্ণনার প্রয়োজন নেই। ২০১০ থেকে ২০১৩, ১/১১এর ক্যু-দেতাদের ধারবাহিকতার সন্দেহাতীত প্রমাণ। যেন ৪ দলীয়জোট কোন বর্হিরাগত শত্রু এবং এদেরকে শায়েস্তা করতেই ফিরোজা এবং পল্টনের উপর এটাক। গুলশান এবং পল্টনের সামনে হাজার হাজার শসস্ত্রবাহিনীর রণক্ষেত্র। গুলশানের কয়েক মাইল জুড়ে জলকামান, বালুর ট্রাক, বুলেট, টিয়ারগ্যাস… অদ্ভুত দৃশ্য। ঢাকার সঙ্গে দেশ বিচ্ছিন্ন। খালেদার সঙ্গে দল বিচ্ছিন্ন। গণগ্রেফতার, হোটেল-মোটেলে বিরোধিদলের বিরুদ্ধে কালো আইন জারি। ১/১১এর ধারবাহিকতায়, বিদ্যুৎ, টেলিফোনসহ সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন উত্তরাধিকারীণি। ২০১৩ সন শাহবাগীদের দখলে। কাদের মোল্লার ফাঁসি শেষ। মই দিয়ে অফিসে নেমে রিজভীকে তুলে নিয়ে গেলো র‌্যাব।
সুতরাং ৫% সরকার, ভূয়া নির্বাচন, ভোটচুরির নির্বাচন, পাতানো নির্বাচন… গুজব। যা সত্য, সংবিধান অনুযায়ী ৩ মাস পরেই নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা। ৯৬তে সেটাই করেছিলেন খালেদা। ৫ জানুয়ারির নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের কথা হাইকমান্ডও বলেছিলেন। কিন্তু ৩ মাসের কথা বলে ৫ বছর ক্ষমতা দখলে রাখলে, ক্যু-দেতা নাকি স্বাভাবিক?
২০০৯এর পার্লামেন্ট শেষ। বিএনপি-জামায়াত ফিনিশ। ৯২ দিনের আন্দোলন ফিনিশ। ৯২ দিনের আন্দোলন চলাকালে আবারো মুর্হুমুর্হু ২৬ মার্চের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছিলো। ১/১১এর বসানো রেজিম। ডলারে কম পরায় খাই-খাই ১৮ রাষ্ট্রদূত একসঙ্গে গুলশানে গিয়ে খালেদাকে হুমকি। আন্দোলন বন্ধ না করলে ব্যবস্থা। সাধারণত একবার বজ্রপাতে মানুষ মারা যায় কিন্তু খালেদার মাথার উপর কয়েকটা বজ্রপাতের সাক্ষি সর্বশেষ দুই পার্লামেন্ট।
এরশাদকে নির্বাচনে বাধ্য করতে যা করেছিলো দিল্লি এবং ঢাকা, সেটাই ক্যু-দেতা। অথচ সব দল ছাড়া, নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা এরশাদের। গণতন্ত্রকামীরা আশ্বস্ত। এরশাদকে বাগাতে ব্যর্থ হলে, ৩য় বারের মতো মিলিটারি রেজিম কায়েম করতে পারবে না। সাংবাদিকদের সামনে এরশাদের বক্তব্য, আত্মহত্যা করবো তারপরেও সব দল না গেলে নির্বাচনে যাবো না। গিয়ে দেখেন, বালিশের তলে বন্দুক আছে। জানি র‌্যাব এসে আমাকে ধরে নিয়ে যাবে।
সত্যি সত্যি বাঘ এসেছিলো এবং সিএমএইচ-এ নিয়ে গণতন্ত্রের হাড়-মাংস খেয়ে ফেলেছে। সুজাতা সিং উড়ে এসে এরশাদের পেট কেটে যে সন্তানটি বের করলেন, সেটাই ৫ জানুয়ারি। এখানে সরকারই বিরোধিদল, বিরোধিদলই সরকার। শেখ মনির কথাই সত্য।


আমার কথা ভুল হয় না। ঐক্যজোটবাদিদেরকে বলছি, ডিল্যুশনের সময় এটা নয়। অন্যথায় ৩ মাসের কথা বলে কেউ ৫ বছর ক্ষমতা দখলে রাখে? কোন অদৃশ্য শক্তি পেছনে, একমাত্র হাইকমান্ড ছাড়া কেউ জানেন না।
