রাহুর কবলে রাজনীতি

October 4, 2018 in Bangla Blog, Weekly Joy Newspaper


১. শনির পেটে পুরোপুরি হজম হওয়ার আগেই, জুডিশিয়ারি লীগের সদস্য করাপ্ট সিনহা মুক্তি পেলেও, জিয়া পরিবারকে পুরোপুরি হজম না করে ছাড়বে না। ‘ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়ের সারমর্ম এটাই। ‘জিয়া’ নামটাই এখন জিন্দা লাশ। তারেকের দুর্নীতি এবং খালেদার এতিমের টাকা আত্মসাৎই কারণ হলে, মুক্ত ব্যাংকডাকাতদের হিসাব মিলছে না। প্রজ্ঞাপনে অবৈতনিক ঘোষণা করে, পারিবারিক উপদেষ্টার মাসিক দেড় কোটি টাকা চুরির প্রমাণ দিলো এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ। রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগকেই ব্লাকমেইলিং করে যেভাবে অবৈধ ক্ষমতা দখলে রেখেছে, ক্রিমিনাল সিনহা সেই বার্তাই দিলেন। বইটি নিয়ে উত্তাল বাংলা ভাষাভাষীরা।

মাঝি বিভ্রান্ত হলে, নৌকা ডুবে যায়। হাতি ভেদরে পড়লে চামচিকাও লাথি মারে। পিঁপড়াও যে লাথি মারে, প্রমাণ দিলেন ফকরুল। রাজনীতিতে কৌশলী না হওয়ার বিকল্প নাই। শুধু ফকরুলের আমলেই দেখলাম, লাখ লাখ ভোট যে দলের, উল্টা ওয়ানম্যান শো’র দলগুলোই বিএনপিকে শর্ত দিলো!

২. টার্গেট- জিয়া পরিবারের দুই কর্ণধারকে ফিনিশ করা। একজন কারাগাড়ে মৃতপ্রায়। অন্যজনকে রায়ের আগেই ফেরত আনতে অদম্য হাইকমান্ড। বন্দিবিনিময় চুক্তির লবিতে লন্ডনে দুইদিন। মিশন সাকেসেসফুল হলে, ২০৪১ পর্যন্ত কন্টকমুক্ত। হাইকমান্ডের একমাত্র কাটা- তারেক। ফিনিশ না করলে, এক লাখ নয়, একদিনে ১০ লাখ মানুষ ফিনিশ হওয়ার আশংকা।

ব্যক্তি তারেককে চিনি না। ১/১১এর নাটক দিয়ে জন্ম দেয়া, আসামী তারেকের মামলার পাহাড় দেখেছি। অনুপসি’তিতে গুজবের বোমাবিস্ফোরণ দেখেছি। নিরপেক্ষ আদালত ছাড়া অভিযোগ প্রমাণ হয় না। আমি যে দেশে প্রবাসী, এমনকি প্রেসিডেন্টেরও ক্ষমতা নেই, যা সিনহাকে দিয়ে আদায় করেছেন হাইকমান্ড। সিনহা না থাকলেও, জিয়া পরিাবরের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার মতো ক্রিমিনালদের অভাব নেই। অবৈধ স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা, রায় নিয়ে নাশকতা হলে কঠোর হাতে দমন করবে। তিনি কীভাবে অগ্রিম জানেন? নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ২০১০ সনের ঠিকানা পত্রিকার লিড নিউজ, তারেকের বিরুদ্ধে সাক্ষি সংগ্রহে দেশে দেশে টেন্ডার। ১০ বছর ধরেই প্রতিসিংহার সন্দেহাতীত প্রমাণ এগুলো। গ্রেনেড হামলার আসামীরা অন্য কোথাও।

“প্রধানমন্ত্রী আমাকে পা দিয়ে লাথি মেরেছেন। মিলিটারি সেক্রেটারি পাঠিয়ে পদদলিত করেছেন।” -নিউইয়র্কের টাইম টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাতকারে সিনহা। আরো বলেছেন, কীভাবে ষড়যন্ত্র করে জামায়াত নেতাদেরকে ফাঁসি দিতেন। সিনহার মুখ এখন রেসের ঘোড়া। এতোদিন কোথায় ছিলেন? এরাই আদালত চালিয়েছে? তারপরেও ফকরুলদের নিরপেক্ষ রাজনীতির মানে হয় না। অলৌকিক ঘটনা ছাড়া, তার মতো মহাসচিবের নেতৃত্বে জিয়া পরিবার ফিনিশ।

