বিএনপি যদি জামায়াত ত্যাগ করতো…

September 20, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper

২০০৭ সন থেকেই যারা ক্ষমতা দখলে রেখেছে, ৩ মাসের কথা বলে ৫ বছর ক্ষমতা দখলে রাখার দুঃসাহস যাদের, এরপরেও কীভাবে ড. কামালদের মতো বুদ্ধিজীবিরা শর্ত জুড়ে দেয় বিএনপিকে? ১) জামায়াত ছাড়তে হবে। ২) খালেদা এবং তারেক জিয়ার বিষয়ে আন্দোলন করতে হবে নিজস্ব প্লাটফরম থেকে? “কুটনীতিবিদরাও জানতে চায়, তারেক এবং জামায়াত সম্পর্কে বিএনপির অবস্থান কী!” মনে হচ্ছে, ৫ জানুয়ারি নয়, তারেক এবং জামায়াতই একমাত্র সমস্যা।
ডান-বাম, বিএনপি-জামায়াত, রিপাবলিকান, ডেমোক্রেট, কম্যুনিস্ট… পশ্চিমা এক্টিভিস্টদের ভাষায় বলবো, আমি সব দলের (শুধু লীগ বাদে)। কারণ এটি এখন পার্টির বদলে সন্ত্রাসীদের আস্থানা। কোন রাজনৈতিক দলই ওদের মতো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়ায় না। ৭৫এর বাকশাল, জনতার মঞ্চ, ১/১১এর অভ্যুত্থান ঘটানোর মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রমাণ হয়েছে। সর্বশেষ দুটার্মে প্রমাণ করলো, সংসদে এবং বাইরে এরাই হাক্কানি, লষ্কর-ই-তাইবা, আল-শাবাবের চেয়ে কম নয়। পশ্চিমারাও একেই সন্ত্রাস বলে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই এদের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের একশন। এইক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কারণ, সবাই মিলে লুটছে।
বলতেই পারেন, আমি কারো পক্ষ নিয়েছি। তবে ‘জনকণ্ঠে’ ১২ বছর লেখার পর, গত ৮ বছর যেখানে লিখছি, তখন আওয়ামী লীগ না হলে, এখনও কোনটাই নই। ঐক্যবাদিরা যাদেরকে মাইনাস করে জোট গঠন করতে যাচ্ছে, বিএনপি যদি ২০১০ সনেই জামায়াত ত্যাগ করতো, কী হতে পারতো, সেটাই লেখার বিষয়।
একটি হালনাগাদ।
জামায়াত ত্যাগ করলে, পালাক্রমে ৫ জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হতেন খালেদা। সেই পথ মেরামত করতে, ১৩তম সংশোধনী বাদ দিতেন না। সরকার প্রধানে থেকে নির্বাচন করার দুঃসাহস দেখাতেন না। জামায়াত ছাড়লে, ইউরোপ-আমেরিকার মতো না হলেও, ৫ জানুয়ারিতে কমপক্ষে ভারতের মতো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতো। পালাক্রমে বিরোধিদলে থাকতেন হাসিনা। শুধুমাত্র জামায়াত ত্যাগ করলেই তরুপের তাসখেলা থেকে বেরিয়ে আসতেন দুষকৃতিকারী প্রণব। সুজাতা সিং বাংলাদেশে এসে দুই দলের সঙ্গে বসে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতেন।
হাসিনার মতো ড. কামালরাও মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করলে, ১৫তম সংশোধনী এনে ৪ দলীয়জোটকে নির্মূল করতো না। বরং পাকিস্থানের মতো তত্ত্বাবধায়ক আরো মজবুত করতো। ২০১৪ সনের নির্বাচনকে ১৯৯৬এর চাইতেও নিরপেক্ষ করতে দুই নেত্রী একে অপরকে আলিঙ্গন করতেন। সরকার প্রধানের দানবীয় চিন্তা ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতেন।
স্কাইপ কেলেংকারিতে জুডিশিয়াল কিলিং-এর মোটিভ জানার পরেও জামায়াত ত্যাগ করলে, হয়তো মোল্লার ফাঁসি হতো কিন্তু সাকার ফাঁসি বন্ধ হতো। কারণ সাকা বিএনপির নেতা। স্কাইপে রাষ্ট্রের তিনটি শাখার ষড়যন্ত্র কিংবা সাক্ষি সুখরঞ্জন বালি গুম… ট্রাইব্যুনালে যাই ঘটুক, বিএনপির নেতা হওয়ায় সাকাকে বাঁচিয়ে রাখতো। যদি জামায়ত ত্যাগ করতো।