ডিসেম্বর ২০১২। ইকোনোমিস্ট ম্যাগাজিনে স্কাইপ কেলেংকারী। কথোপকথনের প্রতিটি শব্দেই জামায়াত-বিএনপিকে মাইনাসের ষড়যন্ত্র ক্যু-দেতাদের। মোট ১৭ ঘণ্টার টেপ-২৩০টি ইমেইল। সময়কাল- ২৮ আগস্ট ২০১২ থেকে ২০ অক্টোবর ২০১২। ইকোনোমিস্টের পরেই স্কাইপ কেলেংকারি চলে গেলো বিশ্ব মিডিয়ায়। বিচারপতি নিজামুল হকের কম্পিউটার দখলে নিয়েছিলো হ্যাকাররা।
কেলেংকারীর উত্তাপে ১২ ডিসেম্বর ক্রিমিনাল হকের পদত্যাগ। তারপরেও বন্ধ হয়নি ক্যাঙ্গারু কোর্ট! অদম্য হাইকমান্ড। নিজামুলের কাছে মন্ত্রী কামরুলের আবদার, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই ফাঁসির রায় চাই। পরবর্তীতে ক্রিমিনাল হক আবারো সিনহার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাইকোর্টে নিয়োগ পেলেন। মনে আছে, অবসরে গিয়ে রায় লেখা নিয়ে খায়রুল হক আর সিনহাবাবুর ঝগড়া? বিচারকেরা ক্রিমিনাল হলে, ভিকটিমরা কার কাছে যাবে? আমি যা বুঝেছিলাম ২০১১ সনে, স্কাইপের পরেও ডিল্যুশনমুক্ত হননি বুদ্ধিজীবিরা।
ট্রাইব্যুনালের সাক্ষিদের জন্য কিছু নমুনা।
একবার ভাবুন, ১৭ ঘণ্টার টেপে আর কী থাকতে পারে? আমি কয়েক মিনিট শুনেই, স্তব্ধ।
নিজামুল হক, “সরকার গেছে পাগল হইয়া, তারা ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে একটা রায় চায়। …স্টেট মিনিস্টার আসছিলেন দেখা করতে সন্ধ্যায়। উনি বললেন, রায়টা তাড়াতাড়ি দেন। আমি বললাম, কেমনে দিমু… সময় পাইলে ১ মাস ধইরা রায় রেডি করতাম। …দুই ট্রাইব্যুনালকে একত্রে স্যারের রুমে বসাইয়া আলাপ করাবো…।” স্টেট মিনিস্টার কামরুলের রেফারেন্স দিয়ে নিজামুল, “আপনে গোলাম আজমকে আগে দিবেন। তারপরে তারা যা পারে করুক। আমি হাসলাম, আপনে চেষ্টা করতে পারেন।”
ট্রাইব্যুনালে নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়েও একজন প্রবাসী জিয়াউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে প্রসিকিউটর, বিচারক এবং পরামর্শদাতাদের প্রত্যেকদিন অন্তত ২০ মিনিট কথোপকথন। যেখানে পরিকল্পিতভাবে খুনের প্রমাণ রয়েছে। বিচারক নিজামুলকে জিয়াউদ্দিন, “কোন কেসটা আগে যাবে, সেটা যেন আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর ভিত্তিতে হয়। যেটা সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট কেস, যে লোকের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, সেটা সবচেয়ে আগে করতে হবে বলে মনে করি।”
উত্তরে ক্রিমিনাল নিজামুল, “একটা কথা এগ্রি করছে, সাঈদী আর সাকা এতো ভিন্ন কেন? গোলাম আজমেরে করলে, তারপরে নিজামী, মুজাহিদ্দি, কাদের মোল্লা, কামরুজ্জামান… এটা ফলো কইরা সবই করা যাইবে। আর চিফ বলে, একটা জাজমেন্ট দেও তোমারে নিয়া আসি।” উত্তরে জিয়াউদ্দিন, “আগে বড় সাহেবের জাজমেন্টটা দিয়া দেই।”
হেসে ক্রিমিনাল হক, “সিনহাবাবু কইছে, ডিসেম্বরের আগেই ৩টারে দিয়া দেন। আপনেরে প্রমোশন দিয়া নিয়া আসি। আমি বলছি, যা করার করেন, আগে আমার প্রমোশনটা দিয়া দেন।”
হেসে জিয়াউদ্দিন, “আগে বড়টারে এরপরে অন্যান্যগুলিও দেয়া যাবে…।”
বিচারক সোনা জাহাঙ্গীর সম্পর্কে কথোপকথন, “কোন দলের?”