৩. হাওয়াভবন কতোখানি সত্য, কতোখানি গুজব? বাস্তববাদি আমার পর্যালোচনা ভিন্ন। আমার কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় অত্যন্ত সজাগ। সকালের আকাশ দেখলেই বুঝতে পারি, বেলা ২টায় পরিসি’তি কোনদিকে যাবে। সেই হিসাবেই প্রশ্ন, হাওয়াভবনে বন্ধুদের সংখ্যা এবং প্রত্যেকের পরিচয় নিয়ে। দুর্নীতি হলে সব টাকা একাই খেয়েছেন? তরুণ তারেক ওদের এক্টিভিটিস জানতেন? খালেদা কখনো প্রধানমন্ত্রী, কখনো বিরোধিদলে। ১৯৯১ সনে তারেকের বয়স ২৪। একজন প্রধানমন্ত্রীর বড় পুত্রসন্তান হওয়া মুখের কথা নয়। সাপের মতো ঘিরে থাকতো হাজার হাজার সুবিধাবাদি বন্ধুরা। তারেক তখন দুর্লভ ব্যক্তিত্ব। তাকে ক্যাশ করে অনেকেই মাল্টিমিলিয়নিয়ার। তারেক নির্বাসনে, ওরা সততার জ্ঞান বিলাচ্ছে!!!

ভুল না করলে সে মানুষ হয় কী করে? গরু-ছাগল কখনোই ভুল করে না। কারণ তারা মানুষ নয়। একজন তরুণ তারেক অবশ্যই ফেরেশতা নন। যেমন নন তার মতো লাখ লাখ তরুণ-তরুণীরা।

গত ১০ বছরে হাওয়াভবনের সংখ্যা এবং সাইজ নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। জরিপে প্রকাশ, বাংলাদেশের একশ্রেণির মানুষের ধনী হওয়ার সংখ্যা বিশ্বে একনম্বরে। এগুলোই আওয়ামী লীগের খাওয়াভবন। তাদের রাজপুত্রের ক্রাইম এম্পায়ারের খবর স্যোসাল মিডিয়ায়। বস্ত্র মন্ত্রী একটিমাত্র প্রমাণ দিলেও, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে কতো হাজার কোটি টাকা উড়ে গেছে, ক্ষমতার পরিবর্তন ছাড়া জানা অসম্ভব। অবাক হয়ে দেখছি, বেস্টফ্রেন্ডদের তালিকায় যিনি একনম্বরে, তিনিই এখন তারেকের বিরুদ্ধে মিডিয়ায় বোমা ফাটাচ্ছেন। যেন সুবুদ্ধি ছাড়া তারেককে কেউই কুবুদ্ধি দেয়নি। সততা নিয়ে মাহি বি. চৌধুরীর আস্ফালন, এপেডিসাইটিসের মতোই বেদনাদায়ক। এদের মতো বন্ধু যার আছে, তার কোন শত্রুর প্রয়োজন আছে?

“মানুষ পরিবেশ ও পরিসি’তির শিকার।” -মেরী ওলস্টোনক্রাফট ১৭৮৭ সন।

৪. যুক্তফ্রণ্ট কী? ২০০৫ সনে এরশাদ। ২০১৮ সনে যুক্তফ্রণ্ট। সকলেই চায়, জিয়া পরিবার এবং বিএনপিকে ধ্বংস করে ক্ষমতায় যেতে। কেউই চায় না, এদেরকে সঙ্গে নিয়ে সুস্থ রাজনীতিতে ফিরতে। অথচ অধিকাংশেরই ব্যনার ধরার মতো সদস্যও নেই। ভোট হলে প্রত্যেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