যদি তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের পরেও, অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যজিক্যাল লেডির একটি ফোন কলের জবাবে ম্যাডাম বলতেন, কেমন আছেন? আপনার সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বসতে চাই…। শুধু তাহলেই ৫ জানুয়ারির সন্ত্রাস বন্ধ করতো। পারিবারিকভাবে দখল করা গণভবনে একঝাঁক সাংবাদিক-ক্যামেরা-লাইট তৈরি রেখে, ম্যাডামের কথোপকথন গোপনে টেপ করার বদলে, তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালের ঘোষণা দিতেন। একটি ফোন কলকে জিম্মি করে, বছরের পর বছর ধানাইপানাই ত্যাগ করতেন। টেলিফোনের পরেই ম্যাডামের সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণা দিতেন। ফারজানা রূপাদের মতো তৈলাক্ত সাংবাদিকরা তেলমারা বাদ দিয়ে নিউজ করার জন্য গণভবনে আসতেন। ১/১১এর উত্তরাধিকার ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে, জাতির কাছে ক্ষমা চাইতেন। শুধু জামায়াত ত্যাগ করলেই, ২০১০ সন থেকে মুর্হুমুর্হু ২৬ মার্চের বদলে, ১৬ ডিসেম্বরের মতো সুখের সাগরে ভাসতাম। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১এর মতো… পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসির ঘোড়ারগাড়ি চলতো। যদি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে, তারেককেও মাইনাস করে দিতো।
১/১১এর ধারাবাহিকতা ফাঁস হওয়ার পরেও যদি জামায়াতের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন, ২০০৯ সনেই হয়তো নাৎসী স্টাইলে এটাক থেকে রক্ষা পেতো পল্টন-ফিরোজা। ম্যাডামের বিরুদ্ধে জলকামান, বালুর ট্রাক, বাঁশ, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, সশস্ত্রবাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলতো না পল্টন-ফিরোজাকে। ম্যাডামকে গৃহবন্দি করতে, পল্টন-ফিরোজার কয়েক মাইল রাস্থা দখলে নিতো না সশস্ত্রবাহিনী দিয়ে। হোটেল-মোটেল, বাসা বাড়িতে ঢুকে গণগ্রেফতার, হত্যা, গুম কোনকিছুতেই জড়াতো না তিন সন্ত্রাসী লীগ। ৪ দলীয়জোটের বিরুদ্ধে চাকরের মতো ব্যবহার করতো না রাষ্ট্রের বাহিনীগুলোকে। নির্বাচন থেকে দূর করে দিতে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতো না সন্ত্রাসীরা। যদি জামায়াতকে ত্যাগ করতেন ম্যাডাম।
যদি স্কাইপ কেলেংকারির পরেও জামায়াতকেই দুষতেন, যদি লন্ডন থেকে নিন্দা জানাতেন তারেক জিয়া, হয়তো বন্দুকের নল ফেলে দিয়ে, ট্রাক ভর্তি করে বন্দুকের বদলে গোলাপ পাঠাতেন হাইকমান্ড। ৫ জানুয়ারিতে ভারতীয়দের মতোই দলে দলে ভোট দিতো। ভোটকেন্দ্র কোন সন্ত্রাসীদের দখলে যেতো না। ৫ জানুয়ারিতে কেন্দ্রের ১০ মাইল রাস্থা দখলে রাখতো না লীগের সন্ত্রাসীরা। শামীম ওসমানদের ঘোষিত ৫% ভোটের বৈধ সরকার? ওই ভোটে মানুষের বদলে কুকুর-বেড়াল ভোট দিয়েছে। চর্তুষ্পদীদের ভিডিও এখনো ইউটিউবে। ইস্‌! বিএনপি যদি জামায়াত-তারেককে ছাড়তো! শুধু তাহলেই ৫ জানুয়ারির চেহারা হতো- মাইনু-ফাকরুর বদলে- ১৯৯১, ৯৬এর মতো।