উত্তরে ক্রিমিনাল হক, “আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ।”
জিয়াউদ্দিন, “দুইটা এসএমএস আসছে, আপনার দুইটা এপলিকেশন সম্পর্কে।” বিচারক, “দুইটা ফরেনার সাক্ষি? …দিমু না।” জিয়াউদ্দিন, “এটা কিন্তু লিখিত অর্ডার দিয়েন।” গোলম আজমের চার্জশিটের ফাইনাল ড্রাফট তৈরি করেন জিয়া। কথোপকথনের পরদিনই হুবহু চার্জশিট জারি করে আদালত। বিদেশি মিডিয়াগুলো এর সাযুজ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আমার প্রশ্ন, আন্ডাস্ট্যান্ডিং-এর মাধ্যমে কবে, কোন দেশে ফাঁসির রায় হয়েছে? জুরিসপ্রুডেন্স কোথায় সেটা বলেছে? ট্রাইব্যুনালের অন্যতম সাক্ষি সুলতানা আপারা আর কতো দেখার পর অনুতপ্ত হবেন? সন্দেহাতীতভাবে ট্রাইব্যুনালটি ছিলো গণতন্ত্র মাইনাসের মঞ্চ।
এরপর ১ মিনিটও ক্ষমতায় থাকার কারণ নেই কিন্তু আছে। এটাই প্রমাণ, কোনধরনের সরকার ক্ষমতায়। বোঝার জন্য আরেকটি উদাহরণ। বিচারপতি সিনহা বলেছিলেন, তিনটা রায় দিলে প্রমোশন হবে। অর্থাৎ আন্ডাস্ট্যান্ডিং-এর মাধ্যমে ফাঁসি। পরবর্তীতে সোকলড রাজাকারদেরকে ফাঁসি দেয়া সিনহাবাবুই, অস্বাভাবিক সরকারের কাছ থেকে রাজাকার তকমাপ্রাপ্ত হয়ে- ফিউজিটিভ।


দিল্লি চেয়েছিলো একটি দল এবং এক ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায়। তারা বিএনপি-জামায়াতের গলায় সন্ত্রাসী পদবী লাগায়নি? তারা ৯০ পরবর্তী সরকারগুলোকে, ১/১১ দিয়ে বদলে দিয়েছিলো। দিল্লির বিরুদ্ধে যাওয়ার শক্তি এই উপমহাদেশে কারোই নেই। তারা পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার মতো শক্তিমান। সিকিমকেও গিলে খেয়েছে। তারা ৯৬এর গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগকে শুধু অগণতান্ত্রিকই নয়, পুরোপুরি মিলিটারি বানিয়ে ফেলেছে। দিল্লির অগণতান্ত্রিক আচরণের সমালোচনা করেছিলেন সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারসহ অন্যরা।
সুলতানা আপাকে বলছি, বন্দুকের নলে র‌্যাবের গাড়িতে তুলে যেদিন এরশাদকে সিএমএইচ-এ নিলো, সেটাই কী ১/১১এর ধারাবাহিকতা নয়?
ফলে যা হয়েছে। এই শক্তি দূর্গে সীমাবদ্ধ। ভিডিও কনফারেন্সে দেশ চালায়। ১৫তম সংশোধনীতে জেনেশুনেই জনগণের সঙ্গে জবাবদিহিতার মৃত্যু ঘটিয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে দেশ চালানোর কারণ, রাস্তায় নামলে পরিণতি কী, সেটা তারা জানে। এই কারণেই সোস্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য এতো ডেসপারেট। সাংবাদিক মাহমুদুর থেকে ফটো সাংবাদিক শহীদুল আলম… সব বলে দিয়েছে।
জেলেই নিঃসঙ্গ খালেদার দুই ঈদ কাটলো। অন্যদিকে গণভবনে স্বপরিবারে আনন্দের বন্যা। খালেদা এখন অতীত। সুলতানা আপাকে বলছি, কে চেয়েছিলো এই বাংলাদেশ, আপনি চেয়েছিলেন?
জেলেই খালেদার মৃত্যু হলে, তারপরেও মানুষ তাকে মনে রাখবে স্বৈরাচারবিরোধি গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে। কখনোই যিনি দেশের সঙ্গে প্রতারণা করেননি। ষড়যন্ত্র করতে দেশ ছেড়ে বিদেশে যাননি। এমনকি পুত্রশোকী হয়েও আপোষহীন বলেই জেলে। আগামীতে যেভাবে আওয়ামী লীগকে মনে রাখবে মানুষ। “৭৫এর পর ২১ বছর ক্ষমতায় আসতে দেয়নি।”
৩ মাসের কথা বলে ৫ বছর ক্ষমতা দখলে রেখেছে। এর নাম ১/১১এর উত্তরাধিকার। সব দোষ লীগের নয়।
একনজরে উত্তরাধিকারের পার্লামেন্ট-
চার-চামুচ – দিল্লি।
তিন্তচামুচ – পুতিন।
দুই-চামুচ – চীন।
এক-চামুচ – অন্যরা।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com
৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 0.0/10 (0 votes cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: +1 (from 1 vote)