ফকরুলকে বলছি, নির্বাচনের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প এলেও ওদেরকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। কারণ ওদের পেছনে ‘র’ এবং পুতিন। সুতরাং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাঁতরানোর চিন্তা বাদ। নির্বাচনে যাওয়া মানেই হেরে গিয়ে, ক্রিমিনালদেরকে বৈধ করা। বরং ৫ জানুয়ারির পজিশন নিন। যেন ওরা পৃথিবীর চোখে ক্ষমতা দখলদার হয়েই থাকে।

মহাসচিব তার দায়িত্ব পালন করলে, তিনিই শর্ত দেবেন যুক্তফ্রণ্টকে। কারণ, বিএনপিজোটের রয়েছে লাখ লাখ ভোটার। নিরপেক্ষ ভোট হলে ধুলায় উড়ে যাবে মহাজোট। যে কারণে তারেক ও খালেদাকে ফিনিশ করতে ডেসপারেট হাইকমান্ড। সিনহার বইতে পরিষ্কার, হর্সট্রেডিং এবং ব্লাকমেইলিং করেই অবৈধ ক্ষমতায় টিকে আছে। আরো লিখেছেন, এক্সিকিউটিভ-লেজিসটেটিভ-জুডিশিয়ারি… প্রতিটি বিভাগকেই বন্দুকের নলে নিয়ন্ত্রণ করছেন হাইকমান্ড। এসব তথ্য একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির। যিনি হাসিনার ঘরের খবর জানেন। এখন ঘরের শত্রু বিভীষণ। তৈলাক্ত সাংবাদিক ফারজানা রূপার ম্যাজিক্যাল লেডি উপাধির সঙ্গে একমত। ক্যু করার ম্যাজিকের নাম- ম্যাজিক্যাল লেডি।

“শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে না পারলে একদিনে ১ লাখ মানুষ মারা যাবে!”-তোফায়েল। এটাই কী ২০ দলের জনপ্রিয়তার শ্বেতপত্র নয়? সুতরাং জনগণ বাদে কারো সঙ্গেই আঁতাত নয়। এমন নিরপেক্ষ-নিষ্ক্রিয় মহাসচিব জীবনে প্রথম দেখলাম। যার নেত্রী জেলে মৃতপ্রায়, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হত্যা মামলার রায় যখন পূর্বনির্ধারিত… জেনেও আবেদন-নিবেদন-সম্ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ তার রাজনীতি।

আমি বলবো, কতো জিতবে? জিততে দিন। জিততে জিততে একদিন ক্লান্ত হয়ে যাবে। মানুষও তখন প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে রাস্তায় নামবে, যেমনটি নেমেছিলো। বরং ফিরোজা ও পল্টনের তরফ থেকে গণভবনকে এক বাক্স গোলাপ পাঠিয়ে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়ে দিন। মানুষ বোকা নয়। হাইকমান্ড যেদিন বললেন, “খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টের সঙ্গে জড়িত” সেদিনই যা বোঝার বুঝে নিয়েছি। ফকরুলকে বলবো, সিনহার বইটি নিয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের মিটিং এবং প্রেসকনফারেন্স করুন। মানুষ জাগানোর তাগিদ দিন।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকলেও কিছুক্ষণ পরেই উলঙ্গ হয়ে যায় মাছ। যারা খালেদাকে ১৫ আগস্টের জন্য দায়ী করে, তাদেরকে বলুন- শেখ সেলিম কেন লাশ দাফনের বদলে সেদিন মার্কিন এম্বেসিতে লুকিয়ে ছিলেন? ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে মেজর শফিউল্লাহ কেন পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন? এইচ.টি ইমাম কেন মোস্তাক সরকারকে শপথ পড়ালেন? তোফায়েল কেন রক্ষিবাহিনী পাঠালেন না? জাসদ, গণবাহিনী তখন, মুজিবের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলো, তারপরেও খুনিদেরকে পার্লামেন্টে রেখে বিদেশে কেন খুনি খোঁজাখুঁজি? মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানোর দাবি করেও কেন ৫৭ ধারায় গ্রেফতার নয়? ১৬ আগস্টের উপসম্পাদকীয়তে কী লিখেছিলো ইত্তেফাক? ইনু, শফিউল্লাদের মতো পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ খুনিদেরকে পার্লামেন্টে বসিয়ে, ১৫ আগস্টের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি কে? (১৫ আগস্ট নিয়ে শেখ সেলিম এবং সেনাপ্রধানের হুমকি-ধামকি নেটে।)