শুধু তাহলেই বিশ্বজিতের খুনিদের মতো লীগের বহু সন্ত্রাসীরা গোপনে বেরিয়ে যাওয়ার বদলে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতো। বিডিআর হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে, ক্রাইমের যে ধারাবাহিকতা, যদি জামায়াতকেই দুষতেন ম্যাডাম, হয়তো নিঃসঙ্গ কারাগারে মৃত্যুর ক্ষণ গুনতে হতো না। হয়তো ২৪ ঘণ্টাই জিয়া পরিবারের উপর সন্ত্রাসের শব্দবোমা মারতো না তিন লীগ। যদি জামায়াত-তারেককে মাইনাস করতেন ম্যাডাম (কুটনীতিবিদের মতে, তারেকের চেয়ে বড় সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমও নয়)।
২০১০ সনেই জামায়াত ত্যাগ করলে, জিয়া পরিবারও, মুজিব পরিবারের মতো স্বপরিবারে সুখের সাগরে সাঁতরাতেন। শুধু তাহলেই নির্বাসনে কোকোর মৃত্যু এবং তারেকের এই অবস্থা… ঘটাতো না গণভবন। গণভবনে না হলেও ক্যান্টমেন্টের বাড়িতেই দুই পুত্রসহ থাকতেন ম্যাডাম। ২০১৪ সনেও জামায়াত ত্যাগ করলে, ৩ মাস পরেই নিয়ম রক্ষা শেষে, ৯৬ অনুসরণ করতেন হাইকমান্ডও। সুপ্রীমকোর্ট দ্বারা অবৈধ ঘোষণার পরেই নেওয়াজ শরীফের দৃষ্টান্ত হতেন। যদি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতেন।
সামিত গ্রুপ এবং বেক্সিমকোর মতো হাজার হাজার ফিনানশিয়াল ক্রিমিনালদের রাজত্ব দমন করছে রাজনীতি। সব জেনেও যদি উটপাখির মতো মুখগুজে থাকতেন ম্যাডাম, হয়তো সরকার প্রধানে থেকে নির্বাচনের দূরাভিসন্ধি থেকে বেরিয়ে আসতো প্রতিপক্ষ। জামায়াত ত্যাগ করলেই হয়তো প্রাণচঞ্চল পল্টনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ঝড় উঠতো। আমার ভোট আমি দেবো মিছিলে, গণতন্ত্রের নেত্রীর সুললিত কণ্ঠকে চিরদিনের জন্য স্থব্ধ করে দিতো না। সাদ্দাম, পাহলোভী, গাদ্দাফির মতো পারিবারিক রাজতন্ত্র কায়েম করতো না। বরং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে খালেদা বিজয়ী হওয়ার পরেই, বালুর ট্রাক আর বাঁশের বদলে সশস্ত্রবাহিনীকে পাঠাতেন গোলাপ ফুল দিয়ে। ঠিক যেমনটি লিখেছিলেন কবি শহীদ কাদরী।
ম্যাডাম যদি জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল ঘোষণা দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ নিতেন, শুধু তখনই ৫ জানুয়ারি ঘটানো থেকে বিরত থাকতেন। শুধু তখনই প্রণব মুখার্জির মতো কুশীলবরা ম্যাডামের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক যুদ্ধে জড়াতেন না। ১/১১এর কুশীলবদের রেখে যাওয়া বন্দুকের নল, কামান, মেশিনগান, একে-৪৭… ধ্বংস করে দিতো। যদি জামায়াত ছাড়তো, সঙ্গে তারেককেও।
হয়তো শুধু তখনই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশ চালানো বন্ধ করতো। আর যাইহোক, ক্যামেরা দিয়ে রাষ্ট্র চালানোর দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোথাও নেই। ড. কামালরা কী এখনো ভাবছেন, জামায়াত ত্যাগ করলে, ভিডিও কনফারেন্সে দেশ চালানোর প্রয়োজন হতো না? রাস্থার মানুষদেরকেও ডরাতেন না হাইকমান্ড? ফলে দূর্গে বাস করার মতো দুর্বিষহ জীবনমুক্ত হয়ে খোলা বাতাসে হাঁটতেন!! আর্মির জিপের উপর ভর করতে হতো না! যদি জামায়াত ছাড়তেন।