৫. কারাগারে একজন বন্দির সবধরনের মানবাধিকার ভঙ্গের রেকর্ড করলো টায়রনরা। পছন্দমত চিকিৎসা দিতে কেন অস্বীকার? জোরজবরদস্তি চিকিৎসা করাচ্ছে, যা মেডিকেল এথিক্সের শতভাগ পরিপন্থি। কোন রোগিকেই তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চিকিৎসা করা নিষিদ্ধ। পছন্দের হাসপাতালে কিছুতেই যেতে না দিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বয়স, বার্ধক্য, শোক, মানসিক নির্যাতন…। কারাগারের ভয়ানক পরিবেশ, সেঁতসেঁতে মেঝে, ফাঙ্গাসে ভরা দেয়াল… বন্দির মানবাধিকার ভঙ্গের রেকর্ড। আমি বলবো, কিম জং উনের গুলাক

ম্যাডাম নির্বাচনে থাকলে, কাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হতো? আমরা চাই না, নির্বাচন নিয়ে একজন মানুষও মারা যাক। আর সেই কারণেই ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দিন। যারা বন্দুকের নলে ক্ষমতা দখলে রাখার মতো অগণতান্ত্রিক, এদেরকে মোকাবেলার শক্তি বিএনপির না থাকাই উচিত।

আগেও লিখেছি, ৯৬এর আওয়ামী লীগ আর এই আওয়ামী লীগ ভিন্ন। যেদিন দিল্লিতে গিয়ে এই মানচিত্রটাকে ফ্রি-লাঞ্চ হিসেবে উপহার দিলেন, সঙ্গে দায়মুক্তির মুচলেকা… যেদিন পুতিনের সঙ্গে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের হ্যান্ডশেক… যেদিন ৭১এর বিরোধিশক্তি চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলার মাটিতে পা রাখলেন… নির্বাচনের শ্রাদ্ধ শেষ।

৬. আওয়ামী লীগ, এরশাদ, বি. চৌধুরী- তিনটি দলই বিএনপিকে মুছে ফেলতে মরিয়া। হাইকমান্ড এবং এরশাদের মতোই একই প্রতিহিংসা বুকে, এবার মাঠে বিকল্পধারা। কারণ ম্যাডাম কাউকে বঙ্গভবন থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রতিহিংসার অংকটা এখানেই।

বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই বি. চৌধুরী দলটির সঙ্গে থাকলেও ভেতরে ভেতরে অন্যকিছু কাজ করতো। মন্ত্রী হয়েছেন। সহৃদয় ম্যাডাম রাষ্ট্রপতি হওয়ার খায়েশও পূর্ণ করেছেন। এরপরেও কেন রিজাইন দিয়ে পালিয়ে গেলেন? যে মুহূর্তে ম্যাডাম জানলেন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছেন, সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গভবন থেকে আউট। পার্লামেন্টে ইমপিচ হবেন শুনেই রিজাইন। সুতরাং জিয়ার মাজারে না যাওয়া নিয়ে যে গল্পটি শোনায় আওয়ামী লীগ, পুরাই ফাউল। ম্যাডাম জেলে, তারেক নির্বাসনে, এটাই যুক্তফ্রণ্টের মাহেন্দ্রক্ষণ। এরশাদের মতোই বিএনপির শূন্য জায়গা দখলে মরিয়া এরাও।

বিএনপির কাছে ১৫০টি সিট দাবি যুক্তফ্রণ্টের। স্বাধীনতাবিরোধিদের সঙ্গে পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রাখলে, ঐক্যজোটে নিষিদ্ধ। বি. চৌধুরী খুব স্পষ্ট করেই বলেছেন, “জামায়াতকে বাদ দিয়ে জোটে আসতে হবে।” এদের সঙ্গে একমঞ্চে বিএনপির কয়েকজন। তাহলে দল ভাঙ্গার কারিগরেরা কী দলের ভেতরেই?

চৌধুরীদের বক্তব্য থেকে একটি সিদ্ধান্তে এসেছি। ১৫০টি সিট ঝুকিপূর্ণ করে পার্লামেন্টে যাওয়ার বন্দোবস্ত। মিলিয়ে নিন হাইকমান্ডের বক্তব্যের সঙ্গে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে, ধর্মীয় এবং বামদলগুলোকে নিয়ে মহাজোট আরো সমপ্রসারিত করে, তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হবে। আর বিএনপির একাংশ এলে, তাদের সঙ্গেও একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হবে এবং সেইভাবেই সকলে নির্বাচনে যাবে।

সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে মাহির দাবি, ভোট না থাকলে সমস্যা নেই। জামায়াতের ভোট ৫%। আমার টার্গেট, ২২% ফ্লিপফ্লোপ ভোটার। প্রবাদই সত্য। আকাশে হাড়ি, মাটিতে চুলা।

৭. এবার স্বাধীনতাবিরোধি শব্দটির উপর পিএইচডি করেই ছাড়বো। ৭১এ রাজাকারদের বেতন ছিলো মাসে ১৫০ টাকা। কিন্তু যারা মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা নিতো, তারা কী? রাজনীতিতে হটকেক হতে চাইলে প্রথমে যা বলতে হবে, “স্বাধীনতাবিরোধিদের সঙ্গে কোন আপোষ নয়।”

বিএনপির অন্যতম বেনিফিশিয়ারি চৌধুরী পরিবার। সরকার উৎখাত করতে গিয়ে নিজেই উৎখাত হওয়ার পর, বিকল্পধারা খোলার এতোবছর পরেও ওয়ানম্যান শো। প্রশ্ন, ১৯৭১ সনের যুদ্ধ কী ১৯৯১ কিংবা ২০০০ সনে হয়েছে? ডাক্তার সাহেবের বুদ্ধির হিসাব মিলছে না। কারণ, যুক্তফ্রণ্টের মহাসচিব একজন খোলামেলা স্বাধীনতাবিরোধি। শমসের মোবিন চৌধুরীর শরীরে গুলি করেছিলেন, পাক আর্মির মেজর মান্নান। ধর্মগ্রস্থ, মনীষী, দার্শনিকরা বলেছেন, মানুষরূপী শয়তানদের থেকে সাবধান!

বি. চৌধুরী আসলেই জামায়াত বিরোধি নন। হলে ১৯৭৯ সনেই রিজাইন দিতেন। ডাক্তার সাহেব জানেন, হাইকোর্টে গেলেও, হারানো সতীত্ব কেন ফেরত দিতে পারে না বিচারক!

৮. বারো বছর দেখলাম। কিন্তু ৯১, ৯৬এর পার্লামেন্টের বিকল্প নাই। রাজনীতিতে তখন বিতর্ক থাকলেও, দানব ছিলো না। আমরা অতীতেই ফেরত যেতে চাই। আমরা ৯০ এবং ৯৬এর আওয়ামী লীগকে ফেরত চাই।

প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতেই হবে। এক পরিবারের দখলে গণভবন, অন্য পরিবার ফেরারি। এই কালচার আর চলতে দেয়া যাবে না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রকৃত আসামীরা অদৃশ্য। যতোই বলুক, সাজানো রায়ের মুখে তারেককে ঠেলে দেবে না ব্রিটেন। আমার বিশ্বাস, শত্রু-মিত্র চেনা শেষ হয়েছে। হয়তো পিতার আদর্শ উপলব্ধি করেছেন। তাই পরিবর্তিত তারেক ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হাল ধরবেন। আওয়ামী লীগ আরো কিছুদিন ক্ষমতা দখলে রাখলে, দেশ বলে কিছু থাকবে না। সিনহার বই একটি জ্বলন্ত আদালত।

ফকরুলের উচিত, দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া। কারণ বিএনপির আর হারানোর কিছু নাই।

-মিনা ফারাহ।
ইমেইল: farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com
৩ অক্টোবর ২০১৮, নয়াদিগন্তে প্রকাশিত।

VN:F [1.9.22_1171]
Rating: 10.0/10 (1 vote cast)
VN:F [1.9.22_1171]
Rating: +1 (from 1 vote)
রাহুর কবলে রাজনীতি, 10.0 out of 10 based on 1 rating