২০১৩ সনেও জামায়াত ছাড়লে, পারিবারিক উপদেষ্টার অভ্যুত্থান ঘটতো না। মাসে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ডলার বেতন নেয়া থেকে, ভিডিও কনফারেন্সে দেশ চালানোর পদ্ধতিও তাকেই আবিষ্কার করতে হতো না। গণভবনে সিক্রেট সেল বানিয়ে, ফেইকনিউজের বিস্ফোরণ ঘটাতো না। শুধু তখনই ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রোগ্রাম দেওয়ার বদলে, ৯৬এর পার্লামেন্টের মতো গণতন্ত্রের গান গাইতেন দুই নেত্রী। জনগণের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে, স্যাটেলাইটসহ বহু প্রযুক্তির আজগুবিতে লিপ্ত হতো না। বিদেশিদের জন্য দায়মুক্তির রেজিমেন্টও চালু করতো না। সুন্দরবন পুড়িয়ে জোরজবরদসি- কয়লাবিদ্যুৎ খাওয়াতো না। জিংপিং, পুতিন, মোদির সঙ্গে মুর্হুমুর্হু বিলিয়ন ডলারের হ্যান্ডশেকের তলে অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং ভিন্নমতের লাশের সতূপের উপর দাঁড়াতে হতো না। দুই রাজপুত্রই একসঙ্গে টেনিস খেলতেন। শুধু তখনই রওশনের মতো স্বঘোষিত হিজড়া পার্টিকে খালেদার সিটে বসিয়ে, আমিই সরকার-আমিই বিরোধিদল-আমিই রাষ্ট্‌-আমিই আইন… হতো না, যদি জামায়াত ত্যাগ করতো।
এমনকি ২০১০ সনেই তিস্থা থেকে বাংলাদেশে লাফিয়ে পড়তো পানি। ফিনানশিয়াল ক্রিমিনালদের সঙ্গেও কোনরকম ডিলমেকিং করতো না ৫ জানুয়ারি। এমনকি চীনা মাফিয়াদের ক্যাসিনোতে পদ্মাসেতুর ভবিষ্যৎ এবং বাজেট ঘাটতিও ঝুলে যেতো না অনন্তকাল। এলএনজি, মেট্রোরেল, কুইকরেন্টাল, অফশোর একাউন্টের ভূস্বর্গ তৈরিতে একনেকের ঘাড়ে চড়ে বসতেন না হাইকমান্ড। ড. কামালদের মতে, যদি জামায়াত ত্যাগ করতেন ম্যাডাম।
ঐক্যবাদিরা মনে করেন, শুধু তখনই সুন্দরবন পোড়ানো বন্ধ করতো। ২০১৭ সনেই পদ্মাসেতুর উপর গাড়ি চলতো। ব্যাংকগুলোতে মড়ক লাগতো না। যুদ্ধের আওয়াজ নেই, বিদেশী আক্রমণও নেই, আফগানিস্থানের পরিসি’তিও হয়নি। শুধু জামায়াত ত্যাগ করলেই, এইহারে অস্ত্র কিনতে বাধ্য হতো না। মোদিজীও জনবহুল দেশটির উপর অতিরিক্ত ১০ লাখ রোহিঙ্গা চাপাতে, হাইকমান্ডের সঙ্গে গোপনে ডিলমেকিং করতেন না। শুধু তাহলেই তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পেতো কেন্দ্রিয় ব্যাংকসহ সকল অর্থপ্রতিষ্ঠান। গভীর সমুদ্রবন্দর, সমুদ্রসম্পদ, সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ… সবকিছুই দুই বেগমের নিয়ন্ত্রণে থাকতো। মহাসচিব ফকরুলকেও রাস্থায় বসে ভ্যাঁ-ভ্যাঁ করে কাঁদতে হতো না। “ক্যাঙ্গরু কোর্টে ম্যাডামের শরীরের উপর সাদা চাদর ফেলতে হতো না।”পার্লামেন্টে সরকারের বিছানায় শুয়ে প্রস্রাব করতো না বিরোধিদল। বিশাল বাহিনীসহ রাষ্ট্রপতিকেও বছরে দুইবার বিদেশে মাল্টিমিলিয়ন ডলারের চিকিৎসার নামে, অন্যরকমের ইনভেস্টমেন্টে ঢুকতে হতো না। ওয়ানবেল্টওয়ের সেবাদাসী হতে গিয়ে, রোহিঙ্গাদেরকে এই দেশে স্থায়ী করতে হতো না। পরিবেশ, পরিসি’তিরও বারোটা বাজাতে দিতো না। শুধু জামায়াত ত্যাগ করলেই, মেগাবাজেট ঘাটতি এবং ব্যাংক ডাকাতি বন্ধ রাখতো। চাইনীজদের সমর্থন বজায় রাখতে, গণভবনে ব্যাংক মালিকদের ডেকে পদ্মাসেতুর টাকার জন্য চাপ দিতো না (এপ্রিলের সব পত্রিকায়)। ৫ হাজার টাকার ব্যবসা ৫ হাজার কোটি দেখিয়ে, ঋণ খেলাপীদের সঙ্গে বেয়াইয়ের আচরণ করতো না। “এক্স-মন্ত্রী ফারুক খানের ভাই, সামিত গ্রুপের সিইও আজিজ খান।” উইকিলিক্সে ফাঁস, ১২টি অফশোর একাউন্টের মালিক খান পরিবার। সম্পদের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে ব্যবসা করে সিঙ্গাপুরে ব্যবসা রেজিস্টারি করেছেন। জামায়ত ত্যাগ করলে, দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় খালেদা নয় বরং কাশিমপুরে ঢোকাতো সিঙ্গাপুরের ৩৪তম ধনী আজিজ পরিবারকে। এতো টাকা সে কোথায় পেলো, কোথায় পাঠালো?
শুধু তাহলেই পুত্রশোকের বদলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পরেও, দোষগুণের বিচারে না বসে, একজন মা হিসেবে ম্যাডামকে বুকে জড়িয়ে ধরে ক্ষতে মিল্লাত-বাম লাগাতেন। ম্যাজিক্যাল লেডির হাতের কড়িকার্ডটি ফাঁস করে একি করলেন তৈলাক্ত সাংবাদিক? জামায়াত ত্যাগ করলে, কড়িকার্ডের গল্প শুনতাম না। কবরে থাকা কঙ্কালকেও টানানাটি করতো না তৈলাক্তরা। মুক্তিযুদ্ধের পদকের ইজ্জত লুটতো না। ড. ইউনুস থেকে সিনহা… নর্দমারতুল্য শব্দবোমা থেকে রক্ষা পেতো জাতি। মাহমুদুর রহমান থেকে শহীদুল আলম… ম্যাজিক্যাল লেডির ম্যাজিক্যাল কড়িকার্ড কী তাহলে এই কারণেই? জামায়ত ত্যাগ করলেই কী কবর থেকে বই লেখার কালচার বন্ধ করতো?


ম্যাডাম যদি ২০১৩ সনেই ইয়েস বলতেন, ৫ জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হতেন খালেদা। কারণ ১/১১এর ধারবাহিকতাকে একমাত্র আওয়ামী লীগ বাদে প্রত্যেকেই প্রত্যাখান করেছিলো। একমাত্র আওয়ামী লীগ বাদে ১/১১এর সামারিক সরকারকে বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দেয়নি অন্য কেউ। এদের ধারবাহিকতাই ৩ মাসের কথা বলে ৫ বছর ক্ষমতা দখলে রাখার কারণ। ট্রাইব্যুনাল ও ১৫তম সংশোধনীর কেমিষ্ট্রিও ১/১১। ক্ষমতায় গিয়েই নিজের ১৫টি মামলা খারিজ। এরপর থেকে একটার পর একটা দেশবিরোধি কার্যক্রম চলছেই। ৪ দলীয়জোটকে রাজনীতি থেকে চিরতরে নির্মূল করার যে প্রক্রিয়া, মানবতাবিরোধি অপরাধের সন্দেহাতীত প্রমাণ। কারাগার এড়াতেই কী ভিডিও কনফারেন্সে দেশ শাসন এবং খালেদাকে ভূয়া মামলায় হত্যার ষড়যন্ত্র? তোফায়েল বলেছেন, ক্ষমতায় না গেলে নাকি লাখ লাখ লোক মারা যাবে।
১২ বছরের ধারবাহিকতার পুনরাবৃত্তি হলে যা হবে, কেউ কল্পনাও করবে না। ১/১১এর বোঝা টানার শক্তি এই রাষ্ট্রের নেই।
ড. কামালদেরকে অনুরোধ, “বাকশাল এবং ১২ বছর ধরে যা দেখছেন, কমনসেন্স থেকে বলছি, তারেক এবং জামায়াতকে মাইনাসে সমাধান নেই।” বরং সন্ত্রাসীদেরকে বাদ দিয়ে, অন্য সব দলের সঙ্গে ঐক্যজোট করলে, অভিশাপমুক্ত হওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা। কারণ ওরাই ১/১১কে বৈধতা দিয়ে ৫ জানুয়ারি করেছে। ১৬তম সংশোধনীর রায় অবমাননা করে, দানবেরা জোরজবরদসি- ক্ষমতায়। অন্যথায় বৈধভাবেই অবৈধদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার জন্য দায়ী থাকবেন আপনারাই।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: [email protected]
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 10.0/10 (1 vote cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: +1 (from 1 vote)
বিএনপি যদি জামায়াত ত্যাগ করতো..., 10.0 out of 10 based on 1 rating